শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮
Home Blog Page 66

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন এমপিরা

নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা (এমপি) নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। এজন্য নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে) নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভায় এ বিষয়টির অনুমোদন দেওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হবে। তবে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালায় ‘‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে এমপিদের নাম উল্লেখ ছিল, সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন।’’

বিধিমালা থেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বাদ দেওয়া বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সংসদ সদস্যদের পদটি যেহেতু লাভজনক নয়, তারা সরকারি কোনও গাড়ি ব্যবহার করেন না এবং তাদের জন্য কোনও কর্মকর্তাও নেই, সেজন্য এমপিদের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা না করে বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।’’

এমপিদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কার্যকর হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এই নির্বাচনটি তফসিলভুক্ত এবং এই সংশোধনীটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিংয়ের প্রয়োজন হবে। আর ২৬ জুন গাজীপুরে ভোট। কাজেই এটি গাজীপুরে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

১২ এপ্রিল স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণা ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রেখে আরচণবিধির পরিবর্তন চেয়েছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

আওয়ামী লীগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত এসেছে কিনা জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিষয়টি হচ্ছে তারা আমাদের স্টেকহোল্ডার। তাদের থেকে অনেক প্রস্তাব আসে। যে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন যুক্তিযুক্ত মনে করে, সেটি বিবেচনায় নেয়।’
এছাড়াও বিদ্যমান সিটি করপোরেশন আচরণ বিধিমালায় ১১টি বিষয়ে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান সচিব।

উল্লেখ্য, নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে বিদায়ী রকিব কমিশনও এই ধরনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু, নির্বাচন প্রভাবিত হবে বিবেচনায় নিয়ে এমপিদের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে তাদের প্রচারণার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রকিব কমিশন। বিদ্যমান বিধিমালা হিসেবে তফসিল ঘোষণার পর থেকে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় যাওয়া বা প্রবেশের কোনও সুযোগ নেই। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হলে তিনি ভোট দিতে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে শুধু এমপিরাই নন, মন্ত্রীরাও ভোট দেওয়ার জন্য নির্বাচনি এলাকায় যাওয়ার সুযোগ পান।

‘পুলিশ জুঁই ফুলের গান গাইবে, কাউন্টার করবে না?’

মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে যারা নিহত হচ্ছেন তারা সবাই অস্ত্রধারী এবং তারা গুলি করার পর পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি করছে বলে দাবি করেছেন ওবায়দুল কাদের।

কথিত বন্দুকযুদ্ধকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ বলে মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল এবং বিএনপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ এসেছে, সেটিও উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের । তার দাবি, যে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, সেটা বিচারবহির্ভূত হত্যা নয়, এটা এনকাউন্টার। পুলিশ আক্রান্ত হয়ে গুলি করছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনেউতে সড়ক নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন এবং বিআরটিএ পরিচালিত মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মাদকবিরোধী অভিযানে মৃত্যুর বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ যাদের ধরতে যাচ্ছে, তাদের কাছে তো অস্ত্র রয়েছে। সেখানে কি তাহলে পুলিশ ‘জুঁই ফুলের’ গান গাইবে? কাউন্টার করবে না?’

গত ৪ মে থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে এখন অবধি ৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। গত চার দিনেই এই সংখ্যা অন্তত ৪০।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ৩ মে র‌্যাব গঠনের পর এভাবে ব্যাপকভাবে ক্রসফায়ার শুরু হয়। তখন আওয়ামী লীগ এর সমালোচনা করে। আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকে সে সময়ে বিএনপি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করে।

তবে এখন বিএনপি এই ‘বন্দুকযুদ্ধকে’ ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ আখ্যা দিয়ে বলছে, এভাবে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়।

তবে মাদকবিরোধী অভিযানে হতাহতের ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ মানছেন না কাদের। বলেন, ‘আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করি না। সেটা ভিন্ন জিনিস। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট আছে, তাদের সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রয়েছে। যখন পুলিশ তাদের ধরতে যায় তখন গোলাগুলিতে এনকাউন্টার হয়।’

