রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮
Home Blog Page 4

মারধর করবেন, আবার মামলাও দিবেন: প্রধানমন্ত্রীকে দুদু

জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ারি দি‌য়ে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ব‌লে‌ছেন, ‘শেষ কথা ক্ষমতায় জোর করে থাকা যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে কৃষক দ‌লের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষমতায় জোর করে থাকা যাবে না। নির্বাচনে গিয়েছি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য। আপনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ দিয়ে হামলা করিয়েছেন, যেখানে সারা বিশ্ব, সারাদেশের জনগণ ও সাংবাদিকরা নজর রেখেছে। সেখানে গায়ের জোরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করবে, আবার মামলাও দিবেন?’

বৃহস্প‌তিবার (১৫ ন‌ভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের ‌ভিআই‌পি লাউ‌ঞ্জে বিএন‌পি আয়োজিত মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপল‌ক্ষে আ‌লোচনা সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে ‍দুদু বলেন, ‘এগুলো থেকে একটু নিভৃতি হন, বিরত থা‌কেন, একটু হুশে আসেন। আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র ও শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য। আপনি যদি আমাদেরকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে দেন, তাহলে এটা ভালো কোনো কাজ বয়ে আনবে না।’

বিএন‌পির এই ভাইস-চেয়ারম্যান ব‌লেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন যে এতো ছোট, তার হৃদয় যে এতো ছোট এক বেগম খালেদা জিয়াকে সহ্য করতে পারছেন না। তাঁর (খালেদা জিয়া) অপরাধ তিনি দুর্নীতি-লুটপাটের বিরোধিতা করেন। তাঁর অপরাধ মাত্র দুই কোটি টাকার একটি মামলা, যা এখন ব্যাংকে ছয় কোটি টাকার হয়েছে। যিনি সৎ অহংকারমুক্ত স্বাধীনতার ঘোষণাকারীর সহধর্মিনী। তাকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘শুধু প্রধানমন্ত্রীত্বের জন্য মুক্তিযুদ্ধকে পাঠ্যপুস্তকে ধ্বংস করা হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকে যদি কারো নাম রাখতে হয়, তবে নাম হবে মওলানা ভাসানীর। কিন্তু তার নাম না দিয়ে, আরও যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাদের নাম না দিয়ে শুধু একজনের নাম দেয়া হচ্ছে। এক নেতার এক দেশ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের উদাহরণ দিয়ে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘তারেক রহমান তো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য না। তিনি দেশে ফিরে আসতে চাইছে, অথচ কেউ কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছে। তার জন্য আওয়ামী লীগ উল্লাস করে। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করা মানে শেখ মুজিবরকে অপমান করা, এটা কি প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন? তার পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ থাকছেন না, এটা বাংলাদেশকে অপমান করা হচ্ছে, এটা কি প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন?’

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যে কারণেই যেই ঘটনা ঘটুক না কেন, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধ হলে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব এবং মওলানা ভাসানীকে প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবো।’

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মো. জসিম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল হোসেন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

তাদের জেলে ভরে রাখা উচিত : জয়

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই বিএনপির সহিংসতাও শুরু হয়ে গেছে। ঠিক যেভাবে তারা ২০১৩ ও ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের জীবন্ত পুড়িয়েছিল।

বিএনপিকে কোনোদিক থেকেই আর রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। কানাডিয়ান ফেডারেল আদালতও একই কথা বলেছে একাধিকবার। তাদের সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের পর বুধবার রাতে নিজের ফেসবুকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মিছিল নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম (ঢাকা-৮ আসন) কিনতে আসলে কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের দুইটি গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ছররা গুলি ও কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়লে এক সাংবাদিকসহ বিএনপির ২৫ নেতাকর্মী ও ২৩ পুলিশ আহত হয়েছেন।

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচন করবেন ধানের শীষে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে নির্বাচন করলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ‘ধানের শীষ’ হবে বলে জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের যারা নির্বাচন করবেন, সকলেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সমনে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো হলো বিএনপি, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাসদ (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্য।

মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের উসকানির কারণে গতকালের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল এইচ টি ইমাম বলেছেন এক ঘণ্টার জন্যও নির্বাচন পেছানো যাবে না—এই মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের ওপর এক রকম হুমকি। এভাবে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।

যত বাধা বিপত্তিই আসুক ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে জানিয়ে এই নেতা বলেন, সরকার চাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট যাতে নির্বাচনে না আসে। তবে যত বাধা বিপত্তিই হোক ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন পেছানোর দাবি অব্যাহত আছে।’

হামলাকারীরা শনাক্ত, সবাই বিএনপির: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে পুলিশের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই বিএনপির নেতাকর্মী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা করা হয়েছে। তিন মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ১৭৫ জন।

তিনি বলেন, নয়াপল্টনের বিভিন্ন সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হামলাকারী ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কমিশনার বলেন, নির্বাচনের আগে পুলিশকে উসকানি দিতে আর অসৎ উদ্দেশে আমাদের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। কারা আগুন দিয়েছেন, তাদের দেখা গেছে। এছাড়া মিডিয়ার ফুটেছে স্পষ্টই দেখে যায় তারা কীভাবে পুলিশের সদস্যদের লাঠিপেটা ও ইটপাটকেল মেরেছেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বিএনপি এ হামলা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। নির্বাচনের আগে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই এ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তখন আমাদের পুলিশ সদস্যরা জীবন বাঁচাতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত দেশে হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয় সরণিতে তোষাখানা জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত দশ বছরে অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি আজকে বাংলাদেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান অনেকটা উন্নত হয়েছে। আমরা চাই আরও উন্নত হোক। কাজেই দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশে হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

‘তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে আমরা উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই’ বলেও জানান তিনি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের দেওয়া মূল্যবান উপহার সামগ্রী দিয়ে এই জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। তোষাখানা জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিএনপি নির্বাচনে নাও আসতে পারে : এরশাদ

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেছেন, এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় বিএনপি নির্বাচনে নাও আসতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় পার্টির বানানী কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রির শেষ দিনের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না আমি জানি না ঠিক। তবে কালকে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। অনেকে গাড়ি পোড়াইছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এর মধ্য দিয়ে মনে হয় ইঙ্গিত পাওয়া যায় তারা নির্বাচনে নাও আসতে পারে। তবে আসলে ভালো হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে এলে ভালোই হবে। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনেই নির্বাচন করবে। ’
জোটের ব্যাপারে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি, বিএনপি নির্বাচনে এলে আমরা জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচন করবো। আশা করছি, আমরা জোটবদ্ধ হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সম্মানজনক আসন পাবো। ’
এ সময় আগামী ১৭ ও ১৮ নভেম্বর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় প্রার্থীতা চূড়ান্ত হবে বলেও জানান এরশাদ।
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনকে সামনে রেখে উজ্জীবিত। গত চার দিনে প্রায় আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। আজও অনেক মনোনয়নপত্র বিক্রি হবে। এটা জাতীয় পার্টির জন্য খুবই ইতিবাচক দিক। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে, জাতীয় পার্টি একাদশ নির্বাচনে অনেক ভালো ফলাফল করবে। ’
মনোনয়ন কাকে দেওয়া হবে-এ প্রসঙ্গে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে অপ্রতিরোধ্য সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ যাকে ভালোবাসে মনোনয়ন তাকেই দেওয়া হবে।’

আজ ৫ম ও শেষ দিনের মত বনানীর দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলছে। মনোনয়ন ফরম বিক্রি কার্যক্রম দেখতে আজ সকালে বনানীর কার্যালয়ে আসেন এরশাদ। এ সময় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এরশাদের হাতে মনোনয়ন ফরম তুলে দেন।

এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, নুরুল ইসলাম নুরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, সেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব মো. বেলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধারা কখনও মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায় না: কর্নেল অলি

কেউ যদি মনে করে আমরা মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাবো, তাহলে ভুল করবে। মুক্তিযোদ্ধারা কখনও মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায় না। যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকারকে মোকাবিলা করবো।’

বললেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় গুলশান বিএনপির চেয়ারপাসন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের মতো ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়ে কর্নল অলি বলেন, আপনারা মুক্তিযুদ্ধের মতো ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করুন। এটা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মুক্তিযোদ্ধারা কখনো মাঠ ছেড়ে যায় না।’

কর্নেল অলি আরও বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগে ক্ষমতাসীন দল চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। তারা ঢাকঢোল বাজিয়ে মিছিল সহকারে এসেছে। নির্বাচন কমিশন তখন কোনও নির্দেশনা বা কোনও আদেশ জারি করেনি। প্রশাসন ও পুলিশ কোনও বাধা দেয়নি, কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। অন্যদিকে বিএনপির জনসমাগম দেখে তারা শঙ্কিত। তারা মনে করলেন এবার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। গদি ছাড়তে হবে। এই ভয়ে তারা নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলো।
এলডিপি’র চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদিন আগে লাখ লাখ নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এমন কী হলো যে গতকাল হামলা চালাতে হলো। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন মারা গেছে। তাতে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

কর্নেল অলি বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কিনা সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সরকারের ওপর। কারণ এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। গত পরশু নির্বাচন কমিশন আইজিকে এক নির্দেশে বলেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনও মিছিল যাতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য।

ভাবতে পারিনি মির্জা ফখরুল এতোটা মিথ্যা কথা বলবেন: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি ভাবতে পারিনি মির্জা ফখরুল এতোটা মিথ্যা কথা বলবেন। তিনি (মির্জা ফখরুল) গতকাল যে মন্তব্য করেছেন এটা কে বিশ্বাস করবে? ছাত্রলীগ নাকি হামলা করেছে এটা কেউ বিশ্বাস করবে? আমি ভাবতেও পারিনি মির্জা ফখরুলের মুখে এমন মিথ্যা কথা শুনতে হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার বিএনপি কার্যালয়ের সামনের পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে কাদের বলেন, কাল আন্দোলনের নামে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে বিএনপি। তারা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের উপর হামলা চালিয়েয়ে। ভিডিও ফুটেজ আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন। তারা পুলিশের গাড়িতে উঠে শেখ হাসিনার পতন চেয়েছে। এটা কেন? তারা আসলে নির্বাচনে যেতে চান না, তারা নির্বাচন বানচাল করতে চান।

তিনি বলেন, এ ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে আপনাদের ভাবতে হবে এর জন্য কে দায়ী? বিএনপি কর্মীরা সেখানে মেস জ্বালিয়ে গাড়িতে আগুন ধরিয়েছে, বলেন ওবায়দুল কাদের।

আপনারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেবেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমরাতো নির্দেশ দিতে পারি না। এখন এটা নির্বাচন কমিশন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে বলতে পারে তদন্ত করার জন্য। আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নিতে পারেন।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বৈধ অস্ত্র জমা দান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : রিজভী

‘নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বৈধ অস্ত্র জমা দান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি হলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এতে প্রমাণিত হয়-নির্বাচন কমিশন বিশেষ দলের পক্ষেই নির্বাচনী মাঠ সমতল করছে।ভোটার শূন্য করে রক্তাক্ত পথেই তারা নির্বাচন পার করতে চায়। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর অস্ত্র জমা দেয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়নি নির্বাচন কমিশন। বিগত দশ বছরে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হাতে প্রচুর পরিমান বৈধ-অবৈধ অস্ত্র দেয়া হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন ।

