মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৮
Home Blog Page 3

মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ দাবি আ.লীগের নয়: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগের যে দাবি করেছেন তা আওয়ামী লীগের দাবি নয়। এটা স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের ব্যক্তিগত দাবি। আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ চায়না।’

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর সেতুভবনে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন সিংলার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন‌।

কাদের বলেন,  ‘আওয়ামী লীগ মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ চায় না, কেউ চাইলে এটি তাদের ব্যক্তিগত মতামত। এখনি তার পদত্যাগ করতে হবে এমন কিছু হয়নি। কারও ব্যক্তিগত মতামত থাকতে পারে, সবাই সব বিষয়ে এক মত হবে এটা কখনো হয় না। আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই। তারপরও যদি কেউ নির্বাচনে নাশকতা করার চেষ্টা করে তার খবর আছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন সিংলার সাথে আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। আমি বলছি আমরাও অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। আশা করি সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

ভারতের রাষ্ট্রদূত শিংলা সাংবাদিকদের বলেন, ভারত আশা করে আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যমূলক নির্বাচন হবে।

আগামী নির্বাচনে নিয়ে ভারত কোনো সংকট বা আশঙ্কা দেখছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো নাশকতার আশঙ্কা দেখছে না  ভারত। আমরা আশা করি সবার অংশগ্রহণে সুন্দর একটা নিবার্চন হবে।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলায় সরকারের উদ্দেশ্য দুটি’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিশ্চিহ্ন করতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়। এই নিশ্চিহ্ন প্রক্রিয়ার অন্যতম টার্গেট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’

তিনি বলেন,  ‘২১ আগস্টের ঘটনা, আওয়ামী লীগ নেতাকে দিয়ে পুনঃতদন্ত এবং সবশেষ আদালত কর্তৃক ‘ফরমায়েশি’ রায়- এ সব কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ। জনগণ এসব কিছুই মেনে নেয়নি। আমরা এই ভয়াবহ গ্রেনেড বোমা হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

বৃহস্প‌তিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে নয়াপল্ট‌নে বিএন‌পির কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

রিজভী বলেন, ‘কোনো রকম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আক্রোশমূলক এই রায়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির অন্যতম অগ্রনায়ক তারেক রহমানকে প্রহসনের বিচারে সাজা দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা এই রায়ের মাধ্যমে মূল দুটি লক্ষ্য পূরণ করতে চাচ্ছেন। এক. শেখ হাসিনার শাসনামলে চারিদিকে যে নৈরাশ্যের ছবি মানুষ অবলোকন করছে সেখান থেকে দৃষ্টি ফেরানো। দুই. তারেক রহমানের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে জিয়া পরিবারকে হেয় করা।’

তিনি বলেন, ‘মঈন-ফখরুদ্দিন গংদের সহায়তায় ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের নিজ বাসভবন থেকে বের করে দেয়া, বিমান বন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা থেকে শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার নাম মুছে ফেলা, হত্যার উদ্দেশ্যে কাওরান বাজারে বেগম জিয়ার গাড়িবহরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের আক্রমণ, বালির ট্রাক দিয়ে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ও তার বাসভবন অবরুদ্ধ করে রাখা, একের পর এক সাজানো মামলায় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ফরমায়েশী রায়ের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে আটকিয়ে রাখা, সবই করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় জিয়া পরিবারকে হেয় করার জন্য।’

