বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯
Home Blog Page 107

ক্ষমতায় আসলে বিএনপি প্রতিহিংসা পরায়ণ হবে নাঃ এ্যানী

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী

ক্ষমতায় আসলে বিএনপি প্রতিহিংসা পরায়ণ হবে নাঃ এ্যানী

বিএনপি’র প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। ১৯৬৮ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর গ্রামে জন্ম নেয়া এ্যানি ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক এবং ১৯৯৬ সালে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ২০০১ এবং ২০০৮ সালে পরপর দুইবার লক্ষ্মীপুর ৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন পলিটিক্সনিউজ এর সাথে।

পলিটিক্সনিউজঃ দুঃসময়ে অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটি হচ্ছে। তৃণমূলের অনেকে বলছে এর কারণে দলে দ্বন্দ্ব বেড়ে যাচ্ছে। এই কমিটিগুলো আসলে এই দুঃসময়ে কেন ?

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীঃ আগেই কমিটিগুলো করা দরকার ছিল । সামনে আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আমরা এই কমিটিগুলো করছি । এই মুহূর্তে কমিটি দেওয়া একটা ভালো পদক্ষেপ । দ্বন্দ্ব থাকবে, মতভেদ থাকবে কিন্তু এর মধ্যে আবার এডজাস্ট করে নিতে হবে । এক কথায় আমি বলব এটা আন্দোলনের জন্য সহায়ক ।

পলিটিক্সনিউজঃ তৃণমূল নেতাদের তারেক রহমানের সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোন মাধ্যম নেই। এতে দলীয় কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিনা?

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীঃ তারেক রহমান পরিস্থিতির শিকার, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার, হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার। এক-এগারোর পর বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় সরকার তারেক রহমানকে জড়িয়ে রেখেছে। তারপরেও আমাদের নেতা দলকে শক্তিশালী করার জন্য তৃণমূল নেতা পর্যায়ে হলেও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন ।

পলিটিক্সনিউজঃ খালেদা জিয়া এতদিন জেলে থাকতে পারেন, জেলে নেওয়ার আগে বা জেলে নেয়ার সময় আপনারা কি এটা চিন্তা করেছিলেন ?

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীঃ যদি দেশে আজকে সঠিক বিচার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা যেত না । তিনি প্রতিহিংসার শিকার । মিথ্যা এবং ভুয়া মামলায় তাঁকে জেলে নেওয়া হয়েছে।

পলিটিক্সনিউজঃ বিএনপি ক্ষমতায় আসলে অনেকেই বলেন যে যারা গত ৯ বছর নির্যাতিত হয়েছে তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পাল্টা অ্যাকশন চালাবে এবং এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। এই বিষয়টা কিভাবে দেখছেন?

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীঃ বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন আমরা প্রতিহিংসা পরায়ণ হবোনা । বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না । কিভাবে দেশ ও দশে মিলে দেশের উন্নয়ন করা যায় আমরা সেই লক্ষ্যে অটুট আছি, থাকবো । আমাদের বিএনপি চেয়ারপার্সনের লক্ষ্য হচ্ছে দেশ বাঁচাও, মানুষকে খুন করা না। আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি ,যাব।

পলিটিক্সনিউজঃ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা যারা আছেন তারা অনেকেই ছাত্রদলের প্রডাক্ট না বরং ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য দেখা যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সবাই ছাত্রলীগ করে আসা। এই বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখছেন? বিএনপিতে কি ব্যবসায়ীদের অতিমূল্যায়ন হচ্ছে ?

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীঃ ব্যবসায়ীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে এটা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। স্বেচ্ছাসেবক দল বলুন ছাত্রদল বলুন যুবদল বলুন যারা তৃণমূল থেকে উঠে আসছে তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং আগামীতেও তারা দিবে। ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে গুম খুন হত্যা চলছেই তারপরেও বিএনপি নেতাকর্মীরা রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংগঠনের সাথে জড়িত আছে এবং কাজ করে যাচ্ছে। আপনি দেখাতে পারবেন না বিএনপির কোন জেলার কোন ইউনিটের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে ।

পলিটিক্সনিউজঃ আপনার নির্বাচনী এলাকা নিয়ে আপনার বর্তমান চিন্তা ধারা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীঃ আমি আমার নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুর- ৩ থেকে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আওয়ামী লীগ গতবার জোর করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আমার এলাকাবাসী আমাকে নিরাশ করবেন না ।

