বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৯
Home Blog Page 106

রাজধানীতে ১৫শ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৭ মামলা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি

গত সপ্তাহে রাজধানীতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী ১৫ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর খিলগাঁও ও রামপুরা থানায় এসব মামলা করা হয়েছে।

সব মামলাতেই বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান।

তিনি জানান, পুলিশের কাজে বাধা দেয়া, হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনে এসব মামলা হয়েছে। খিলগাঁও থানার ৩ মামলায় ৭৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর রামপুরা থানায় চারটি মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশের খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নাদিয়া জুঁই বলেন, বিএনপির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মামলাগুলো হয়েছে। বিক্ষোভের দিন ও বিক্ষোভের আগে-পড়ে এসব মামলা হয়েছে। মামলাগুলোয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কোনো নেতাকে আসামি করা হয়নি বলেও দাবি করেন এসি।

উল্লেখ্য, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও বিরোধী দলের আন্দোলনকে সামনে রেখে আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এর আগে পল্টন,  মতিঝিল, শাহবাগ, চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালি, লালবাগ ও শাহআলী থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের আসামি করা হয়েছে। এসব মামলা এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী ঘটনার কোনো সত্যতা মেলেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিএনপির দাবি রাজনৈতিক কারণে এসব গায়েবী ও ভৌতিক মামলা করা হয়েছে।

জাতীয় নয়, হয়েছে জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য: কাদের

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বিএনপির অংশগ্রহণের দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ওটা জাতীয় ঐক্য নয়, জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য হয়েছে।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপি নেতাদের অংশগ্রহণে ঢাকায় ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র সমাবেশ চলার মধ্যে ফেনী শহরে দোয়েল চত্বরে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি করে, সেই বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য হবে, এটা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগকে ছাড়া বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য সম্ভব নয়। যেখানে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ৬৬ পার্সেন্ট, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ৬৪ পার্সেন্ট, সেখানে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য সম্ভব নয়।

ঐক্য প্রক্রিয়া’র সমাবেশ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মহানগর নাট্য মঞ্চের সমাবেশে রাস্তার মানুষ, বারান্দার মানুষ, সব মিলিয়ে ৩০ দলের সমাবেশে দু’হাজারও হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। সাহস থাকলে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতেন। সেই জনবল তাদের নেই

ভোটের সময় দলের নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন, আবার যেন কেউ নাশকতা করতে না পারে। যে কোনও সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে পাহারায় থাকবেন। পোলিং এজেন্টদের আলাদা কমিটি করবেন। আর কেন্দ্র কমিটির পাশাপাশি কেন্দ্র রক্ষা কমিটি করবেন।

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গোরস্থানে গেছে: নাসিম

মোহাম্মদ নাসিম

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চেঁচিয়ে লাভ নেই, ওই ব্যবস্থা গোরস্থানে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শনিবার(২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা হাই স্কুল মাঠে ১৪ দলীয় জোটের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তা হবে তাদের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। এই ভুলের কারণে তাদের রাজনৈতিক অপমৃত্যু ঘটবে। তিনি বলেন, ত আগামী সংসদ নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে বাটি চালান দিয়েও বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড দিলীপ বড়ূয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল প্রমুখ।

সমাবেশের আগে মোহাম্মদ নাসিম তার শ্বশুর সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা মরহুম খোরশেদ আলমের নামে সোনাতলায় ১০ শয্যার একটি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

ষড়যন্ত্রের ঐক্য কোনো ফল দেবে না: মেনন

ড. কামাল হোসেনের ঐক্যকে ষড়যন্ত্রের ঐক্য বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যের মূলশক্তি থাকবে বিএনপি ও জামায়াত। ড. কামাল ও বদরুদ্দোজা চৌধুরী থাকবেন শুধু সাক্ষী গোপাল। এই ঐক্য কোনো ফল দেবে না। আন্দোলন দূরে থাক, তাঁরা একত্রে কোনো কাজই করতে পারবেন না।’