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট মুক্তাঙ্গনে সমাবেশের জন্য আবেদন করে ১৯ তারিখ তারা পুলিশের অনুমতির কপি পেয়েছে। কিন্তু পুলিশকে কোনো কিছু না জানিয়ে মুক্তাঙ্গন থেকে সমাবেশ হঠাৎ তাদের দলীয় অফিসের সামনে নেয়া হলো কেনো? অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে রায়ে সাজা দেয়া হলো। তারা সমাবেশের ভেন্যু সম্পর্কে পূর্বে ওয়াকিবহাল না হলে নিরাপত্তা দিবে কিভাবে? ২১শে আগস্ট হঠাৎ করে দুপুরে ভেন্যু পরিবর্তন খবর শোনার পরেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রচেষ্টা তারা করেছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেরাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার কোনো স্পেস রাখেনি। এসব কিছুতে প্রমাণিত হয় তাদেরই কোনো পক্ষ এই ঘটনার নাটের গুরু। এই ঘটনা নিয়ে জনগণ ও সচেতন শ্রেণীর মনে কিছু প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।’

সারাদেশের নেতাকর্মীদের পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার, মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, ‘গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন গতকাল কালীগঞ্জের জামালপুর ইউনিয়ন থেকে পুজামন্ডপ পরিদর্শন করে মোক্তারপুরে অন্য একটি পূজামণ্ডপ সাওরাইট বাজারে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা রামদা, রড ও ভারী আগ্নেয়াস্ত্রসহ আক্রমণ করে এবং ৮টি মটর সাইকেল ভাংচুর করে। এই আক্রমণে আবদুল্লাহ, সুমন, মো. জাহাঙ্গির, আশরাফ, মোতাল্লিব, সজিব, জয়ফুল ও নয়নসহ ১০ জন মারাত্মক আহত হয়। পরে আবদুল্লাহকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

গ্রেফতারের চিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বগুড়ার সোনাতলা তেকানী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকারম হোসেন মাস্টার, বিএনপি নেতা মো. বিপ্লব হোসেন, মো. শহীদ হোসেন, মো. সিয়াম হোসেন, মো: আপেল মাহমুদ, মো. আতিকুর রহমানসহ ১৭ জনকে একটি ইসলামী জলসা থেকে ফেরার পথে সোনাতলা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে এবং সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য, ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের মিথ্যা অভিযোগে গায়েবি মামলা দায়ের করেছে। সিলেটের জৈন্তাপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আলতাফ হোসেন বিলালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির আবুল কাশেম, যুবদলের খন্দকার রাশেদুল আলম, মাসুদ তালুকদারসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে গতকাল মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আমি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া,সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের নির্বাচনী জোট নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাই না’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে আসতে প্রতিদিনই যোগাযোগ করছে একাধিক রাজনৈতিক দল। আমাদের নির্বাচনী জোট নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাই না। জোটের রাজনীতির শেষ দেখতে সবাইকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন,  ‘ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে জাকের পার্টি, সাতটি দলের একটি বাম অ্যালায়েন্স, বাহাদুর শাহ এর ইসলামী ফ্রন্ট যোগাযোগ করেছে। তারা আমাদের অফিসে এসেছেন। এই দলগুলো আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান, শামিল হতে চান।’

তিনি বলেন,  ‘আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে এলে ওয়ার্কিং কমিটির সভায় আমরা বসবো। তারপর সিদ্ধান্ত নেবো কাকে আমরা জোটে নেবো, কাকে নেবো না। এক দিকে ১৪ দল অন্যদিকে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির সঙ্গে ইতিপূর্বে আমাদের মহাজোট ছিলো। জোটের আকার আবারো মহাজোটে রূপ নেবে কি না তা নির্ভর করবে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর। ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করবো নাকি একাই নির্বাচন করব, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনের সামনে আগে রাজনৈতিক সমীকরণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

যুক্তফ্রন্টের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের বলার তেমন কিছু নেই। দেশের ২০০টির মতো রাজনৈতিক দল ১৪টির মত অ্যালায়েন্স রয়েছে। মেকিং, গ্রিটিং চলছে। নির্বাচনের আগে অ্যালায়েন্সের সমীকরণটা কেমন হবে তা শুধু তখনই বোঝা যাবে। এজন্য ধৈর্য্য ধরতে হবে।’

