শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯
Home Blog Page 108

ফৌজদারী আদালত ও অফিসের গঠন এবং ক্ষমতা সম্পর্কিত ধারা

ফৌজদারী আদালত ও অফিসের গঠন এবং ক্ষমতা সম্পর্কিত ধারা

ধারা ৬। ফৌজদারী আদালতের শ্রেণীবিভাগ

সুপ্রীম কোর্ট এবং এই বিধি বহির্ভূত কিন্তু বর্তমানে বলবৎ অন্য আইন দ্বারা গঠিত আদালত ব্যতীত বাংলাদেশে পাঁচ শ্রেণীর ফৌজদারী আদালত থাকিবে। যথাঃ

(১) দায়রা আদালত।

(২) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

(৩) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

(৪) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

(৫) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

আঞ্চলিক বিভাগ

ধারা ৭। দায়রা বিভাগ  জেলা। বিভাগ  জেলা পরিবর্তনের ক্ষমতা। পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বিভাগ  জেলা বজায় রাখিবার ব্যবস্থা:

(১) বাংলাদেশে কতিপয় দায়রা বিভাগ থাকিবে, এবং এই বিধির আওতায় প্রত্যেকটি দায়রা বিভাগ একটি জেলা হইবে অথবা প্রত্যেক দায়রা বিভাগে একাধিক জেলা থাকিবে।

(২) সরকার এইরূপ বিভাগ ও জেলার সীমারেখা অথবা সংখ্যা পরিবর্তন করিতে পারিবে।

(৩) এই বিধি বলবৎ হইবার সময় যেই সকল দায়রা বিভাগ ও জেলা বিদ্যমান ছিল, উক্তরূপে পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তাহা বহাল থাকিবে।

(৪) মেট্রোপলিটন এলাকা, এই বিধির আওতায়, দায়রা বিভাগ গণ্য হইবে।

ধারা  দায়রা আদালত :

(১) প্রত্যেক দায়রা বিভাগের জন্য সরকার একটি দায়রা আদালত স্থাপন করিবেন এবং এই আদালতে একজন জজ নিয়োগ করিবেন। মেট্রোপলিটান এলাকার জন্য দায়রা আদালতকে মেট্রোপলিটন দায়রা আদালত বলা হইবে।

(২) সরকারী গেজেটে সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ জারি করিয়া দায়রা আদালত কোন স্থানে বা কোন্ কোন্ স্থানে বসিবে সেই সম্পর্কে সরকার নির্দেশ দিতে পারেন; কিন্তু এইরূপ আদেশ না হওয়া পর্যন্ত দায়রা আদালতসমূহ পূর্বের ন্যায় বসিবে।

(৩) এইরূপ এক বা একাধিক আদালতে কার্য করিবার জন্য সরকার অতিরিক্ত দায়রা জজ ও সহকারী দায়রা জজ নিয়োগ করিতে পারেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যে জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রট ২৯-গ ধারার অধীনে অপরাধ বিচারের জন্য বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন, সেই জেলা যে দায়রা বিভাগে অবস্থিত তাহার সকল সহকারী দায়রা জজ ঐ বিভাগে অতিরিক্ত দায়রা জজরূপে নিযুক্ত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

(৪) এক দায়রা বিভাগের দায়রা জজকে সরকার অপর একটি বিভাগের অতিরিক্ত দায়রা জজও নিয়োগ করিতে পারেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে তিনি সরকারের নির্দেশ অনুসারে দুইটি বিভাগের যেকোন একটির এক বা একাধিক স্থানে মামলার নিস্পত্তি করিতে পারেন।

(৫) এই বিধি কার্যকর হইবার সময় যেই সকল দায়রা আদালত বিদ্যমান ছিল, তাহার সমস্তগুলিই এই বিধি অনুসারে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে বলিয়া ধরিতে হইবে।

ধারা ১০। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট :

(১) মেট্রোপলিটান এলাকার বাহিরে প্রত্যেক জেলায় সরকার একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করিবেন এবং তিনি ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট’ নামে অবহিত হইবেন।

(২) কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে সরকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যুগ্ম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করিতে পারেন এবং এইরূপ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যুগ্ম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকারের নির্দেশ অনুসারে এই বিধি বর্তমানে বলবৎ অপর কোন আইন অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কোন অথবা সমস্ত ক্ষমতা লাভ করিবেন।