৭১ এর চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছি: কানতারা খান

কানতারা খান
কানতারা খান

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কানতারা খান। তার আরেকটি পরিচয় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য , গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ফারুক খানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। কানতারা খান শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি , বি এফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অস্ট্রেলিয়া থেকে বিজনেস ‘ল এবং বিজনেস কমিউনিকেশনে অনার্স এবং লন্ডন থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। সাত বছর যাবৎ তিনি ঢাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন । একই সাথে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসা সামলাচ্ছেন এবং নানা সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করছেন। এমনই একটি সামাজিক সংগঠন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন কানতারা খান।

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম, রাজনীতি এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন পলিটিক্সনিউজের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলকের সাথে।

পলিটিক্সনিউজ: আপনি সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে আছেন। সুচিন্তা ফাউন্ডেশন থেকে কি কাজ করছেন?

কানতারা খানঃ সুচিন্তা ফাউন্ডেশন তরুণদের একটি প্ল্যাটফর্ম। ৭১ এর চেতনায় তরুণরা কিভাবে এগিয়ে যাবে আমরা সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করি। আমরা যদি আমাদের সঠিক ইতিহাস না জানি তবে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না। কেন ৪৮ হয়েছিল, কেন ৫২, ৫৬ , ৬৬ এসেছিল, ৬ দফা কাকে বলে, একাত্তরের নয় মাস কেন যুদ্ধ করেছিলাম আমরা, এর প্রত্যেকটা জিনিস আমাদের তরুণ প্রজন্ম যদি জানতে না পারে তাহলে তারা জানবে না কত রক্ত, কত কষ্টের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্যে আজ অবধি প্রতিটি বাঙালি কাজ করে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্য আমাদের, যে মানুষটি আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আমরা তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি। গুটিকয়েক মানুষের হাতে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। দুঃখ যেমন আছে তেমনি গর্বের বিষয় আজ তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সকলের মধ্যমনি, আদরের হাসু আপা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

একটি শিক্ষিত পরিবারে কিভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তার একটি নমুনা আমরা দেখছি। বঙ্গবন্ধু তার মেয়েকে সুশিক্ষা দিয়েছিলেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। একইভাবে দেশের উন্নয়নের জন্য রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিও কাজ করে যাচ্ছেন।

এই যে একটি পরিবার যে পরিবারটি আমাদেরকে স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং এখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের কে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, একসাথে কাজ করতে হবে। সেখান থেকে সুচিন্তার জন্ম এবং সুচিন্তার কাজ। সুচিন্তা শব্দটির অর্থ সুন্দর চিন্তা। দেশের জন্য কিছু করতে হলে অবশ্যই সুন্দর চিন্তা করতে হবে।

পলিটিক্সনিউজ: আপনার রাজনীতিতে আসার চিন্তা আছে কিনা?

কানতারা খানঃ রাজনীতির মানে যদি হয় দেশের জন্য কাজ করা দেশকে ভালোবাসা, যদি মানে হয় একটু উন্নত দেশ কে দেখার জন্য নিজ নিজ স্থান থেকে কাজ করা, তবে আমি বলব রাজনীতিতে আমি এখনো আছি। আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আছি। আমি তাদেরকে যখন জ্ঞান দান করি তখন তারা যখন দেশের জন্য কাজ করবে তখন সেটা রাজনীতি অথবা আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে আমি যখন কাজ করি তখন তা যখন দেশের উন্নয়নের জন্য অবদান রাখে তখন আমি মনে করি তা দেশের জন্য কাজ করা, আমি বলব তখনও আমি রাজনীতিতে আছি। সুচিন্তা ফাউন্ডেশন থেকে আমি যখন কাজ করছি যখন তা উন্নয়নের কাজে লাগছে তখন আমি মনে করি তাও রাজনীতির অংশ। দেশের জন্য কাজ করাকে যদি রাজনীতি বলা হয় তবে আমি রাজনীতিতে আছি এবং দেশের জন্য কাজ করতে চাই।

কানতারা খান
কানতারা খান

পলিটিক্সনিউজ: আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির কাজের পরিধি এবং কি কাজ করছেন সে বিষয়ে জানতে চাই।

