মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮
Home Blog Page 2

১ কোটি ২৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে আ.লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও সরকার গঠন করতে পারলে নতুন ১ কোটি ২৮ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার হবে। মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ইশতেহারে এ কথা বলা হয়েছে। ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ইশতেহার প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আগামীবার ক্ষমতায় এলে ১ কোটি ২৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। নতুন যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো শুরু করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে তাতে অন্ততপক্ষে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া প্রতি পরিবারে যাতে অন্ততপক্ষে একজন মানুষের নিয়মিত কর্মসংস্থান তৈরি হয় তা নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে বলা হয়, তরুণরা যাতে শুধুমাত্র চাকরির দিকে না ঝুঁকে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য চেষ্টা করে সেজন্য তাদের বিনা জামানতে এবং সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ন্যূনতম ২ লাখ টাকা ঋণের সুযোগ দেয়া হবে।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বুদ্ধিজীবী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত রয়েছেন।

রাজনীতিবিদদের সমালোচনার অবাধ অধিকার দিবে বিএনপি

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যুক্তিসংগত সমালোচনার অবাধ অধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে লেকসোর হোটেলে সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে ইশতেহার পাঠ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলটির ইশতেহারের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারে বলা হয়েছে-

>> মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারে সাথে কোন বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও কারো কন্ঠ রোধ করা হবে না। অনলাইন মনিটরিং তুলে দিয়ে জনগণকে অবাধে কথা বলার ও মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া হবে।

>> ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস এক্টসহ সকল প্রকার কালা-কানুন বাতিল করা হবে। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তি দ্রুততর করার জন্য বিদ্যমান বাধাসমূহ পুরোপুরি দূর করা হবে।

>> মানুষের জীবনের মূল্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন এবং অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে।
>> বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে।

>> রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যুক্তিসংগত সমালোচনার অবাধ অধিকার থাকবে।

ইশতেহারে বয়সভিত্তিক ১৭ অঙ্গীকার বিএনপির

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। এতে বয়সভিত্তিক ১৭টি অঙ্গীকার করেছে দলটি, যা সরকার গঠন করতে পারলে বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে ইশতেহার জাতির সামনে তুলে ধরেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ শুরু করে বিএনপি।

১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি নির্বাচনে দলের নির্বাচনী ইশতেহার জাতির সামনে তুলে ধরেছেন খালেদা জিয়া। এবার তিনি কারাগারে থাকায় তার পক্ষে মহাসচিব ইশতেহার তুলে ধরেন।

শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা— এই পাঁচটি ক্যাগারিতে ১৭টি অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। এগুলো হলো—

শিশু

১. জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ

২. শিশুদের ডায়াবেটিস ও বেড়ে ওঠাজনিত সমস্যার সমাধান

৩. পুষ্টি নিরাপত্তা

কিশোর-কিশোরী

৪. জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ

৫. নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ

৬. প্রতি জেলায় ক্রীড়া একাডেমি স্থাপন

তরুণ-তরুণী

৭. ইয়ুথ পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা

৮. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা

৯. ইন্টারনেটকে সূলভ করা ও এর গতি বৃদ্ধি করা

১০. স্বল্প সুদে শিক্ষা ঋণ

যুবক-যুবতী

১১. প্রথম ৩ বছরে ২ লাখ সরকারি চাকরি

১২. আগামী ৫ বছরে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি

১৩. ২০ বছর মেয়াদী বিশেষ ঋণ সুবিধা

১৪. তথ্য প্রযুক্তি ও কৃষিখাতে বিশেষ প্রণোদনা

১৫.নারীর মর্যাদা ও সম্পত্তির ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকার নিশ্চিতকরণ

বৃদ্ধ-বৃদ্ধা

১৬. সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা

১৭. অসহায় বয়স্কদের ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে মূল মঞ্চে মির্জা ফখরুলের পাশে আছেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এ ছাড়া বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, ড. দিলার চৌধুরী, অধ্যাপক তাজমেরি এস ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

