রবিবার, জানুয়ারি ২০, ২০১৯
Home Blog Page 66

তফসিলের আগেই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসবে আওয়ামী লীগ

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসার ইঙ্গিত দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের আজকের সভায় অনির্ধারিত এক অলোচ্যসূচিতে ড.কামাল হোসেনেরে চিঠির ইস্যু আলোচিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার দরজার কারও জন্য বন্ধ থাকে না। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আমরা সংলাপে বসবো। আমরাও সম্মত।’

সোমবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের পক্ষে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কারো কাছে নতিস্বীকার করে না। সংলাপের জন্য কোনো পূর্বশর্তও নেই। এ সংলাপ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেও হতে পারে। আমরা, আমাদের নেত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবে সম্মত; এর মধ্য দিয়ে আমরা সংলাপে বসার ব্যাপারে সম্মতি জানাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুষ্ঠানের জন্য তারা ( ঐক্যফ্রন্ট) তাদের চিঠিতে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছে, সেই সঙ্গে তারা সাত দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্য জুড়ে দিয়েছে। তবে আমি বলতে চাই সংলাপের জন্য আমরা কোন পূর্বশর্ত জুড়ে দেব না। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে সংলাপে ডাকিনি। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপ করতে চান, আমাদের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কারো জন্য সংলাপের দরজা বন্ধ করে দিতে চান না। আমি আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে সে কথা জাতিকে জানালাম।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দলের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ঐক্যফ্রন্ট একটি চিঠি দিয়েছে। আমাদের অফিস সেক্রেটারী দলের পক্ষে সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন। তাদের একটি প্রতিনিধি দল চিঠি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। চিঠিটিতে ঐক্য ফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিটি আওয়ামী লীগ সভাপতি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো হয়েছে, যেটাতে গণভবনে ঠিকানা রয়েছে। চিঠির ভিতরে কি আছে সেটা ইতিমধ্যে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে।’

রবিবার (২৮ অক্টোবর) নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচনসহ ঘোষিত ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য সম্বলিত একটি চিঠি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছে দেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার কাছে দেয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়।

জরুরি বৈঠকে বসছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির নেতারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দলের করণীয় ঠিক করতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দলটির স্থায়ী কমিটির নেতারা।

সোমবার(২৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, সোমবার বিকেল ৫টায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব জরুরি সভা করবেন।

উল্লেখ, সোমবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান

খালেদার রায় প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে ফরমায়েশি রায় দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। এই রায়ের প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার সারা দেশের মহানগর ও জেলা শহরগুলোতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দলটি।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) নয়াপল্টনে রায় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই মামলায় বিচারকার্য একেবারে একতরফাভাবে চলেছে। তিনি অসুস্থ হওয়ায় আদালতে আসতে পারেননি। ফলে কারাগারে তাঁর জন্য আদালত স্থাপন করা হয়। তারপর তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই বিচার কাজ চালিয়ে যায়। এখনও তিনি হাসপাতালে আছেন। অসুস্থ অবস্থায় রায় দেয়া আইনবিরোধী।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এবং তাকে রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে বেআইনিভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ ফরমায়েশি রায়। সরকার যা বলছেন আদালতে তার প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা রায় প্রত্যাখ্যান করছি।’

তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকার টিকে আছে। তারা আরেকটি অবৈধ ও একতরফা নির্বাচন দিতে চায়। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি দূরে রাখতে এই রায়।এই সরকার অত্যন্ত সচেতন ও পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। মামলা মোকাদ্দমা দিয়ে বিরোধীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। কিন্তু জনগণ তা মেনে নিবে না।’

ফখরুল বলেন, ‘সরকারের প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চড়ে সারা দেশে ভোট চাচ্ছেন, অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখছে। এই অবস্থায় কখনো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে এই রায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সারা দেশের মহানগর জেলা শহরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সবাইকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহ্বান জানান ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার ৭ বছরের জেল

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪ জনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৭ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান এই রায় দেন।

এ নিয়ে দুই মামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কারাদণ্ড দেয়া হলো। গত একই আদালত গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন।

এ মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য তিনজন হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং মনিরুল ইসলাম খানকে হাজির করা হয়। আর হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই আদালত এই রায় দেন। আদালতে আসামিপক্ষের কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালতে যাওয়ার মতো ফিট না হওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার চলবে বলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

সকাল ৯টার পর কার্যদিবসের শুরুতেই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে আজকে রায় ঘোষণা করতে বাধা কেটে যায়।

উল্লেখ্য, একই আদালত গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের জেল ও জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসার জন্য গত ৬ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খালেদা আদালতে যাওয়ার মতো ফিট নয় তবে রায় আজ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। কিন্তু আদালতে যাওয়ার মতো ফিট না হওয়ার তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রি. জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের আব্দুল্লাহ আল হারুন এতথ্য জানান।

তিনি জানান, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানাতে তার চিকিৎসার্থে গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা একত্রে বসেছিলেন। তবে সদস্যরা দেখেছেন, আদালতের যাওয়ার জন্য শারীরিকভাবে ফিট নন তিনি। ফলে তিনি আদালতে যাচ্ছেন না।’

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার চলবে বলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

সকাল ৯টার পর কার্যদিবসের শুরুতেই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে আজকে রায় ঘোষণা করতে বাধা থাকলো না।

