বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
Home Blog Page 108

রংপুর-৬ আসনে শেখ হাসিনা, শিরীন শারমিন, না জয়

রংপুর-৬ আসনে শেখ হাসিনা, শিরীন শারমিন, না জয়

Rangpur

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনবার ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুইবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন রংপুর-৬ আসনে। পীরগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী এলাকা তাই ভিভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। একসময় জাতীয় পার্টির দুর্গও বলা হতো এ আসনকে। তবে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এখানে নৌকার হাল ধরে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটিয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকেই, না হলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রার্থী হিসেবে পেতে চাইছেন এ আসনে। তাদের কেউই এখান থেকে নির্বাচনে অংশ না নিলে স্থানীয় কোনো প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনে যেতে আগ্রহী তারা। ঐক্যের কারণে অন্য কোনো দলের প্রার্থীর মনোনয়ন মেনে নিতে রাজি নন তারা। সব মিলিয়ে এ আসনে রয়েছে নৌকা ও লাঙ্গলের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা। দ্বন্দ্ব-বিভক্তিতে জর্জরিত বিএনপি এখানে কোনো সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বললেই চলে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে  জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এ আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী হবেন বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কোনো কারণে তিনি প্রার্থী না হতে পারলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় প্রার্থী হবেন- এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। কারণ, পীরগঞ্জ মানেই শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি ও তার ছেলে জয়ের দাদার বাড়ি। তাদের কেউ প্রার্থী হলে আগামী নির্বাচনে এ আসন যেমন দখলে থাকবে, তেমনি আশপাশের নির্বাচনী আসনগুলোতেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তারা।

তবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও সম্প্রতি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে পরোক্ষভাবে এ আসন থেকে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। আবার দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলেও সম্প্রতি প্রায়ই গণসংযোগ করতে এলাকায় আসছেন সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ।

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টিও আসন্ন নির্বাচনে এ আসনটিকে কব্জায় নিয়ে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, জাতীয় পার্টিতে শক্তিশালী প্রার্থীর অভাব রয়েছে। কোনো কারণে এ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়- দু’জনের কেউই নির্বাচন না করলে এবং নির্বাচনী ঐক্যজোট না হলে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। উপজেলার রোজবাহাপুরের সুশীল ঘোষ, রামনাথপুরের দুলাল, বাবনপুরের মজনু প্রমুখ বিকল্প হিসেবে স্থানীয় প্রার্থীর প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে বলেন, ‘হামার পীরগঞ্জোত কি এমপি ভোট করার লোক নাই?’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফল পর্যালোচনায় বলা যায়, এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ইউপি নির্বাচনে এখানকার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২টিতেই আওয়ামী লীগ, দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে জিতেছেন দলের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ভাতিজা তাজিমুল ইসলাম শামীম।

নির্বাচন প্রসঙ্গে এ আসনের বর্তমান সাংসদ ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ নির্বাচনী এলাকায় তিনি ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী নির্বাচনে এ এলাকার মানুষ নৌকাকেই জয়ী করবে। তিনি জানান, এ আসনে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা পীরগঞ্জের সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় প্রার্থী হলে স্থানীয় ভোটারদের মতো তিনিও খুশি হবেন। কে এ আসনের হাল ধরবেন, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান রাঙ্গা বলেন, এ আসনের মনোনয়ন সম্পর্কে দলের সভাপতিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তারপরও যদি নেত্রী কিংবা সজীব ওয়াজেদ জয় প্রার্থী হন, তা হলে এলাকার মানুষ খুশি হবে। বিকল্প হিসেবে স্পিকারকেই তারা সমর্থন করবেন। কারণ, শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তিনি এ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

পীরগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ এখনও তেমন সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। তবে কৌশলে নানাভাবেই মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন রংপুর জেলা ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য, দু’বারের সাবেক সাংসদ (জাপা প্রার্থী হিসেবে) এবং বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মণ্ডল। যদিও এ দুই নেতার মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ থাকায় স্থানীয় বিএনপিও দুই গ্রুপে বিভক্ত।