এর আগে গতকাল সোমবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহারে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করতে পারলে ৩৫টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের করা তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগের ইশতেহারে যা আছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে সমৃদ্ধ অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ‘২১টি বিশেষ অঙ্গীকার’ বাস্তবায়ন করবে আওয়ামী লীগ।

ইশতেহারে তরুণ সমাজকে উৎপাদনমুখী করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ইশতেহারে এ কথা বলা হয়েছে।

‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ইশতেহার প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

ইশতেহারে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন মেয়াদে সরকারে থাকার সময়কার অর্জনগুলো তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকারের সময়কার নানা নেতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে।

এবারের ইশতেহারের মূল বিষয় তারুণ্য এবং গ্রামের উন্নয়ন। ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার করেছে, এর প্রথমেই আছে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা দেয়া।

এরপরই থাকছে যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনও আইন করা হবে না: আওয়ামী লীগের ইশতেহার

কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনও আইন করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলের দলের ইশতেহার ঘোষণা করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় তিনি বলেন, দেশের জন্য কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোন আইন করা হবে না। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে। সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-জাতি গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমুলক সকল প্রকার আইন ও ব্যবস্থার অবসান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মিথ্যা তথ্য প্রচার ও অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব নিরসনে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা হবে সামাজিক দায়বদ্ধ সমৃদ্ধ সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যম উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হবে।

নির্বাচনী ইশতেহারে জনবান্ধব আইন-শৃঙখলা বাহিনী গড়ে তোলা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, দক্ষ, সেবামুখী ও জবাদিহিতামূলক প্রশাসন, মেগা প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস করা হবে বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা এসময় বলেন, প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন নিয়মিত রোজগারের নিশ্চয়তা থাকবে। কৃষি উপকরণের উপর ভর্তুকি অব্যাহতির পাশাপাশি বাড়ানো হবে। ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চয়তা করা হবে। ৫ বছরে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং ৫ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হবে।

ইশতেহারে তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দের পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

২০৩০ সালে মাথাপিছু আয় ৫ হাজার ৪৭৯ ডলার ছাড়াবে: প্রধানমন্ত্রী

২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৪৭৯ মার্কিন ডলারের বেশি। বললেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে সকালে দলের ইশতেহার ঘোষণার সময় তিনি এ কথা বলেন।

সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ শ্লোগানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৫ বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নামবে।

গোলাম মাওলা রনির ফোনালাপ ফাঁস, থানা ঘেরাওয়ের নির্দেশ

স্ত্রী ও পরিবারের ওপার হামলা হওয়ায় পটুয়াখালীর গলাচিপা থানা ঘেরাওয়ের নির্দেশ দেন পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবে রনির একটি অডিও ফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে।

এ অডিওতে গোলাম মাওলা রনিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে নিদের্শ দিচ্ছেন থানা ঘেরাও করার জন্য। এসুযোগকে কাজে লাগিয়ে নেতাকর্মীদের দিয়ে থানা ঘেরাও করতে হবে।

তিনি বলেন, গাড়িটি থানায় নিয়ে মামলা নেয়ার জন্য চাপ দিতে হবে, থানায় গিয়ে এই সুযোগে (প্রতিপক্ষের) প্রার্থীসহ সবার নামে মামলা দিয়ে দাও। তোমার ভাবীকে (রনির স্ত্রী) বাদি কর।

রনি ফোনে আরও বলে, তোমরা মামলা কর আমি উপর থেকে প্রেসার ক্রিয়েট (চাপ সৃষ্টি) করছি। মামলা না নেয়া পর্যন্ত থানা থেকে তোমরা নামবে না।

এটা কিন্তু আমাদের সুযোগ এবং সব জায়গায় ফোন দিয়ে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে থানা ঘেরাও করো। এটা আমাদের সুযোগ। ঠিক আছে।

উল্লেখ্য, ১৫ ডিসেম্বর (শনিবার) রনির স্ত্রী কামরুন্নাহার রুনু নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরার পথে তার মাইক্রোবাসে ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন।

বিএনপির ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ভিশন- ২০৩০’

