রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৯
Home Blog Page 108

খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় ঢাবির সাদাদল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক ড. লুৎফর রহমানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, ড. মো. অাকতার হোসেন খান, ড. সিরাজুল ইসলাম, ড. সুকোমল বড়ুয়া, ড. মো. ছিদ্দিকুর রহমান খান, ড. মহিউদ্দিন।

এছাড়াও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন সাদা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ড. মো. আবদুর রশিদ, ড. মো. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, ড. মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস, ড. মো. মাসুদ আলম, আলমগীর হোসেন সম্রাট, ইস্রাফিল প্রামাণিক রতন, আল আমিন,  ড. মো. শামছুল আলম, ড. মহিউদ্দীন, ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম, নূরুল আমিন, এহসানুল মাহবুব যোবায়ের, মো: মিজানুর রহমান সহ শতাধিক শিক্ষক।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ আজ গভীর সঙ্কটে নিপতিত। বাকস্বাধীনতা নেই। হামলা, মামলা ও দুঃশাসনের রাজনীতি চলছে। গণতন্ত্র নেই। তারই উদাহরণ দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি। আমরা তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি ও বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানাই। আর একমাস পর দেশের বর্তমান অবস্থা থাকবে বলে মনে হয় না। তাই সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

ড. সদরুল আমিন বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করেছে। আমি তাঁর অবিলম্বে মুক্তি ও তার পছন্দমাফিক হাসপাতালে সুচিকিৎসা দেয়ার দাবি জানাই।’

ড. আক্তার হোসেন খান বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন নই। যেখানে অন্যায় দেখি সেখানেই আমরা প্রতিবাদ প্রতিরোধের চেষ্টা করি। আজ খালেদা জিয়া একজন বয়স্কা মহিলা যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে। এটা জুলুম। আমরা মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি করছি। তাঁকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। সেইসাথে দেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবি জানাই। হামলা-মামলা বন্ধ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার আবারও যেনতেনভাবে নির্বাচন করার জন্যই খালেদা জিয়াকে বন্দি করেছে মিথ্যা মামলায়। তিনি অসুস্থ। আজকে পুলিশ মৃত ব্যক্তিকেও মিথ্যা মামলায় আসামি করছে। কিন্তু দেশবাসী এই গণতন্ত্র চায় না। অবিলম্বে এসব বন্ধ করে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন, দেশে শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করুন। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি করছি।’

ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, ‘আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য মানববন্ধন করতে হয়। কারণ তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কারাগারে খুবই অসুস্থ। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। নির্বাচনের আগেই তাঁর মুক্তি চাই যাতে তিনি ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেন।’

ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘একটি মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করা হয়েছে। আজ আট মাস ধরে তিনি কারাবন্দি। ভীষণ অসুস্থ। এরইমধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা পরিচালনার জন্য অসাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে। তবে তিনি কিন্তু মনোবল হারাননি। আমরা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার অনুরোধ করছি।’

বিএনপির আরেক নাম ‘মানি না মানবো না’: কাদের

আইন ও সংবিধানের প্রতি বিএনপির অনাস্থার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আইনের প্রতি বিএনপির অনাস্থা চির জীবন ছিল। তারা আইন মানে না, সংবিধান মানে না। কোনও নিয়ম মানে না। তারা তো ‘মানি না মানবো না’ পার্টি । বিএনপির আরেক নাম হচ্ছে ‘মানি না মানবো না’। এছাড়া ‘নালিশ পার্টি’ হিসেবে তো তাদের সুপরিচিতি আছেই।’

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘গাঙচিল’ চলচ্চিত্রের শুভ মহরত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

‘এক মাসের মধ্যে দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হবে’- বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের এমন বক্তৃতার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি মিডিয়াতে দেখেছি, তারা একমাসের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। দশ বছর ধরেই তো তারা এই চেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণ বিএনপির কোনও আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। দশ বছরে যেটা পারেননি আগামী একমাসে তা পারবে- সেটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। এটা একটা হাস্যকর বিষয়।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন দিবাস্বপ্ন দেখতেই পারে। বেশি দেরি নেই এই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়ার। কারণ তাদের স্বপ্নের সাথে জনগণের কোনও সংযোগ নেই। জনগণ যদি সাড়া না দেয় তাহলে তারা আন্দোলন করবে কাকে নিয়ে?’