রাষ্ট্রীয় স্থাবনায় ও সরকারি অর্থায়নে গণভবনে আওয়ামী লীগের সাড়ে চার হাজার প্রার্থী সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। অথচ সম্পূর্ণরূপে নিয়মবহির্ভূত দলীয় কার্যক্রমের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নিশ্চুপ ভূমিকাকে ‘নীরব কবি’ বলে অ্যাখ্যায়িত করেছেন রুহুল কবির রিজভী ।

রিজভী বলেন, ‘গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নির্বাচনী আচরণবিধির ১৪ (২) ধারার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। একটি রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ও সরকারি অর্থায়নে এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার টু শব্দটিও করেন না।’

গণভবনের আশেপাশের রাস্তায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভিড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আক্রমণ চালায়নি কেন? শাসকগোষ্ঠীর চোখের ইঙ্গিতেই পুলিশ নড়াচড়া করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘গতকাল কমিশন বলেছে যে, নয়াপল্টনে শোডাউন আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়, তাহলে তফসিল ঘোষণার পর কোন সাহসে পুলিশ বিএনপির উচ্ছাসমুখর উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর সহিংস আক্রমণ চালিয়েছে? এটা কার নির্দেশে এই পৈশাচিক আক্রমণ চালানো হয়েছে? তবে মানুষ বিশ্বাস করে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে পুলিশের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত করার নির্দেশদাতা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।’

রিজভী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সহিংসতা ও নাশকতা করা হয়েছে। প্রথমেই পুলিশ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মিছিলে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত করে, এই গাড়িচাপায় অন্তত ২০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ কিভাবে জনগণের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয় সেটি নির্বাচন কমিশনের নিকট জানতে চাই।’

‘এছাড়াও সুপরিকল্পিতভাবে হেলমেটধারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে। এই হেলমেটধারী কারা তা জনগণ জানে। যারা আগুন দিয়েছে তারা পুলিশের প্রোটেকশনে এই নাশকতার কাজ করেছে, এরা ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঢাকা মহানগর নেতা, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।’

নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব: ২০ দলীয় জোট

২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ বলেছেন, ‘বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব এবং সেক্ষেত্রে বলতে চাই ২০ দল নির্বাচনে আসুক সরকার সেটা চায় কি না তাতে সন্দেহ আছে।’

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, ‘নির্বাচন হবে কি না, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কিনা সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সরকারের ওপর। কারণ এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। গত পরশু নির্বাচন কমিশন আইজিকে এক নির্দেশে বলেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় কোনো মিছিল যাতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। এই নির্দেশের ফলেই বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোয়নপত্র জমা দিতে আসা সারা দেশের লাখ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘পুলিশের এই হামলায় নারীকর্মীসহ বিএনপির প্রায় ৬০/৭০ জন মারাত্মক আহত হন। এসময় খালেদা জিয়ার মনোয়নয়নপত্র জমা দিতে আসা তার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনিসুজ্জামান খান বাবু, খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর বিএনপি কার্যালয় যখন জনশূন্য তখন একদল হেটমেটধারী লোক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই হেলমিট বাহিনী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কিশোর ছাত্র-ছাত্রীদের ওপরও হামলা চালিয়েছিল। তখন কর্তব্যরত সাংবাদিকদের অত্যাচার করেছিল। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া যার ছবি পাওয়া গেছে সে ছেলেটি ছাত্রলীগের কর্মী বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।’

‘মাত্র কয়েকদিন আগে ক্ষমতাসীন দল চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। কেউ কেউ হাতি নিয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে মিছিল সহকারে এসেছে। নির্বাচন কমিশন তখন কোনো নির্দেশনা বা কোনো আদেশ জারি করেনি। প্রশাসন ও পুলিশ কোনো বাধা দেয়নি, কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অন্যদিকে বিএনপির জনসমাগম দেখে তারা শঙ্কিত, কম্পমান, তারা হয়তো মনে করছে এবার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। গদি ছাড়তে হবে। এই ভয়ে তারা নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলো। এর দুদিন আগে লাখ লাখ নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এমন কি হলো যে গতকাল হামলা চালাতে হলো। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন মারাগেছে। তাতে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বলে। কিন্তু মাঠে ময়দানে যখন আমরা যাই তখন দেখি মন্ত্রীরা এখনও পুলিশ পাহাড়ায় চলে। কয়েক দিন আগে এরশাদ রংপুরে গিয়েছিলেন, সেখানে তাকে পুলিশের এসপি নিরাপত্তা দিয়েছেন। তাহলে বিএনপি ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরও পুলিশের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় এজন্য নির্বাচন কমিশনকে এক সময় জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।’