কোনো জোট কিংবা রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে বৈতরণী পারে আওয়ামী লীগ বাধা হিসেবে দেখছেন না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এটা ২০০১ কিংবা ২০১৪ সাল নয়। আমাদের কোনো শঙ্কা নেই। বিএনপি যদি মনে করে তারা আগামী ১৫-২০ দিনে ২০০১ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে,  তাহলে আমি বলবো তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।’

আওয়ামী লীগ জনগণের ওপর আস্থা রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘আমাদের সব থেকে বড় আস্থার জায়গা বাংলাদেশের জনগণ। দেশের জনগণ যখন শেখ হাসিনার দৃঢ় ও শক্তিশালী নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখছে। জনগণ যখন আমাদের সঙ্গে আছে, তখন ওই নেতায় নেতায় ঐক্য কিংবা জনবিচ্ছিন্ন নেতারা কে কি করবে এটা কি আমরা মোটেও চিন্তিত নাই।’

বিকল্পধারা ও এলডিপিকে নির্বাচনী জোটে নেওয়ার কোন ভাবনা আওয়ামী লীগের রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কর্নেল অলি আহমেদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তবে তিনি আমাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে আসা কিংবা ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো ইচ্ছা পোষণ করেননি। বিকল্পধারা যুক্তফ্রন্ট গঠন করে আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, বলে যতদূর আমি জানি। করুক সমস্যা কোথায়। ১৪টা জোট হয়েছে ২০-২৫টা হলেও তো সমস্যা নেই। এটাতো গণতন্ত্র, শত ফুল ফুটবে। সমস্যার কিছু তো সমস্যা নেই।

বিকেলে কূটনীতিকদের সঙ্গে বসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

সরকারবিরোধী নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আজ তাদের লক্ষ্য ও দাবিসমূহ ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরবে। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল লেকশোরে কূটনীতিকদের সাথে বসবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (১৭ অক্টোবর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ফ্রন্টের বৈঠকের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ কথা জানান।

খন্দকার মোশাররফ জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় গুলশানে হোটেল লেক শোরে কূটনীতিকদের ব্রিফিং করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে সুশীল সমাজের সঙ্গেও ফ্রন্ট নেতারা মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় বেঠকটি শুরু হয়। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক চলে এক ঘণ্টা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৩ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’ নামে নতুন জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে নিয়ে এ জোট গঠিত হয়।

গত কয়েক মাস ধরে গণফোরাম সভাপতি ড. কামালের সঙ্গে জোট বাঁধার প্রক্রিয়ায় যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী থাকলেও তাকে বাদ দিয়েই এ জোট গঠন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ‘জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’  নামে নতুন এই জোটের ঘোষণা দেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোক্তা কামাল হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

শনিবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আগামীতে অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে সাত দফা এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দেশ পরিচালনায় ১১ দফা লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।

জোটের ৭ দফা দাবি:

১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন একং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।

৫. নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পুলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও কোনো ধরনের নতুন মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

 জোটের ১১ দফা লক্ষ্য:

১.বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতমালা প্রণয়ন ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

২. মহান মুক্তি সংগ্রামের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান করে সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক, শোষণমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের জন্য সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা।

৩.সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা।

৪. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন ও দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।

৫. দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে কোটা সংস্কার করা।

৬.সব নাগরিকের জানমালের নিয়াপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা। কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

৭. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবহিদিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন।

৮. রাষ্ট্রের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক সচ্ছলতা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আনা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা।

৯. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক, সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভ‚খণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া।

১০.‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্র“তা নয়’ এ নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১১. বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনীতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমরসম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।