জাতিসংঘে বিএনপির সফর প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে কান্নাকাটির পর্ব শেষ করে সর্বশেষে জাতিসংঘে গিয়েও নালিশ করলো বিএনপি। জাতিসংঘে কান্নাকাটি করে বাংলাদেশকে ছোট করলো, অসম্মান করলো। বিএনপি দেশের জনগণ ও গণতন্ত্রকে অপমান করলো।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ তো বিএনপিকে আমন্ত্রণ করেনি। তারা নিজেরাই ত্রিশ হাজার ডলার দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করে এ আলোচনার ব্যবস্থা করেছে। যারা জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণের ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করে জাতিসংঘ মহাসচিবকে নিয়ে ব্ল্যাকমেলিং করে তাদের বাংলাদেশে ব্ল্যাকমেলিং করার দিন শেষ হয়ে গেছে। বিএনপির প্রতিনিধি দল জাতিসংঘ কমপ্লেক্সের নিচে গিয়ে বারবার আবেদন করায় বিরক্ত হয়ে জাতিসংঘের তৃতীয় পর্যায়ের এক কর্মচারী এসে তাদের সঙ্গে আলাপ করেছে।’

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পার্লামেন্টের বাইরের কেউ এই সরকারে থাকবে না। নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট হবে। নির্বাচনের মূল দায়িত্বে থাকবে নির্বাচন কমিশন। সরকার নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে যেসব প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, মন্ত্রণালয় দরকার হবে সেগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনস্ত হবে।’

এ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘নির্বাচন যখন আসে তখন অনেক বিষয় মাথাচারা দিয়ে উঠে। অনেকেরই অনেক খায়েশ আছে। আমি শুরু এটুকু জানি- নির্বাচন হবে যথাসময়ে, সংবিধানের আলোকে।’

নিজের উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ দেশের কোনো পলিটিশিয়ান উপন্যাস লেখেননি। সেই উপন্যাস নিয়ে কখনও ছায়াছবিও হয়নি। আমার লেখা উপন্যাস নিয়ে আবার ছবি হবে, সিনেমা হবে সেটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এক্ষেত্রে আমি মনে করি আমি একজন ভাগ্যবান মানুষ। আমার জীবনের একটি স্পেশাল ডে আজকে। আরেকটা কারণ আছে সেটাও স্পেশাল বহু দিন ধরে ফাইট করেছিলাম, ১৯৮৩ সালের সড়ক পরিবহন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার জন্য অবিরাম লড়াই করেছি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই অধ্যাদেশটি আজকে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আজকে আমরা আশা করছি সড়ক পরিবহন বিলটি সংসদে পাস হবে।’

মহরত অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিবিষয়ক আসাদুজ্জামান নূর, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম প্রমুখ।

আইনের কথা ভুলে যান, একমাত্র পথ রাজপথ: মওদুদ

মওদুদ আহমেদ

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়া ভুলে যেতে বললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘খালেদা জিয়া মুক্ত হলে বাংলাদেশে যে গণজোয়ার আসবে সেটা তারা (সরকার) ঠেকাতে পারবে না, সে কারণেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হয় নাই। সুতরাং এখন আইনি প্রক্রিয়ার কথা কিছুটা ভুলে যেতে হবে, এখন বেগম জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ হল রাজপথ। রাজপথেই এর মোকাবেলা করে তাঁর মুক্তি অর্জন করতে হবে।’