‘এনকাউন্টার তো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয়। কারণ এখানে শুধু এক পক্ষের হাতে অস্ত্র নাই, অস্ত্র দুইপক্ষের হাতেই রয়েছে।’

বিএনপির সমালোচনার বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি কোনো রাজনৈতিক সভায় প্রতিপক্ষ গালিগালাজ ছাড়া একটা কথা বলেছেন? মাদক, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেন নাই। তাই এ বিষয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নাই।’

‘মাদকের যে ভয়ঙ্কর অবস্থা আজকে এসেছে, আমরা যদি সকলেই (সকল রাজনৈতিক দল) এতদিন সোচ্চার থাকতাম তাহলে এ অবস্থা আসত না।’

দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্রসফায়ারকে সমর্থন করে কি না, জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘ক্রসফায়ারকে আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে অভিযান হচ্ছে তাকে সমর্থন করি।’

মাদকের সাথে একজন সংসদ সদস্য জড়িত সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘কেবল আবদুর রহমান বদি না, প্রমাণ পেলে আরও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়।’

মাদকের গডফাদারদের না ধরে শুধু ক্রসফায়ারের হিড়িক: রিজভী

মাদকের পশ্চাদভূমি বন্ধ না করে, গডফাদারদের না ধরে শুধু ক্রসফায়ারের হিড়িক অব্যাহত রাখলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সারাদেশে মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে এই ক্ষমতাসীনদের আমলে, ক্ষমতাবানদের পৃষ্টপোষকতায়। এই সকল ঘটনার মধ্যদিয়ে তারা দেশকে রক্তাক্ত নির্বাচনের দিকে নিয়ে যায় কিনা সেটি নিয়েও এখন মানুষ ভাবছে।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, গত ৯ দিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৪৩ জন, নিহত ব্যক্তিদের মাদক ব্যবসায়ী বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে প্রকৃত বড়-বড় মাদক ডিলাররা অন্তরালে থেকে যাচ্ছে কিভাবে? প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বাড়িতে তারা দেখা-সাক্ষাৎ করছে। চারদিকে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে, সরকারি এই মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে। সন্দেহভাজনদেরও হত্যা করা হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে? যতবড় অপরাধী হোক তা বিচারবর্হিভূত হত্যার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমি গতকালও বলেছিলাম এই মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মানুষ হত্যার উৎসবে এরা বেছে-বেছে সরকারবিরেধী নির্দোষ তরুণদেরও অপরাধী সাজিয়ে হত্যা করবে। তার-দৃষ্টান্ত আমরা গতকাল তুলে ধরেছি ক্রসফায়ারে নিহত নেত্রকোনার ছাত্রদল নেতা আমজাদ হোসেনের ঘটনায়।

বিএনপি এই নেতা বলেন, বিচারবর্হিভূতভাবে নির্বিচারে বন্দুকযুদ্ধে মানুষ হত্যায় পৃথিবীর কোথাও সামাজিক অপরাধ দমন করা যায়নি। এই বিচারবর্হিভূত হত্যার যাত্রাপথে ক্রমাগতভাবে সরকারবিরোধী লোকজনদের নির্মূলে ব্যস্ত থাকার আশঙ্কা করছে অনেকেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদফতর সম্পাদক মো্ মনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

ক্রসফায়ার নিয়ে দেশের মানুষের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার দিয়ে শুধুমাত্র বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বা একবারেই নির্মূল করার জন্য এই সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে বলে ।তিনি বলেন, এই ক্রসফায়ার নিয়ে দেশের মানুষের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এমন একটা সময় যখন নির্বাচন সামনে ও সরকারের শেষ বছর তখন দেশে একটা যুদ্ধ ঘোষণা হয়েছে।

বুধবার সকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরাও মাদকবিরোধী অভিযান চাই। তবে এটা অরাজনৈতিক হতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার দিতে হবে এমনটি নয়। আমরা আগেও বলেছি তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। কিন্তু যেসব যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে সেগুলো কোনো সভ্য গণতান্ত্রীক দেশে যুক্তি বলে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।

গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে আলমগীর বলেন, গাজীপুরে যে এসপি আছে তিনি একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ সমর্থক। ওই এসপির আওতায় সুষ্ঠু ও আবাধ নির্বাচন সম্ভব না। সেই এসপি অসংখ্য বিএনপি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, গনতন্ত্রের লিডার খালেদ জিয়া। তাকে জেলে রেখে, নির্বাচন করতে না দিয়ে নির্বাচন কোনদিন সুষ্ঠু হবে না। এই দেশে এখন গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, জনগণের অধিকার নেই। তাই সকলকে ঐক্যবন্ধ হতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি নুর এ শাহদাৎ স্বজন, আবু তাহের দুলাল, জেলা বিএনপির কোষাধক্ষ্য শরিফুল ইসলাম ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কায়েসসহ প্রমুখ।

অব্যাহত মাদকবিরোধী অভিযান আজও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৮

মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত ১১ জন সদস্য।কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ২ জন। এতে পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিদেশি পিস্তল, এলজি, গুলি, ইয়াবা, হেরোইন ও গাজা উদ্ধার করে।

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে জেলার অভিযুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রাজু নিহত হয়েছে। এ সময় র‌্যাবের ২ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল গাঁজা ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‌্যাব।

ফেনীতে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধের পর একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে একটি প্রাইভেট কার, বিপুল ইয়াবা, আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও গুলির খোসা উদ্ধার করে র‌্যাব। নিহতের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় মাদকসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৯ মামলার আসামি এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সে সময় কোতয়ালী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিনসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।জামালপুর সদরের ছনকান্দা মাদ্রাসা বালুঘাট এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানার ওসি নাসিমুল ইসলাম আহত হয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি রিভলভার, গুলি, ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।

রংপুরে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর হাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালালে পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীর বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে অজ্ঞাত ওই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভালবার ও এক বস্তা ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে।

মাদক নির্মূলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় গত কয়েকদিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে।

মৃত্যুর কাছে হার মানলো মুক্তামনি

মৃত্যুর কাছে হার মানলো মুক্তামনি

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মাননো সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনি।সকাল আটটার দিকে সাতক্ষীরার কামারবায়সা এলাকায় নিজ বাড়িতে মারা গেছে ১১ বছরের শিশুটি। মুক্তামনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে। তিনি বলেন, কাল থেকে খুব অসুস্থ ছিল মুক্তামনি। সারা শরীরে যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে। আজ ভোরে একবার বমি করে। এরপর পানি খেতে চাইল। পানি আনতে আনতে সব শেষ।

মুক্তামনির মা আসমা খাতুন জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের নিজবাড়িতে মুক্তামনি মারা যায়। এ সময় তার মা-বাবা ছাড়াও বোন হীরামনি ও ছোট ভাই মিকাঈল উপস্থিত ছিল। উপস্থিত ছিল তার দাদি ও দু’জন প্রতিবেশী। মুক্তামনির পোষা শালিক পাখিটাও এ দুঃসংবাদে ছটফট করতে থাকে। যে পাখিটি মুক্তামনির সাথেই কথা বলতো।সবাইকে ডাকতো।

প্রাণপ্রিয় মেয়ের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন ও তার মা আসমা খাতুন।কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশীরা। তাদের আর্তনাদে গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

এখন আর কিছুই চাওয়ার নেই উল্লেখ করে মুক্তামনির শোকার্ত বাবা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ওর জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন।এমন কোনো কিছু নেই যা সরকার করেনি। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন মুক্তামনির মাগফিরাত কামনা ছাড়া আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই।জন্মের দেড় বছর পর শিশু মুক্তামনির দেহে একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে সেটি বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি।