এ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি এতই দুর্বল যে সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তারা স্থানীয় ১৫টি ইউপির মধ্যে মাত্র তিনটিতে প্রার্থী দিতে পেরেছিল। তবে দলটির দু’বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মণ্ডলের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। এ ইমেজ কাজে লাগিয়ে তিনি আরও একবার এমপি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলেও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয় দেখা যায় না।

এ আসনে বিএনপির যেসব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয়, তা রংপুর জেলা ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে। তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার মতো ভিত্তি তিনি তৈরি করতে পারেননি।

জাতীয় পার্টির অবস্থানও এ আসনে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দলের বিলাসবহুল নিজস্ব কার্যালয় ‘এরশাদ ভবন’ও এখন আর আগের মতো জমজমাট নয়। মাসে একদিনও এখন এটি খোলা পাওয়া যায় না। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাপা মাত্র দুটিতে প্রার্থী দিতে পারলেও শেষ পর্যন্ত শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয় তাদের। তবে এরই মধ্যে এখানে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম যাদু ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন টানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। উপজেলা সদর থেকে তার বাড়ি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হলেও তিনি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে জাপার রাজনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে না করলে এ আসনের নির্বাচনে লাঙ্গল ও নৌকার মধ্যেই জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম যাদু বলেন, প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে স্যার (এইচএম এরশাদ) তাকে সবুজসংকেত দিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার লক্ষ্য এ আসনটিকে পুনরুদ্ধার করা।

বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ মণ্ডল বলেন, তিনি এ আসনে দু’বার সংসদ সদস্য ছিলেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি আগ্রহী আবারও প্রার্থী হতে।

রংপুর জেলা ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপিই জয়ী হবে।

সূত্র: সমকাল

বিএনপি’র ৮ নেতার সম্পদের খোঁজে দুর্নীতি দমন কমিশন

দুর্নীতি দমন কমিশন

বিএনপি’র ৮ নেতার সম্পদের খোঁজে দুর্নীতি দমন কমিশন

দুর্নীতি দমন কমিশন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নানা অভিযোগের ভেতরেই দলটির শীর্ষ আট নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে সংস্থাটি। তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এরইমধ্যে অনুসন্ধানের জন্য দুদক দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা করেছে। যারা হলেন উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম, সহকারী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন।

যেসব নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, তাঁরা হলেন স্থায়ী কমিটির চার সদস্য—খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা আব্বাস; দুই ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও এম মোর্শেদ খান; যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। এ ছাড়া এম মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান হচ্ছে।

সূত্র জানায়, একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে খবর প্রকাশ হয়, ৩০ দিনে এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব থেকে ১২৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। সেই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে আবদুল আওয়াল মিন্টুর অ্যাকাউন্ট থেকে গেলো ১১, ১৫ এবং ২০শে ফেব্রুয়ারি ৩২ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। একই মাসে তার সন্তান তাবিথ আওয়ালের অ্যাকাউন্ট থেকে সন্দেহজনকভাবে উত্তোলন করা হয় ২০ কোটি টাকা।২৭শে ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতা মোর্শেদ খানের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। তার ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের অ্যাকাউন্ট থেকেও গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি উত্তোলন করা হয় ৯ কোটি টাকা।ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গত ৩ মার্চ থেকে ১২ই মার্চের মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ২১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। তার অ্যাকাউন্টের ছয়টি চেকে টাকা তোলা হয়েছে ঢাকার বাইরে থেকে।গেলো ২৮শে ফেব্রুয়ারি এবং ৪ মার্চ ঢাকা ব্যাংকে মির্জা আব্বাসের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়।এছাড়া, নজরুল ইসলাম খান এবং হাবিবুন্নবী খান সোহেলের অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে ৭ কোটি টাকা ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দু-একটি ‘হাওয়াই অনলাইনে’ প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দুদক অনুসন্ধান করছে, তার কতটা ভিত্তি আছে? তিনি বলেন, ‘যে ব্যাংকের লেনদেনের কথা বলা হয়েছে, সেখানে আমার বা আমার পরিবারের কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কখনোই ছিল না, এখনো নেই।’