শনিবার (২২ সেপ্টম্বর) রাজধানীর শাহজাহানপুরের আওয়ামী লীগের ১১ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কথাগুলো বলেন মেনন।

রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের মতো জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনটি এখন জগাখিচুড়ি অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন তো দূরের কথা, এই ঐক্য আসলে তাদের মধ্যে কোনো ঐক্যই আনতে পারবে না। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কাছে তাদের ষড়যন্ত্রের ঐক্য ধুয়ে বিলীন হয়ে যাবে।’

শাহজাহানপুর ১১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বাবুলের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহজাহানপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুকিত হাওলাদার প্রমুখ।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে থাকবে বিএনপি: মওদুদ

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আজকের এই দিনটিকে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ‘নতুন মাইলফলক নতুন যাত্রা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান জালিম সরকারের পতনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে থাকবে বিএনপি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আসা করছি অচিরেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত হবে এই স্বৈরাচার সরকারকে সরিয়ে দেয়ার জন্য।’

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শুরুর যারা উদ্যোগ নিয়েছেন তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই। আমরা অনেকদিন ধরে বলে আসছি জাতীয় ঐক্য ছাড়া এই স্বৈরাচার সরকারকে অপসারণ করা সম্ভব নয়। আজ সেই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে।’

পাচঁটি দাবি নিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, ইভিএম বাতিল করতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দিতে হবে।’

আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মওদুদ বলেন, ‘এই জালিমশাহী সরকারকে সরিয়ে দেয়ার জন্য যে কোনও আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে থাকবে বিএনপি।’

‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সূচনা বক্তব্যে বলেছেন, ‘কারও প্রতি প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে নয়, শান্তির বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা সকলে এখানে এক মঞ্চে উপস্থিত হয়েছি। আমরা দেশের মানুষের শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে চাই। জনগণের বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

দেশের চলামান অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একসময় এখানে উপস্থিত হয়েছি যখন দেশে গণতন্ত্র নেই। জনগণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই। দেশে কার্যকর গণতন্ত্র নেই। দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ভরে গেছে দেশ।’

দেশ থেকে দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর হলে বাংলাদেশে শান্তি দৃশ্যমান হবে বলেও মন্তব্য করেন গণফোরাম সভাপতি।

এদিকে সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

মান্না বলেন, ‘দেশ এখন গভীর সংকটে। সাড়ে তিন মাস পর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। যদি এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় তাহলে আবারো ২০১৪ সালের মত ৪২০ মার্কা নির্বাচন হবে। পুরো দেশের মানুষের মধ্যে একটাই আতঙ্ক ও শঙ্কা- আমরা কি ভোট দিতে পারবো? নাকি পুলিশ দিয়ে ভোট বাক্স ভরে সরকার আবারও ক্ষমতায় আসবে?’

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের পরিচালনায় ও ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন ও নিতাই রায় চৌধুরী।

এছাড়াও সমাবেশে উপস্থিত আছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, জাসদ (জেএসডি) একাংশের সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির পক্ষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মহসিন মন্টু, আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর আহমদ, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের প্রমুখ।

খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি দাবি মান্নার

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

শ‌নিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে আয়োজিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগ‌ণের ভোটাধিকার নি‌শ্চিত করার ল‌ক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মান্না বলেন, ‘দেশ এখন গভীর সংকটে। সাড়ে তিন মাস পর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। যদি এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় তাহলে আবারো ২০১৪ সালের মত ৪২০ মার্কা নির্বাচন হবে। পুরো দেশের মানুষের মধ্যে একটাই আতঙ্ক ও শঙ্কা- আমরা কি ভোট দিতে পারবো? নাকি পুলিশ দিয়ে ভোট বাক্স ভরে সরকার আবারও ক্ষমতায় আসবে?’