(৩) ১৯২ ধারার (১) উপধারা, ৪০৭ ধারার (২) উপধারা এবং ৫২৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বিষয়ে এইরূপ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যুগ্ন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধঃস্তন বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

ধারা ১১। জেলা ম্যাজিস্টেটের শূন্য পদে অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত অফিসারঃ

জেলা ম্যাজিস্টেটের পদ শূন্য হইবার ফলে কোন অফিসার অস্থায়ীভাবে তাহার স্থলাভিষিক্ত হইলে সরকারের আদেশ সাপেক্ষে তিনি এই বিধি দ্বারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদত্ত সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও সমস্ত কর্তব্য সম্পাদন করিবেন।

ধারা ১২। অধঃস্তন ম্যাজিস্ট্রেটগণ। তাঁহাদের স্থানীয় এখতিয়ারের সীমাঃ

(১) মেট্রোপলিটান এলাকা ব্যতীত কোন জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া যেই সংখ্যক ব্যক্তিকে সরকার প্রয়োজন মনে করেন, সেই সংখ্যক প্রথম, দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শ্রণীর ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করিতে পারেন, এবং এই বিধি অনুসারে তাহাদিগকে যে ক্ষমতা দেওয়া হইবে সরকার অথবা সরকারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সময়ে সময়ে তাহা প্রয়োগের স্থানীয় এলাকা নির্ধারণ করিতে পারেন।

(২) এই নির্ধারণের ব্যবস্থা সাপেক্ষে এই সকল ব্যক্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা সমস্ত জেলায় সম্প্রসারিত হইবে।

ধারা ১৩। ম্যাজিস্ট্রেটের উপর উপজেলার দায়িত্ব অর্পণের ক্ষমতা। জেলা ম্যাজিস্টেটের উপর ক্ষমতা অর্পণ:

(১) সরকার প্রথম অথবা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের উপর উপজেলার দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারেন এবং প্রয়োজনবোধে এই দায়িত্ব হইতে তাহাকে অব্যাহতি দিতে পারেন।

(২) এইরূপ ম্যাজিস্ট্রেটগণ “উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট” নামে অভিহিত হইবেন।

(৩) সরকার এই ধারায়  বর্ণিত তাহাদের নিজস্ব ক্ষমতা, জেলা ম্যাজিস্টেটের উপর অর্পণ করিতে পারেন।

ধারা ১৩ক। উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেটঃ

(১) সরকার যেকোন প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে উপজেলায় নিযুক্ত করিতে পারেন এবং এইরূপ ম্যাজিস্ট্রেটকে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলা হইবে।

(২) উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই কার্যবিধি অনুযায়ী উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদত্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইবেন।

ধারা ১৮। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগঃ

(১) মেট্রোপলিটন এলাকায় সরকার এই কার্যবিধির উদ্দেশ্যে একজন চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্য যেই কয়জন মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ উপযুক্ত বিবেচনা করেন সেই কয়জন নিয়োগ করিবেন।

(২) সরকার একজন বা ততোধিক অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করিতে পারিবেন এবং উক্ত অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটগণের এই কার্যবিধি অনুসারে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইন অনুসারে সরকারের নির্দেশমত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের  সকল বা যেকোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইবেন।

(৩) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন বিশেষ মামলা বা বিশেষ শ্রেণীর মামলাসমূহ সম্পর্কে অথবা মেট্রোপলিটন এলাকার বা উহার কোন অংশের সাধারণ মামলাসমূহ সম্পর্কে মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটের সকল বা যেকোন ক্ষমতা যেকোন ব্যক্তিকে অর্পণ করিতে পারিবেন।

ধারা ২১। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেটঃ

(১) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাঁহার অধিক্ষেত্রের স্থানীয় সীমার মধ্যে এই কার্যবিধি বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইন অনুসারে তাঁহাকে বা কোন ম্যাট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদত্ত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের পূর্ব-অনুদানক্রমে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য এই কার্যবিধির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবেনঃ

(ক) মেট্রোপলটান ম্যাজিস্ট্রেটগণের মধ্যে কার্যবন্টন ও পরিচালনা এবং তাহাদের আদালতের কার্যপদ্ধতি;