প্রসঙ্গত, বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী মুক্তামনির চিকিৎসার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত বছরের ১২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে মুক্তামনির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে নেতৃত্ব দেন প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেন। ডা. সেন মুক্তামনির হাতে, পায়েসহ সমগ্র শরীরে অস্ত্রোপাচার করেন। রোগ নির্ণয় করে প্রকাশ করেন তার রক্তনালীতে টিউমার রয়েছে। ফলে তার পচা ঘায়ে আক্রান্ত মোটা হাতটি কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে হাতকাটার সিদ্ধান্তটি বাতিল করে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার শেষে ২৪ ডিসেম্বর বাড়িতে ফেরত দেয়া হয়।বাড়িতে কিছুদিন আগে মুক্তামনির অবস্থার অবনতি হয়। হাতের ক্ষতস্থানে আবারো পচনের লক্ষণ দেখা যায়, সেই ছিলো সঙ্গে জ্বর।

আবারও বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’বলল কানাডার আদালত

আবারও বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে রায় দিয়েছেন কানাডার ফেডারেল আদালত। দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী মোস্তফা কামাল নামে এক বিএনপি কর্মীর পক্ষ থেকে করা একটি রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে আবেদনটি খারিজ করে গত ৪ মে এ রায় দেয় ফেডারেল আদালত। এ নিয়ে কানাডার আদালতে তৃতীয়বারের মতো ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষিত হলো বিএনপি। প্রতিবারই বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিন জন।

প্রতিবারই আদালত বলেছে, বিএনপির সদস্যকে আশ্রয় দিলে সে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

প্রতিবার শুনানিতে বাংলাদেশে বিএনপির ডাকে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলন চলাকালে ব্যাপক নাশকতার কথা তুলে ধরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনের কাজ। তার তার সদস্যদেরকে তারা আশ্রয় দিতে পারেন না।

কানাডার আইন অনুযায়ী কোনো ব‌্যক্তি যদি এমন কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, যে সংগঠন সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ছিল, আছে বা ভবিষ‌্যতে থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছে, তাহলে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না৷

সবশেষ রায়টি সোমবার (২১মে) ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। সেখানে কারণসহ ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয়েছে, বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে তাদের দেশের মন্ত্রীর বক্তব্যকেই আবারও মেনে নিয়েছে ফেডারেল আদালত।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় আশ্রয়প্রার্থী হন মোস্তফা কামাল। আবেদনে তিনি নিজেকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যু্বদল নেতা ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
তার বিষয়ে কানাডা সরকার তখন আদালতকে বলে তিনি বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক দলের সদস্য পরিচয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, সেই রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত।

এমনকি কানাডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিবিএসএ)একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতে দলটি (বিএনপি) প্ররোচণা দিচ্ছে- এমন যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে বলেও কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করেছিলেন দেশটির জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রী।সে সময় বিএনপিকে নিয়ে কানাডা সরকারের এই বক্তব্য গ্রহণ করে মোস্তফা কামালের আবেদন খারিজ করে দেয় দেশটির আদালত। পরে তিনি দেশটির ফেডারেল আদালতে রিভিউয়ের জন্য আবেদন করেন।

রায়ে বলা হয়, মোস্তফা কামালের রিভিউ আবেদনের পর ফেডারেল কোর্টের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রীর দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী বোর্ডের অভিবাসন বিভাগ (আইডি)-কে নির্দেশ দেন। তখন জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি সিবিএসের প্রতিবেদন রেফারেন্স হিসেবে আইডির কাছে তুলে দেন।

ওই প্রতিবেদনসহ সম্পূর্ণ বিষয়টি যাচাই ও পুনর্বিবেচনা করে এবং পরবর্তী শুনানিগুলোতে মন্ত্রীর যুক্তি পর্যালোচনা করে আইডি কানাডা সরকারের আগের বক্তব্যই সঠিক বলে সিদ্ধান্তে আসে।আইডির সিদ্ধান্ত অনুসারে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর যৌক্তিকতা রয়েছে উল্লেখ করে ফেডারেল আদালত মোস্তফা কামালের আপিল আবেদন খারিজ করেন। একইসঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আপিলের রায়ের পর আইডির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়াগত অন্যায্যতার অভিযোগ করে সিদ্ধান্ত রিভিউয়ের আবেদন করলে এই যুক্তি মেনে নেননি আদালত। আদালত উল্টো বলেছেন, কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন-আইআরপিএর প্রেক্ষিতে আইডির সিদ্ধান্ত যথেষ্ট যৌক্তিক।

বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে দ্বিতীয় রায়

এর আগে কানাডার আদালতের দুটি রায়ে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা হয়েছে। ২০১৭ সালের বছরের ১২ মে দেশটির ফেডারেল কোর্টের বিচারকের দেয়া রায়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপিকে এই সংগঠনের তকমা দেয়া হয়। তখন দেশটিতে বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিবের করা রাজনৈতিক আশ্রয় নাকচ করে দেয়া রায়ে এই মন্তব্য করেন বিচারক জে ফদারগিল এই মন্তব্য করেন।

কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন প্রকাশ পেলে বাংলাদেশে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আদালত ওই নেতার পরিচয় প্রকাশ করেনি। তাকে এস এ অদ্যক্ষরে পরিচয় দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ‘এস এ’ আদ্যক্ষরের ব্যক্তি ২০০৪ সালে যুবদলে যোগ দেন। ২০১২ সালে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১৪ সালে তিনি কানাডায় এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

কিন্তু ইমিগ্রেশন ডিভিশনের সিদ্ধান্তে বলা হয়, বিএনপি সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত আছে, সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিলো, সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হতে পারে- এটা বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল কোর্টে জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন করেন ‘এস এ’। ফেডারেল কোর্টের বিচারক জে, ফদারগিল আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি করেন। একই সঙ্গে ফেডারেল কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগের আবেদনটিও তিনি নাকচ করে দেন।বিচারক বলেন, ‘ইমিগ্রেশন ডিভিশনের পর্যালোচনায় আমি কোনো ভুল খুঁজে পাইনি।’

প্রথম রায়: ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদনে ফেডারেল কোর্টের বিচারক জাস্টিস ব্রাউন বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ অভিহিত করেন।

সে সময় ঢাকার মোহাম্মাদ জুয়েল হোসেন গাজী নামে ঢাকার মিরপুরের এক ব‌্যক্তি বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীর পরিচয় দিয়ে ক্যানাডা সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন৷তার স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের আবেদন ২০১৫ সালে প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও গতবছরের ১৬ মে তাকে ‘ক্যানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা’ করেন দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তা৷ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যানাডার ফেডারেল আদালতে যান জুয়েল গাজী।

জুয়েল গাজী আদালতে দাবি করেন, বিএনপি সন্ত্রাসকে ‘প্রশ্রয় দেয় না’ এবং দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করায় কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব‌্যবস্থা নেওয়ারও নজির রয়েছে৷ কিন্তু অভিবাসন কর্মকর্তার তুলে ধরা লাগাতার হরতাল ও সহিংসতার বিবরণ তুলে ধরে রায়ে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে তুলনা করলে আবেদনকারীর যুক্তি ‘হারিয়ে যায়’৷

এবার ঈদ ভোগান্তি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে: সেতুমন্ত্রী

এবারের ঈদযাত্রা হয়তো ভোগান্তিমুক্ত হবে না, তবে তা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ মঙ্গলবার মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের মেঘনা সেতু এলাকায় আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা ও টোল প্লাজা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেক-হোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য,পণ্য পরিবহন ছাড়াও দেশের লাইফলাইন খ্যাত এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করে দেশের প্রায় ১৭ জেলার মানুষ। তবে গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক যানজটে কার্যত অচল হয়ে পড়া এই মহাসড়কের যানজটের তীব্রতা এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।তাই ঈদ আসন্ন হওয়ায় যানজট নিয়ে চিন্তার রয়েছেন যাত্রীরা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কথা বলা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আজ সকালে মহাসড়কের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী ঈদে ভাঙ্গা রাস্তার জন্য যাতে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি না হয় সে জন্য জুন মাসের ৮ তারিখের মধ্যে রাস্তা মেরামতের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দরকার হলে দিনের পাশাপাশি সারা রাতও মেরামত কাজ চলবে।