মান্না বলেন, ‘বর্তমান সরকার আমাদেরকে পানিতে ফেলে দিয়ে সাঁতার কাটার কথা বলেন।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে না সে নির্বাচন কমিশন আমাদের দেশে দরকার নেই।’

সং‌বিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসে‌নের সভাপ‌তি‌ত্বে সমা‌বে‌শে আরও উপ‌স্থিত আছেন বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএন‌পি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হো‌সেন, ড. মঈন খান, ব্যা‌রিস্টার মওদ‌ুদ আহ‌মেদ, বিএনপির পক্ষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও জাসদের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ।

শান্তির বাংলাদেশ গড়তে আমরা এক মঞ্চে এসেছি: ড.কামাল

‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘কারও প্রতি প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে নয়, শান্তির বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা সকলে এখানে এক মঞ্চে উপস্থিত হয়েছি। আমরা দেশের মানুষের শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে চাই। জনগণের বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ড.কামাল বলেন, ‘আপনারা অনেক কষ্ট করে এখানে হাজির হয়েছেন। এজন্য আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই।’

দেশের চলামান অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একসময় এখানে উপস্থিত হয়েছি যখন দেশে গণতন্ত্র নেই। জনগণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই। দেশে কার্যকর গণতন্ত্র নেই। দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ভরে গেছে দেশ।’

দেশ থেকে দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর হলে বাংলাদেশে শান্তি দৃশ্যমান হবে বলেও মন্তব্য করেন গণফোরাম সভাপতি।

ড. কামাল আরও বলেন, ‘জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। জনগণের মত প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সেই লক্ষ্যে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রণয়নের জন্য আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। এখানে অনেক নেতা উপস্থিত হয়েছেন। আশা করি জনগণকে অনুপ্রাণিত করে নিজেদের বক্তব্য পেশ করবেন তারা।’

সমাবেশের শুরুতে শ্লোগান ও বসার জায়গা সংকটে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও পরে তা স্থিতিশীল হয়।

অনুষ্ঠান পরিচালক বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওঠে গিয়ে মাইক্রোফোন হাতে বলেন- ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছি। শ্লোগান বন্ধ করে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করে সহযোগিতা করবেন অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য।’ মির্জা ফখরুলের এ আহ্বানের পর নেতাকর্মীরা শান্ত হন।

এদিকে সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

মান্না বলেন, ‘দেশ এখন গভীর সংকটে। সাড়ে তিন মাস পর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। যদি এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় তাহলে আবারো ২০১৪ সালের মত ৪২০ মার্কা নির্বাচন হবে। পুরো দেশের মানুষের মধ্যে একটাই আতঙ্ক ও শঙ্কা- আমরা কি ভোট দিতে পারবো? নাকি পুলিশ দিয়ে ভোট বাক্স ভরে সরকার আবারও ক্ষমতায় আসবে?’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে না সে নির্বাচন কমিশন আমাদের দেশে দরকার নেই।’

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের পরিচালনায় ও ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন ও নিতাই রায় চৌধুরী।

এছাড়াও সমাবেশে উপস্থিত আছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, জাসদ (জেএসডি) একাংশের সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির পক্ষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মহসিন মন্টু, আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর আহমদ, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের প্রমুখ।

‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র সমাবেশে বিএনপিসহ শীর্ষ নেতাদের যোগদান

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বিএনপি, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) পূর্বনির্বারিত সময় বিকেল ৩টায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে এ সমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশ শুরুর কিছুক্ষণ আগেই নাট্যমঞ্চের সমাবেশস্থলে আসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তার আগে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গণফোরাম নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দিতে থাকেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে দলটির কিছু নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। এসময় তারা ‘জাতীয় ঐক্য জিন্দাবাদ’ বলেও স্লোগান দেয়।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সমাবেশ উপস্থিত হন দলটির স্থায়ী কমিটির আরও তিন সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ ও আবদুল মইন খান।

এর কিছু আগেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি মিছিল সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিকল্পধারা সভাপতি ও যুক্তফ্রন্ট সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর।

এদিকে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশে যুক্তফ্রন্টের শরিক দুই দল জাসদের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায় মাহমুদুর রহমান মান্নাও ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহও যোগ দিয়েছেন সমাবেশে।

বিকেল সাড়ে তিনটায় সমাবেশের সূচনা বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই তাদের এই ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশে এখন মানুষের ভোটাধিকার নেই। মানুষের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়া হয়েছে।’