প্রধান দুটি রাজনৈতিক পরিবারের শিক্ষাগত যোগ্যতা
প্রধান দুটি রাজনৈতিক পরিবারের শিক্ষাগত যোগ্যতা

বিএনপি আজ (মঙ্গলবার) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছে। বেলা ১১টায় গুলশানে হোটেল লেকশোরে ইশতেহার ঘোষণা করবে দলটি। এর আগে সোমবার বিএনপি নির্বাচনী মিত্র জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইশতেহার ঘোষণা করে।

বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এবার ইশতেহারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তরুণ, নারী এবং বয়স্ক নাগরিকদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহার প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। এতে সুশাসনের দিকেও বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ এর উপর ভিত্তি করে বিএনপি নিজেদের ইশতেহার প্রণয়ন করেছে।

ইশতেহারে বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করবে। তাদের ভাতা বৃদ্ধি করাসহ নানা প্রতিশ্রুতিও থাকছে।

ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে সংবিধান সংস্কার করে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ, প্রতিহিংসার রাজনীতি না করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ থাকবে নতুন কিছু চমক থাকবে ইশতেহারে।

বিএনপির ইশতেহারে শিক্ষিত বেকারদের জন্য বিশেষ ঘোষণা আসছে। কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে।

আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ২১ বিষয়ে প্রাধান্য

আজ মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সকাল ১০টায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইশতেহার তুলে ধরবেন শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ স্লোগান সংবলিত বঙ্গবন্ধুর এই উক্তিকে সামনে রেখেই ২১টি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ইশতেহারে। এগুলো হলো— আমার গ্রাম- আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ; তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা; দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ; নারীর ক্ষমতায়ন; লিঙ্গ সমতা ও শিশু কল্যাণ; পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা; সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল; মেগা প্রজেক্টসমূহের দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন; গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা; সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি; দারিদ্র্য নির্মূল; সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি; সকল স্তরে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা; সার্বিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার; আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা; দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন; ব্লু-ইকোনমি তথা সমুদ্র সম্পদ উন্নয়ন; নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা; প্রবাসী কল্যাণ কর্মসূচি এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে রয়েছে সাতটি অধ্যায়। প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে ইশতেহারের অঙ্গীকার, দ্বিতীয় অধ্যায়ে রয়েছে পটভূমি, তৃতীয় অধ্যায়ে রয়েছে গত দুই মেয়াদে সরকারের সাফল্য ও আগামী মেয়াদের জন্য পরিকল্পনা, চতুর্থ অধ্যায়ে দেশের অর্থনীতির চিত্র, পঞ্চম অধ্যায়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, ষষ্ঠ অধ্যায়ে ভবিষ্যৎ দিকদর্শন এবং সপ্তম অধ্যায়ে রয়েছে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান। এসব অধ্যায়ের মধ্যে আবার উপ-অধ্যায়ে ভাগ করে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন বিষয়।

কৃষি, কৃষক, শিল্পায়ন ও শ্রমিকদের নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের পরিকল্পনা

দেশের কৃষি, কৃষক, শিল্পায়ন এবং শ্রমিকের অগ্রগতির জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সোমবার নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটি বলছে, ক্রমাগত কমতে থাকা কৃষি ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়িয়ে সার বীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, সরকারি ব্যাংক থেকে খুব সামান্য সুদে কৃষকদেরকে ঋণ দেয়া, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণের একটা নির্দিষ্ট অংশ কৃষকদের মধ্যে বিতরণে বাধ্য করা হবে, ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারের খাস জমি বন্টন করা হবে, ভূগর্ভস্থ পানি কম ব্যবহার করতে হয় এমন ফসল উৎপাদনে এবং অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষে কৃষককে প্রশিক্ষণ এবং প্রণোদনা দেয়া হবে, সেচের সুবিধার্থে পদ্মা ব্যারাজ নির্মানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে, সরকার স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষিগুদাম ও হিমাগার নির্মাণে ভর্তুকী/ অনুদান দেবে। উৎপাদকদের বিপননক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রত্যেক উপজেলা ভিত্তিক ন্যায্য বিপণন সমবায় স্থাপিত হবে, উৎপাদকগণ সরাসরি এই বিপণন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবেন, এতে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের উপদ্রব কমবে।

