বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮
Home Blog

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ-কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ - Awami SechchaSebok League
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ - Awami SechchaSebok League

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ-কেন্দ্রীয় কমিটি

 

জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার ইতিকথা

Politics News Bangladesh
Politics News Bangladesh, Politics Based Online NewsPortal PoliticsNews24.com

জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা

১৯৮৬ সালের পয়লা জানুয়ারি জাতীয় ফ্রন্টের ধানমন্ডিস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। জাতীয় ফ্রন্টের ৫টি শরিক দল একত্রিত হয়ে জাতীয় পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। নবগঠিত পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং মহাসচিব নিযুক্ত হন অধ্যাপক এমএ মতিন। পার্টির কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত-জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আনোয়ার জাহিদ। সাংবাদিক সম্মেলনে ফ্রন্টের শরিক দল জনদল, ইউপিপি, গণতান্ত্রিক পার্টি, বিএনপি (শাহ) মুসলিম লীগ (সা) নিজেদের অস্থিত্ব বিলুপ্ত ঘোষণা করে জাতীয় পার্টিতে একীভূত হয়। ওই দিনটি ছিলো প্রকাশ্য রাজনীতি শুর“র প্রথম দিন।

১৯৮৫ সালের ১৬ই আগস্ট রাষ্ট্রপতি এরশাদের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় ফ্রন্ট গঠিত হয়েছিলো। রাজনৈতিক দলের বাইরেও অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতা ফ্রন্টে যোগ দিয়েছিলেন। জাতীয় পার্টি গঠনের ঘোষণার দিনে তারাও জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। পার্টি গঠনের ঘোষণায় বলা হয় দেশের সকল গণতন্ত্রকামী জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তিগুলোর বিভক্তির প্রবণতা কাটিয়ে একটি একক রাজনৈতিক দলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে জাতীয় পার্টি গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টি গঠনের ঘোষণার দিনে প্রথমে ২১ সদস্যের প্রেসিডিয়াম, ৫৭ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটিসহ ৬০১ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রথম দিনে ২১ সদস্যের প্রেসিডিয়ামের মধ্যে ১৮ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এরা হলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, মওদদ আহমেদ, কাজী জাফর আহমেদ, সিরাজুল হোসেন খান, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ ভোলা মিয়া, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরী, এম কোরবান আলী, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, একেএম মাঈদুল ইসলাম, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আমিনুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন আবদুল হামিদ চৌধুরী, শামসুল হুদা চৌধুরী, এমএ সাত্তার ও বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম। নবগঠিত কমিটিতে ৩ জন যুগ্ম মহাসচিব নিয়োগের ঘোষণা করা হয়। এরা ছিলেন, সফিকুল গণি স্বপন, মোস্তোফা জামাল হায়দার এবং লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম।

জাতীয় পার্টি ঘোষণার দিনে ৫৭ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটির নামও ঘোষণা করা হয়। ৫৭ সদস্যের মধ্যে ছিলেন : প্রফেসর এমএ মতিন, আনোয়ার জাহিদ, শফিকুল গনি স্বপন, লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম, সুনীল গুপ্ত, মোস্তোফা জামাল হায়দার, মাইনুদ্দিন ভূঁইয়া, জিয়াউদ্দিন বাবলু, মেজবাহউদ্দিন বাবলু, শেখ শহীদুল ইসলাম, মিসেস মমতা ওহাব, প্রফেসর ইউসুফ আলী, শামসুল হক, কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারউল­াহ, উপেন্দ্রলাল চাকমা, কামর“ন্নাহার জাফর, ব্যারিস্টার আবদুল হক, এসএ খালেক, জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, নাজিমুদ্দিন আল আজাদ, মাহবুবুল হক দোলন, মনির“ল হক চৌধুরী, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ খান, এনামুল করীম শহীদ, অধ্যাপক আবদুস সালাম, ডা. মনসুর আলী, র“হুল আমিন হাওলাদার, পলাশ আনোয়ার মতি, অ্যাড ফয়েজ, সেকেন্দার মিয়া, শামসুজ্জামান মিন্টু, খুররম খান চৌধুরী, হাসিম উদ্দিন আহমেদ, এসবি জামান, আশরাফ আলী খান, মামদুদ চৌধুরী, নুর“ন্নবি চাঁদ, আবুল খায়ের চৌধুরী, রেদোয়ানুল হক চৌধুরী (ইদু), ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কাজী মুজিবুর রহমান, ব্যারিস্টার জামাল হোসেন ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল হক চৌধুরী, আবদুর রহীম আজাদ, বুলবুল খান মাহবুব, হার“নুর রশীদ, খালেদুর রহমান টিটো, আসগর আলী, একরামুর রসুল, কেজি করিজন আলী, নূর রহমান খান শাজো, আদিলউদ্দিন হাওলাদার, সরদার সুলতান মাহমুদ, আবদুল আলী বুলবুল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মহসীন ও সাইফুদ্দিন আহমদ।

জাতীয় পার্টির গঠনের ঘোষণাকালে সামরিক শাসন থেকে সাংবিধানিক শাসনে উত্তরণের পরিবেশ অধিকতর উন্নত করার জন্য পার্টির ৫টি আশু কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়। সেগুলো ছিলো : (১) স্থগিত সংবিধানের সংশি­ষ্ট ধারাসমূহের ভিত্তিতে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নির্বাচনসমূহ অনুষ্ঠান (২) নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সামরিক আইনের অবসান এবং স্থগিত সংবিধান পরিপূর্ণরূপে পুনর“জ্জীবন (৩) অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্বাচনের পূর্বে সামরিক আইন সংকোচন ও সামরিক আদালত, সামরিক ট্রইব্যুনাল প্রত্যাহার (৪) নির্বাচনের আগে ক্রমান্বয়ে স্থগিত সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার সংক্রান্ত— ধারাসমূহ পুনর্বহাল এবং (৫) রাজনৈতিক আটক সকল দেশপ্রেমিক বন্দির মুক্তি দান।

বিএনপির দলীয় সঙ্গীত – প্রথম বাংলাদেশ

বিএনপির দলীয় সঙ্গীত – প্রথম বাংলাদেশ

শিল্পী: শাহনাজ রহমতুল্লাহ, সুরকার: আলাউদ্দিন আলী
প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ,
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ,
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।।

আমার আঙিনায় ছড়ানো-বিছানো,
সোনা সোনা ধূলিকণা,
মাটির মমতায় ঘাস-ফসলে,
সবুজের আল্পনা,
আমার তাতেই হয়েছে
স্বপ্নের বীজ বোনা।।

অরূপ জোছনায়, সাজানো-রাঙানো
ঝিলিমিলি চাঁদ দোলে
নিবিড় বনছায়, পিউ-পাপিয়া
হৃদয়ের দ্বার খোলে,
আমার তাতেই রেখেছি
শান্তির দ্বীপ জ্বেলে।।

জনগন কাজের মূল্যায়ন করবে: তালুকদার আব্দুল খালেক

আগামী ১৫ই মে  খুলনা সিটিতে দলীয় প্রতীকে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। দম ফেলারও ফুসরত নেই তাদের। খুলনায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। ১৯৫২ সালের পহেলা জুন মল্লিকের বেড়, রামপাল উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করা রাজনৈতিক বিজ্ঞ ও প্রবীন এই নেতা আগামী সিটি নির্বাচন, সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে পলিটিক্স নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন। কথা বলেছেন আমাদের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলকের সাথে।

পলিটিক্স নিউজ: মনোনয়ন না চেয়েও মনোনয়ন পেলেন, অনুভূতি কেমন?

তালুকদার আব্দুল খালেক: অনুভূতি অবশ্যই ভালো। এর আগে আমি পৌরসভা কমিশনার ছিলাম । জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলাম। ২০০৫ সাল থেকে দুই টার্ম মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি , ২০০৮ সালে নির্বাচিত মেয়র। এখন নেত্রীর নির্দেশে নির্বাচন করছি।

পলিটিক্স নিউজ : আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে প্রায় ৯ বছর। ধারণা করা হয় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ে। নির্বাচনে এটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে কিনা?

তালুকদার আব্দুল খালেক: গত ৫ বছর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এখানের মেয়র ছিলেন, তার আগে আমি ছিলাম।আমি একটা জিনিস বুঝি, জনগন কাজের মূল্যায়ন করে। এখানে গত পাঁচ বছর কী কাজ হয়েছে আর আমার সময় কী কাজ হয়েছে অবশ্যই জনগণ তা মূলয়ণ করবে। জনগণ অবশ্য যাচাই বাছাই করবে। আর আমি স্পষ্ট বুঝি জনগণ কাজ চায়।এখানকার জনগণ আগে কেমন ছিল, এখন কেমন আছে , এটি অবশই তারা মনে রাখবে । জনগণ যেহেতু পরিবর্তন চাইবে সেই তালিকায় আমিই বেশী জনপ্রিয় হবো…

পলিটিক্স নিউজ: মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম টার্গেট কি থাকবে?

তালুকদার আব্দুল খালেক: জলবদ্ধতা সমস্যা নিরসন। এর আগে আমি ২২ টা খাল উদ্ধার করেছিলাম। সে কাজটা দৃশ্যমান করতে পারিনি। পানি নিষ্কাশনসহ মৌলিক সমস্যা সমাধান করতে হবে ।

পলিটিক্স নিউজ: বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। এতে তার প্রতি জনগণের সহানুভূতি কিংবা ভোটব্যাঙ্ক ভারী হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা?

তালুকদার আব্দুল খালেক: আসলে রাজনৈতিক কারণে যদি কেউ গ্রেফতার হয় সেখানে সহানুভূতির প্রশ্ন আসতে পারে। আর দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলে সাধারণ মানুষের বিন্দুমাত্র সহানুভূতি থাকবে বলে আমার মনে হয় না । ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমার নামে ১৪টা মামলা দিয়েছিল। আমি পরিস্কার ছিলাম, আমাকে নিয়ে যে অভিযোগ ছিলো তার সাথে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না । সাত বছর কোর্টের বারান্দায় গিয়ে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমি খালাশ পেয়েছি।

পলিটিক্স নিউজ: সংসদ সদস্য পদ ছাড়লে আপনার আসনে আগামীতে কাকে দেখতে চান?

তালুকদার আব্দুল খালেক: আগে যে ছিলো (আমার স্ত্রী) সেই পারবে আমার অবর্তমানে তা ধরে রাখতে । তারতো একটা জনপ্রিয়তা আছে, অভিজ্ঞতা আছে।

পলিটিক্স নিউজ:খুলনায় সিনিয়র নেতৃত্ব কম, এটাকে নেতৃত্বর শূন্যতা বলা যায়?
তালুকদার আব্দুল খালেক: আমাদের এখন থানা জেলা পর্যায়ে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। আগামীতেও তরুণরাই নেতৃত্বে থাকবে । কিছুটা শুণ্যতা থাকলেও আগামিতে অবশ্যই পূরণ হয়ে যাবে ।

পলিটিক্স নিউজ: ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।

তালুকদার আব্দুল খালেক: আপনাকেও ধন্যবাদ ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্ব পুরুষ পরিচিতি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্ব পুরুষ পরিচিতি 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব।

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, কি কি ছিল?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, কি কি ছিল?

ছয় দফা আন্দোলন  বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৬৬ সালে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি পেশ করেন। ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য- পাকিস্তান হবে একটি Federal বা যৌথরাষ্ট্র এবং ছয় দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে এই Federation বা যৌথরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। পরবর্তীতে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার করা হয়।

ছয় দফা দাবি-এর দাবিগুলো নিম্নরূপ:

  • প্রথম দফা : সরকারের বৈশিষ্ট হবে Federal বা যৌথরাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় পদ্ধতির; তাতে যৌথরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচন হবে প্রত্যক্ষ এবং সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার প্রতিনিধি নির্বাচন জনসংখ্যারভিত্তিতে হবে।
  • দ্বিতীয় দফা : কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব থাকবে কেবল প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় এবং তৃতীয় দফায় ব্যবস্থিত শর্তসাপেক্ষ বিষয়।
  • তৃতীয় দফা : পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক মুদ্রা-ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা পারস্পরিকভাবে কিংবা অবাধে উভয় অঞ্চলে বিনিময় করা চলবে। অথবা এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি মুদ্রা-ব্যবস্থা চালু থাকতে পারে এই শর্তে যে, একটি কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার অধীনে দুই অঞ্চলে দুটি রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে। তাতে এমন বিধান থাকতে হবে যেন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সম্পদ হস্তান্তর কিংবা মূলধন পাচার হতে না পারে।
  • চতুর্থ দফা : রাজস্ব ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় রাজস্বের যোগান দেয়া হবে। সংবিধানে নির্দেশিত বিধানের বলে রাজস্বের এই নির্ধারিত অংশ স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে জমা হয়ে যাবে। এহেন সাংবিধানিক বিধানে এমন নিশ্চয়তা থাকবে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্বের প্রয়োজন মেটানোর ব্যাপারটি এমন একটি লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে যেন রাজস্বনীতির উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিশ্চিতভাবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকে।
  • পঞ্চম দফা : যৌথরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে, সেই অঙ্গরাজ্যের সরকার যাতে স্বীয় নিয়ণ্ত্রনাধীনে তার পৃথক হিসাব রাখতে পারে, সংবিধানে সেরূপ বিধান থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে, সংবিধান নির্দেশিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত অনুপাতের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে তা আদায় করা হবে। সংবিধান নির্দেশিত বিধানানুযায়ী দেশের বৈদেশিক নীতির কাঠামোর মধ্যে, যার দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্য সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক সরকারগুলোর হাতে থাকবে।
  • ষষ্ঠ দফা : ফলপ্রসূভাবে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কাজে সাহায্যের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে মিলিশিয়া বা আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। অবিভক্ত পাকিস্তানের সর্বপ্রথম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ । এটি ভারত বিভক্তিক্রমে পূর্ব পাকিস্তানের  উদ্ভবের কিছু পর গঠিত হয়। ছাত্রলীগ  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পরিচিত। ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটির জন্ম আওয়ামী লীগের এক বছর আগে। [ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস ]

শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া, জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ সংগঠন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ অতিক্রম করেছে পথচলার ৬৮ বছর।

ছাত্রলীগের  প্রতিষ্ঠাতা  জাতির জনক বঙ্গবন্ধুঃ

৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাজপথে ছিলেন সদা সোচ্চার। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘটে তিনি ও কয়েকজন সহকর্মীসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলন জোরালো করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল প্রণিধানযোগ্য।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় অগ্রণী ভূমিকা  পালন করে।  ১৯৬২ সালে তৎকালীন আইয়ুব খান সরকার কর্তৃক গঠিত শরিফ কমিশন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্য ও স্বার্থের অনুকূলে একটি গণবিরোধী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিল। সেই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গণআন্দোলন ও গণজাগরণ তৈরি করে। সেই বাষট্টির রক্তঝরা দিনগুলোতে রক্ত ঝরেছে অসংখ্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর।

১৯৬৬ সালে বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সনদ ছয় দফা বাস্তবায়নে শেখ মুজিবুর রহমান আস্থা রেখেছিলেন তরুণ ছাত্রনেতাদের ওপর। তিনি সে সময়কার ছাত্রনেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, জেলায় জেলায় অবস্থান সুদৃঢ় করে ছয় দফার সপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সারা বাংলার মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ৬ দফা দাবির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছিল রাজপথের প্রমিথিউস। ছয় দফা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে বিভেদ ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে ছাত্রলীগের শক্ত অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত এ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সেদিন আওয়ামী লীগের বৈঠকের বাইরে কঠোর পাহারা বসাতে হয়েছিল ছাত্রলীগের কর্মীদেরই।

১৯৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুস জয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে  গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন।   একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের দীর্ঘ পথচলায় ছাত্রলীগ হারিয়েছে তার সহস্র্রাধিক নেতাকর্মীকে।

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের সমাবেশে বলেছিলেন, ‘দানবের সঙ্গে লড়াইয়ে যে কোনো পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। ২৩ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি। প্রয়োজনবোধে বুকের রক্তগঙ্গা বইয়ে দেব। তবু সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বাংলার শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করব না।’ তাই তো মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রাণের সংগঠনের ১৭ হাজার বীর যোদ্ধা তাদের বুকের তাজা রক্তে এঁকেছেন লাল-সবুজের পতাকা, এঁকেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এক সার্বভৌম মানচিত্র। সেসব বীর যোদ্ধাই আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের শক্তি, আমাদের সাহস।

ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর মধ্যে আছে তরুণ মুজিবের নান্দনিকতা ও আদর্শ, আছে কাজী নজরুলের বাঁধ ভাঙার শৌর্য, আছে ক্ষুদিরামের প্রত্যয়, আছে সুকান্তের অবিচল চেতনা। তাই তো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষার অধিকার রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ সুরক্ষায় সবসময় মঙ্গলপ্রদীপের আলোকবর্তিকা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চার দিগন্তে।

যখন বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল, ঠিক তখনই বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটিকে নিভিয়ে দিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হিংস্র হায়েনারা আঘাত হানে। প্রত্যক্ষ মদদ দিলেন খন্দকার মোশতাক আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫-পরবর্তী বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশ যে কালো মেঘ গ্রাস করেছিল, সেই মেঘ সরাতে প্রত্যাশার সূর্য হাতে ১৯৮১ সালে প্রত্যাবর্তন করলেন আমাদের প্রাণের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সেদিন প্রিয় নেত্রীর পাশে ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮৩ সালে শিক্ষা আন্দোলন ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ১০ দফা তৈরিতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শিক্ষার অধিকার প্রসারে শামসুল হক ও অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর কমিশনের রিপোর্ট তৈরিতে ছাত্র সমাজের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ 

১৬ কোটি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনিপুণ কারিগর, বিশ্বজয়ী নেত্রী, বিশ্বশান্তির অগ্রদূত, নারীমুক্তির পথপ্রদর্শক দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি মোকাবেলায় পালন করেছে অগ্রণী ভূমিকা। সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনে তিনবেলা নিজ হাতে রুটি তৈরি করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সারারাত জেগে প্রস্তুত করেছেন খাবার স্যালাইন। সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালের বন্যাসহ সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একই কার্যক্রম নিয়ে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ছাত্রলীগ।

২০০২ সালের ২৩ জুলাই বিএনপির পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা গভীর রাতে শামসুন্নাহার হলে ঢুকে ছাত্রীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। ছাত্রলীগ সেদিন শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীদের সম্ভ্রমহানির হাত থেকে রক্ষা করে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বিতর্কিত সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে আটক আমাদের প্রিয় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে প্রথম সাহসী উচ্চারণ তুলেছিল বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের কর্মীরাই। [ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর  ইতিহাস ]

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজী নজরুলের কবিতার মতোই ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী; আর হাতে রণ তূর্য।’ আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পাঠদান কর্মসূচি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের চর্চা।

১৯৭৩ সালের ৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানকে বেটে খাওয়ালেও বাংলা সোনার বাংলা হবে না, যদি বাংলাদেশের ছেলে আপনারা সোনার বাংলার সোনার মানুষ পয়দা করতে না পারেন।’ তাই তো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর ব্রত সোনার মানুষ হওয়ার।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার সোনালি অতীতের মতো সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়বে। আর সে জন্যই দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখছেন। ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নে প্রযুক্তি দক্ষ ছাত্রসমাজ তৈরিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজ করছে ও করবে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ১৯ দফা দাবি পেশ করেছে। ভবিষ্যতেও ছাত্রলীগ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ শিক্ষাসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তাকল্পে কাজ করবে।

নবীনদের মেধা দেশ গড়ার কাজে লাগুক, স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে বিধৌত হোক নতুন প্রজন্মের বিবেক ও চেতনা। অনাগত প্রজন্মের লড়াই হোক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে, সব অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে, দেশগড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

 সৌজন্যেঃ ছাত্রলীগ ওয়েবসাইট

যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়গণের নাম ও মেয়াদকাল

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়গণের নাম ও মেয়াদকাল

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League ) বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন।

আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা  অর্থাৎ সকল ধর্মের  মানুষের স্ব স্ব  ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল  অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত  যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়গণের নাম ও মেয়াদকাল

প্রথম কংগ্রেস–  ১৯৭৪ – চেয়ারম্যানঃ  শেখ ফজলুল হক মনি  , সাধারণ সম্পাদকঃ এডভোকেট সৈয়দ আহমেদ