মওদুদ বলেন, ‘নিম্ন আদালতের ওপর সুপ্রিম কোর্টের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিম্ন আদালতকে সরকার রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। যার কারণে ৭ মাস হয়ে গেল কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারেন নাই। আমাদের আইনজীবীরা অনেক পরিশ্রম করে আইনি এমন কোনো প্রক্রিয়া নাই যে অনুসরণ করেন নাই। কিন্তু সরকার ও নিম্ন আদালতের সাথে আমরা জয়লাভ করতে পারি নাই। তার কারণ- সরকার চায় না বেগম জিয়া মুক্ত হোক।’

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএব) মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মওদুদ বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। নতুন করে কর্মসূচি দেব। সেই কর্মসূচির সাথে আগামী দিনের রাজনীতি, ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার অধীকার জড়িত। তাই আমাদের বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে একটি নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য।

‘এটা ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের কাছে অন্য কোনো পথ নাই। ১৬ কোটি মানুষের মুক্তি এখন নির্ভর করছে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে অান্দোলনকে সফল করা।’

দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি মোসলে উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রেয়াজুল ইসলাম রিজু, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, ডিইএব’র উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ২০ কোটি টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরও ২০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা, ভাতা ও অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছি। এই ফান্ডে আমি কিছু টাকা দিয়েছিলাম। পত্রিকার মালিকরা এই ফান্ডে কোনও টাকা দেননি। মাত্র দুজন টেলিভিশন মালিক ফান্ডে সহায়তা করেন। সেখানে এখন ১৪ কোটি টাকা আছে। আমি আরও ২০ কোটি টাকা দেবো।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমের মালিকপক্ষকে এই ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত পত্রিকা, এত রেডিও, এত টিভির অনুমোদন দিয়েছি, আপনারা (মালিকপক্ষ) কেন এই ট্রাস্টে অনুদান দেবেন না? অনুদান চেয়ে মাত্র দু’জন মালিকের কাছ থেকে আমরা সাড়া পেয়েছি, একজন ইত্তেফাকের মালিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আরেকজন মাছরাঙ্গা টিভির অঞ্জন চৌধুরী। আর কারও কাছে সাড়া পাইনি। কিন্তু এখন তো সবার অবস্থা ভালো। সবাই ভালো ব্যবসা করছেন। আপনারা সবাই টাকা দেবেন। আর মালিকপক্ষ যত বেশি টাকা দেবেন, আমার পক্ষ থেকেও এই ট্রাস্টে অনুদানের টাকা বাড়বে। আমি ১০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছি, দরকার হলে আরও দেবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে একটি টেলিভিশন এবং একটি রেডিও পেয়েছি। এরপর আমরা বেসরকারি খাতে টেলিভিশন উন্মুক্ত করে দেই। সংবাদপত্র এবং রেডিও যে যেভাবে চেয়েছে আমরা অনুমোদন দিয়েছি। তারপরও আমি কখনো সংবাদপত্রে বা মিডিয়ায় ভালো প্রচার পাইনি।

তিনি বলেন, ‘শুধু সাংবাদিক নয়, সব পেশাজীবী মানুষের উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, এটা আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ, বঙ্গবন্ধুও সারাজীবন শুধু মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।’‘আমরা সংবাদপত্র ও মিডিয়ার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরা এত উন্নয়ন করার পরও অনেকেই নানাভাবে সমালোচনা করেন। আমরা সংবাদপত্র বা মিডিয়ার কাউকে মুখ বা গলা চেপে ধরিনি। এ কথা কেউ বলতে পারবে না।’

এসময় উপস্থিত তথ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করলে তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ২০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে আমি ২০ কোটি টাকা দেবো।’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বিএফইউজের মহাসচিব মোল্লা জালাল, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধাররণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীসহ অন্যরা।

 