এক্সেল লোড স্টেশনের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদের সময় টোল সংক্রান্ত ভোগান্তি বা দুর্নীতির তথ্য পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ছাড়া ঈদের আগের চারদিন আর পরের চারদিন ২৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন চালু আর উল্টা পথে ভিআইপি আসলে তাদের আটকে দেওয়ার পরামর্শ দেন সেতুমন্ত্রী।

এ সময় সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান, সংসদ সদস্য লিয়াকত আলী খোকা,সংসদ সদস্য সুবিদ আলী ভূইয়া, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুসহ নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত ছিলেন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন বদির বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এরই মধ্যে সচেতন মহলে সবার মুখে মাদক সম্রাটের নাম। ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এখন প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের নিহতের খবর আসছে। তবে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ থাকার পরও কক্সবাজার-৪ টেকনাফ-উখিয়া আসনের এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না-এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদ সদস্য বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। আমরা সেই অভিযোগগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। বদিসহ অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে আপনাদের কাছেও কোনও তথ্য থাকলে আমাদের দিন। বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তথ্য-প্রমাণ নাই।’

মঙ্গলবার (২২ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে কোনও ক্রসফায়ার হচ্ছে না, যা হচ্ছে বন্দুকযুদ্ধ।’ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে পুলিশ সামনের দিকে এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, র‍্যাব, পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মাদক পাচারকারীদের তালিকায় এমপি বদি সামনের সারিতে আছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ যাবত দুই হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচার করে জেল দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, র‍্যাব, সাংবাদিক যারাই মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকবে তাদের ছাড় নয়।’

প্রসঙ্গত, সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানে গত চারদিনে ২৯ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও র‌্যাব সবগুলো ঘটনাকেই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দাবি করেছে।

বিচারবর্হিভূত হত্যার পিছনে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য অভিযোগ বিএনপির

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যে বিচারবর্হিভূত হত্যার নামে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষ হত্যা প্রাত্যহিক কর্মে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেছেন,মানবধিকারের এ রক্তাক্ত মূর্তি দেখে দেশবাসীর মধ্যে ভয়ের শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। এ অনাচারে সরকারি প্রশাসনের মানবতার অধঃপতন আরও নিচের দিকে নামছে। বেআইনিভাবে মানুষ হত্যার অধিকার কারও নেই। গুম, খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যার মাধ্যমে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, গতরাতেও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী, নেত্রকোনা, দিনাজপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০জনকে ক্রসফায়ার দেয়া হয়েছে। এর পিছনে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেটি এখন ফুটে ওঠতে শুরু করেছে। আসলে মাদক নির্মূলের নামে বিচার বর্হিভূত হত্যার যে হিড়িক চলছে এর গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হচ্ছে মাদকবিরোধীদের নির্মূল করতে গিয়ে টার্গেট করে বিরোধী দলের তরুণ নেতাকর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে মেরে ফেলা। গতরাতে নেত্রকোনায় কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রদলের সদস্য আমজাদ হোসেনকে।

