সোমবার, মার্চ ২৫, ২০১৯
Home Blog

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গঠনতন্ত্র

১। নাম

এ দলের নাম হবে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’।ইংরেজীতে এ সংগঠনকে ‘Bangladesh Nation­al­ist Party’ (BNP) এবং সংক্ষেপে এ দলটিকে ‘জাতীয়তাবাদী দল’এবং ‘বিএনপি’ বলে অভিহিত করা হবে।এ দলের জাতীয় কার্যালয় তথা কেন্দ্রীয় সদর দফতর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হবে এবং দলের সদর দফতর বা কেন্দ্রীয় অফিসের সংগঠন চেয়ারম্যানের দায়িত্বাধীন থাকবে এবং অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পদবী, দায়-দায়িত্ব ও ক্ষমতা চেয়ারম্যান নিজে নিরূপণ করবেন।

২।উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণাপত্রে এ দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে।সংক্ষেপে এ দলের কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নীচে বর্ণিত হলোঃ

(ক) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক ইস্পাতকঠিন গণঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভোমত্ব, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করা।

(খ) ঐক্যবদ্ধ এবং পুনরুজ্জীবিত জাতিকে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া-উপনিবেশবাদ, আধিপত্যবাদ ও বহিরাক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা।

(গ) উৎপাদনের রাজনীতি,মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায় বিচার ভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন।

(ঘ) জাতীয়তাবাদী ঐক্যের ভিত্তিতে গ্রামে-গঞ্জে জনগণকে সচেতন ও সুসংগঠিত করা এবং সার্বিক উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ও প্রকল্প রচনা ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা ও দক্ষতা জনগণের হাতে পোঁছে দেওয়া ।

(ঙ) এমন এক সুষ্ঠ পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় সমাজের মৌলিক স্তরে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয় ।

(চ) এমন একটি সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেওয়া যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাঁদের মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি আনতে পারবেন।

(ছ) বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতন্ত্র কায়েম করা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়ন।

(জ) গণতান্ত্রিক জীবন ধারা ও গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসাবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপণ করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা।

(ঝ) রাজনৈতিক গোপন সংগঠনের তৎপরতা এবং কোন সশস্ত্র ক্যাডার, দল বা এজেন্সী গঠনে অস্বীকৃতি জানানো ও তার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা ।

(ঞ ) জাতীয় জীবনে মানবমূখী সামাজিক মূল্যবোধের পূনরুজ্জীবন এবং সৃজনশীল উৎপাদনমুখী জীবনবোধ ফিরিয়ে আনা ।

(ট) বাস্তবধর্মী কার্যকরী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে ন্যায় বিচার ভিত্তিক সুষম অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা, যাতে করে সকল বাংলাদেশী নাগরিক অন্ন, বস্ত্র,স্বাস্থ্য,বাসস্থান ও শিক্ষার ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের সুযোগ পায় ।

(ঠ) সার্বিক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার দান করা ও সক্রিয় গণচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম বাংলার সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

(ড) নারী সমাজ ও যুব সম্প্রদায়সহ সকল জনসম্পদের সুষ্ঠু ও বাস্তবভিত্তিক সদ্ব্যবহার করা।

(ঢ) বাস্তবধর্মী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রম ব্যবস্থাপণা সম্পর্ক স্থাপন এবং সুষ্ঠু শ্রমনীতির মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা।

(ণ) বাংলাভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রসার সাধন ।

(ত) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট বাংলাদেশী জনগণের ধর্ম ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দান করে বাংলাদেশের জনগণের যুগপ্রাচীন মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা, বিশেষ করে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর জাতীয় জীবনে তাদের অধিকতর সুবিধা ও অংশগ্রহণের সুযোগের যথাযথ ব্যবস্থা করা।

(থ) পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষা করা।সার্বভোমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সংগে,তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সংগে প্রীতি ও সখ্যতার স¤পর্ক সুসংহত এবং সুদৃঢ করা।

৩।দলের পতাকা

এই দলের পতাকার উর্দ্ধার্ধ লাল এবং নিুার্ধ সবুজ রংয়ের হবে।পতাকার মধ্যস্থলে কালো রংয়ের একটি শিল্পচক্র থাকবে।এই চক্রবৃত্তের বিন্দু থেকে লাল সবুজের সঙ্গমস্থলে উদ্ভুত হবে একছড়া সোনালী ধানের শীষ এবং প্রসারিত হবে উপরের দিকে।ধানের শীষের উপরে থাকবে একটি শ্বেত বর্ণের তারকা।সবুজ হচ্ছে দেশের প্রতীক; লাল হচ্ছে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ত্যাগের প্রতীক;শিল্পচক্র হচ্ছে উন্নতি ও অগ্রগতির প্রতীক;ধানের শীষ হচ্ছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক এবং শ্বেত বর্ণের তারকা হচ্ছে আমাদের জাতীয় আশা- আকাঙ্খার প্রতীক।

৪।শব্দার্থ

(ক) ‘ওয়ার্ড’, ‘ইউনিয়ন’, ‘উপজেলা/থানা’, ‘পৌরসভা’, ‘মহানগর’ এই শব্দগুলো বাংলাদেশ সরকার/নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দেওয়া অর্থই বোঝাবে।

(খ) ‘গঠনতন্ত্র’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক না হলে দলের গঠনতন্ত্রকেই বোঝাবে।

(গ) যদি গঠনতন্ত্রে অন্যভাবে বোঝানো না হয়ে থাকে তবে ‘জেলা’ বলতে প্রশাসনিক জেলা বোঝাবে ।

(ঘ) চেয়ারম্যান শব্দটি ক্ষেত্র বিশেষে চেয়ারপার্সনকেও বোঝাবে ।

(ঙ) ‘দল’ শব্দটি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’কে বোঝাবে ।

(চ) ‘সদস্য’ শব্দটি যদি ‘কমিটির’ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহƒত না হয়ে থাকে তা হলে দলের প্রাথমিক সদস্যকে বোঝাবে ।

৫।সদস্য পদ

(ক) সদস্য পদ লাভের যোগ্যতাঃ

(১) ১৮ বছর বা ততোধিক বয়সের যে কোন বাংলাদেশী নাগরিক এ দলের প্রাথমিক সদস্য হতে পারবে।ইচ্ছুক ব্যাক্তিদেরকে সংগঠনের ঘোষনাপত্রের, গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচীর প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করতে হবে।

(২) প্রাথমিক সদস্য পদের আবেদনপত্র এই গঠনতন্ত্রের তপশীল ১-এ ‘ক’ ফরমে করতে হবে।এই ফরম দলের অফিসে পাওয়া যাবে।সদস্য পদের আবেদনপত্র অন্য কোন ফরমে গ্রহণযোগ্য হবে না তবে কোন সময় যদি এই ফরম দলের অফিসে না পাওয়া যায় তাহলে অনুরুপ ফরম ছাপিয়ে নিয়ে সদস্য পদের আবেদন করা যেতে পারে।

(৩) বিবেচনার পর আবেদনপত্র গৃহীত হলে সদস্য পদের প্রমাণস্বরুপ পরিচয়পত্র (তপশীল-১) ‘খ’ ফরমে প্রত্যেক সদস্যকে দিতে হবে।

(৪) এ দলের প্রাথমিক সদস্য চাঁদা ৫/= (পাঁচ) টাকা মাত্র।সদস্য পদ লাভের পরবর্তী বছর থেকে দলের বাৎসরিক চাঁদা ৫/= (পাঁচ) টাকা মাত্র ।সদস্যদের চাঁদা রসিদ মারফত গৃহীত হবে এবং রসিদ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হবে।

(৫) প্রত্যেকটি উপজেলা/থানা অফিস তাঁদের স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যেক প্রাথমিক সদস্য পদের তালিকা সংরক্ষণ করবেন।জাতীয় সদর দফতরে অর্থাৎ দলের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় অফিসে দলের সর্বমোট সদস্য সংখ্যা,সদস্যদের নাম ও ঠিকানাসহ বিধি সম্মতভাবে সংরক্ষিত হবে।

(খ) সদস্য পদ লাভের অযোগ্যতাঃ

(১) বাংলাদেশের আইনানুগ নাগরিক নন এমন কোন ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হতে পারবেন না ।

(২) বাংলাদেশের স্বাধীনতায়, সার্বভোমত্ব ও অখন্ডতার বিরোধী, গোপণ সশস্ত্র রাজনীতিতে বিশ্বাসী সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যাক্তি বা সমাজ বিরোধী ও গণবিরোধী কোন ব্যক্তিকে এই সংগঠনের সদস্য পদ দেয়া হবে না।

(গ) সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাঃ

দলের স্থায়ী কমিটি দলের কোন সদস্যের অসদাচরণের কারনে কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে কিংবা দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কোন কর্মকান্ডের কারনে তার সদস্যপদ বাতিল কিংবা সাময়িকভাবে সদস্যপদ স্থগিত কিংবা তার বিরুদ্ধে অন্য যে কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সঙ্গত কারনে পুর্বে নেয়া যে কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবে।কোন কারণে স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করা সম্ভব না হলে জরুরী প্রয়োজনে দলের চেয়ারম্যান নিজ বিবেচনায় শাস্তিযোগ্য মনে করলে যে কোন সদস্যের বিরুদ্ধে যে কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ এবং পুর্বে নেয়া যে কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবেন।

তবে সকল ক্ষেত্রে যথাশীঘ্র সম্ভব জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।চেয়ারম্যান অথবা স্থায়ী কমিটি শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার পুর্বে প্রয়োজনবোধে অভিযুক্ত সদস্যকে ব্যক্তিগত শুনানীর সুযোগ দিতে পারবেন।সে ক্ষেত্রে একটি নোটিশ ডাকে কিংবা তার হাতে হাতে জারী করতে হবে।শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় সংক্ষুদ্ধ ব্যাক্তি শাস্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলের চেয়াম্যানের বরাবরে আপিল করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

(ঘ) সদস্যপদ থেকে পদত্যাগঃ

(১) দলের যে কোন সদস্য দলের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত চিঠির মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন।

(২) দল কর্তৃক মনোনীত কোন সংসদ সদস্য যদি সংসদে দলের সংসদীয় দলের নেতা/নেত্রীর সম্মতি ছাড়া নিজের নির্দিষ্ট আসন পরিবর্তন করেন বা অন্যদলের সাথে জোট বাঁধেন বা ফ্লোরক্রস করেন বা সংসদের দলীয় অবস্থানের পরিপন্থী কোন কাজ করেন তাহলে উপরোক্ত যে কোন কার্যের কারণে সেই সংসদ সদস্য এই দল থেকে তাৎক্ষনিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

৬ । (ক) সাংগঠনিক নীতিমালা ও কাঠামো

জাতীয়তাবাদী দল দেশের মৌলিক স্তর ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সংগঠিত হয়ে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে।দলের সাংগঠনিক কাঠামো নিুরুপ হবে:

(১) ইউনিয়নের ওয়ার্ড কাউন্সিল ও ইউনিয়নের ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

(২) পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল ও পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

(৩) ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি

(৪) উপজেলা/থানা কাউন্সিল ও উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটি

(৫) পৌরসভা কাউন্সিল ও পৌরসভা নির্বাহী কমিটি

(৬) জেলা কাউন্সিল ও জেলা নির্বাহী কমিটি

(৭) মহানগর ওয়ার্ড কাউন্সিল ও মহানগর ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

(৮) মহানগর থানা কাউন্সিল ও মহানগর থানা নির্বাহী কমিটি

(৯) মহানগর কাউন্সিল ও মহানগর নির্বাহী কমিটি

(১০) জাতীয় কাউন্সিল

(১১) জাতীয় নির্বাহী কমিটি

(১২) জাতীয় স্থায়ী কমিটি

(১৩) পার্লামেন্টারী বোর্ড

(১৪) পার্লামেন্টারী পার্টি

(১৫) প্রবাসে সংগঠন

(খ) সাংগঠনিক কাঠামোর গঠন প্রণালী

(১) ইউনিয়নের ওয়ার্ড কাউন্সিল ও ইউনিয়নের ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

প্রতি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে নূন্যতম ১০০জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে দলের কাউন্সিল গঠিত হবে।এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, দুই জন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক,একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত অনুর্দ্ধ ৫১ জনের একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন।ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দিবে।

(২) পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল ও পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

প্রতিটি জেলার বা পৌরসভাভুক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যুনতম ১৫০ জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে দলের পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল গঠিত হবে।এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, তিনজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ন সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ‘৭১ জনের অনুর্দ্ধ’ একটি পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন।এ কমিটি দলের ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে।পৌরসভা নির্বাহী কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৩) ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি

ইউনিয়নভুক্ত প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ সমন্বয়ে গঠিত হবে দলের ইউনিয়ন কাউন্সিল ।এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি,তিনজন সহ-সভাপতি,একজন সাধারণ সম্পাদক,দুইজন যুগ্ন-সম্পাদক,একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক,একজন দপ্তর সম্পাদক,একজন প্রচার সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ৭১ জনের অনুর্দ্ধ একটি ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন।উপজেলা/থানা কমিটি ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৪) উপজেলা/থানা কাউন্সিল ও উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটি

উপজেলা/থানাভুক্ত প্রতিটি ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ নিয়ে দলের উপজেলা/থানা কাউন্সিল গঠিত হবে।এ কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে থেকে একজন সভাপতি, পাঁচজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক,দুইজন যুগ্ন সম্পাদক,একজন সাংগঠনিক সম্পাদক,দুইজন সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন সহকারী দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ১০১ জনের অনুর্দ্ধ একটি উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে।জেলা কমিটি উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৫) পৌরসভা কাউন্সিল ও পৌরসভা নির্বাহী কমিটি

প্রত্যেকটি পৌরসভাভূক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দকে নিয়ে দলের পৌরসভা কাউন্সিল গঠিত হবে।এ কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে থেকে একজন সভাপতি, পাঁচজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ন — সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন সহকারী দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ১০১ জনের অনুর্দ্ধ একটি পৌরসভা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন।এ নির্বাহী কমিটি উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে।জেলা কমিটি এই কমিটির অুনমোদন দিবে।

(৬) জেলা কাউন্সিল ও জেলা নির্বাহী কমিটি

দলের জেলা কাউন্সিল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জেলাভূক্ত প্রতিটি উপজেলা/থানার ও পৌরসভার নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে।দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, সাতজন সহ-সভাপতি,একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ন সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন সহ-দপ্তর সম্পাদক, একজন সহ-প্রচার সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ১৫১ জনের অনুর্দ্ধ একটি জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে।চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে মহাসচিব জেলা কমিটির অনুমোদন দেবেন।

(৭) মহানগর ওয়ার্ড কাউন্সিল ও মহানগর ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল মহানগরীভুক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম ১৫০ জন প্রাথমিক সদস্যদের নিয়ে উপরোক্ত প্রতিটি মহানগরে দলের ওয়ার্ড কাউন্সিল গঠিত হবে।দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, তিনজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ন সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ৭১ জনের অনুর্ধ্ব একটি মহানগর ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি উক্ত কাউন্সিল নির্বাচিত করবেন।এ কমিটি দলের ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে।মহানগর থানা নির্বাহী কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৮) মহানগর থানা কাউন্সিল ও মহানগর থানা নির্বাহী কমিটি

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল এই প্রতিটি মহানগরের অন্তর্ভূক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্বাহী কমিটি সদস্যবৃন্দদের নিয়ে সেই মহানগরে দলের মহানগর থানা কাউন্সিল গঠিত হবে।এই কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে একজন সভাপতি, পাঁচজন সহ-সভাপতি,একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ন সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ — সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন সহকারী দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ১২১ জনের অনুর্ধ্ব একটি মহানগর -থানা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন।মহানগর নির্বাহী কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৯) মহানগর কাউন্সিল ও মহানগর নির্বাহী কমিটি

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল এই প্রতিটি মহানগরের অন্তর্ভূক্ত প্রতিটি থানা নির্বাহী কমিটি সদস্যদের নিয়ে সেই মহানগরে দলের মহানগর কাউন্সিল গঠিত হবে ।এই কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে একজন সভাপতি, সাতজন সহ-সভাপতি,একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ন সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ — সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন সহ-দপ্তর সম্পাদক, একজন সহ-প্রচার সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ১৭১ জনের অনুর্দ্ধ একটি মহানগর নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে।দলের মহানগর নির্বাহী কমিটি দলের জেলা নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে।চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে দলের মহাসচিব মহানগর নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেবেন।

নির্বাহী কমিটি নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় কাউন্সিলসমূহ স্ব-স্ব এলাকায় প্রয়োজনবোধে জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে যে সব বিষয়ে সম্পাদকীয় পদ রয়েছে তার মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট কমিটির কর্মকান্ডের জন্য প্রয়োজন এমন বিষয়সমূহের জন্য এক বা একাধিক সম্পাদক নির্বাচিত করতে পারেন, যদিও কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা কোনক্রমেই যার যার এলাকা-কমিটির সীমিত সংখ্যা অতিক্রম করতে পারবে না।

২০২০ সালের মধ্যে সকল কমিটিতে মহিলা সদস্য সংখ্যা শতকরা ৩৩ ভাগে উন্নীত করতে হবে।

দলের নির্বাচিত বিভিন্ন নির্বাহী কমিটিসমূহ স্ব স্ব এলাকায় দলের কর্মসূচী বাস্তবায়ন, তদারক ও নিয়ন্ত্রন করবেন।

(১০) জাতীয় কাউন্সিল

(ক) ‘জাতীয় কাউন্সিল’ নামে দলের একটি জাতীয় কাউন্সিল থাকবে যার গঠন পদ্ধতি নিুরুপ হবেঃ

(১) প্রতি উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটির (মহানগর থানাসহ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;

(২) প্রতি পৌরসভার নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;

(৩) প্রতি জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;

(৪) প্রতি মহানগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;

(৫) প্রতি জেলা ও মহানগর নির্বাহী কমিটি কর্তৃক মনোনীত প্রতি জেলা ও মহানগর হতে দুইজন মহিলা সদস্য;

(৬) পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্যবৃন্দ;

(৭) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ;

(৮) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ;

(৯) চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত উপরে বর্ণিত ১ হতে ৮ এর মোট

সদস্য সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ ।

(খ) জাতীয় কাউন্সিলের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিুরুপ হবেঃ

(১) জাতীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ও প্রবর্তিত দলের নীতি ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও কার্যকরী করা;

(২) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যগণের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।

(৩) দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করা;

(৪) দলের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রেরিত যে কোন বিষয় বিবেচনা করা;

(৫) মহাসচিবের রিপোর্ট বিবেচনা করা ও গ্রহণ করা;

(৬) জাতীয় কাউন্সিলের ১/৩ (এক তৃতীয়াংশ) সদস্যদের প্রস্তাবিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা।

(গ) বিষয় কমিটি

দলের চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনবোধে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে কয়েকজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন বিষয় কমিটি মনোনীত করতে পারবেন।অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে যে সমস্ত বিষয়ে এ ধরণের কমিটি গঠিত হতে পারে সেগুলো হচ্ছেঃ জাতীয় পরিকল্পনা ও অর্থ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ; বন্যা নিয়ন্ত্রণ;পল্লী উন্নয়ন, খাদ্য ও কৃষি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা, শ্রম কল্যাণ, মহিলা, যুব সম্প্রদায়, আন্তর্জাতিক বিষয় ও শিশু কল্যাণ।এই সমস্ত কমিটি সমূহে দলের সদস্য নন অথচ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী, যোগ্যতাস¤পন্ন ও সুদক্ষ এমন ব্যাক্তিদেরকেও কো-অপ্ট করা যাবে, তবে কোন অবস্থাতেই এদের সংখ্যা কমিটির নির্ধারিত মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশী হবে না।কমিটিতে কো-অপ্ট করা সদস্যবৃন্দ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

(১১) জাতীয় নির্বাহী কমিটি

জাতীয় নির্বাহী কমিটি অনুর্ধ্ব ৩৫১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে।তবে দলের চেয়ারম্যান কর্মকর্তা বা সদস্যদের সংখ্যা নিরূপণে বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে পারবেন কিন্তু মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫১ জনের উর্ধ্বে দশ শতাংশের বেশী বৃদ্ধি করা যাবেনা।প্রত্যেক জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও প্রত্যেক মহানগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি তাঁদের পদাধিকার বলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য থাকবেন।জাতীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্যের শতকরা ১০ ভাগ মহিলা সদস্য হতে হবে এবং আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে।এই কমিটিতে মোট সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ সদস্য শ্রমিক,মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, উপজাতি ও সমাজের অন্যান্য স্তরের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে নিতে হবে।

জাতীয় নির্বাহী কমিটি নিম্নলিখিত কর্মকর্তাসহ দলের জাতীয় কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।তবে এই কমিটির অন্ততঃ এক-তৃতীয়াংশ জাতীয় কাউন্সিল থেকে নিতে হবে।এই কমিটি ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হবে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্য্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

চেয়ারম্যান — ১ জন

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান — ১ জন

ভাইস চেয়ারম্যান — ১৭ জন

মহাসচিব — ১ জন

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব — ১ জন

যুগ্ম মহাসচিব — ৭ জন

দফতর সম্পাদক — ১ জন

কোষাধক্ষ্য — ১ জন

সাংগঠনিক সম্পাদক — ৬ জন

সম্পাদক – বিশেষ দায়িত্বে — ১ জন

প্রচার সম্পাদক — ১ জন

সম্পাদক, আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিষয়ক — ৭ জন

সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, আইন বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, শিক্ষা বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, সমাজ কল্যান বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, যুব বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, স্থানীয় সরকার বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, শিল্প বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, অর্থনৈতিক বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, ক্রীড়া বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, প্রশিক্ষন বিষয়ক — ২ জন

সম্পাদক, ছাত্র বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, শ্রমিক বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, কৃষি বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, গণশিক্ষা বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, ধর্ম বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, পরিবার কল্যাণ বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, সমবায় বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, গ্রাম সরকার বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, প্রকাশনা বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, স্বনির্ভর বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, তাঁতী বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, শিশু বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, স্বাস্থ্য বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, মানবাধিকার বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, উপজাতী বিষয়ক — ১ জন

সম্পাদক, মৎসজীবি বিষয়ক — ১ জন

উপ-কোষাধ্যক্ষ — ১ জন

সহঃ সাংগঠনিক সম্পাদক — ৬ জন

সহঃ দফতর সম্পাদক — ৩ জন

সহঃ প্রচার সম্পাদক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, আইন বিষয়ক — ৩ জন

সহঃ সম্পাদক, শিক্ষা বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, ক্রীড়া বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, যুব বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক — ২ জন

সহঃ সম্পাদক, ধর্ম বিষয়ক — ৩ জন

সহঃ সম্পাদক, ছাত্র বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, শ্রমিক বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, কৃষি বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, সমবায় বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, শিল্প বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, প্রকাশনা বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক — ৩ জন

সহঃ সম্পাদক, গ্রাম সরকার বিষয়ক — ১ জন

সহঃ সম্পাদক, স্থানীয় সরকার বিষয়ক — ১ জন

জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্তব্য ও দায়িত্ব নিম্নরুপ হবেঃ

(ক) দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটির কর্তব্য ও দায়িত্বের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করা।

(খ) প্রয়োজন বোধে কমিটির কর্মকর্তা/সদস্যের বিরুদ্ধে শ্বাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা।

(গ) দলের কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও তদুদ্দেশ্যে প্রস্তাব গ্রহণ ও নির্দেশ প্রদান করা।

(ঘ) বৈধতা প্রশ্নে কমিটি সমূহের অন্তর্দ্বন্দ মেটানো ।

(ঙ) একই ব্যক্তির দলের একাধিক স্তরে সভাপতি কিম্বা সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হতে নিরুৎসাহিত করা।

(চ) দলের অংগ সংগঠনসমূহের কার্যকলাপের তদারক, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করা ।

(ছ) জাতীয় স্থায়ী কমিটির নির্দেশে অন্যান্য কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করা।

প্রতি ছয় মাসে অন্ততঃ একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে তবে প্রয়োজনবোধে যে কোন সময় কমিটির সভা চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে ডাকা যেতে পারে।যে বছর জাতীয় কাউন্সিল হবে সে বছর ব্যতীত প্রতি বছর অন্ততঃ একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্দ্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।

(১২) জাতীয় স্থায়ী কমিটি

দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন।তাঁদের সহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে মোট ১৯জন।চেয়ারম্যান স্বয়ং এ কমিটির প্রধান থাকবেন।জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ তাদের পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য বলে গণ্য হবেন।জাতীয় স্থায়ী কমিটি নিুোক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেনঃ

(ক) দলের প্রধান নীতি নির্ধারক অঙ্গ হিসাবে এ কমিটি দলের নীতি ও কর্মসূচী প্রনয়ণ ও প্রবর্তন করবে।

(খ) একমাত্র চেয়ারম্যানের অপসারণ ব্যতীত দলের অন্যান্য সকল পর্য্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে গৃহীত সমস্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পূণর্বিচারের ক্ষমতা এ কমিটির থাকবে।

(গ) এ কমিটির প্রয়োজনবোধে দলের ঘোষনাপত্র, গঠনতন্ত্র বিধি, উপবিধি ও ধারায় যথাযথ সংগতিপূর্ণ ব্যাখ্যা করবে এবং সে ব্যাখ্যা চুড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

(ঘ) দলের সদস্যরা যাতে দলের ঘোষনাপত্র, গঠনতন্ত্র, ধারা, উপধারা, বিধি ও উপবিধির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন এবং মেনে চলে এ কমিটি সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখবে।

(ঙ) এ কমিটি দলের প্রচারপত্র ও অন্যান্য প্রকাশনার অনুমোদন দান করবেন এবং এ কমিটির অনুমোদন ব্যতীত দলের কোন প্রচারপত্র বা প্রকাশনা প্রকাশ বা বিতরণ করা চলবে না।

(চ) এ কমিটি গ্রাম পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত যে কোন নির্বাহী কমিটির কাজ সাময়িকভাবে মূলতবী রাখার নির্দেশ দিতে পারবে কিংবা প্রয়োজন বোধে তা বাতিল করে দিয়ে পূণঃ নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবে।

পূণঃ নির্বাচনের জন্য স্থায়ী কমিটি একজন আহবায়ক বা বিশেষ ক্ষেত্রে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কমিটির পূণ:গঠন ও পুণ:নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবে।

(ছ) এ কমিটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয় কমিটি সমূহের আওতাভূক্ত যে কোন বিষয়ের উপর রিপোর্ট পেশ করার জন্য উক্ত কমিটিসমূহকে নির্দেশ দিতে পারবে।

(জ) এ কমিটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটি সমূহের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করবে।

(১৩) পার্লামেন্টারী বোর্ড

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কিংবা অন্য যে কোন নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দলের একটি পার্লামেন্টারী বোর্ড থাকবে।দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিই হবে দলের পার্লামেন্টারী বোর্ড ।তবে যে জেলার প্রার্থী মনোনয়নের জন্য পার্লামেন্টারী বোর্ডের সভা আহুত হবে সেই জেলার সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদক উক্ত সভায় পার্লামেন্টারী বোর্ডের সদস্য বলে গণ্য করা হবে।তবে কোন সদস্য যদি নির্বাচন প্রার্থী হন তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী বিবেচনাকালে বোর্ডের সভায় তিনি অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না।দলের চেয়ারম্যান হবেন পার্লামেন্টারী বোর্ডের সভাপতি।জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিংবা যে কোন নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব পার্লামেন্টারী বোর্ড পালন করবেন এবং এ ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

তবে পার্লামেন্টারী বোর্ড সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা/থানা অথবা জেলা কমিটি (যদি থাকে) কর্তৃক প্রণীত প্রার্থী প্যানেল হইতে চুড়ান্ত প্রার্থী মনোনীত করবে।