তনের ভয়ে শঙ্কিত-আতঙ্কিত হয়েই সোহেলকে আটক: বিএনপি

পতনের ভয়ে শঙ্কিত ও আতঙ্কিত হয়েই বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশব্যাপী চলমান পাইকারী মামলা-হামলা-গ্রেফতারের ধারাবাহিকতায় সোহেলকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ সন্ধ্যা ৭-২৫ মিনিটে গুলশান থেকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে আটক করে গুলশান থানা পুলিশ। তবে কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।

রিজভী বলেন,  আওয়ামী মহাজোট সরকার এখন পতনের ভয়ে শঙ্কিত ও আতঙ্কিত। অবৈধ সরকারের নির্মমতায় জনগণ ফুঁসে উঠেছে। সরকার পালানোর পথ খোঁজার জন্যই সারাদেশ নিঃশব্দ করে কারাগারগুলোতে ঠেসে ঢোকানো হচ্ছে বিরোধী নেতাকর্মীদের।

সারাদেশের কারাগারগুলো রাজবন্দীদের ভিড়ে উপচে পড়ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘সরকার টিকে থাকতে কোথাও থেকে কোনও বার্তা পাচ্ছে না। মাঝ দরিয়ায় হাবুডুবু খাওয়া অবৈধ সরকার প্রতিদিন ক্রসফায়ারে হত্যা ও গুমের অমানবিক পদ্ধতি অবলম্বন করার পরেও ক্ষুদ্ধ জনসাধারণকে বাগে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই আবারও জনসমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় থাকতে এই সরকার চরম অনাচারে লিপ্ত হয়েছে। ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, জালজালিয়াতি, মিথ্যাচার ইত্যাদি অবলম্বন করেই সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মেতে উঠেছে। ক্ষমতা হারানোর হতাশার বিকারেই সরকার মারমুখি হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, সোহেল বিএনপি’র একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ছাত্র রাজনীতি শেষ করার পরে সে ক্রমান্বয়ে বর্তমান অবস্থানে থেকে রাজনীতি করছে। একজন সজ্জন, মৃদুভাষী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ার পরও শুধুমাত্র সক্রিয়ভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য তার বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। বেশ কিছু মামলায় জামিনের পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পরও গত আট মাসে তার বিরুদ্ধে সত্তর থেকে আশিটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফা তার বাসায় পুলিশ হানা দিয়ে বাড়িঘর তছনছ করে দিয়েছে।

সোহেলকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইভিএম’র অপব্যবহার যেন না হয়: প্রধানমন্ত্রী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর কোনও  অপব্যবহার যেন না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকে ইভিএমের প্রশিক্ষণ ও এর ব্যবহার শেখাতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনোভাবে এটার যেন অপব্যবহার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন। ইভিএমের ব্যবহার যেন গ্রাজুয়ালি করা হয় সে ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।’

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে কি না- এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। আরপিওতো সংশোধন করতে হবে।’

ইভিএম প্রকল্পটি তাড়াহুড়ো করে পাস করা হল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘না, এটা তাড়াহুড়ো করে পাস হয়নি। পরিকল্পনা কমিশনে এ প্রকল্প অনেকদিন যাবত ছিল।’

অপর এক প্রশ্নে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ইভিএম প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি আমরা। এটা তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে। জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদকাল পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়িত হবে। পুরো টাকাই বাংলাদেশ সরকার দেবে। এটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বাস্তবায়ন করবে।’

ইভিএম প্রসঙ্গে গত ২ সেপ্টেম্বর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘জোর করে তাড়াহুড়ো করে ইভিএম জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া যাবে না। এটা প্র্যাকটিসের বিষয়। তবে পরীক্ষামূলক তা ব্যবহার করা যায়। বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হোক।’

এর আগে একনেক সভায় ‘নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ক্রমান্বয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম মেশিন কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব জনবলের জন্য ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ আয়োজন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

ড. কামালদের ৫ দফা মেনে নিলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে’