ইশতেহারের ১৪ দফায় আরো বলা হয়, ক্রমবর্ধমান নগর আবাসন শিল্পায়নের ফলে আবাদযোগ্য ভূমি ও জলাশয় এর উদ্বেগজনক হ্রাসের হার কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে সরকারি প্রণোদনা থাকবে, স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি গুদাম ও হিমাগার নির্মাণ এ সরকার প্রণোদনা দেবে, জলমহাল এবং হাওরের ইজারা সম্পূর্ণ বাতিল করে মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারের ১৫ দফা হচ্ছে- শিল্পায়ন বিষয়ে। এতে উল্লেখ করা হয়, শিল্পায়নের জন্য ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা নিরসন করার জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা এবং আইন ও বিধিমালা সহজ করা হবে, আলোচনার মাধ্যমে ইউরোপ-আমেরিকায় গার্মেন্টসে কোটা বৃদ্ধি করা হবে। গার্মেন্টস পণ্যের মুল্য বৃদ্ধিতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হবে। বিভিন্ন দেশের স্থানান্তর করা গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশে স্থাপনে প্রণোদনা দেয়া হবে, কৃষিনির্ভর এবং শ্রমঘন শিল্পে বিশেষ উৎসাহ দেয়া হবে, দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ জেলাগুলোতে শিল্পায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে, বিভিন্ন দেশের শিল্প স্থাপন উৎসাহিত করার জন্য আরও এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন স্থাপন করা হবে, দেশে-বিদেশে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে ব্যবস্থা নিয়ে আরও পাট শিল্প স্থাপন করা হবে। নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

শ্রমিক কল্যাণে নানাবিধ পরিকল্পনার স্থির করেছে ঐক্যফ্রন্ট। তাদের ইশতেহারের ১৬ দফায় বলা হয়, শ্রমিকের স্বার্থে দু’বছরের মধ্যেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করা হবে, সকল খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, খন্ডকালীন এবং পূর্ণকালীন গৃহকর্মীদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের কাজের জন্য উপযোগী নীতিমালা তৈরি করা হবে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিযুক্ত শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, সকল ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করা হবে, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য সকল শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে, স্বাস্থ্যবীমার মাধ্যমে শ্রমিকগণ মাসে ২৫০ টাকার প্রিমিয়ামের মাধ্যমে সকল চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। প্রিমিয়ামের ১০০ টাকা দেবেন শ্রমিক নিজে এবং ১৫০ টাকা দেবেন মালিকপক্ষ। ওষুধের অর্ধেক মুল্য শ্রমিককে বহন করতে হবে। রোগ নির্ণয়, অপারেশন ও হাসপাতালে ভর্তি বাবদ শ্রমিকের অন্য কোনো খরচ লাগবে না।

রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীর কনফারেন্স রুমে এ ইশতেহার পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ইশতেহার ঘোষণার পূর্বে সূচনা বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মালিক জনগণ। আগামী নির্বাচন হলো জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। নির্বাচনে জিতে এই রাষ্ট্র মেরামত করতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাম্প্রতিককালের রাজনীতিতে এটি একটি বৈপ্লবিক ইশতেহার। এই ইশতেহারে জনগণের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচন নিয়ে যা বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার জানিয়েছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করছে তার দেশ।

সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম রাষ্ট্রদূতের উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা আশা করছি, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর্যবেক্ষণের জন্য তার দেশ ৩২ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এছাড়া মার্কিন দূতাবাসের ১১টা দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠায় তার দলের সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র আওয়ামী লীগই ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে তার সরকার তখনকার বিরোধী দলকে নির্বাচনকালীন সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করে দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং মানুষ হত্যা করেছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা হচ্ছে বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান নির্বাচনকালীন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে তার দলেরও দুইজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছে। এ বিষয়ে আমি আমার দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহবান জানিয়েছি।