দলের আরেক শীর্ষ নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা যাঁরা রাজনীতিতে সক্রিয়, তাঁদের চাপে রাখতে সরকারের একটি কৌশল। শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে যাঁরা পরিচিত, তাঁদের না ধরে আমাদের নিয়ে দুদক কেন টানাটানি করছে, সেটা সবাই বোঝে।’

বগুড়ায় বিএনপিতে অনিশ্চয়তা আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী

বগুড়ায় বিএনপিতে অনিশ্চয়তা আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী

Bogra

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি মামলায় জেল দেয়ার পর থেকে নির্বাচনের আমেজে ভাটা পড়েছে। নতুন করে আবারো সংশয় দেখা দিয়েছে নির্বাচন নিয়ে। কীভাবে হতে যাচ্ছে আসন্ন নির্বাচন- এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল।

জাতীয় রাজনীতিতে বগুড়া বরাবরেই আলোচিত। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি এর মূল কারণ। বগুড়ার রাজনীতিতে বরাবরের মতোই বিএনপি এগিয়ে। ১/১১’র দেশীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ার রাজনীতিতেও বাহ্যিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিগত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় বগুড়ার সাত সংসদীয় আসনে আওয়ামী জোটের প্রার্থীরা এমপি নির্বাচিত হন। সাত এমপির ২টি আওয়ামী লীগ বাকি পাঁচটি জাতীয় পার্টি এবং জাসদের দখলে। আগামী নির্বাচনের বেশি দিন বাকি না থাকায় সব দলের প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। রাজনৈতিক মামলা এবং পুলিশের ধরপাকড়ের ভয়ে বিএনপি এবং জোটের শরিক দলগুলো অনেকটাই কোনঠাসা। বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মাঠে থাকলেও বিগত বছরগুলোয় বড় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। অপর দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথম দিকে বগুড়ার রাজনৈতিক মাঠ দখল করে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি। কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা এবং নেতাদের জেলে ঢোকানোর ফলে এক সময় জামায়াতও মাঠের বাইরে চলে যায়। এত কিছুর পরও গেল ইউপি নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের একাধিক প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিয়েছে তারা। প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম না থাকলেও গোপনে তাদের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করেছে। আসছে নির্বাচনে সঙ্গত কারণেই জামায়াতের ভোটব্যাংক দুই বড় রাজনৈতিক দলের জন্য ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এজন্যই জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
বগুড়া-৬ আসনটি গঠিত সদরকে ঘিরে। আর তাই জেলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এ আসনটি। এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি প্রার্থী হতে না পারলে সম্ভাব্য প্রার্থী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম। বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম ওমর সম্ভাব্য প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হলে নুরুল ইসলাম ওমর এ আসনে জোটের প্রার্থী হবেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মমতাজ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে মমতাজ উদ্দিন প্রার্থী না হলে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান রনি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু সুফিয়ান সফিক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রাজ দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।

অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে একধরনের টানাপোড়েন থাকলেও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বিএনপি। অনানুষ্ঠানিকভাবে চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ। বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাও শুরু হয়ে গেছে। ফলে তাদের নিয়ে আগ্রহ-আলোচনা বাড়ছে। দলের কেন্দ্রীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের আসনগুলো অনেকটাই নির্দিষ্ট বলে সেগুলো নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়ে জেলহাজতে থাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে নেতাকর্মী ও রাজনীতি সচেতন মানুষের মধ্যে।