(১৪) পার্লামেন্টারী পার্টি

জাতীয় সংসদে দলের সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে দলের পার্লামেন্টারী পার্টি।দলের চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে এ পার্টি তার নেতা, উপনেতা, চীফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের নির্বাচিত করবেন।পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্যবৃন্দ পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হবেন।

(১৫) প্রবাসে সংগঠন

প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশীগণের মধ্যে যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচীতে বিশ্বাস করেন তাঁরা যেসব দেশে স্থায়ী কিম্বা অস্থায়ী ভাবে বসবাস করেন সেসব দেশের প্রচলিত আইনে সংগঠন প্রতিষ্ঠা/পরিচালনা করতে পারবেন।

(১৬) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল

চেয়ারম্যানকে বিশেষ বিষয়ে পরামর্শের জন্য সহ-সভাপতির পদ মর্যাদায় ১৫ জন উপদেষ্টা থাকবে।তবে বিষেশ প্রয়োজনে চেয়ারম্যান উপরোক্ত সংখ্যা বাড়াতে পারবেন।তারা চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবেন এবং পদাধিকার বলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বলে গণ্য হবেন।

(১৭) চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী

চেয়ারম্যান তাঁর দলীয় কার্য্যক্রম পরিচালনায় সহযোগীতা করার জন্য প্রয়োজনবোধে বিশেষ সহকারী নিযুক্ত করতে পারবেন।তিনি নিজেই তাঁর বিশেষ সহকারীদের সংখ্যা এবং দলে তাদের সাংগঠনিক মর্য্যাদা নির্ধারণ করবেন।

৭ ।কমিটির সদস্য পদের অযোগ্যতা

নিম্নাক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যে কোন পর্যায়ের যে কোন নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

(ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৮-এর বলে দন্ডিত ব্যাক্তি;

(খ) দেউলিয়া;

(গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যাক্তি;

(ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যাক্তি ।

৮।চেয়ারম্যান

প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে দলের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন।৩০ বছরের কম বয়স্ক কোন ব্যাক্তি দলের চেয়ারম্যান হতে পারবেন না।

(ক) চেয়ারম্যান নির্বাচন

জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের সরাসরি ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্টতার মাধ্যমে ৩ বছরের জন্য দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।মেয়াদ শেষে চেয়ারম্যান পদে একই ব্যাক্তি পুনরায় নির্বাচিত হতে পারবেন।কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত চেয়ারম্যান দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্য্যন্ত চেয়ারম্যান স্বপদে বহাল থাকবেন।

(খ) চেয়ারম্যানের কর্তব্য,ক্ষমতা ও দায়িত্ব

(১) দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটি সমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটি সমূহের উপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাদের কার্যাবলীর নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।

(২) উপরোক্ত কমিটি সমূহের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও চেয়ারম্যান প্রয়োজনবোধে নিতে পারবেন।

(৩) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসাবে উক্ত কমিটির কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্তব্য চেয়ারম্যান নিরুপণ করবেন।

(৪) চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিষয় কমিটিরসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহ বাতিল করে দিতে পারেন।

(৫) চেয়ারম্যান জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাসমূহে সভাপতিত্ব করবেন, তবে এ ক্ষমতা প্রয়োজনবোধে তিনি অন্য সদস্যের উপর অর্পণ করতে পারবেন।

(৬) চেয়ারম্যান জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ পূরণ করতে পারবেন।

(গ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব

(১) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে চেয়ারম্যানকে সহযোগীতা করবেন এবং চেয়ারম্যান কর্ত্তৃক অর্পিত যে কোন দায়িত্ব পালন করবেন।

(২) চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

(৩) যে কোন কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূণ্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।’

(ঘ) চেয়ারম্যানের অপসারণ

জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দাবীকৃত জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশের ভোট যদি চেয়ারম্যানের অপসারণের অনুকুলে হয় তাহলে চেয়ারম্যানকে অপসারিত করা যাবে।তবে জাতীয় কাউন্সিলের উক্ত দাবীতে চেয়ারম্যানের অপসারণই সভার একমাত্র বিষয়বস্তু হিসাবে দেখাতে হবে এবং অপসারণের কারণ স্পষ্টভাবে লিখিত থাকতে হবে।

৯।সভা, নোটিশ, কোরাম

(ক) জাতীয় কাউন্সিল

দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের লিখিত পরামর্শক্রমে জাতীয় কাউন্সিলের সভা আহবান করতে পারবেন।কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য কাউন্সিলের সভার কোরাম গঠন করবে।লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে সম্ভব হলে বছরে অন্ততঃ একবার জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।অনুরুপভাবে সুস্পষ্ট ৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে।জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশের) দাবিতে অনুরুপভাবে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের ‘দাবী সভা’অনুষ্ঠান করা যাবে।তবে এ সভার নোটিশে সুস্পষ্টভাবে দাবীর বিষয়বস্তু উল্লেখ থাকতে হবে।এরূপ সভায় মোট কাউন্সিলরদের ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশের) ভোট দাবীর পক্ষে না পাওয়া গেলে দাবীটি বাতিল হয়ে যাবে।

(খ) জাতীয় নির্বাহী কমিটি

দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের লিখিত পরামর্শক্রমে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহবান করতে পারবেন।জাতীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য উক্ত কমিটির সভার কোরাম গঠন করবে।লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ৭ দিনের লিখিত নোটিশে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহবান করা যেতে পারে।তবে জরুরী সভার জন্য ৪৮ ঘন্টার নোটিশই যথেষ্ট হবে।তবে সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক — তৃতীয়াংশ)সদস্যের দাবীতে এবং সুস্পষ্ট ৭ দিনের উপরোক্তভাবে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা দাবী করা যেতে পারে এবং কমিটির মহাসচিব যদি সেই সভা আহবান না করেন, তবে কমিটির চেয়ারম্যান উক্ত সভা আহবান করবেন।

(গ) জাতীয় স্থায়ী কমিটি

দলের চেয়ারম্যান যে কোন সময় তাঁর ইচ্ছানুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা আহবান করতে পারেন।তবে প্রতি ৩ মাসে অন্তত: একবার স্থায়ী কমিটির সভা হতে হবে।বিদ্যমান (Exist­ing) সদস্য সংখ্যার ৫০ ভাগ সদস্য নিয়ে এ সভার কোরাম গঠিত হবে।

(ঘ) ওয়ার্ড থেকে জেলা নির্বাহী কমিটি

দলের ওয়ার্ড কমিটি থেকে জেলা কমিটি পর্য্যন্ত সমস্ত পর্য্যায়ের নির্বাহী কমিটির সভা উক্ত কমিটির সাধারন সম্পাদক কমিটির সভাপতির সাথে আলোচনা করে সাত দিনের নোটিসে আহ্বান করতে পারবেন।ব্যাক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বল্প সময়ের নোটিসে জরুরী সভা আহ্বান করা যেতে পারে।আহ্বায়ক কমিটির ক্ষেত্রে আহ্বায়ক সভা আহ্বান করতে পারবেন।সকল পর্য্যায়ের নির্বাহী কমিটি ও আহ্বায়ক কমিটির সভার কোরাম সংশ্লিষ্ট কমিটির মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক তৃতীয়াংশ) সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে।প্রতি তিনমাসে অন্ততঃ একবার মহানগর/জেলা/উপজেলা/থানা/পৌরসভা/ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি সভা অনুষ্ঠান করতে হবে।প্রতিটি সভার উপস্থিতির সাক্ষরসহ কার্য্যবিবরনী ও সিদ্ধান্তের অনুলিপি উর্দ্ধতন কমিটির নিকট অবিলম্বে প্রেরণ করতে হবে।

(ঙ) মহানগর/জেলা/উপজেলা/থানা/পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং পৌর ওয়ার্ড উপদেষ্টা কমিটি

মহানগর ও জেলা নির্বাহী কমিটিতে অনুর্দ্ধ ১১জন, উপজেলা/থানা/পৌরসভা নির্বাহী কমিটিতে অনুর্দ্ধ ৯জন ও ইউনিয়ন এবং পৌর ওয়ার্ড কমিটিতে অনুর্দ্ধ ৭জন সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি থাকবে।দলের প্রবীণ ও প্রাক্তন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দলের কার্য্যক্রমে যুক্ত সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ এর সদস্য হবার যোগ্য হবেন।দলের সংশ্লিষ্ট কমিটি কৃর্তক উপদেষ্টা কমিটি মনোনীত হবেন।তারা সংশ্লিষ্ট কমিটিকে পরামর্শ দেবেন এবং দলীয় সভা, অনুষ্ঠান ও কার্য্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন।

১০।তহবিল দলের কোষাধ্যক্ষ সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ ও হিসাব রক্ষাবেক্ষণ করবেন।কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংগঠনের হিসাব খোলা হবে এবং চেয়ারম্যান/সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও মহাসচিব/সাধারণ সম্পাদক এই তিনজনের যে কোন দুই জনের যুক্ত স্বাক্ষরে তহবিল পরিচালনা করা যাবে, তবে যুক্ত স্বাক্ষরে কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকতেই হবে।কোন অনিবার্য কারণে কোষাধ্যক্ষ দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে কিম্বা তার অনুপস্থিতে উপ-কোষাধ্যক্ষ কোষাধ্যক্ষের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন।দলের হিসাব প্রতি বছর অডিট করাতে হবে এবং অর্থ বছর সমাপ্ত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।সদস্য ফি, চাঁদা, দান, অনুদান, মনোনয়ন ফরম বিক্রির ও মনোনয়নপত্র গ্রহনের সময় প্রাপ্ত টাকা সংগ্রহের মাধ্যমে দলের তহবিল সৃষ্টি করা হবে।

১১।বিধি ও উপবিধি

যে ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে কোন সুনির্দিষ্ট বিধান নাই, জাতীয় স্থায়ী কমিটি সে ক্ষেত্রে বিধি ও উপবিধি প্রনয়ণ করতে পারবে।

১২।গঠনতন্ত্র সংশোধন

গঠনতন্ত্র সংশোধনের নিয়মাবলী নিুরুপ হবেঃ

জাতীয় কাউন্সিলের যে কোন সদস্য লিখিতভাবে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব করতে পারেন।উক্ত প্রস্তাব দলের মহাসচিব এর নিকট প্রেরণ করতে হবে যাতে করে মহাসচিব প্রস্তাবটি জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় পেশ করতে পারেন, তবেঃ

(ক) প্রস্তাবিত সংশোধনী যে সভায় বিবেচিত হবে সে সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের মধ্যে সংশোধনী প্রস্তাবের অনুলিপি বিতরণ করতে হবে।এই সংশোধনী গৃহীত হতে হলে মোট কাউন্সিলরদের তিন ভাগের দুই ভাগকে প্রস্তাবের অনুকূলে ভোট দিতে হবে।

(খ) জরুরী কারণে যদি কোন সংশোধনী প্রয়োজন হয়ে পড়ে, দলের চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্রে সে সংশোধন করতে পারবেন, তবে জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় ‘ক’তে বর্ণিত সংখ্যাগরিষ্টতায় উক্ত সংশোধনী গৃহীত হতে হবে ।

১৩।অংগ সংগঠন

দলের এক বা একাধিক অংগ সংগঠন থাকতে পারে ।এই সকল অংগ সংগঠনের নিজস্ব ঘোষনাপত্র, গঠনতন্ত্র, পতাকা ও কার্যালয় থাকবে এবং এই সকল অংগ সংগঠন মূল দলের শৃংখলার আওতাধীন থাকবে।দলের চেয়ারম্যান শৃংখলা ভংগের জন্য কিংবা সংগঠন পরিপন্থী কর্মকান্ডের জন্য কিংবা অসদাচরণের জন্য যে কোন সময় অংগ সংগঠনের কর্মকর্তা বা সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং সংগঠন থেকে তাঁকে বহিস্কার করতে কিংবা সাময়িকভাবে সংগঠনের সদস্য পদ স্থগিত করতে কিংবা তিরস্কার করতে নির্দেশ বা পরামর্শ দিতে পারবেন।

অংগ সংগঠন হিসাবে দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোন সংগঠন জাতীয়তাবাদী দলের অংগ সংগঠন হিসাবে বিবেচিত হবে না।অনুমোদনের তারিখ হতে অংগ সংগঠনের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে।দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে প্রত্যেক অংগ সংগঠন সম্পর্কিত একজন সম্পাদক থাকবে।দলের কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহযোগিতা করাই হবে অংগ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য এবং এ উদ্দেশ্যে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দলের প্রভাব বিস্তার কিংবা দলের নীতির প্রসার করার উদ্দেশ্যে এ সংগঠন তাদের নিজস্ব কর্মসূচী প্রনয়ণ করবে।তবে অংগ সংগঠন সমুহের ঘোষনাপত্র, গঠনতন্ত্র এবং পতাকা চেয়ারম্যান কর্তৃক পূর্বেই অনুমোদিত হতে হবে এবং যদি কোন অঙ্গ সংগঠন তাদের ঘোষনাপত্র,গঠনতন্ত্র বা পতাকার কোন প্রকার পরিবর্তন,পরিবর্ধন বা সংশোধন করতে চায় তাহলে চেয়ারম্যানের পূর্বানুমোদন ছাড়া তার কোনটাই কার্যকর করা যাবে না ।

দল অংগ সংগঠনের এ সকল কর্মসূচী বাস্তবায়নে তাদের সক্রিয়ভাবে সাহায্য করবে।এ পর্যন্ত যে সমস্ত সংগঠন দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন পেয়ে অঙ্গ সংগঠন হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তারা হচ্ছেঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুব দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎসজীবী দল

১৪।সহযোগী সংগঠন

বিভিন্ন শ্রেণী পেশায় নিযুক্ত ব্যাক্তিগণের মধ্যে যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচীতে বিশ্বাস করেন তারা স্ব-স্ব শ্রেণী- পেশার স্বার্থ রক্ষার জন্য সংগঠিত হতে পারবেন এবং এইসব সংগঠন দলের সহযোগী সংগঠন হিসাবে গণ্য হবে।তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল তাদের স্ব-স্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

(৮ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখ পর্যন্ত সংশোধিত)

এ পর্যন্ত ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন যে সব নেতারা

এ পর্যন্ত ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন যে সব নেতারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ছাত্র সংগঠন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। ছাত্রদলের প্রধান শ্লোগান হচ্ছে – শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি। এই সংগঠনের প্রধান কার্যালয় নয়া পল্টনে। বর্তমানে যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত, তাদের অনেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাথে যুক্ত ছিলেন।

জিয়াউর রহমান যখন বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তিনি একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তার প্রেক্ষিতে ১লা জানুয়ারী ১৯৭৯ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হয়। কাজী আসাদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের আহ্বায়ক করে ঐদিন ছাত্রদলের প্রথম কমিটি প্রকাশ করা হয়। প্রসঙ্গত জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন।

এ পর্যন্ত ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন যে সব নেতারা

past jcd leaders

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের জীবনী

বুধবার, ৩০শে মার্চ, ২০১৬ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র ৭ম মহাসচিব এর দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে রোববার, মার্চ ২০, ২০১১ থেকে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০০৯ বিএনপির ৫ম জাতীয় সম্মেলন পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এর দায়িত্ব পান।

জন্ম

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার, আগস্ট ১, ১৯৪৮ এ ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  তার পিতা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ এবং সংসদ সদস্য।

ছাত্রজীবন

মির্জা আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও সন্মান ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।  তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (অধুনা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) একজন সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।  ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

কর্মজীবন

১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে মির্জা আলমগীর ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ৭০’র দশকের শেষের দিকে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনে যোগ দেন। সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যায় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে একজন অডিটর হিসেবে কাজ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর সরকারের  উপ-প্রধানমন্ত্রী এস.এ. বারির একজন ব্যাক্তিগত সচিব ছিলেন, যে পদে তিনি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বহাল ছিলেন। এস.এ. বারি উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করার পর মির্জা আলমগীর শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান, এবং ১৯৮৬ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সরকারী কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা আলমগীর তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন দেশব্যাপী তুঙ্গে তখন মির্জা আলমগীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি – তে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে মির্জা আলমগীর ঠাকুরগাঁও বিএনপির সভাপতি মনোনীত হন।

মির্জা আলমগীর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের কাছে হেরে যান। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান এবং আবারও আওয়ামী লীগের খাদেমুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন।

মির্জা ফখরুল ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সাথে প্রতিযোগীতা করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। মির্জা আলমগীর এবার পেয়েছিলেন ১,৩৪,৯১০ ভোট, যা রমেশ চন্দ্র সেনের ভোটের চেয়ে ৩৭,৯৬২ বেশি ছিল।

২০০১ সালের নভেম্বরে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভায় মির্জা আলমগীর কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা আলমগীর ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে স্বল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০০৯ বিএনপির ৫ম জাতীয় সম্মেলন পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এর দায়িত্ব পান।

২০১১ সালের মার্চে বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করলে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রোববার, মার্চ ২০, ২০১১ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।

ব্যক্তিগত জীবন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই মেয়ের জনক। তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন ও বর্তমানে ঢাকার একটি বীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তার বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে এই প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকতা করেছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশীপ সম্পূর্ণ করার পর এখন অস্ট্রেলিয়ার সরকারের স্বাস্থ্য ডিপার্টমেন্টে বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

মির্জা আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন একজন আইনজীব ছিলেন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাধীনতার আগে ও পরে একাধিক বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে মির্জা আমিন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

মির্জা আলমগীরের চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ – একাধারে বিএনপি’র জাতীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পীকার ছিলেন। মির্জা হাফিজ ১৯৭৮-১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম নেতৃত্বাধীন সরকারে ভুমি মন্ত্রী, ১৯৭৯-১৯৮২ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে স্পীকার এবং ১৯৯১-১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা আলমগীরের অপর চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা, এপ্রিল ১৯৭১-এ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যেটি মুজিবনগর সরকার নামে খ্যাত, এই সরকার কর্তৃক ডাইরেক্টোরেট অফ ইয়ুথ ক্যাম্পের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ছাত্র সংগঠন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। ছাত্রদলের প্রধান শ্লোগান হচ্ছে – শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি। এই সংগঠনের প্রধান কার্যালয় নয়া পল্টনে। বর্তমানে যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত, তাদের অনেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাথে যুক্ত ছিলেন।

জিয়াউর রহমান যখন বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তিনি একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তার প্রেক্ষিতে ১লা জানুয়ারী ১৯৭৯ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হয়। কাজী আসাদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের আহ্বায়ক করে ঐদিন ছাত্রদলের প্রথম কমিটি প্রকাশ করা হয়। প্রসঙ্গত জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন।

Chhatra Dal's constitution Chhatra Dal's constitution 2 Chhatra Dal's constitution 3 Chhatra Dal's constitution 4 Chhatra Dal's constitution 5

Chhatra Dal's constitution 7 Chhatra Dal's constitution 8Chhatra Dal's constitution 9Chhatra Dal's constitution 10

বিএনপির ১৯দফা

দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি প্রনয়ন করেছিলেন।
১. সর্বতোভাবে দেশের স্বাধীনতা, অখন্ডতা এবং সার্বোভৌমত্ব রক্ষা করা।

২. শাসন তন্ত্রের চারটি মূলনীতি অর্থ্যাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি সর্বাত্নক বিশ্বাস ও আস্থা, গনতন্ত্র,জাতীয়তাবাদ,সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সমাজতন্ত্র জাতীয় জীবনে সর্বাত্নক প্রতীফলন।

৩. সর্ব উপায়ে নিজেদেরকে একটি আত্ননির্ভরশীল জাতি হিসাবে গঠন করা।

৪. প্রশাসনের সর্বস্তরে, উন্নয়ন কার্যক্রমে ও আইন শৃংঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।

৫. সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এর ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়ন এর মাধ্যমে গ্রামীন তথা জাতীয় অর্থনীতিকে জোরদার করা।

৬. দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন করা এবং কেউ যেন ক্ষুধার্থ না থাকে তা নিশ্চিত করা।

৭. দেশে কাপড় এর উৎপাদন বাড়িয়ে সকলের জন্য অন্তত মোট কাপড় নিশ্চিত করা।

৮. কোন নাগরিক যেন গৃহহীন না থাকে তার যথাসম্ভব ব্যবস্থা করা।

৯. দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।

১০. .সকল দেশ বাসীর জন্য নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

১১. সমাজে নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং যুবসমাজ কে সুসংহত করে জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করা।

১২. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারী খাতে প্রয়োজনীয় উৎসাহ দান।

১৩. শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।

১৪. সরকারী চাকুরীজীবিদের মধ্যে জনসেবা ও দেশ গঠনের মনোবৃত্তি উৎসাহিত করা এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করা।

১৫. জনসংখ্যা বিস্ফোরন রোধ করা।

১৬. সকল বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং মুসলিম দেশ গুলোর সাথে সম্পর্ক জোড়দার করা।

১৭. প্রশাসন এবং উন্নয়ন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরন এবং স্থানীয় সরকার কে শক্তিশালী করা।

১৮. দূর্নীতিমুক্ত, ন্যায়নীতি ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।

১৯. ধর্ম, গোত্র ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার পূর্ন সংরক্ষন করা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করা।

আমাদের নিবন্ধিত সংবাদদাতা হন

Politics News Bangladesh
Politics News Bangladesh, Politics Based Online NewsPortal PoliticsNews24.com

আমাদের নিবন্ধিত সংবাদদাতা হন

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংবাদভিত্তিক একমাত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল , পলিটিক্সনিউজ২৪.কম। রাজনীতির সকল সংবাদ জনগণের কাছে, শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানর লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি । আপনিও হতে পারেন আমাদের নিবন্ধিত সংবাদদাতা। নিবন্ধিত হয়ে  আপনার আশেপাশের রাজনীতির সকল সংবাদ আমাদের পাঠাতে পারেন। ছড়ায়ে দিতে পারেন তৃণমূলের রাজনীতির সংবাদ গণমানুষের কাছে, শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অতি সহজে। নিবন্ধিত সংবাদদাতা হতে যোগাযোগ করুন, ০১৭১১-৪৬০৬০১ বা ০১৬৭৯-৮২৮২৭৯ নম্বরে বা ইমেইল করুন news.politicsnews24@gmail.com এ ।  

PoliticsNews24.com
PoliticsNews24.com

নিবন্ধনের জন্য যা যা লাগবেঃ

-আমাদের সংবাদদাতা ফর্ম পূরণ

-দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি

-জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি

 

খালেদা জিয়া :সংক্ষিপ্ত জীবনী, খালেদা খানম থেকে বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) বিএনপির  প্রধান। খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫  আগস্ট জলপাইগুড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন।  তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত দু দফায় মোট ১০ বছর  প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার পরিবার

বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত নাম খালেদা খানম, ডাক নাম পুতুল। আগস্ট ১৫, ১৯৪৬ সালে জলপাইগুড়িতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট। তাঁর পিতামহ হাজী সালামত আলী, মাতামহ জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান। বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার।

খালেদা জিয়ার স্বামী বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। তার এক ভাই মেজর(অবঃ) সাইদ ইস্কান্দার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ফেনী-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান (জন্মঃ ২০ নভেম্বর ১৯৬৭) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ১ম ভাইস-চেয়ারম্যান। তার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো (১২ আগস্ট ১৯৭০ – ২৪ জানুয়ারি ২০১৫)। আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।আরাফাত রহমান একজন ব্যবসায়ী ছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সিটি ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার স্থায়ী নিবাস

দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া। আদি পিতৃ-ভিটা ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ী। বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ইস্কান্দর মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে চা ব্যবসায়ে জড়িত হন। ১৯৩৭ সালে জলপাইগুড়িতে বিয়ে করেন। জল্পাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বসবাস করেন। ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একান্ত ভাবে একজন গৃহিনী। 

খালেদা জিয়ার শিক্ষা

খালেদা জিয়ার স্কুলজীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে। এরপর দিনাজপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে পড়াশুনা করেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। 

খালেদা জিয়ার বিয়ে

১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়। জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল। জিয়া তখন ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডি এফ আই এর অফিসার হিসাবে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন।

সংসার

১৯৬৫ সালে খালেদা জিয়া স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমানে পাকিস্তান)যান। ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে স্বামীর সাথে ছিলেন। এরপর ঢাকায় চলে আসেন। কিছুদিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে স্বামীর পোস্টিং হলে তার সঙ্গে সেখানে এবং চট্টগ্রামের ষোলশহর একালায় বসবাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাক সেনারা তাকে দুই ছেলে সহ বন্দী করে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান। রাজনীতিতে আসার আগ পর্যন্ত বেগম জিয়া একজন সাধারণ গৃহবধু ছিলেন।  জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও রাজনীতিতে বেগম জিয়ার উপস্থিতি ছিল না।

রাজনীতিতে বেগম জিয়া

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মিদের আহ্ববানে তিনি ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলতঃ বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।

আন্দোলন

১৯৮৩ সালের বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বেগম জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। একই সময় তার নেতৃত্বে সাত দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন পনের দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচী শুরু করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাঁধার সৃষ্টি হয়। ১৫ দল ভেঙ্গে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট আন্দোলন চালায় এবং নির্বাচন প্রত্যাখান করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া “এরশাদ হটাও” এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে এরশাদ সংসদ ভেঙ্গে দেন। পুনরায় শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর একটানা নিরলস ও আপোসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তার সরকার দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার কায়েম করে। ২ এপ্রিল তিনি সংসদে সরকারের পক্ষে এই বিল উত্থাপন করেন। একই দিন তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ কে স্বপদে ফিরে যাবার ব্যবস্থা করে একাদশ সংশোধনী বিল আনেনে। ৬ আগস্ট ১৯৯১ সালের সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে দুটি বিল পাশ হয়।

  • ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। যা পরবর্তীতে ৯৬ এর একদলীয় নির্বাচন হিসেবে গণ্য হয়। সকল বিরোধীদলের আপত্তির পর ও খালেদা জিয়া ও তার দল এই একক নির্বাচন করেন। আওয়ামী লীগ সহ সব বিরোধী দল এই নির্বাচন বয়কট করে। এই সংসদ মাত্র ১৫ দিন স্থায়ী হয়। খালেদা জিয়া এই সংসদের ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রবল  আন্দোলন ও বর্হিবিশ্বের চাপে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস হয় এবং খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন।

  • ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মোট ১১৬ আসনে জয় লাভ করে, যা সরকার গঠনে যথেষ্ঠ ছিলনা। আওয়ামী লীগ মোট ১৪৭ আসন লাভ করে, তারা জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপি সপ্তম সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের পাঁচ বছর শাসনকালে সংসদে বিরোধী দলনেত্রী ছিলেন ।

  • অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি জামাতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাতীয় পার্টির সাথে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া এই সংসদেও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়।

  • ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় ঐক্যজোট বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। মহাজোটের প্রায় ২৬০ টি আসনের বিপরীতে চার দলীয় ঐক্যজোট মাত্র ৩২টি আসন লাভ করে।

  • খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট সহ বাংলাদেশের অনেকগুলো রাজনৈতিক দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে।

গ্রেফতার

১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেবার পর থেকে মোট চার বার তিনি গ্রেফতার হন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেফতার হন। 

সর্বশেষ তিনি ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর ৩ তারিখে দূর্নীতির অভিযোগে পুত্রসহ গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বার তিনি হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তিলাভ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক গ্রেপ্তার হবার পর দীর্ঘ এক বছর সাত দিন কারাগারে অবস্থানকালে তাঁর বিরুদ্ধে চলতে থাকা কোন মামলারই উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি এবং চলতে থাকা তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি।

সেনানিবাসের বাসা ত্যাগ

১৩ নভেম্বর ২০১০ বেগম জিয়া তার ২৮ বছরের আবাসস্থল ছেড়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন তাকে বলপ্রয়োগে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তবে সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তিনি স্বেচ্ছায় বাসা ত্যাগ করেছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে জিয়াউর রহমানের সাথে শহীদ মইনুল সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থানে নিহত হলে ১২ জুন তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের ওই বাড়িটি খালেদার নামে বরাদ্দ দেন। 

ভাল নেই খালেদা জিয়া

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করে খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেত্রির পদ হারান। বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার কোথাও তার উপস্থিতি নেই। তার দলের অনেক নেতার উপর রয়েছে সরকারের সাথে আঁতাত করে রাজনীতির অভিযোগ। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ২০টি মামলা রয়েছে।  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে দিন দিন শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা। যেভাবে দুর্নীতির মামলা চলছে তাতে বিএনপি নেত্রীর সাজা দ্রুত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার সংখ্যা পাঁচটি। বাকিগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় করা সহিংসতা, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির পিটিশন মামলা। 

(তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া )

ছাত্রদলের সাবেক নেতারা কে কোথায়?