(খ) মেট্রোপলটান ম্যাজিস্ট্রেটগণের বেঞ্চ গঠন;

(গ) উপরোক্ত বেঞ্চসমূহের বৈঠকের সময় ও স্থান;

(ঘ)মেট্রোপলটান ম্যাজিস্ট্রেটগণের বৈঠক চলাকালে তাহাদের মধ্যে মতের পার্থক্য সৃষ্টি হইলে তাহা নিষ্পত্তির পদ্ধতি; এবং

(ঙ) এমন অন্য কোন বিষয় যে সম্পর্কে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁহার অধঃস্তন ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর সাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিতেন।

(২) এই কার্যবিধির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট ও অনুরূপ ম্যাজিস্ট্রেটগণের বেঞ্চ চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে থাকিবেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণের মধ্যে কার্যবন্টন সম্পর্কে এই কার্যবিধির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন অথবা বিশেষ আদেশ দান করিতে পারিবেন।   তথ্যসূত্রঃঅনলাইনঢাকা

দেশের উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ‘দেশের উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিকতা একান্তভাবে প্রয়োজন, তা আজ প্রমাণিত। টানা মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে বাংলাদেশের উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হয়েছে। আজকে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আরও এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের এই ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে।’

নিজ কার্যালয়ের শাপলা হলে তিন দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ মঙ্গলবার তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটা পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নির্ধারণ হবে। এসময়, সরকারের উন্নয়ন কাজ ঠিক মতো হচ্ছে কিনা এবং মানুষ তার সুফল পাচ্ছে কিনা, তা তদারকি করতে হবে জেলা প্রশাসকদের।

তিনি আরও বলেন- আজকে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের এই ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে, সেই আহ্বান জানাই। আমরা বাংলাদেশকে আর্থসামাজিকভাবে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়নশীল দেশের কাতার থেকে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হবো। তার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদেরও বিভিন্ন ধরনের কর্মপরিকল্পনা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে, যেন পিছিয়ে না পড়ে দেশ। বাজেটের টাকায় উন্নয়নকাজ চলছে। সরকারের এসব উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে তদারকি হবে। দেশের সম্পদ কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করতে হবে। তৃণমূলে মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী কৌশল কাজে লাগাতে হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন- দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অনেক। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ১৮টি অধিবেশনের মাধ্যমে আপনারা মাঠ পর্যায়ের সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা নীতি-নির্ধারণীর পর্যায়ে সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক শায়লা ফারজানা, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল হান্নান ও প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব নজিবুর রহমান।

জানা গেছে, তিন দিনের এই সম্মেলনে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া মোট ৩৪৭টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। আর সম্মেলন শেষে এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ৬৪ জেলায় কর্মরত জেলা প্রশাসক এবং আট বিভাগীয় কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে ২৬ জুলাই পর্যন্ত।

‘বিএনপি নিজেরাই বোমা মেরে মিথ্যাচার করছে’

জনগণের সাড়া না পেয়ে সিটি নির্বাচনে দোষারোপের রাজনীতি করছে বিএনপি। নিজেরাই বোমা মেরে মিথ্যাচার করছে। ব্লেইম গেম শুরু করেছে। তারা নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের দোষারোপ করতে চায়। বললেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটির বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নির্বাচনী পরিবেশও বজায় রেখেছি। বিএনপি নিজেরাই বোমা ফাটালো আর দোষারোপ করল আওয়ামী লীগকে। এ ধরনের খেলা তাদের অভ্যাস। তারা এ নাটকে যথেষ্ট পারদর্শী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন তিনি (খালেদা জিয়া) তো জেলখানায় বহাল তবিয়তে আছেন। কেবল আদালতে মামলার তারিখ এলেই দেখি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জেলখানায় খালেদা জিয়া এসি রুম ও মেইড সার্ভেন্টসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এতিমের টাকা মেরে জেলে গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আমরা তো তাকে জেলে পাঠাইনি। তার আইনজীবীরা তো কেউ প্রমাণ করতে পারেননি তিনি দুর্নীতি করেনি।

হত্যার উদ্দেশ্যেই মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা : ফখরুল