ওদিকে টানা দুবার ক্ষমতায় থাকায় বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত বগুড়ায় আওয়ামী লীগ একটা শক্ত ভিত তৈরি করেছে। দলীয় যেকোনো প্রোগ্রামে নেতা কর্মীদের অংশগ্রহণ তেমনটাই বলে দেয়। অপরদিকে গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বগুড়ার প্রায় ইউনিয়নগুলোতেই নৌকার প্রার্থী জয়ী হয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন থেকে তৃর্ণমূলকে গোছানোর জন্য কাজ করে আসছে। ফলে আগের চেয়ে আওয়ামী সমর্থকের সংখ্যা বেড়েছে। আগামী নির্বাচনে জেতার জন্য দলটি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী কম থাকলেও এ আসনে এবার আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন। কে পাবেন এ আসনে নৌকার টিকিট- সেই নিশ্চয়তা এখনো দেয়া যাচ্ছে না। তবে দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। তৃর্ণমূলে যাদের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা বেশি বলে মনে হবে; দল তাকেই নৌকার টিকিট দেবে।

বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট থেকে এ আসনে নির্বাচন করেন বর্তমান এমপি নূরুল ইসলাম ওমর। তিনি আবারো জোট থেকেই মনোনয়ন চাইবেন। তবে শোনা যাচ্ছে জাতীয় পার্টি এবার একাই ৩০০ আসনে লড়বে। যদি তাই হয় তাহলে আপাতত বগুড়া সদর আসনে ওই দলের একমাত্র প্রার্থী তিনিই হবেন। এককভাবে নির্বাচন করলে ফল তার পক্ষে কতটুকু আসবে- তা নিশ্চিত নয়। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বগুড়ায় তিনি বেশ উন্নয়ন করেছেন। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটাররা আবারো তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচন করবেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপি অনেক বড় দল। সে কারণে নেতাও বেশি। আসছে নির্বাচনে সদর আসন থেকে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে সেটা কেন্দ্র ঠিক করবে। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু বলা যাবে না। তবে তিনি জানান, যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনর সরকার জনগণের সরকার। বিগত দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বগুড়ায় ব্যাপক উন্নয় হয়েছে। সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। তিনি আরো বলেন, বগুড়া সদর আসনে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। তিনি নিজেও ওই আসনে ভোট করতে পারেন।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি জানান, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন যদি এ আসনে নির্বাচন না করেন তাহলে তিনি নৌকার টিকিটে আশাবাদী।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, এ আসনে দল থেকে অনেকেই মনোনয়ন চাইবেন। আমিও চাইবো। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে যাকেই দেয়া হোক সেই সিদ্ধান্তই মেনে নিয়ে দলের জন্য কাজ করবো।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু বলেন, বগুড়ায় আওয়ামী লীগের জোয়ার উঠেছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদী। মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনিও দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান করবেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু সুফিয়ান শফিক জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন যদি ওই আসন থেকে নির্বাচন না করেন তাহলে সদর উপজেলা সভাপতি হিসেবে তিনিই মনোনয়ন পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রাজ  নিজেকে ক্লিন ইমেজের উল্লেখ করে বলেন, এ আসনে যদি কেন্দ্র তাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে তিনি নির্বাচন করে জয়ী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সূত্র: মানবজমিন

আগামীকাল বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

আগামীকাল বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

Bangladesh Nationalist Party

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এবং দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা সদরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

সোমবার (২ এপ্রিল) সকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী।

এ সময় তিনি আগামীকালের কর্মসূচিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অংশ গ্রহণের জন্য দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানান।

সিটি নির্বাচনে যাবে বিএনপি, মত দিলেন তারেক জিয়া

সিটি নির্বাচনে যাবে বিএনপি, মত দিলেন তারেক জিয়া

Bangladesh Nationalist Party

আন্দোলনের অংশ হিসেবে আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। রোববার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথসভা শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান।

বিএনপির অধিকাংশ নেতাই আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিপক্ষে থাকলেও, তারেক জিয়া সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দেন।

গতরাতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বসেছিলেন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। বৈঠকে চলমান আন্দোলন এবং আসন্ন সিটি নির্বাচন অংশ নেওয়া না নেওয়া বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের মাঝামাঝি সময়ে লন্ডন থেকে ফোন করেন তারেক জিয়া। তিনি প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য রাখেন। আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন তারেক জিয়া। নির্বাচনের মাধ্যমে বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে জোরদার করারও আহ্বান জানান তারেক। এই নির্বাচন সরকারকে আরও চাপে ফেলবে বলেও তারেক মন্তব্য করেন। এরপরই পাল্টে যায় বৈঠকের আবহাওয়া। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলে সবাই নির্বাচনে যাবার পক্ষে অবস্থান নেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. শাজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবেদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আবারো অনশনে ওয়ালীদ আশরাফ

ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আবারো অনশনে ওয়ালীদ আশরাফ

ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আবারো অনশনে ওয়ালীদ আশরাফ

ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আবারো অনশনে ওয়ালীদ আশরাফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে পুনরায় অনশনে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের  সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ আশরাফ।

এর আগে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে ২৫ নভেম্বর ২০১৭ থেকে ১৫ দিনের অনশনে ছিলেন এই শিক্ষার্থী। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ডাকসু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে অনশন ভাঙান।

ওয়ালিদ আশরাফ জানান, ডাকসুর নির্বাচনের দাবিতে আমি আবারও অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছি। আমার প্রত্যাশা ছিল বর্তমান ডিজিটাল সুবিধায় ও প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত এই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। কিন্তু বর্তমান তোষামোদী প্রশাসন এক বছরের প্রস্তুতি সময় চেয়ে তার অযোগ্যতাই তুলে ধরেছে। তারা আদালতকে মূল্যায়ন করছে না। যতদিন দাবি আদায় না হবে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনের ইন্ধনে ধারাবাহিকভাবে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ক্রমাগত নিপীড়ন চলছে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে আস্থার ছায়া দেয়ার কথা বিবেচনায়, এই প্রশাসনের অপারগতা বিবেচনা করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বলিষ্ঠ পদক্ষেপ প্রার্থনা করছি।

উল্লেখ্য, আদালতের দেয়া পূর্ণাঙ্গ সিনেট গঠন এবং ডাকসু নির্বাচনের শেষ তারিখ আগামী ১০ এপ্রিল শেষ হবে। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আদালতের নির্দষ্ট তারিখ অমান্য করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাবি কর্তৃপক্ষ সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ২০১৯ সালে ৩০ মার্চের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়।

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

Bangladesh Awami League - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ফজলুল হক (৬২) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার হাসনারপাড়া গ্রোয়েনের উত্তর পাশে যমুনা নদীর দূর্গম চরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের চর দীঘাপাড়ার মৃত কিয়াস উদ্দিনের ছেলে কৃষক ফজলুল হক আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি সারিয়াকান্দি বাজার থেকে হেঁটে বাড়িতে ফিরছিলেন। হাসনারপাড়া গ্রোয়েনের উত্তর পাশে যমুনা নদীর চরে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তার উপর হামলা করে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে যায়।

পথচারীরা টের পেয়ে তাকে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পথিমধ্যে রাত পৌণে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকান্ডের কারণ ও কারা জড়িত তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন সারিয়াকান্দি থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, লাশটি মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

সিটি নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিতরণ ৫ ও ৬ এপ্রিল

সিটি নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিতরণ ৫ ও ৬ এপ্রিল

Bangladesh Awami League - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিতরণ করবে আওয়ামী লীগ।
ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ৫ ও ৬ এপ্রিল এ ফরম সংগ্রহ করা যাবে। পরদিন ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে একই স্থানে এই মনোনয়নের আবেদন ফরম জমা দিতে হবে।
রবিবার আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে যাদের নাম দপ্তরে পাঠাবে শুধুমাত্র তারাই আওয়ামী লীগের ফরম ক্রয় করতে পারবেন।
জানা গেছে, মনোনয়নপত্রের আবেদন ফরম জমা হওয়ার পর দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক ডেকে আগ্রহীদের ইন্টারভিউ নিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে তাকে দলের মনোনয়ন দেয়া হবে। সিটি করপোরশেনের মেয়র পদটি দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে।
একই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে স্ব-স্ব ওয়ার্ডগুলোকে ৩ সদস্যের প্যানেল তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের নিয়ে বর্ধিত সভা করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই প্যানেল করতে বলা হয়েছে। প্যানেলটি মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে প্রার্থীদের যোগ্যতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও জনপ্রিয়তা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করে ৭ এপ্রিলের মধ্যে ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