১৯৭৯ সাল। পহেলা জানুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে এ ছাত্রসংগঠনটি ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ডাকসুর ভিপিসহ দেশের ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্বদানকারী এ সংগঠনটি এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। গতিশীল নেতৃত্ব ও ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব না থাকার কারণে এ সংগঠনটি রাজপথে পুরনো ভূমিকায় নামতে পারছেন না। নানা প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির সভাপতি ও আহ্বায়কের পদে এসেছেন ১৭ জন। সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কের পদে আসীন হয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে রাজনীতি ছেড়েছেন ৬ জন। সক্রিয় ১৩ জন। ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে কেউ স্থান করতে না পারলেও ভালো পদের আশায় আছেন অনেকেই। সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে মারা গেছেন ৩ জন, গুম হয়েছেন ১ জন, বাকিরা ভালো পদের অপেক্ষায়।

রাজনীতিতে সক্রিয় যে ১৩ জন: ১৯৭৯ সালে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ছিলেন কাজী আসাদুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রনেতা বর্তমানে বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক। ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন শামছুজ্জামান দুদু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররাজনীতি শুরু করার এই নেতা বর্তমানে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন ড. আসাদুজ্জামান রিপন। মুন্সীগঞ্জের এই ছাত্রনেতা বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। বেশ কিছু সময় দল থেকে দূরে থাকায় তিনি পিছিয়ে পড়েছেন। তিনি ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাট অ্যান্ড গ্লোবাল-এর সম্পাদক। ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক পদে ছিলেন আমান উল্লাহ আমান। এর আগে ৮৭ থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। ৯০ সালে তিনি ছিলেন ডাকসুর ভিপি। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, পরবর্তীতে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। ১৯৯২ সালের ১৬ই মে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি পদে জয়ী হন রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। কিন্তু আন্তঃকোন্দলের ফলে মাত্র ৪ মাস টিকে ছিল রিজভীর কমিটি। ৪ মাস পরেই তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ থেকে চলে যান। এককালের মাঠকাঁপানো এই ছাত্রনেতা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর ভিপি। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও দপ্তরের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন ফজলুল হক মিলন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমানে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। মিলনের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নাজিম উদ্দিন আলম। বর্তমানে তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ১৯৯৬-এর শেষের দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে আসেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সভাপতির পদে ছিলেন তিনি। ৭ম, ৮ম, ৯ম জাতীয় সংসদে লক্ষীপুর-৩ আসন থেকে পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমানে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক। এ্যানীর কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হাবীব-উন-নবী সোহেল। এরপর সোহেল ২০০০ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে একাই তিনটি পদের অধিকারী তিনি। বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব। ২০০২ সালের শেষের দিকে মাত্র ৪ মাসের জন্য ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন এবিএম মোশারফ হোসেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাবিষয়ক সম্পাদক।
২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিউল বারী বাবু। নবম সংসদ নির্বাচনে নিজ জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। শফিউল বারী বাবু বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বর্তমানে তিনি বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক। তার পৈতৃক নিবাস টাঙ্গাইল থেকে নির্বাচন করতে চান। টুকুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আমিরুল ইসলাম খান আলীম। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তিনি।
রাজনীতির বাইরে যারা: ছাত্রদলের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি এনামুল করিম শহিদ। ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে এই পদ পান তিনি। বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। এককালের তুখোড় এই ছাত্রনেতা বর্তমানে টাঙ্গাইলের একটি কলেজে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন। এনামুল করিম শহিদের পরে ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদে আসেন গোলাম সরোয়ার মিলন। এরশাদ সরকারের সময় দল ছেড়ে চলে যান জাতীয় পার্টিতে। এর কিছু দিন পরেই রাজনীতি থেকে সরে যান তিনি। ১/১১-এর সময় আবারও রাজনীতিতে জড়িত হন ফেরদৌস কোরেশীর দল পিডিপিতে। গোলাম সরোয়ার মিলনের মতোই অবস্থা এককালের তুখোড় ছাত্রনেতা আবুল কাশেম চৌধুরীর। ১৯৮৩ থেকে ৮৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এরশাদ সরকারের সময় বিএনপি ছেড়ে চলে যান এরশাদের সঙ্গে। এর কিছুদিন পরেই রাজনীতি থেকে সরে যান তিনি। ১/১১-এর সময় তিনি পিডিপিতে যোগ দিলেও বর্তমানে কোনো দলের সঙ্গে যোগাযোগ নেই তার। ১৯৮৬ ও ৮৭ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন জালাল আহমেদ। পরে রাজনীতি ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত আমানউল্লাহ আমানের আহ্বায়ক পদে থাকাকালীন যুগ্ম-আহ্বায়কের পদে ছিলেন সানাউল হক নীরু। বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে একাধিকবার দুর্ব্যবহার করে বর্তমানে দলচ্যুত। ২০০৩ ও ০৪ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলে সাহাবুদ্দিন লাল্টু। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে অভিমানে দল ছেড়েছেন তিনি। বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন তিনি।
মারা গেছেন ৩ জন: ১৯৭৯ সালে ছাত্রদলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন আকম গোলাম হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নেতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন দীর্ঘদিন। বিএনপির একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার ছিল খ্যাতি। বেশ কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। ছাত্রদলের শ্রেষ্ঠ সংগঠক বলে পরিচিত মাহবুবুল হক বাবলু। ১৯৮৬ সালের শেষের দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হয়ে ১৯৮৭ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিলেন। এরশাদ সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলে বোমা হামলায় নিহত হন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু। এরপর ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি। পিলখানায় বিডিআর হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ৩রা মে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।
সেই আলোচিত ইলিয়াস আলী: ২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল রাতে নিজ বাসায় ফেরার পথে রাজধানী ঢাকার মহাখালী থেকে নিখোঁজ হন তিনি। তখন থেকেই কোনো হদিস মেলেনি তার। ইলিয়াস আলী ছিলেন একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা। ১৯৯২ সালের শেষের দিকে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গুম হওয়ার পরও ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন।
ভালো পদের অপেক্ষায় যারা: ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ পান। ২০০৯ সালে ছাত্রদল থেকে বিদায় নেয়ার পর তিনি নবম জাতীয় সংসদে তার নিজ জন্মস্থান খুলনা থেকে নির্বাচন করবেন বলে ব্যাপক কাজ করেন। সেখান থেকে মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচন করেন ঢাকা-১৮ আসনে। তবে নির্বাচনে হেরে যান তিনি। বর্তমানে বিএনপির কোনো পদে না থাকলেও ভালো পদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। তার সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন হাবিবুর রশিদ হাবিব। এরা দুজনেই এখনও বিএনপির ভালো কোনো পদে আসেননি।
বর্তমান কমিটি: ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ছাত্রদলের ৭৩৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

সূত্র: মানবজমিন
সৌজন্য:  বেলায়েত হোসাইন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের  কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

(ক) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক ইস্পাতকঠিন গণঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভোমত্ব, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করা।

খ) ঐক্যবদ্ধ এবং পুনরুজ্জীবিত জাতিকে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ,নয়া-উপনিবেশবাদ,আধিপত্যবাদ ও বহিরাক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা।

(গ) উৎপাদনের রাজনীতি,মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায় বিচার ভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন।

(ঘ) জাতীয়তাবাদী ঐক্যের ভিত্তিতে গ্রামে-গঞ্জে জনগণকে সচেতন ও সুসংগঠিত করা এবং সার্বিক উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ও প্রকল্প রচনা ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা ও দক্ষতা জনগণের হাতে পোঁছে দেওয়া ।

(ঙ) এমন এক সুষ্ঠ পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় সমাজের মৌলিক স্তরে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয় ।

(চ) এমন একটি সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেওয়া যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাঁদের মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি আনতে পারবেন।

(ছ) বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতন্ত্র কায়েম করা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়ন।

(জ) গণতান্ত্রিক জীবন ধারা ও গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসাবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপণ করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা।

(ঝ) রাজনৈতিক গোপন সংগঠনের তৎপরতা এবং কোন সশস্ত্র ক্যাডার, দল বা এজেন্সী গঠনে অস্বীকৃতি জানানো ও তার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা ।

(ঞ) জাতীয় জীবনে মানবমূখী সামাজিক মূল্যবোধের পূনরুজ্জীবন এবং সৃজনশীল উৎপাদনমুখী জীবনবোধ ফিরিয়ে আনা ।

(ট) বাস্তবধর্মী কার্যকরী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে ন্যায় বিচার ভিত্তিক সুষম অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা, যাতে করে সকল বাংলাদেশী নাগরিক অন্ন,বস্ত্র,স্বাস্থ্য,বাসস্থান ও শিক্ষার ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের সুযোগ পায় ।

(ঠ) সার্বিক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার দান করা ও সক্রিয় গণচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম বাংলার সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

(ড) নারী সমাজ ও যুব সম্প্রদায়সহ সকল জনসম্পদের সুষ্ঠু ও বাস্তবভিত্তিক সদ্ব্যবহার করা।

(ঢ) বাস্তবধর্মী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রম ব্যবস্থাপণা সম্পর্ক স্থাপন এবং সুষ্ঠু শ্রমনীতির মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা।

(ণ) বাংলাভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রসার সাধন ।

(ত) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট বাংলাদেশী জনগণের ধর্ম ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দান করে বাংলাদেশের জনগণের যুগপ্রাচীন মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা, বিশেষ করে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর জাতীয় জীবনে তাদের অধিকতর সুবিধা ও অংশগ্রহণের সুযোগের যথাযথ ব্যবস্থা করা।

(থ) পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষা করা। সার্বভোমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সংগে,তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সংগে প্রীতি ও সখ্যতার সম্পর্ক সুসংহত এবং সুদৃঢ করা।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ-কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ - Awami SechchaSebok League
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ - Awami SechchaSebok League

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ-কেন্দ্রীয় কমিটি

 

বিএনপির দলীয় সঙ্গীত – প্রথম বাংলাদেশ

বিএনপির দলীয় সঙ্গীত – প্রথম বাংলাদেশ

শিল্পী: শাহনাজ রহমতুল্লাহ, সুরকার: আলাউদ্দিন আলী
প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ,
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ,
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।।

আমার আঙিনায় ছড়ানো-বিছানো,
সোনা সোনা ধূলিকণা,
মাটির মমতায় ঘাস-ফসলে,
সবুজের আল্পনা,
আমার তাতেই হয়েছে
স্বপ্নের বীজ বোনা।।

অরূপ জোছনায়, সাজানো-রাঙানো
ঝিলিমিলি চাঁদ দোলে
নিবিড় বনছায়, পিউ-পাপিয়া
হৃদয়ের দ্বার খোলে,
আমার তাতেই রেখেছি
শান্তির দ্বীপ জ্বেলে।।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। অবিভক্ত পাকিস্তানের সর্বপ্রথম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ । এটি ভারত বিভক্তিক্রমে পূর্ব পাকিস্তানের  উদ্ভবের কিছু পর গঠিত হয়। ছাত্রলীগ  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পরিচিত। ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটির জন্ম আওয়ামী লীগের এক বছর আগে। [ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস ]

শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া, জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ সংগঠন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ অতিক্রম করেছে পথচলার ৬৮ বছর।

ছাত্রলীগের  প্রতিষ্ঠাতা  জাতির জনক বঙ্গবন্ধুঃ

৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাজপথে ছিলেন সদা সোচ্চার। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘটে তিনি ও কয়েকজন সহকর্মীসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলন জোরালো করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল প্রণিধানযোগ্য।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় অগ্রণী ভূমিকা  পালন করে।  ১৯৬২ সালে তৎকালীন আইয়ুব খান সরকার কর্তৃক গঠিত শরিফ কমিশন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্য ও স্বার্থের অনুকূলে একটি গণবিরোধী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিল। সেই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গণআন্দোলন ও গণজাগরণ তৈরি করে। সেই বাষট্টির রক্তঝরা দিনগুলোতে রক্ত ঝরেছে অসংখ্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর।

১৯৬৬ সালে বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সনদ ছয় দফা বাস্তবায়নে শেখ মুজিবুর রহমান আস্থা রেখেছিলেন তরুণ ছাত্রনেতাদের ওপর। তিনি সে সময়কার ছাত্রনেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, জেলায় জেলায় অবস্থান সুদৃঢ় করে ছয় দফার সপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সারা বাংলার মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ৬ দফা দাবির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছিল রাজপথের প্রমিথিউস। ছয় দফা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে বিভেদ ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে ছাত্রলীগের শক্ত অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত এ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সেদিন আওয়ামী লীগের বৈঠকের বাইরে কঠোর পাহারা বসাতে হয়েছিল ছাত্রলীগের কর্মীদেরই।

১৯৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুস জয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে  গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন।   একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের দীর্ঘ পথচলায় ছাত্রলীগ হারিয়েছে তার সহস্র্রাধিক নেতাকর্মীকে।

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের সমাবেশে বলেছিলেন, ‘দানবের সঙ্গে লড়াইয়ে যে কোনো পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। ২৩ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি। প্রয়োজনবোধে বুকের রক্তগঙ্গা বইয়ে দেব। তবু সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বাংলার শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করব না।’ তাই তো মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রাণের সংগঠনের ১৭ হাজার বীর যোদ্ধা তাদের বুকের তাজা রক্তে এঁকেছেন লাল-সবুজের পতাকা, এঁকেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এক সার্বভৌম মানচিত্র। সেসব বীর যোদ্ধাই আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের শক্তি, আমাদের সাহস।

ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর মধ্যে আছে তরুণ মুজিবের নান্দনিকতা ও আদর্শ, আছে কাজী নজরুলের বাঁধ ভাঙার শৌর্য, আছে ক্ষুদিরামের প্রত্যয়, আছে সুকান্তের অবিচল চেতনা। তাই তো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষার অধিকার রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ সুরক্ষায় সবসময় মঙ্গলপ্রদীপের আলোকবর্তিকা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চার দিগন্তে।

যখন বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল, ঠিক তখনই বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটিকে নিভিয়ে দিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হিংস্র হায়েনারা আঘাত হানে। প্রত্যক্ষ মদদ দিলেন খন্দকার মোশতাক আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫-পরবর্তী বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশ যে কালো মেঘ গ্রাস করেছিল, সেই মেঘ সরাতে প্রত্যাশার সূর্য হাতে ১৯৮১ সালে প্রত্যাবর্তন করলেন আমাদের প্রাণের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সেদিন প্রিয় নেত্রীর পাশে ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮৩ সালে শিক্ষা আন্দোলন ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ১০ দফা তৈরিতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শিক্ষার অধিকার প্রসারে শামসুল হক ও অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর কমিশনের রিপোর্ট তৈরিতে ছাত্র সমাজের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ 

১৬ কোটি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনিপুণ কারিগর, বিশ্বজয়ী নেত্রী, বিশ্বশান্তির অগ্রদূত, নারীমুক্তির পথপ্রদর্শক দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি মোকাবেলায় পালন করেছে অগ্রণী ভূমিকা। সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনে তিনবেলা নিজ হাতে রুটি তৈরি করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সারারাত জেগে প্রস্তুত করেছেন খাবার স্যালাইন। সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালের বন্যাসহ সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একই কার্যক্রম নিয়ে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ছাত্রলীগ।

২০০২ সালের ২৩ জুলাই বিএনপির পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা গভীর রাতে শামসুন্নাহার হলে ঢুকে ছাত্রীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। ছাত্রলীগ সেদিন শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীদের সম্ভ্রমহানির হাত থেকে রক্ষা করে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বিতর্কিত সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে আটক আমাদের প্রিয় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে প্রথম সাহসী উচ্চারণ তুলেছিল বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের কর্মীরাই। [ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর  ইতিহাস ]

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজী নজরুলের কবিতার মতোই ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী; আর হাতে রণ তূর্য।’ আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পাঠদান কর্মসূচি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের চর্চা।

১৯৭৩ সালের ৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানকে বেটে খাওয়ালেও বাংলা সোনার বাংলা হবে না, যদি বাংলাদেশের ছেলে আপনারা সোনার বাংলার সোনার মানুষ পয়দা করতে না পারেন।’ তাই তো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর ব্রত সোনার মানুষ হওয়ার।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার সোনালি অতীতের মতো সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়বে। আর সে জন্যই দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখছেন। ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নে প্রযুক্তি দক্ষ ছাত্রসমাজ তৈরিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজ করছে ও করবে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ১৯ দফা দাবি পেশ করেছে। ভবিষ্যতেও ছাত্রলীগ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ শিক্ষাসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তাকল্পে কাজ করবে।

নবীনদের মেধা দেশ গড়ার কাজে লাগুক, স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে বিধৌত হোক নতুন প্রজন্মের বিবেক ও চেতনা। অনাগত প্রজন্মের লড়াই হোক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে, সব অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে, দেশগড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

 সৌজন্যেঃ ছাত্রলীগ ওয়েবসাইট

জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার ইতিকথা

Politics News Bangladesh
Politics News Bangladesh, Politics Based Online NewsPortal PoliticsNews24.com

জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা

১৯৮৬ সালের পয়লা জানুয়ারি জাতীয় ফ্রন্টের ধানমন্ডিস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। জাতীয় ফ্রন্টের ৫টি শরিক দল একত্রিত হয়ে জাতীয় পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। নবগঠিত পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং মহাসচিব নিযুক্ত হন অধ্যাপক এমএ মতিন। পার্টির কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত-জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আনোয়ার জাহিদ। সাংবাদিক সম্মেলনে ফ্রন্টের শরিক দল জনদল, ইউপিপি, গণতান্ত্রিক পার্টি, বিএনপি (শাহ) মুসলিম লীগ (সা) নিজেদের অস্থিত্ব বিলুপ্ত ঘোষণা করে জাতীয় পার্টিতে একীভূত হয়। ওই দিনটি ছিলো প্রকাশ্য রাজনীতি শুর“র প্রথম দিন।

১৯৮৫ সালের ১৬ই আগস্ট রাষ্ট্রপতি এরশাদের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় ফ্রন্ট গঠিত হয়েছিলো। রাজনৈতিক দলের বাইরেও অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতা ফ্রন্টে যোগ দিয়েছিলেন। জাতীয় পার্টি গঠনের ঘোষণার দিনে তারাও জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। পার্টি গঠনের ঘোষণায় বলা হয় দেশের সকল গণতন্ত্রকামী জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তিগুলোর বিভক্তির প্রবণতা কাটিয়ে একটি একক রাজনৈতিক দলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে জাতীয় পার্টি গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টি গঠনের ঘোষণার দিনে প্রথমে ২১ সদস্যের প্রেসিডিয়াম, ৫৭ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটিসহ ৬০১ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রথম দিনে ২১ সদস্যের প্রেসিডিয়ামের মধ্যে ১৮ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এরা হলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, মওদদ আহমেদ, কাজী জাফর আহমেদ, সিরাজুল হোসেন খান, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ ভোলা মিয়া, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরী, এম কোরবান আলী, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, একেএম মাঈদুল ইসলাম, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আমিনুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন আবদুল হামিদ চৌধুরী, শামসুল হুদা চৌধুরী, এমএ সাত্তার ও বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম। নবগঠিত কমিটিতে ৩ জন যুগ্ম মহাসচিব নিয়োগের ঘোষণা করা হয়। এরা ছিলেন, সফিকুল গণি স্বপন, মোস্তোফা জামাল হায়দার এবং লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম।

জাতীয় পার্টি ঘোষণার দিনে ৫৭ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটির নামও ঘোষণা করা হয়। ৫৭ সদস্যের মধ্যে ছিলেন : প্রফেসর এমএ মতিন, আনোয়ার জাহিদ, শফিকুল গনি স্বপন, লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম, সুনীল গুপ্ত, মোস্তোফা জামাল হায়দার, মাইনুদ্দিন ভূঁইয়া, জিয়াউদ্দিন বাবলু, মেজবাহউদ্দিন বাবলু, শেখ শহীদুল ইসলাম, মিসেস মমতা ওহাব, প্রফেসর ইউসুফ আলী, শামসুল হক, কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারউল­াহ, উপেন্দ্রলাল চাকমা, কামর“ন্নাহার জাফর, ব্যারিস্টার আবদুল হক, এসএ খালেক, জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, নাজিমুদ্দিন আল আজাদ, মাহবুবুল হক দোলন, মনির“ল হক চৌধুরী, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ খান, এনামুল করীম শহীদ, অধ্যাপক আবদুস সালাম, ডা. মনসুর আলী, র“হুল আমিন হাওলাদার, পলাশ আনোয়ার মতি, অ্যাড ফয়েজ, সেকেন্দার মিয়া, শামসুজ্জামান মিন্টু, খুররম খান চৌধুরী, হাসিম উদ্দিন আহমেদ, এসবি জামান, আশরাফ আলী খান, মামদুদ চৌধুরী, নুর“ন্নবি চাঁদ, আবুল খায়ের চৌধুরী, রেদোয়ানুল হক চৌধুরী (ইদু), ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কাজী মুজিবুর রহমান, ব্যারিস্টার জামাল হোসেন ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল হক চৌধুরী, আবদুর রহীম আজাদ, বুলবুল খান মাহবুব, হার“নুর রশীদ, খালেদুর রহমান টিটো, আসগর আলী, একরামুর রসুল, কেজি করিজন আলী, নূর রহমান খান শাজো, আদিলউদ্দিন হাওলাদার, সরদার সুলতান মাহমুদ, আবদুল আলী বুলবুল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মহসীন ও সাইফুদ্দিন আহমদ।

জাতীয় পার্টির গঠনের ঘোষণাকালে সামরিক শাসন থেকে সাংবিধানিক শাসনে উত্তরণের পরিবেশ অধিকতর উন্নত করার জন্য পার্টির ৫টি আশু কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়। সেগুলো ছিলো : (১) স্থগিত সংবিধানের সংশি­ষ্ট ধারাসমূহের ভিত্তিতে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নির্বাচনসমূহ অনুষ্ঠান (২) নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সামরিক আইনের অবসান এবং স্থগিত সংবিধান পরিপূর্ণরূপে পুনর“জ্জীবন (৩) অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্বাচনের পূর্বে সামরিক আইন সংকোচন ও সামরিক আদালত, সামরিক ট্রইব্যুনাল প্রত্যাহার (৪) নির্বাচনের আগে ক্রমান্বয়ে স্থগিত সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার সংক্রান্ত— ধারাসমূহ পুনর্বহাল এবং (৫) রাজনৈতিক আটক সকল দেশপ্রেমিক বন্দির মুক্তি দান।

জনগন কাজের মূল্যায়ন করবে: তালুকদার আব্দুল খালেক

আগামী ১৫ই মে  খুলনা সিটিতে দলীয় প্রতীকে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। দম ফেলারও ফুসরত নেই তাদের। খুলনায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। ১৯৫২ সালের পহেলা জুন মল্লিকের বেড়, রামপাল উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করা রাজনৈতিক বিজ্ঞ ও প্রবীন এই নেতা আগামী সিটি নির্বাচন, সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে পলিটিক্স নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন। কথা বলেছেন আমাদের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলকের সাথে।

পলিটিক্স নিউজ: মনোনয়ন না চেয়েও মনোনয়ন পেলেন, অনুভূতি কেমন?

তালুকদার আব্দুল খালেক: অনুভূতি অবশ্যই ভালো। এর আগে আমি পৌরসভা কমিশনার ছিলাম । জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলাম। ২০০৫ সাল থেকে দুই টার্ম মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি , ২০০৮ সালে নির্বাচিত মেয়র। এখন নেত্রীর নির্দেশে নির্বাচন করছি।

পলিটিক্স নিউজ : আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে প্রায় ৯ বছর। ধারণা করা হয় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ে। নির্বাচনে এটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে কিনা?

তালুকদার আব্দুল খালেক: গত ৫ বছর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এখানের মেয়র ছিলেন, তার আগে আমি ছিলাম।আমি একটা জিনিস বুঝি, জনগন কাজের মূল্যায়ন করে। এখানে গত পাঁচ বছর কী কাজ হয়েছে আর আমার সময় কী কাজ হয়েছে অবশ্যই জনগণ তা মূলয়ণ করবে। জনগণ অবশ্য যাচাই বাছাই করবে। আর আমি স্পষ্ট বুঝি জনগণ কাজ চায়।এখানকার জনগণ আগে কেমন ছিল, এখন কেমন আছে , এটি অবশই তারা মনে রাখবে । জনগণ যেহেতু পরিবর্তন চাইবে সেই তালিকায় আমিই বেশী জনপ্রিয় হবো…

পলিটিক্স নিউজ: মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম টার্গেট কি থাকবে?

তালুকদার আব্দুল খালেক: জলবদ্ধতা সমস্যা নিরসন। এর আগে আমি ২২ টা খাল উদ্ধার করেছিলাম। সে কাজটা দৃশ্যমান করতে পারিনি। পানি নিষ্কাশনসহ মৌলিক সমস্যা সমাধান করতে হবে ।

পলিটিক্স নিউজ: বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। এতে তার প্রতি জনগণের সহানুভূতি কিংবা ভোটব্যাঙ্ক ভারী হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা?

তালুকদার আব্দুল খালেক: আসলে রাজনৈতিক কারণে যদি কেউ গ্রেফতার হয় সেখানে সহানুভূতির প্রশ্ন আসতে পারে। আর দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলে সাধারণ মানুষের বিন্দুমাত্র সহানুভূতি থাকবে বলে আমার মনে হয় না । ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমার নামে ১৪টা মামলা দিয়েছিল। আমি পরিস্কার ছিলাম, আমাকে নিয়ে যে অভিযোগ ছিলো তার সাথে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না । সাত বছর কোর্টের বারান্দায় গিয়ে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমি খালাশ পেয়েছি।

পলিটিক্স নিউজ: সংসদ সদস্য পদ ছাড়লে আপনার আসনে আগামীতে কাকে দেখতে চান?

তালুকদার আব্দুল খালেক: আগে যে ছিলো (আমার স্ত্রী) সেই পারবে আমার অবর্তমানে তা ধরে রাখতে । তারতো একটা জনপ্রিয়তা আছে, অভিজ্ঞতা আছে।

পলিটিক্স নিউজ:খুলনায় সিনিয়র নেতৃত্ব কম, এটাকে নেতৃত্বর শূন্যতা বলা যায়?
তালুকদার আব্দুল খালেক: আমাদের এখন থানা জেলা পর্যায়ে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। আগামীতেও তরুণরাই নেতৃত্বে থাকবে । কিছুটা শুণ্যতা থাকলেও আগামিতে অবশ্যই পূরণ হয়ে যাবে ।

পলিটিক্স নিউজ: ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।

তালুকদার আব্দুল খালেক: আপনাকেও ধন্যবাদ ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্ব পুরুষ পরিচিতি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্ব পুরুষ পরিচিতি 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব।

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, কি কি ছিল?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, কি কি ছিল?