কানতারা খানঃ বঙ্গবন্ধুর বৈদেশিক নীতি ছিল সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। সেই নীতির উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটি কাজ করে।

দিনে দিনে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে। তবে কখনো কখনো তৃতীয় শক্তি, কিছু ভুল মানুষ বা পথভ্রষ্ট দল কিছু ভুল খবর রটিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করে। আন্তর্জাতিক কমিটির অধীনে উপ-কমিটিতে আমরা যার কাজ করছি, তারা বিভিন্ন দূতাবাসের পলিটিকাল উইং, আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা বাংলাদেশে কাজ করে তাদের সাথে সম্পর্ক রেখে সঠিক তথ্য দেয়ার চেষ্টা করি। বিভিন্ন সময় আমাদের মিডিয়া যে তথ্য দেয় তা তাদের কাছে সঠিক ভাবে যায় না। সব সময় তাদের সাথে সিনিয়রদের যোগাযোগ হয়তো সম্ভব হয়না। সে জায়গা থেকে আমরা উপ কমিটি থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করি।

যেমন কিছুদিন আগে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন গুলো হয়েছে এবং সেখানে অনেকেই তাদেরকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দুই এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে এবং কখনো কখনো মিডিয়ার আংশিক তথ্যের কারণে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। তাদেরকে সঠিক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি দূরীকরণে সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটি কাজ করে।

পলিটিক্সনিউজ: আমরা জানি আপনি একজন নারী উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ নারীদের জন্য কেমন?

কানতারা খানঃ একটা সময় ছিল যখন নারীকে আলাদা ভাবে দেখা হতো। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানের কারণে আজকের নারী আর সে অবস্থায় নেই। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বিভিন্ন সেক্টরে নারীদের জন্য অনেক সুযোগ আছে তবে এটি এখনো “আপ টু দ্যা মার্ক” হয়নি। এর একটি বড় কারণ আমরা পারিবারিকভাবে এখনো সে জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। নারীর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে তার পরিবারের ভূমিকা অনেক বেশি। যেমন আমার এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার পরিবার অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। তারাই আমাকে এগিয়ে দিয়েছে।

আজকের সমাজেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি বাবা, স্বামী বা ভাইরা নারীদের সেভাবে এগিয়ে দিচ্ছে না। তবে যেহেতু বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে এবং সরকার বিভিন্ন রকম পলিসি চেঞ্জ করেছে, সময়ের সাথে সাথে এ বিষয়টা এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। আগে যেখানে ৭ টি মন্ত্রণালয় নারীদের বিষয়ে কাজ করত এখন সেখানে ৩৯ টি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করি সেই দিন খুব বেশি দূরে নেই যখন পুরুষরা চিন্তা করবেন যে দুজনের জন্য সমান সমান নাকি নারীরা এগিয়ে আছেন।

নারীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। উপরে কেউ উঠিয়ে দেয় না, নিজের যোগ্যতায় একটি জায়গায় যেতে হয়। বঙ্গবন্ধু যে কথাটি বলেছিলেন, কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না, তা ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্যই বলেছিলেন। ইনশাল্লাহ নারীরা এগিয়ে যাবে।

পলিটিক্সনিউজ: আপনি গোপালগঞ্জের সন্তান। আপনার বাবা ফারুক খান গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য। গোপালগঞ্জকে কেমন দেখেছেন?

কানতারা খানঃ আমার বাবা গত ২৩ বছর গোপালগঞ্জ ১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং গোপালগঞ্জের মানুষ সবসময় আমার বাবার সাথে থেকেছেন। উনি যখন প্রথম নির্বাচনে আসেন তখন তিনি সামরিক বাহিনী ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। গোপালগঞ্জের মানুষ যখন দেখেছেন আমার বাবা কাজ করতে চাইছেন তখন থেকে তারা বাবার সঙ্গে আছেন। তখন থেকে আমার বাবা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের দোয়ায় এবং সমর্থনের ফলে বাবা দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং এখন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তিনি। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আজকে যারা ভালো কাজ করছেন, ভবিষ্যতে যারা ভালো কাজ করবেন, উন্নয়নের সাথে থাকবেন, মানুষও তাদের কথা চিন্তা করবে, তাদের সাথে থাকবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। আমি আশাবাদী গোপালগঞ্জের মানুষ বরাবরের মতোই বাবার পাশে থাকবেন।