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

তবে এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত বিকেল ৪টা নাগাদ বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি বি.চৌধুরী সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত হননি।

এবার সড়ক পথে ভোটের প্রচারণায় আ.লীগ নেতারা

এবার ঢাকা থেকে সড়কপথে কক্সবাজার সফরে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর আগে ট্রেনযোগে উত্তরবঙ্গে সাংগঠনিক সফরে গিয়েছিলেন দলটি নেতারা।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সড়কপথে এ সাংগঠনিক সফর শুরু হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই সাংগঠনিক সফরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

যাত্রাপথে তিনি কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ, কুমিল্লা টাউনহল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী ও সীতাকুন্ড এই পাঁচটি এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিবেন।

রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা, লোহাগাড়া উপজেলা, কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাসস্ট্যান্ড, রামু ঈদগাঁ মাঠে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সফরে আরও রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, উপ-প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও উপ-দফর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

সিনহা সত্য কথা লেখায় সরকারের অন্তর্জালা হচ্ছে: রিজভী

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার প্রকাশিত বইয়ে সত্য কথা লেখাতে সরকারের অন্তর্জালা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বন্দুকের নলের মুখে তাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটা কোনও বীরের কাজ নয়, এটি কাপুরুষের কাজ।’

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশে বসেই সৎ সাহসের সঙ্গে কাজ করছিলেন। কিন্তু তার কাছে তো বন্দুক নেই। রাষ্ট্রের বন্দুকধারীরা তার দিকে বন্দুক তাক করে দেশের বাহিরে যেতে বাধ্য করে। আওয়ামী লীগ সরকারের লোকেরা একজন নিরস্ত্র প্রধান বিচারপতিকে সন্ত্রাসীদের কায়দায় বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়। এটা কোনও বীরের কাজ নয়, এটি কাপুরুষের কাজ।’

তিনি বলেন,  ‘সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন সংস্থা। অথচ বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী-উপদেষ্টারা কথা বলার নামে এমন আচরণ করেছেন যেন তারা প্রধান বিচারপতিকে রিমান্ডে নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব তাকে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সামনে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা ধমকাধমকি করেছেন তা সন্ত্রাসী আক্রমণেরই সমতূল্য।’

সাবেক হওয়ার অন্তর্জালা থেকেই সিনহা এটি লিখেছেন-সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘নির্যাতিত এস কে সিনহা সাহেব কি আওয়ামী লীগের মৌসুম দেখে বই প্রকাশ করবেন? আপনারা তো বন্দুকের নল ঠেকিয়ে এস কে সিনহাকে সন্ত্রাসী কায়দায় সাবেক হওয়ার আগেই সাবেক করেছেন। তাই সত্য কথা লিখাতে অন্তর্জালা হচ্ছে আপনাদের।’

তিনি বলেন, ‘ভোটারবিহীন এই সরকার যদি দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে ও নির্বাসনে যেতে বাধ্য করতে পারে, তাহলে প্রশাসন, আইন আদালতকে বাধ্য করে বিচারকের কাছ থেকে মামলা ফেরত এনে সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম জড়ানো তো কঠিন কাজ নয়। গণবিরোধী অবৈধ সরকার যেকোনও কাজই করতে পারে। আজ জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ২১ আগস্টের বোমা হামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। ১/১১ এর সরকার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম তদন্ত করে পেলো না। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কোথাও সন্দেহবশতঃ তারেক রহমানসহ সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করেনি, অথচ আওয়ামী লীগ ২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে নজীরবিহীনভাবে পছন্দের তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে অবসর থেকে ডেকে এনে ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার পুনঃতদন্তের ভার দেয়। সে বিচারকদের কাছ থেকে মামলাটি ফেরত এনে পুনঃতদন্তের নামে তারেক রহমানকে মামলায় জড়িয়ে ষড়যন্ত্রের যাত্রা শুরু করে।’