মঙ্গলবার (২২ মে) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচনের সুখবর আওয়ামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে নেই। রয়েছে মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার নিত্যনতুন প্রকল্প, সুদূরপ্রসারী নীল নকশা। এ রমজান মাসে কর্দমাক্ত খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে জনজীবনে নাভিশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলার করুণ পরিণতিতে দেশের বেহাল অবস্থা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই দৃষ্টি ফেরানোর কৌশলে লিপ্ত রয়েছে কি না সে প্রশ্নই জনমনে উঁকি দিয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নই আমরা। অপরাধীদের গ্রেফতার করুন, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করুন, আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। দেশের প্রচলিত আইনেই তো মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু তা না করে সারাদেশে বন্দুকের অপব্যবহারে মানুষ হত্যা কোন সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না। আবার মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাদেরকে ধরা হচ্ছে? মাদকের গডফাদারদের নয়, চুনোপুঁটিদের। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে ৯ বছরে মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ। গোটা যুবসমাজকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পিছনে দায়ী ব্যক্তিরা হলেন সরকার দলীয় এমপি বদির মতো রাঘব বোয়ালরা। যারা মাদক ব্যবসার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের আবার তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, এ পবিত্র মাহে রমজানেও পোশাকে ও সাদাপোশাকে পুলিশ তল্লাশির নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি চলছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার কিংবা জেল গেটে গ্রেফতার চলছেই। গতরাতে সেহরীর কিছুক্ষণ আগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসায় ডিবি পরিচয়ে পুলিশের তল্লাশীর নামে তাণ্ডব চালায়। জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ইলিয়াস আলীর অসুস্থ স্ত্রীকে দরজা খোলার জন্য বলে। আতঙ্কিত হয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা আমাকেসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ফোনে আকুতি জানাতে থাকেন। পরে ইলিয়াস আলীর বাসার সামনে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে ইলিয়াস আলীর বাসার বাইরে অবস্থান নেয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়া ব্যক্তিরা চলে যায়।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি সরকারি সাদা পোশাকধারী বাহিনীর কাপুরুষচিত সন্ত্রাসী ভুমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে গাজীপুরের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় গাজীপুর এলাকার সংসদ সদস্য ও সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উদ্দেশে তিনি এ নির্দেশ দেন। যা আজ সকল গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা নির্বাচন আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নির্বাচন কমিশনকেও প্রভাবিত করবে। অবৈধ ক্ষমতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী আইন কানুনও মানতে রাজি নন। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মোড়লগিরি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার হায়দার আলী, চেয়ারপারসনের উপদেস্টা কবির মুরাদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন

যুদ্ধাপরাধীদের এমপি-মন্ত্রী বানিয়ে গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়ার ঘটনায় মানহানি এবং ভুয়া জন্মদিন পালনের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রদান এর অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ডিভিশন বেঞ্চ থেকে জামিন আবেদনের জন্য অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার (২২ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা এই আবেদন দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর এবি সিদ্দিকী স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার মানহানির অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালে জোট সরকার গঠনের পর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেন। এতে সমগ্র জাতির মানহানি হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান এই মামলায় প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০১৭ সালে ১২ নভেম্বর এই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে সেই পরোয়ানা তামিল করা হয়নি। সবশেষ ১৭ মে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও আদেশ না দিয়ে আগামী ৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বিচারিক আদালত।

অন্যদিকে, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালনের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট সাংবাদিক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অপর মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজহারে বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তার ৪টি জন্মদিন পাওয়া গেলেও ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন মর্মে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি ৪টি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী তথা জাতীয় শোক দিবসে ঘটা করে জন্মদিন পালন করছেন।

এই মামলায় ২০১৬ সালে ১৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে তামিল করা হয়নি। সবশেষ ১৭ মে এই মামলায়ও খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও আদেশ না দিয়ে আগামী ৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বিচারিক আদালত।এই দুই মামলায়ই এখন জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হলো।

রাজিবের ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত, দোষীকে চিহ্নিত করতে তদন্তের নির্দেশ

দুই বাসের চাপায় হাত হারিয়ে মারা যাওয়া রাজিবের দুই ভাইকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। তবে এ ঘটনায় তদন্ত করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

এ দুর্ঘটনার জন্য কে কতটুকু দায়ী তা নির্ধারণ করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কমিটিকে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের আলোকে হাইকোর্ট রাজীবের দুই ভাইকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেবেন।হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে বিআরটিসির করা আবেদন নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার (২২ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে স্বজন পরিবহনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু ও বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজিদ। অপরদিকে রাজীবের পরিবারের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

গত ৮ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের নেতৃত্বহীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দেয়ার নির্দেশ দেন। বিআরটিসি ও ‘স্বজন পরিবহন’কে প্রাথমিক পর‌্যায়ে ২৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে প্রথমে আপিল দায়ের করে বিআরটিসি। এরপর তাতে সংযুক্ত হয় স্বজন পরিবহন। ওই আপিলের শুনানি শেষে আজ এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

গত ৩ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে দুইবাসের রেষারেষিতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীব মারা যায়।

গত ৪ এপ্রিল রাজীবের দুর্ঘটনায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালত ওই রিটের প্রেক্ষিতে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন।

জনপ্রিয়

গরম খবর