হাসানুল হক ইনু

সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের যৌথ উদ্যোগে যাত্রা শুরু করা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার যে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন, তা অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেন, এ প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের পাঁচ দফা মেনে নিলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। তাদের প্রস্তাব মানতে গেলে সরকারের সময়সীমা শেষ হবে, সংসদ শেষ হবে, সংবিধানও শেষ হবে। তখন একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে। এ সুযোগে একটি অস্বাভাবিক ভুতের সরকার বাংলাদেশের ওপর আছর করবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে যে ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে, সেখানে বিচার বিভাগকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত না করার সুষ্পষ্ট আদেশ রয়েছে। তাই এই অবস্থায় বিচার বিভাগকে বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তি খুঁজতে হবে। তাহলে এখানে পরিষ্কার, সবগুলো রাজনৈতিক দল একমত না হলে নির্দলীয় সরকার গঠন সম্ভব হবে না। তা কিভাবে সম্ভব হবে?

ইনু বলেন, নির্বাচনের যখন তিন মাস বাকি, কিছু ব্যক্তি নির্বাচনের প্রস্তুতি না নিয়ে, নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা না করে সংবিধান বহির্ভূতভাবে শেখ হাসিনা সরকারের পতদ্যাগ ও সংসদ বাতিলের দাবি করছে। এটা সাংবিধানিক একটি শূন্যতা তৈরি করবে। এই মুহূর্তে যদি একটি নির্বাচিত সরকার পতদ্যাগ করে এবং সংসদ বাতিল হয়ে যায়, তাহলে দেশ একটি সাংবিধানিক শূন্যতায় পড়ে যায়। তাহলে এই অন্তর্বর্তী সময়ে কে দেশ চালাবে? কোনো আলোচনা ছাড়াই আগে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বাতিল করতে হবে, নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে, তারপর তারা আলোচনায় যাবেন— এটা হয় না।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, বিএনপি এর আগে বলেছিল বাংলাদেশে যতগুলো দল আছে সব দলের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করতে হবে ঐক্যমত তৈরি না হওয়া পর্যন্ত। তাহলে এভাবে আলোচনা করে যতক্ষণ পর্যন্ত ঐক্যমতে পৌঁছানো না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তথাকথিত নির্দলীয় সরকারের ১০ জন ব্যক্তি মনোনয়ন দিতে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনটা নির্দিষ্ট সময়ে করতে হবে। পাঁচ বছরের আগে করার বিধান আছে, কিন্তু এ সময় অতিক্রম করতে পারবেন না। এমনকি ৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তাই তারা যে নির্দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, তা যৌক্তিক নয়। তারা বলেছে নির্দলীয় ব্যক্তি। আসলে কারা নির্দলীয় ব্যক্তি? সবাই তো কোনো না কোনো দলকে সমর্থন করে।’

যুক্তফ্রন্টের করা দাবির বিষয়ে ইনু বলেন, এই দাবিগুলো বিএনপি জামায়াতের দাবির ফটোকপি মাত্র। সেনা মোতায়েনের দাবি আমরা নাকচ করছি। আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা দাবি নেই। এটা শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক দাবি।

সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতাকৃতদের মুক্তির যে দাবি তারা করছে, তাও যৌক্তিক নয় বলে দাবি করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলে’র নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। এখানে ‘সব রাজনৈতিক দল’ শব্দের আড়ালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা, গ্রেফতার, দণ্ডিত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, জঙ্গি, সন্ত্রাস ও আগুন সন্ত্রাসের অভিযোগে আটক বা দণ্ডিতদের মুক্তি চাওয়ার নামান্তর।

আপনারা এতো আতঙ্কিত-ভয়ে কেন? কাদেরকে দুদু

জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্যে করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আপনারা এতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কেন? আপনারা এতো ভয়ে আছেন কেন? বেগম খালেদা জিয়া তো কারাগারে যাওয়ার আগে আপনাদেরকে মাফ করে দিয়ে গেছেন, তখন বোঝেন নাই কেন মাপ করেছে? আপনারা বাংলাদেশকে ৯৮ ভাগ পাকিস্তান বানিয়ে ফেলেছেন। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য, কিন্তু এখন গণতন্ত্রের ছিটেফোটাও নাই, মানুষ একটা ভোট দিতে পারে না।’