দুর্বৃত্তের হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতা সদরুল আলমের মৃত্যু

দুর্বৃত্তের হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতা সদরুল আলমের  মৃত্যু

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ - Bangladesh Student League

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রতিপক্ষের গুলিতে গুরুতর আহত পাকশি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সদরুল হক পিন্টু (৩২) মারা গেছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে সদরুল মারা যান। হাসপাতালে থাকা পাকশীর যুবলীগ কর্মী আলাল হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সদরুল হক পিন্টু পাকশি ইউনিয়নের চর-রূপপুর তিনবটতলা গ্রামের আজাদ মালের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাকশীর ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সদরুলের দ্বন্দ্ব চলছিল। দুই বছর আগে প্রকাশ্যে সৌরভের হাত কেটে দেন সদরুল। এ ঘটনায় সদরুলকে প্রধান আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়। ওই ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল সদরুলের ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি-ঈশ্বরদী সার্কেল) জহুরুল হক জানান, আহত পিন্টুর কোমড়ে দু’টি গুলি বিদ্ধ হয়। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাতির গুরুতর আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। সুরতাহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্ব পুরুষ পরিচিতি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্ব পুরুষ পরিচিতি 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব।

জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে বিএনপি নেতা দুদুর মুক্তিতে আর কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

রোববার (১ এপ্রিল) বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মাদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদীন ও অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিয়ন।

সগীর হোসেন লিয়ন বলেন, রমনা থানার মামলায় শামসুজ্জামান দুদুকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে শামসুজ্জামান দুদুর বিরুদ্ধে অন্য কোন মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে আর কোন বাধা থাকল না।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর রমনা থানায় শামসুজ্জামান দুদুসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা করা হয়। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে সেগুনবাগিচা থেকে দুদুকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারেই আছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অপমানের অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

প্রধানমন্ত্রীকে অপমানের অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অপমানের অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

প্রধানমন্ত্রীকে অপমানের অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

নরেন্দ্র মোদিকে অপমানের অভিযোগে দেশের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন বিজেপি নেতা শালভ মনি ত্রিপাঠি। আগামী ৫ এপ্রিল ওই মামলার শুনানি হবে।

৩০ মার্চ (শুক্রবার) উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলা ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ এবং ৫০০ ধারায় ওই মামলা করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের বিজেপি মুখপাত্র শালভ মনি ত্রিপাঠির দাবি, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে  ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে রাহুল গান্ধী বিজেপি কর্মীদের আহত করাসহ গোটা দেশবাসীকে অপমান করেছেন।’

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হুসেন অবশ্য একে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, ‘কংগ্রেস মামলার ভয় পায় না। প্রয়োজনে কংগ্রেস কর্মীরা কারাগারে যেতেও তৈরি আছে। কিন্তু দেশের মানুষের স্বার্থে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।’

দিল্লিতে সম্প্রতি কংগ্রেসের ৮৪ তম অধিবেশনের ভাষণে,  কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী  দেশে দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি,  ব্যাংক দুর্নীতি করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া নীরব মোদি এবং সাবেক আইপিএল কর্মকর্তা ললিত মোদির নাম টেনে আনেন। তার বক্তব্য ছিল, ‘মোদি’ পদবী দুর্নীতির সমার্থক হয়ে উঠেছে। এর পরেই এ প্রসঙ্গে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ওই ইস্যুতে এর আগে গত বুধবার উত্তর প্রদেশের লক্ষনৌতে বিজেপি নেতা দিলীপ শ্রীবাস্তব কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। আদালত এ ব্যাপারে আগামী ১০ এপ্রিল আবেদনকারীর বয়ান নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। ওই দিনই দীলিপ শ্রীবাস্তব কংগ্রেস সভাপতি রাহুলের বিরুদ্ধে সাক্ষী-প্রমাণ পেশ করবেন।

জনপ্রিয়

গরম খবর