‘জাতীয় রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক মামলা দেয়া যাবে না, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হবে না এবং গায়েবি ও মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি একথা বলার পরেও শতশত রাজনৈতিক ও গায়েবি মামলা হয়েছে এবং হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে আসামি করে ঘর-বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রকিব, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচ এম কামরুজ্জামান, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদু্জ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির সভাপতি লিটা রহমান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, জমিয়তের উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, অপর অংশের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমী, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাগপা মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, সাম্যবাদী দলের সেক্রেটারি কমরেড সাঈদ আহমেদ, বাংলাদেশ ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএন শাওন সাদেকী, এনডিপির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, বিজেপির মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ, জাতীয় দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল হুদা, ডেমোক্রেটি লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান, পিপলস লীগের মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুব হোসেন।

সুশৃঙ্খলভাবে আজও বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশে চতুর্থ দিনের মতো বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদান কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদান শুরু হয়।

চতুর্থ দিনে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতারা কার্যালয়ে আসতে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নয়াপল্টন এলাকায় দলটির কর্মী এবং অনুরাগীদের উপচেপড়া ভিড় বাড়ছে।

তাছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাদের নামে ব্যানার ফেস্টুন, ধানের শীষ নিয়ে শোডাউন, খালেদা জিয়ার মুক্তির স্লোগান দিতে দেখা যায়। রাস্তা কিছুটা ফাকা রেখেই চলছে নির্বাচনী কাজ। যানবাহনও চলছে স্বাভাবিক গতিতে।
বিএনপির পক্ষ থেকে রাস্তা অবস্থান না করার জন্য বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১৪ নভেম্বর) পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘাতের পর আজ নয়াপল্টন এলাকায় ফুটপাতসহ প্রতিটি রাস্তায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান করতে দেখা যায়।

এদিকে মনোনয়ন ফরম বিক্রির চতুর্থ দিনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি কমলেও বেড়েছে জমাদানের কাজ।

গত তিন দিনে মোট তিন হাজার ৭০০ জন নেতা দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। প্রথম দিনে ১৩২৬, দ্বিতীয় দিন ১৮৯৬ এবং বুধবারসহ তিন দিনে প্রায় ৩৭০০ ফরম বিক্রি হয়েছে।

গ্রেফতার আতঙ্কের মধ্যেই বিএনপি কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড়

বুধবার পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ৬৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার আতঙ্কে আছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তবুও আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নেতাকর্মীদেরকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, বিজয়নগর নাইটেঙ্গেল মোড়ে পুলিশ সদস্যদেরও অবস্থান করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খণ্ড খণ্ড প্রতিবাদী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে অলি-গলিতে অবস্থান করতে দেখা গেছে। বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি কার্যালয়ে ঢোকেন।

এদিকে, পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গতকালের ঘটনায় ৩টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে মূল আসামি করা হয়েছে। সকাল পর্যন্ত ৬৫ জন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

বুধবার রাতে দায়ের করা মামলাগুলোতে আব্বাস দম্পতি ছাড়াও বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ‘অজ্ঞাত’ আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। পল্টন থানায় দায়ের করো মামলাগুলোর নম্বর হচ্ছে- ২১, ২২ ও ২৩।

মামলার এজাহারে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট, হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর হামলার, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সড়কে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

গরম খবর