দ্বিতীয় কংগ্রেস– ১৯৭৮ –   চেয়ারম্যানঃ  আমির হোসেন আমু , সাধারণ সম্পাদকঃ ফকির আব্দুর রাজ্জাক

তৃতীয় কংগ্রেস–  ১৯৮৬ – চেয়ারম্যানঃ   মোস্তফা মহসিন মন্টু , সাধারণ সম্পাদকঃ ফুলু সরকার

চতুর্থ কংগ্রেস– ১৯৯৬-  চেয়ারম্যানঃ শেখ ফজলুল করিম সেলিম , সাধারণ সম্পাদকঃ কাজী ইকবাল হোসেন

পঞ্চম কংগ্রেস– ২০০৩-২৪ জুলাই ২০০৯- চেয়ারম্যানঃ এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক,

২৪ জুলাই ২০০৯- ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানঃ মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী , ২০০৩ – সাধারণ সম্পাদকঃ   মির্জা আজম

ষষ্ঠ কংগ্রেস – ২০১২  – চেয়ারম্যানঃ   মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী , সাধারণ সম্পাদকঃ মোঃ হারুনুর রশীদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী

শেখ মুজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী 

১৯২০ঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে। খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।

১৯২৭ঃ ৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৪ঃ ১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে তার একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয় এবং চক্ষুরোগের কারণে তার লেখাপড়ার সাময়িক বিরতি ঘটে।

১৯৩৭ঃ চক্ষুরোগে চার বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পর শেখ মুজিব পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৮ঃ ১৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার  বিয়ে সম্পন্ন হয়। তারা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী।

১৯৩৯ঃ অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে এলে বঙ্গবন্ধু স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ত তা সারাবার জন্য ও ছাত্রাবাসের দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে তুলে ধরেন।

১৯৪০ঃ শেখ মুজিব নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং এক বছরের জন্য বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাকে গোপালগঞ্জ মুসলিম ডিফেন্স কমিটির সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়।

১৯৪২ঃএস.এস.সি পাস করেন। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে ভর্তি হন এবং বেকার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হয়। বঙ্গবন্ধু এই বছরেই পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন।

১৯৪৩ঃসক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

১৯৪৪ঃকুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কলকাতাস্থ ফরিদপুর বাসীদের একটি সংস্থা ‘ফরিদপুরস্থ’ ডিসট্রিক্ট এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৪৬ঃবঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।

১৯৪৭ঃকোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে কোলকাতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ তৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৮ঃঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন আইন পরিষদে ‘পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে’ বলে ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিক-ভাবে বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদ জানান। খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিব মুসলিম লীগের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কর্মতৎপরতা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেন।
২ মার্চ ভাষা প্রসঙ্গে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবμমে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেফতার
হন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারে সারাদেশে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। মুসলিম লীগ সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে বঙ্গবন্ধুসহ গ্রেফতারকৃত ছাত্র নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ১৫ মার্চ মুক্তি লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভের পর ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বঙ্গবন্ধু সভাপতিত্ব করেন। সভায় পুলিশ হামলা চালায়। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সভা থেকে বঙ্গবন্ধু ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান। ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৪৯ঃ
২১ জানুয়ারি শেখ মুজিব কারাগার থেকে মুক্তি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানান। কর্মচারীদের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে তাকে জরিমানা করে। তিনি এ অন্যায় নির্দেশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহি®কৃত হন। ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করার কারণে গ্রেপ্তার হন। ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন। জেল থেকে বেরিয়েই দেশে বিরাজমান প্রকট খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে থাকেন। সেপ্টেম্বরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন ও পরে মুক্তি লাভ করেন। ১১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবি করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আগমন উপলক্ষে আওয়ামী মুসলিম লীগ ভুখা মিছিল বের করে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবার জন্য ১৪ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবারে তাকে প্রায় দু বছর পাঁচ মাস জেলে আটক রাখা হয়।

১৯৫২ঃ
২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’। এর প্রতিবাদে বন্দি থাকা অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাজবন্দি মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ দাবিতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র সমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর শহীদ হন। বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে এক বিবৃতিতে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একটানা ১৭ দিন অনশন অব্যাহত রাখেন। জেলখানা থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়ে তাকে ঢাকা জেলখানা থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেল থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন। ডিসেম্বর মাসে তিনি “পিকিং”-এ বিশ্বশান্তি সম্মেলনে যোগদান করেন।

১৯৫৩ঃ
৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা হয়। এই লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

১৯৫৪ঃ
১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয়। ৩০ মে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন। ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

১৯৫৫ঃ
৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন।
২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৬ঃ
৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে খসড়া শাসনতন্ত্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। ১৪ জুলাই আওয়ামী লীগের সভায় প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বের বিরোধিতা করে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনেন বঙ্গবন্ধু। ৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে খাদ্যের দাবিতে ভুখা মিছিল বের করা হয়। চকবাজার এলাকায় পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে ৩ জন নিহত হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৫৭ঃ
সংগঠনকে সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে ৩০ মে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিব মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ৭ আগস্ট তিনি চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি সফর করেন।

১৯৫৮ঃ
৭ অক্টোবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হয়। প্রায় চৌদ্দ মাস জেলখানায় থাকার পর তাকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেলগেটেই গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬১
৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। সামরিক শাসন ও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এ সময়ই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য বিশিষ্ট ছাত্র নেতৃবৃন্দের দ্বারা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৬২ঃ
৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। ২ জুন চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন। ২৫ জুন বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দেন। ৫ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু লাহোর যান, এখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় মোর্চ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠিত হয়। অক্টোবর মাসে গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে সারা বাংলা সফর করেন।

১৯৬৩ঃ
সোহরাওয়ার্দী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে পরামর্শের জন্য লন্ডন যান। ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী বৈরুতে ইন্তেকাল করেন।

১৯৬৪ঃ
২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এই সভায় দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্বলিত প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। দাঙ্গার পর আইয়ুব বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন পূর্বে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৬৫ঃ
শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে মামলা দায়ের। এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন।

১৯৬৬ঃ
৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ। ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগ সফর শুরু করেন। এ সময় তাকে সিলেটে, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বার বার গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধু এ বছরের প্রথম তিন মাসে আট বার গ্রেফতার হন। ৮ মে নারায়ণগঞ্জে পাটকল শ্রমিকদের জনসভায় বক্তৃতা শেষে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। ৭ জুন বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটের সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়।

১৯৬৮ঃ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সি এস পি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেল গেট থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে আটক রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়।
১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের বিচার কার্য শুরু হয়।

১৯৬৯ঃ৫ জানুয়ারি ৬ দফাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। পরে ১৪৪ ধারা ও কার্ফু ভঙ্গ, পুলিশ-ইপিআর-এর গুলিবর্ষণ, বহু হতাহতের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিলে আইয়ুব সরকার ১ ফেব্রুয়ারি গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানায় এবং বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তিদান করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু প্যারোলে মুক্তিদান প্রত্যাখ্যান করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রায় ১০ লাখ ছাত্র জনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু রাওয়ালপিন্ডিতে আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের ৬ দফা ও ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, ‘গণ-অসন্তোষ নিরসনে ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।’ পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠী ও রাজনীতিবিদরা বঙ্গবন্ধুর দাবি অগ্রাহ্য করলে ১৩ মার্চ তিনি গোলটেবিল বৈঠক ত্যাগ করেন এবং ১৪ মার্চ ঢাকায় ফিরে আসেন। ২৫ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হন। ২৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু তিন সপ্তাহের সাংগঠনিক সফরে লন্ডন গমন করেন। ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।
১৯৭০ঃ
৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১ এপ্রিল আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ৬ দফার প্রসঙ্গ আওয়ামীলীগ কে নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু তার দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক পছন্দ করেন এবং ঢাকার ধোলাইখালে প্রথম নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ২৮ অক্টোবর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বেতার-টিভি ভাষণে ৬ দফা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানান। ১২ নভেম্বরের গোর্কিতে উপকূলীয় এলাকার ১০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটলে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে দুর্গত এলাকায় চলে যান এবং আর্ত-মানবতার প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের উদাসীনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি গোর্কি উপদ্রুত মানুষের ত্রাণের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে।

১৯৭১ঃ৩ জানুয়ারি রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যরা ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র রচনা এবং জনগণের প্রতি আনুগত্য থাকার শপথ গ্রহণ করেন। ৫ জানুয়ারি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে সর্বাধিক আসন লাভকারী পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনে তার সম্মতির কথা ঘোষণা করেন। জাতীয় পরিষদ এক বৈঠকে বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টারি দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২৮ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন। তিনদিন বৈঠকের পর আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায়। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভুট্টো ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে দুই প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলের প্রতি ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানান।
১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে জনাব ভুট্টোর দাবির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ভুট্টো সাহেবের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ক্ষমতা একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার মালিক এখন পূর্ব বাংলার জনগণ।’
১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দিলে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ২ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ৩ মার্চ সারা বাংলায় হরতাল পালিত হবার পর বঙ্গবন্ধু অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানান।
৭ মার্চ রেসকোর্সের জনসমুদ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা’। ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃঙ্খল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্। … প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।” শত্রু“র বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। একদিকে রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়ার নির্দেশ যেত অপরদিকে ধানমন্ডি ৩২ নং সড়ক থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ যেত, বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে চলতেন। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ, গাড়ি, শিল্প-কারখানা সবই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনেছে। ইয়াহিয়ার সব নির্দেশ অমান্য করে অসহযোগ আন্দোলনে বাংলার মানুষের সেই অভূতপূর্ব সাড়া ইতিহাসে বিরল ঘটনা। মূলত ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুই রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন। ১৬ মার্চ ঢাকায় ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়। আলোচনার জন্য জনাব ভুট্টো ও ঢাকায় আসেন। ২৪ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া-মুজিব-ভুট্টো আলোচনা হয়। ২৫ মার্চ আলোচনা ব্যর্থ হবার পর সন্ধ্যায় ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগ। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা রাইফেল সদর দফতর ও রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার। বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন :

“ This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh. Final victory is ours.”
[অনুবাদ : ‘সম্ভবতঃ এটাই আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যাই তোমাদের হাতে আছে তার দ্বারাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দখলদার সৈন্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে। যতক্ষণ না পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে, তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’] এই ঘোষণা বাংলাদেশের সর্বত্র ট্রান্সমিটারে প্রেরিত হয়।
এর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বাংলায় নিম্নলিখিত একটি ঘোষণা পাঠান ঃ
“পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আμমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রু দের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রু কে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।”
হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধা, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান বেতার যন্ত্র মারফত তাৎক্ষণিক-ভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় সারাদেশে পাঠানো হয়। রাতেই এই বার্তা পেয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর সেনানিবাসে বাঙালি জওয়ান ও অফিসাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা প্রচার করা হয় গভীর রাতে। স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার অপরাধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১-১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং ২৬ মার্চ তাকে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬শে মার্চ জেঃ ইয়াহিয়া এক ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে।
২৬ মার্চ চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ লাভ করে স্বাধীনতা। তার আগে ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের লায়ালপুর সামরিক
জেলে বঙ্গবন্ধুর গোপন বিচার করে তাকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণ বঙ্গবন্ধুর জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানায়। ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জনক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, কাজেই পাকিস্তানের কোন অধিকার নেই তাকে বন্দি করে রাখার। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বহু রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ করেছে।

১৯৭২ঃ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠান হয়। ৯ জানুয়ারি লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের সাথে সাক্ষাৎ হয়। লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লি−তে যাত্রা বিরতি করেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু বিমান বন্দর বন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে লক্ষ জনতার সমাবেশ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ভারত যান। ২৪ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে যান। ১২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ১ মে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ৩০ জুলাই লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর পিত্তকোষে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর লন্ডন থেকে তিনি জেনেভা যান। ১০ অক্টোবর বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরী’ পুরস্কারে ভূষিত করে। ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ (৭ মার্চ ১৯৭৩) ঘোষণা করেন। ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, মদ, জুয়া, ঘোড়দৌড়সহ সমস্ত ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড কার্যকর-ভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১০০০ প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ ৪০,০০০ প্রাথমিক স্কুল সরকারীকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণের জন্য নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ, বিনামূল্যে/ স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ,
পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্স এর প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালানো হয়। অতি অল্প সময়ে প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

১৯৭৩ঃজাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৯৩ আসন লাভ। ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ, সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ঐক্য-ফ্রন্ট গঠিত। ৬ সেপ্টেম্বর জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনের যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু আলজেরিয়া যান। ১৭ অক্টোবর তিনি জাপান সফর করেন।

১৯৭৪ঃ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি দান। ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গমন করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।

১৯৭৫ঃ ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ। ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন। বঙ্গবন্ধু ২৫ ফেব্রুয়ারি এই জাতীয় দলে যোগদানের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাঙালি জাতিকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তাই স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক নীতিমালাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজান। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের আহার, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্ল−বের কর্মসূচি ঘোষণা দেন যার লক্ষ্য ছিল- দুর্নীতি দমন; ক্ষেতে খামারে ও কলকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি; জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রগতি সাধিত করবার মানসে ৬ জুন বঙ্গবন্ধু সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে এক মঞ্চ তৈরি করেন, যার নাম দেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এই দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পান। অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। চোরাকারবারি বন্ধ হয়। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের μয় ক্ষমতার আওতায় চলে আসে। নতুন আশার উদ্দীপনা নিয়ে স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছিয়ে দেবার জন্য দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে। কিন্তু মানুষের সে সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয় না।
১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্চাভিলাষী অফিসার বিশ্বাস ঘাতকের হাতে নিহত হন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেঃ শেখ কামাল, পুত্র লেঃ শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নীপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভ্রাতুষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে ঘাতকরা হত্যা করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হবার পর দেশে সামরিক শাসন জারি হয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। শুরু হয় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। কেড়ে নেয়া হন জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার।
বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার জন্য হত্যাকারীদের বিচারের বিধান রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে জাতির জনকের আত্ম-স্বীকৃত খুনিদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেবার জন্য এক সামরিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে সংযুক্ত করে সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করে। খুনিদের বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদ কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে।
১৫ আগস্ট জাতির জীবনে একটি কলঙ্কময় দিন। এই দিবসটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে বাঙালি জাতি পালন করে।

সূত্র: জাতির জনক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, রাস্তা-৩২, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ইতিহাস

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ইতিহাস

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League ) বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন।

আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা  অর্থাৎ সকল ধর্মের  মানুষের স্ব স্ব  ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল  অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্য থেকে স্বাধীনতা ও প্রগতিকামী যুবক ও যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলাই যুবলীগের উদ্দেশ্য।   প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করে ।

যুবলীগের ওয়েবসাইট ঃ http://www.jlbd.org/

প্রতিবছর ১১ই নভেম্বর যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি  ও যুবলীগ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়।  আওয়ামী যুবলীগের  চেয়ারম্যান পদে  ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ হারুনুর রশিদ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।  ২০১২ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে  ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ হারুনুর রশিদ নির্বাচিত হন ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট,  যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি ও রেজাউল করিম রেজা এবং মহানগর উত্তরের সভাপতি পদে মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইসমাইল হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ইতিহাসের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সর্বপ্রথম প্রতিবাদ গড়তে গিয়ে যুবলীগ নেতা বগুড়ার খসরু, চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ জীবন দিয়েছেন । বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত নূর হোসেন ছিলেন যুবলীগ কর্মী।

দলিল শব্দের জানা অজানা সব তথ্য 

নানা কারণেই আমাদের বিভিন্ন সময়ে দলিল ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়। দলিলপত্র ঘাঁটার অভ্যাস নেই এমন লোকদের জন্য দলিলের ভাষা উদ্ধার করা সহজসাধ্য কাজ নয় কেননা, বাংলা দলিল কিংবা চুক্তিপত্রে অনেক শব্দ আছে, যেগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয় আবার এমন সব শব্দও আছে, যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তায় খুব কম হয়। কিংবা আমাদের সঙ্গে তাদের পরিচিতি কম। দলিলে ব্যবহৃত এ রকম কিছু শব্দের অর্থ ও ব্যুৎপত্তি নিচে দেওয়া হল।

শব্দের অর্থ সাং = সাকিন, সাকিম। সাকিন বা সাকিম শব্দের অর্থ ঠিকানা, বাসস্থান।
গং = অন্যরা, সমূহ। অমুক [ব্যক্তিনাম] ও অন্যান্য বা তার সহযোগীগণ। যেমন: যদি লেখা থাকে আবদুল কাদের গং, তাহলে বুঝতে হবে যে আবদুল কাদেরের সঙ্গে আরও অনেকে আছেন।
মোং = মোকাম। এর অর্থ আবাস, বাসস্থান হলেও মূলত বাণিজ্য স্থান বা বিক্রয়কেন্দ্র বোঝাতেই এটি ব্যবহূত হয়
কিঃ = দফা, বার, ক্ষেপ এই অর্থেও ব্যবহৃত হয়
এজমালি/ইজমালি = যৌথ, সংযুক্ত, বহুজনের একত্রে।
যেমন: এজমালি সম্পত্তি বলতে যৌথ মালিকাধীন সম্পত্তিকে বোঝায়।
কিত্তা/ কিতা = আববি ক্বত্বহ শব্দজাত। এর অর্থ অংশ, জমির ভাগ, পদ্ধতি।

ছানি = আরবি শব্দ, অর্থ দ্বিতীয়বার। পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা।
যেমন: ছানি মামলা। ছোলেনামা = মীমাংসা, আপোষ/আপস। ছোলেনামা মানে আপস-মীমাংসাপত্র। জঃ = জমা। সাধারণ অর্থে জমা বলতে সঞ্চিত, রাশীকৃত, কিন্তু ভূমি আইন ও দলিল। এটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। যেমন: জমা মানে পুঁজি, মোট, খাজনা, রাজস্ব, বার্ষিক কর [হাওলার বার্ষিক জমা ১০ টাকা]। আবার জমা ওয়াশিল এর অর্থ আয়-ব্যয়ের হিসাব। জমা ওয়াশিল বাকি মানে দেয় খাজনার কত আদায় বা লভ্য খাজনার কত আদায় হয়েছে এবং কত বাকি আছে তার হিসাব; জমা খারিজ অর্থ যৌথ খতিয়ানের জমা থেকে কোনো সহমালিক বা অংশীদারের আবেদনক্রমে তার অংশ আলাদা করে যে নতুন জমা ও খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়।

খারিজ = সাধারণ অর্থে বাতিল করা হয়েছে এমন বোঝায়। ভূমি আইনে একজনের নাম থেকে অন্যজনের নামে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়াকে বোঝায়।
তমঃ = তমসুক। আরবি শব্দজাত, যার অর্থ দলিল, ঋণ-স্বীকারপত্র বা খত। অর্থাৎ কর্জ গ্রহীতা যে লিখিত পত্র, বিশেষত সরকারি স্ট্যাম্প বা কাগজমূলে কর্জদাতার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। বন্ধকী তমসুক মানে হলো বন্ধকনামা বা বন্ধকী বা বন্ধকী খত।
দং = দরুন, বাবদ, দখল। নিম = ফারসি শব্দ। এর অর্থ অল্প, অর্ধেক, অধস্তন বা অধীন ইত্যাদি।
নং = নম্বর বা সংখ্যা অর্থে বোঝানো হয়। পঃ = পঞ্চম বা পাঁচের স্থানীয়।
পোঃ = পোস্ট অফিস বা ডাকঘর বোঝানো হয়।
মহঃ = মহকুমা। ব্রিটিশ আমলে জেলার একটি প্রশাসনিক অংশকেই মহকুমা বলা হতো।
মুসাবিদা = খসড়া তৈরি করা। মুসাবিদাকারক মানে যিনি দলিল লেখেন।
চৌঃ = চৌহদ্দি। চৌহদ্দি শব্দের অর্থ হচ্ছে চারধারের সীমানা।
তঃ/তপঃ = তফসিল, তহশিল।
তামাদি = ফারসি শব্দ। এর অর্থ নির্ধারিত সময়সীমা।
বিতং = বিস্তারিত বিবরণ, কৈফিয়ত, বৃত্তান্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
মাং/ মাঃ = মারফত। মারফত মানে মাধ্যম, অর্থাৎ যার হাত দিয়ে বা মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়।
সহঃ = সহকারী, যিনি কাজে সহযোগিতা করেন।
সুদিখত = একশ্রেণীর বন্ধকী দলিল।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়। হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের পালনীয় দিবস