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে ‘বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদেরকে ‘সার্কাসের হিরো’ আখ্যায়িত করে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যিনি আমাদের বয়সে জ্যেষ্ঠ ছাত্রনেতা, তার বিরুদ্ধে কিছু বলাও ঠিক না, তবে তিনি যে অঙ্গভঙ্গিতে বক্তব্য দেন মনে হয় তিনি সার্কাসের হিরো।’

আওয়ামী লীগের বর্তমানে আর কোনো ভবিষ্যত নাই এমন দাবি করে দুদু বলেন, ‘আমরা যেভাবে আর যেদিক থেকেই আলোচনা করি না কেন প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মিডিয়ার সামনে হাজির হচ্ছেন তাতে আর যাই হোক দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা আর বেশি দিন নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রীরা যে ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে বুঝা গেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের জাতিসংঘের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে দলটির এই ভাইস-চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিব আমাদের দলের মহাসচিবকে আমন্ত্রিত জানিয়ে ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে জাতির কাছে মিথ্যা কথা উপস্থাপন করছেন যে- জাতিসংঘের মহাসচিব তাকে (ফখরুলকে) ডাকেননি।’

এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা যে যখনই বিদেশে যায় তাকে এয়ারপোর্টে আপনারা আটকিয়ে দেন তাহলে মির্জা ফখরুলকে কে আটকিয়ে দেন নাই কেন? তার বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারটাও তো আপনারা জানতেন।’

প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপির উদ্দেশ্যে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমাদেরকে যদি গ্রেফতার করতে চান তাহলে আমাদেরকে বলেন- আমরা নিজেরাই গিয়ে হাজির হব, এভাবে বাসা বাড়ি তছনছ করিয়েন না, ছেলেমেয়েদেরকে আর ভয় দেখাবেন না। আমরা মিছিল করে হাজির হব দেখবো কত লক্ষ কোটি মানুষকে-নেতাকর্মীদেরকে আপনারা কারাগারে রাখতে পারেন, জায়গা দিতে পারেন। এভাবে আতঙ্কগ্রস্ত করেন কেন? বাংলাদেশ যুদ্ধ হয়েছে তো গণতন্ত্রের জন্য, কথা বলার জন্য, লেখার জন্য।’

ডিজিটাল আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা (প্রধানমন্ত্রী) কি ডিজিটাল আইন করেছেন? পাকিস্তান আমলেও এত বড় নির্মম আইন হয় নাই।’

দুদু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাগ অভিমান যাই থাকুক না কেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) যাকে দেশের মানুষ, বিশ্বের মানুষ শ্রদ্ধা করে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখেছেন? কারাগারে যখন রেখেছেন তার পছন্দের ডাক্তার এবং তাকে সুচিকিৎসা দিচ্ছেন না কেন? এটা কি ধরনের নির্মমতা?’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেন বিএনপি নির্বাচনে যাবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আর আপনাদেরকে এমন হারানো হারাবে যে, আঞ্চলিক একটা কথা আছে যে- গো হারানো হারাবে। আর এসব ঘটবে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আলবার্ট পি কস্তা, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

গোরস্থানেও পুলিশ দরকার, যদি মৃতরা এসে ঝামেলা করে!’

বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে ‘উদ্ভট’ ‘মিথ্যা’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলার সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যারা মারা গেছে তারাও নাকি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে?