ছয় দফা আন্দোলন  বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৬৬ সালে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি পেশ করেন। ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য- পাকিস্তান হবে একটি Federal বা যৌথরাষ্ট্র এবং ছয় দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে এই Federation বা যৌথরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। পরবর্তীতে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার করা হয়।

ছয় দফা দাবি-এর দাবিগুলো নিম্নরূপ:

  • প্রথম দফা : সরকারের বৈশিষ্ট হবে Federal বা যৌথরাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় পদ্ধতির; তাতে যৌথরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচন হবে প্রত্যক্ষ এবং সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার প্রতিনিধি নির্বাচন জনসংখ্যারভিত্তিতে হবে।
  • দ্বিতীয় দফা : কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব থাকবে কেবল প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় এবং তৃতীয় দফায় ব্যবস্থিত শর্তসাপেক্ষ বিষয়।
  • তৃতীয় দফা : পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক মুদ্রা-ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা পারস্পরিকভাবে কিংবা অবাধে উভয় অঞ্চলে বিনিময় করা চলবে। অথবা এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি মুদ্রা-ব্যবস্থা চালু থাকতে পারে এই শর্তে যে, একটি কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার অধীনে দুই অঞ্চলে দুটি রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে। তাতে এমন বিধান থাকতে হবে যেন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সম্পদ হস্তান্তর কিংবা মূলধন পাচার হতে না পারে।
  • চতুর্থ দফা : রাজস্ব ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় রাজস্বের যোগান দেয়া হবে। সংবিধানে নির্দেশিত বিধানের বলে রাজস্বের এই নির্ধারিত অংশ স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে জমা হয়ে যাবে। এহেন সাংবিধানিক বিধানে এমন নিশ্চয়তা থাকবে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্বের প্রয়োজন মেটানোর ব্যাপারটি এমন একটি লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে যেন রাজস্বনীতির উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিশ্চিতভাবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকে।
  • পঞ্চম দফা : যৌথরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে, সেই অঙ্গরাজ্যের সরকার যাতে স্বীয় নিয়ণ্ত্রনাধীনে তার পৃথক হিসাব রাখতে পারে, সংবিধানে সেরূপ বিধান থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে, সংবিধান নির্দেশিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত অনুপাতের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে তা আদায় করা হবে। সংবিধান নির্দেশিত বিধানানুযায়ী দেশের বৈদেশিক নীতির কাঠামোর মধ্যে, যার দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্য সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক সরকারগুলোর হাতে থাকবে।
  • ষষ্ঠ দফা : ফলপ্রসূভাবে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কাজে সাহায্যের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে মিলিশিয়া বা আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়গণের নাম ও মেয়াদকাল

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়গণের নাম ও মেয়াদকাল

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League ) বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন।

আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা  অর্থাৎ সকল ধর্মের  মানুষের স্ব স্ব  ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল  অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত  যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়গণের নাম ও মেয়াদকাল

প্রথম কংগ্রেস–  ১৯৭৪ – চেয়ারম্যানঃ  শেখ ফজলুল হক মনি  , সাধারণ সম্পাদকঃ এডভোকেট সৈয়দ আহমেদ

দ্বিতীয় কংগ্রেস– ১৯৭৮ –   চেয়ারম্যানঃ  আমির হোসেন আমু , সাধারণ সম্পাদকঃ ফকির আব্দুর রাজ্জাক

তৃতীয় কংগ্রেস–  ১৯৮৬ – চেয়ারম্যানঃ   মোস্তফা মহসিন মন্টু , সাধারণ সম্পাদকঃ ফুলু সরকার

চতুর্থ কংগ্রেস– ১৯৯৬-  চেয়ারম্যানঃ শেখ ফজলুল করিম সেলিম , সাধারণ সম্পাদকঃ কাজী ইকবাল হোসেন

পঞ্চম কংগ্রেস– ২০০৩-২৪ জুলাই ২০০৯- চেয়ারম্যানঃ এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক,

২৪ জুলাই ২০০৯- ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানঃ মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী , ২০০৩ – সাধারণ সম্পাদকঃ   মির্জা আজম

ষষ্ঠ কংগ্রেস – ২০১২  – চেয়ারম্যানঃ   মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী , সাধারণ সম্পাদকঃ মোঃ হারুনুর রশীদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী

শেখ মুজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী 

১৯২০ঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে। খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।

১৯২৭ঃ ৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৪ঃ ১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে তার একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয় এবং চক্ষুরোগের কারণে তার লেখাপড়ার সাময়িক বিরতি ঘটে।

১৯৩৭ঃ চক্ষুরোগে চার বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পর শেখ মুজিব পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৮ঃ ১৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার  বিয়ে সম্পন্ন হয়। তারা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী।

১৯৩৯ঃ অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে এলে বঙ্গবন্ধু স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ত তা সারাবার জন্য ও ছাত্রাবাসের দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে তুলে ধরেন।

১৯৪০ঃ শেখ মুজিব নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং এক বছরের জন্য বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাকে গোপালগঞ্জ মুসলিম ডিফেন্স কমিটির সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়।

১৯৪২ঃএস.এস.সি পাস করেন। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে ভর্তি হন এবং বেকার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হয়। বঙ্গবন্ধু এই বছরেই পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন।

১৯৪৩ঃসক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

১৯৪৪ঃকুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কলকাতাস্থ ফরিদপুর বাসীদের একটি সংস্থা ‘ফরিদপুরস্থ’ ডিসট্রিক্ট এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৪৬ঃবঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।

১৯৪৭ঃকোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে কোলকাতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ তৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৮ঃঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন আইন পরিষদে ‘পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে’ বলে ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিক-ভাবে বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদ জানান। খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিব মুসলিম লীগের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কর্মতৎপরতা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেন।
২ মার্চ ভাষা প্রসঙ্গে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবμমে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেফতার
হন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারে সারাদেশে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। মুসলিম লীগ সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে বঙ্গবন্ধুসহ গ্রেফতারকৃত ছাত্র নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ১৫ মার্চ মুক্তি লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভের পর ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বঙ্গবন্ধু সভাপতিত্ব করেন। সভায় পুলিশ হামলা চালায়। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সভা থেকে বঙ্গবন্ধু ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান। ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৪৯ঃ
২১ জানুয়ারি শেখ মুজিব কারাগার থেকে মুক্তি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানান। কর্মচারীদের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে তাকে জরিমানা করে। তিনি এ অন্যায় নির্দেশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহি®কৃত হন। ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করার কারণে গ্রেপ্তার হন। ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন। জেল থেকে বেরিয়েই দেশে বিরাজমান প্রকট খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে থাকেন। সেপ্টেম্বরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন ও পরে মুক্তি লাভ করেন। ১১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবি করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আগমন উপলক্ষে আওয়ামী মুসলিম লীগ ভুখা মিছিল বের করে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবার জন্য ১৪ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবারে তাকে প্রায় দু বছর পাঁচ মাস জেলে আটক রাখা হয়।

১৯৫২ঃ
২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’। এর প্রতিবাদে বন্দি থাকা অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাজবন্দি মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ দাবিতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র সমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর শহীদ হন। বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে এক বিবৃতিতে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একটানা ১৭ দিন অনশন অব্যাহত রাখেন। জেলখানা থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়ে তাকে ঢাকা জেলখানা থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেল থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন। ডিসেম্বর মাসে তিনি “পিকিং”-এ বিশ্বশান্তি সম্মেলনে যোগদান করেন।

১৯৫৩ঃ
৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা হয়। এই লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

১৯৫৪ঃ
১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয়। ৩০ মে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন। ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

১৯৫৫ঃ
৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন।
২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৬ঃ
৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে খসড়া শাসনতন্ত্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। ১৪ জুলাই আওয়ামী লীগের সভায় প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বের বিরোধিতা করে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনেন বঙ্গবন্ধু। ৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে খাদ্যের দাবিতে ভুখা মিছিল বের করা হয়। চকবাজার এলাকায় পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে ৩ জন নিহত হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৫৭ঃ
সংগঠনকে সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে ৩০ মে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিব মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ৭ আগস্ট তিনি চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি সফর করেন।

১৯৫৮ঃ
৭ অক্টোবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হয়। প্রায় চৌদ্দ মাস জেলখানায় থাকার পর তাকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেলগেটেই গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬১
৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। সামরিক শাসন ও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এ সময়ই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য বিশিষ্ট ছাত্র নেতৃবৃন্দের দ্বারা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৬২ঃ
৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। ২ জুন চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন। ২৫ জুন বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দেন। ৫ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু লাহোর যান, এখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় মোর্চ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠিত হয়। অক্টোবর মাসে গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে সারা বাংলা সফর করেন।

১৯৬৩ঃ
সোহরাওয়ার্দী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে পরামর্শের জন্য লন্ডন যান। ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী বৈরুতে ইন্তেকাল করেন।

১৯৬৪ঃ
২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এই সভায় দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্বলিত প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। দাঙ্গার পর আইয়ুব বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন পূর্বে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৬৫ঃ
শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে মামলা দায়ের। এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন।

১৯৬৬ঃ
৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ। ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগ সফর শুরু করেন। এ সময় তাকে সিলেটে, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বার বার গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধু এ বছরের প্রথম তিন মাসে আট বার গ্রেফতার হন। ৮ মে নারায়ণগঞ্জে পাটকল শ্রমিকদের জনসভায় বক্তৃতা শেষে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। ৭ জুন বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটের সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়।

১৯৬৮ঃ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সি এস পি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেল গেট থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে আটক রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়।
১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের বিচার কার্য শুরু হয়।

১৯৬৯ঃ৫ জানুয়ারি ৬ দফাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। পরে ১৪৪ ধারা ও কার্ফু ভঙ্গ, পুলিশ-ইপিআর-এর গুলিবর্ষণ, বহু হতাহতের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিলে আইয়ুব সরকার ১ ফেব্রুয়ারি গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানায় এবং বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তিদান করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু প্যারোলে মুক্তিদান প্রত্যাখ্যান করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রায় ১০ লাখ ছাত্র জনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু রাওয়ালপিন্ডিতে আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের ৬ দফা ও ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, ‘গণ-অসন্তোষ নিরসনে ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।’ পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠী ও রাজনীতিবিদরা বঙ্গবন্ধুর দাবি অগ্রাহ্য করলে ১৩ মার্চ তিনি গোলটেবিল বৈঠক ত্যাগ করেন এবং ১৪ মার্চ ঢাকায় ফিরে আসেন। ২৫ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হন। ২৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু তিন সপ্তাহের সাংগঠনিক সফরে লন্ডন গমন করেন। ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।
১৯৭০ঃ
৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১ এপ্রিল আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ৬ দফার প্রসঙ্গ আওয়ামীলীগ কে নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু তার দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক পছন্দ করেন এবং ঢাকার ধোলাইখালে প্রথম নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ২৮ অক্টোবর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বেতার-টিভি ভাষণে ৬ দফা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানান। ১২ নভেম্বরের গোর্কিতে উপকূলীয় এলাকার ১০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটলে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে দুর্গত এলাকায় চলে যান এবং আর্ত-মানবতার প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের উদাসীনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি গোর্কি উপদ্রুত মানুষের ত্রাণের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে।

১৯৭১ঃ৩ জানুয়ারি রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যরা ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র রচনা এবং জনগণের প্রতি আনুগত্য থাকার শপথ গ্রহণ করেন। ৫ জানুয়ারি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে সর্বাধিক আসন লাভকারী পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনে তার সম্মতির কথা ঘোষণা করেন। জাতীয় পরিষদ এক বৈঠকে বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টারি দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২৮ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন। তিনদিন বৈঠকের পর আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায়। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভুট্টো ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে দুই প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলের প্রতি ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানান।
১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে জনাব ভুট্টোর দাবির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ভুট্টো সাহেবের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ক্ষমতা একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার মালিক এখন পূর্ব বাংলার জনগণ।’
১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দিলে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ২ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ৩ মার্চ সারা বাংলায় হরতাল পালিত হবার পর বঙ্গবন্ধু অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানান।
৭ মার্চ রেসকোর্সের জনসমুদ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা’। ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃঙ্খল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্। … প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।” শত্রু“র বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। একদিকে রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়ার নির্দেশ যেত অপরদিকে ধানমন্ডি ৩২ নং সড়ক থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ যেত, বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে চলতেন। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ, গাড়ি, শিল্প-কারখানা সবই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনেছে। ইয়াহিয়ার সব নির্দেশ অমান্য করে অসহযোগ আন্দোলনে বাংলার মানুষের সেই অভূতপূর্ব সাড়া ইতিহাসে বিরল ঘটনা। মূলত ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুই রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন। ১৬ মার্চ ঢাকায় ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়। আলোচনার জন্য জনাব ভুট্টো ও ঢাকায় আসেন। ২৪ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া-মুজিব-ভুট্টো আলোচনা হয়। ২৫ মার্চ আলোচনা ব্যর্থ হবার পর সন্ধ্যায় ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগ। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা রাইফেল সদর দফতর ও রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার। বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন :

“ This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh. Final victory is ours.”
[অনুবাদ : ‘সম্ভবতঃ এটাই আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যাই তোমাদের হাতে আছে তার দ্বারাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দখলদার সৈন্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে। যতক্ষণ না পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে, তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’] এই ঘোষণা বাংলাদেশের সর্বত্র ট্রান্সমিটারে প্রেরিত হয়।
এর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বাংলায় নিম্নলিখিত একটি ঘোষণা পাঠান ঃ
“পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আμমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রু দের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রু কে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।”
হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধা, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান বেতার যন্ত্র মারফত তাৎক্ষণিক-ভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় সারাদেশে পাঠানো হয়। রাতেই এই বার্তা পেয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর সেনানিবাসে বাঙালি জওয়ান ও অফিসাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা প্রচার করা হয় গভীর রাতে। স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার অপরাধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১-১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং ২৬ মার্চ তাকে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬শে মার্চ জেঃ ইয়াহিয়া এক ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে।
২৬ মার্চ চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ লাভ করে স্বাধীনতা। তার আগে ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের লায়ালপুর সামরিক
জেলে বঙ্গবন্ধুর গোপন বিচার করে তাকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণ বঙ্গবন্ধুর জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানায়। ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জনক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, কাজেই পাকিস্তানের কোন অধিকার নেই তাকে বন্দি করে রাখার। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বহু রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ করেছে।

১৯৭২ঃ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠান হয়। ৯ জানুয়ারি লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের সাথে সাক্ষাৎ হয়। লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লি−তে যাত্রা বিরতি করেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু বিমান বন্দর বন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে লক্ষ জনতার সমাবেশ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ভারত যান। ২৪ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে যান। ১২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ১ মে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ৩০ জুলাই লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর পিত্তকোষে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর লন্ডন থেকে তিনি জেনেভা যান। ১০ অক্টোবর বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরী’ পুরস্কারে ভূষিত করে। ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ (৭ মার্চ ১৯৭৩) ঘোষণা করেন। ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, মদ, জুয়া, ঘোড়দৌড়সহ সমস্ত ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড কার্যকর-ভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১০০০ প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ ৪০,০০০ প্রাথমিক স্কুল সরকারীকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণের জন্য নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ, বিনামূল্যে/ স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ,
পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্স এর প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালানো হয়। অতি অল্প সময়ে প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

১৯৭৩ঃজাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৯৩ আসন লাভ। ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ, সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ঐক্য-ফ্রন্ট গঠিত। ৬ সেপ্টেম্বর জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনের যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু আলজেরিয়া যান। ১৭ অক্টোবর তিনি জাপান সফর করেন।

১৯৭৪ঃ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি দান। ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গমন করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।

১৯৭৫ঃ ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ। ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন। বঙ্গবন্ধু ২৫ ফেব্রুয়ারি এই জাতীয় দলে যোগদানের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাঙালি জাতিকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তাই স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক নীতিমালাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজান। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের আহার, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্ল−বের কর্মসূচি ঘোষণা দেন যার লক্ষ্য ছিল- দুর্নীতি দমন; ক্ষেতে খামারে ও কলকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি; জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রগতি সাধিত করবার মানসে ৬ জুন বঙ্গবন্ধু সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে এক মঞ্চ তৈরি করেন, যার নাম দেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এই দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পান। অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। চোরাকারবারি বন্ধ হয়। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের μয় ক্ষমতার আওতায় চলে আসে। নতুন আশার উদ্দীপনা নিয়ে স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছিয়ে দেবার জন্য দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে। কিন্তু মানুষের সে সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয় না।
১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্চাভিলাষী অফিসার বিশ্বাস ঘাতকের হাতে নিহত হন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেঃ শেখ কামাল, পুত্র লেঃ শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নীপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভ্রাতুষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে ঘাতকরা হত্যা করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হবার পর দেশে সামরিক শাসন জারি হয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। শুরু হয় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। কেড়ে নেয়া হন জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার।
বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার জন্য হত্যাকারীদের বিচারের বিধান রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে জাতির জনকের আত্ম-স্বীকৃত খুনিদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেবার জন্য এক সামরিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে সংযুক্ত করে সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করে। খুনিদের বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদ কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে।
১৫ আগস্ট জাতির জীবনে একটি কলঙ্কময় দিন। এই দিবসটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে বাঙালি জাতি পালন করে।

সূত্র: জাতির জনক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, রাস্তা-৩২, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ইতিহাস

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ইতিহাস

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League ) বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন।

আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা  অর্থাৎ সকল ধর্মের  মানুষের স্ব স্ব  ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল  অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্য থেকে স্বাধীনতা ও প্রগতিকামী যুবক ও যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলাই যুবলীগের উদ্দেশ্য।   প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করে ।

যুবলীগের ওয়েবসাইট ঃ http://www.jlbd.org/

প্রতিবছর ১১ই নভেম্বর যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি  ও যুবলীগ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়।  আওয়ামী যুবলীগের  চেয়ারম্যান পদে  ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ হারুনুর রশিদ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।  ২০১২ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে  ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ হারুনুর রশিদ নির্বাচিত হন ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট,  যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি ও রেজাউল করিম রেজা এবং মহানগর উত্তরের সভাপতি পদে মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইসমাইল হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ইতিহাসের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সর্বপ্রথম প্রতিবাদ গড়তে গিয়ে যুবলীগ নেতা বগুড়ার খসরু, চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ জীবন দিয়েছেন । বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত নূর হোসেন ছিলেন যুবলীগ কর্মী।

দলিল শব্দের জানা অজানা সব তথ্য 

নানা কারণেই আমাদের বিভিন্ন সময়ে দলিল ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়। দলিলপত্র ঘাঁটার অভ্যাস নেই এমন লোকদের জন্য দলিলের ভাষা উদ্ধার করা সহজসাধ্য কাজ নয় কেননা, বাংলা দলিল কিংবা চুক্তিপত্রে অনেক শব্দ আছে, যেগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয় আবার এমন সব শব্দও আছে, যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তায় খুব কম হয়। কিংবা আমাদের সঙ্গে তাদের পরিচিতি কম। দলিলে ব্যবহৃত এ রকম কিছু শব্দের অর্থ ও ব্যুৎপত্তি নিচে দেওয়া হল।

শব্দের অর্থ সাং = সাকিন, সাকিম। সাকিন বা সাকিম শব্দের অর্থ ঠিকানা, বাসস্থান।
গং = অন্যরা, সমূহ। অমুক [ব্যক্তিনাম] ও অন্যান্য বা তার সহযোগীগণ। যেমন: যদি লেখা থাকে আবদুল কাদের গং, তাহলে বুঝতে হবে যে আবদুল কাদেরের সঙ্গে আরও অনেকে আছেন।
মোং = মোকাম। এর অর্থ আবাস, বাসস্থান হলেও মূলত বাণিজ্য স্থান বা বিক্রয়কেন্দ্র বোঝাতেই এটি ব্যবহূত হয়
কিঃ = দফা, বার, ক্ষেপ এই অর্থেও ব্যবহৃত হয়
এজমালি/ইজমালি = যৌথ, সংযুক্ত, বহুজনের একত্রে।
যেমন: এজমালি সম্পত্তি বলতে যৌথ মালিকাধীন সম্পত্তিকে বোঝায়।
কিত্তা/ কিতা = আববি ক্বত্বহ শব্দজাত। এর অর্থ অংশ, জমির ভাগ, পদ্ধতি।

ছানি = আরবি শব্দ, অর্থ দ্বিতীয়বার। পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা।
যেমন: ছানি মামলা। ছোলেনামা = মীমাংসা, আপোষ/আপস। ছোলেনামা মানে আপস-মীমাংসাপত্র। জঃ = জমা। সাধারণ অর্থে জমা বলতে সঞ্চিত, রাশীকৃত, কিন্তু ভূমি আইন ও দলিল। এটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। যেমন: জমা মানে পুঁজি, মোট, খাজনা, রাজস্ব, বার্ষিক কর [হাওলার বার্ষিক জমা ১০ টাকা]। আবার জমা ওয়াশিল এর অর্থ আয়-ব্যয়ের হিসাব। জমা ওয়াশিল বাকি মানে দেয় খাজনার কত আদায় বা লভ্য খাজনার কত আদায় হয়েছে এবং কত বাকি আছে তার হিসাব; জমা খারিজ অর্থ যৌথ খতিয়ানের জমা থেকে কোনো সহমালিক বা অংশীদারের আবেদনক্রমে তার অংশ আলাদা করে যে নতুন জমা ও খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়।

খারিজ = সাধারণ অর্থে বাতিল করা হয়েছে এমন বোঝায়। ভূমি আইনে একজনের নাম থেকে অন্যজনের নামে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়াকে বোঝায়।
তমঃ = তমসুক। আরবি শব্দজাত, যার অর্থ দলিল, ঋণ-স্বীকারপত্র বা খত। অর্থাৎ কর্জ গ্রহীতা যে লিখিত পত্র, বিশেষত সরকারি স্ট্যাম্প বা কাগজমূলে কর্জদাতার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। বন্ধকী তমসুক মানে হলো বন্ধকনামা বা বন্ধকী বা বন্ধকী খত।
দং = দরুন, বাবদ, দখল। নিম = ফারসি শব্দ। এর অর্থ অল্প, অর্ধেক, অধস্তন বা অধীন ইত্যাদি।
নং = নম্বর বা সংখ্যা অর্থে বোঝানো হয়। পঃ = পঞ্চম বা পাঁচের স্থানীয়।
পোঃ = পোস্ট অফিস বা ডাকঘর বোঝানো হয়।
মহঃ = মহকুমা। ব্রিটিশ আমলে জেলার একটি প্রশাসনিক অংশকেই মহকুমা বলা হতো।
মুসাবিদা = খসড়া তৈরি করা। মুসাবিদাকারক মানে যিনি দলিল লেখেন।
চৌঃ = চৌহদ্দি। চৌহদ্দি শব্দের অর্থ হচ্ছে চারধারের সীমানা।
তঃ/তপঃ = তফসিল, তহশিল।
তামাদি = ফারসি শব্দ। এর অর্থ নির্ধারিত সময়সীমা।
বিতং = বিস্তারিত বিবরণ, কৈফিয়ত, বৃত্তান্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
মাং/ মাঃ = মারফত। মারফত মানে মাধ্যম, অর্থাৎ যার হাত দিয়ে বা মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়।
সহঃ = সহকারী, যিনি কাজে সহযোগিতা করেন।
সুদিখত = একশ্রেণীর বন্ধকী দলিল।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়। হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের পালনীয় দিবস

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর পালনীয় দিবস

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League ) বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা  অর্থাৎ সকল ধর্মের  মানুষের স্ব স্ব  ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল  অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্য থেকে স্বাধীনতা ও প্রগতিকামী যুবক ও যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলাই যুবলীগের উদ্দেশ্য।   প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করে ।

যুবলীগের ওয়েবসাইট ঃ http://www.jlbd.org/

যুবলীগের পালনীয় দিবস

১০ই জানুয়ারিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

২১ শে ফেব্রুয়ারিঃ  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস

৭ই মার্চ:  স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা দিবস

১৭ই মার্চ:  জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস

২৬ শে মার্চ: মহান স্বাধীনতা দিবস

১৭ই এপ্রিলঃ মুজিবনগর দিবস

১লা মেঃ মহান মে দিবস

৭ই জুনঃ স্বাধীকার আন্দোলন দিবস

১৫ই আগস্ট:  জাতীয় শোক দিবস

 ৩রা নভেম্বর: জেল হত্যা দিবস

১০ই নভেম্বর: শহীদ নূর হোসেন বাবুল দিবস

১১ই নভেম্বর:  যুবলীগের প্রতিষ্ঠা দিবস

৪ঠা ডিসেম্বর: বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির জন্ম দিবস

১৪ই ডিসেম্বর: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

১৬ই ডিসেম্বর:  জাতীয় বিজয় দিবস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর পালনীয় দিবস

বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ এর পালনীয়  দিবস

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি  বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) । [ বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ এর পালনীয়  দিবস ]

বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ এর পালনীয়  দিবস

৪ জানুয়ারী ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা দিবস
৯ জানুয়ারী শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল দিবস
১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
১২ জানুয়ারী ওয়ালী, শওকত ও মহসীনের স্মৃতি তর্পন দিবস
২৪ জানুয়ারী গণ-অভ্যুথান দিবস। চট্রগ্রাম গনহত্যা দিবস
৮ ফেব্রুয়ারী ফারুক হত্যা দিবস
১৩ ফেব্রুয়ারী শহীদ রাউফুন বসুনিয়া দিবস
১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচার
১৫ ফেব্রুয়ারী সার্জেন্ট জহুরুল হক দিবস
১৫ ফেব্রুয়ারী একদলীয় নির্বাচনে গণতন্ত্র হত্যা দিবস
১৮ ফেব্রুয়ারী ডাঃ জোহা দিবস
২১ ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
২৫ ফেব্রুয়ারী শহীদ শহীদুল ইসলাম চুন্নু দিবস
২৮ ফেব্রুয়ারী শহীদ-সেলিম দেলোয়ার দিবস
৭ মার্চ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ
১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্ম দিবস
২৩ মার্চ মাহফুজ বাবুর অন্তর্ধান দিবস
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস
৩০ মার্চ নব্য স্বৈরাচার পতন দিবস
১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোসনাপত্র দিবস
১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস
১৭ মে ছাত্রলীগের গঠনতান্ত্রিক নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
৭ জুন ৬ দফা ও মুক্তি দিবস
১৬ জুন শহিদ পলাশ দিবস
২৩ জুন গণতন্ত্রের অভিযাত্রা
১২ জুলাই চট্রগ্রামে ৮ ছাত্রনেতার শাহাদাৎ দিবস
৫ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের জন্ম দিবস
৮ আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্ম দিবস
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস
১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস
২৭ সেপ্টেম্বর শহীদ তিতাস দিবস
২৭ অক্টোবর শহীদ মিজান দিবস
৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস
৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস
৯ নভেম্বর শহীদ আখি দিবস
১০ নভেম্বর নুর হোসেন দিবস
৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস
৪ ডিসেম্বর শহীদ স্বপন চৌধুরী দিবস
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুধিজীবি দিবস
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস
২৯ ডিসেম্বর আলী মোর্তজা দিবস

যুবলীগের যুব গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

যুবলীগের যুব গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League ) বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন।

আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমুহ বর্তমান বাস্তবতার আলোকে বাস্তবায়নের জন্য যুব সমাজের গঠনমূলক অংশগ্রহণের অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ১০ জানুয়ারী ২০১০ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুব গবেষণা কেন্দ্র  প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে  ওমর ফারুক চৌধুরী নির্বাচিত হলে যুব গবেষণা কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা  অর্থাৎ সকল ধর্মের  মানুষের স্ব স্ব  ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল  অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশের যুব রাজনীতির প্রতীক শেখ ফজলুল হক মনি কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত এবং রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল যুবকদের নিয়ে  বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগকে সুসংগঠিত ও আধুনিক একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই যুব গবেষণা কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

বিস্তারিত জানতে  যুব গবেষণা কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করুনঃ http://yrcbd.org/

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠনতন্ত্র

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠনতন্ত্র
নামঃ এই প্রতিষ্ঠানের নাম হইবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ প্রস্তাবনা
ক. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংহত করা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা সমুন্নত রাখা।
খ. প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা।
গ. রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা।
ঘ. মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মূলনীতি: বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা সকল ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সমাজতন্ত্র তথা শোষণমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হইবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূলনীতি।

