সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯
Home Blog Page 4

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের শুভাকাঙ্ক্ষী’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি সাফল্য আছে, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যবই হাতে পায়। এদের একটি অংশ আছে, যারা দেখতে পায় না। তাদের জন্য ভাস্কর কাজ করে চলেছেন। ভাস্কর দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য যে প্রযুক্তি আবিষ্কার করে চলেছেন, এটা আমাদের গর্বের বিষয়।

শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইউনেস্কো পুরস্কার জয়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাস্কর ভট্টাচার্যকে ভিজ্যুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটির (ভিপস) দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিবন্ধীদের যদি কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী থাকেন, তাহলে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে বলেছেন, ভাস্কর একজন সফল মানুষ। তার কাজের মাধ্যমেই তা প্রমাণ করেছে।

ভিপসের সভাপতি মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৃত্তের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আরা বেগম পপি।

পজেলা নির্বাচনে আ.লীগের ৮৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা

উপজেলা নির্বাচনে প্রথম ধাপের জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৮৭ জনের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।

আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ কাউকে মনোনয়ন দেবে না। উন্মুক্ত নির্বাচন করতে পারবেন দলের যে কেউ।’

এর আগে বেশ কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে চলে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেওয়ার কার্যক্রম।

বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার কারণ জানালেন মওদুদ

মওদুদ আহমেদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কেন গিয়েছিল, তার কারণ জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটি সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা জানান।

‘গণতন্ত্রের মা বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশব্যাপী বিএনপির বন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে’ বিএনপি ওই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘দুটি কারণে আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম, আশা ছিল মানুষ ভোট দিতে পারলে আমরা জয়ী হবো। আর সেদিন আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে বাধ্য হবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কিন্ত কিছুই করতে পারিনি। আন্দোলন করতে হলে সংগঠন লাগে। গত ১০ বছর অনেক কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি দেখলাম, মনে হয় কিছুই করা হয়নি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের একটি দাবিও মানা হয়নি। তারপরও কেন নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কারণ ৭৮ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা স্বাভাবিকক রাজনীতে আসতে পারবে।’

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মওদুদ বলেন, প্রার্থীদের উচিত হবে, যারা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি এই সদস্য বলেন, ‘খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দলকে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন করতে হবে। তাহলেই কেবল আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনতে পারব। তৃণমূল থেকে দল পুনর্গঠন কতে হবে। যারা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সংগ্রাম করেছে তাদের ওপরে জায়গা দিতে হবে। দল পুনর্গঠন করতে হবে।’

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মামলায় সরকারের কূট-কৌশলে তাকে (খালেদা জিয়া) শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাকে ৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে রেওয়াজ অনুযায়ী এ মামলার আপিলের ফাইল সাবমিট করলেই তা মঞ্জুর হয়ে যায়। আশা করেছিলাম, সাত দিনের মধ্যে জামিনে মু্ক্ত হয়ে যাবেন। কিন্ত সময় পিছিয়ে পরবর্তিতে জামিন আনার দুটি মানহানি মামলা দেয় এই সরকার।’

তার জেলে থাকার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই : কাদের

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় আইনি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও  সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তার জেলে থাকার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।’

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। খালেদা জিয়াকে এক বছরেও আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করতে বিএনপি ব্যর্থ বলেও জানান তিনি।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শোনেন এটা একটাই যেভাবে, এখানে ত ছাত্রলীগের এক। এখানে আরও বিভিন্ন  ছাত্র সংগঠন আছে। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও নিশ্চয়, আমাদের প্রতিপক্ষ যারা তারাও ত একটা অ্যালায়েন্স যদি করতে যায়। এখানেও আমাদের অ্যালায়েন্সের কথাও ভাবতে হবে। এখন সমীকরণটা হবে মেরুকরণটা কিভাবে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতিতে ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে যে মেরুকরণ হবে, মেরুকরণ অনুযায়ী সমীকরণ হবে। আমরা ঠিক সেভাবেই চিন্তা ভাবনা করব। এখন আমরা দেখি যে কারা কারা পোলারাইজেশন হচ্ছে, কারা কারা অ্যালায়েন্সে এখানে হচ্ছে। সেভাবে পোলারাইজেশন অনুযায়ী সে অ্যালায়েন্স হবে। সেভাবে পোলারাইজেশন অনুযায়ী যে অ্যালায়েন্স প্রতিপক্ষের বিষয়টি মাথায় রেখেই দলের ইমপর্টেন্ট লিডারকে প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দায়িত্ব দিয়েছি।’