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মিছিল-মিটিং করি, বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। দেশের অবস্থা এমন হয়েছে; এখন দেখা যাচ্ছে গোরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা দরকার, যদি মৃতরা এসে ঝামেলা করে!’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংহতি নজরুল ইসলাম খান এ সব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টি এ সমাবেশের আয়োজন করে।

রাজধানীর চকবাজার থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজুল্লাহ মারা যান ২০১৬ সালের মে মাসে। মৃত্যুর প্রায় ২৮ মাস পর তাকে একটি মামলার আসামি করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। সম্প্রতি এই মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।

মৃত ব্যক্তিকে মামলার আসামি করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিএনপির প্রবীণ এ নেতা বলেন, ‘দেড় বছর আগে যিনি মারা গেছেন তিনি নাকি পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়েছেন। আগস্ট মাসে মারা গেছেন যিনি, তিনি নাকি সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশকে আক্রমণ করে। যারা জীবিত আছে তারাই শুধু এ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে না, যারা মারা গেছে তারাও লড়াই করে!

‘গত কয়েকদিনে কয়েক হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে’ এমন দাবি করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কী অদ্ভূত একটি দেশ, এ দেশের জন্যই কি মুক্তিযুদ্ধ করলাম? পত্রিকায় এসেছে পরিবেশ দূষণে মৃত্যুর হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এই দেশে। কিন্তু এই হিসাব কেউ করে নাই, যে রাজনৈতিক দূষণে বিশ্বে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এই দূষণে মারা গেছে গত কয়েকবছরে কয়েক হাজার মানুষ। গত কয়েকদিনেই হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে, লাখ লাখ আসামি করা হয়েছে। আমাদের মিটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়, আমাদের কর্মীরা আসার সময় গ্রেফতার হন কিংবা যাওয়ার সময় গ্রেফতার হন। মিটিংয়ে আসলে তাদের ফিরে যাওয়ার উপায় থাকে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নিউইয়র্ক যাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাছান মাহমুদ সাহেব মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা কথা বার্তা বলেন। যার কারণে তাদের দলের নেত্রী সাজেদা চৌধুরীও প্রকাশ্যে মিটিংয়ে বলেছিলেন, দেশের মধ্যে বহু বেয়াদপ দেখেছি, এ রকম দেখি নাই। হাছান মাহমুদ বলেছিলেন যে, ফখরুল ইসলাম সাহেব সাহেব জাতিসংঘে কারও দাওয়াতে যাননি, এটি মিথ্যাচার করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর। আমাদের এখানে যে সচিবালয় আছে এখানে কি অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া, পাশ ছাড়া যেতে পারবেন? মির্জা ফখরুল যে এখন থেকে নিউইয়র্ক গেলেন, সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রতিনিধি তার সঙ্গে কথা বললেন কোনো দাওয়াত ছাড়া? এ রকম তো হয় না কখনও। এর আগে এক সহকারী মহাসচিব এসেছিলেন তারানকো (অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো)। তার সঙ্গে দুই জোটের শীর্ষ নেতারা দেখা করেছেন।’

পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার ‘অসুস্থতার’ বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব সরকারের। ব্রিটিশ আইন থেকে বলা হয়েছে, আপনি যখন জেলখানায় ঢোকেন তখন আপনার ওজন মাপা হয়। জেল থেকে বের হওয়ার সময় ওজন মেপে যদি কম পাওয়া যায় তাহলে আপনি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দিতে পারবেন। অর্থাৎ যারা সরকারের হেফাজতে থাকবে, তাদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা দেখার দায়িত্ব সরকারের। খালেদা জিয়া ক্রমান্বয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি কোনো সাধারণ নাগরিক নন। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, খালেদা জিয়ার চিকিৎকসা যেন কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে করা হয়।’

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশের লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
সূত্র ঃ সারাবাংলা

১ মাসে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটবে: মওদুদ

মওদুদ আহমেদ

আগামী ১ মাসে দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন ঘটবে বলে দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘সময় আর বেশি দেরি নাই, সময় ফুড়িয়ে আসছে। বিরাট চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে, আমরা কীভাবে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবো সেটির চ্যালেঞ্জ। আর এক মাস সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে। আমাদেরকে এমন প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে এই সরকারকে বাধ্য করা যায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।’