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর পালনীয় দিবস

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League ) বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা  অর্থাৎ সকল ধর্মের  মানুষের স্ব স্ব  ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল  অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্য থেকে স্বাধীনতা ও প্রগতিকামী যুবক ও যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলাই যুবলীগের উদ্দেশ্য।   প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করে ।

যুবলীগের ওয়েবসাইট ঃ http://www.jlbd.org/

যুবলীগের পালনীয় দিবস

১০ই জানুয়ারিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

২১ শে ফেব্রুয়ারিঃ  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস

৭ই মার্চ:  স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা দিবস

১৭ই মার্চ:  জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস

২৬ শে মার্চ: মহান স্বাধীনতা দিবস

১৭ই এপ্রিলঃ মুজিবনগর দিবস

১লা মেঃ মহান মে দিবস

৭ই জুনঃ স্বাধীকার আন্দোলন দিবস

১৫ই আগস্ট:  জাতীয় শোক দিবস

 ৩রা নভেম্বর: জেল হত্যা দিবস

১০ই নভেম্বর: শহীদ নূর হোসেন বাবুল দিবস

১১ই নভেম্বর:  যুবলীগের প্রতিষ্ঠা দিবস

৪ঠা ডিসেম্বর: বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির জন্ম দিবস

১৪ই ডিসেম্বর: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

১৬ই ডিসেম্বর:  জাতীয় বিজয় দিবস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর পালনীয় দিবস

বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ এর পালনীয়  দিবস

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি  বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) । [ বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ এর পালনীয়  দিবস ]

বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ এর পালনীয়  দিবস

৪ জানুয়ারী ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা দিবস
৯ জানুয়ারী শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল দিবস
১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
১২ জানুয়ারী ওয়ালী, শওকত ও মহসীনের স্মৃতি তর্পন দিবস
২৪ জানুয়ারী গণ-অভ্যুথান দিবস। চট্রগ্রাম গনহত্যা দিবস
৮ ফেব্রুয়ারী ফারুক হত্যা দিবস
১৩ ফেব্রুয়ারী শহীদ রাউফুন বসুনিয়া দিবস
১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচার
১৫ ফেব্রুয়ারী সার্জেন্ট জহুরুল হক দিবস
১৫ ফেব্রুয়ারী একদলীয় নির্বাচনে গণতন্ত্র হত্যা দিবস
১৮ ফেব্রুয়ারী ডাঃ জোহা দিবস
২১ ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
২৫ ফেব্রুয়ারী শহীদ শহীদুল ইসলাম চুন্নু দিবস
২৮ ফেব্রুয়ারী শহীদ-সেলিম দেলোয়ার দিবস
৭ মার্চ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ
১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্ম দিবস
২৩ মার্চ মাহফুজ বাবুর অন্তর্ধান দিবস
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস
৩০ মার্চ নব্য স্বৈরাচার পতন দিবস
১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোসনাপত্র দিবস
১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস
১৭ মে ছাত্রলীগের গঠনতান্ত্রিক নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
৭ জুন ৬ দফা ও মুক্তি দিবস
১৬ জুন শহিদ পলাশ দিবস
২৩ জুন গণতন্ত্রের অভিযাত্রা
১২ জুলাই চট্রগ্রামে ৮ ছাত্রনেতার শাহাদাৎ দিবস
৫ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের জন্ম দিবস
৮ আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্ম দিবস
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস
১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস
২৭ সেপ্টেম্বর শহীদ তিতাস দিবস
২৭ অক্টোবর শহীদ মিজান দিবস
৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস
৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস
৯ নভেম্বর শহীদ আখি দিবস
১০ নভেম্বর নুর হোসেন দিবস
৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস
৪ ডিসেম্বর শহীদ স্বপন চৌধুরী দিবস
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুধিজীবি দিবস
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস
২৯ ডিসেম্বর আলী মোর্তজা দিবস

যুবলীগের যুব গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

যুবলীগের যুব গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League ) বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন।

আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমুহ বর্তমান বাস্তবতার আলোকে বাস্তবায়নের জন্য যুব সমাজের গঠনমূলক অংশগ্রহণের অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ১০ জানুয়ারী ২০১০ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুব গবেষণা কেন্দ্র  প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে  ওমর ফারুক চৌধুরী নির্বাচিত হলে যুব গবেষণা কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা  অর্থাৎ সকল ধর্মের  মানুষের স্ব স্ব  ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল  অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশের যুব রাজনীতির প্রতীক শেখ ফজলুল হক মনি কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত এবং রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল যুবকদের নিয়ে  বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগকে সুসংগঠিত ও আধুনিক একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই যুব গবেষণা কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

বিস্তারিত জানতে  যুব গবেষণা কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করুনঃ http://yrcbd.org/

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠনতন্ত্র

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠনতন্ত্র
নামঃ এই প্রতিষ্ঠানের নাম হইবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ প্রস্তাবনা
ক. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংহত করা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা সমুন্নত রাখা।
খ. প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা।
গ. রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা।
ঘ. মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মূলনীতি: বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা সকল ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সমাজতন্ত্র তথা শোষণমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হইবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূলনীতি।

অঙ্গীকারঃ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প সম্বলিত এই ঘোষণাপত্র ও কর্মসূচির মৌলিক লক্ষ্য ও অঙ্গীকার হইবেঃ

১। স্বাধীনতার আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা।

২। মানবসত্তার মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের স্বীকৃতি।

৩। বাংলাদেশের জনগণের ঐক্য ও সংহতির বিধান।

৪। সংসদীয় গনতন্ত্রের সুস্থ বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান। জনগণের পছন্দমতো ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

৫। একটি গণমুখী, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক দক্ষ জনপ্রশাসন ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা।

৬। তৃণমূল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার সকল স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা।

৭। নর-নারী, ধর্ম-বর্ণ, সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা নির্বিশেষে মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান এবং তাদের উন্নত জীবন বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ প্রদান।

৮। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতার বিলোপ সাধন।

৯। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠন।

১০। নারী নির্যাতন বন্ধ, নারীর অধিকার ও মর্যাদা সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সুনিশ্চিতকরণ।

১১। শিশুর অধিকার সংরক্ষণ, তাদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগের নিশ্চয়তা বিধান এবং যুব সমাজের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

১২। সংবাদপত্রসহ সকল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা।

১৩। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ মানুষের জীবন ধারণের মৌলিক সমস্যার সমাধান এবং কর্মের অধিকার এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।

১৪। অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার অবসান, দারিদ্র্য বিমোচন, অধিকতর কর্মসংস্থান, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, একপাক্ষিক বৈদেশিক নির্ভরশীলতা কাটানো, ব্যাক্তিখাত এবং রাষ্ট্রীয় ও ব্যাক্তিখাতের যৌথ উদ্যোগে (পিপিপি) উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। একটি শিল্পসমৃদ্ধ জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি রচনা করা।

১৫। সর্বাঙ্গীণ গ্রামীণ-উন্নয়ন, ভূমি ও কৃষিব্যবস্থার আমূল সংস্কার, কৃষিতে বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, আধুনিকায়ন, কৃষিতে টেকসই প্রযুক্তির ব্যবস্থা এবং সমবায় ব্যবস্থা বহুমুখীকরণ ও ফলপ্রসূ করা।

১৬। খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতার ধারা অব্যাহত রাখিয়া জনগণের খাদ্যের অধিকার তথা ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা,

কৃষিপণ্যের লাভজনক দামের নিশ্চয়তা বিধান।

১৭। জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদের যুক্তিসংগত ব্যবহার নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা, বিদ্যুতায়ন, যোগাযোগ, আইটি খাতসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

১৮। মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান। সমাজের প্রয়োজনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ সার্বজনীন, সুলভ ও প্রগতিশীল শিক্ষানীতি এবং ব্যবস্থার প্রবর্তন ও বাস্তবায়ন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ধারাকে উৎসাহিতকরণ।

১৯। বাঙালি জাতির সভ্যতা, কৃষ্টি, ভাষা এবং শিল্প সাহিত্যের বিকাশ নিশ্চিতকরণ। দেশের আদিবাসী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও উপজাতীয় জনগণের জীবনধারা, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা।

২০। শ্রমজীবী, সমাজের দুর্বল, অনগ্রসর, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মানবেতর জীবন হইতে উত্তরণে সার্বিক সহায়তা প্রদান। পঙ্গু, অসহায়, বিধবা, দরিদ্র, বয়স্ক, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা।

২১। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান বিপদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও দেশীয় উদ্যোগ গ্রহণ। পানিসম্পদের প্রাপ্যতা, সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যাবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সৃজন ও সামাজিক বনায়ন সম্প্রসারণে উৎসাহিত করা, প্রাণী বৈচিত্র্য রক্ষা এবং গ্রিন হাউজ এফেক্ট রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২২। অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, শহরাঞ্চলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূর করা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত পরিকল্পিত গ্রামীণ জনপদ গড়িয়া তোলা।

২৩। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বিশ্বশান্তি রক্ষার লক্ষ্যে আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা।

২৪। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বৈদেশিক নীতির ভিত্তি হবে সকলের সহিত বন্ধুত্ব, কারো সহিত বৈরিতা নয়। বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার সকল প্রচেষ্টায় সাহায্য ও সহযোগিতা করা এবং সন্ত্রাসবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জাতি ও জনগণের ন্যায়সঙ্গত মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন করা।
উল্লিখিত লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যে বর্ণিত প্রস্তাবনা, মূলনীতি ও অঙ্গীকার অনুসরণ এবং বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য, উদ্দীপনা এবং নবজাগরণ সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ সর্বদা সচেষ্ট থাকিবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরাধ্য এক উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অবিচল নিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তার সহিত আত্মনিয়োগ করিবে।

চেক সংক্রান্ত মামলা আইন

চেক সংক্রান্ত মামলা আইন

চেকের মামলা সংক্রান্ত কিছু সহজ বিষয় না জানার কারণে আমাদের অনেক সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কেননা চেকের বিষয়ে আইনে স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকাতে এর বাইরে কিছু করার থাকেনা । তাই সময় ও আইন মোতাবেক সঠিক সময়ে বেবস্থা না নিলে বেশীরভাগ সময় পাওনাদার এর টাকা পাওয়া হয়ে উঠেনা খুদ্র ভুলের কারণে। তাই চেকের মামালা সংক্রান্ত কিছু তথ্য জেনে রাখা আমাদের সকলের উচিত।

মেয়াদ এবং কিছু তথ্য
১) একটি চেকের মেয়াদ চেকের গায়ে চেক দাতার দেওয়া উল্লেখিত বা লিখিত তারিখ হতে ৬ মাস পর্যন্ত। তাই উক্ত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর ব্যাংক গ্রহণ না করার কারণে আদালতে Negotiable Instrument Act থ এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী আর টাকা দাবি করা যায় না। তাই ৬ মাস এর ভিতর চেক এর টাকা তোলার জন্য ব্যাংক এ উপস্থাপন করতে হয়।
২) উপরল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর উপস্থাপনে চেকদাতার একাউনট এ টাকা না থাকলে ডিসঅনার স্লিপ সংগ্রহ করে চেকের টাকা দাবি করে এক মাসের সময় দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে Negotiable Instrument Act এর ১৩৮ ধারা মোতাবেক টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে নোটিশ সরবরাহ করতে হয় এবং নোটিশটি ছাড়তে হয় ডিসঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে।

৩) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিন পর মামলার কারন উদ্ভব হয়। মামলার কারন উদ্ভব হওয়ার ১ মাসের মধ্যে একজন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা যায়। আর নোটিশ গ্রহণ না করলে নোটিশ ফেরত আসার তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করা যায়।
৪) চেকের প্রাপক বা দাবিদার এর পক্ষে তার নিজুক্তিও Attorney Holder মামলা করতে পারেন।

৫) অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে ডিসঅনার কয়বার করাতে হয়। উত্তরটা হল একবার ডিসঅনার করালে ও মামলা করা যায়।
৬) নোটিশ সরবরাহ না করলে বা নোটিশ জারি না করে চেকের মামলা করা যায় না। নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রাপ্তি স্বীকারোক্তি সহ জারি করাই উত্তম অথবা জাতীয় পত্রিকায় নোটিশ প্রচার করা যায়।

৭) স্থানীয় অধিক্ষেত্রঃ যে ব্যাংকে চেক উপস্থাপন করা হয় সেই ব্যাংক আদালতের যে স্থানীয় অধিক্ষেত্রে অবস্থিত সেই আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
৮) যে কোন ধরনের ডিসঅনার এর কারণে মামলা দায়ের করা যায়।
৯) কোন কারণে আইনের নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে প্রেতারণার জন্য মামলা করা যায়।

১০)কখনও কোন চেক হারিয়ে গেলে সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় জি, ডি দায়ের করে ব্যাংক এর মাধ্যমে চেক স্টপ করাতে হয়।
১১) হারান চেক উদ্ধারের জন্য মামলা করা যায়।
১২) কিছু না লিখে বা টাকার সংখ্যা না লিখে অর্থাৎ খালি চেক কখন কাওকে সরবরাহ করা উচিত নয়।

উচ্চ রক্তচাপে সাবধান!

Politics News Bangladesh
Politics News Bangladesh, Politics Based Online NewsPortal PoliticsNews24.com

উচ্চ রক্তচাপে সাবধান!

রক্তচাপ আসলে কী?

রক্তস্রোত রক্তনালীর দেওয়ালে যে চাপ সৃষ্টি করে সেটিই রক্তচাপ। স্বাভাবিক অবস্থায় এর পরিমাপ ১২০/৮০। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ খানিক বাড়তে থাকে। তখন এই পরিমাপের থেকে আর একটু বেশি চাপকেও স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। কিন্তু ওপরের চাপ ১৪০-এর বেশি বা নীচের চাপ ৯০-এর বেশি হয়ে গেলে মুশকিল।

রক্ত চাপ দু’ভাবে বাড়তে পারে। অ্যাকিউট আর ক্রনিক। হঠাৎ কোনও উত্তেজনার বশে বা অন্য কোনও কারণে দুম করে রক্তের চাপ খুব বেশি বেড়ে গিয়ে বিপত্তি ঘটতে পারে। এটি অ্যাকিউট হাই ব্লাড প্রেসার। এতে আচমকা হার্ট ফেলিওর হতে পারে। স্ট্রোকও হতে পারে।

ক্রনিক হাই ব্লাড প্রেসারের ক্ষেত্রে চাপের পরিমাপ হয়তো হঠাৎ করে খুব বেশি থাকে না। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে রক্তের উচ্চচাপ পুষে রাখার জন্য হার্টের পেশির ক্ষতি হতে পারে। কারণ, বেশি রক্ত পাম্প করতে হার্টের ওপর বেশি চাপ পড়ে। তা ছাড়া অনেক দিন ধরে রক্তচাপে ভুগলে রক্তনালীগুলো শক্ত হয়ে যায়। সেগুলোর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। রক্তনালীর ভেতরের দেওয়াল মোটা হয়ে যায়। ফলে ব্লক তৈরি হয়। সব মিলিয়ে হার্ট ফেলিওর বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।

আবার রক্তনালীতে ‘ব্লক’ তৈরি হওয়ার জন্য বা বেশি রক্তচাপের কারণে নালীর মধ্যে রক্ত দলা পাকিয়ে যেতে পারে। সেই দলা বা ক্লট মাথায় পৌঁছে স্ট্রোক হতে পারে। আবার রক্তের চাপ সহ্য করতে না পেরে কোনও ধমনি ছিঁড়ে গিয়েও স্ট্রোক হতে পারে।

অতএব, রক্তচাপ পুষে রাখার মাসুল হতে পারে মারাত্মক!

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ

এমনতি এর তেমন কোনও লক্ষণ নেই। তাই তলে তলে যে রক্তের চাপ বেড়ে গিয়েছে, এটা অনেকেই টের পান না। এ জন্য ৩৫ বছরের পর থেকে মাঝে মাঝেই ব্লাডপ্রেসার মাপা দরকার। আর দীর্ঘ দিন ধরে রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে ফি-হপ্তায় এক বার প্রেসার মেপে দেখা উচিত। বাড়িতেই রাখতে পারেন প্রেসার মাপার যন্ত্র।

প্রেসার কেন বাড়ে

১) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। বয়সের সঙ্গে রক্তচাপ সমানুপাতিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংখ্যা জানাচ্ছে, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতি তিন জনের মধ্যে এক জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বয়স ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন। আর পঞ্চাশের কোঠায় বয়স হলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন প্রতি ১০ জনে ৫ জন। বয়স ৭০ বা তার বেশি হলে প্রতি দুই জনের মধ্যে এক জনের উচ্চ রক্তচাপ থাকবে।

২) খাবারে বেশি নুন খাওয়ার জন্য প্রেসার বাড়তে পারে।

৩) ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসার বাড়ে।

৪) শারীরিক পরিশ্রম না করে বসে বসে থাকলে ওজন বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে রক্তচাপ।

৫) মানসিক চাপ বা উত্তেজনা বাড়লে অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি থেকে নরঅ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

খাবার ও রক্তচাপ

রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে প্রথমত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওজন বাড়লে হার্ট বেশি পাম্প করবে। ফলে রক্তচাপ বাড়বে। তাই উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সুতরাং খাবার এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এমনিতে উচ্চ রক্তচাপের জন্য দরকার ড্যাশ ডায়েট অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ খাবার। রোজকার খাবারে থাকবে রকমারি ফল ও প্রচুর শাকসব্জি। কারণ, এ সবের মধ্যে থাকে পটাশিয়াম ও প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগলে অ্যানিমাল প্রোটিন কম খেতে হবে।

রক্তচাপ বেশি হলে নুনের কথা মাথায় রাখতে হবে। নুনের সোডিয়াম ব্লাড প্রেসার বাড়ায়। দিনে ২-৩ (ছোট চামচের হাফ চামচ) গ্রামের বেশি নুন খাওয়া উচিত নয়। বাদ দিতে হবে প্রসেসড ফুড, জাঙ্ক ফুড, টিন ফুড, প্যাকেট ফুড, রেডি টু ইট ফুড, আচার, চিপস ইত্যাদি। কারণ এগুলোতে প্রিজারভেটিভ হিসেবে নুন মেশানো থাকে।

প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। কারণ জল হল ডাইইউরেটিক। জল শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। জল শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতিকারক পদর্থগুলোকে বের করে দেয়। এগুলো বেরিয়ে গেলে শরীরে রক্তের চাপ কমে।

স্ট্রেস ও রক্তচাপ

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বাড়লে রক্তচাপ বাড়ে। আবার উল্টোটাও হয়। রক্তচাপ বাড়লে স্ট্রেস বাড়ে। স্ট্রেস বাড়লে নার্ভের ওপর চাপ পড়ে। ফলে প্রেসার বাড়ে। তাই রক্তচাপকে বশে রাখতে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট খুব জরুরি। সোজা কথায় স্ট্রেস বা মানসিক চাপকে প্রশ্রয় না দিয়ে তার স্ট্রেসের মোকাবিলা করা।

কী ভাবে স্ট্রেসের মোকাবিলা করবেন

ইচ্ছে করলেই স্ট্রেসের কবল থেকে নিজেকে বের করে আনতে পারেন। স্ট্রেসে যিনি ভুগছেন, তিনি চাপে থাকেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর বুদ্ধি মোটেই লোপ পায় না। তাই একটু সচেতন হলেই স্ট্রেসকে কমিয়ে আনা যায়। এর কয়েকটি ধাপ আছে।

প্রথম ধাপটি সত্যিই স্ট্রেসে ভুগছেন কি না তা খতিয়ে দেখা। স্ট্রেসে শারীরিক, মানসিক ও ব্যবহারগত কিছু পরিবর্তন বা সমস্যা হতে পারে। যেমন:

ঘুম একেবারেই চলে যায়। অনেকের আবার ঘুম অনেক বেশি হয়। সারা দিনই ঝিমুনি লাগে।

খিদের ইচ্ছে চলে যাওয়া বা বেশি খিদে পায়।

শরীর-মনে ক্লান্তি। অলসতা দেখা দেয়।

মাথার যন্ত্রণা হতে পারে।

এগুলি সব শারীরিক পরিবর্তন।

মানসিক বা ইমোশনাল পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে

কিচ্ছু ভাল না লাগা।

ঘন ঘন মুড সুইং হওয়া।

মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়া।

ভয় ভীতি তৈরি হওয়া।

খিটখিটে মেজাজ।

অধৈর্য হয়ে যাওয়া।

কিছু ব্যবহারগত পরিবর্তন হয়যেমন,

সিগারেট খাওয়া বেড়ে যায়।

যাঁরা সিগারেট খেতেন না, তাঁরাও খেতে শুরু করেন।

অ্যালকোহল বেশি খাওয়া হয়ে যায়।

কোনও নির্দিষ্ট ড্রাগের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায়।

এই সমস্যাগুলোর কিছু কিছু দেখা গেলে বুঝতে হবে আপনি স্ট্রেসে ভুগছেন।

চিকিৎসা

কেউ কেউ এমনিতেই খুব বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন। কিছু একটা হতে পারে এই ভয়ে। ‘যদি’ হয়, তার ওপর নির্ভর করেই তাঁরা ভেতরে ভেতরে প্রবল মানসিক চাপে থাকেন। সে ক্ষেত্রে দরকার মতো কাউন্সেলিং করে ওষুধ খেতে হতে পারে।

আর কিছু হয় তাৎক্ষণিক স্ট্রেস। কোনও একটা ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা করে করে চাপ বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে নিজেই সচেষ্ট হলে স্ট্রেসকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন।

কী ভাবে

স্ট্রেসকে দূরে সরাতে গেলে দরকার স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রা। এতে অভ্যস্ত হলে স্ট্রেস অনেকটা কাটিয়ে ওঠা যায়।

১) নিয়মিত সঠিক এক্সারসাইজ করা। নিজে নিজে ভুলভাল কিছু না করে ট্রেনারের কাছে গিয়ে এক্সারসাইজ শিখলে ভাল হয়। এক্সারসাইজ করলে কিছু হ্যাপি হরমোন ক্ষরণ হয়। যার থেকে একটা ফিল গুড এফেক্ট আসে। অলসতা, ক্লান্তি দূর হয়। শরীর ঝরঝরে লাগে।

২) হেলদি লাইফস্টাইলে খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল খাওয়াদাওয়া। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্কফুড, প্যাকেট ফুড একেবারে চলবে না। এতে ওজন বাড়ে। ওজন বাড়লে রক্তের চাপও বাড়ে। বরং মরসুমি ফল আর শাকসব্জি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল নার্ভকে উজ্জীবিত করে। ফলে মন তরতাজা হয়। প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। জল শরীরের টক্সিন বের করে দেয়।

৩) সারা দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা ঘুম খুব জরুরি। ঘুমের ব্যাঘাত হলে সেটাকে আয়ত্তে নিয়ে আসতে হবে। দরকারে ডাক্তারের পরামর্শমতো স্ট্রেস কমানোর ওষুধ খেয়ে ঘুমকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ বায়োলজিকাল ক্লক ঠিক করতে হবে। শুধু ওষুধ নয়, নির্বিঘ্ন ঘুমের কিছু রেসিপি বা টোটকা আছে। সেগুলি মেনে চললে ভাল ঘুম হয়।

ঘুমের রেসিপি

ঘুমের রেসিপির মূল কথাই হল ঘুমের জন্য শরীর ও মনকে প্রস্তুত হয়। সেগুলি হল:

১) ঘুমের তিন ঘণ্টা আগে থেকে জল খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। তাতে ঘুমের সময় বার বার বাথরুম যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

২) ঘুমের আগে টিভি দেখা চলবে না। বরং ম্যাগাজিন বা হালকা কোনও গল্পের বই পড়তে পারেন।

৩) সারাদিনের পাতা বিছানার চাদর তুলে ফেলে ঘুমের জন্য আলাদা কোনও বিছানার চাদর পাতলে ভাল হয়।

৪) ঘুমের আগে জোরালো আলো না জ্বালিয়ে হালকা আলো জ্বালানো

৫) ঘুমের ঠিক আগে কোনও উত্তেজক কথাবার্তায় যাবেন না।

৬) শুয়ে ঘুম না এলে উঠে কোনও বই পড়বেন।

৪) যতই স্ট্রেস থাকুক, মন ভাল না থাকুক, আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। ভাল লাগছে না বলে যে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না।

৫) আর এই হেলদি প্র্যাকটিস ধরে রাখতে একটি ডায়েরি মেনটেন করুন। তাতে সারা দিনে কী কী করলেন, সব লিখবেন। এক সপ্তাহ আগে দু’ঘণ্টাও ঘুমোতে পারতেন না, এখন সাত ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন, এটা লিখলে দেখবেন নিজেই নিজেকে মোটিভেট করতে পারছেন। ডায়েরি লিখলে আপনার হেলদি লাইফস্টাইলকে জিইয়ে রাখতে পারবেন। তাতে স্ট্রেস বশে থাকবে, নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তচাপ।

সর্বোপরি প্রেসার আয়ত্তে আনতে

নিয়মিত প্রেসারের ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। কোনও ভাবেই প্রেসারের ওষুধ খেতে ভুলবেন না। প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও সেটি বজায় রাখতে ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। নইলে আবার প্রেসার বেড়ে যাবে।

সমস্যা হোক বা না হোক, কয়েক মাস পর পর ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করাতে হবে। দরকারে ডাক্তার ওষুধ বদলে দেবেন।

পাতে নুন খাবেন না। নোনতা খাবার একেবারেই নয়।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার কমিয়ে দিন। মদ্যপান ধীরে ধীরে কমান। ধূমপান করবেন না।

শুয়ে বসে দিন কাটাবেন না। পরিশ্রম করুন। এতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ব্যায়াম ও খাবার নিয়ন্ত্রণে এনেও ওজন কমানো দরকার।

টেনশন কমান। প্রয়োজনে প্রাণায়াম আর ধ্যান করুন।

এক বার ডাক্তার দেখিয়ে দীর্ঘ দিন সেই একই ওষুধ খেয়ে যাবেন না।

প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘুম খুব প্রয়োজন। তাই দিনের পর দিন ঘুম না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

আওয়ামীলীগ যুগ্ম-সাধারণ ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিভাগভিত্তিক দায়িত্ব

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

আওয়ামীলীগ যুগ্ম-সাধারণ ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিভাগভিত্তিক দায়িত্ব

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক

  • মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ,

  • ডা. দীপু মনি এমপিকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ,

  • জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং

  • আব্দুর রহমান এমপিকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

 বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

  • আহমদ হোসেনকে সিলেট বিভাগ,

  • মোঃ মেজবাউদ্দিন সিরাজ অ্যাডভোকেটকে ময়মনসিংহ বিভাগ,

  • বি. এম মোজাম্মেল হক এমপিকে রংপুর বিভাগ,

  • আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপিকে বরিশাল বিভাগ,

  • একেএম এনামুল হক শামীমকে চট্টগ্রাম বিভাগ,

  • খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপিকে রাজশাহী বিভাগ,

  • আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপিকে খুলনা বিভাগ এবং

  • ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল)কে ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার জীবনী

শেখ হাসিনা - Sheikh Hasina

শেখ হাসিনার জীবনী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছার পাঁচ সন্তানের মধ্যে শেখ হাসিনা সবার বড়। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৫ আগস্টের সেই ভয়াল রাতের হত্যাযজ্ঞের সময় শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং ১৯৮০ সালে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।

শেখ হাসিনা তাঁর অনুপস্থিতিতে ১৯৮১ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তখন তিনি নয়া দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর ছয় বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসানের পর তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক মহিলা কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদিকা ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে শেখ তিনটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং সংবিধানের ৫১ এবং ৫৬ ধারা মোতাবেক শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক ফর্মুলা ঘোষণা করেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দেশের পঞ্চম সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়েছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকারে পরিবর্তন করতে সংসদে সকল দলের নেতৃত্ব দেন। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য শেখ হাসিনা ১৯৯৪-১৯৯৬ সালে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর আন্দোলনের ফলে আমাদের সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযোজিত হয়েছিল। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। নির্বাচনের পর ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন।

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা কৃষক এবং দুঃস্থ, ভূমিহীন এবং দারিদ্র্য-পীড়িত কৃষকদের কল্যাণে অনেক নব এবং বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দুস্থ এবং বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক লোকের জন্য শান্তিনিবাস স্থাপন, গৃহহীন মানুষদেরকে আশ্রয় দানের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আদর্শ গ্রাম প্রতিষ্ঠা।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ৫ বছর মেয়াদ সম্পন্নের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তার দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন যারা ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর ব্যাপক হত্যা, নির্যাতন এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং শান্তির সপক্ষে একটি শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি জীবনে কয়েকবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। সবচেয়ে মারাত্মক ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যখন ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তার জনসভায় এক ডজনেরও বেশি উচ্চ-প্রযুক্তির গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল। এই সুপরিকল্পিত হামলায় তার দলের ২২ জন নেতা-কর্মী মারা যান এবং ৫০০ এর অধিক নেতা-কর্মী আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও ঐ হামলায় চোখে মারাত্মক আঘাত পান। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই মিথ্যা এবং কাল্পনিক অভিযোগে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হন এবং জেলে যান। দেশে-বিদেশে প্রবল জনমতের মুখে প্রায় এক বছর পর ২০০৮ সালের ১১ জুলাই শেখ হাসিনাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছিল।

১৯৯৬-২০০১ সালে তাঁর শাসনামলে তাঁর দূরদর্শী বৈদেশিক নীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সফল অংশগ্রহণ বিদেশে আমাদের দেশের ইমেজ উজ্জ্বল করেছিল। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার পর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে শান্তির দূত শেখ হাসিনা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশ ভ্রমণ করেন এবং প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিস্ফোরোন্মুখ পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এর ফলে বাংলাদেশের ইমেজ উজ্জ্বল হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাপক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (সিটিবিটি) স্বাক্ষর করে।

সামাজিক কর্মকাণ্ড, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য শেখ হাসিনা সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রিসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্র“য়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আবের্টে বিশ্ববিদ্যালয়, ডান্ডি লিবারেল আর্টসে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসিফো ডিগ্রি প্রদান করে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক দেশীকোত্তমা (ডক্টর অব লিটারেচার) ডিগ্রি প্রদান করেন।

শান্তি এবং গণতন্ত্রের জন্য অসাধারণ অবদানের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করেন।

গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় বিশ্ব বিখ্যাত ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।

কৃষিক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখায় ২০০১ সালের ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

পিপলস ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া ২০০৫ সালে শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

আন্তর্জাতিক মানবিক উন্নয়নে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, রাশিয়া শেখ হাসিনাকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ায় এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্রান্সের ডফিন বিশ্ববিদ্যালয় ২০১১ সালের ২৫ মে শেখ হাসিনাকে ডিপ্লোমা এবং পদক প্রদান করে।

বাংলাদেশে বহুসংস্কৃতির গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতে ত্রিপুরা রাজ্যের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি.টি ডিগ্রি প্রদান করে।

রাজনৈতিক সাহস এবং প্রজ্ঞার দ্বারা পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৫ বছরের জাতিগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শান্তি বয়ে আনতে অসাধারণ ভূমিকা রাখায় শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর হোফো-বনি শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।

দূরদর্শিতা, সাহস এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক ক্ষেত্রে অর্জনের স্বীকৃতিস্বরুপ শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যানডলফ উইম্যানস কলেজ শেখ হাসিনাকে ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাপূর্ণ পার্ল এস বাক অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৯ প্রদান করে।

ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা-এফএও শেখ হাসিনাকে ১৯৯৯ সালের ২ আগস্ট মর্যাদাপূর্ণ সেরেস পদক প্রদান করে। সর্ব ভারতীয় শান্তি পরিষদ ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনাকে “মাদার তেরেসা পদক” প্রদান করে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অহিংস ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের বিকাশে অবদান রাখায় নরওয়ের অসলোর মহাত্মা এম কে গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে এম কে গান্ধী অ্যাওয়ার্ড- ১৯৯৮ প্রদান করে।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এর রোটারি ফাউন্ডেশন কর্তৃক শেখ হাসিনাকে পল হ্যারিস ফেলো ঘোষণা করা হয়। তাঁকে ১৯৯৬-৯৭ এবং ১৯৯৮-৯৯ সালে মেডেল অব ডিসটিঙ্কশন প্রদান করা হয় এবং ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব লায়ন্স ক্লাবস কর্তৃক ১৯৯৬-৯৭ সালে হেড অব স্টেট মেডেল প্রদান করা হয়।

শেখ হাসিনাকে ২০০৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এসোসিও (এশিয়ান-ওসেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন) আইটি অ্যাওয়ার্ড- ২০১০ প্রদান করে। হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো এর নিকট থেকে শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি গ্লোবাল ডাইভার্সিটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

নারী এবং শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের নব ধারণার জন্য ইউএন ইকোনমিক কমিশন ফর আফ্রিকা, জাতিসংঘে এন্টিগুয়া এবং বার্বুডার স্থায়ী মিশন, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং সাউথ সাউথ নিউজ ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলা একাডেমী ফেলোশিপ প্রদান করে।

শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- “ওরা টোকাই কেন?”, “বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম”, “দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা”, “আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম”, “আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি”, “সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র”।

তিনি বেশ কয়েকবার পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ্ পালন করেছেন। তিনি ‘‘জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’’- এর সভাপতি। তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে বিশ্বাসী এবং দারিদ্র্য বিমোচনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন। প্রযুক্তি, রান্না, সঙ্গীত এবং বই পড়ার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ৯ মে ২০০৯ তারিখে ইন্তেকাল করেন। শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তাঁর একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনীর সংখ্যা পাঁচ জন।

০৫ জানুয়ারি ২০১৪  তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তৃতীয়বারের মত শপথ নেন শেখ হাসিনা।

কোন রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না: জিয়াউর রহমান

কোন রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না: জিয়াউর রহমান

দলের আদর্শকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সর্বক্ষেত্রে কর্মসূচি এবং সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলের জন্য অপরিহার্য। কারণ সংগঠন ছাড়া রাজনীতি করা যাবে না, কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা যাবে না। কিন্তু সংগঠন যে আমরা করব সেই সংগঠনের ভিত্তি হতে হবে তার আদর্শ। তাই পার্টির সংগঠনে যারা থাকবেন তাদেরকে পার্টির আদর্শ অবশ্যই জানতে হবে। কেবলমাত্র জানলেই চলবে না সেটা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে। আমরা অনেক কিছুই জানি, অনেক কিছুই বুঝি, কিন্তু অনেক সময় বিশ্বাস করি না। সেই বিশ্বাস না থাকলে দল সংগঠন করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের দলে যারা রয়েছেন কর্মকর্তা, নেতৃবৃন্দ, যারা রয়েছেন কর্মী তাদেরকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শ জানতে হবে, বুঝতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই বিশ্বাসে অনুভূত হয়ে আদর্শকে বাস্তবায়িত করতে হবে।

আমাদের পার্টি বলতে গেলে বছর দুয়েকের পার্টি। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর আমরা এই পার্টির সংগঠন করি। আজ এই দুই বছরের মধ্যে আমরা পার্টিকে মোটামুটিভাবে সংগঠিত করেছি কিন্তু পার্টির আইন-কানুনের প্রয়োজন। যদি আমাদের মধ্যে কেউ পার্টির আদর্শে বিশ্বাসী না হয় তবে সেই আইন-কানুন, সে মানতে পারে না কিংবা পার্টির কানুন অনুযায়ী সে কাজ করতে পারে না। তাই আজ আমাদের পার্টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যে, আমাদের পার্টির সেই আদর্শকে আমাদের প্রত্যেককে আয়ত্তে আনতে হবে এবং সেই জন্যে আমরা পার্টির আদর্শে শিক্ষা গ্রহণ করতে চলেছি।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আগামী এক সপ্তাহ যে আমাদের শিক্ষা ক্লাস চলবে তাতে আপনারা যা কিছু জানেন, শিখেছেন, চিন্তাভাবনা করেছেন সেইগুলোও আপনাদেরকে বলতে হবে। আমাদের ক্লাস চলবে মোটামুটি আলোচনাভিত্তিক। সেখানে একচেটিয়া বক্তৃতা হবে না। ডায়েস থেকে বরঞ্চ আপনাদের মধ্য থেকে আপনারা আলোচনা করবেন, আপনাদের বক্তব্য রাখবেন। আপনারা যেটা বুঝতে পেরেছেন সেটা বলবেন যাতে করে আমরা আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যদি ভুল বুঝাবুঝি থাকে কিংবা জ্ঞানের ফাঁক থাকে সেইগুলো পূর্ণ করবেন।

আজ থেকে আমাদের যে শিক্ষা ক্লাস চলছে এটা অবশ্যই আমাদের পার্টির জন্যে কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয় ঐতিহাসিকও বটে। কারণ এরপর সারা দেশব্যাপী এরকম শিক্ষার আয়োজন করব এবং যে চিন্তাধারা করেছেন বা বিবেচনা করেছেন এবং পারবেন। এই শিক্ষা ক্লাস শেষ হবার পর আমরা আপনাদের মধ্যে থেকেই ছোট ছোট গ্রুপ করে দিব এবং সেই গ্রুপগুলো জেলা পর্যায়ে গিয়ে এরকম আদর্শগত শিক্ষাশিবির আয়োজন করবেন। আপনারা অবশ্যই এই শিক্ষা ক্লাসের শিক্ষাশিবির আয়োজন করবেন। আপনারা অবশ্যই এই শিক্ষা ক্লাসের প্রোগ্রাম দেখেছেন, কর্মসূচি দেখেছেন। আমরা সাধারণত এইভাবে ক্লাস চালিয়ে যাব। সেখানে আমাদের আদর্শ সম্বন্ধে ইতিমধ্যে লিখিতভাবে বের হয়েছে। যেখানে বইতে লেখা রয়েছে সেটা পড়ার পর প্রাথমিকভাবে আমরা আর একটি লেকচার দিতে পারি এবং এরপর আপনাদের বক্তব্য রাখবেন। প্রতিদিন তার আগে নিজেরাই যাচাই করে নিতে পারবেন যে আপনারা কতদূর শিখলেন, জানলেন এবং কোথায় ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। কারণ জীবন হলো প্রতিদিনের একটি পরীক্ষা এবং সেই জন্যে আমরা যে কিছু শিখলাম নিশ্চয়ই সেটা আমাদেরকে যাচাই করে নিতে হবে যে, আমরা কি শিখলাম।

আমরা শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছি, এই জন্যেই আমাদের যে টপ ব্রেন আছে পলিটিক্যাল পার্টিতে, তাদেরকে নিয়ে আমরা বসেছি। এই আদর্শগত দিকটি আপনাদেরকে আয়ত্তে আনতে হবে কারণ আয়ত্তে না আনলে আপনারা নিজেরাই কাজ করতে পারবেন না। আমাদের অনেকের মধ্যে এখনও দ্বন্দ্ব আছে। এটা মানসিকভাবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আপনাদের মনের মধ্যে। কারণ আপনারা অনেকেই কিন্তু এমনি এসে গেছেন পার্টিতে বিভিন্ন কারণে। এখন এই দ্বন্দ্ব দিয়েই আমাদের সব ঠিক করতে হবে। হয় থাকবেন না হয় থাকবেন না। এখন আমাদের সময় এসেছে। যেটা আটা চালে চালনি দিয়ে আমাদেরকে আদর্শের চালনি দিয়ে এখন বেছে নিতে হবে আপনাদেরকে।

কোন রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না। একটা অবদান থাকতে পারে। কিন্তু ধর্মকে কেন্দ্র করে কখনই রাজনীতি করা যেতে পারে না। আমাদের এখানেই অতীতে আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে যে ধর্মকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সময়ে যখনই রাজনীতি করা হয়েছিল সেটা বিফল হয়েছে। কারণ ধর্ম ধর্মই। আমাদের অনেকে আছে যারা আমাদের দেশে যে বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেন। রাজনীতির রূপরেখা বানাতে চেষ্টা করেন এবং আমরা বার বার দেখেছি তারা বিফল হয়েছে। কেবলমাত্র মুসলমান নেতৃবর্গ নয়, হিন্দু নেতাবর্গের মধ্যে রয়েছে এবং অন্যদের দল ধর্মকে কেন্দ্র করে তাহলে কি দেখা যাচ্ছে একটা রাজনৈতিক দল ধর্মকে কেন্দ্র করে হতে পারে না। ধর্মের অবদান থাকতে পারে রাজনীতিতে। এটা মনে রাখবেন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে যে কথাগুলো আমি বললাম, আশা করি আপনারা বুঝলেন। আমি হাসি-ঠাট্টা করে অনেক কথা বলেছে কারণ সব সময় যদি সিরিয়াসলি বলি তাহলে আপনারা সবকিছু বুঝতে পারবেন না।(১৯৮০ সালে জিয়াউর রাহমান এর একটি ভাষণ )

গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন

শেখ মুজিবুর রহমানকে খাইয়ে দিচ্ছেন এক শিশু

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে বঙ্গবন্ধু তার গ্রেফতারের কয়েক মিনিট আগে জানান,পাকিস্তানি সেনারা তাকে গ্রেফতার করতে আসছে। তবে বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর স্মৃতিচারণায় এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে ৮১ বছর বয়সী হাজী মোর্শেদ বলেন, ‘আজ থেকে বাংলাদেশস্বাধীন হয়ে গেল। তারা আমাকে গ্রেফতার করতে আসছে। আমি বাসা’ই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

হাজী মোর্শেদ স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, বঙ্গবন্ধু চোখ বন্ধ করে তার কক্ষে একাকী বসেছিলেন। তিনি রাত দশটার দিকে এ কথা বলেন এবং এর কয়েক মিনিট পর সর্বশেষ সাক্ষাৎকারী হিসেবে তৎকালীন ছাত্রনেতা তবিবর রহমান আসেন। তিনি মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য বঙ্গবন্ধুকে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বিনীত অনুরোধ জানান।

মোর্শেদ বলেন, ‘তিনি (তবিবুর) তার সাথে আলিঙ্গন করেন এবং বলেন, অতি স্বত্ত্বর বাড়ি ছেড়ে চলে যান, তারা (সেনাবাহিনী) আপনাকে হত্যা করবে।’ জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘যদি তারা আমাকে না পায় তারা সব লোককে মেরে ফেলবে এবং ঢাকা নগরী ধ্বংস করে দেবে।’

হাজী মোর্শেদ বলেন, ‘রাত সাড়ে এগারোটার দিকে একটি অজ্ঞাত ফোন রিসিভ করেন। ফোনে বলা হয়, তিনি বলধা গার্ডেন থেকে বলছেন এবং ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে। এখন তিনি কি করবেন জানতে চান।’

তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে এ খবর জানাই। বঙ্গবন্ধু তাকে (অজ্ঞাত ব্যক্তি) বলতে বললেন যে, স্থাপনকৃত ট্রান্সমিটার ভেঙ্গে দিয়ে সে যেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

হাজী মোর্শেদ বলেন, তিনি ১৯৪৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সে সময়বঙ্গবন্ধু কলকাতায় ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালেরঘটনাবহুল মার্চ মাসে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধুর সংগে কাটিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর ১টা পনের মিনিটের দিকে পুরো আকাশ উজ্জ্বলআলোয় আলোকিত হয়ে যায়। এ সময় তিনি ফোন রিসিভ করছিলেন। বঙ্গবন্ধু এর পর তার কাছে আসেন এবং কোনদিক থেকে আলো আসছে তা জানতে চান। এরপর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যান।

হাজী মোর্শেদ বলেন, কয়েক মুহূর্ত পর এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলল, ‘হ্যান্ডসআপ’…. মাত মারো (হত্যা করো না)। এ সময় তিনি বাড়ির সিঁড়ির পাশে টেলিফোনসেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

হাজী মোর্শেদ বলেন, ‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক লোক আমার মাথার পেছনে আঘাত করে এবং আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি এবং সে রাতের সর্বশেষ ঘটনা বলতে আমি এটুকুই মনে করতে পারি।’

ঘটনার অপর প্রত্যক্ষদর্শী বিগত বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন যিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির পাশের বাড়ি থেকে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।

বঙ্গবন্ধু ভবনের পার্শ্ববর্তী ভবন দার-ই খাসে’র বাসিন্দা এ কে এম মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করার সময় গুলি ছুড়ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (বঙ্গবন্ধু) চিৎকার করে বলতে শুনলাম “গুলি বন্ধ কর” এবং তারা গুলি বন্ধ করে।’
বঙ্গবন্ধু সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসার পর হাজী মুর্শেদকে অজ্ঞান ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ দৃশ্য দেখে বঙ্গবন্ধু চিৎকার করে বলেন, ‘তোদের এতবড় স্পর্ধা তোরা তাকে মেরেছিস, আমি তাকে জীবিত চাই।’

‘বঙ্গবন্ধু জানতেন এবং আমরা বুঝতে পেরেছিলাম পাকিস্তানি সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করতে আসছে এবং আমরা আতঙ্কিত ছিলাম তারা বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলে কি-না। তাদের মোকাবেলা করার মত সৎ সাহস তাঁর ছিল। তিনি কাপুরুষ ছিলেন না।
উভয় প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ২৫ মার্চ দিনের প্রথমভাগে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট পশ্চিম পাকিস্তানি ও বিদেশী সরকারি কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর সংগে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে আসেন। অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অ্গং সংগঠনের নেতা ও কর্মীরাও দল বেঁধে আসতে থাকেন।

হাজী মোর্শেদ বলেন, এসব সাক্ষাৎকারীর মধ্যে একজন হলেন পুলিশ অফিসার এম এআওয়াল। তিনি সে সময় আনসার বাহিনীর পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি তার আধা পুলিশ বাহিনী আনসারের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তাব করেন। এই অস্ত্র প্রত্যেক জেলায় পুলিশ সদর দফতরে রাখা ছিল।
এ বিষয় নিয়ে ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খানের সংগে আলোচনা করা হলে তিনি(সিরাজুল আলম খান) অনাগ্রহ দেখান। কিন্তু বিকেলে বঙ্গবন্ধু হাজী মোর্শেদকে এম এ আওয়ালের সংগে তদানীন্তন ঢাকার এসপি ই এ চৌধুরীর কাছে পাঠান।
আসন্ন সামরিক অভিযান প্রতিরোধ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পুলিশের অস্ত্র বিতরণ করার জন্য বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য তাদের পাঠানো হয়েছিল।

হাজী মোর্শেদ বলেন, তবিবুরের আগে তাজউদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল হোসেন এবংব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের মত বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের নেতা বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য আসেন এবং মধ্যরাতের আগেই তারা ফিরে যান।

সূত্রঃ volunteersleague.org

আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদঃ সকলের নাম

আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিঃ সকলের নাম

উপদেষ্টা পরিষদ:

৩৮ সদস্যউপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন:

ডা. এস এ মালেক, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আলহাজ মো. ইসহাক মিয়া, অ্যাড. মো. রহমত আলী, এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, অ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, রাজীউদ্দিন আহমেদ রাজু, ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর, ব্যরিস্টার শফিক আহমেদ, সৈয়দ আবু নসর অ্যাডভোকেট, শ্রী সতীশ চন্দ্র রায়, প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক, প্রফেসর ডা. রুহুল হক এমপি, কাজী আকরাম উদ্দীন, অ্যাড. সৈয়দ রেজাউর রহমান, ড. অনুপম সেন, প্রফেসর ড. হামিদা বানু, প্রফেসর ড. মো. হোসেন মনসুর, অধ্যাপিকা সুলতানা শফি, এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, অ্যাম্বাসেডর জমির, গোলাম মওলা নকশাবন্দি, ড. মির্জা এমএ জলিল, ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া, মে. জে. আব্দুল হাফিজ মল্লিক পিএসসি (অব.), প্রফেসর ডক্টর সাইদুর রহমান খান, ড. গওহর রিজভী, প্রফেসর খন্দকার বজললু হক, মো. রশিদুল আলম, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কাজী সিরাজুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, চৌধুরী খালেকুজ্জামান।

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ (২০১৬-২০১৯)

সভাপতি: শেখ হাসিনা।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাড. সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সৈয়দ আশরাফুর ইসলাম, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও অ্যাড. আব্দুল মান্নান খান।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে এখনও তিনটি পদ খালি রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন, মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আব্দুর রহমান।

কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন এইচএন আশিকুর রহমান। অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক টিপু মুন্সি। আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নদী, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ অ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাড. মৃণাল কান্তি দাস।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শামসুন নাহার চাঁপা, শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুছ ছাত্তার, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদ ডা. রোকেয়া সুলতানা।

সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিএম মোজাম্মেল হক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল), উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

কমিটির ২৮ জন সদস্য হলেন:

আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, মো. মমতাজ উদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, নুরুল মজিদ হুমায়ুন, খায়রুজ্জামান লিটন, সিমিন হোসেন রিমি, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, র আম ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, দিপঙ্কর তালুকদার, বদরুদ্দীন আহমেদ কামরান, আখরারুজ্জামান, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, আমিরুল ইসলাম মিলন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম (মৌলভীবাজার), গোলাম কবির রব্বানী চিনু, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার, পারভীন জামান কল্পনা, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, মেরিনা জাহান, ড. শাম্মী আহমেদ, মারুফা আখতার পপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপাধ্যক্ষ রেমণ্ড আরেং।

সংসদীয় বোর্ডের সদস্য ১১ জন।

তারা হলেন, শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কাজী জাফর উল্লাহ, ওবায়দুল কাদের, প্রফেসর, ড. আলাউদ্দিন আহমেদ ও মো. রশিদুল আলম।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্ষমতার উৎস কোথায় ছিল?

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাজনীতির অঙ্গনে যিনি অত্যন্ত ক্ষমতাধর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার ক্ষমতার মূল্যায়ন অনেকেই করতেন তার পারিবারিক রাজনৈতিক বন্ধনের সূত্র ধরে।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী অল ইন্ডিয়া মুসলিম স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক থেকে মুসলিম লীগের সভাপতি হয়েছিলেন । পাকিস্তানের স্পিকার এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন একদিনের। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি কারাবন্দি হন। কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ফজলুল কাদের চৌধুরীর পিতা আবদুল জব্বার চৌধুরী ও দাদা বক্সে আলী চৌধুরী। বাংলাদেশের পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ অঞ্চলজুড়ে শেকড়ের মতো ছড়িয়ে চট্টগ্রামের এ চৌধুরী পরিবারের আত্মীয়তা।   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও  ছিল গভীর সম্পর্ক এ পরিবারের। ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এরশাদ সরকারের সাবেক এ মন্ত্রী বিএনপি সরকারের সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। নির্বাচন করেছেন ওআইসি মহাসচিব পদেও। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিছুদিন আগে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
পারিবারিক ও বৈবাহিক সূত্রে সালাউদ্দিন কাদের কয়েকটি কিংবদন্তি রাজনৈতিক পরিবারের আত্মীয়। তার দাদা শ্বশুর হলেন মাওলানা আবদুস সোবহান। যার নামে ঢাকার সোবহানবাগের নামকরণ। নানা শ্বশুর ফরিদপুরের বিখ্যাত চৌধুরী আবাদ আল্লা জহিরউদ্দিন লাল মিয়া। লাল মিয়ার মেয়ে জামাই আলমগীর মোহাম্মদ আদেল হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর শ্বশুর। ফলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ তার মামা শ্বশুর। এ সূত্রে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে তৈরি হয়েছে তার দূরবর্তী সম্পর্ক। সালাউদ্দিন কাদেরের চাচা শ্বশুর হচ্ছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল। আবার জাহাঙ্গীর আদেলের শ্বশুর হলেন পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খান। ফজলুল কাদের চৌধুরীর তৃতীয় ছেলে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাবেক এমপি এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। গিয়াসউদ্দিন কাদেরের শ্বশুর হলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতিরক্ষা সচিব ও সাবেক কেবিনেট সচিব ভাষাসৈনিক মুজিবুল হক। ফজলুল কাদের চৌধুরীর মেজো ছেলে প্রয়াত সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী। তার নানা শ্বশুর হলেন দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে ঢাকায় আসা মুসলিম লীগের নেতা ও দার্শনিক আবুল হাসিম। আর আবুল হাসিমের ছেলে হলেন এক সময়ের কট্টর বামপন্থি রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দিন উমর। সে হিসেবে বদরুদ্দিন উমর ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সম্পর্ক তালই-পুতরার। সাইফুদ্দিন কাদেরের শ্বশুর বাড়ির দিক থেকে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সঙ্গে দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়তা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামের এ চৌধুরী পরিবারের। ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি হলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদার নাতিন জামাই। ফজলুল কাদের চৌধুরীর আপন ভাতিজা হলেন আওয়ামী লীগের এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। আবার সালাউদ্দিন কাদেরের খালাতো ভাই হলেন শিল্পপতি  সালমান এফ রহমান। সালমান এফ রহমানের পিতা ব্যবসায়ী ও মুসলিম লীগ নেতা প্রয়াত ফজলুল রহমান। তার নিকট আত্মীয় বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আবার সালাউদ্দিন কাদেরের দুই খালাতো ভাই হলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান দুই বিচারপতি মাইনুর রেজা চৌধুরী ও সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফুফা হলেন ভাষাসৈনিক ও এইচআরসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হেদায়েত হোসেন চৌধুরী। তার দুই ছেলে হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ও এইচআরসি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী। সালাউদ্দিন কাদের ও সাবের হোসেন পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। অন্যদিকে সাবের হোসেন চৌধুরীর দুই ফুফাতো ভাই হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও বিএনপি সরকারের আমলে ব্যর্থ ক্যুর অভিযোগে চাকরিচ্যুত সেনাপ্রধান মে. জেনারেল (অব.) নাসিম বীরবিক্রম। মুসলিম লীগের জাঁদরেল নেতা হামিদুল হক চৌধুরী ও সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরী হলেন সম্পর্কে সাবের হোসেন চৌধুরীর চাচা। আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এম আশিকুর রহমান এমপি হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফুফাতো বোনের জামাই। আর বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বোনের ভাসুর।

এছাড়া মুসলিম বিশ্বে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছিল ব্যপক পরিচিতি। তবে ক্ষমতা, পারিবারিক বন্ধন বা পরিচিতি , কিছুই তাকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা করতে পারেনি!

আমাদের নিবন্ধিত সংবাদদাতা হন

Politics News Bangladesh
Politics News Bangladesh, Politics Based Online NewsPortal PoliticsNews24.com

আমাদের নিবন্ধিত সংবাদদাতা হন

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংবাদভিত্তিক একমাত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল , পলিটিক্সনিউজ২৪.কম। রাজনীতির সকল সংবাদ জনগণের কাছে, শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানর লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি । আপনিও হতে পারেন আমাদের নিবন্ধিত সংবাদদাতা। নিবন্ধিত হয়ে  আপনার আশেপাশের রাজনীতির সকল সংবাদ আমাদের পাঠাতে পারেন। ছড়ায়ে দিতে পারেন তৃণমূলের রাজনীতির সংবাদ গণমানুষের কাছে, শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অতি সহজে। নিবন্ধিত সংবাদদাতা হতে যোগাযোগ করুন, ০১৭১১-৪৬০৬০১ বা ০১৬৭৯-৮২৮২৭৯ নম্বরে বা ইমেইল করুন news.politicsnews24@gmail.com এ ।  

PoliticsNews24.com
PoliticsNews24.com

নিবন্ধনের জন্য যা যা লাগবেঃ

-আমাদের সংবাদদাতা ফর্ম পূরণ

-দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি

-জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি

 

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি – বিস্তারিত বিবরণ

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি – বিস্তারিত বিবরণ

ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ সোমবার সন্ধ্যায়  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তারা এই কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদন করেন। পুর্ণাঙ্গ এ কমিটি  ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট। যদিও  ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কথা রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই রবিবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি ও জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ছাত্রলীগ লোগো-ChatroLeague Logo
ছাত্রলীগ লোগো-ChatroLeague Logo

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা- বিস্তারিত বিবরণ

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেলেন যারা

সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ। সহ-সভাপতি যাথাক্রমে- আজিজুল হক রানা, এরশাদুর রহমান চৌধুরী, কাজী এনায়েত, মোঃ তোফাজ্জেল হক চয়ন, ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পি, আরিফুর রহমান লিমন, মোঃ মেহেদী হাসান রনি, আমিনুল ইসলাম, অহিদুর রহমান জয়, সৈয়দ আশিক, মাসুদ রানা মিঠু, আনোয়ার হোসেন আনু, সুপ্রিয় কুন্ড রাজেশ, মশিউর রহমান শরিফ, জাহাঙ্গীর আলম, সোহান খান, রিফাত আজান, মাকসুদ আলম, আরেফিন সিদ্দীক সুজন, আদিত্য নন্দী, গোলাম রসুল বিপ্লব, হাবিবুর রহমান সুমন, কামাল মোঃ নাসের রুবেল, মাহমুদুর রহমান জনি, মোঃ আল-আমিন (মুহসীন হল), নুসরাত জাহান নুপুর, নিশীতা ইকবাল নদী, আবু সাঈদ, মোঃ মনির হোসেন, মেহেদী হাসান (মুহসীন হল), রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহাদাত হোসেন রাজন, আবদুস সাত্তার মাহবুব, আসাদুজ্জামান আসাদ, নাজমুল হক, আহসান হাবিব রানা, শোয়াইবুল ইসলাম শোয়েব, সাকিব হাসান সুইম, মোঃ আব্দুল রাসেত গালীব, মোঃ মিজানুর রহমান, জামশেদ আলম, কামরুজ্জামান সালাম, শিউলী আক্তার, চৈতালী হালদার চৈতী রুহুল আমিন, কাওসার পাঠান পাপ্পি, মাসুমা আক্তার পলি, নুরুল করীম জুয়েল, আবু হোসাইন বিপু, আরিফুজ্জামান রোহান, এস.এম. আব্দুর রহিম তুহিন, তৌহিদুজ্জামান সরকার ধ্রুব, মোঃ নুর আলম ভ‚ইয়া রাজু, অর্ণা জামান, হাফিজুর রহমান ভ‚ইয়া সজীব, রাকিব হাসান সোহেল, আসিফ উল্লাহ মিথুন, মোঃ তাজুল ইসলাম, এ.টি.এম. সায়েম, শেখ শাহজালাল সুজন, মাহফুজুর রহমান রাসেল।

সাধারণ সম্পাদক এস.এম. জাকির হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে- আসাদুজ্জামান নাদিম, আব্দুর রাজ্জাক লালন, রেজাউল ইসলাম রেজা, চন্দ্র শেখর মন্ডল, দিদার মোঃ নিজামুল ইসলাম, মাহামুদুল হাসান, সায়েম খান, মোতাসিম বিল্লাহ মোহাম্মাদ, শেখ ফয়সাল আমিন, নওশাদ উদ্দিন সূজন, শাহিদুল ইসলাম শাহেদ, মোবারক হোসেন, শেখ জসিম উদ্দিন, শৃজন ঘোষ সজীব, মোঃ সৈকতুজ্জামান সৈকত, আশিকুল পাঠান সেতু, সজীব বিশ্বাস, মোঃ শাহ-জামাল, বি.এম. এহতেশাম, দারুস সালাম শাকিল, তানজিল ভ‚ইয়া তানভীর, মোঃ শরিফুল ইসলাম ফারুক।

প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু, উপ-প্রচার সম্পাদক উৎপল সরকার (জগন্নাথ হল), মোঃ ছফিউল্লাহ সফি (জে.বি), সাইফুর রহমান সাইফ (সূর্যসেন হল), মাহমুদুল হাসান ইরান (জ.বি), আব্দুল হক রনি (জিয়া হল), মাইনুল হাসান হিমেল (ঢা.ক), এ.এইচ.এম তৌফিক সারফী নেতু (জ.বি.)।

দপ্তর সম্পাদক  দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সাইদুল ইসলাম (প্রইভেট), গোলাম মোস্তফা (বঙ্গবন্ধু হল), হাবিবুর রহমান হাবিব (এস.এম. হল), সরকার আরাফাত সঞ্জয় (প্রইভেট), আমিনুল ইসলাম (সূর্যসেন হল), দিগন্ত চক্রবর্তী তপু (ঢা.ক.)।