স্মারকলিপি দিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদলের শোডাউন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাবির উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার পর ক্যাম্পাস শোডাউন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় ঢাবি উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা উপাচার্যের সাথে বৈঠকে করেন।

বৈঠকে পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এতে বিপুল নেতাকর্মী অংশ নেয়। তারা কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‍মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা শ্লোগান দেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে টিএসসি হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আব্দুল ওহায়াব, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, করিম সরকার, ঢাবি শাখা সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার প্রমুখ।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাবির উপাচার্যের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে তিন মাস নির্বাচন পেছানো ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নূন্যতম তিন মাস স্বাভাবিক রাজনীতি চেয়েছে সংগঠনটি।

ছাত্রদলের দাবিগুলো হলো—
১. সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
২. নূন্যতম আগামী তিন মাস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক রাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. তিন মাস নির্বাচন পেছানো।
৪. হলে হলে ভোটগ্রহণের পরিবর্তে একাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. ভোটার হওয়ার উপযুক্ত ঢাবির সকল পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীর ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সংগঠনের সাবেক নেতাদের অংশগ্রহণে সুযোগ দিতে হবে, গ্রেফতার ও হয়রানি করা যাবে না।
৭. শান্তিপূর্ণ সাধারণ নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. ডাকসু নির্বাচনের যেসব পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে সেগুলো পুনর্গঠন করতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, জাতির পিতা আমাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা করে দিয়ে গেছেন। আমরা এরই আলোকে যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতিমালা করছি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমরা সেভাবেই সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন করছি।

বৃহস্পতিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ডিএসসিএসসি-২০১৮-২০১৯ কোর্সের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনীও। আমরা আমাদের উন্নয়নের কার্যক্রমের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে ডিফেন্স কলেজেরও আধুনিকায়ন করা হবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে দরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় দুর্নীতি ও দুর্যোগের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনেছি।

‘মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১ হাজার ৭৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জিডিপি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হযেছি। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। দেশের ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়।’

‘রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’

সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষও যাতে নাগরিক সুবিধা পায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

নৌ-যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে কাজে লগিয়ে আন্তর্জাতিক পরিবহন সেক্টরে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশে বিকাশমান অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয়বারের সরকারে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং টানা তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় এসেছেন, দায়িত্ব পেয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের।

সাক্ষাৎকারে নিজ মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, নদীরক্ষা, দুর্নীতি দমন, সংসদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সদস্যদের ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছেন তিনি।

নিজের দায়িত্ব সস্পর্কে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার যে এজেন্ডা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে আমি সেই সরকারের একজন সদস্য। সরকারের সেই এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা দেখা এবং নির্ভুল ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা আমার দায়িত্ব।

বাংলাদেশের নৌ সেক্টরের গুরুত্ব তুলে ধরে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নৌ-সেক্টরের উন্নতি করতে পারলে আমরা জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে লাভবান হতে পারি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে গোল্ডেন অবস্থানে। অতীতে দীর্ঘদিন ধরে যে সরকারগুলো এসে গেছে তারা এদিকে নজর দেয়নি। আমরা এখন পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে পারিনি। চট্টগ্রামে যে সমুদ্রবন্দর রয়েছে সেটা কর্ণফুলি নদীতে। এর ফলে মাদার ভ্যাসেলগুলো বন্দরে আসতে পারে না। লাইটার জাহাজ দিয়ে বন্দরের কাজ চলছে। এজন্য শেখ হাসিনা সরকার কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে পায়রাতে টার্মিনাল, মাতার বাড়ি বন্দর উল্লেখযোগ্য। নোয়াখালীতে একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সেখানে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। সেখানে একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে পারলে চট্টগ্রাম বন্দরের চাপ কমে যাবে। সরকারের এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে আমরা আন্তর্জাতিক পরিবহন সেক্টরে যুক্ত হয়ে যাবো।