প্রেস সচিব আরও বলেন, দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত যাতে করে তারা নিরাপদে তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘শক্তিশালী’ আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে জ্বালানি এবং শিক্ষাখাতে আরো বৃদ্ধি করতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বাংলাদেশের বিমানের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব।

বৈঠকে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপসমূহের বর্ণনা, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা ও আগামীতে ক্ষমতায় এলে জিডিপি ৮ শতাংশে নিয়ে যাবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

৩৫ দফা সম্বলিত ইশতেহারের তৃতীয় দফায় ঐক্যফ্রন্ট উল্লেখ করেছে, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হবে, মত প্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে, গণমাধ্যমের ওপর কোনো রকম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, সামাজিক গণমাধ্যমে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারী বিধি নিষেধ থাকবে না।

এই ধারায় আরো বলা হয়, সরকারি পদক্ষেপ এবং পদধারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা, এমনকি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপেরও অধিকার থাকবে। এসব ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে মানহানির মামলা তার নিজেকেই করতে হবে (অন্য কেউ করতে পারবে না) এবং এই ধরনের মামলা কোনোভাবেই ফৌজদারি মামলা হবে না।

ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে ২৪ নং দফায়। এতে একটি স্বাধীন প্রেস কাউন্সিলের অধীনে সকল প্রকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এই দফায় আরো বলা হয়, সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, ইভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমকে উৎসাহিত করা হবে। এসব ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে, ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট স্থাপন করা হবে, সংবাদপত্রকে শিল্প ঘোষণা করা হবে এবং এতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেয়া হবে।

সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার করা হবে’ মর্মে ইশতেহারে একটি পৃথক ধারা সংযুক্ত করেছে ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়াও সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ সকল ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক নিগ্রহের বিচার হবে এবং কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় ইশতেহারে।

ইশতেহারে ২৫ দফাটি হলো ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি’। এর প্রথমেই মোবাইলের কলরেইট এবং ইন্টারনেট এর খরচ কমানোর কথা বলা হয়। এছাড়াও বলা হয়, দেশের প্রতিটি প্রান্তে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি নিশ্চিত করতে মোবাইল অপারেটরদের বাধ্য করা হবে, দেশের বিভিন্ন গণজামায়েত এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিনামূল্যে ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা করা হবে, সারা দেশে আরও আইটি পার্ক স্থাপন করা হবে, সারা দেশের ভূমি রেকর্ড পুরোপুরি ডিজিটাল করা হবে, ই-গভর্নেন্স এর ব্যপ্তি বাড়ানো হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ন্যানো টেকনোলজি ইত্যাদি ভিত্তিক চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে এবং প্রয়োজনীয় কর্মী প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে।

‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’-এই স্লোগান নিয়ে সোমবার রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিভাবে এই ইশতেহার দেয় ঐক্যফ্রন্ট।

ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি শুরুতে বলেন, নির্বাচনে জিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সকল নাগরিকের কল্যাণে সরকার পরিচালনা করবে। এই পরিচালনার মূলনীতি হবে ঐক্যমত্য, সকলের অন্তর্ভুক্তি এবয়ং যে কোনো রকম প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকা। ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ সংবিদানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত এই নীতির ভিত্তিতে সরকার পরিচালনায় যাবতীয় পদক্ষেপের ভিত্তি হবে রাষ্ট্রের মালিকগণের মালিকানা সুদৃঢ় করা। রাষ্ট্রের এই মালিকানা শুধুমাত্র নির্বাচনে যেতা দলের মানুষের নয়, এই মালিকানা থাকবে নির্বাচনে পরাজিত দলের নেতা, কর্মী, সমর্থকদেরও

তিনি বলেন, এই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে নির্বাচনে পরাজিতদের মতামত এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারকে সাম্প্রতিককালের একটি বৈপ্লবিক ইশতেহার হিসেবে ঘোষণা করেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি এই ইশতেহারে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। জনগণ ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিয়ে নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

জনপ্রিয়

গরম খবর