অঙ্গীকারঃ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প সম্বলিত এই ঘোষণাপত্র ও কর্মসূচির মৌলিক লক্ষ্য ও অঙ্গীকার হইবেঃ

১। স্বাধীনতার আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা।

২। মানবসত্তার মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের স্বীকৃতি।

৩। বাংলাদেশের জনগণের ঐক্য ও সংহতির বিধান।

৪। সংসদীয় গনতন্ত্রের সুস্থ বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান। জনগণের পছন্দমতো ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

৫। একটি গণমুখী, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক দক্ষ জনপ্রশাসন ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা।

৬। তৃণমূল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার সকল স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা।

৭। নর-নারী, ধর্ম-বর্ণ, সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা নির্বিশেষে মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান এবং তাদের উন্নত জীবন বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ প্রদান।

৮। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতার বিলোপ সাধন।

৯। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠন।

১০। নারী নির্যাতন বন্ধ, নারীর অধিকার ও মর্যাদা সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সুনিশ্চিতকরণ।

১১। শিশুর অধিকার সংরক্ষণ, তাদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগের নিশ্চয়তা বিধান এবং যুব সমাজের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

১২। সংবাদপত্রসহ সকল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা।

১৩। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ মানুষের জীবন ধারণের মৌলিক সমস্যার সমাধান এবং কর্মের অধিকার এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।

১৪। অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার অবসান, দারিদ্র্য বিমোচন, অধিকতর কর্মসংস্থান, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, একপাক্ষিক বৈদেশিক নির্ভরশীলতা কাটানো, ব্যাক্তিখাত এবং রাষ্ট্রীয় ও ব্যাক্তিখাতের যৌথ উদ্যোগে (পিপিপি) উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। একটি শিল্পসমৃদ্ধ জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি রচনা করা।

১৫। সর্বাঙ্গীণ গ্রামীণ-উন্নয়ন, ভূমি ও কৃষিব্যবস্থার আমূল সংস্কার, কৃষিতে বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, আধুনিকায়ন, কৃষিতে টেকসই প্রযুক্তির ব্যবস্থা এবং সমবায় ব্যবস্থা বহুমুখীকরণ ও ফলপ্রসূ করা।

১৬। খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতার ধারা অব্যাহত রাখিয়া জনগণের খাদ্যের অধিকার তথা ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা,

কৃষিপণ্যের লাভজনক দামের নিশ্চয়তা বিধান।

১৭। জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদের যুক্তিসংগত ব্যবহার নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা, বিদ্যুতায়ন, যোগাযোগ, আইটি খাতসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

১৮। মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান। সমাজের প্রয়োজনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ সার্বজনীন, সুলভ ও প্রগতিশীল শিক্ষানীতি এবং ব্যবস্থার প্রবর্তন ও বাস্তবায়ন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ধারাকে উৎসাহিতকরণ।

১৯। বাঙালি জাতির সভ্যতা, কৃষ্টি, ভাষা এবং শিল্প সাহিত্যের বিকাশ নিশ্চিতকরণ। দেশের আদিবাসী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও উপজাতীয় জনগণের জীবনধারা, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা।

২০। শ্রমজীবী, সমাজের দুর্বল, অনগ্রসর, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মানবেতর জীবন হইতে উত্তরণে সার্বিক সহায়তা প্রদান। পঙ্গু, অসহায়, বিধবা, দরিদ্র, বয়স্ক, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা।

২১। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান বিপদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও দেশীয় উদ্যোগ গ্রহণ। পানিসম্পদের প্রাপ্যতা, সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যাবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সৃজন ও সামাজিক বনায়ন সম্প্রসারণে উৎসাহিত করা, প্রাণী বৈচিত্র্য রক্ষা এবং গ্রিন হাউজ এফেক্ট রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২২। অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, শহরাঞ্চলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূর করা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত পরিকল্পিত গ্রামীণ জনপদ গড়িয়া তোলা।

২৩। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বিশ্বশান্তি রক্ষার লক্ষ্যে আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা।

২৪। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বৈদেশিক নীতির ভিত্তি হবে সকলের সহিত বন্ধুত্ব, কারো সহিত বৈরিতা নয়। বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার সকল প্রচেষ্টায় সাহায্য ও সহযোগিতা করা এবং সন্ত্রাসবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জাতি ও জনগণের ন্যায়সঙ্গত মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন করা।
উল্লিখিত লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যে বর্ণিত প্রস্তাবনা, মূলনীতি ও অঙ্গীকার অনুসরণ এবং বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য, উদ্দীপনা এবং নবজাগরণ সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ সর্বদা সচেষ্ট থাকিবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরাধ্য এক উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অবিচল নিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তার সহিত আত্মনিয়োগ করিবে।

চেক সংক্রান্ত মামলা আইন

চেক সংক্রান্ত মামলা আইন

চেকের মামলা সংক্রান্ত কিছু সহজ বিষয় না জানার কারণে আমাদের অনেক সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কেননা চেকের বিষয়ে আইনে স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকাতে এর বাইরে কিছু করার থাকেনা । তাই সময় ও আইন মোতাবেক সঠিক সময়ে বেবস্থা না নিলে বেশীরভাগ সময় পাওনাদার এর টাকা পাওয়া হয়ে উঠেনা খুদ্র ভুলের কারণে। তাই চেকের মামালা সংক্রান্ত কিছু তথ্য জেনে রাখা আমাদের সকলের উচিত।

মেয়াদ এবং কিছু তথ্য
১) একটি চেকের মেয়াদ চেকের গায়ে চেক দাতার দেওয়া উল্লেখিত বা লিখিত তারিখ হতে ৬ মাস পর্যন্ত। তাই উক্ত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর ব্যাংক গ্রহণ না করার কারণে আদালতে Negotiable Instrument Act থ এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী আর টাকা দাবি করা যায় না। তাই ৬ মাস এর ভিতর চেক এর টাকা তোলার জন্য ব্যাংক এ উপস্থাপন করতে হয়।
২) উপরল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর উপস্থাপনে চেকদাতার একাউনট এ টাকা না থাকলে ডিসঅনার স্লিপ সংগ্রহ করে চেকের টাকা দাবি করে এক মাসের সময় দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে Negotiable Instrument Act এর ১৩৮ ধারা মোতাবেক টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে নোটিশ সরবরাহ করতে হয় এবং নোটিশটি ছাড়তে হয় ডিসঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে।

৩) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিন পর মামলার কারন উদ্ভব হয়। মামলার কারন উদ্ভব হওয়ার ১ মাসের মধ্যে একজন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা যায়। আর নোটিশ গ্রহণ না করলে নোটিশ ফেরত আসার তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করা যায়।
৪) চেকের প্রাপক বা দাবিদার এর পক্ষে তার নিজুক্তিও Attorney Holder মামলা করতে পারেন।

৫) অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে ডিসঅনার কয়বার করাতে হয়। উত্তরটা হল একবার ডিসঅনার করালে ও মামলা করা যায়।
৬) নোটিশ সরবরাহ না করলে বা নোটিশ জারি না করে চেকের মামলা করা যায় না। নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রাপ্তি স্বীকারোক্তি সহ জারি করাই উত্তম অথবা জাতীয় পত্রিকায় নোটিশ প্রচার করা যায়।

৭) স্থানীয় অধিক্ষেত্রঃ যে ব্যাংকে চেক উপস্থাপন করা হয় সেই ব্যাংক আদালতের যে স্থানীয় অধিক্ষেত্রে অবস্থিত সেই আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
৮) যে কোন ধরনের ডিসঅনার এর কারণে মামলা দায়ের করা যায়।
৯) কোন কারণে আইনের নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে প্রেতারণার জন্য মামলা করা যায়।

১০)কখনও কোন চেক হারিয়ে গেলে সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় জি, ডি দায়ের করে ব্যাংক এর মাধ্যমে চেক স্টপ করাতে হয়।
১১) হারান চেক উদ্ধারের জন্য মামলা করা যায়।
১২) কিছু না লিখে বা টাকার সংখ্যা না লিখে অর্থাৎ খালি চেক কখন কাওকে সরবরাহ করা উচিত নয়।

উচ্চ রক্তচাপে সাবধান!

Politics News Bangladesh
Politics News Bangladesh, Politics Based Online NewsPortal PoliticsNews24.com

উচ্চ রক্তচাপে সাবধান!

রক্তচাপ আসলে কী?

রক্তস্রোত রক্তনালীর দেওয়ালে যে চাপ সৃষ্টি করে সেটিই রক্তচাপ। স্বাভাবিক অবস্থায় এর পরিমাপ ১২০/৮০। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ খানিক বাড়তে থাকে। তখন এই পরিমাপের থেকে আর একটু বেশি চাপকেও স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। কিন্তু ওপরের চাপ ১৪০-এর বেশি বা নীচের চাপ ৯০-এর বেশি হয়ে গেলে মুশকিল।

রক্ত চাপ দু’ভাবে বাড়তে পারে। অ্যাকিউট আর ক্রনিক। হঠাৎ কোনও উত্তেজনার বশে বা অন্য কোনও কারণে দুম করে রক্তের চাপ খুব বেশি বেড়ে গিয়ে বিপত্তি ঘটতে পারে। এটি অ্যাকিউট হাই ব্লাড প্রেসার। এতে আচমকা হার্ট ফেলিওর হতে পারে। স্ট্রোকও হতে পারে।

ক্রনিক হাই ব্লাড প্রেসারের ক্ষেত্রে চাপের পরিমাপ হয়তো হঠাৎ করে খুব বেশি থাকে না। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে রক্তের উচ্চচাপ পুষে রাখার জন্য হার্টের পেশির ক্ষতি হতে পারে। কারণ, বেশি রক্ত পাম্প করতে হার্টের ওপর বেশি চাপ পড়ে। তা ছাড়া অনেক দিন ধরে রক্তচাপে ভুগলে রক্তনালীগুলো শক্ত হয়ে যায়। সেগুলোর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। রক্তনালীর ভেতরের দেওয়াল মোটা হয়ে যায়। ফলে ব্লক তৈরি হয়। সব মিলিয়ে হার্ট ফেলিওর বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।

আবার রক্তনালীতে ‘ব্লক’ তৈরি হওয়ার জন্য বা বেশি রক্তচাপের কারণে নালীর মধ্যে রক্ত দলা পাকিয়ে যেতে পারে। সেই দলা বা ক্লট মাথায় পৌঁছে স্ট্রোক হতে পারে। আবার রক্তের চাপ সহ্য করতে না পেরে কোনও ধমনি ছিঁড়ে গিয়েও স্ট্রোক হতে পারে।

অতএব, রক্তচাপ পুষে রাখার মাসুল হতে পারে মারাত্মক!

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ

এমনতি এর তেমন কোনও লক্ষণ নেই। তাই তলে তলে যে রক্তের চাপ বেড়ে গিয়েছে, এটা অনেকেই টের পান না। এ জন্য ৩৫ বছরের পর থেকে মাঝে মাঝেই ব্লাডপ্রেসার মাপা দরকার। আর দীর্ঘ দিন ধরে রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে ফি-হপ্তায় এক বার প্রেসার মেপে দেখা উচিত। বাড়িতেই রাখতে পারেন প্রেসার মাপার যন্ত্র।

প্রেসার কেন বাড়ে

১) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। বয়সের সঙ্গে রক্তচাপ সমানুপাতিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংখ্যা জানাচ্ছে, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতি তিন জনের মধ্যে এক জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বয়স ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন। আর পঞ্চাশের কোঠায় বয়স হলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন প্রতি ১০ জনে ৫ জন। বয়স ৭০ বা তার বেশি হলে প্রতি দুই জনের মধ্যে এক জনের উচ্চ রক্তচাপ থাকবে।

২) খাবারে বেশি নুন খাওয়ার জন্য প্রেসার বাড়তে পারে।

৩) ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসার বাড়ে।

৪) শারীরিক পরিশ্রম না করে বসে বসে থাকলে ওজন বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে রক্তচাপ।

৫) মানসিক চাপ বা উত্তেজনা বাড়লে অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি থেকে নরঅ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

খাবার ও রক্তচাপ

রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে প্রথমত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওজন বাড়লে হার্ট বেশি পাম্প করবে। ফলে রক্তচাপ বাড়বে। তাই উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সুতরাং খাবার এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এমনিতে উচ্চ রক্তচাপের জন্য দরকার ড্যাশ ডায়েট অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ খাবার। রোজকার খাবারে থাকবে রকমারি ফল ও প্রচুর শাকসব্জি। কারণ, এ সবের মধ্যে থাকে পটাশিয়াম ও প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগলে অ্যানিমাল প্রোটিন কম খেতে হবে।

রক্তচাপ বেশি হলে নুনের কথা মাথায় রাখতে হবে। নুনের সোডিয়াম ব্লাড প্রেসার বাড়ায়। দিনে ২-৩ (ছোট চামচের হাফ চামচ) গ্রামের বেশি নুন খাওয়া উচিত নয়। বাদ দিতে হবে প্রসেসড ফুড, জাঙ্ক ফুড, টিন ফুড, প্যাকেট ফুড, রেডি টু ইট ফুড, আচার, চিপস ইত্যাদি। কারণ এগুলোতে প্রিজারভেটিভ হিসেবে নুন মেশানো থাকে।

প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। কারণ জল হল ডাইইউরেটিক। জল শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। জল শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতিকারক পদর্থগুলোকে বের করে দেয়। এগুলো বেরিয়ে গেলে শরীরে রক্তের চাপ কমে।

স্ট্রেস ও রক্তচাপ

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বাড়লে রক্তচাপ বাড়ে। আবার উল্টোটাও হয়। রক্তচাপ বাড়লে স্ট্রেস বাড়ে। স্ট্রেস বাড়লে নার্ভের ওপর চাপ পড়ে। ফলে প্রেসার বাড়ে। তাই রক্তচাপকে বশে রাখতে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট খুব জরুরি। সোজা কথায় স্ট্রেস বা মানসিক চাপকে প্রশ্রয় না দিয়ে তার স্ট্রেসের মোকাবিলা করা।

কী ভাবে স্ট্রেসের মোকাবিলা করবেন

ইচ্ছে করলেই স্ট্রেসের কবল থেকে নিজেকে বের করে আনতে পারেন। স্ট্রেসে যিনি ভুগছেন, তিনি চাপে থাকেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর বুদ্ধি মোটেই লোপ পায় না। তাই একটু সচেতন হলেই স্ট্রেসকে কমিয়ে আনা যায়। এর কয়েকটি ধাপ আছে।

প্রথম ধাপটি সত্যিই স্ট্রেসে ভুগছেন কি না তা খতিয়ে দেখা। স্ট্রেসে শারীরিক, মানসিক ও ব্যবহারগত কিছু পরিবর্তন বা সমস্যা হতে পারে। যেমন:

ঘুম একেবারেই চলে যায়। অনেকের আবার ঘুম অনেক বেশি হয়। সারা দিনই ঝিমুনি লাগে।

খিদের ইচ্ছে চলে যাওয়া বা বেশি খিদে পায়।

শরীর-মনে ক্লান্তি। অলসতা দেখা দেয়।

মাথার যন্ত্রণা হতে পারে।

এগুলি সব শারীরিক পরিবর্তন।

মানসিক বা ইমোশনাল পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে

কিচ্ছু ভাল না লাগা।

ঘন ঘন মুড সুইং হওয়া।

মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়া।

ভয় ভীতি তৈরি হওয়া।

খিটখিটে মেজাজ।

অধৈর্য হয়ে যাওয়া।

কিছু ব্যবহারগত পরিবর্তন হয়যেমন,

সিগারেট খাওয়া বেড়ে যায়।

যাঁরা সিগারেট খেতেন না, তাঁরাও খেতে শুরু করেন।

অ্যালকোহল বেশি খাওয়া হয়ে যায়।

কোনও নির্দিষ্ট ড্রাগের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায়।

এই সমস্যাগুলোর কিছু কিছু দেখা গেলে বুঝতে হবে আপনি স্ট্রেসে ভুগছেন।

চিকিৎসা

কেউ কেউ এমনিতেই খুব বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন। কিছু একটা হতে পারে এই ভয়ে। ‘যদি’ হয়, তার ওপর নির্ভর করেই তাঁরা ভেতরে ভেতরে প্রবল মানসিক চাপে থাকেন। সে ক্ষেত্রে দরকার মতো কাউন্সেলিং করে ওষুধ খেতে হতে পারে।

আর কিছু হয় তাৎক্ষণিক স্ট্রেস। কোনও একটা ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা করে করে চাপ বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে নিজেই সচেষ্ট হলে স্ট্রেসকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন।

কী ভাবে

স্ট্রেসকে দূরে সরাতে গেলে দরকার স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রা। এতে অভ্যস্ত হলে স্ট্রেস অনেকটা কাটিয়ে ওঠা যায়।

১) নিয়মিত সঠিক এক্সারসাইজ করা। নিজে নিজে ভুলভাল কিছু না করে ট্রেনারের কাছে গিয়ে এক্সারসাইজ শিখলে ভাল হয়। এক্সারসাইজ করলে কিছু হ্যাপি হরমোন ক্ষরণ হয়। যার থেকে একটা ফিল গুড এফেক্ট আসে। অলসতা, ক্লান্তি দূর হয়। শরীর ঝরঝরে লাগে।

২) হেলদি লাইফস্টাইলে খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল খাওয়াদাওয়া। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্কফুড, প্যাকেট ফুড একেবারে চলবে না। এতে ওজন বাড়ে। ওজন বাড়লে রক্তের চাপও বাড়ে। বরং মরসুমি ফল আর শাকসব্জি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল নার্ভকে উজ্জীবিত করে। ফলে মন তরতাজা হয়। প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। জল শরীরের টক্সিন বের করে দেয়।

৩) সারা দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা ঘুম খুব জরুরি। ঘুমের ব্যাঘাত হলে সেটাকে আয়ত্তে নিয়ে আসতে হবে। দরকারে ডাক্তারের পরামর্শমতো স্ট্রেস কমানোর ওষুধ খেয়ে ঘুমকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ বায়োলজিকাল ক্লক ঠিক করতে হবে। শুধু ওষুধ নয়, নির্বিঘ্ন ঘুমের কিছু রেসিপি বা টোটকা আছে। সেগুলি মেনে চললে ভাল ঘুম হয়।

ঘুমের রেসিপি

ঘুমের রেসিপির মূল কথাই হল ঘুমের জন্য শরীর ও মনকে প্রস্তুত হয়। সেগুলি হল:

১) ঘুমের তিন ঘণ্টা আগে থেকে জল খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। তাতে ঘুমের সময় বার বার বাথরুম যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

২) ঘুমের আগে টিভি দেখা চলবে না। বরং ম্যাগাজিন বা হালকা কোনও গল্পের বই পড়তে পারেন।

৩) সারাদিনের পাতা বিছানার চাদর তুলে ফেলে ঘুমের জন্য আলাদা কোনও বিছানার চাদর পাতলে ভাল হয়।

৪) ঘুমের আগে জোরালো আলো না জ্বালিয়ে হালকা আলো জ্বালানো

৫) ঘুমের ঠিক আগে কোনও উত্তেজক কথাবার্তায় যাবেন না।

৬) শুয়ে ঘুম না এলে উঠে কোনও বই পড়বেন।

৪) যতই স্ট্রেস থাকুক, মন ভাল না থাকুক, আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। ভাল লাগছে না বলে যে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না।

৫) আর এই হেলদি প্র্যাকটিস ধরে রাখতে একটি ডায়েরি মেনটেন করুন। তাতে সারা দিনে কী কী করলেন, সব লিখবেন। এক সপ্তাহ আগে দু’ঘণ্টাও ঘুমোতে পারতেন না, এখন সাত ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন, এটা লিখলে দেখবেন নিজেই নিজেকে মোটিভেট করতে পারছেন। ডায়েরি লিখলে আপনার হেলদি লাইফস্টাইলকে জিইয়ে রাখতে পারবেন। তাতে স্ট্রেস বশে থাকবে, নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তচাপ।

সর্বোপরি প্রেসার আয়ত্তে আনতে

নিয়মিত প্রেসারের ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। কোনও ভাবেই প্রেসারের ওষুধ খেতে ভুলবেন না। প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও সেটি বজায় রাখতে ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। নইলে আবার প্রেসার বেড়ে যাবে।

সমস্যা হোক বা না হোক, কয়েক মাস পর পর ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করাতে হবে। দরকারে ডাক্তার ওষুধ বদলে দেবেন।

পাতে নুন খাবেন না। নোনতা খাবার একেবারেই নয়।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার কমিয়ে দিন। মদ্যপান ধীরে ধীরে কমান। ধূমপান করবেন না।

শুয়ে বসে দিন কাটাবেন না। পরিশ্রম করুন। এতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ব্যায়াম ও খাবার নিয়ন্ত্রণে এনেও ওজন কমানো দরকার।

টেনশন কমান। প্রয়োজনে প্রাণায়াম আর ধ্যান করুন।

এক বার ডাক্তার দেখিয়ে দীর্ঘ দিন সেই একই ওষুধ খেয়ে যাবেন না।

প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘুম খুব প্রয়োজন। তাই দিনের পর দিন ঘুম না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

আওয়ামীলীগ যুগ্ম-সাধারণ ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিভাগভিত্তিক দায়িত্ব

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

আওয়ামীলীগ যুগ্ম-সাধারণ ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিভাগভিত্তিক দায়িত্ব

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক

  • মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ,

  • ডা. দীপু মনি এমপিকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ,

  • জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং

  • আব্দুর রহমান এমপিকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

 বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

  • আহমদ হোসেনকে সিলেট বিভাগ,

  • মোঃ মেজবাউদ্দিন সিরাজ অ্যাডভোকেটকে ময়মনসিংহ বিভাগ,

  • বি. এম মোজাম্মেল হক এমপিকে রংপুর বিভাগ,

  • আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপিকে বরিশাল বিভাগ,

  • একেএম এনামুল হক শামীমকে চট্টগ্রাম বিভাগ,

  • খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপিকে রাজশাহী বিভাগ,

  • আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপিকে খুলনা বিভাগ এবং

  • ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল)কে ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার জীবনী

শেখ হাসিনা - Sheikh Hasina

শেখ হাসিনার জীবনী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছার পাঁচ সন্তানের মধ্যে শেখ হাসিনা সবার বড়। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৫ আগস্টের সেই ভয়াল রাতের হত্যাযজ্ঞের সময় শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং ১৯৮০ সালে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।

শেখ হাসিনা তাঁর অনুপস্থিতিতে ১৯৮১ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তখন তিনি নয়া দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর ছয় বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসানের পর তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক মহিলা কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদিকা ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে শেখ তিনটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং সংবিধানের ৫১ এবং ৫৬ ধারা মোতাবেক শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক ফর্মুলা ঘোষণা করেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দেশের পঞ্চম সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়েছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকারে পরিবর্তন করতে সংসদে সকল দলের নেতৃত্ব দেন। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য শেখ হাসিনা ১৯৯৪-১৯৯৬ সালে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর আন্দোলনের ফলে আমাদের সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযোজিত হয়েছিল। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। নির্বাচনের পর ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন।

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা কৃষক এবং দুঃস্থ, ভূমিহীন এবং দারিদ্র্য-পীড়িত কৃষকদের কল্যাণে অনেক নব এবং বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দুস্থ এবং বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক লোকের জন্য শান্তিনিবাস স্থাপন, গৃহহীন মানুষদেরকে আশ্রয় দানের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আদর্শ গ্রাম প্রতিষ্ঠা।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ৫ বছর মেয়াদ সম্পন্নের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তার দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন যারা ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর ব্যাপক হত্যা, নির্যাতন এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং শান্তির সপক্ষে একটি শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি জীবনে কয়েকবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। সবচেয়ে মারাত্মক ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যখন ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তার জনসভায় এক ডজনেরও বেশি উচ্চ-প্রযুক্তির গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল। এই সুপরিকল্পিত হামলায় তার দলের ২২ জন নেতা-কর্মী মারা যান এবং ৫০০ এর অধিক নেতা-কর্মী আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও ঐ হামলায় চোখে মারাত্মক আঘাত পান। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই মিথ্যা এবং কাল্পনিক অভিযোগে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হন এবং জেলে যান। দেশে-বিদেশে প্রবল জনমতের মুখে প্রায় এক বছর পর ২০০৮ সালের ১১ জুলাই শেখ হাসিনাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছিল।

১৯৯৬-২০০১ সালে তাঁর শাসনামলে তাঁর দূরদর্শী বৈদেশিক নীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সফল অংশগ্রহণ বিদেশে আমাদের দেশের ইমেজ উজ্জ্বল করেছিল। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার পর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে শান্তির দূত শেখ হাসিনা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশ ভ্রমণ করেন এবং প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিস্ফোরোন্মুখ পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এর ফলে বাংলাদেশের ইমেজ উজ্জ্বল হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাপক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (সিটিবিটি) স্বাক্ষর করে।

সামাজিক কর্মকাণ্ড, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য শেখ হাসিনা সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রিসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্র“য়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আবের্টে বিশ্ববিদ্যালয়, ডান্ডি লিবারেল আর্টসে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসিফো ডিগ্রি প্রদান করে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক দেশীকোত্তমা (ডক্টর অব লিটারেচার) ডিগ্রি প্রদান করেন।

শান্তি এবং গণতন্ত্রের জন্য অসাধারণ অবদানের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করেন।

গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় বিশ্ব বিখ্যাত ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।

কৃষিক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখায় ২০০১ সালের ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

পিপলস ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া ২০০৫ সালে শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

আন্তর্জাতিক মানবিক উন্নয়নে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, রাশিয়া শেখ হাসিনাকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ায় এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্রান্সের ডফিন বিশ্ববিদ্যালয় ২০১১ সালের ২৫ মে শেখ হাসিনাকে ডিপ্লোমা এবং পদক প্রদান করে।

বাংলাদেশে বহুসংস্কৃতির গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতে ত্রিপুরা রাজ্যের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি.টি ডিগ্রি প্রদান করে।

রাজনৈতিক সাহস এবং প্রজ্ঞার দ্বারা পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৫ বছরের জাতিগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শান্তি বয়ে আনতে অসাধারণ ভূমিকা রাখায় শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর হোফো-বনি শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।

দূরদর্শিতা, সাহস এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক ক্ষেত্রে অর্জনের স্বীকৃতিস্বরুপ শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যানডলফ উইম্যানস কলেজ শেখ হাসিনাকে ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাপূর্ণ পার্ল এস বাক অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৯ প্রদান করে।

ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা-এফএও শেখ হাসিনাকে ১৯৯৯ সালের ২ আগস্ট মর্যাদাপূর্ণ সেরেস পদক প্রদান করে। সর্ব ভারতীয় শান্তি পরিষদ ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনাকে “মাদার তেরেসা পদক” প্রদান করে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অহিংস ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের বিকাশে অবদান রাখায় নরওয়ের অসলোর মহাত্মা এম কে গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে এম কে গান্ধী অ্যাওয়ার্ড- ১৯৯৮ প্রদান করে।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এর রোটারি ফাউন্ডেশন কর্তৃক শেখ হাসিনাকে পল হ্যারিস ফেলো ঘোষণা করা হয়। তাঁকে ১৯৯৬-৯৭ এবং ১৯৯৮-৯৯ সালে মেডেল অব ডিসটিঙ্কশন প্রদান করা হয় এবং ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব লায়ন্স ক্লাবস কর্তৃক ১৯৯৬-৯৭ সালে হেড অব স্টেট মেডেল প্রদান করা হয়।

শেখ হাসিনাকে ২০০৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এসোসিও (এশিয়ান-ওসেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন) আইটি অ্যাওয়ার্ড- ২০১০ প্রদান করে। হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো এর নিকট থেকে শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি গ্লোবাল ডাইভার্সিটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

নারী এবং শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের নব ধারণার জন্য ইউএন ইকোনমিক কমিশন ফর আফ্রিকা, জাতিসংঘে এন্টিগুয়া এবং বার্বুডার স্থায়ী মিশন, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং সাউথ সাউথ নিউজ ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলা একাডেমী ফেলোশিপ প্রদান করে।

শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- “ওরা টোকাই কেন?”, “বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম”, “দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা”, “আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম”, “আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি”, “সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র”।

তিনি বেশ কয়েকবার পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ্ পালন করেছেন। তিনি ‘‘জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’’- এর সভাপতি। তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে বিশ্বাসী এবং দারিদ্র্য বিমোচনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন। প্রযুক্তি, রান্না, সঙ্গীত এবং বই পড়ার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ৯ মে ২০০৯ তারিখে ইন্তেকাল করেন। শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তাঁর একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনীর সংখ্যা পাঁচ জন।

০৫ জানুয়ারি ২০১৪  তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তৃতীয়বারের মত শপথ নেন শেখ হাসিনা।

কোন রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না: জিয়াউর রহমান

কোন রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না: জিয়াউর রহমান

দলের আদর্শকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সর্বক্ষেত্রে কর্মসূচি এবং সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলের জন্য অপরিহার্য। কারণ সংগঠন ছাড়া রাজনীতি করা যাবে না, কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা যাবে না। কিন্তু সংগঠন যে আমরা করব সেই সংগঠনের ভিত্তি হতে হবে তার আদর্শ। তাই পার্টির সংগঠনে যারা থাকবেন তাদেরকে পার্টির আদর্শ অবশ্যই জানতে হবে। কেবলমাত্র জানলেই চলবে না সেটা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে। আমরা অনেক কিছুই জানি, অনেক কিছুই বুঝি, কিন্তু অনেক সময় বিশ্বাস করি না। সেই বিশ্বাস না থাকলে দল সংগঠন করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের দলে যারা রয়েছেন কর্মকর্তা, নেতৃবৃন্দ, যারা রয়েছেন কর্মী তাদেরকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শ জানতে হবে, বুঝতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই বিশ্বাসে অনুভূত হয়ে আদর্শকে বাস্তবায়িত করতে হবে।

আমাদের পার্টি বলতে গেলে বছর দুয়েকের পার্টি। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর আমরা এই পার্টির সংগঠন করি। আজ এই দুই বছরের মধ্যে আমরা পার্টিকে মোটামুটিভাবে সংগঠিত করেছি কিন্তু পার্টির আইন-কানুনের প্রয়োজন। যদি আমাদের মধ্যে কেউ পার্টির আদর্শে বিশ্বাসী না হয় তবে সেই আইন-কানুন, সে মানতে পারে না কিংবা পার্টির কানুন অনুযায়ী সে কাজ করতে পারে না। তাই আজ আমাদের পার্টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যে, আমাদের পার্টির সেই আদর্শকে আমাদের প্রত্যেককে আয়ত্তে আনতে হবে এবং সেই জন্যে আমরা পার্টির আদর্শে শিক্ষা গ্রহণ করতে চলেছি।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আগামী এক সপ্তাহ যে আমাদের শিক্ষা ক্লাস চলবে তাতে আপনারা যা কিছু জানেন, শিখেছেন, চিন্তাভাবনা করেছেন সেইগুলোও আপনাদেরকে বলতে হবে। আমাদের ক্লাস চলবে মোটামুটি আলোচনাভিত্তিক। সেখানে একচেটিয়া বক্তৃতা হবে না। ডায়েস থেকে বরঞ্চ আপনাদের মধ্য থেকে আপনারা আলোচনা করবেন, আপনাদের বক্তব্য রাখবেন। আপনারা যেটা বুঝতে পেরেছেন সেটা বলবেন যাতে করে আমরা আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যদি ভুল বুঝাবুঝি থাকে কিংবা জ্ঞানের ফাঁক থাকে সেইগুলো পূর্ণ করবেন।

আজ থেকে আমাদের যে শিক্ষা ক্লাস চলছে এটা অবশ্যই আমাদের পার্টির জন্যে কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয় ঐতিহাসিকও বটে। কারণ এরপর সারা দেশব্যাপী এরকম শিক্ষার আয়োজন করব এবং যে চিন্তাধারা করেছেন বা বিবেচনা করেছেন এবং পারবেন। এই শিক্ষা ক্লাস শেষ হবার পর আমরা আপনাদের মধ্যে থেকেই ছোট ছোট গ্রুপ করে দিব এবং সেই গ্রুপগুলো জেলা পর্যায়ে গিয়ে এরকম আদর্শগত শিক্ষাশিবির আয়োজন করবেন। আপনারা অবশ্যই এই শিক্ষা ক্লাসের শিক্ষাশিবির আয়োজন করবেন। আপনারা অবশ্যই এই শিক্ষা ক্লাসের প্রোগ্রাম দেখেছেন, কর্মসূচি দেখেছেন। আমরা সাধারণত এইভাবে ক্লাস চালিয়ে যাব। সেখানে আমাদের আদর্শ সম্বন্ধে ইতিমধ্যে লিখিতভাবে বের হয়েছে। যেখানে বইতে লেখা রয়েছে সেটা পড়ার পর প্রাথমিকভাবে আমরা আর একটি লেকচার দিতে পারি এবং এরপর আপনাদের বক্তব্য রাখবেন। প্রতিদিন তার আগে নিজেরাই যাচাই করে নিতে পারবেন যে আপনারা কতদূর শিখলেন, জানলেন এবং কোথায় ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। কারণ জীবন হলো প্রতিদিনের একটি পরীক্ষা এবং সেই জন্যে আমরা যে কিছু শিখলাম নিশ্চয়ই সেটা আমাদেরকে যাচাই করে নিতে হবে যে, আমরা কি শিখলাম।

আমরা শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছি, এই জন্যেই আমাদের যে টপ ব্রেন আছে পলিটিক্যাল পার্টিতে, তাদেরকে নিয়ে আমরা বসেছি। এই আদর্শগত দিকটি আপনাদেরকে আয়ত্তে আনতে হবে কারণ আয়ত্তে না আনলে আপনারা নিজেরাই কাজ করতে পারবেন না। আমাদের অনেকের মধ্যে এখনও দ্বন্দ্ব আছে। এটা মানসিকভাবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আপনাদের মনের মধ্যে। কারণ আপনারা অনেকেই কিন্তু এমনি এসে গেছেন পার্টিতে বিভিন্ন কারণে। এখন এই দ্বন্দ্ব দিয়েই আমাদের সব ঠিক করতে হবে। হয় থাকবেন না হয় থাকবেন না। এখন আমাদের সময় এসেছে। যেটা আটা চালে চালনি দিয়ে আমাদেরকে আদর্শের চালনি দিয়ে এখন বেছে নিতে হবে আপনাদেরকে।

কোন রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না। একটা অবদান থাকতে পারে। কিন্তু ধর্মকে কেন্দ্র করে কখনই রাজনীতি করা যেতে পারে না। আমাদের এখানেই অতীতে আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে যে ধর্মকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সময়ে যখনই রাজনীতি করা হয়েছিল সেটা বিফল হয়েছে। কারণ ধর্ম ধর্মই। আমাদের অনেকে আছে যারা আমাদের দেশে যে বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেন। রাজনীতির রূপরেখা বানাতে চেষ্টা করেন এবং আমরা বার বার দেখেছি তারা বিফল হয়েছে। কেবলমাত্র মুসলমান নেতৃবর্গ নয়, হিন্দু নেতাবর্গের মধ্যে রয়েছে এবং অন্যদের দল ধর্মকে কেন্দ্র করে তাহলে কি দেখা যাচ্ছে একটা রাজনৈতিক দল ধর্মকে কেন্দ্র করে হতে পারে না। ধর্মের অবদান থাকতে পারে রাজনীতিতে। এটা মনে রাখবেন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে যে কথাগুলো আমি বললাম, আশা করি আপনারা বুঝলেন। আমি হাসি-ঠাট্টা করে অনেক কথা বলেছে কারণ সব সময় যদি সিরিয়াসলি বলি তাহলে আপনারা সবকিছু বুঝতে পারবেন না।(১৯৮০ সালে জিয়াউর রাহমান এর একটি ভাষণ )

গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন

শেখ মুজিবুর রহমানকে খাইয়ে দিচ্ছেন এক শিশু

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে বঙ্গবন্ধু তার গ্রেফতারের কয়েক মিনিট আগে জানান,পাকিস্তানি সেনারা তাকে গ্রেফতার করতে আসছে। তবে বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর স্মৃতিচারণায় এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে ৮১ বছর বয়সী হাজী মোর্শেদ বলেন, ‘আজ থেকে বাংলাদেশস্বাধীন হয়ে গেল। তারা আমাকে গ্রেফতার করতে আসছে। আমি বাসা’ই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

হাজী মোর্শেদ স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, বঙ্গবন্ধু চোখ বন্ধ করে তার কক্ষে একাকী বসেছিলেন। তিনি রাত দশটার দিকে এ কথা বলেন এবং এর কয়েক মিনিট পর সর্বশেষ সাক্ষাৎকারী হিসেবে তৎকালীন ছাত্রনেতা তবিবর রহমান আসেন। তিনি মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য বঙ্গবন্ধুকে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বিনীত অনুরোধ জানান।

মোর্শেদ বলেন, ‘তিনি (তবিবুর) তার সাথে আলিঙ্গন করেন এবং বলেন, অতি স্বত্ত্বর বাড়ি ছেড়ে চলে যান, তারা (সেনাবাহিনী) আপনাকে হত্যা করবে।’ জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘যদি তারা আমাকে না পায় তারা সব লোককে মেরে ফেলবে এবং ঢাকা নগরী ধ্বংস করে দেবে।’

হাজী মোর্শেদ বলেন, ‘রাত সাড়ে এগারোটার দিকে একটি অজ্ঞাত ফোন রিসিভ করেন। ফোনে বলা হয়, তিনি বলধা গার্ডেন থেকে বলছেন এবং ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে। এখন তিনি কি করবেন জানতে চান।’

তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে এ খবর জানাই। বঙ্গবন্ধু তাকে (অজ্ঞাত ব্যক্তি) বলতে বললেন যে, স্থাপনকৃত ট্রান্সমিটার ভেঙ্গে দিয়ে সে যেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

হাজী মোর্শেদ বলেন, তিনি ১৯৪৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সে সময়বঙ্গবন্ধু কলকাতায় ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালেরঘটনাবহুল মার্চ মাসে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধুর সংগে কাটিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর ১টা পনের মিনিটের দিকে পুরো আকাশ উজ্জ্বলআলোয় আলোকিত হয়ে যায়। এ সময় তিনি ফোন রিসিভ করছিলেন। বঙ্গবন্ধু এর পর তার কাছে আসেন এবং কোনদিক থেকে আলো আসছে তা জানতে চান। এরপর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যান।

হাজী মোর্শেদ বলেন, কয়েক মুহূর্ত পর এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলল, ‘হ্যান্ডসআপ’…. মাত মারো (হত্যা করো না)। এ সময় তিনি বাড়ির সিঁড়ির পাশে টেলিফোনসেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

হাজী মোর্শেদ বলেন, ‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক লোক আমার মাথার পেছনে আঘাত করে এবং আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি এবং সে রাতের সর্বশেষ ঘটনা বলতে আমি এটুকুই মনে করতে পারি।’

ঘটনার অপর প্রত্যক্ষদর্শী বিগত বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন যিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির পাশের বাড়ি থেকে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।

বঙ্গবন্ধু ভবনের পার্শ্ববর্তী ভবন দার-ই খাসে’র বাসিন্দা এ কে এম মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করার সময় গুলি ছুড়ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (বঙ্গবন্ধু) চিৎকার করে বলতে শুনলাম “গুলি বন্ধ কর” এবং তারা গুলি বন্ধ করে।’
বঙ্গবন্ধু সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসার পর হাজী মুর্শেদকে অজ্ঞান ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ দৃশ্য দেখে বঙ্গবন্ধু চিৎকার করে বলেন, ‘তোদের এতবড় স্পর্ধা তোরা তাকে মেরেছিস, আমি তাকে জীবিত চাই।’

‘বঙ্গবন্ধু জানতেন এবং আমরা বুঝতে পেরেছিলাম পাকিস্তানি সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করতে আসছে এবং আমরা আতঙ্কিত ছিলাম তারা বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলে কি-না। তাদের মোকাবেলা করার মত সৎ সাহস তাঁর ছিল। তিনি কাপুরুষ ছিলেন না।
উভয় প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ২৫ মার্চ দিনের প্রথমভাগে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট পশ্চিম পাকিস্তানি ও বিদেশী সরকারি কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর সংগে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে আসেন। অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অ্গং সংগঠনের নেতা ও কর্মীরাও দল বেঁধে আসতে থাকেন।

হাজী মোর্শেদ বলেন, এসব সাক্ষাৎকারীর মধ্যে একজন হলেন পুলিশ অফিসার এম এআওয়াল। তিনি সে সময় আনসার বাহিনীর পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি তার আধা পুলিশ বাহিনী আনসারের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তাব করেন। এই অস্ত্র প্রত্যেক জেলায় পুলিশ সদর দফতরে রাখা ছিল।
এ বিষয় নিয়ে ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খানের সংগে আলোচনা করা হলে তিনি(সিরাজুল আলম খান) অনাগ্রহ দেখান। কিন্তু বিকেলে বঙ্গবন্ধু হাজী মোর্শেদকে এম এ আওয়ালের সংগে তদানীন্তন ঢাকার এসপি ই এ চৌধুরীর কাছে পাঠান।
আসন্ন সামরিক অভিযান প্রতিরোধ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পুলিশের অস্ত্র বিতরণ করার জন্য বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য তাদের পাঠানো হয়েছিল।

হাজী মোর্শেদ বলেন, তবিবুরের আগে তাজউদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল হোসেন এবংব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের মত বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের নেতা বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য আসেন এবং মধ্যরাতের আগেই তারা ফিরে যান।

সূত্রঃ volunteersleague.org

আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদঃ সকলের নাম

আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিঃ সকলের নাম

উপদেষ্টা পরিষদ:

৩৮ সদস্যউপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন:

ডা. এস এ মালেক, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আলহাজ মো. ইসহাক মিয়া, অ্যাড. মো. রহমত আলী, এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, অ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, রাজীউদ্দিন আহমেদ রাজু, ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর, ব্যরিস্টার শফিক আহমেদ, সৈয়দ আবু নসর অ্যাডভোকেট, শ্রী সতীশ চন্দ্র রায়, প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক, প্রফেসর ডা. রুহুল হক এমপি, কাজী আকরাম উদ্দীন, অ্যাড. সৈয়দ রেজাউর রহমান, ড. অনুপম সেন, প্রফেসর ড. হামিদা বানু, প্রফেসর ড. মো. হোসেন মনসুর, অধ্যাপিকা সুলতানা শফি, এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, অ্যাম্বাসেডর জমির, গোলাম মওলা নকশাবন্দি, ড. মির্জা এমএ জলিল, ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া, মে. জে. আব্দুল হাফিজ মল্লিক পিএসসি (অব.), প্রফেসর ডক্টর সাইদুর রহমান খান, ড. গওহর রিজভী, প্রফেসর খন্দকার বজললু হক, মো. রশিদুল আলম, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কাজী সিরাজুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, চৌধুরী খালেকুজ্জামান।

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ (২০১৬-২০১৯)

সভাপতি: শেখ হাসিনা।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাড. সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সৈয়দ আশরাফুর ইসলাম, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও অ্যাড. আব্দুল মান্নান খান।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে এখনও তিনটি পদ খালি রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন, মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আব্দুর রহমান।

কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন এইচএন আশিকুর রহমান। অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক টিপু মুন্সি। আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নদী, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ অ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাড. মৃণাল কান্তি দাস।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শামসুন নাহার চাঁপা, শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুছ ছাত্তার, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদ ডা. রোকেয়া সুলতানা।

সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিএম মোজাম্মেল হক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল), উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

কমিটির ২৮ জন সদস্য হলেন:

আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, মো. মমতাজ উদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, নুরুল মজিদ হুমায়ুন, খায়রুজ্জামান লিটন, সিমিন হোসেন রিমি, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, র আম ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, দিপঙ্কর তালুকদার, বদরুদ্দীন আহমেদ কামরান, আখরারুজ্জামান, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, আমিরুল ইসলাম মিলন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম (মৌলভীবাজার), গোলাম কবির রব্বানী চিনু, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার, পারভীন জামান কল্পনা, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, মেরিনা জাহান, ড. শাম্মী আহমেদ, মারুফা আখতার পপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপাধ্যক্ষ রেমণ্ড আরেং।

সংসদীয় বোর্ডের সদস্য ১১ জন।

তারা হলেন, শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কাজী জাফর উল্লাহ, ওবায়দুল কাদের, প্রফেসর, ড. আলাউদ্দিন আহমেদ ও মো. রশিদুল আলম।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্ষমতার উৎস কোথায় ছিল?

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাজনীতির অঙ্গনে যিনি অত্যন্ত ক্ষমতাধর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার ক্ষমতার মূল্যায়ন অনেকেই করতেন তার পারিবারিক রাজনৈতিক বন্ধনের সূত্র ধরে।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী অল ইন্ডিয়া মুসলিম স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক থেকে মুসলিম লীগের সভাপতি হয়েছিলেন । পাকিস্তানের স্পিকার এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন একদিনের। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি কারাবন্দি হন। কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ফজলুল কাদের চৌধুরীর পিতা আবদুল জব্বার চৌধুরী ও দাদা বক্সে আলী চৌধুরী। বাংলাদেশের পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ অঞ্চলজুড়ে শেকড়ের মতো ছড়িয়ে চট্টগ্রামের এ চৌধুরী পরিবারের আত্মীয়তা।   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও  ছিল গভীর সম্পর্ক এ পরিবারের। ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এরশাদ সরকারের সাবেক এ মন্ত্রী বিএনপি সরকারের সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। নির্বাচন করেছেন ওআইসি মহাসচিব পদেও। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিছুদিন আগে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
পারিবারিক ও বৈবাহিক সূত্রে সালাউদ্দিন কাদের কয়েকটি কিংবদন্তি রাজনৈতিক পরিবারের আত্মীয়। তার দাদা শ্বশুর হলেন মাওলানা আবদুস সোবহান। যার নামে ঢাকার সোবহানবাগের নামকরণ। নানা শ্বশুর ফরিদপুরের বিখ্যাত চৌধুরী আবাদ আল্লা জহিরউদ্দিন লাল মিয়া। লাল মিয়ার মেয়ে জামাই আলমগীর মোহাম্মদ আদেল হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর শ্বশুর। ফলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ তার মামা শ্বশুর। এ সূত্রে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে তৈরি হয়েছে তার দূরবর্তী সম্পর্ক। সালাউদ্দিন কাদেরের চাচা শ্বশুর হচ্ছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল। আবার জাহাঙ্গীর আদেলের শ্বশুর হলেন পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খান। ফজলুল কাদের চৌধুরীর তৃতীয় ছেলে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাবেক এমপি এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। গিয়াসউদ্দিন কাদেরের শ্বশুর হলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতিরক্ষা সচিব ও সাবেক কেবিনেট সচিব ভাষাসৈনিক মুজিবুল হক। ফজলুল কাদের চৌধুরীর মেজো ছেলে প্রয়াত সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী। তার নানা শ্বশুর হলেন দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে ঢাকায় আসা মুসলিম লীগের নেতা ও দার্শনিক আবুল হাসিম। আর আবুল হাসিমের ছেলে হলেন এক সময়ের কট্টর বামপন্থি রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দিন উমর। সে হিসেবে বদরুদ্দিন উমর ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সম্পর্ক তালই-পুতরার। সাইফুদ্দিন কাদেরের শ্বশুর বাড়ির দিক থেকে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সঙ্গে দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়তা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামের এ চৌধুরী পরিবারের। ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি হলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদার নাতিন জামাই। ফজলুল কাদের চৌধুরীর আপন ভাতিজা হলেন আওয়ামী লীগের এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। আবার সালাউদ্দিন কাদেরের খালাতো ভাই হলেন শিল্পপতি  সালমান এফ রহমান। সালমান এফ রহমানের পিতা ব্যবসায়ী ও মুসলিম লীগ নেতা প্রয়াত ফজলুল রহমান। তার নিকট আত্মীয় বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আবার সালাউদ্দিন কাদেরের দুই খালাতো ভাই হলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান দুই বিচারপতি মাইনুর রেজা চৌধুরী ও সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফুফা হলেন ভাষাসৈনিক ও এইচআরসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হেদায়েত হোসেন চৌধুরী। তার দুই ছেলে হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ও এইচআরসি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী। সালাউদ্দিন কাদের ও সাবের হোসেন পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। অন্যদিকে সাবের হোসেন চৌধুরীর দুই ফুফাতো ভাই হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও বিএনপি সরকারের আমলে ব্যর্থ ক্যুর অভিযোগে চাকরিচ্যুত সেনাপ্রধান মে. জেনারেল (অব.) নাসিম বীরবিক্রম। মুসলিম লীগের জাঁদরেল নেতা হামিদুল হক চৌধুরী ও সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরী হলেন সম্পর্কে সাবের হোসেন চৌধুরীর চাচা। আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এম আশিকুর রহমান এমপি হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফুফাতো বোনের জামাই। আর বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বোনের ভাসুর।

এছাড়া মুসলিম বিশ্বে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছিল ব্যপক পরিচিতি। তবে ক্ষমতা, পারিবারিক বন্ধন বা পরিচিতি , কিছুই তাকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা করতে পারেনি!

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি – বিস্তারিত বিবরণ

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি – বিস্তারিত বিবরণ

ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ সোমবার সন্ধ্যায়  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তারা এই কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদন করেন। পুর্ণাঙ্গ এ কমিটি  ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট। যদিও  ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কথা রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই রবিবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি ও জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ছাত্রলীগ লোগো-ChatroLeague Logo
ছাত্রলীগ লোগো-ChatroLeague Logo

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা- বিস্তারিত বিবরণ

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেলেন যারা

সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ। সহ-সভাপতি যাথাক্রমে- আজিজুল হক রানা, এরশাদুর রহমান চৌধুরী, কাজী এনায়েত, মোঃ তোফাজ্জেল হক চয়ন, ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পি, আরিফুর রহমান লিমন, মোঃ মেহেদী হাসান রনি, আমিনুল ইসলাম, অহিদুর রহমান জয়, সৈয়দ আশিক, মাসুদ রানা মিঠু, আনোয়ার হোসেন আনু, সুপ্রিয় কুন্ড রাজেশ, মশিউর রহমান শরিফ, জাহাঙ্গীর আলম, সোহান খান, রিফাত আজান, মাকসুদ আলম, আরেফিন সিদ্দীক সুজন, আদিত্য নন্দী, গোলাম রসুল বিপ্লব, হাবিবুর রহমান সুমন, কামাল মোঃ নাসের রুবেল, মাহমুদুর রহমান জনি, মোঃ আল-আমিন (মুহসীন হল), নুসরাত জাহান নুপুর, নিশীতা ইকবাল নদী, আবু সাঈদ, মোঃ মনির হোসেন, মেহেদী হাসান (মুহসীন হল), রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহাদাত হোসেন রাজন, আবদুস সাত্তার মাহবুব, আসাদুজ্জামান আসাদ, নাজমুল হক, আহসান হাবিব রানা, শোয়াইবুল ইসলাম শোয়েব, সাকিব হাসান সুইম, মোঃ আব্দুল রাসেত গালীব, মোঃ মিজানুর রহমান, জামশেদ আলম, কামরুজ্জামান সালাম, শিউলী আক্তার, চৈতালী হালদার চৈতী রুহুল আমিন, কাওসার পাঠান পাপ্পি, মাসুমা আক্তার পলি, নুরুল করীম জুয়েল, আবু হোসাইন বিপু, আরিফুজ্জামান রোহান, এস.এম. আব্দুর রহিম তুহিন, তৌহিদুজ্জামান সরকার ধ্রুব, মোঃ নুর আলম ভ‚ইয়া রাজু, অর্ণা জামান, হাফিজুর রহমান ভ‚ইয়া সজীব, রাকিব হাসান সোহেল, আসিফ উল্লাহ মিথুন, মোঃ তাজুল ইসলাম, এ.টি.এম. সায়েম, শেখ শাহজালাল সুজন, মাহফুজুর রহমান রাসেল।

সাধারণ সম্পাদক এস.এম. জাকির হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে- আসাদুজ্জামান নাদিম, আব্দুর রাজ্জাক লালন, রেজাউল ইসলাম রেজা, চন্দ্র শেখর মন্ডল, দিদার মোঃ নিজামুল ইসলাম, মাহামুদুল হাসান, সায়েম খান, মোতাসিম বিল্লাহ মোহাম্মাদ, শেখ ফয়সাল আমিন, নওশাদ উদ্দিন সূজন, শাহিদুল ইসলাম শাহেদ, মোবারক হোসেন, শেখ জসিম উদ্দিন, শৃজন ঘোষ সজীব, মোঃ সৈকতুজ্জামান সৈকত, আশিকুল পাঠান সেতু, সজীব বিশ্বাস, মোঃ শাহ-জামাল, বি.এম. এহতেশাম, দারুস সালাম শাকিল, তানজিল ভ‚ইয়া তানভীর, মোঃ শরিফুল ইসলাম ফারুক।

প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু, উপ-প্রচার সম্পাদক উৎপল সরকার (জগন্নাথ হল), মোঃ ছফিউল্লাহ সফি (জে.বি), সাইফুর রহমান সাইফ (সূর্যসেন হল), মাহমুদুল হাসান ইরান (জ.বি), আব্দুল হক রনি (জিয়া হল), মাইনুল হাসান হিমেল (ঢা.ক), এ.এইচ.এম তৌফিক সারফী নেতু (জ.বি.)।

দপ্তর সম্পাদক  দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সাইদুল ইসলাম (প্রইভেট), গোলাম মোস্তফা (বঙ্গবন্ধু হল), হাবিবুর রহমান হাবিব (এস.এম. হল), সরকার আরাফাত সঞ্জয় (প্রইভেট), আমিনুল ইসলাম (সূর্যসেন হল), দিগন্ত চক্রবর্তী তপু (ঢা.ক.)।

গ্রন্থনা প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান নূর উন নবী, উপ-গ্রন্থনা প্রকাশনা সম্পাদক সোহগ হোসেন সাগর (চারুকলা), মং সুং উ অর্জুন মারমা (চারুকলা), সুম্ময় দে (চারুকলা)।

শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদ অহিদুজ্জামান মুকুল (জহু. হল), শরিফুল ইসলাম শরিফ (জহু. হল), গিয়াস উদ্দিন সোহাগ (ঢাকা জেলা), মাহিবুল হাসান মুকিত (শা.বি.)।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জনি, উপ-সংস্কৃতিক সম্পাদক শাহীন আলম (জ.বি.), ফাতেমা তুজ জোহরা চৌধুরী রুশী (চারুকলা), তপু রায়হান (এফ.আর. হল)।

সমাজসেবা সম্পাদক পারভেজ মিয়া, উপ-সমাজ সেবা সম্পাদক সব্যসাচী হালদার লিটু (রা.বি), অমিত হাসান (জহু. হল), মোঃ আবু হানিফ (মহসিন হল)।

ক্রীড়া সম্পাদক চিন্ময় রায়, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ হোসাইন (লেদার), মিজানুর রহমান রুদ্র (লেদার), মোঃ শামীম হোসেন (ই.বি.)।

আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইমরান খান, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইশাত কাশফিয়া ইরা (রোকেয়া হল), এমদাদ হোসেন সোহাগ (ঢা.বি.), মাহবুবুল ইসলাম প্রিন্স (মহসিন হল)।, রাসেল হোসেন (ঢা.ক)

পাঠাগার সম্পাদক ইলিয়াস উদ্দিন, উপ-পাঠাগার সম্পাদক ওয়াদুদ সওদগর (জহু. হল), আলিমুল হক (এফ.রহমান হল), ফারুক হোসেন (চ.বি.), সোহেল উদ্দিন (সূর্যসেন হল)।

তথ্য ও গবেশণা সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, উপ- তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চৈতী রাণী (রোকেয়া হল), আশরাফুল ইসলাম ফাহাদ (প্রাইভেট), মোঃ তামিম ইসলাম (নারায়নগঞ্জ)।