নদীরক্ষায় পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নদীগুলো দীর্ঘদিন ড্রেজিং হয়নি। যার ফলে নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়েছে, নদী মরে যাচ্ছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। নদীর পার দখল হয়েছে এর ফলে ধীরে ধীরে নদী সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ কিন্তু এখন নদী রক্ষার জন্য আমাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে। নদীর তীর উদ্ধারে অভিযান চালাতে হচ্ছে। এই অভিযান অব্যাহত রেখে নদীর তীর দখলমুক্ত করা হবে। আমরা নদীকে কাজে লাগাতে পারিনি। শেখ হাসিনার সরকার আমাদের সমুদ্রসীমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন সমুদ্রকে কাজে লাগাতে হবে। নদী ও সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রেও নদী ও সমুদ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় সংসদে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সসদস্যদের ভূমিকা প্রসঙ্গে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণ সংসদে আমাদের নির্বাচিত করেছে দেশের পক্ষে, মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য। সংসদে দেশের পক্ষে, মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কোনো কথা নেই। প্রয়োজন ছাড়া সরকারের বিরোধিতা করা বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে সরকারের সাফাই গাওয়ার দরকার নেই। এখানে নির্বাচিতরা জনগণের পক্ষে কথা বলবে এটাই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন। ১৪ দলের শরিক যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা তো সরকারে ছিলেন, জোটে আছেন। তবে জোটে থাকলে যে সরকারের সমালোচনা করা যাবে না সেটা না। আবার বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা সেটাও সঠিক না।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বন্ধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার যে সাহসী বক্তব্য সেটাই আমাদের শক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে সৎ, যোগ্য ও ডায়নামিক লিডার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি কখনও দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেন না। তিনি দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স বলেছেন। আমার মন্ত্রণালয়সহ যেখানেই হোক না কেন দুর্নীতি দমন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালন করবে, আমাদের কোনো বাধা নেই। আমি চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাওয়া ও প্রত্যাশা পূরণ করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন সঠিক ভূমিকা পালন করুক।

‘ওবায়দুল কাদের স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টা হয়েছেন’

‘মিডনাইট ইলেকশন’ এর সরকারের মন্ত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব এখন স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টা হতে চলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিনিয়ত বিএনপিকে উপদেশ দিচ্ছেন। সভা-সমিতি, মঞ্চ, গণমাধ্যম ও ব্রিফিংয়ে বিএনপির কি করা উচিত, বিএনপির পরিণতি কি হবে, বিএনপি নির্বাচন ভীতিতে ভুগছে, বিএনপি সংসদে যোগ দেবে ইত্যাদি নানা কথার খৈ ফুটাচ্ছেন প্রতিদিন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব শালীনতা, ভব্যতার গুণমান বিবেচনা না করে বিএনপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত উপদেশের ভাঙা টেপ রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন। ‘মিডনাইট ইলেকশন’এর সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব এখন স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টা হতে চলেছেন।’

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘খামোখা আওয়ামী লীগে থেকে তাঁর লাভ কী, বরং ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহবান জানাচ্ছি। বিএনপির দরজা খোলা আছে। এমনিতেই অনাচারের পাহাড়সম স্তুপে আওয়ামী নেতাকর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত, কখন কী হয় আতঙ্কে তাদের সারাদিন কাটে। বিভিন্ন এলাকায় তারা তলেতলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখা শুরু করেছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীরা আসলেই উদ্বিগ্ন। ক্ষমতার বৃক্ষ উপড়ে যাওয়ার পর অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গভীর দুঃশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সেজন্য স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টার আসনে বসতে চাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবসহ অন্য নেতারা।’

সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি সংসদে না গেলেও প্রতিনিয়ত বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে সংসদে বিষোদগার করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেছেন- ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বিজয় ছিল প্রত্যাশিত। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে।’ এদেশে বাক-স্বাধীনতা শুধু একজনেরই আছে, তিনি হলেন ‘মিডনাইট ভোট’ এর প্রধানমন্ত্রীর। তিনি সবার বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একাই লাগামহীন কথাবার্তা বলেন। মহাজোটের শরীকরাও এখন বলছে যে, ভোট হয়েছে আগের দিন রাতেই। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ক্ষমতাক্ষুধা গ্রাস করেছে গণতন্ত্রকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপাসনন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণমানুষের নেত্রী, গণতন্ত্রের প্রতীক ও ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসা পূরণের সাজা দেয়ার এক বছর পূর্ণ হলো। চরম অবিচার আর অন্যায়ের আঘাতে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছে। এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সাজা। এক ব্যক্তির অত্যুগ্র ক্ষমতাক্ষুধা চরিতার্থ করতেই গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে কবরস্থ করার জন্য বেগম জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছে। একজন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে এক বছর কারাগারে রাখার নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। এটি অপরিসীম জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেত্রীর বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি শক্তির নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলা।’

বিএনপির এই মুখপাত্র জানান, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সারাদেশে বিএনপির বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর আড়াইটায় ঢাকায় রমনাস্থ ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া পরের দিন ৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী একই দাবিতে ঢাকা মহানগরী বাদে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, নাজমুল হক নান্নু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যেসব দাবি নিয়ে আসবেন, কেউ খালি হাতে যাবেন না : অর্থমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতের বিকল্প নেই। দেশের উন্নয়নে এ খাতের অবদান ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ। তাই এ খাতের সবার কথাই শুনব। আশা করি যেসব দাবি নিয়ে আপনারা আসবেন কেউ-ই খালি হাতে যাবেন না।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার শুরুতে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি খাতের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো আমরা শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে চাই। আমরা সবাই সরকারের অংশ। সবার সহযোগিতায় দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এই গুরুত্বপূর্ণ খাত ধরেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’

বেসরকারি খাতকে উন্নয়নের বড় খাত হিসেবে উল্লেখ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ খাতের দায়িত্ব সালমান এফ রহমানের (প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা) হাতে দিয়েছেন। আশা করি ব্যবসায়ীরাও তাকে সহযোগিতা করবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। তাই এ বিষয়ে আপনাদের সবার মতামতই আমি শুনব।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই সরকারের অংশ। সবার লক্ষ্য দেশের জন্য কাজ করা। দেশের সমসাময়িক চাহিদা মেটাতে নতুন নতুন চিন্তা ধারা নিয়ে কাজ করব।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বেসরকারি খাতের উপরে নির্ভর করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ বিভিন্ন বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

‘শোচনীয় পরাজয়ের কারণেই বিএনপির কালো ব্যাজ ধারণ’

দলের শোচনীয় পরাজয়ের কারণেই বিএনপি কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নের ফরম বিক্রি পরিদর্শন করতে গিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সব কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে না পেরে পরাজয় ও ব্যর্থতার জন্য কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি দিয়েছে। দলের শোচনীয় পরাজয়ের কারণেই তাদের এ কর্মসূচি।

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  একের পর এক পরাজয়ে বিএনপির ইলেকশন ফোবিয়া হয়ে গেছে। তাই তারা ভয় পাচ্ছে নির্বাচনে অংশ নিতে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সভা সমাবেশ করতে চাইলে তারা (বিএনপি) অনুমতি পাবে। কিন্তু তা রাস্তায় করতে পারবেন না।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রত্যাহার পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আসলে এখানে দলের অভ্যন্তরীণ চিত্রটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটি দেখার জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলাকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। এবারও তাই হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দল কঠোর অবস্থানে থাকবে।

জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে যে সতর্কতার কথা বলেছিলাম এবং কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলাম, তার ফলে তো বিদ্রোহীর পরিমাণ একেবারে কমে গিয়েছিল। সেটি তো ফলপ্রসূ হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই নিজেদের লোক এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের নাম পাঠিয়েছেন। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা কী হবে? জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, কার ভাই, কার বোন। এটা বড় বিষয় নয়। মনোনয়নপত্র খতিয়ে দেখা হবে। জনগণের কাছে কার জনপ্রিয়তা বেশি, কে উইনেবল; কে ইলেকটেবল সেটা আমরা খতিয়ে দেখবো।

তিনি বলেন, আমরা উপজেলায় একটি বর্ধিত সভায় নাম নির্ধারণের জন্য বলেছিলাম। ওই বর্ধিত সবাই যদি কোন আত্মীয়ের নাম চলে আসে তাহলে তো কিছু করার নেই। আত্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও নাম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চাপা পড়ে যাবে সেটা তো হতে পারে না।