‘কোনো প্রহসনের নির্বাচনে যাবে না বিএনপি’

নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

নির্বাচনের নামে এই সরকারের কোনো প্রহসনে বিএনপি যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার আয়োজনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ফুঁসছে। তারা পরিবর্তনের একটা সুযোগ চায়। অনেকে আমার কাছে প্রশ্ন করেন আপনারা নির্বাচনে যাবেন নাকি? আমরা যদি নির্বাচনে নাই-ই যেতে চাই তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কেন চাচ্ছি? নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন কেন চাচ্ছি? নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েনই বা কেন চাচ্ছি? নির্বাচনে যাব বলেই তো এসব চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। তবে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনের নামে সিটি করপোরেশনের মতো কোনো প্রহসনে যেতে চাই না। কারণ নির্বাচনে যদি মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ না পায় তাহলে জনগণ যে পরিবর্তন চান সেটা তারা করতে পারবেন না।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমরা আগামী নির্বাচনে যাব। তার আগে ইনশাআল্লাহ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। তাকে নিয়েই নির্বাচনে যাব। কিন্তু তাঁর মুক্তির জন্য আমাদের সবাইকে রাজপথে কঠোর আন্দোলন করতে হবে।’

নজরুল বলেন, ‘শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি হলো, তার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না করে অর্থমন্ত্রী বললেন- এটা প্রকাশ করা যাবে না, কারণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ লোকের নাম আছে। এরপর আমার ব্যাপারে বলা হলো সিঙ্গাপুরে নাকি আমার একটি বিলাশবহুল অ্যাপার্টমেন্ট আছে। আমি বললাম থাকতেও পারে। তবে যিনি বলেছেন তিনি ওই অ্যাপার্টমেন্টের ঠিকানা আনুক। আমি তাকে মাত্র ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে দলিল করে দেব। আমি অনেক সমস্যায় আছি। টাকার দরকার। আমাদের দলের নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামে বলা হল। তিনি এক মাসে ২০ কোটির ওপরে লেন-দেন করেছেন ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি (মোশাররফ) বললেন- আমি, আমার ছেলে, মেয়ে বা পরিবারের কোনো সদস্যের ডাচ বাংলা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট নেই। আগেও কখনো ছিল না। এরপর এসব নিয়ে আর কোনো কথা বলেন না।’

তিনি বলেন, ‘এসব কথার অভিযোগের সূত্র কি? গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্য। গোয়েন্দা বাহিনী মানে ইন্টেলিজেন্স বাহিনী। কিন্তু এরা কেমন ইন্টেলিজেন্স। এরা হল সরকারি দালাল। সরকার কিছু দালালকে দিয়ে এসব বলার জন্য দোকান খুলছে। তারা বসে বসে এসব উদ্ভট তথ্য বানায়। কিন্তু এসব করে পার পাওয়া যায় না। আইয়ুব খানকে উন্নয়নের উৎসব পালন করতে দেখেছি। আবার কয়দিন পরে গর্তে পড়তেও দেখেছি।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমরা এক দুঃসময় অতিক্রম করছি। কারণ দেশ পরিচালনা করছে লাইসেন্সবিহীন সরকার। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, সেই সরকারের লাইসেন্স আছে আমরা বলতে পারি না?’

এসময় তিনি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিভিন্ন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ইনু সাহেব জিয়া পরিবারের সমালোচনা করতে বেশি পছন্দ করেন। ইনুকে তাহলে সরকার বানাতে পারেন ‘জিয়া পরিবারের সমালোচনা বিষয়ক মন্ত্রী’। তিনি (তথ্যমন্ত্রী) বলেছেন- বিএনপি জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। মন্ত্রীদের এ কেমন অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী ভাষা। গতকাল ভিসি কীভাবে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারেন? এ ধরনের লোকদেরকে নিয়োগদান করছে লাইসেন্সবিহীন সরকার।’

জাগপা’র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।

খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার : রিজভী

বেগম জিয়ার সাজা বাড়ানোর আবেদন বেআইনি বললেন রিজভী

খালেদা জিয়াকে সব অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি অসুস্থ নেত্রীকে সুচিকিৎসা না দিয়ে তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার।

বললেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকারের অন্যায় ও জুলুমের শিকার হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সব মামলা প্রত্যাহার করে ঈদের আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

রিজভী বলেন, শিশু-কিশোরদের আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ও সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলায় প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে আটক করা হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ওই মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে।

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, এ কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আন্দোলন বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের আটকের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ জালিম সরকারের হাত থেকে বাঁচতে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রী ও সমর্থনকারী নারীরাও রেহাই পাচ্ছে না।

এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন রিজভী।

এ সময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহদফতর সম্পাদক মুনির হোসেন।

১/১১তে দেশে বিরাজনীতিকরণ চেয়েছিল মিডিয়ার একাংশ: কাদের

দেশে এখন ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। ওয়ান-ইলেভেনে যারা দেশে বিরাজনীতিকরণ চেয়েছিল, তাদের সহযোগী ছিল মিডিয়ার একটি অংশ। যারা (মিডিয়ার ওই অংশ) উসকানি দিয়ে (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে। এদেরকে চিনে রাখতে হবে। তাদের সম্পর্কে জানতে হবে।

বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ইডেন মহিলা কলেজ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা বাংলা যখন শোকে, তখন ভুয়া জন্মদিবস পালনের মাধ্যমে পাপের নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিএনপি। তারাই অগণতান্ত্রিকভাবে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি বৈধ সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকে ইতিহাসের বর্বরতম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। যে হত্যাকাণ্ডে বেগম মুজিব, শিশু রাসেল থেকে শুরু করে অন্তঃস্বত্তা নারী- কেউ রেহায় পায়নি।

ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাসলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন নাহার, আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, আওয়ামী লীগের সদস্য মেরিনা জাহান, পারভীন জামান কল্পনা, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

বিএনপি-জামায়াতকে নির্বাসনে পাঠানো হবে: তথ্যমন্ত্রী

হাসানুল হক ইনু

বিএনপি-জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানো হবে। নির্বাসনে পাঠাতে না পারলে আগুন সন্ত্রাস এবং জঙ্গি সন্ত্রাসের সম্ভাবনা থেকেই যাবে।বললেন তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৫ আগস্ট) ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।হাসানুল হক ইনু বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ছিল একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জবরদখলকারী খুনিরা রাষ্ট্রের ভিত্তি ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশের আত্মাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আত্মাকে হত্যা করতে পারেনি।

তিনি বলেন, জবরদখলকারী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতার ছুরিতে বারবার ক্ষত-বিক্ষত করেছে। তবে তারা ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনার হাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আবারো জীবন পেয়েছে।

জাসদ সভাপতি বলেন, বিএনপি ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর হামলা করেছে। আগুন সন্ত্রাস করেছে, জঙ্গি সন্ত্রাস করেছে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে।

সেই সঙ্গে ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন করে খুনিদের সঙ্গে উল্লাস প্রকাশের করেছে। সুতরাং নিরাপদ বাংলাদেশ চাইলে বঙ্গবন্ধুর হত্যার রাজনীতি বহনকারীদের বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠাতে হবে।

নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ডা. ইমরান

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে প্রবাসীদের তোপের মুখে পড়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার পর এ ঘটনা ঘটে।

ইমরানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি অধ্যুষিত ম্যাকডোনাল্ডে এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত ডা ইমরান এইচ সরকার। এ সময় কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে এক যুবক বলেন, এই যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে আপনারা কিছুই বলছেন না।

জবাবে ইমরান এইচ সরকার বলেন, এটি ঠিক বলছেন না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কাদের বিরুদ্ধে হচ্ছে? জবাবে ওই যুবক বলেন, বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে। তা ছাড়া শাহবাগে আপনারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহ দিয়ে আন্দোলন করেছেন।

তখন পাশ থেকে একজন বলেন, ‘ভাই উনাকে ছেড়ে দেন, উনি নিজেও ক্রসফায়ারের লিস্টে আছেন।’ ইমরান এইচ সরকার তখন বলেন, আমরা সরকারের অন্যায় কাজের সমালোচনা করে যাচ্ছি। এ পর্যায়ে পাশের যুবক বলে ওঠেন, এখন আপনাদের টাকা-পয়সার ভাগে বনছে না, তাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এ সময় ইমরানকে লক্ষ্য করে একজন জুতাও নিক্ষেপ করেছেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে এক যুবককে তাকে মারার জন্য তেড়ে আসতে দেখা যায়। পরে দ্রুত গাড়িতে উঠে এলাকা ছেড়ে যান ইমরান এইচ সরকার।