অর্থ সম্পাদক আবদুল মালেক সাজু, উপ-অর্থ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার (সুফিয়া কামাল হল), মাসরুল আলম মিলন (প্রাইভেট), মোঃ সৃজন ভূইয়া (ঢা.বি.)।

আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, উপ-আইন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (এফ.আর. হল), বেলাল হোসেন বিদ্যুৎ (বঙ্গবন্ধু হল), মির্জা মাহামুদ (প্রাইভেট)।

পরিবেশ সম্পাদক এবি এম হাবিবুল্লাহ বিপ্লব, উপ-পরিবেশ সম্পাদক নাজমুল হুদা রাজিব, (সূর্যসেন হল), শেখ মারুফা নাবিলা (ফজিলাতুন্নেছা হল), হিল্লোল সরকার (জগন্নাথ হল)।

স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপ- স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদ সৈয়দ আরাফাত (বঙ্গবন্ধু হল), অসিম বৈদ্য (জগন্নাথ হল), কাওসার হক (সারওয়ারদী কলেজ), রাজিউন মাহমুদ (একুশে হল)।

বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরেফিন, উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির (শহিদুল্লাহ হল), আনিসুজ্জামান আনিস (পটুয়াখালী বিজ্ঞান), আবদুল্লাহ আল রিফাত (একুশে হল), ইকবাল হোসেন শিপন সিকদার (প্রাইভেট)।

তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক ইসফাক আবির, উপ-তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক তৌহিদুর রহমান হিমেল (রুয়েট), মোঃ আনোয়ার হাবিব অনিক (বুয়েট), মোঃ আবু মুসা আবদুল্লাহ (বুয়েট), তানভীর ইসলাম (ঢা.ক.), শফিকুল রেজা (প্রাইভেট)।

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খায়েব উদ্দিন চৌধুরী, উপ- ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমির হোসেন (উত্তর), উত্তম কুমার সরকার (জগন্নাথ হল), মনিরুজ্জামান দীপু (জ.বি)।

গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হান্নান (ঢা.ক.), ইশরাত জাহান অর্চি (ইডেন), গোলাম মইন উদ্দিন হিমু (শহিদুল্লাহ হল)।

ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াজ, উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফ (চ.বি.), সাজিদ রাসেল (জহু.হল), মোঃ আজিযুল আলশ মৃধা (এফ.রহমান হল)।

গণ যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ফরহাদুজ্জামান মরি, উপ-গণ যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান উল্লাহ তুহিন (শহিদুল্লাহ হল), মোঃ মাইনুল ইসলাম ফয়সাল (সিলেট), হাবিবুর রহমান হাবিব (বঙ্গবন্ধু হল)।

স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম সুমন, উপ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বী সেতু, শাহরিয়ার হোসেন শান্ত, আদনান উপল, মোঃ ইফাদ সামিহ।

সহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন, উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক রহমত উল্লাহ খান সাকুর (শা.বি.), রাসেল আহমেদ চৌধুরী (প্রাইভেট), তাজুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধু হল)

নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করীম সুমন, উপ-নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ মাহমুদ (ঢা.ক.), মোঃ ইমরুল হাসান নিশু (সূর্যসেন হল), সোহানী হাসান তিথী (ইডেন)।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আনন্দ সাহা পার্থ, উপ-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আসিক ইকবাল অনিক (প্রাইভেট), শামীম হোসেন শুভ (প্রাইভেট)।

আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মো” রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক শেখ জসিম উদ্দিন (জ.বি.), মোঃ শাহজালাল শাওন (ঢা.ক.), জসিমউদ্দিন আকন্দ রনি (প্রাইভেট)।

কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার, উপ-কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হোসেন জুয়েল (জিয়া হল), শামীম মোল্লা (সিলেট কৃষি)।

কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এস.এম সাইফুল ইসলাম সোহাগ (উত্তর), মুরাদ হায়দার টিপু (জহু. হল)।

প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাইয়ুম (সূর্যসেন হল), এ হান্নান হাওলাদার শাওন (ঢাকা ম. উত্তর)।

কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সাকিবুল ইসলাম বিয়াস, উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হাওলাদার, রিয়াজ উদ্দিন রুবেল (ঢা.ক.), জুবায়ের আহমেদ (জহু. হল)।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নুর এ আলম আশিক, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক, কাজী মিরাজুল ইসলাম ডলার (তিতুতীর কলেজ), রাকিবুল হাসান নোবেল, ওমর শরীফ ফাহাদ।

মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুজ্জামান, উপ-মানব সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ (মহাসনি হল), মোঃ মানিক হোসেন (তিতুমীর কলেজ), জহির আহমেদ খান (বঙ্গবন্ধু হল), মেহেদী হাসান ফারুক (উত্তর)।

ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজ, উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা (ঢা.ক) মেহজাবিন মোস্তাকিম জাবিন (জিয়া হল)।

সহ-সম্পাদক কাজী ফারুক হোসেন (সূর্যসেন হল), আব্দুস সালাম (ঢা.বি.), আল্লামা ইকবাল (ঢা.ক.) মোঃ আরিফুল ইসলাম সোহাগ (ঢা.বি), আজমির শেখ (ঢা.বি), জায়েদ বিন জলিল (ঢা.বি.), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (জ.বি), মাসুম পারভেজ সুমন (ঢা.বি.) জীবন কুমার বিশ্বাস (তিতুমীর), এস.এম. জাকারিয়া বুলবুল (বঙ্গবন্ধু হল), কাজী শাখাওয়াত হোসেন (ঢা.বি.), নজরুল ইসলাম বাবু (নজরুল বিশ্ব.), মনোয়ার হোসেন খোকন (ঢা.ক), খাদিজাতুল কুবরা (ঢা.বি.), শাহরিয়ার মাহমুদ রাজু (ঢা.বি.), ফারজানা আক্তার সুপর্ণা (গারস্থ অর্থনীতি), ইমরান হোসাইন (ঢাকা জেলা), মোঃ ইবরাহিম (উত্তর), মাজহারুল ইসলাম লেলিন, রুহুল আমিন, (জ.বি.), আনোয়ার হোসেন সজীব (ঢা.ক.)।

গত বছরের ২৬ জুলাই রোববার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি ও জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিক পূর্ণঙ্গ কমিটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘোষিত কমিটির কেউ ব্যবসা বা চাকুরীতে যোগদান করলে তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা- বিস্তারিত বিবরণ

ওবামার সংগ্রামী জীবন

ওবামা তখন ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে পড়তেন। ক্লাসে একদিন তাদের শিক্ষক ‘ইস ডারমাওয়ান’ শিক্ষার্থীদের নিজের জীবনের লক্ষ্য উল্লেখ করে একটি রচনা লিখতে বললেন। রচনা লেখা শেষে ‘ইস ডারমাওয়ান’ এক এক করে সবার খাতা দেখতে শুরু করলেন। খাতা দেখতে দেখতে একসময় এসে তিনি চমকে উঠলেন। কারণ ‘ব্যারি’ নামের একটি ছেলে লিখেছে সে বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হতে চায়। বারাক ওবামার ডাক নাম ‘ব্যারি’। অনেকে ভাবতে পারেন ছোট্ট বয়সে হয়তোবা মনের খেয়ালেই এরকমটি লিখেছিলেন ওবামা। কিন্তু এর ঠিক তিন বছর পর ওবামা যখন একটি সরকারি স্কুলে ভর্তি হন তখনও তাকে এরকম একটি রচনা লিখতে হয়। সেই রচনাতেও লিখেন তিনি বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হতে চান। সেদিনের শিক্ষিকা ‘ক্যাটরিনা সিনাগা’র আজও মনে আছে সেই দিনের কথা।

ওবামার বাবা-মায়ের পরিচয়:

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ যেটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এটি আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্য এবং এর রাজধানী হনলুলু। ওবামার বাবার বসবাস ছিল কেনিয়ার একটি অজপাড়া গ্রামে। সেখান থেকে সিনিয়র বারাক হুসেন ওবামা পড়ালেখা করতে আসেন ‘হনলুলু বিশ্ববিদ্যালয়ে’। অপরদিকে আমেরিকার কানসাস থেকে জীবিকার সন্ধানে শ্বেতাঙ্গ ‘ড্যানহাম’ পরিবার আসে হনলুলুতে। এই পরিবারেই ‘স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম’ নামে একটি মেয়ে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনাচক্রে সিনিয়র ওবামার সাথে পরিচয় হয় স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম এর। এই পরিচয় একসময় প্রেমে রূপান্তরিত হয়। তারা দুজন সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করার। কিন্তু সেসময় হনলুলু রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ বিয়ে অবৈধ ছিল। আমেরিকার আরও অনেক রাজ্যে এরকমটি ছিল। কিন্তু রাজ্যের নিষেধ তাদের ভালোবাসায় বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে নি। সকল বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তারা দুজন বিয়ে করেন।

অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ

৪ আগস্ট, ১৯৬১ সাল। সিনিয়র বারাক ওবামা ও স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম এর ঘর আলোকিত করে পৃথিবীতে জুনিয়র বারাক ওবামা। জন্মের সময় বাবা-মা শখ করে ছেলের নাম রাখেন বারাক হুসেন ওবামা। বারাক শব্দের অর্থ ‘আশীর্বাদপ্রাপ্ত’। আর ডাক নাম ছিল ‘ব্যারি’।

শৈশবের ছন্দপতন

বাবা-মায়ের আদরে ভালোভাবেই কাটছিল ব্যারির শৈশবের দিনগুলো। কিন্তু পৃথিবীর হালচাল বুঝে ওঠার আগেই ছন্দপতন ঘটে তার জীবনের। ব্যারির বয়স যখন দুই বছর তখন তার বাবা-মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। এর আগে অবশ্য তারা অনেকদিন আলাদাভাবেই থাকতেন। বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর মায়ের কাছেই থেকে যান ব্যারি।

নতুন পরিচয়

ডিভোর্সের কিছুদিন পর ব্যারির মা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দোনেশিয়ান এক ছাত্রকে বিয়ে করেন। তার নাম ছিল ‘লোলো সোয়েটরো’। ১৯৬৭ সালে ব্যারি তাদের সাথে জাকার্তায় চলে আসেন। সে সময় ব্যারির বয়স ছিল ৬ বছর। এ সময় ব্যারির নামের পরিধিটা একটু বেড়ে যায়। নতুন বাবার নামের সাথে মিল রেখে নাম রাখা হয় ‘ব্যারি সোয়েটরো’।

ব্যারিদের বসবাস ছিল জাকার্তার শহরতলীতে। এই স্থানটিতে নিম্ন মধ্যবিত্তদেরই বসবাস ছিল। রাস্তাঘাট ছিল মাটির, চারপাশটা ছিল গাছগাছালিতে ঘেরা এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল জলাশয়। এইরকম এক পরিবেশেই বড় হতে থাকেন ব্যারি। এখানকারই একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় ব্যারিকে। ব্যারির মা পড়াশোনার বিষয়ে খুবই সিরিয়াস ছিলেন। তবে মা ছেলের মধ্যে এমনিতে খুব সখ্য ছিল। এমন অনেক রাত গেছে যে রাতে মা-ছেলে চাঁদের আলো দেখতে দেখতে রাত পাড় করে দিয়েছেন।

মেধা তার ছোটবেলা থেকেই ছিল

আমেরিকা থেকে সোজা জাকার্তা। নতুন এক দেশ, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি সবই ব্যারির কাছে নতুন। নতুন এই পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে খুব বেশি সময় নেননি ছোট্ট ব্যারি। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ভাষা, সংস্কৃতি সবকিছুই শিখে ফেলেছিলেন।

বন্ধুদের মন জয়

জাকার্তায় ব্যারির একটু সমস্যা ছিল। গায়ের রং কালো হওয়ায় তার সমবয়সী ছেলেদের উত্যক্ত সহ্য করতে হয়েছিল। এজন্য ব্যারির খুব মন খারাপ হতো। কিন্তু একদিন সেই বন্ধুদেরই নয়নের মনি হয়ে উঠলেন ব্যারি। কিন্তু কীভাবে?

ব্যারি ও তার বন্ধুরা পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলছিলেন। তাদের এই খেলার মাঝে হঠাৎ করে বাগড়া বাঁধায় অন্য পাড়ার কিছু ছেলে। ছেলেগুলো ছিল খুবই দুষ্ট স্বভাবের। তাই কেউ সাহস করে তাদেরকে কিছু বলতে পারছিলো না। মুখে কিছু বলতে না পারলেও রাগে গজগজ করছিল ব্যারি। রাগে গজগজ করতে করতেই মাঠ থেকে বাড়িতে চলে যায় ব্যারি। সবাই ভাবে ভয় পেয়ে সে চলে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ব্যারি আবার মাঠে ফিরে আসে এবং সাথে করে নিয়ে আসে একটি পোষা কুমিরের বাচ্চা। এই কুমিরের বাচ্চা দিয়ে সেই দুষ্টু ছেলেদের তাড়া করে। ছেলেগুলো তাড়া খেয়ে পালিয়ে যায়। এরপর আর কোনোদিন সেই ছেলেগুলো এই পাড়ায় আসেনি। এই ঘটনার পর ব্যারির সেই বন্ধুরা তাকে আর খেপায় না। তারা তাকে নয়নের মনি করে রাখে।

আবারও আবাসস্থল বদল

জীবনের চারটি বছর জাকার্তায় কাটানোর পর আবার পরিবর্তন করতে হয় আবাসস্থল। সময়টা ছিল ১৯৭১ সাল। সেসময় ব্যারির বয়স ছিল ১০ বছর। বাবা-মা কে ছেড়ে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে চলে আসেন ব্যারি। এখানে এসে নানা-নানীর কাছে থাকেন। নানী ‘ম্যাডেলিন ড্যানহ্যাম’ ছিলেন ব্যারির প্রিয় ব্যক্তিত্ব।

বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়রের মৃত্যু

ব্যারির সাথে হনলুলুতে একদিন তার বাবা বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়রের দেখা হয়। এই দেখাই ছিল তাদের শেষ দেখা। এরপর ব্যারির বাবা হনলুলু ছেড়ে চলে যায়। ১৯৮২ সালে বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়ন এর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু

জাকার্তা থেকে হনলুলুতে এসে এখানকার পুনাহো স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয় ব্যারিকে। এই স্কুল থেকেই ১৯৭৯ সালে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ব্যারি। কিন্তু এই স্কুলজীবনে তাকে অনেক বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।

হনলুলু ছেড়ে লস এঞ্জেলস

স্কুলের পাঠ চুকিয়ে এবার কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য হনলুলু ছেড়ে চলে আসেন লস এঞ্জেলস। সেখানকার অক্সিডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়ে দুই বছর পড়ার পর সেখান থেকে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হয়ে যান। এখানেই তার জীবনের বিরাট এক ঘটনা ঘটে। কিন্তু কী ঘটনা? এ বিষয়ে পরে বলছি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন ব্যারি।

কর্মজীবন

ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর কিছুদিন বিজনেস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশনে এবং নিউ ইয়র্ক পাবলিক ইন্টারেস্ট রিসার্চ গ্রুপ নামের দুটো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ব্যারি। কিন্তু মন না টেকায় সেখান থেকে চলে যান শিকাগোতে। সেখানে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে তিন বছর কাজ করেন।

পিতৃভূমি দর্শন

ব্যারির বাবা সিনিয়র ওবামা ছিলেন কেনিয়ার অধিবাসী। ১৯৮৮ সালে ব্যারি তার পিতৃভূমি কেনিয়ায় যান। সেখানে তার অনেক আত্মীয়ের সাথে তার দেখা হয়।

আবার শিক্ষাজীবনে প্রবেশ

পিতৃভূমি থেকে ফিরে এসে হার্ভাড ল কলেজে ভর্তি হন। বছর শেষে চারপাশ থেকে সাফল্য তাকে ঘিরে ধরে। যার ফলশ্রুতিস্বরূপ হার্ভাড ল রিভিউয়ের সম্পাদক নির্বাচিত হন ব্যারি। এর ঠিক দুই বছর পর সম্পাদক থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটি ছিল তার জন্য বিশাল এক মাইলফলক। কারণ ল রিভিউয়ের ১০৪ বছরের ইতিহাসে ওবামাই হলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। ছোটবেলার সেই ইচ্ছার প্রাথমিক রূপ ধরা দিয়েছে। এবার পূর্ণরূপ ধরার পালা। ১৯৯১ সালে হার্ভাড ল’ কলেজ থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি নিয়ে ওবামা শিকাগো শহরে ফিরে আসেন।

জীবনের সেই বিরাট ঘটনা

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে ওবামার সাথে পরিচয় হয় মিশেল রবিনসন এর। দীর্ঘদিন প্রেম ভালোবাসার পর ১৯৯২ সালে তারা বিয়ে করেন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে। তাদের একজন মালিয়া অ্যান ওবামা (জন্ম ১৯৯৯) এবং আরেকজন নাতাশা ওবামা সাশা (জন্ম ২০০১)।

মায়ের মৃত্যু

ওবামা তখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ল’স্কুলে লেকচারার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সময়টা ছিল ১৯৯৫ সাল। এসময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওবামার মা। বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে ওবামা একেবারে একা হয়ে যান কিন্তু দিশেহারা হননি।
ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন শৈশবের সেই লক্ষ্যের দিকে
অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে সে ১৯৯৬ সালে ইলিনয়ের সিনেটর নির্বাচিত হন ওবামা। একইভাবে ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালেও তিনি পূণর্বার নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৪ সালে তার ঝুলিতে জমা হয় আরেকটি সাফল্য। সে বছর বোস্টনে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে এক বক্তৃতা দেন তিনি।  সেই ভাষণে সে মার্কিন অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো পাল্টানোর কথা এবং ইরাক যুদ্ধে বুশ প্রশাসনের ঘৃণ্য ভূমিকার কথা বলেছিলেন। আরও বলেছিলেন, “উদারনৈতিক আমেরিকা বা রক্ষণশীল আমেরিকা বলে কোন কথা নেই। আমরা জানি আমেরিকা একটাই আর সেটা হলো ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা।” তার এই যুগান্তকারী ভাষণের কারণেই সেদিন জাতীয় এক ব্যক্তিত্ব বনে যায় ওবামা।
এরপর ২০০৪ সালে আমেরিকার সিনেট নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওবামা ৭০% ভোট নিয়ে জিতে যান। এ জয়ের পেছনে তার ২০০৪ সালের বোস্টনের ভাষণের প্রভাব আছে বলে অনেকেই মনে করেন। ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় তার বেষ্ট সেলার মর্যাদা পাওয়া বই ‘অডাসিটি অব হোপ’। এরপর ২০০৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান ডেমোক্রেটিক দল থেকে। তারপর এলো ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক ৪ নভেম্বর। সেদিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ রিপাবলিক দলের পদপার্র্থী জন ম্যাককেইনকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হন বারাক ওবামা। সেই সাথে সে হয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের মহানায়ক।

দাস থেকে হয়ে গেলেন শাসক

সে অনেক দিন আগের কথা। প্রায় চারশত বছর। বারাক ওবামাদের পূর্ব পুরুষরা এসেছিলেন আমেরিকাতে। সে সময় তারা আমেরিকানদের দাসত্ব করতেন। শ্বেতাঙ্গদের বর্ণবিদ্বেষের কারণে তাদের চরম অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে বেঁচে থাকতে হয়েছিল। ভাবতে অবাক লাগে, আজ সেই বর্ণবিদ্বেষী সমাজের মানুষের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

শৈশবের সেই লক্ষ্য

স্কুল জীবনেই যার লক্ষ্য ছিল বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হবে সে তার লক্ষ্য অর্জন করে দেখিয়েছেন। এই লক্ষ্য সে কীভাবে অর্জন করলো তা তো সকলেরই জানা। অনেক চড়াই-উৎরাই ও ত্যাগের মাধ্যমে সে তার লক্ষ্য অর্জন করেছেন। মানুষের একান্ত চেষ্টা, ইচ্ছা থাকলে পৃথিবীতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

বারাক ওবামার প্রিয় কিছু বিষয়:

  • শখঃ বাস্কেটবল, লেখালেখি, বাচ্চাদের সাথে খুনসুটি।
  • প্রিয় বইঃ সং অব সলোমন (টনি মরিসন), মবি ডিক, শেক্সপিয়ারের ট্র্যাজেডি, পার্টি দি ওয়াটার, জিলেড (রবিনসন), সেলফ রিলায়েন্স (এমারসন), বাইবেল, লিংকন’স কালেক্টেড রাইটিংস।
  • প্রিয় মুভিঃ কাসাব্লাংকা, গড ফাদার, লরেন্স অব অ্যারাবিয়া এবং ওয়ান ফ্লিউ ওভার কাক্কু’স নেস্ট।
  • প্রিয় গায়কঃ মাইলস ডেভিস, জন কলট্রেন, বব ডিলান, স্টিভ ওয়ান্ডার ইত্যাদি।

আওয়ামী যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতার কথা

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

আওয়ামী যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতার কথা

বাংলাদেশ  আওয়ামী  যুবলীগ  এর  প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি  ১৯৩৯  সালের  ৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তার ভুমিকা ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিল।  ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ ফজলুল হক মনি  মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে অংশগ্রহন করেছিলেন।  [ আওয়ামী যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতার কথা ]

বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি  ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি একজন মেধাবী সাংবাদিক ছিলেন। তিনি দৈনিক বাংলার বানী,বাংলাদেশ টাইম্‌স ও সাপ্তাহিক সিনেমার সম্পাদক ছিলেন।

শেখ ফজলুল হক মনি বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছিলেন। তার একটি উপন্যাস থেকে ‘অবাঞ্ছিতা’  ছবি   তৈরি হয়েছিল।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ ঘাতকের বুলেটে শহীদ হন এই কালজয়ী নেতা।

ছাত্রলীগ : সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের নাম ও মেয়াদকাল

ছাত্রলীগ : সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের নাম ও মেয়াদকাল

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া, জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ সংগঠন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ অতিক্রম করেছে পথচলার ৬৮ বছর।

ছাত্রলীগ : সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের নাম ও মেয়াদকাল

সভাপতি – সাধারণ সম্পাদকঃ

১৯৪৮ নাইমউদ্দিন আহমেদ (আহবায়ক)

১৯৪৮-১৯৫০ দবিরুল ইসলাম – খালেক নেওয়াজ খান

১৯৫০-১৯৫২ খালেক নেওয়াজ খান – কামরুজ্জামান

১৯৫২-১৯৫৩ কামরুজ্জামান – এম এ ওয়াদুদ

১৯৫৩-১৯৫৭ আব্দুল মোমিন তালুকদার – এম এ আউয়াল

১৯৫৭-১৯৬০ রফিকুল্লাহ চৌধুরী – আযহার আলী (বিদেশে গমন) শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (ভারপ্রাপ্ত)

১৯৬০-১৯৬৩ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন – শেখ ফজলুল হক মনি

১৯৬৩-১৯৬৫ কে এম ওবায়েদুর রহমান – সিরাজুল আলম খান

১৯৬৫-১৯৬৭ সৈয়দ মাজহারুল হক বাকী – আব্দুর রাজ্জাক

১৯৬৭-১৯৬৮ ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী – আব্দুর রাজ্জাক

১৯৬৮-১৯৬৯ আব্দুর রউফ (বহিষ্কৃত) – খালেদ মোহাম্মাদ আলী

১৯৬৯-১৯৭০ তোফায়েল আহমেদ – আ স ম আব্দুর রব

১৯৭০-১৯৭২ নূরে আলম সিদ্দিকী – শাহজাহান সিরাজ (বহিষ্কৃত), ইসমত কাদির গামা

১৯৭২-১৯৭৩ শেখ শহিদুল ইসলাম – এম এ রশিদ

১৯৭৩-১৯৭৪ মনিরুল হক চৌধুরী – শফিউল আলম প্রধান (বহিষ্কৃত), মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন

১৯৭৬-১৯৭৭ এম এ আউয়াল (আহবায়ক)

১৯৭৭-১৯৮১ ওবায়েদুল কাদের – বাহালুল মজনুন চুন্নু

১৯৮১-১৯৮৩ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন – খ ম জাহাঙ্গীর

১৯৮৩-১৯৮৫ আব্দুল মান্নান – জাহাঙ্গীর কবির নানক

১৯৮৬-১৯৮৮ সুলতান মোহাম্মাদ মন্সুর – মোঃ আব্দুর রহমান

১৯৮৮-১৯৯২ হাবিবুর রহমান (বহিষ্কৃত), শাহে আলম (কার্যকরী) – আসীম কুমার উকিল

১৯৯২-১৯৯৪ মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী – ইকবালুর রহিম

১৯৯৪-১৯৯৮ এ কে এম এনামুল হক শামীম – ইসহাক আলী খাঁ পান্না

১৯৯৮-২০০২ বাহাদুর বেপারী – অজয় কর খোকন

২০০২-২০০৬ লিয়াকত সিকদার – নজরুল ইসলাম বাবু

২০০৬-২০১১ মাহমুদ হাসান রিপন – মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন

২০১১-২০১৫ এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ – সিদ্দিকী নাজমুল আলম

ছাত্রলীগ : সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের নাম ও মেয়াদকাল

বাড়ী/অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র (নমুনা)

বাড়ী/অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র (নমুনা)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

“মাসিক উচ্ছেদযোগ্য বাড়ী/অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র দলিল”

১ম পক্ষ                    : বাড়ীর মালিক
নাম                            : মোঃ হারুনুর রশীদ
পিতার নাম                 : মৃত কোববাত মিয়া
ঠিকানা                      : বাড়ী নং ……………….
মোবাইল                   :……………………

জাতীয় পরিচয়পত্র নং  : ……………………
২য় পক্ষ                     : ভাড়াটিয়া
নাম                           : dokan.কম, প্রোপাইটর, করিম মিয়া
পিতার নাম                ……………………
ঠিকানা                      : ………………
মোবাইল                : ০১…………।।

জাতীয় পরিচয়পত্র নং ………………

অফিস ভাড়ার চুক্তিনামা:

অদ্য ৩০ নভেম্বর ২০১৫ প্রথম পক্ষ  , বাড়ীর মলিক, জনাব  মোঃ হারুনুর রশীদ , পিতা মৃত কোববাত মিয়া, বাড়ী ন……………………………………………………মালিক  পক্ষ এবং দ্বিতীয় পক্ষ-ভাড়াটিয়।……………………………।
উভয়ে প্রথম পক্ষের অবস্থিত ৫.২৫ শতাংশ সম্পত্তির বাড়ী নং ………………………… তিনতলা  বাড়ীর দ্বিতীয় তলায় মোট ১৬৫০  বর্গফুটের ১৭ ফুট × ১৬ ফুট = ২৭২ বর্গফুট,  একরুমের রেডি বাস……………………………………………। এর নিমিত্তে ২য় পক্ষ ১ম পক্ষ হতে এক বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিচ্ছে।

অদ্য ৩০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখ স্বাক্ষীগনের সামনে উভয়  পক্ষ নিন্ম লিখিত শর্ত মোতাবেক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়।

১। ভাড়াকৃত অংশের পরিমাণ  ২৭২ বর্গফুট । তিনতলা  বাড়ীর দ্বিতীয় তলায়।
২। চুক্তিপত্রের মেয়াদ এক  বছর। এক  বছর পর উভয় পক্ষ সম্মত থাকলে এই চুক্তি পত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবেন অথবা নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন।
৩। ২য় পক্ষ ১ম পক্ষকে ১২০০০   হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করবেন যা প্রথমপক্ষের কাছে ৩ মাসের অগ্রিম বাবদ জমা থাকবে এবং দ্বিতীয় পক্ষ ঘর ছেড়ে দেয়ার তিন মাস আগে ভাড়া দেয়া এই টাকা সমন্বয় করা হবে। অথবা দ্বিতীয় পক্ষ এই টাকার পাওনাদার বলে বিবেচিত হবে।