রূপালী গিটার ফেলে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু

ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তী আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবরটি নিশ্চিত করেছেন আইয়ুব বাচ্চুর ঘনিষ্ঠজন ও এলআরবি’র সদস্য শামীম।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় আইয়ুব বাচ্চুর। সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।জনপ্রিয় এই শিল্পীর আরেক বন্ধু সংগীতশিল্পী নকিব খান জানিয়েছেন, তিনি খবর পেয়ে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট দেশের জনপ্রিয় এক শিল্পী চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে আইয়ুব বাচ্চুকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। আইয়ুব বাচ্চুর বহুদিনের ঘনিষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার মইনুদ্দিন রাশেদ জানিয়েছেন তার সহকারী সকালে মগবাজারের বাসায় গিয়ে তাকে সকালে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এর পর তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মৃত্যুর কারণ হাসপাতাল থেকে জানানো হয়নি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৬ অক্টোবর রাতে রংপুরে একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাচ্চু। বুধবার রাত থেকেই তিন অস্বস্তি বোধ করছিলেন। সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে তাঁকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওয়ানা হন স্বজন ও রাশেদ। তড়িঘড়ি তাকে স্কয়ার হাসপাতালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আনুমানিক সকাল ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেশের তরুণদের রক গানের স্বাদ দিয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে অন্যতম আইয়ুব বাচ্চু। ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তি এই শিল্পী দীর্ঘ চার দশক ধরে সুরের আলো ছড়িয়ে গেছেন। এছাড়া গিটারের ছয় তারেও জয় করেছেন উপমহাদেশ। আইয়ুব বাচ্চু একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে দেশে বিদেশে সমাদৃত ছিলেন। মঞ্চ পারফরমেন্সে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বি।

তার জনপ্রিয় গানগুলো মধ্যে রয়েছে- ‘এক আকাশের তারা তুই একা গুনিস নি’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘উড়াল দেব আকাশে’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে’। বাচ্চুর কয়েকশ’ গান আজও দর্শকশ্রোতাদের ঠোটে। এসব গান তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ছোটবেলা থেকেই গিটারের প্রেমে পড়েছিলেন এলআরবি ব্যান্ডের এই অগ্রপথিক। তবে ব্যান্ডের সঙ্গে তার যাত্রা শুরু ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে। তার কণ্ঠ দেয়া প্রথম গান ‘হারানো বিকেলের গল্প’। এটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি ‘সোলস’ ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ প্রকাশ হয়েছিলো ১৯৮৬ সালে। এই অ্যালবামটি তেমন একটা সাফল্য পায়নি।

আইয়ুব বাচ্চুর সফলতার শুরু তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ (১৯৮৮) দিয়ে। এরপর ১৯৯১ সালে বাচ্চু ‘এলআরবি’ ব্যান্ড গঠন করেন। এই ব্যান্ডের সঙ্গে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম ‘এলআরবি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো।

১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়। ‘সুখ’ অ্যালবামের ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রূপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’ পুরো দেশে আলোড়ন তৈরি করে। এর মধ্যে ‘চলো বদলে যাই’ গানটি বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় গান।

গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অভিহিত করা হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ও ‘আমিও মানুষ’। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ‘ঘুমন্ত শহরে’ প্রকাশিত হয়। সেটিও সাফল্য পায়। আইয়ুব বাচ্চুর সর্বশেষ তথা ১০ম অ্যালবাম ‘জীবনের গল্প’ প্রকাশ হয় ২০১৫ সালে।

শুধু অডিও গানে নয়, প্লেব্যাকেও তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তার গাওয়া প্রথম প্লেব্যাক ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় গান। এছাড়া ‘আম্মাজান’ সিনেমার শিরোনাম গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো।

তার মৃত্যুতে দেশের সঙ্গীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার এই শুণ্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

ড. কামাল মাথা নয়, বিএনপি-জামায়াতের লেজ: ইনু

হাসানুল হক ইনু

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘সরকার বিরোধী ঐক্য নিয়ে সব ভাব-ভঙ্গি দেখার পরে আবিস্কার হলো ড. কামাল হোসেন মাথা নয়, বিএনপি জামায়াতের লেজ।’

বুধবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া স্কুল মাঠে এক সুধী সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইনু বলেন, ‘এই মুহুর্তে যে ঐক্যটা হয়েছে সেটা ঐক্য নয় বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানো। আর বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর মানে হচ্ছে রাজাকার-জঙ্গির কাছে দেশটাকে ইজারা দেয়া।’

২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৪ বছর ধরে গ্রেনেড হামলার মামলা হয়েছে, উন্মুক্ত আদালতে, শতাধিক লোক স্বাক্ষী ছিল এটা চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়ে এ মামলার রায় হয়েছে। ১৪ বছর পর বিএনপি-কামাল হোসেনরা বলছেন এটা রাজনৈতিক মামলা এটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই না।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহবুব তালুকদারের সরে দাঁড়ানো উচিত : নাসিম

১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘সাংবিধানিক পদে থেকে নির্বাচন কমিশনার
মাহবুব তালুকদার গোপন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। যা সংবিধানের পরিপন্থি। এ জন্য নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত।’

বুধবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

নাসিম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে মাহবুব তালুকদার প্রকাশ্যে যেসব কথাবার্তা বলছেন তাতে তাঁর শপথ ভঙ্গ হয়েছে। তিনি সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরণের বক্তব্য দিতে পারেন না। তার উচিত ছিল পদত্যাগ করে এসব কথা বলা।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের সভা বর্জন করেন মাহবুব তালুকদার। বেরিয়ে যাওয়ার আগে তিনি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন, কমিশন বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে তাঁর নিজস্ব কিছু প্রস্তাব ছিল সেগুলো উত্থাপন করতে দেওয়া হয়নি। এজন্য তিনি অপমানিত বোধ করে বেরিয়ে আসেন।’

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সম্পর্ক আছে দাবি করে নাসিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সাথে তাঁর সম্পর্ক আছে, আমরা জানতে পেরেছি। এদের মত বুদ্ধিজীবী সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার জন্যই এ ধরনের বক্তব্য দেন। নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের মধ্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন।’

এসময় তিনি ১৪ দলের পক্ষ থেকে জাফরুল্লাকে বিচারে আওতায় আনার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ড. জাফরুল্লাহ কয়েক দিন আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সেনাপ্রধানকে নিয়ে ভুল তথ্য প্রদান করেন। পরে অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করেন।

তত্ত্বাধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুলের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘ব্যারিস্টার মঈনুল হলো সেই লোক, যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে বিশ্বাসঘাতক মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়েছেন। পরে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেছিলেন। আবার জিয়া ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিলেন তিনিই। আজ সেই মইনুল বিএনপির প্রিয় বিশ্বস্ত লোক হয়েছে।’

নির্বাচনকে সামনে রেখে মহাজোট ছোট বা আরও বড় করা হবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখনই বলা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তি যদি হয় সেটি প্রধানমন্ত্রী ভেবেচিন্তে দেখবেন মহাজোট প্রসার বাড়ানো যায় কিনা।’

সংবাদ সম্মেলনে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, জাপার নির্বাহী মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, জাসদের সভাপতি নুরুল শরিফ আম্বিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চ্যারিটেবল মামলার রায় আগেই লেখা হয়েছে: নজরুল

আগামী ২৯ অক্টোবর ঘোষণা হতে যাওয়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় আগে থেকেই লেখে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বুধবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।‌ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আগামী ২৯ তারিখ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯ তারিখ কেনো? তারা চাইলে কালকেও রায় দিতে পারেন। কারণ রায় তো আগেই লেখা হয়ে গেছে।’

ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা যারা লুট করেছে, তাদের কী বিচার হয়েছে- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘তাদের বিচার দ্রুত করার সরকারের কোনো আগ্রহ নাই। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবিল ট্রাস্টের ৩ কোটি টাকার অভিযোগ। এই রায় আগামী ২৯ অক্টোবর দেয়া হবে। কিন্তু তিনি অসুস্থ। এ কারণে জেলাখানার, হাসাপাতালের এবং সরকারি ডাক্তারদের সুপারিশে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বেগম জিয়া। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কোর্টে যাওয়ার সামর্থ নেই তাঁর। তবে সরকারের দাবি প্রেক্ষিতে আদালত বলে দিয়েছেন যে, বেগম জিয়ার অনুপস্থিতেই বিচার চলবে। তবে আমাদের আইনজীবীরা বলেছিলেন যে, তাকে তো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেবেন। কিন্তু কোনো কথা শোনা হয়নি।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান অবস্থা চলতে পারে না। এমন একটা বাংলাদেশের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। ৫ কোটির টাকার মালিক এখন ৫ হাজার কোটি টাকার মালিক। আর ৫০০ টাকার মালিক এখন গরীব। এই চরম বৈষম্যের দেশ আমরা চাইনি। এর পরিবর্তনের পথ হচ্ছে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণরায়। এজন্য আমাদেরকে জনগণের কাছে যেতে হবে।’

ইভিএম এর বিষয়ে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘ভারতে একটা ইভিএম কিনতে বাংলাদেশের টাকায় ২১ হাজার ৫শত টাকা খরচ হয়। আমাদের দেশে বুয়েট ইভিএম মেশিন তৈরি করেছে। এর দাম ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা। আর এই ইভিএম মেশিন আমাদের সরকার বিদেশ থেকে কিনছে ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকায়! অথ্যাৎ ১১ গুন বেশি দামে। এখন তো লুটপাট ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। সরকারের এর সন্তোষজনক জবাব দেয়া উচিত।’

সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের নেতা প্রফেসর এম এ কুদ্দুস, প্রফেসর ডা. আবদুর মান্নান মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

গোলাম মোর্ত্তজা বহিষ্কার: মোকাদ্দিমের নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটে থাকবে এনডিপি

খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজাকে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়ে‌ছে। দল‌টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আব্দুল মুকাদ্দিমকে নতুন চেয়ারম্যান মনোনীত করা হ‌য়ে‌ছে। একই স‌াথে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. ওসমান গণি পাটোওয়ারীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়ে‌ছে।

মঙ্গলবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৫৭(ক)(খ)(গ)(ঘ) ধারা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দল ও ২০ দলীয় জোট বিরোধী কার্যকলাপ এবং সবশেষ জোট ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কারণে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. ওসমান গণি পাটোওয়ারী এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধা‌ন্তের কথা জানান।

বিবৃ‌তি‌তে তি‌নি ব‌লেন, ইতোপূর্বে জোট ও সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের জন্য ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হ‌য়।

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও তার অঙ্গ সংগঠনসমূহকে এবং ২০ দলীয় জোটসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এখন থেকে দ‌লের চেয়ারম্যান হিসাবে মো. আব্দুল মুকাদ্দিমের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেছেন প্রচার সম্পাদক মো. জিয়াউল হক।

বাংলাদেশ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতন চলে যাক : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শারদীয়া শুভেচ্ছার এক অনু্ষ্ঠানে বলেন, ‘‘এই দিনে আমাদের সকলের প্রার্থনা হোক, বাংলাদেশ থেকে অন্যায় চলে যাক, অত্যাচার চলে যাক, নির্যাতন চলে যাক। অসুর সে যত শক্তিশালী হোক তাকে অবশ্যই আমাদেরকে পরাজিত করতে হবে।”

তিনি বলেন,’আমরা অন্ধকার থেকে আলোয় যেতে চাই, আমরা মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই, আমরা সমৃদ্ধ-সম্মিলিত একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই।  আসুন আজকের এই পবিত্র দিনে আমাদের এই প্রার্থনা হোক- আমরা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, শান্তিময় বাংলাদেশ যেন আমরা দেখতে পারি।”