ঈদের আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি

পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে দলটি।

অবৈধ সরকার দেশের রাজনীতিকে প্রতিহিংসাপরায়ণ ও সংঘাতময় করে তুলেছে মন্তব্য করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আইনের যথেচ্ছ অপপ্রয়োগের দ্বারা সরকার বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতে উম্মাদ হয়ে পড়েছে। আমি ঈদের আগেই সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি এবং তাঁর সুচিকিৎসার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘অবৈধ সরকারের অন্যায় আর জুলুমের শিকার হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে সকল অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমননি অসুস্থ দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসা না দিয়ে তাঁর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু-কিশোরদের চলমান আন্দোলনে সামাজিক গণমাধ্যমে উস্কানি ও সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলায় প্রায় শ‘খানেক ছাত্রছাত্রীকে আটক করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে ঐ মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে। এই কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আন্দোলন বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তারা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সমাজের অগ্রগণ্য মানুষরাও বিম্মিত হয়েছে তারা যা পারেনি শিশু-কিশোররা চোখে আঙুল দিয়ে সেটা করে দেখিয়েছে।’

‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, শিশু-কিশোররা পথ দেখিয়েছে। কিন্তু এখন আন্দোলনরত শিশু-কিশোররা যে পথ দেখছে তাতে তারা প্রতিদিনই শিহরিত হয়ে উঠছে। তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতন করা হচ্ছে, এরপর পাঠানো হচ্ছে জেলখানায়। মুখে যাই বলুন, সরকার প্রধান শিশু-কিশোরদের সাথে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছেন।’

রিজভী বলেন, ‘অভিভাবকরা বাচ্চাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত, ভীত, শিহরিত। এখন শুধু ছাত্ররাই নয়, ছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না আটক ও জুলুমের করালগ্রাস থেকে। গোয়েন্দা পুলিশ একটার পর একটা ছাত্রী আটকের লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এই জালিম সরকারের হাত থেকে বাঁচতে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রী ও সমর্থনকারী নারীরাও রেহাই পাচ্ছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘দেশের সোনালি অর্জনগুলোতে জড়িয়ে আছে ছাত্রলীগের নাম’

বাংলাদেশের সমস্ত সোনালি অর্জনে ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখনই ছিনতাই হয়েছে, বাক্সবন্ধি হয়েছে ছিনতাইকৃত-বাক্সবন্দি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগ। দেশের সমস্ত অর্জনের সাথে ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে আছে। তাই ছাত্রলীগকে নিয়ে অনেকের মাথা ব্যথা। সেই কারণে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অনেকেই অপপ্রচার চালায়।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদত বার্ষিকী’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান বলেন, ইদানিং কিছু কিছু গণমাধ্যম ছাত্রলীগকে কলুষিত করার জন্য অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। খারাপ কোন কিছু হলেই সেখানে ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ পরবর্তীতে দেখা যায় অন্যায়কারী ছাত্রলীগই নয় তারা অনুপ্রবেশকারী। যারা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করে তাদের চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।

৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যা মন্তব্য করে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, যারা একাত্তরে আমাদের মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিল। বিদেশি শক্তি যারা এ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় চায়নি তাদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যা করার লক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা করেছিল।

এসময় তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার নিহত পরিবার বর্গের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাধনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মফিজুর রহমান, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, বঙ্গবন্ধু হলের সাবেক সভাপতি দারুস সালাম সাকিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

কালকিনিতে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন

কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম এমপি কালকিনির বিভিন্ন জায়গায় শোকদিবসের কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন

কালকিনিতে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন

বি এম হানিফ, কালকিনি প্রতিনিধি: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কালকিনি উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ও আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিনটি পালন করা হয়েছে।  আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করার মধ্য দিয়ে শোক দিবস পালনের কর্মসূচী শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও শোক র‌্যালি শেষে উপজেলার প্রধান শহীদ মিনার চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং কালকিনির বিভিন্ন জায়গায় কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম এমপি উপস্থিত থেকে শশিকর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, ডাসার দলীয় কার্যালয়ের সামনে, কাজীবাকাই ফজলগঞ্জ বাজার, ভূরঘাটা লোকাল বাসষ্টেশন, কালকিনি সদর নতুন বাজার, কাষ্টগড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, কালিগন্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, খালেকের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে, মিয়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে , মোক্তারহাট ,  খাসেরহাট বাজারে শোকদিবসের কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান শাহিন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রমথ রঞ্জন ঘটক, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম খোকন বেপারী, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুল হাসান দোদুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী নাসরিন, জেলা আ’ লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাইরুল ইসলাম দুলাল চৌধুরী,  পৌর আ’লীগের সভাপতি আবুল বাশার, পৌর মেয়র এনায়েত হোসেন, কালকিনি থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা,  আ’লীগের যুগ্নসম্পাদক লোকমান সরদার, জেলা পরিষদের সদস্য মীর মামুন অর রসিদ, আবদূল আল মামুন,শারমিন জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল তালুকদার, কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা সোহেল রানা মিঠু,  পৌর-আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ  সম্পাদক সাংবাদিক বি এম হানিফ,  সপ্তর সম্পাদক মাহামুদুর রহমান ইরান,  উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অহেদুজ্জামান বুলেট,  সাধারণ সম্পাদক মীর রুহুল আমিন সুজন, পৌর-ছাত্রলীগের সভাপতি বাকামিন খান ও সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ফকির প্রমুখ।

শোক দিবসে জন্মদিন পালনকারী বিকৃত রুচির মানুষ: ইনু

হাসানুল হক ইনু

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে যারা জন্মদিন পালন করে তারা বিকৃত রুচির মানুষ। ভুয়া জন্মদিন পালন করে এদিন যারা আনন্দ-উল্লাস করে তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাসনে পাঠাতে হবে।’

সোমবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ক্লিনিক ভবনের চত্বরে ‘আলোকচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ প্রর্দশনী উদ্বোধনকালে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল তারা চেয়েছিল এই দেশকে ক্ষত-বিক্ষত করতে। বাংলাদেশকে হারাতে, কিন্তু বাংলাদেশ হারেনি। কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে বঙ্গবন্ধু প্রত্যাবর্তন করেছেন। তিনি অনেক চ্যালেজ্ঞ মোকাবিলা করেছেন। তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘স্বাধীনতার সব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি আমাদের একটা স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর কাছে ঋণী। বঙ্গবন্ধু কোনো দলীয় সম্পদ নয়, বরং সার্বজনীন। আমরা বঙ্গবন্ধুকে দলীয়করণ করিনি। রাজপথের বিরোধী দল শোক দিবস পালন করে না। এটা তাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা। যে কারণে তারা জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানাতে পারে না।’

এসময় অন্যদের মধ্যে তথ্য সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রর্দশনীতে মোট ৯৬টি আলোকচিত্র প্রর্দশন করা হয়।

১৫ আগস্টে নাশকতার কোনো হুমকি নেই : ডিএমপি

জাতীয় শোক দিবসকে (১৫ অাগস্ট) ঘিরে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. অাছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, এরপরও জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি খাটো করে না দেখে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

জাতীয় শোক দিবসের নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অায়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নিরাপত্তা তল্লাশীর সময় পুলিশকে সহযোগিতা করতে জনগণের প্রতি অাহ্বান জানিয়ে অাছাদুজ্জামান বলেন, ১৫ অাগস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

অাছাদুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় কেউ যেন সেলফি তোলায় ব্যস্ত না থাকেন সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে। গত এক সপ্তাহ ধরে অামরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছি। ঢাকা শহর বর্তমানে একটি গুজবের শহরে পরিণত হয়েছে। কেউ কোনো গুজবে কান না দেবেন না।

গুলশানের হলি অার্টিসান সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওখানে (হলি অার্টিসান) তারা বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে অান্তর্জাতিক দৃষ্টি অাকর্ষণের চেষ্টা করেছিল। তাদের তৎপরতা অামরা নষ্ট করে দিয়েছি। ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের মামলা তদন্তের শেষ পর্যায়ে। প্রচলিত অাইনেই তাদের বিচার হবে।

জনপ্রিয়

গরম খবর