খালেদা জিয়াসহ ১৮ নেতার মুক্তি চাইল বিএনপি

খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সুনির্দিষ্ট করে দলটির ১৮ জন নেতার মুক্তি দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

খালেদা জিয়াসহ রিজভী যাদের মুক্তি দাবি করেন তারা হলেন- বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, মামুনুর রশিদ মামুন, শেখ মোহাম্মদ শামীম, শেরপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাশেম বকর, শরীয়তপুরের ধানের শীষের প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন অপু এবং মাগুরার ধানের শীষের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দেশব্যাপী আটক বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি’র বক্তব্য প্রতারণার ইঙ্গিত: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে বলে মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রতারণার ইঙ্গিত। বুধবার (৬ ফেব্রয়ার) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালযয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন সংসদ নির্বাচনের মতো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সিইসির এমন বক্তব্য দেশ থেকে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার গভীর নীল নকশা। একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট ডাকাতির নির্বাচন দেশে-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। নির্বাচনের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রেখেছেন। ভোটের দিন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি, বিরোধী দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সারা দেশের কারাগারগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মহা ভোট ডাকাতির আয়োজক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসন্ন উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জাতির সঙ্গে আবারো একটি প্রতারণা করার ইঙ্গিত।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মহাজোটের শরিক জাসদ যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তা নিয়ে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ওবায়দুল কাদের কী জবাব দিবেন, কেননা তাদের শরিক জাসদ বলেছে ২৯ তারিখ রাতেই ব্যালটবক্স ভরা হয়।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে লুকোচুরি খেলা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এক মামলায় জামিন নিলে অন্য আরেকটি মামলায় জামিন বাতিল করা হয়েছে। হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ আবার জামিন স্থগিত করেছে। পরে আপিল বিভাগ জামিন দিলে নিম্ন আদালত আরেকটি মামলায় জামিন আটকে দিয়েছে, এমনি করে পার হয়ে গেছে একটি বছর। যেসব মামলায় অন্যরা জামিনে রয়েছেন সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এমনকি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই বেগম জিয়াকে চিকিৎসাসেবা পর্যন্ত দিতে সুযোগ দিচ্ছে না সরকার। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বেগম জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সম্পূর্ণ চিকিৎসা না দিয়ে সরকারের নির্দেশে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ধরে রাখতে এটি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি মঞ্চস্থ করতে সম্পূর্ণ দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সরকার। পৃথিবীর ইতিহাসে একজন সম্মানিত বয়স্ক জনপ্রিয় নেত্রীকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জ্বলে পুড়ে এমনভাবে সাজানো মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার কোনো দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই।’

রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম এ ২টি মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে। মামলার দুটির মধ্যে একটি মামলায় হাইকোর্ট গত ২৭ জানুয়ারি বেগম জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন। নিম্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ জামিন মঞ্জুর করা হয়। অপর মামলায় জামিন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর এ বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে বিলম্বিত করা হয়েছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।’

তিনি বলেন, ‘বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এই মামলায় ৭৭ আসামির মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজন মারা গেছেন। ৫ জনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বাকি ৬৯ জনের সবাই জামিনে আছেন শুধুমাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া।’

রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ। চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা, তার পা ফুলে গেছে। অথচ তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। কিছুদিন যাবত নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে নিচ তলায় ছোট্ট একটি কক্ষে অস্থায়ী ক্যাঙ্গারু আদালত সাজিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানে টেনে এনে জোর করে বিভিন্ন মামলায় শুনানি করা হচ্ছে। সরকার প্রধান এর উদ্দেশ্যে আমাদের আহবান এবার ক্ষান্ত দেন। একজন গুরুতর অসুস্থ বয়স্ক নেত্রীর ওপর জুলুম করবেন না। একটি বছর কারারুদ্ধ করে রেখে অত্যাচার করেছেন। এবার মুক্তি দিন। ইতিহাস পড়ুন, ইতিহাস বড় নির্মম। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।’

এসময় রিজভী খালেদা জিয়াসহ দলের কেন্দ্রীয় ১৮ নেতাসহ-সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, আব্দুস সালাম,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

গরম খবর