হত্যার উদ্দেশ্যেই দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনার সময় আমি একটা সভায় ছিলাম। আমি তখনই জানতে পারলাম হামলার ঘটনা। কুষ্টিয়ায় পুলিশের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনি আওয়ামী লীগের চেয়েও একজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী।

ফখরুল আলমগীর বলেন, হামলার আগে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমি দেখছি, ব্যবস্থা করছি তার সেইফলি (নিরাপদে) বের হয়ে যাওয়ার। তারপরও আমাদের দুর্ভাগ্য, পুলিশের উপস্থিতিতে মাহমুদুর রহমানকে যেভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে এটা ইদানিং কালের নজিরবিহীন ঘটনা।

কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ মুক্ত চিন্তার ওপর আঘাত করে চলেছে। গণমাধ্যমকর্মীদের আক্রমণ করছে, ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। তারা মুক্ত গণমাধ্যম ধ্বংস করতে চায়।

এসময় অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানান মির্জা ফখরুল।

এসময় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম, বিএফইউজের সভাপতি সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার মানহানির মামলায় জামিন পেয়ে বের হবার পর কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তাকে বহনকারী গাড়ির গ্লাস ভেঙে লাঠি ও ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন মাহমুদুর রহমান। পরে বিকেল ৫টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে মাহমুদুর রহমানকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তিনি এখন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা: কাদের

কুষ্টিয়ায় আদালত চত্বরে ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মন্তব্য করলেন সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘জ্যাম’ নামের একটি চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কুষ্টিয়ার ঘটনা এক‌টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই ধর‌নের ঘটনা মা‌ঝে-মধ্যে ঘ‌টে। তবে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আমরা যেমন সতর্ক থাকব, পুলিশকেও বলব সতর্ক থাকতে। এই ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকতেই পারে। বিভিন্ন সংবাদপত্র আছে, টেলিভিশনে টক শো আছে- এসব জায়গায় যে যেমন চাইছেন, তেমন বলছেন। এর জন্য কারও ওপর শারীরিকভাবে হামলা করার রাজনীতি আওয়ামী লীগ অতীতে করেনি, আগামীতেও করবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এমন ঘটনা ঘটেনি। কুষ্টিয়ার ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করার জন্য পুলিশের আইজি’র সঙ্গে কথা বলেছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

উল্লেখ্য, গত রোববার মানহানি মামলায় জামিন নিতে গিয়ে কুষ্টিয়া জেলা আদালত প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হন মাহমুদুর রহমান।

 

সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠকে বসেছে।বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান আরটিভি অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আজ সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাকক্ষে বৈঠকে বসেছে।

তিনি বলেন, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং কোনও ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে। এতে করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) ইমরান সালেহ প্রিন্স।

বৈঠকে সিইসি কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন ও ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান উপস্থিত আছেন।

মির্জা ফখরুলকে ‘রাজনীতির কাক’ বললেন হাছান

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ‘দ্বিচারী নীতির’ সমালোচনা করে আওয়ামী লী‌গের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদ ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব আপনি তো বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনিও (ফখরুল) রাজনীতির কাক। কারণ আপনি করতেন বামপন্থি দল। সেখান থেকে ডানপন্থি বিএনপিতে চলে গেলেন। অর্থাৎ আপনি আপনার নীতি বাদ দিয়ে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টের লোভে বিএনপিতে গেছেন। আরও অনেকের নাম বলতে পারি, এরা রাজনৈতিক কাক। এই রাজনৈতিক কাকের সমন্বয়ের দল হচ্ছে বিএনপি। আজকে এই দল নানা কথা বলে।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় যেমন খাবারের উচ্ছিষ্ট ছিটিয়ে দিলে অনেক কাক এসে জড়ো হয়, তেমনি জিয়াউর রহমান একইভাবে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দিয়ে রাজনীতির কাক জড়ো করেছিলেন। তাদেরই একজন মির্জা ফখরুল।’

সোমবার (২৩ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের কনফা‌রেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃ‌তিক জো‌টের উদ্যো‌গে দে‌শের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহ‌মেদের ৯৩তম জন্ম‌কা‌র্ষিকী উপল‌ক্ষে আলোচনা সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমা‌নে ওপর ছাত্রলীগ নয়, দুষ্কৃতিকারীরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে ড. হাছান মাহমুদ ব‌লে‌ন, ‘ছাত্রলীগের ওপর এ হামলার দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন অবস্থা এরকম কোনও গাড়ি যদি এক্সিডেন্ট হয় সেটার কারণেও ছাত্রলীগের ঘাড়ে দায় দেয়া হচ্ছে। সবকিছুই যেন ছাত্রলীগের জন্য।’