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘ভোটাধিকার-ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার : বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। ১৪ দল ছাড়া সবাই ঐক্যমতে পৌঁছেছে। সবার দাবি একটাই- নিরপেক্ষ নির্বাচন।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের মেডিকেল বোর্ড গঠন প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয় দাবি করে মওদুদ বলেন, ‘বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। যারা তাকে দেখে এসেছেন তাদের বর্ণনা শুনলে চোখে পানি এসে যায়। আমরা তাঁর (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি। তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করলেও কথা অনুযায়ী কাজ করেননি। যাদেরকে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে তারা সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগার।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যে ছলছাতুরি করা হচ্ছে তার জবাব একদিন দিতে হবে। অবিলম্বে তাঁর চিকিৎসার জন্য নতুন বোর্ড গঠন করা হোক।’

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা না রাখার সরকার গঠিত কমিটি যে সুপারিশ করেছে তার সমালোচনা করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নতুন প্রজম্ম বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগ কেমন রাজনৈতিক দল। এটাও একটা প্রতারণা। এর আগেও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।’

প্রতারণার জন্য আগামী নির্বাচনে নতুন প্রজম্ম আওয়ামী লীগকে আর ভোট দিবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

‘বৃহত্তর ঐক্যের জন্য আমরা বের হয়েছি’

ঢাকা থেকে খুলনার পথে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতারা। দেশব্যাপী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য এই সফর বলে জানিয়েছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

খুলনায় একটি জনসভায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ৯টার দিকে যশোর প্রেসক্লাবে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

এসময় ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশব্যাপী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য আমরা বের হয়েছি। এটা কোনও দলীয় লক্ষ্য নয়, সংবিধানে দেয়া অধিকারের জন্যই। ফলে দেশের মালিককে তাদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় হতে হবে। রকার জনগণের সেবকমাত্র। তারা যদি সেটা না বোঝে তাহলে নাগরিককে মালিকের ভূমিকায় আসতে হবে এবং সেটা বুঝিয়ে দিতে হবে।’

জনগণের অসহায় বোধ করার কিছু নেই। সরকারের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতে হবে। সিংহাসনে যারা আছেন তারা সেবকমাত্র। তারা যদি সেটা না বোঝে তবে তাদের তা বুঝিয়ে দেয়া দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, বিকল্প ধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক প্রমুখ।

দেশ এখন গণতন্ত্রহীনতায় ভুগছে: ড. এমাজউদ্দীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন- যে জন্য এই রাষ্ট্র তৈরি, যে জন্য দেশ স্বাধীন করা হয়েছে সেই দেশ এখন গণতন্ত্রহীনতায় ভুগছে। আমার ভাবতে অবাক লাগে দেশের জনগণ এখনও নিশ্চুপ, কেউ কিছু বলছে না।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার অমর প্রকাশনার ‘কাজী জাফর আহমদ স্মারক গ্রন্থ’ এবং ‘আমার রাজনীতির ৬০ বছর: জোয়ার-ভাটার কথন’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক এই উপাচার্য বলেন-দেশের প্রত্যেকটি সোশ্যাল ফোর্স আজ বিভক্ত। তাই দেশের সমাজকে উন্নত করা যাচ্ছে না। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাহলে সমাজের উন্নতি হবে, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন- বলা হচ্ছে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। কিন্তু যে দেশে ১০০ ভাগের মধ্যে ৩৭ ভাগ অশিক্ষিত, মানবেতর জীবনযাপন করছে, সেই দেশে উন্নয়নের ধারা বইছে এটা বলা যাবে না।

দেশের প্রবীণ এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন- বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বলা যাবে না, সনাতনও বলা যাবে না। কাজী জাফর শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময়ের সরকারের সাহায্য না পেয়ে তিনি তা করতে পারেননি। তাই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করার জন্য যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। কাজী জাফরের সেই প্রচেষ্টাকে সফল করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন প্রমুখ।

জনপ্রিয়

গরম খবর