গ্রন্থনা প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান নূর উন নবী, উপ-গ্রন্থনা প্রকাশনা সম্পাদক সোহগ হোসেন সাগর (চারুকলা), মং সুং উ অর্জুন মারমা (চারুকলা), সুম্ময় দে (চারুকলা)।

শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদ অহিদুজ্জামান মুকুল (জহু. হল), শরিফুল ইসলাম শরিফ (জহু. হল), গিয়াস উদ্দিন সোহাগ (ঢাকা জেলা), মাহিবুল হাসান মুকিত (শা.বি.)।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জনি, উপ-সংস্কৃতিক সম্পাদক শাহীন আলম (জ.বি.), ফাতেমা তুজ জোহরা চৌধুরী রুশী (চারুকলা), তপু রায়হান (এফ.আর. হল)।

সমাজসেবা সম্পাদক পারভেজ মিয়া, উপ-সমাজ সেবা সম্পাদক সব্যসাচী হালদার লিটু (রা.বি), অমিত হাসান (জহু. হল), মোঃ আবু হানিফ (মহসিন হল)।

ক্রীড়া সম্পাদক চিন্ময় রায়, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ হোসাইন (লেদার), মিজানুর রহমান রুদ্র (লেদার), মোঃ শামীম হোসেন (ই.বি.)।

আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইমরান খান, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইশাত কাশফিয়া ইরা (রোকেয়া হল), এমদাদ হোসেন সোহাগ (ঢা.বি.), মাহবুবুল ইসলাম প্রিন্স (মহসিন হল)।, রাসেল হোসেন (ঢা.ক)

পাঠাগার সম্পাদক ইলিয়াস উদ্দিন, উপ-পাঠাগার সম্পাদক ওয়াদুদ সওদগর (জহু. হল), আলিমুল হক (এফ.রহমান হল), ফারুক হোসেন (চ.বি.), সোহেল উদ্দিন (সূর্যসেন হল)।

তথ্য ও গবেশণা সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, উপ- তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চৈতী রাণী (রোকেয়া হল), আশরাফুল ইসলাম ফাহাদ (প্রাইভেট), মোঃ তামিম ইসলাম (নারায়নগঞ্জ)।

অর্থ সম্পাদক আবদুল মালেক সাজু, উপ-অর্থ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার (সুফিয়া কামাল হল), মাসরুল আলম মিলন (প্রাইভেট), মোঃ সৃজন ভূইয়া (ঢা.বি.)।

আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, উপ-আইন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (এফ.আর. হল), বেলাল হোসেন বিদ্যুৎ (বঙ্গবন্ধু হল), মির্জা মাহামুদ (প্রাইভেট)।

পরিবেশ সম্পাদক এবি এম হাবিবুল্লাহ বিপ্লব, উপ-পরিবেশ সম্পাদক নাজমুল হুদা রাজিব, (সূর্যসেন হল), শেখ মারুফা নাবিলা (ফজিলাতুন্নেছা হল), হিল্লোল সরকার (জগন্নাথ হল)।

স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপ- স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদ সৈয়দ আরাফাত (বঙ্গবন্ধু হল), অসিম বৈদ্য (জগন্নাথ হল), কাওসার হক (সারওয়ারদী কলেজ), রাজিউন মাহমুদ (একুশে হল)।

বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরেফিন, উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির (শহিদুল্লাহ হল), আনিসুজ্জামান আনিস (পটুয়াখালী বিজ্ঞান), আবদুল্লাহ আল রিফাত (একুশে হল), ইকবাল হোসেন শিপন সিকদার (প্রাইভেট)।

তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক ইসফাক আবির, উপ-তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক তৌহিদুর রহমান হিমেল (রুয়েট), মোঃ আনোয়ার হাবিব অনিক (বুয়েট), মোঃ আবু মুসা আবদুল্লাহ (বুয়েট), তানভীর ইসলাম (ঢা.ক.), শফিকুল রেজা (প্রাইভেট)।

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খায়েব উদ্দিন চৌধুরী, উপ- ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমির হোসেন (উত্তর), উত্তম কুমার সরকার (জগন্নাথ হল), মনিরুজ্জামান দীপু (জ.বি)।

গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হান্নান (ঢা.ক.), ইশরাত জাহান অর্চি (ইডেন), গোলাম মইন উদ্দিন হিমু (শহিদুল্লাহ হল)।

ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াজ, উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফ (চ.বি.), সাজিদ রাসেল (জহু.হল), মোঃ আজিযুল আলশ মৃধা (এফ.রহমান হল)।

গণ যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ফরহাদুজ্জামান মরি, উপ-গণ যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান উল্লাহ তুহিন (শহিদুল্লাহ হল), মোঃ মাইনুল ইসলাম ফয়সাল (সিলেট), হাবিবুর রহমান হাবিব (বঙ্গবন্ধু হল)।

স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম সুমন, উপ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বী সেতু, শাহরিয়ার হোসেন শান্ত, আদনান উপল, মোঃ ইফাদ সামিহ।

সহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন, উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক রহমত উল্লাহ খান সাকুর (শা.বি.), রাসেল আহমেদ চৌধুরী (প্রাইভেট), তাজুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধু হল)

নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করীম সুমন, উপ-নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ মাহমুদ (ঢা.ক.), মোঃ ইমরুল হাসান নিশু (সূর্যসেন হল), সোহানী হাসান তিথী (ইডেন)।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আনন্দ সাহা পার্থ, উপ-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আসিক ইকবাল অনিক (প্রাইভেট), শামীম হোসেন শুভ (প্রাইভেট)।

আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মো” রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক শেখ জসিম উদ্দিন (জ.বি.), মোঃ শাহজালাল শাওন (ঢা.ক.), জসিমউদ্দিন আকন্দ রনি (প্রাইভেট)।

কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার, উপ-কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হোসেন জুয়েল (জিয়া হল), শামীম মোল্লা (সিলেট কৃষি)।

কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এস.এম সাইফুল ইসলাম সোহাগ (উত্তর), মুরাদ হায়দার টিপু (জহু. হল)।

প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাইয়ুম (সূর্যসেন হল), এ হান্নান হাওলাদার শাওন (ঢাকা ম. উত্তর)।

কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সাকিবুল ইসলাম বিয়াস, উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হাওলাদার, রিয়াজ উদ্দিন রুবেল (ঢা.ক.), জুবায়ের আহমেদ (জহু. হল)।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নুর এ আলম আশিক, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক, কাজী মিরাজুল ইসলাম ডলার (তিতুতীর কলেজ), রাকিবুল হাসান নোবেল, ওমর শরীফ ফাহাদ।

মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুজ্জামান, উপ-মানব সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ (মহাসনি হল), মোঃ মানিক হোসেন (তিতুমীর কলেজ), জহির আহমেদ খান (বঙ্গবন্ধু হল), মেহেদী হাসান ফারুক (উত্তর)।

ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজ, উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা (ঢা.ক) মেহজাবিন মোস্তাকিম জাবিন (জিয়া হল)।

সহ-সম্পাদক কাজী ফারুক হোসেন (সূর্যসেন হল), আব্দুস সালাম (ঢা.বি.), আল্লামা ইকবাল (ঢা.ক.) মোঃ আরিফুল ইসলাম সোহাগ (ঢা.বি), আজমির শেখ (ঢা.বি), জায়েদ বিন জলিল (ঢা.বি.), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (জ.বি), মাসুম পারভেজ সুমন (ঢা.বি.) জীবন কুমার বিশ্বাস (তিতুমীর), এস.এম. জাকারিয়া বুলবুল (বঙ্গবন্ধু হল), কাজী শাখাওয়াত হোসেন (ঢা.বি.), নজরুল ইসলাম বাবু (নজরুল বিশ্ব.), মনোয়ার হোসেন খোকন (ঢা.ক), খাদিজাতুল কুবরা (ঢা.বি.), শাহরিয়ার মাহমুদ রাজু (ঢা.বি.), ফারজানা আক্তার সুপর্ণা (গারস্থ অর্থনীতি), ইমরান হোসাইন (ঢাকা জেলা), মোঃ ইবরাহিম (উত্তর), মাজহারুল ইসলাম লেলিন, রুহুল আমিন, (জ.বি.), আনোয়ার হোসেন সজীব (ঢা.ক.)।

গত বছরের ২৬ জুলাই রোববার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি ও জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিক পূর্ণঙ্গ কমিটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘোষিত কমিটির কেউ ব্যবসা বা চাকুরীতে যোগদান করলে তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা- বিস্তারিত বিবরণ

ওবামার সংগ্রামী জীবন

ওবামা তখন ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে পড়তেন। ক্লাসে একদিন তাদের শিক্ষক ‘ইস ডারমাওয়ান’ শিক্ষার্থীদের নিজের জীবনের লক্ষ্য উল্লেখ করে একটি রচনা লিখতে বললেন। রচনা লেখা শেষে ‘ইস ডারমাওয়ান’ এক এক করে সবার খাতা দেখতে শুরু করলেন। খাতা দেখতে দেখতে একসময় এসে তিনি চমকে উঠলেন। কারণ ‘ব্যারি’ নামের একটি ছেলে লিখেছে সে বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হতে চায়। বারাক ওবামার ডাক নাম ‘ব্যারি’। অনেকে ভাবতে পারেন ছোট্ট বয়সে হয়তোবা মনের খেয়ালেই এরকমটি লিখেছিলেন ওবামা। কিন্তু এর ঠিক তিন বছর পর ওবামা যখন একটি সরকারি স্কুলে ভর্তি হন তখনও তাকে এরকম একটি রচনা লিখতে হয়। সেই রচনাতেও লিখেন তিনি বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হতে চান। সেদিনের শিক্ষিকা ‘ক্যাটরিনা সিনাগা’র আজও মনে আছে সেই দিনের কথা।

ওবামার বাবা-মায়ের পরিচয়:

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ যেটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এটি আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্য এবং এর রাজধানী হনলুলু। ওবামার বাবার বসবাস ছিল কেনিয়ার একটি অজপাড়া গ্রামে। সেখান থেকে সিনিয়র বারাক হুসেন ওবামা পড়ালেখা করতে আসেন ‘হনলুলু বিশ্ববিদ্যালয়ে’। অপরদিকে আমেরিকার কানসাস থেকে জীবিকার সন্ধানে শ্বেতাঙ্গ ‘ড্যানহাম’ পরিবার আসে হনলুলুতে। এই পরিবারেই ‘স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম’ নামে একটি মেয়ে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনাচক্রে সিনিয়র ওবামার সাথে পরিচয় হয় স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম এর। এই পরিচয় একসময় প্রেমে রূপান্তরিত হয়। তারা দুজন সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করার। কিন্তু সেসময় হনলুলু রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ বিয়ে অবৈধ ছিল। আমেরিকার আরও অনেক রাজ্যে এরকমটি ছিল। কিন্তু রাজ্যের নিষেধ তাদের ভালোবাসায় বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে নি। সকল বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তারা দুজন বিয়ে করেন।

অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ

৪ আগস্ট, ১৯৬১ সাল। সিনিয়র বারাক ওবামা ও স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম এর ঘর আলোকিত করে পৃথিবীতে জুনিয়র বারাক ওবামা। জন্মের সময় বাবা-মা শখ করে ছেলের নাম রাখেন বারাক হুসেন ওবামা। বারাক শব্দের অর্থ ‘আশীর্বাদপ্রাপ্ত’। আর ডাক নাম ছিল ‘ব্যারি’।

শৈশবের ছন্দপতন

বাবা-মায়ের আদরে ভালোভাবেই কাটছিল ব্যারির শৈশবের দিনগুলো। কিন্তু পৃথিবীর হালচাল বুঝে ওঠার আগেই ছন্দপতন ঘটে তার জীবনের। ব্যারির বয়স যখন দুই বছর তখন তার বাবা-মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। এর আগে অবশ্য তারা অনেকদিন আলাদাভাবেই থাকতেন। বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর মায়ের কাছেই থেকে যান ব্যারি।

নতুন পরিচয়

ডিভোর্সের কিছুদিন পর ব্যারির মা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দোনেশিয়ান এক ছাত্রকে বিয়ে করেন। তার নাম ছিল ‘লোলো সোয়েটরো’। ১৯৬৭ সালে ব্যারি তাদের সাথে জাকার্তায় চলে আসেন। সে সময় ব্যারির বয়স ছিল ৬ বছর। এ সময় ব্যারির নামের পরিধিটা একটু বেড়ে যায়। নতুন বাবার নামের সাথে মিল রেখে নাম রাখা হয় ‘ব্যারি সোয়েটরো’।

ব্যারিদের বসবাস ছিল জাকার্তার শহরতলীতে। এই স্থানটিতে নিম্ন মধ্যবিত্তদেরই বসবাস ছিল। রাস্তাঘাট ছিল মাটির, চারপাশটা ছিল গাছগাছালিতে ঘেরা এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল জলাশয়। এইরকম এক পরিবেশেই বড় হতে থাকেন ব্যারি। এখানকারই একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় ব্যারিকে। ব্যারির মা পড়াশোনার বিষয়ে খুবই সিরিয়াস ছিলেন। তবে মা ছেলের মধ্যে এমনিতে খুব সখ্য ছিল। এমন অনেক রাত গেছে যে রাতে মা-ছেলে চাঁদের আলো দেখতে দেখতে রাত পাড় করে দিয়েছেন।

মেধা তার ছোটবেলা থেকেই ছিল

আমেরিকা থেকে সোজা জাকার্তা। নতুন এক দেশ, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি সবই ব্যারির কাছে নতুন। নতুন এই পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে খুব বেশি সময় নেননি ছোট্ট ব্যারি। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ভাষা, সংস্কৃতি সবকিছুই শিখে ফেলেছিলেন।

বন্ধুদের মন জয়

জাকার্তায় ব্যারির একটু সমস্যা ছিল। গায়ের রং কালো হওয়ায় তার সমবয়সী ছেলেদের উত্যক্ত সহ্য করতে হয়েছিল। এজন্য ব্যারির খুব মন খারাপ হতো। কিন্তু একদিন সেই বন্ধুদেরই নয়নের মনি হয়ে উঠলেন ব্যারি। কিন্তু কীভাবে?

ব্যারি ও তার বন্ধুরা পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলছিলেন। তাদের এই খেলার মাঝে হঠাৎ করে বাগড়া বাঁধায় অন্য পাড়ার কিছু ছেলে। ছেলেগুলো ছিল খুবই দুষ্ট স্বভাবের। তাই কেউ সাহস করে তাদেরকে কিছু বলতে পারছিলো না। মুখে কিছু বলতে না পারলেও রাগে গজগজ করছিল ব্যারি। রাগে গজগজ করতে করতেই মাঠ থেকে বাড়িতে চলে যায় ব্যারি। সবাই ভাবে ভয় পেয়ে সে চলে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ব্যারি আবার মাঠে ফিরে আসে এবং সাথে করে নিয়ে আসে একটি পোষা কুমিরের বাচ্চা। এই কুমিরের বাচ্চা দিয়ে সেই দুষ্টু ছেলেদের তাড়া করে। ছেলেগুলো তাড়া খেয়ে পালিয়ে যায়। এরপর আর কোনোদিন সেই ছেলেগুলো এই পাড়ায় আসেনি। এই ঘটনার পর ব্যারির সেই বন্ধুরা তাকে আর খেপায় না। তারা তাকে নয়নের মনি করে রাখে।

আবারও আবাসস্থল বদল

জীবনের চারটি বছর জাকার্তায় কাটানোর পর আবার পরিবর্তন করতে হয় আবাসস্থল। সময়টা ছিল ১৯৭১ সাল। সেসময় ব্যারির বয়স ছিল ১০ বছর। বাবা-মা কে ছেড়ে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে চলে আসেন ব্যারি। এখানে এসে নানা-নানীর কাছে থাকেন। নানী ‘ম্যাডেলিন ড্যানহ্যাম’ ছিলেন ব্যারির প্রিয় ব্যক্তিত্ব।

বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়রের মৃত্যু

ব্যারির সাথে হনলুলুতে একদিন তার বাবা বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়রের দেখা হয়। এই দেখাই ছিল তাদের শেষ দেখা। এরপর ব্যারির বাবা হনলুলু ছেড়ে চলে যায়। ১৯৮২ সালে বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়ন এর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু

জাকার্তা থেকে হনলুলুতে এসে এখানকার পুনাহো স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয় ব্যারিকে। এই স্কুল থেকেই ১৯৭৯ সালে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ব্যারি। কিন্তু এই স্কুলজীবনে তাকে অনেক বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।

হনলুলু ছেড়ে লস এঞ্জেলস

স্কুলের পাঠ চুকিয়ে এবার কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য হনলুলু ছেড়ে চলে আসেন লস এঞ্জেলস। সেখানকার অক্সিডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়ে দুই বছর পড়ার পর সেখান থেকে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হয়ে যান। এখানেই তার জীবনের বিরাট এক ঘটনা ঘটে। কিন্তু কী ঘটনা? এ বিষয়ে পরে বলছি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন ব্যারি।

কর্মজীবন

ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর কিছুদিন বিজনেস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশনে এবং নিউ ইয়র্ক পাবলিক ইন্টারেস্ট রিসার্চ গ্রুপ নামের দুটো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ব্যারি। কিন্তু মন না টেকায় সেখান থেকে চলে যান শিকাগোতে। সেখানে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে তিন বছর কাজ করেন।

পিতৃভূমি দর্শন

ব্যারির বাবা সিনিয়র ওবামা ছিলেন কেনিয়ার অধিবাসী। ১৯৮৮ সালে ব্যারি তার পিতৃভূমি কেনিয়ায় যান। সেখানে তার অনেক আত্মীয়ের সাথে তার দেখা হয়।

আবার শিক্ষাজীবনে প্রবেশ

পিতৃভূমি থেকে ফিরে এসে হার্ভাড ল কলেজে ভর্তি হন। বছর শেষে চারপাশ থেকে সাফল্য তাকে ঘিরে ধরে। যার ফলশ্রুতিস্বরূপ হার্ভাড ল রিভিউয়ের সম্পাদক নির্বাচিত হন ব্যারি। এর ঠিক দুই বছর পর সম্পাদক থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটি ছিল তার জন্য বিশাল এক মাইলফলক। কারণ ল রিভিউয়ের ১০৪ বছরের ইতিহাসে ওবামাই হলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। ছোটবেলার সেই ইচ্ছার প্রাথমিক রূপ ধরা দিয়েছে। এবার পূর্ণরূপ ধরার পালা। ১৯৯১ সালে হার্ভাড ল’ কলেজ থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি নিয়ে ওবামা শিকাগো শহরে ফিরে আসেন।

জীবনের সেই বিরাট ঘটনা

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে ওবামার সাথে পরিচয় হয় মিশেল রবিনসন এর। দীর্ঘদিন প্রেম ভালোবাসার পর ১৯৯২ সালে তারা বিয়ে করেন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে। তাদের একজন মালিয়া অ্যান ওবামা (জন্ম ১৯৯৯) এবং আরেকজন নাতাশা ওবামা সাশা (জন্ম ২০০১)।

মায়ের মৃত্যু

ওবামা তখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ল’স্কুলে লেকচারার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সময়টা ছিল ১৯৯৫ সাল। এসময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওবামার মা। বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে ওবামা একেবারে একা হয়ে যান কিন্তু দিশেহারা হননি।
ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন শৈশবের সেই লক্ষ্যের দিকে
অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে সে ১৯৯৬ সালে ইলিনয়ের সিনেটর নির্বাচিত হন ওবামা। একইভাবে ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালেও তিনি পূণর্বার নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৪ সালে তার ঝুলিতে জমা হয় আরেকটি সাফল্য। সে বছর বোস্টনে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে এক বক্তৃতা দেন তিনি।  সেই ভাষণে সে মার্কিন অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো পাল্টানোর কথা এবং ইরাক যুদ্ধে বুশ প্রশাসনের ঘৃণ্য ভূমিকার কথা বলেছিলেন। আরও বলেছিলেন, “উদারনৈতিক আমেরিকা বা রক্ষণশীল আমেরিকা বলে কোন কথা নেই। আমরা জানি আমেরিকা একটাই আর সেটা হলো ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা।” তার এই যুগান্তকারী ভাষণের কারণেই সেদিন জাতীয় এক ব্যক্তিত্ব বনে যায় ওবামা।
এরপর ২০০৪ সালে আমেরিকার সিনেট নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওবামা ৭০% ভোট নিয়ে জিতে যান। এ জয়ের পেছনে তার ২০০৪ সালের বোস্টনের ভাষণের প্রভাব আছে বলে অনেকেই মনে করেন। ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় তার বেষ্ট সেলার মর্যাদা পাওয়া বই ‘অডাসিটি অব হোপ’। এরপর ২০০৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান ডেমোক্রেটিক দল থেকে। তারপর এলো ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক ৪ নভেম্বর। সেদিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ রিপাবলিক দলের পদপার্র্থী জন ম্যাককেইনকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হন বারাক ওবামা। সেই সাথে সে হয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের মহানায়ক।