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে এই শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান হয়। রাতে ঢাকেশ্বরী  ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এসে পৌঁছালে বিএনপি মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুরেন্দ্র নাথ মজুমদারসহ নেতৃবৃন্দ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয় শক্তির জন্যে। কোন শক্তি? অসুরের যে শক্তি তাকে বদ করবার জন্যে। অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই উপাসনা।সব সময় সত্যের পক্ষে, অসত্যের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং সব রকমের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আরাধনা এই সময়ে হয়ে থাকে। এটা সার্বজনীন বাংলাদেশে এই পূজা।

বাংলাদেশে দূর্গা পূজার বৈশিষ্টের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে বৈশিষ্ট -একই বৃন্তে দুইটি ফুল, হিন্দু-মুসলমান হাজার হাজার বছর ধরে এখানে বাস করছে একই বৃন্তে দুইটি ফুলের  মতোই।আরও বৈশিষ্ট হচ্ছে , দুর্গা পূজার সময়ে অপূর্ব মিলন মেলা ঘটে থাকে।”

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি বেদখলমুক্ত করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তৎকালীন ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার অবদানের কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

শুভেচ্ছা বক্তব্যের আগে মন্দির প্রাঙ্গনে দুর্গা প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে পূজা অবলোকন করেন বিএনপি মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দ।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ও  হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক গৌতম চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।এছাড়াও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আলীম, জয়ন্ত কুমার কুন্ড, অমলেন্দ্র অপু, দেবাশীষ রায়, রমেশ দত্ত, আমিনুল ইসলাম, জুলফিকার মতিন, তরুন দে, জাসাসের হেলাল খান, শায়রুল কবীর খান উপস্থিত ছিলেন। পরে বিএনপি মহাসচিব বনানী মাঠে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।

নৈরাজ্যকারীরা জনগণের হাতেই বিনাশ হবে: নাসিম

মোহাম্মদ নাসিম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কোনো দল নির্বাচনে আর জিততে পারবে না। জনগণের হাতেই তাদের বিনাশ হবে।’

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) ১৪ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মচর্চাকে নিশ্চিত করার রাজনীতি করে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- মতবাদের নীতিকে লালন করে দেশে উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করেছে। জনগণ শান্তির এই রাজনীতিকে বার বার সরকারে দেখতে চায়।’

১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, ‘দেশে অসাম্প্রদায়িক শক্তির বেশ ধরে কয়েকটি দল রাজনীতি করলেও সময়মতো তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শান্তির জন্য অশুভ শক্তি। সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই তাদের মূল শক্তি। আগামী নির্বাচনে এই অশুভ শক্তিকে আবারও পরাজিত করে শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটকেই ভোট দিবে।’

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্ব বর্তমানে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে মর্যাদা দিচ্ছে। এই মর্যাদা বাংলাদেশ তখনই অর্জন করে যখনই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করে। এই মর্যাদা ভূলুন্ঠিত করে দেশে আবার অশান্তি ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। অপশক্তির এই অপচেষ্টা দেশে সফল হবে না। জনগণ এখন অনেক সচেতন এটা যেন চক্রান্তকারীরা মনে রাখে।’

পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি শৈলেন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ও ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহবায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ প্রমুখ।

সরকারের নির্দেশেই খালেদা জিয়ার রায়ের তারিখ: ফখরুল

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায়ের তারিখ একেবারেই সরকারের নির্দেশে করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (অক্টোবর ১৬) রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্র‌থম থেকেই চেষ্টা করা হয়েছে বিনা বিচারে বা ন্যায়বিচার ছাড়াই তাকে (খালেদা জিয়া) সাজা দেয়ার। আদালতকে সেভাবেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বা আদালতকে ব্যবহার করছে। আদালতে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ চালানো ও রায় ঘোষণা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি মনে করি, বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এটা তারই প্রমাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের বিষয়, আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় বাকি ছিল। তা আদালত নেয়নি। বিচার পরিপন্থি এরকম কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমরা।’

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ২৯ অক্টোবর (সোমবার) ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করেন।

জনপ্রিয়

গরম খবর