হাছান মাহমুদ ব‌লেন, ‘মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা আজকের পত্রিকার বড় খবর। এই হামলাকে আমি অবশ্যই সমর্থন করি না। কিন্তু মাহমুদুর রহমান, উনি কে? কাবা শরীফের ছবি বিকৃত করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অনুভূতিতে আঘাত আনার জন্য সাঈদীর ছবি সহ আরও অনেকের ছবি জুড়ে দিয়েছিল। তিনি বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে যেই অকথ্য, অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন তিনি আবার একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক।’

সাবেক এই মন্ত্রী ব‌লেন, ‘বিএনপি কোনও ইস্যু পায় না। কোটা আন্দোলন নিয়েছিল, কোটা আন্দোলন এখন আর হালে পানি পাচ্ছে না। এখন মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে নেমেছে। আজকে দেখলাম ফখরুল সাহেব প্রেসক্লাবে এসেছেন। তিনি কি বলেছেন জানি না। তবে কয়েকটা দিন এই ইস্যুতেই তারা সভা সমাবেশ গরম করবেন। আমি আপনাদের অনুরোধ জানাবো এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গের হাত থেকে বিএনপিকে রক্ষা করুন।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘বাংলাদেশে দুই ধরনের বিএনপি নেতা আছে। বিএনপি বাই চান্স আর বিএনপি বাই এক্সিডেন্ট। বিএনপি বাই চ্যান্স মানে তারা কোনো না কোনো ঘটনার কারণে বিএনপি হয়ে গেছেন। বাই এক্সিডেন্ট হ‌লো অনেকেই আওয়ামী লীগের নমিনেশন চেয়েছিল, পায় নাই। তাই বিএনপিতে চলে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন পত্রিকার সম্পাদকও এরকম দেখা গেছে সম্পাদক বাই চ্যান্স অথবা সম্পাদক বাই এক্সিডেন্ট। সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতি এই মাহমুদুর রহমান সম্পর্কে বলেছেন, এডিটর বাই চ্যান্স। সুতরাং এরা হচ্ছে মুখোশধারী দুষ্কৃতিকারী। মাহমুদুর রহমান সাহেবরা হচ্ছেন সুবেশধারী দুষ্কৃতিকারী।’

বিএন‌পিকে উদ্দেশ্য ক‌রে এই নেতা ব‌লেন, ‘আপনারা নির্বাচনে যাবেন এতদিন বলেছিলেন। এখন আবার বলছেন খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। গতবার নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফাঁসির দড়ি ঝুলিয়েছেন। আর এবার নির্বাচনে না গেলে ফাঁসি হয়ে যাবে। ফাঁসি থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। সুতরাং আমি অনুরোধ জানাবো আপনারা সিদ্ধান্ত নেন, খালেদা জিয়া বড় না বিএনপি বড়। তারেক রহমানের মতো দুষ্কৃতিকারী বড় না বিএনপি বড়। আমি আশা করবো আপনারা বিএনপিকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।’

আ‌য়োজক ক‌মি‌টির উপ‌দেষ্টা চিত্তরঞ্জন দা‌সের সভাপ‌তি‌ত্বে সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিচারপ‌তি শামসু‌দ্দিন চৌধুরী মা‌নিক ও আওয়ামী লী‌গের উপ‌দেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোষ প্রমুখ।

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা সমর্থন করি না: কাদের

কুষ্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত। রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় যে কারো ভিন্নমত থাকতে পারে। আমরা এ ধরনের হামলার সমর্থন করি না।’

সোমবার (২৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ‘জ্যাম’ সিনেমার মহরত ও ব্যানার উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘কারো নির্দেশনায় এ হামলা হয়নি। এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা ছাত্রলীগ নামধারী দুর্বৃত্ত। ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে এ ধরণের অপকর্ম অনেকেই করে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা অনুপ্রবেশকারী। মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত। তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কাদের বলেন, ‘রাজনীতিতে ভিন্ন মতের জন্য আওয়ামী লীগ কারো ওপর শারীরিক হামলা অতীতেও করেনি, আগামীতেও করবে না। কুষ্টিয়ার ঘটনায় যারাই জড়িত খুঁজে বের করার জন্য পুলিশের আইজিপি’র সঙ্গে কথা বলেছি, ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