৪। মাসিক ভাড়া ৪০০০ (চার হাজার) টাকা।

৫। ভাড়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে প্রদেয় হবে।
৬। অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল ২য় পক্ষ বহণ করবে।
৭। এছাড়া প্রয়োজনীয়  উন্নয়ন কাজ ২য় পক্ষের উপর বর্তাবে।
৮। ২য় পক্ষ উক্ত জমিতে কোনো রকম বেআইনি, অসামাজিক বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রম বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। তথাপি যদি আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ কিছু করে থাকে সেজন্য  ভাড়াটিয়ার পক্ষেই এর সকল দায়-দায়িত্ব বহন করবে।
৯। ২য় পক্ষ যেহেতু অনলাইন নিউজ পোর্টাল করবেন সেহেতু ১  বছরের মধ্যে ১ম পক্ষ এই ঘর ফেরত বা চুক্তি পত্রের বাতিলের চেষ্টা করবেন না। অবশ্য প্রথম পক্ষ যদি কোনো শর্ত ভঙ্গ করে সেক্ষেত্রে ৬ মাসের নোটিশে ২য় পক্ষকে ঘরছাড়া করার অধিকার প্রথম পক্ষের রয়েছে।
১০। কোনো কারণে ২য় পক্ষ ঘর ছেড়ে দিতে চাইলে তা ৩ মাস পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং এতে যদি অগ্রিমের টাকা প্রথম পক্ষের নিকট পাওনা থাকে তাহলে প্রথম পক্ষ তা যথাসম্ভব দ্রুত  সময়ের মধ্যে ২য় পক্ষকে পরিশোধ করবেন।

১১। জরুরী প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র বা অন্যকোন কারণে জমির দলিল বা অন্য কোন কাগজের কপি প্রয়োজন হয় তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রাসঙ্গিক ব্যাপারে প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।
১২। আপাতত ২য় পক্ষ ঘরটিতে যাবতীয় ডেকোরেশন করে নেবেন ।
১৩। পরবর্তীতে যদি প্রয়োজন হয় দ্বিতীয় পক্ষ  ব্যবসা বৃদ্ধি করলে বা বৈধ ব্যবসার জন্য কাউকে অংশীদার নিলে তাতে প্রথম  পক্ষের কোন আপত্তি থাকবেনা।
১৪। বাড়ীর মালিকানা ও অন্যান্য ব্যাপারে আইন গত অন্য কোন সমস্যা থাকলে এ ব্যাপারে ১ম পক্ষই দায়িত্বশীল বলিয়া বিবেচিত হবেন। তা কোনোভাবেই দ্বিতীয় পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত হবেনা।
১৫। অগ্রিম এর ১২০০০ (বারো  হাজার) টাকা প্রথম পক্ষকে দ্বিতীয় পক্ষ ঘরে উঠার আগেই বুঝিয়ে দেবেন।

১৬। দ্বিতীয় পক্ষ এর মূল নকশায় কোনো পরিবর্তন করতে পারবেন না।
১৭। এক  বছরকাল সময়ের মধ্যে মূল স্থাপনায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে কোনরূপ ক্ষতি সাধিত হলে তা প্রথম পক্ষই মেরামত করিবেন।
১৮। ছয় মাসের  মধ্যে প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে সরাতে চাইলে দ্বিতীয় পক্ষ যে পরিমান স্টাবলিশমেন্ট খরচ করবে তার ২০% প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে প্রদান করবে ।
১৯। এক  বছর সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় পক্ষ ভাড়া বা অগ্রিম বৃদ্ধি করতে পারবেন না।
২০। এক বছর পর ঊভয়পক্ষ চাইলে প্রতি বছর চুক্তিপত্র নবায়ন করা যাবে।
২১। আগামী ০১/১২/২০১৫ … তারিখ হতে এক বছর মেয়াদকাল শুরু হবে এবং তা আগামী ৩০/১১/২০১৬ তারিখ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এই মর্মে   প্রকাশ থাকে যে উভয় পক্ষ এবং স্বাক্ষীগন সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা স্বেচ্ছায়  স্বজ্ঞানে অন্যের বিনা প্ররোচনায় এই চুক্তিপত্রের সমুদয় শর্ত পড়ে বুঝে এই চুক্তিপত্রে অদ্য ৩০ নভেম্বর  ২০১৫, প্রথম পক্ষের বাড়ী –……………………………………………………………………।।এই ঠিকানায় বেলা ১০ ঘটিকার সময় স্বাক্ষর করেছেন।

স্বাক্ষরঃ
মালিক, ১ম পক্ষ:

ভাড়াটিয়া, ২য় পক্ষ:

স্বাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষরঃ
১। … … … … … … … … … …
২। … … … … … … … … … …
৩। … … … … … … … … … …
৪। … … … … … … … … … …

…………………………………………………………………………………………………………………………………

বি দ্রঃ ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প(১০০ টাকার তিনটি) এ ভাড়ার চুক্তিপত্র করতে হয়।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করার জন্য সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখি: বাহাউদ্দিন নাছিম

Kbd A F M Bahauddin Nasim MP - কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম) এমপি
Kbd A F M Bahauddin Nasim MP - কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম) এমপি

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করার জন্য সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখি: বাহাউদ্দিন নাছিম

আওয়ামী লীগের ২০ তম  জাতীয় সম্মেলনের দুই দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর আংশিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির আংশিক নাম ঘোষণা করেন। উক্ত কমিটিতে  সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কৃষিবিদ  আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

Kbd A F M Bahauddin Nasim MP - কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম) এমপি
Kbd A F M Bahauddin Nasim MP – কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম) এমপি

দুর্দিনে দলে ইতিবাচক ভূমিকার কারণে বাহাউদ্দিন নাছিম দলের সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কর্মীবান্ধব নেতা বলে দলে তার বিশেষ সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠনের মাধ্যমে তার মেধাবী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। আজ তাকে পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। পলিটিক্সনিউজ২৪.কম এর প্রকাশক, কৃষিবিদ সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলক এর  সাথে নানা বিষয়ে  কথা বলেন পুনঃনির্বাচিত কেন্দ্রীয়  সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি ।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার  অনুভূতি  জানতে চাইলে তিনি বলেন  “বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ আমাকে দলের সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আমার প্রাণের সংগঠন। যেখানেই যে অবস্থায় আছি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করার জন্য সবসময়  নিজেকে প্রস্তুত রাখি। দলের জন্য নিজেকে সবসময় উজাড় করে দিয়েছি এবং সবসময় দলের জন্যই কাজ করে যাবো”।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থেকে দলকে কিভাবে সেবা করবেন বলে ভাবছেন, জানতে চাইলে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “জীবনের প্রায় সবটুকু সময় দলকে দিয়েছি। সবসময় দলকে শক্তিশালী ও এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করেছি। ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে সাংগঠনিক ভাবে আরও বেশি শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাবো”।

আন্দোলন বিস্ফোরিত হলে ভেসে যাবে সরকার: রব

‘আন্দোলন কখনও ব্যর্থ হয় না’ দাবি করে জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আন্দোলন জমা থাকে, আন্দোলন কখনও হারিয়ে যায় না। আন্দোলন যখন বিস্ফোরিত হবে সেদিন ভেসে যাবেন।’

রবিবার (২৪ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান এর ১২তম মৃতবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে রব বলেন, ‘সময় আসছে, সুযোগ আসবে, সংগঠিত থাকুন, অপেক্ষা করুন। শুধু রাজনৈতিক দলের আন্দোলনে স্বৈরাচারকে উৎখাত করা যায় না। সমাজের রাষ্ট্রের সকল জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে স্বৈরাচারকে উৎখাত করতে হয়।’

সরকারের উদ্দেশ্যে জেএসডির সভাপতি আরও বলেন, ‘মনে করছেন এভাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তোর মাধ্যমে টিকে থাকবেন? এটা অসম্ভব। হিটলার নাই, মুসোলিনি নাই, ফেরাউন নাই, সাদ্দাম হোসেন নাই। আপনারাও থাকবেন না। ২০ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে সকল মামলা প্রত্যাহার করে জনগণ যেভাবে নিয়ে এসেছিলো খালেদা জিয়াকেও সেই একইভাবে কারাগার থেকে মুক্ত করবে জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল যে শিশুর জন্ম হবে তার মাথায় থাকবে ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ। এই হলো উন্নয়ন। ১৬ কোটি মানুষকে বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকা, তার উপর নাগিন নৃত্য করা বন্ধ করতে হবে।’

ডাকসুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত 8 বছরে ছাত্রদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে।’

স্মরণ সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে এত বড় ডাকাতি পুরো রাষ্ট্র মিলে করতে পারে? এরপর সাম্প্রতিক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনে কোনও জায়গাতেই মানুষ ভোট দিতে যায়নি।’

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন কি কোনও নির্বাচন হয়েছে? পুলিশ হয়তো সিল মারেনি, বিজিবি হয়তো সিল মারেনি, কিন্তু সিল মারা তো হয়েছে। চুরি করা ব্যালট বাক্স পাওয়া গেছে, সিল মারা ব্যালট বাক্সতো পাওয়া গেছে। তারপর সেই ডাকসুকে আবার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করে ডাকসুর ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘এখন নতুন একটা স্তম্ভ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষ যেন কথা বলতে না পারে এরকম অবস্থা তৈরি করে রেখেছে এই জুলুমের সরকার। মানুষের মধ্যে এখন এক ধরনের হতাশা। মানুষ আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে- ‘ভাই দেশের অবস্থা কী হবে? পাঁচ বছরও কি এমনই থাকবে’?’

টি এম গিয়াসউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নিতাই রায়, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খাইরুল কবির খোকন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ প্রমুখ।

কত শতাংশ ভোট পড়েছে তা ব্যাপার না : ইসি সচিব

নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়েছে তা কোন ব্যাপার না। তা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। বিষয়টি হলো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে। বললেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ।

আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, উপজেলা নির্বাচনে প্রথম ধাপে ৩৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৪১ শতাংশ পড়েছে। তৃতীয় ধাপে আমার আশা করছি ৪৫ শতাংশ হবে ভোট পড়বে।

সচিব সাংবাদিকেদের বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ভোটে আসেনি। অপরদিকে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না আসার জন্য তাদের প্রচার আছে। এসব আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল বিষয় হচ্ছে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে কি না সেটা দেখা। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।

বিএনপি না পারে মাঠে, না কোর্টে: তোফায়েল

তোফায়েল আহমেদ

বিএনপির রাজনীতি এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আজ বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ওদের নেত্রী জেলে ওরা কিছুই করতে পারেনি। না পারে কোর্টে, না পারে মাঠে।

আজ রোববার দুপুরে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সদর উপজেলা বাপ্তা ও কাচিয়া ইউনিয়নের আওয়মী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, একটা দলের প্রধান দুর্নীতি মামলার আসামি হয়ে জেলে। আরেকজন ভারপ্রাপ্ত, দেশে নেই। বিদেশে পালিয়ে আছেন। সে যদি নেতা হয়, সেই দলের অস্তিত্ব থাকে।

ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার নারী পুরুষ নেতাকর্মী অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার থেকে ভোলা আওয়মী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে ৫ দিনব্যাপী মতবিনিময় সভা শুরু হয়।

বিভিন্ন সংগঠনের আজ এবং আগামীদিনের কর্মসূচী

বিভিন্ন সংগঠনের আজ এবং আগামীদিনের কর্মসূচী

(প্রতিদিন রাত ১১ টার মধ্যে পরবর্তী দিনের কর্মসূচীর তথ্য  politicsnews24.com/events এ পাবেন। যেকোনো রাজনৈতিক/ অরাজনৈতিক কর্মসূচির তথ্য, সংবাদ, ছবি আমাদের পাঠান news.politicsnews24@gmail.com / ০১৭১১-৪৬০৬০১ এ )

২৫ মার্চ , সোমবার ,২০১৯

সংগঠন/নেতা-নেত্রী সময় ও স্থান কর্মসূচী 
 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এম.পি

 

বিকাল ৩.০০ টা গার্হস্থ্য অর্থনীতি
কলেজ, আজিমপুর

 

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের নবীন বরণ ও পরিচিতি অনুষ্ঠান

 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এম.পি

 

বেলা ২ টায় , শিক্ষা মন্ত্রানলয়ের  সম্মেলন কক্ষে

সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফ করবেন
 

শাজাহান খান এমপি

 

বিকাল ৪ টায় , শাহবাগ চত্বরে

 

আলোচনা সভা

 বাসদ  

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে

মিছিল অনুষ্ঠিত হবে
 

স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক

 

বিকাল ৪.০০ টা ,  শেখ হাসিনা
বার্ণ ইনস্টিটিউট চানখাঁরপুল

 

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন

 

ওয়ার্কার্স পার্টি

 

সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় জাতীয় প্রেস
ক্লাবের সামনে

 

শহীদদের স্মারণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন
অনুষ্ঠান

 

বিএনপি

 

বেলা ২-৩০টায় রাজধানীর রমনাস্থ ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ মিলনায়তনে

আলোচনা সভা
 

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, এমপি

 

সন্ধ্যা ৭ টা , ফার্মগেইট

 

২৫ মার্চ, ১৯৭১ প্রতিরোধের প্রথম ব্যারিকেড

 

মোহাম্মদ নাসিম এমপি

 

সোমবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

 

জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ ও গণহত্যায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে ১৪ দল

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক এমপি  

বিকাল ০৩.০০ টা , জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন, শাহবাগ

 

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা

২৬ মার্চ , মঙ্গলবার ,২০১৯

সংগঠন/নেতা-নেত্রী সময় ও স্থান কর্মসূচী 

২৭ মার্চ , বুধবার ,২০১৯

সংগঠন/নেতা-নেত্রী সময় ও স্থান কর্মসূচী 

 

আন্দোলন করে নয়, আইনি পথে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আন্দোলন করে নয়, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রাজশাহীতে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘রাজপথে লড়াই ও রক্ত ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়’- গত ২২ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে দেয়া এক বক্তব্যে এমন দাবি করেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

এর একদিন পরই গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতন্ত্র চিরস্থায়ীভাবে দেশ থেকে বিদায় করে দেয়ার লক্ষ্যেই বারবার যিনি গণতন্ত্রকে স্বৈরাচারের বন্দীশালা থেকে মুক্ত করেছেন সেই আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সোচ্চার আওয়াজ তুলতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় আদালতের রায়ে বেগম জিয়া কারাভোগ করছেন। এখানে সরকারের কোনও হাত নেই। আর খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতই পারে মুক্তি দিতে। এখানে আন্দোলন করে কোনও লাভ নেই।’

দেশে এখন আর প্রতিহিংসার রাজনীতি হয় না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, যা বিএনপি কখনোই পারেনি।’

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের প্রয়োজনীয়তা থাকলে তা অবশ্যই স্থাপন করা হবে।’

এদিন রাজশাহীর আদালত চত্বরে অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময় আইনজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে ভবন নির্মাণে বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই তিন কোটি টাকা দেয়াসহ বার ভবনে গ্রন্থাগার স্থাপনের জন্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন আইনমন্ত্রী।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম, রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লোকমান আলী, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক প্রমুখ।

শেখ হাসিনা আ.লীগের মাজা ভেঙে ফেলেছেন: দুদু

জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

আওয়ামী লীগ বলতে দেশে কিছু নাই এমন দাবি করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘পুলিশ অফিসার, পুলিশ কমিশনার, এসি, ডিসিরা এখন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ শেষ।’

তিনি বলেন, ‘আমি লিখিত ভাবে দিতে পারি। যদি এই দেশে ফেয়ার নির্বাচন হয়, আগে তো ১০টি সিট দিতাম, এখন শেখ হাসিনার জেতাও কষ্ট হয়ে যাবে।আওয়ামী লীগের মাজা শেখ হাসিনা কি ভাবে ভেঙে ফেলেছেন। বিএনপির মাজা ভাঙেন নাই, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের মাজা ভেঙে ফেলেছেন।’

রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদাসহ দলের সকল কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচন ছাড়া প্রধানমন্ত্রী, গায়ের জোরের প্রধানমন্ত্রী সবকিছু দেখতে পারেন। ব্যাংক দেখতে পারেন, টাকা দেখতে পারেন, আত্মীয়দের দেখতে পারেন, বিএনপির নেতা-কর্মী‌দের কিভাবে জেলে ভরতে হয়, নির্যাতন করতে হয় তা দেখতে পারেন কিন্তু শিক্ষকদের যে সমস্যা তার নজরে আসে না। এমন একটা দেশে আমরা গত ১২ বছর ধরে বসবাস করছি। ভয়ঙ্কর বিপদ, সংকটময় এমন একটি দেশের নাম বাংলাদেশ।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৫ দিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা যারা মানুষ গড়ার কারিগর তারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কথা বলার চেষ্টা করছে। অথচ শিক্ষামন্ত্রী ১৫ থে‌কে হাত বা ১৫/২০ মিনিট দূরে থাকে। অথচ তিনি শিক্ষকদের কথা শুনছেন না।’

বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী উ‌ল্লেখ ক‌রে দুদু ব‌লেন, ‘তিনি আমার নেত্রী বলে বলছি না। বেগম জিয়া দে‌শের খুবই জন‌প্রিয় নেত্রী। শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় এবং তার মৃত্যুর পরে বেগম খালেদা জিয়া যে সুযোগ সুবিধা পেতেন তার সব কিছু ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন স্বৈরাচারী আইনের বিরুদ্ধে, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। তিনি ৯/১০ বছর আন্দোলন করেছেন। তার অনেক সহকর্মী এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে ছিল। কিন্তু তিনি একা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ে গেছেন আপোষ করেননি। যে কারণে তিনি আপোষহীন নেত্রী। তিনি গণতন্ত্রের কথা বলেছিলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় প্রায় দেড় বছর ধরে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।’

দুদু বলেন, ‘দেশনেতা তারেক রহমানের নামে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সেই মামলার প্রথম রায় বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের সাজানো বুদ্ধিতে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।’

নির্বাচন করে এই সরকার ক্ষমতায় আসে নাই মন্তব্য ক‌রে বিএনপির এই নেতা ব‌লেন, ‘নির্বাচন কি জিনিস ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমলে মানুষ ‌দে‌খে‌ছে। আর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন নামে তামাশা এর আগে কোনো সরকারে আমলে মানুষ দেখেনি। নির্বাচন নিয়ে তামাশা হানাদার বাহিনী, পাকিস্তানি বাহিনী, ব্রিটিশ বা‌হিনীর কেউ পারেনি। কিন্তু শেখ হাসিনা পেরেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বিএনপি করি আমাদেরকে এস‌বের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বেগম জিয়াকে সারা জীবন জেলে রাখবে এটা সম্ভব না, কোনোকালেই সম্ভব না। সাময়িকভাবে আটকে রাখতে পারেন। তিনি বের হবেন, শুধু বের হবেন না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। যেমন গতবার করেছেন।‌ বের হ‌য়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। এবং রাস্তার় হত্যা বন্ধ হবে, আইনের শাসন নাই বলেই রাস্তায় এতো হত্যা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শাসন নাই বলে শিক্ষকরা ভোট চুরির দায়ে মেয়েদের কাছে অপমাণিত হয়ে এখনও শিক্ষকতা করছে।’

দুদু বলেন, ‘যে পার্লামেন্টের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল। সেই পার্লামেন্ট এখন দুর্নীতির প্রতীক। পার্লামেন্টে বর্তমানে যারা আছেন তাদের বউরাও তাদের দিকে যখন তাকায় ম‌নে হয় বলে এই চোরটা আবার ঘরে এসেছে। এ পার্লামেন্টে যারা সদস্য আছে তাদের ছেলে-মেয়েরা যখন তার বাবার দিকে তাকায় আমার মনে হয় তারা বলে এই চোরটা আবার ঘরে আসলো। এই পার্লামেন্ট বঙ্গভবন, গণভবনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।’

আন্দোলন বলে কয়ে আসে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আইয়ুব খানও বুঝে নাই, এরশাদও এক সপ্তাহ আগে বুঝে নাই তার পতন হবে। শেখ হাসিনাও এখন বুঝতেছেন না। হঠাৎ করে দেখবেন তার পতন হয়ে গেছে। দেশের সব জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে। এটা হবে দেশের তৃতীয় গণঅভ্যুত্থান।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নাই। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান আছেন। বিএনপি আছে, দেশের মানুষ তাদের ওপর ভরসা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের যুগগ্ম-আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন মাস্টার, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আকতার হোসেন বাচ্চু, আজম খান, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার প্রমুখ।

‘যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ এমপিওভুক্তির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

দীপু মনি

আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ‘যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো’ এমপিওভুক্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য যাচাই-বাছাই শুরু করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

আজ রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কর্মসূচিতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এসব শিক্ষকদের সঙ্গে রয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরাও।

এমপিওভুক্তির দাবিতে কয়েক বছর ধরেই এ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষকরা। এর আগে গত বছরেও দাবি আদায়ে ১৭দিন অনশন করেছিলেন তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন এমপিওর বাইরে থাকা এসব শিক্ষক-কর্মচারীরা।

দৌলতপুরে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আটক, ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ২৭ নম্বর ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকে সিল মারার অভিযোগে কেন্দ্রটির সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জিয়নপুর খাঁ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। আটক ওই কর্মকর্তার নাম রুহুল আমিন। তিনি দৌলতপুরের খোর্দ ছাতিয়ান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোমিন জানান, ওই কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিঁড়ে নৌকা প্রতিকে ভোট দেয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসলে তারা তাকে আটক করে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানায়। পরে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তাকে আটক করা হয়।

এদিকে ভোট কারচুপির অভিযোগে ওই উপজেলার আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদের ও আমিনুর রহমান ভোট বর্জন করেছেন। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ভোট বর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অপরদিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মত্ত সরকারী প্রাথমিক বালক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ইভিএম মেশিনের যান্ত্রিক সমস্যা থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি। পরে সেনা সদস্যরা মেশিনটি ঠিক করলে বেলা ১০টা ২০ মিনিট থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করা হয় বলে জানিয়েছেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবু বকর সিদ্দিক।

এছাড়া মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আরও ৪/৫টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। পরে অবশ্য তা ঠিক করে ভোটগ্রহণ শুরু করা হয় বলে জানা যায়।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন সরদার বলেন, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইভিএম মেশিন সঠিকভাবে অপারেটিং করতে না পারার কারণে শুরুতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল।

‘ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কেউ নেই’

শেখ হাসিনা চিরকাল প্রধানমন্ত্রী থাকার স্বপ্ন দেখছেন বলে এমন প্রহসনের নির্বাচন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ রোববার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, ‘ভোটারবিহীন নির্বাচন করছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ছাড়া ভোট কেন্দ্রে আর কোনো লোকজন আছে বলে আমার মনে হয়নি। এর আগে যে দু’দফা নির্বাচন হয়েছে, সেখানেও দেখা যায়নি।’

এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, ‘ভোটারবিহীন নির্বাচন করতেই তো আসলে “আপনাকে” প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে।’

ভোটারবিহীন নির্বাচনে সিইসি আনন্দিত কিনা সে বিষয়েও জানাতে তার প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

কয়রায় নৌকার পক্ষে ছাত্রলীগ ও তরুণ প্রজন্মের গনসংযোগকালে জনতার ঢল

কয়রায় নৌকার পক্ষে ছাত্রলীগ ও তরুণ প্রজন্মের গনসংযোগকালে জনতার ঢল

উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুপার সিলেকশনকে সম্মান জানিয়ে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী কয়রা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জি এম মোহসিন রেজা এবং নৌকার পক্ষে জেলা ছাত্রলীগ নেতা মো: শরিফুল ইসলাম টিংকুর ডাকে সারা দিয়েছেন হাজার হাজার ছাত্র জনতা।

জেলা ছাত্রলীগ নেতা মো: শরিফুল ইসলাম টিংকু, সাহেক বাগালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক এস এম রাসেল ও ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলামের এর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত হাজারো সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মী ও সাধারণ তরুণর প্রজন্ম ২২/০৩/১৯ শুক্রবার বিকাল ৪টায় জি এম মোহসিন রেজার (নৌকার) পক্ষে কয়রা সদরে গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। এসময় ছাত্রলীগ নেতা ও তরুণরা কয়রা উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ কয়রা সদর ও তার আশপাশের অলিগলিতে সহস্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক গণসংযোগ ও পথসভা করেন।

গণসংযোগকালে পথ সভায় জেলা ছাত্রলীগনেতা শরিফুল ইসলাম টিংকু বলেন,

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার দেশকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভাবে সমৃদ্ধি করেছে।যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে ধাবিত হচ্ছে , আওয়ামীলীগ সরকার উন্নয়নে বিশ্বাস করে, তাই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আপনারা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালবেসে, গত ৩০শে ডিসেম্বর ব্যাপক ভোটে বিজয়ী করেছেন।সেই সাথে তিনি আগামী ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাচনে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুপার সিলেকশন নৌকার প্রার্থীকে ভোটে বিজয়ী করে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী ও কয়রার উন্নয়ন করতে সকলের কাছে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করেন।

তিনি আরও বলেন আমি একজন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে এবং আমি আপনাদের সন্তান,ভাই,বন্ধুর হিসেবে আপনাদের কাছে আপনাদের মূল্যবান ভোটটি নৌকা জন্য চেয়ে গেলাম। টিংকু বলেন শিক্ষা,শান্তি,প্রগতির ধারক ও বাহক হিসেবে আজ সময় এসেছে ছাত্রলীগের দক্ষতা প্রমাণ করার। গুজব থেকে সাধারণ জনগণকে মুক্ত করে সত্য জানানো। টিংকু বলেন শিক্ষা,শান্তি,প্রগতির ধারক ও বাহক হিসেবে আজ সময় এসেছে ছাত্রলীগের দক্ষতা প্রমাণ করার। গুজব থেকে সাধারণ জনগণকে মুক্ত করে সত্য জানানো।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ আহবায়ক ইমদাদুল হক টিটু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন ইসলাম,কপোতাক্ষ কলেজ ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু ছাত্রপরিষদ সভাপতি ইসমাইল হোসেন,ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান, ছাত্রনেতা মুকুল, আছাদ, সাইফুল ,বিল্লাল, বিল্লু, ইনামুল হুসাইন রবিন ,দেলোয়ার, রিজভী, জামাল, শান্তু, কবি নজরুল সৃস্তী সংঘের  সভাপতি ফারূক হুসাইন,খোকন, ছলেমান, ওবায়দুল্লা, মামুন,শাহিন,নিতিশ প্রমুখ। সকলেই বলেন, যে নৌকা বঙ্গবন্ধুর, যে নৌকা শেখ হাসিনা দিয়েছেন ,সে নৌকার সম্মান রাখার দায়িত্ব প্রতিটা ছাত্রলীগের কর্মীদের। তাই ব্যক্তি রাজনীতি ও স্বার্থের রাজনীতি না করে মান অভিমান ভুলে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে ও নৌকার সম্মান রক্ষা করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তরুণ সমাজ ও ছাত্রলীগ নেতারা। বক্তারা বর্তমান সরকারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে কথা তুলে ধরে ,উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও কয়রার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী জিএম মোহসিন রেজার বিকল্প নেই একাত্মতা ঘোষণা করে জিএম মোহসিন রেজার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। সকল পথসভা পরিচালনা করেন সাবেক শ্রমিকলীগ এর দপ্তর সম্পাদক আসাফুর রহমান।

পরিবহন খাতে নৈরাজ্যের কারণ সুশাসনের অভাব : ড. কামাল

পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে এবং যথাযথভাবে আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে নৈরাজ্যের প্রধান কারণ হলো সুশাসনের অভাব। সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে নিরপেক্ষতা ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি।

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল এসব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে শুধু দুর্নীতিই ছড়ায় না, আইনের প্রতি মানুষকে উদাসীনও করে তোলে। এতে করে দেশের সামগ্রিক আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবহন খাতসহ সব ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।’

গণফোরাম সভাপতি আরও বলেন, ‘পুলিশকে অবশ্যই আইনের প্রয়োগ করতে হবে, যাতে করে প্রকৃত লক্ষ্য বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু পুলিশ যদি কারো দ্বারা প্রভাবিত হয় তাহলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং আইনের শাসন থেকে দূরে চলে যাবে।’

জনপ্রিয়

গরম খবর