রিজভী বলেন, ‘আদালত দিয়ে প্রতিশোধ গ্রহণের রমরমা রাজনৈতিক সফলতায় ক্ষমতাসীনরা উল্লসিত। এই অবৈধ সরকার আইন, বিচার সবকিছু কুক্ষিগত করে দেশকে ‘মগের মুল্লুক’ এ পরিণত করেছে। সরকারের ‘গাইডলাইন’ অনুযায়ী ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে কি না, তা নিয়ে জনগণের মনে বড় ধরণের সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।’

সরকারের উন্নয়নের ফানুস ফেটে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের সব ধরনের বক্তব্য, বিবৃতি ও প্রচারকেই জনগণ বাকোয়াস বলে মনে করে। গণতন্ত্রকে বন্দী করে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত দমনের পথ বেছে নিয়ে, মামলা-হামলা-গ্রেফতার করে সরকার বিরোধী দলের নেতাদের ঘুম কেড়ে নিতে চাচ্ছে। তবে আমি আবারও প্রত্যয়দৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই-সরকারের এই সমস্ত অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সম্মিলিত কণ্ঠস্বরে সরকার ও সরকারপ্রধান কতটুকু শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন তা দেখার জন্য জনগণ অপেক্ষা করছে।’

খালেদা জিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনরা দেখা করেছেন। দেশনেত্রী এখনও গুরুতর অসুস্থ। তার হাত, পায়ের ব্যথা আরও তীব্র হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতাকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। অসুস্থতা লাঘবের জন্য বেগম জিয়ার আস্থার হাসপাতাল ও চিকিৎসকদেরকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।’

নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদকে পুলিশ গতকাল গ্রেফতার করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রনিকে নতুন করে আরও একটি অস্ত্র মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড দেয়। আমি দলের পক্ষ থেকে শাহিন আহমেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। মশিউর রহমান রনি’র রিমান্ড বাতিল ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন – বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবীব, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবেদ রেজা প্রমুখ।

বিকেলে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যাচ্ছেন বিএনপি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের তিন শীর্ষনেতা যোগ দিচ্ছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ৪টার দিকে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে তাদের পৌঁছার কথা রয়েছে। অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

এ লক্ষ্যেই শুক্রবার বিকেলে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির এই তিন নেতা বৈঠক করেছেন। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্রেকিংনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ঐক্য প্রক্রিয়ার ঢাকার সমাবেশে বিএনপি প্রতিনিধির উপস্থিতি চেয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় প্রতিনিধি দল চূড়ান্ত করা হয়।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের পর দলটির একটি সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মওদুদ আহমদ শনিবার বেলা তিনটার পর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মহানগর নাট্যমঞ্চের দিকে রওনা হবেন।

তবে শুক্রবার সকালে গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি, পরে জানানো হবে।’

এ বিষয়ে দলটির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতারা ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। তবে তারা কখন যাবেন সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।

‘জাতীয় ঐক্যের সমাবেশে বিশৃঙ্খলা হলে কঠোরভাবে দমন’

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ডাকে বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ করবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এই সমাবেশ নিয়ে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যের সমাবেশকে কেন্দ্র করে যদি কোনো বিশৃঙ্খলা হয় তবে তা কঠোরভাবে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচনী সড়ক যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যাত্রায় আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো। আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোথাও বিবাদ-কলহ থাকলে তা মিটিয়ে এক সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়া হবে। আমাদের সরকারের উন্নয়নয়েই নৌকা ভাসতে ভাসতে আগামী ডিসেম্বরে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে।’

ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন,  ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে স্বাগতম। কিন্তু অশান্তি সৃষ্টি করলে উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এ পথসভা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত ৩০ আগস্ট আকাশ পথে ঢাকা থেকে সিলেটে যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নির্বাচনী যাত্রা। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ট্রেনযোগে উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী যাত্রা হয়। এবার কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে তৃতীয় দফা সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছে দলটি। এ যাত্রা শেষ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর।

আওয়ামী লীগের এই সফরের  আরও রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, উপ-প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও উপ-দফর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

জনপ্রিয়

গরম খবর