রাজশাহীতে ককটেল হামলা নিয়ে বিএনপির দুই নেতার ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি অশুভ তৎপরতায় লিপ্ত। এটিই তাদের রাজনৈতিক নীতি।’

বিএনপি অপরাধ করে স্বীকার করে না মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সিলেটে নৌকার প্রতিপক্ষ ধানের শীষ। সিলেটে কামরানের নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলো। তাহলে কে সেখানে আগুন দিলো?’

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কী প্রতিক্রিয়া দেন তা শোনার অপেক্ষায় থাকবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

বিকেলে ইসিতে যাচ্ছে বিএনপি প্রতিনিধি দল

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করতে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে বিএনপির ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সোমবার (২৩ জুলাই) বিকালে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বিকাল তিনটার দিকে ইসিতে যাবে। প্রতিনিধি দলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) ইমরান সালেহ প্রিন্স।

বিএনপির মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির এ তথ্য জানান।

সূত্র জানায়, আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা করবে প্রতিনিধি দলটি।

দিল্লিতে ব্যস্ত এরশাদ, বলছেন কৌশলী হবে জাপা

ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লি গিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরইমধ্যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি। বৈঠকে তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টি কৌশলী হবে।

জাতীয় পার্টি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল রোববার (২২ জুলাই) এরশাদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফরে যায়।

এরশাদের এক সফরসঙ্গী টেলিফোনে সারাবাংলাকে জানান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রোববার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এরশাদ।

ওই সফরসঙ্গী জানান, আগামী নির্বাচনে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের কাছে জাতীয় পার্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এরশাদ সেখানে বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে জাতীয় পার্টি তার নির্বাচনী কৌশল পরিবর্তন করবে। আর না হয় জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করবে।’

বৈঠকে এরশাদ আরও জানান, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। এমনকি বিএনপিও এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতবে না। জাতীয় পার্টির আসন বাড়বে। এতে সরকার গঠনের সময়ও জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি কৌশলী হবে।

এরশাদ সংশ্লিষ্ট ওই নেতা জানান, প্রায় ১ ঘণ্টা আলোচনা করেন দুই নেতা। তাদের আলোচনায় আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়টিও উঠে আসে।

সফররত ওই নেতা জানান, ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফররত সাবেক রাষ্ট্রপতি পার্টি প্রধান এরশাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ফারুকও কারাগার থেকে পরীক্ষা দেবেন

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা এবং সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আইনজীবী জাহিদুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী এ নির্দেশ দেন।

জাহিদুর রহমানকে বলেন, গেলো ৪ জুলাই ফারুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের কাছে পরীক্ষার অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এ পি এম সুহেলকেও কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।

গেলো ৮ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেশ কিছু ঘটনায় শাহবাগ থানায় ১০ এপ্রিল চারটি মামলা করা হয়।

এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। আর ভিসির বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অফিসার এস এম কামরুল আহসান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন।

তবে চার মামলায় আসামিদের নাম ও সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য যেন না থাকে: প্রধানমন্ত্রী’

মানুষের সেবায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য যেন না থাকে। জনগণ যাতে দুর্ভোগে না পড়েন। অহেতুক কোনও প্রকল্পও নেওয়ার দরকার নেই। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার জাতীয় ‘পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক-২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠানে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করবেন তবে সেটা শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য। দেশের কল্যাণে সেই ডিগ্রি কাজে লাগাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের উচ্চতর ডিগ্রির প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা তাদের দেশের ভেতরে-বাইরে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুও জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কেরেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় আমরাও করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ কমাতে মেট্রোরেল করছি। আমাদের সক্ষমতাও বেড়েছে। মানুষষের যেন সার্বিক উন্নয়ন হয়, জাতির পিতা সেই কথাই বলেছিলেন। তার রাজনীতি ছিল মানুষের উন্নয়ন করা। সেই লক্ষে তিনি স্বাধীনতা অর্জন করেন।

জনপ্রিয়

গরম খবর