দাস থেকে হয়ে গেলেন শাসক

সে অনেক দিন আগের কথা। প্রায় চারশত বছর। বারাক ওবামাদের পূর্ব পুরুষরা এসেছিলেন আমেরিকাতে। সে সময় তারা আমেরিকানদের দাসত্ব করতেন। শ্বেতাঙ্গদের বর্ণবিদ্বেষের কারণে তাদের চরম অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে বেঁচে থাকতে হয়েছিল। ভাবতে অবাক লাগে, আজ সেই বর্ণবিদ্বেষী সমাজের মানুষের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

শৈশবের সেই লক্ষ্য

স্কুল জীবনেই যার লক্ষ্য ছিল বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হবে সে তার লক্ষ্য অর্জন করে দেখিয়েছেন। এই লক্ষ্য সে কীভাবে অর্জন করলো তা তো সকলেরই জানা। অনেক চড়াই-উৎরাই ও ত্যাগের মাধ্যমে সে তার লক্ষ্য অর্জন করেছেন। মানুষের একান্ত চেষ্টা, ইচ্ছা থাকলে পৃথিবীতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

বারাক ওবামার প্রিয় কিছু বিষয়:

  • শখঃ বাস্কেটবল, লেখালেখি, বাচ্চাদের সাথে খুনসুটি।
  • প্রিয় বইঃ সং অব সলোমন (টনি মরিসন), মবি ডিক, শেক্সপিয়ারের ট্র্যাজেডি, পার্টি দি ওয়াটার, জিলেড (রবিনসন), সেলফ রিলায়েন্স (এমারসন), বাইবেল, লিংকন’স কালেক্টেড রাইটিংস।
  • প্রিয় মুভিঃ কাসাব্লাংকা, গড ফাদার, লরেন্স অব অ্যারাবিয়া এবং ওয়ান ফ্লিউ ওভার কাক্কু’স নেস্ট।
  • প্রিয় গায়কঃ মাইলস ডেভিস, জন কলট্রেন, বব ডিলান, স্টিভ ওয়ান্ডার ইত্যাদি।

আওয়ামী যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতার কথা

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ( Bangladesh Awami Jubo League )

আওয়ামী যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতার কথা

বাংলাদেশ  আওয়ামী  যুবলীগ  এর  প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি  ১৯৩৯  সালের  ৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তার ভুমিকা ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিল।  ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ ফজলুল হক মনি  মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে অংশগ্রহন করেছিলেন।  [ আওয়ামী যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতার কথা ]

বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি  ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি একজন মেধাবী সাংবাদিক ছিলেন। তিনি দৈনিক বাংলার বানী,বাংলাদেশ টাইম্‌স ও সাপ্তাহিক সিনেমার সম্পাদক ছিলেন।

শেখ ফজলুল হক মনি বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছিলেন। তার একটি উপন্যাস থেকে ‘অবাঞ্ছিতা’  ছবি   তৈরি হয়েছিল।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ ঘাতকের বুলেটে শহীদ হন এই কালজয়ী নেতা।

ছাত্রলীগ : সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের নাম ও মেয়াদকাল

ছাত্রলীগ : সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের নাম ও মেয়াদকাল

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ( Bangladesh Student League – BSL / Bangladesh Chatro League ) বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া, জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ সংগঠন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ অতিক্রম করেছে পথচলার ৬৮ বছর।

ছাত্রলীগ : সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের নাম ও মেয়াদকাল

সভাপতি – সাধারণ সম্পাদকঃ

১৯৪৮ নাইমউদ্দিন আহমেদ (আহবায়ক)

১৯৪৮-১৯৫০ দবিরুল ইসলাম – খালেক নেওয়াজ খান

১৯৫০-১৯৫২ খালেক নেওয়াজ খান – কামরুজ্জামান

১৯৫২-১৯৫৩ কামরুজ্জামান – এম এ ওয়াদুদ

১৯৫৩-১৯৫৭ আব্দুল মোমিন তালুকদার – এম এ আউয়াল

১৯৫৭-১৯৬০ রফিকুল্লাহ চৌধুরী – আযহার আলী (বিদেশে গমন) শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (ভারপ্রাপ্ত)

১৯৬০-১৯৬৩ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন – শেখ ফজলুল হক মনি

১৯৬৩-১৯৬৫ কে এম ওবায়েদুর রহমান – সিরাজুল আলম খান

১৯৬৫-১৯৬৭ সৈয়দ মাজহারুল হক বাকী – আব্দুর রাজ্জাক

১৯৬৭-১৯৬৮ ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী – আব্দুর রাজ্জাক

১৯৬৮-১৯৬৯ আব্দুর রউফ (বহিষ্কৃত) – খালেদ মোহাম্মাদ আলী

১৯৬৯-১৯৭০ তোফায়েল আহমেদ – আ স ম আব্দুর রব

১৯৭০-১৯৭২ নূরে আলম সিদ্দিকী – শাহজাহান সিরাজ (বহিষ্কৃত), ইসমত কাদির গামা

১৯৭২-১৯৭৩ শেখ শহিদুল ইসলাম – এম এ রশিদ

১৯৭৩-১৯৭৪ মনিরুল হক চৌধুরী – শফিউল আলম প্রধান (বহিষ্কৃত), মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন

১৯৭৬-১৯৭৭ এম এ আউয়াল (আহবায়ক)

১৯৭৭-১৯৮১ ওবায়েদুল কাদের – বাহালুল মজনুন চুন্নু

১৯৮১-১৯৮৩ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন – খ ম জাহাঙ্গীর

১৯৮৩-১৯৮৫ আব্দুল মান্নান – জাহাঙ্গীর কবির নানক

১৯৮৬-১৯৮৮ সুলতান মোহাম্মাদ মন্সুর – মোঃ আব্দুর রহমান

১৯৮৮-১৯৯২ হাবিবুর রহমান (বহিষ্কৃত), শাহে আলম (কার্যকরী) – আসীম কুমার উকিল

১৯৯২-১৯৯৪ মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী – ইকবালুর রহিম

১৯৯৪-১৯৯৮ এ কে এম এনামুল হক শামীম – ইসহাক আলী খাঁ পান্না

১৯৯৮-২০০২ বাহাদুর বেপারী – অজয় কর খোকন

২০০২-২০০৬ লিয়াকত সিকদার – নজরুল ইসলাম বাবু

২০০৬-২০১১ মাহমুদ হাসান রিপন – মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন

২০১১-২০১৫ এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ – সিদ্দিকী নাজমুল আলম

ছাত্রলীগ : সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের নাম ও মেয়াদকাল

বাড়ী/অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র (নমুনা)

বাড়ী/অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র (নমুনা)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

“মাসিক উচ্ছেদযোগ্য বাড়ী/অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র দলিল”

১ম পক্ষ                    : বাড়ীর মালিক
নাম                            : মোঃ হারুনুর রশীদ
পিতার নাম                 : মৃত কোববাত মিয়া
ঠিকানা                      : বাড়ী নং ……………….
মোবাইল                   :……………………

জাতীয় পরিচয়পত্র নং  : ……………………
২য় পক্ষ                     : ভাড়াটিয়া
নাম                           : dokan.কম, প্রোপাইটর, করিম মিয়া
পিতার নাম                ……………………
ঠিকানা                      : ………………
মোবাইল                : ০১…………।।

জাতীয় পরিচয়পত্র নং ………………

অফিস ভাড়ার চুক্তিনামা:

অদ্য ৩০ নভেম্বর ২০১৫ প্রথম পক্ষ  , বাড়ীর মলিক, জনাব  মোঃ হারুনুর রশীদ , পিতা মৃত কোববাত মিয়া, বাড়ী ন……………………………………………………মালিক  পক্ষ এবং দ্বিতীয় পক্ষ-ভাড়াটিয়।……………………………।
উভয়ে প্রথম পক্ষের অবস্থিত ৫.২৫ শতাংশ সম্পত্তির বাড়ী নং ………………………… তিনতলা  বাড়ীর দ্বিতীয় তলায় মোট ১৬৫০  বর্গফুটের ১৭ ফুট × ১৬ ফুট = ২৭২ বর্গফুট,  একরুমের রেডি বাস……………………………………………। এর নিমিত্তে ২য় পক্ষ ১ম পক্ষ হতে এক বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিচ্ছে।

অদ্য ৩০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখ স্বাক্ষীগনের সামনে উভয়  পক্ষ নিন্ম লিখিত শর্ত মোতাবেক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়।

১। ভাড়াকৃত অংশের পরিমাণ  ২৭২ বর্গফুট । তিনতলা  বাড়ীর দ্বিতীয় তলায়।
২। চুক্তিপত্রের মেয়াদ এক  বছর। এক  বছর পর উভয় পক্ষ সম্মত থাকলে এই চুক্তি পত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবেন অথবা নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন।
৩। ২য় পক্ষ ১ম পক্ষকে ১২০০০   হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করবেন যা প্রথমপক্ষের কাছে ৩ মাসের অগ্রিম বাবদ জমা থাকবে এবং দ্বিতীয় পক্ষ ঘর ছেড়ে দেয়ার তিন মাস আগে ভাড়া দেয়া এই টাকা সমন্বয় করা হবে। অথবা দ্বিতীয় পক্ষ এই টাকার পাওনাদার বলে বিবেচিত হবে।

৪। মাসিক ভাড়া ৪০০০ (চার হাজার) টাকা।

৫। ভাড়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে প্রদেয় হবে।
৬। অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল ২য় পক্ষ বহণ করবে।
৭। এছাড়া প্রয়োজনীয়  উন্নয়ন কাজ ২য় পক্ষের উপর বর্তাবে।
৮। ২য় পক্ষ উক্ত জমিতে কোনো রকম বেআইনি, অসামাজিক বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রম বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। তথাপি যদি আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ কিছু করে থাকে সেজন্য  ভাড়াটিয়ার পক্ষেই এর সকল দায়-দায়িত্ব বহন করবে।
৯। ২য় পক্ষ যেহেতু অনলাইন নিউজ পোর্টাল করবেন সেহেতু ১  বছরের মধ্যে ১ম পক্ষ এই ঘর ফেরত বা চুক্তি পত্রের বাতিলের চেষ্টা করবেন না। অবশ্য প্রথম পক্ষ যদি কোনো শর্ত ভঙ্গ করে সেক্ষেত্রে ৬ মাসের নোটিশে ২য় পক্ষকে ঘরছাড়া করার অধিকার প্রথম পক্ষের রয়েছে।
১০। কোনো কারণে ২য় পক্ষ ঘর ছেড়ে দিতে চাইলে তা ৩ মাস পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং এতে যদি অগ্রিমের টাকা প্রথম পক্ষের নিকট পাওনা থাকে তাহলে প্রথম পক্ষ তা যথাসম্ভব দ্রুত  সময়ের মধ্যে ২য় পক্ষকে পরিশোধ করবেন।

১১। জরুরী প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র বা অন্যকোন কারণে জমির দলিল বা অন্য কোন কাগজের কপি প্রয়োজন হয় তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রাসঙ্গিক ব্যাপারে প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।
১২। আপাতত ২য় পক্ষ ঘরটিতে যাবতীয় ডেকোরেশন করে নেবেন ।
১৩। পরবর্তীতে যদি প্রয়োজন হয় দ্বিতীয় পক্ষ  ব্যবসা বৃদ্ধি করলে বা বৈধ ব্যবসার জন্য কাউকে অংশীদার নিলে তাতে প্রথম  পক্ষের কোন আপত্তি থাকবেনা।
১৪। বাড়ীর মালিকানা ও অন্যান্য ব্যাপারে আইন গত অন্য কোন সমস্যা থাকলে এ ব্যাপারে ১ম পক্ষই দায়িত্বশীল বলিয়া বিবেচিত হবেন। তা কোনোভাবেই দ্বিতীয় পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত হবেনা।
১৫। অগ্রিম এর ১২০০০ (বারো  হাজার) টাকা প্রথম পক্ষকে দ্বিতীয় পক্ষ ঘরে উঠার আগেই বুঝিয়ে দেবেন।

১৬। দ্বিতীয় পক্ষ এর মূল নকশায় কোনো পরিবর্তন করতে পারবেন না।
১৭। এক  বছরকাল সময়ের মধ্যে মূল স্থাপনায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে কোনরূপ ক্ষতি সাধিত হলে তা প্রথম পক্ষই মেরামত করিবেন।
১৮। ছয় মাসের  মধ্যে প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে সরাতে চাইলে দ্বিতীয় পক্ষ যে পরিমান স্টাবলিশমেন্ট খরচ করবে তার ২০% প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে প্রদান করবে ।
১৯। এক  বছর সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় পক্ষ ভাড়া বা অগ্রিম বৃদ্ধি করতে পারবেন না।
২০। এক বছর পর ঊভয়পক্ষ চাইলে প্রতি বছর চুক্তিপত্র নবায়ন করা যাবে।
২১। আগামী ০১/১২/২০১৫ … তারিখ হতে এক বছর মেয়াদকাল শুরু হবে এবং তা আগামী ৩০/১১/২০১৬ তারিখ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এই মর্মে   প্রকাশ থাকে যে উভয় পক্ষ এবং স্বাক্ষীগন সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা স্বেচ্ছায়  স্বজ্ঞানে অন্যের বিনা প্ররোচনায় এই চুক্তিপত্রের সমুদয় শর্ত পড়ে বুঝে এই চুক্তিপত্রে অদ্য ৩০ নভেম্বর  ২০১৫, প্রথম পক্ষের বাড়ী –……………………………………………………………………।।এই ঠিকানায় বেলা ১০ ঘটিকার সময় স্বাক্ষর করেছেন।

স্বাক্ষরঃ
মালিক, ১ম পক্ষ:

ভাড়াটিয়া, ২য় পক্ষ:

স্বাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষরঃ
১। … … … … … … … … … …
২। … … … … … … … … … …
৩। … … … … … … … … … …
৪। … … … … … … … … … …

…………………………………………………………………………………………………………………………………

বি দ্রঃ ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প(১০০ টাকার তিনটি) এ ভাড়ার চুক্তিপত্র করতে হয়।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করার জন্য সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখি: বাহাউদ্দিন নাছিম

Kbd A F M Bahauddin Nasim MP - কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম) এমপি
Kbd A F M Bahauddin Nasim MP - কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম) এমপি

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করার জন্য সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখি: বাহাউদ্দিন নাছিম

আওয়ামী লীগের ২০ তম  জাতীয় সম্মেলনের দুই দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর আংশিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির আংশিক নাম ঘোষণা করেন। উক্ত কমিটিতে  সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কৃষিবিদ  আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

Kbd A F M Bahauddin Nasim MP - কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম) এমপি
Kbd A F M Bahauddin Nasim MP – কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম) এমপি

দুর্দিনে দলে ইতিবাচক ভূমিকার কারণে বাহাউদ্দিন নাছিম দলের সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কর্মীবান্ধব নেতা বলে দলে তার বিশেষ সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠনের মাধ্যমে তার মেধাবী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। আজ তাকে পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। পলিটিক্সনিউজ২৪.কম এর প্রকাশক, কৃষিবিদ সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলক এর  সাথে নানা বিষয়ে  কথা বলেন পুনঃনির্বাচিত কেন্দ্রীয়  সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি ।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার  অনুভূতি  জানতে চাইলে তিনি বলেন  “বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ আমাকে দলের সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আমার প্রাণের সংগঠন। যেখানেই যে অবস্থায় আছি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করার জন্য সবসময়  নিজেকে প্রস্তুত রাখি। দলের জন্য নিজেকে সবসময় উজাড় করে দিয়েছি এবং সবসময় দলের জন্যই কাজ করে যাবো”।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থেকে দলকে কিভাবে সেবা করবেন বলে ভাবছেন, জানতে চাইলে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “জীবনের প্রায় সবটুকু সময় দলকে দিয়েছি। সবসময় দলকে শক্তিশালী ও এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করেছি। ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে সাংগঠনিক ভাবে আরও বেশি শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাবো”।

আ.লীগের ৫ প্রার্থীর নাম ঘোষণা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাবেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ৬টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কারা জানিয়ে দিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে দলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জরিপে এগিয়ে থাকলেও বিতর্কের কারণে কক্সবাজারের আব্দুর রহমান বদি ও টাঙ্গাইলের আমানুর রহমান খান রানাকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বদির জায়গায় তার স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী মনোনয়ন পাচ্ছেন। আর টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে রানার জায়গায় মনোনয়ন পাচ্ছেন তার বাবা আতাউর রহমান খান।

বিতর্কের কারণে আবদুর রহমান বদিকে বাদ দেওয়া হলেও তার স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঘরে কী সবাই অপরাধী? আপনি অপরাধী হলে কী পরিবারের সবাই খারাপ? বদি সম্পর্কে যে কন্ট্রোভার্সি আছে, তার প্রমাণ কী আছে? তবু কন্ট্রোভার্সি থাকায় অলটারনেটিভ বেছে নিয়েছি আমরা।’

টাঙ্গাইলে ঘাটাইল আসনের এমপি রানার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একটি মার্ডারের অভিযোগে রানা জেলে আছেন। তাই তার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আতাউর রহমান খান মনোনয়ন পাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘মাশরাফি নড়াইল-২ আসনেই নির্বাচন করবে। ওখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির ছিল। উনি এই আসনটি জোটের জন্য সেক্রিফাইস করেছেন।’

এছাড়া ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দুটি আসনে নির্বাচন করবেন। একটি টুঙ্গিপাড়া আরেকটি পীরগঞ্জ আসনে। দলের বাকি সবাই একটি আসনে নির্বাচন করবে। আমি এবার নোয়াখালী-৫ আসনে নির্বাচন করবো’ বলেও জানান এ আওয়ামী লীগ নেতা।

আসন বণ্টন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘শরিকদের ৬৫-৭০টি আসন দেওয়া হবে। চূড়ান্ত তালিকা ২৫ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর: ইসিকে বিএনপি

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ডেকে নিয়ে ব্রিফ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, সরকারি দলের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) বিএনপির পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র জমা দেন।

চিঠিতে বলা হয় গত, ১৩ নভেম্বর রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিং করে নির্বাচন কমিশন। ব্রিফিং শেষে অফিসাররা যখন যার যার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়া দেন ঠিক তখনই জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রধানমন্ত্রীর কার‌্যালয়ে তলব করা হয়। পরে  আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে সরকারি দলের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিং করার হয়।

সরকারের এমন আচরণ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিরাট অন্তরায়। সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এর বিরুদ্ধে অশনি সংকেত বলে দাবি করে বিএনপি।

হেভিওয়েটরাও ‘নানা কারণে’ বাদ পড়তে পারেন: কাদের

আসছে জাতীয় নির্বাচনে ‘নানা কারণে’ হেভিওয়েট প্রার্থীরাও মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

হেভিওয়েট ব্যক্তি, সাংসদ কিংবা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে কিনা- এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পড়তে পারেন, এ মুহূর্তে বলবো না। চমক বলবো না, নানা কারণে বাদ পড়তে পারেন।’

তবে জনপ্রিয়তা যাচাই জরিপে এগিয়ে থাকলেও কক্সবাজার-৪ আসনের (টেকনাফ-উখিয়া) দলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা মনোনয়ন পাচ্ছেন না- এটা নিশ্চিত বলে জানান কাদের।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন বলেন, ‘বদির আসনে তার স্ত্রী মনোনয়ন পেতে পারেন। আর রানার বাবা আতাউর রহমান খান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, ছেলের আসনটি হয়তো বাবাই পাবেন।’

এসময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন- বদিকে বাদ দিয়ে তার স্ত্রীকে মনোনয়ন কেন- উত্তরে কাদের বলেন, ‘ঘরে কি সবাই অপরাধী, আপনি অপরাধী হলে কি সবাই অপরাধী বা পরিবারের সব লোক খারাপ? বদি সম্পর্কে যে কন্ট্রোভার্সি আছে, তার কোনও প্রমাণ আছে? আমরা অলটারনেটিভ বেছে নিয়েছি।’

চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন আপাতত শেষ হয়েছে। এখন জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আসন বণ্টন নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। আশা করি ২৪ বা ২৫ নভেম্বরের মধ্যে তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করতে পারবো।’

মহাজোটের শরিকদের কয়টি আসন দেয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘আমরা বরাবরই উইনেবল প্রার্থী চেয়েছি। শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০ আসন দেয়া হবে। নির্বাচনে সহজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ভাবার কারণ নেই। তাই শরিকদের কাছেও বিজয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী প্রার্থী চাওয়া হয়েছে।’

সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর আসে- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ আত্মগোপনে আছেন! সবশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেও হঠাৎ এরশাদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, তাকে সিএমএইচে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

এবার কি এরশাদের মহাজোট ছাড়ার কোনও আশঙ্কা আছে- এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করতে যাচ্ছি। কোনও ফাঁকফোকর নেই, এরশাদ সাহেবের অধিকার আছে, তিনি যদি অন্য কোথাও চলে যান, বাধা দিতে পারব না। তবে মহাজোটের সমঝোতায় কোনও বিঘ্ন ঘটবে না।’

স্কাইপের মাধ্যমে তারেক রহমানের দলীয় সাক্ষাৎকারগ্রহণে অংশ নেয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে- উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘অলরেডি হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামির এ ধরনের বক্তব্য প্রচার করা সাইবার ক্রাইম হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।’

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় রাখতে ভারতের কোনও ভূমিকা থাকবে কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘ভারত কি পারবে আমাদের জেতাতে? জনগণ যদি ভোট না দেয় তবে আমরা জিতবো কি করে? দেশটা আমাদের। আর ভারত আওয়ামী লীগকে কনটিনিউ করাবে- এটা তো ইমপসিবল।’

পুলিশ হেড কোয়ার্টারে নীলনকশা হচ্ছে: ফখরুল

অতীতের দুটি নির্বাচনের মতো এবারও পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বসে সরকারের পক্ষে নির্বাচনী নীলনকশা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) গুলশান কার্যালয়ে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের মধ্য বিরতিতে তিনি সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি, পুলিশ যে ভূমিকা পালন করেছে তা ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি পুলিশকে দিয়ে আবারও একইভাবে নির্বাচনে কারচুপি করার জন্য নীলনকশা তৈরি করা হচ্ছে। এবং যে কর্মকতা পুলিশের সদর দফতরে বসে গেল নির্বাচনে পরিকল্পনা করেছিলেন, সেই একই পুলিশ কর্মকতা আবারও হেড কোয়ার্টারে বসে নীলনকশা তৈরি করছেন- কিভাবে ভোটের ফলাফল সরকারের পক্ষে নিয়ে আসা যায়।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকাকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু এই নির্বাচন এখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনও দায়িত্ব পালন করছে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি একইভাবে পুলিশ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে এবং হয়রানি করছে। জামিনের জন্য যারা যাচ্ছেন বা জামিন পাচ্ছেন তাদের জামিনে বিলম্ব করা হচ্ছে। তাদেরকে জামিনে বের করা হচ্ছে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা খুবই স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যাদের ওপর তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে এবং নির্বাচনের জন্য একটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে এখনও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের ভূমিকা আজ জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে আমাদের লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমরা আবারও এই বিষয়টা তুলে ধরছি। নির্বাচন কমিশন যদি সমতল ভূমি তৈরি না করে, লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি না করে, পুলিশের গ্রেফতার বন্ধ না করে, তাহলে এই নির্বাচন জনগণের কাছে কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, নির্বাচনে যেতে চাই এবং যাচ্ছি। এজন্য সব ব্যবস্থাও নিচ্ছি। আমি আশা করবো নির্বাচন কমিশনের বোধদয় হবে। তারা জেগে উঠবে এবং তাদের সাংবিধানিকভাবে যে দায়িত্ব তাদের রয়েছে, যে ক্ষমতা তাদের রয়েছে, সে ক্ষমতা দায়িত্ব প্রয়োগ করে তারা তাদের দায়িত্ব তারা পালন করবে।’

মির্জা ফখরুল, ‘পুলিশ কর্মকর্তাদের যে পরিবর্তন আমরা চেয়েছিলাম, ভোটের আগে প্রত্যেক জেলায় সেগুলোর পরিবর্তন করতে হবে।’

আজ তৃতীয় দিনের মতো বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার চলছে। তৃতীয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের-৩৬ আসনে ২৬৯ জনের সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে। বিকেলে কুমিল্লা ও সিলেটে সাক্ষাৎকার চলবে।

পর্যবেক্ষকরা ‘মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকবে, শুধু দেখবে’ : ইসি সচিব

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষকদের শুধু ‘মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে’ পর্যবেক্ষণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দেশি পর্যবেক্ষকদের করণীয় সম্পর্কে ব্রিফিংয়ের সময় এ কথা বলেন ইসি সচিব। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দেশি পর্যবেক্ষকরা কী করতে পারবেন আর কী করতে পারবেন না—সেই করণীয় তুলে ধরতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছে  ইসি।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা ব্রিটেনে কতগুলো পুলিশ দেখি, (আপনারা) দেখেন নাই? ব্রিটেনে পুলিশ আছে, এইভাবে স্ট্যাচুর (মূর্তি) মতো দাঁড়িয়ে থাকে, গলায় ঝুলিয়ে। (তারা) শুধু দেখবে, অবজার্ভ (পর্যবেক্ষণ) করবে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষকদের সামনে ক্যামেরা ধরবেন। কিন্তু আপনারা কোনো কথা বলতে পারবেন না। তারা (সাংবাদিক) বলবে, আপনি একটু বলেন, মনের উৎসাহে চেহারা দেখানোর জন্য কমেন্ট করতে পারবেন না। লাইভে (সরাসরি সম্প্রচার) করতে পারবেন না, ইন্টারভিউ (সাক্ষাৎকার) দিতে পারবেন না।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসি সচিব জানান, পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে, পর্যবেক্ষক সংস্থাও কোনো কথা বলতে পারবে না। প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের বলতে পারবে। এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

ব্রিফিংয়ের কার্যপত্র সূত্রে জানা যায়, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোট কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না পর্যবেক্ষকরা। ভোট প্রদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভোট কক্ষে জটলা করতে পারবেন না। এমন কোনো আচরণ বা কাজ করা যাবে না, যা কোনো দলের প্রার্থীর পক্ষে যায়। লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা যাবে না।

ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কমিশন থেকে দেওয়া পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্রটি সবসময় গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে পর্যবেক্ষণ শুরু করবেন। এ সময় ভোট গ্রহণের কাজে যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সে দিকেও খেয়াল লাখতে হবে পর্যবেক্ষককে। অন্য পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদেরকেও পর্যবেক্ষণ কাজে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেয় ইসি। এ ছাড়াও পর্যবেক্ষণ নীতিমালা মেনে চলার পরামর্শ দেয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

বিভিন্ন সংগঠনের আজ এবং আগামীদিনের কর্মসূচী

বিভিন্ন সংগঠনের আজ এবং আগামীদিনের কর্মসূচী

(প্রতিদিন রাত ১১ টার মধ্যে পরবর্তী দিনের কর্মসূচীর তথ্য  politicsnews24.com/events এ পাবেন। যেকোনো রাজনৈতিক/ অরাজনৈতিক কর্মসূচির তথ্য, সংবাদ, ছবি আমাদের পাঠান news.politicsnews24@gmail.com / ০১৭১১-৪৬০৬০১ এ )

২১ নভেম্বর , বুধবার , ২০১৮

সংগঠন/নেতা-নেত্রী সময় ও স্থান কর্মসূচী 
মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন  

সকাল ৯:০০ টা ,  শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী

ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান
মন্ত্রী  রাশেদ খান মেনন  

সকাল ১০:৩০  টা , কাজী বশির মিলনায়তন (মহানগর নাট্যমঞ্চ)

ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান
 

মন্ত্রী আমির হোসেন আমু

 

সকাল ১০ঃ৩০ টা , হোসনী দালান উত্তর গেইট, লালবাগ

 

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ:) উপলক্ষে  সেমিনার ও মিলাদ মাহফিল

 

এসথেটিক ডারমাটোলোজী সোসাইটি অফ বাংলাদেশ

 

 

বিকাল ৩টায় , ভিআইপি লাউঞ্জ , প্রেস ক্লাব

 

সংবাদ সম্মেলন

 

রেজভীয়া দরবার শরীফ

 

সকাল ১০টায় , তৃতীয় তলা কনফারেন্স লাউঞ্জ-৩, প্রেস ক্লাব

 

আলোচনা সভা

বিএনপি সকাল ১১-০০ টায় নয়াপল্টনস্থ  কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স:) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

 

২২ নভেম্বর , বৃহঃস্পতিবার , ২০১৮

সংগঠন/নেতা-নেত্রী সময় ও স্থান কর্মসূচী 
মন্ত্রী আমির হোসেন আমু  

দুপুর ২ঃ৩০ মিনিট , র্ধমরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার , অতীশ দীপঙ্কর সড়ক, বাসাবো

শুভ কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান ও বৌদ্ধ মহাসম্মলেন- ২০১৮
Finance Minister  

At 05.00pm,  at Shilpokola Academy

 

Rada Raman Song Festival-2018

 

২৩ নভেম্বর , শুক্রবার , ২০১৮

সংগঠন/নেতা-নেত্রী সময় ও স্থান কর্মসূচী 
নিচে নামুন

 

২৪ নভেম্বর , শনিবার , ২০১৮

সংগঠন/নেতা-নেত্রী সময় ও স্থান কর্মসূচী 
ওয়ার্কার্স পার্টি  

সকাল ১১ টায় , পার্টির কার্যালয় চত্বরে

সংবাদ সম্মেলন

 

দেখে মনে হচ্ছে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ইসি : ফখরুল

বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ইসি।’ তৃতীয় দিনে আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পুলিশ একইভাবে তফসিল ঘোষণার পরেও বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে এবং হয়রানী করছে।’

নির্বাচনী প্রক্রিয়া এখনও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যাদের ওপর এখন দায়িত্ব বর্তেছে এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য। নির্বাচনের জন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার জন্য, তারা এখন কোনোটাই করছেন না। এ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সরকারের পক্ষে অবস্থা নিয়েছে ইসি।’

হরিণঘাটায় ৭৫ নির্বাচনী কর্মকর্তার মধ্যে ৬৪ জনই আ.লীগ সমর্থক

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জম হোসেন আলাল অভিযোগ করেছেন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করছে স্থানীয় পুলিশ। তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের সমর্থক। আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে যায় বিএনপির এক প্রতিনিধি দল। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসব কথা বলেন আলাল।

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, যেটা আমরা এই মুহূর্তে উনাদের (ইসি) কাছে কাগজ দেইনি কিন্তু আমরা দেব, আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি খুলনার হরিণঘাটা থানায় যারা নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তেমন ৭৫ জনের একটি তালিকা পুলিশ কর্তৃপক্ষ লিখিত আকারে তাদের উচ্ছপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়ে বলেছেন, যে পুলিশ নাকি সেখানে তথ্য সংগ্রহ করেছে, এ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্কমর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং অন্যান্যভাবে অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছেন যে এই ৭৫ জনের মধ্য ৬৪ জনই হচ্ছে আওয়ামী লীগের সমর্থক। এবং তার পাশে লিখে দিয়েছেন নৌকার সমর্থক-আওয়ামী লীগের সমর্থক। সেই কাগজটি পুরোপুরি আমাদের হাতে আসার পরে আমরা আপনাদের কাছে দেব।’

নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না-এ কথা উল্লেখ করে বিএপির এই নেতা বলেন ‘আমাদের কথা হচ্ছে অত্যন্ত পরিষ্কার এবং স্পষ্ট। নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা পালন করা দরকার তারা চেষ্টা করছে মাঝে মাঝে ঝাঁড়া দিয়ে ওঠার কিন্তু কেন যেন তারা পারছে না।’

নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি সঠিকভাবে এগুলোকে অপসারণ করতে না পারেন, আমরা থাকব গিরিপথে কিংবা পাহড়ের একদম নিম্ন পদে আর সরকারি কিংবা তাদের জোট শরিকরা থকাবে পর্বত শৃঙ্গে।’

কামাল হোসেন-মান্নারা ‘বর্ণচোরা’ ও ‘ভণ্ড’ : নাসিম

মোহাম্মদ নাসিম

ড. কামাল হোসেন-মাহমুদুর রহমান মান্নাদের ‘বর্ণচোরা’ ও ‘ভণ্ড’ মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। স্বাধীনতাবিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে তাদের ঐক্য করা ‘জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের’ বলেও মন্তব্য করেছেন ১৪ দলের এই সমন্বয়ক।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ১৪ দলের মতবিনিময় শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিম বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনরা একসময় আওয়ামী লীগে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু মন্ত্রীও করেছিলেন। সেই কামাল হোসেন এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের জোটসঙ্গীদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের নয়, জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ এসব বর্ণচোরা ভণ্ডদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে ব্যালটের মাধ্যমে।’

এ সময় নির্বাচন সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান ১৪ দলের এ মুখপাত্র।

তিনি বলেন, ‘একটা অপশক্তি আমাদের সংখ্যালঘু ভাইবোনদের ভয়ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তাদেরকে অনেক সময় আঘাত করার চেষ্টা করে। আমাদের অনুরোধ থাকবে নির্বাচন কমিশনের কাছে, অবশ্যই যেহেতু নির্বাচন শুরু হয়ে গেছে, এখন থেকে আমাদের সংখ্যালঘু ভাইবোনরা যে সকল এলাকায় বসবাস করেন, সেসব এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্যে। ’

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাসরত এলাকাগুলোতে নির্বাচন পরবর্তীকালীন সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

বিজয়ের মাসে নির্বাচন বিধায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরই জয় হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নাসিম। তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরই জয় হবে। এই মাস বিজয়ের মাস, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মাস। ইনশাআল্লাহ ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অঙ্গীকারপত্র ঘোষণা করবেন। শেখ হাসিনার বিজয় সুনিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ ।’

আজ আমাদের আনন্দের দিন: রওশন

রওশন এরশাদ

আজ আমাদের আনন্দের দিন। অনেক নবীন এবার প্রার্থী। এতে আমি খুবই খুশি হলাম। জাতীয় পার্টির (জাপা) ক্ষমতার সময় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আর কেউ করতে পারেনি। বললেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানের ইমানুয়েল কনভেনশন হলে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

রওশন এরশাদ বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের উন্নয়ন করার সময় পাননি। কিন্তু আমরা যে উন্নয়ন করেছিলাম, তা ছিল ধারাবাহিক।

তিনি আরও বলেন, এক এলাকায় একজন প্রার্থী হবেন। কিন্তু বাকি সবাইকে তাকে সমর্থন করে কাজ করতে হবে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হবার আগ্রহ বেড়েছে, এটা অত্যন্ত ভালো দিক।

এসময় দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ করে বক্তব্য রাখেন।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে। রাজনীতির কারণে অন্য জোটে যদি যেতে হয়, সেই সিদ্ধান্ত এককভাবে আমি নেবো। তোমরা জানো, এখনও আমার নামে মামলা আছে।

তিনি বলেন, আজ আমার সঙ্গে অনেক লোক। অথচ এক সময় পাশে কেউ ছিল না। সত্যি আজ জাপার দুঃখ ঘুচে গেছে।

এরশাদ বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাইকে প্রার্থী করতে পারবো না। আমি যাকে যোগ্য মনে করবো, মনোনয়ন দেব। আর এটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।

ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার চাইলো বিএনপি

বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার দাবি করেছে বিএনপি।

শুধু সচিব নয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জোনের উপ-কমিশনার আর ও সচিবালয়ের যুগ্ম সচিবেরও শাস্তি চাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে আচরণবিধি পালন সংক্রান্ত চিঠির পরই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দলটি।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়। বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই বিচার চাওয়া হয়। চিঠিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে দেয় প্রতিনিধি দল।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পরেরদিন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাস্তা বন্ধ করে যানজট সৃষ্টি করে মনোনয়নপত্র বিতরণ করে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঢাকা ঢোল পিটিয়ে মোটরসাইকেল, গাড়ি, পিকআপসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধানমন্ডিতে যায় এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে মনোনয়ন সংগ্রহ করে।’

‘এছাড়া নিজেদের প্রার্থীদের মধ্যে দুইজন নিহত হয়। এসময় ঘটনায় পুলিশি তো তৎপরতা না নিয়ে বিএনপি মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে স্বতঃস্ফূর্ত জনগণের ঢল দেখে নির্বাচন কমিশন সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের গায়ে জ্বালা ধরে। কমিশন নড়েচড়ে বসে। কথিত আচরণবিধি খড়গ নেমে আসে বিএনপির ওপর। ইসি সচিব গণমাধ্যম আচরণবিধি পালনের কঠোর হুমকি নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করে। এটি একটি পক্ষপাতমূলক আচরণ।’

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘১৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশনা নেতাকর্মী সমর্থকসহ জনগণের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্থ করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের দেয়া বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক এবং ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে ঘটনা ঘটানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।’

চিঠিতে প্রশ্ন রাখা হয়, ‘আওয়ামী লীগের জনসমাগমে এই ঘটেনি কিন্তু বিএনপি সময় ১৪ নভেম্বর এঘটনা কিভাবে ঘটল?’

চিঠিতে দাবি করা হয়, ‘এই সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ে করা হয়েছে। পুলিশ তিনটি মামলায় ৪৭২ জন নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেছে। ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং ৩৮ জন নেতাকর্মীকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন চিঠির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির চরম বিঘ্ন সৃষ্টি, নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছে।’

এমতাবস্থায় ‘নির্বাচন কমিশনের সচিব, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জোন উপ-পুলিশ কমিশনার এবং উদ্দেশ্যমূলক জারিকৃত পত্রের স্বাক্ষরকারী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত আইনের আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হব।’

প্রসঙ্গত পুনঃনির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।

‘সরকার বলপ্রয়োগ করেই ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে, জনগণের সমর্থন নিয়ে নয়’

বেগম জিয়ার সাজা বাড়ানোর আবেদন বেআইনি বললেন রিজভী

দেশে ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম স্কাইপ বন্ধ করে দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘সরকার কর্তৃক তারেক রহমানের কণ্ঠের আওয়াজকে বাধা দেওয়ার অর্থই হচ্ছে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা। আর এ জন্য স্কাইপ বন্ধ করা হয়েছে। আসলে সরকার বলপ্রয়োগ করেই ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে, জনগণের সমর্থন নিয়ে নয়।’

সোমবার (১৯ নভেম্বর) রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্কাইপ বন্ধ করার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তা চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, ‘টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্কাইপ বন্ধ করে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত বিটিআরসি ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্কাইপের সেবা বন্ধ করে দিয়ে এক ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানস্থ কার্যালয়ে ইন্টারনেটভিত্তিক সকল যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন বলেছেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। তার এই বক্তব্যের পরপরই সরকার নিয়ন্ত্রিত বিটিআরসি কর্তৃক স্কাইপ বন্ধ করে দেওয়ায় আবারও প্রমাণিত হলো নির্বাচনি মাঠ আওয়ামী জোটের একচেটিয়া দখলে থাকবে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব দাবি করেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নমিনেশন প্রত্যাশীদের সঙ্গে স্কাইপে কথা বলা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়। কমিশন সচিব এ বিষয়টি নিশ্চিত করার পরও তড়িঘড়ি করে বিটিআরসিকে দিয়ে স্কাইপ বন্ধ করে দেওয়া সরকারের নিম্নরুচির পরিচায়ক। সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার জন্য ক্লান্তিহীনভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে।’

রিজভী অভিযোগ করেন, ‘সরকার ও সরকার প্রধান ভিন্ন মত, বিরোধী দল, বিরোধী কণ্ঠস্বর নীরব করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জনগণের নিরাভিমান আনুগত্যই শেখ হাসিনার কাম্য। যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে ততদিন গণতন্ত্রের ফাঁড়া কাটবে না এবং দেশ থেকে বিপদ দূর হবে না।’

জনপ্রিয়

গরম খবর