মিলিটারি দিয়ে পাহাড়ের সমস্যার সমাধান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটি রাজনৈতিক সমস্যা। রাজনৈতিক সমস্যাটিকে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসা করতে হবে। মিলিটারি দিয়ে এর সমাধান হবে না। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রোববার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সম্প্রীতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই অঞ্চলে আর কোনো সংঘাত নয়, যেন শান্তি বজায় থাকে। এই শান্তির পথ ধরে আসবে প্রগতি। প্রগতির পথ ধরে আসবে সমৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা দেশ শাসনের সময় পেয়েছেন। এই সময়কালে তিনি তিনবার পার্বত্য চট্টগ্রামে এসেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি আলাদা বোর্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জাতির পিতাকে হত্যার পর আর তা অগ্রগতির মুখ দেখেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের পরপরই ১৯৭৬ সালে এই এলাকা সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিশ বছর ধরে এই এলাকা ছিল অবহেলিত। আমি ভাবলাম এরা আমার দেশের নাগরিক। সুতরাং এদের অবহেলিত রাখা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ১৯৭০ সালে চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘোরার। সব জায়গায় আমি ঘুরেছি। বাছালং যাওয়ার চেষ্টা করি, ছোট হরিণ্যা, বড় হরিণ্যা ঘুরেছি। আমি দেখেছি পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। এখানকার মানুষগুলো সহজ-সরল। সে জায়গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এসে কমিটি করি। তৃতীয় পক্ষের সমঝোতা ছাড়া শান্তিচুক্তি করি। শুধু শান্তিচুক্তি নয়, শান্তিচুক্তির পাশাপাশি ১৮ জন অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। আমরা তাদের চাকরি ও পুনর্বাসন করি। তারা যে দাবি করেছে সে দাবি অনুযায়ী ভারত থেকে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসন করি।

তিনি বলেন, আমরা অধিকাংশ শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। কিছু চুক্তি চলমান আছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, আবাসিক স্কুল, হাসপাতাল মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করেছি। যে সব জায়গায় বিদ্যুত পৌঁছানো যায়নি আমরা সে সব জায়গায় সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি।

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সোমবার

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলবে কিনা – সে বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামীকাল সোমবার।

খালেদার অনুপস্থিতিতেই এ মামলার কার্যক্রম চলবে – মর্মে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে খালেদার করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচাপতির আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন।

আদালতে খালেদা আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, এ কে এম এহসানুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের পক্ষে ছিলন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

আগামীকালই বিচারিক আদালতে এই মামলার রায়ের দিন ধার্য রয়েছে।

এই অবস্থায় রায় দেয়া হবে কিনা – জানতে চাইলে খালেদার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘আগামীকাল বিচারিক আদালতের রায় হবে কিনা-তা নির্ভর করছে আপিল বিভাগের আদেশের উপর।’

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচারিক আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম চলবে মর্মে গত ১৪ অক্টোবর আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

ওই আদেশের ফলে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই মামলার বিচার চলতে বাধা নেই বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে বলে আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান।

ওইদিন আদালত তার আদেশে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর বলেছেন, তিনি বারবার আদালতে আসতে পারবেন না। এরপর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এবং আজও খালেদা জিয়া কারাগার কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, তিনি আদালতে আসতে পারবেন না।

অর্থাৎ আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, খালেদা জিয়া আদালতে আসতে অনিচ্ছুক। অথচ মামলার দুই আসামি প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হননি। এমন অবস্থায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে জামিনে রেখে বিচার চলবে।’

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান।

‘আমরা অবহেলিত মানুষ, গাড়ি চালিয়ে সংসার পরিচালনা করি ‘

আমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে কর্মবিরতিতে গিয়েছি। আমাদের সঙ্গে এখনও সরকারের কোনও প্রতিনিধি যোগাযোগ করেনি। যদি আমাদের আশ্বাস দেয়া হয় তাহলে আমরা যেকোনও মুহূর্তে কর্মবিরতি থেকে সরে আসবো। আমরা সেবাখাতে কাজ করি। আমরা অবহেলিত মানুষ। গাড়ি চালিয়ে সংসার পরিচালনা করি। আমরাতো আইন বাতিল চাইনি, সংশোধন চেয়েছি। বললেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী।

রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার আমাদের কাজ করার সুযোগ দিক। আমরা তো ধর্মঘট করছি না। আমরা কর্মবিরতিতে গেছি স্বেচ্ছায়। সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে আমরা কর্মবিরতি থেকে সরে আসবো। আমরাতো সরকারবিরোধী কোনও আন্দোলন করছি না। যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আমরা সড়ক যোগাযোগ সচলের পক্ষে, অচলের পক্ষে নই।

তিনি আরও বলেন, গেল ২৭ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রত্যেক জেলা থেকে চার তারিখে স্মারকলিপি দিয়েছি। পরবর্তীতে মানববন্ধন করেছি। পরে মহাসমাবেশ থেকে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছি, আমরা কাজ করবো না।

সকাল ৬টা থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত কোনও সংস্থা থেকে কোনও বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কোনও মহল থেকে কেউ এসে বলেনি; আপনারা আসেন, দাবি কি, আমরা বসি এমন কোন আশ্বাস কেউ দেয়নি।

কর্মবিরতির পরিধি আরও বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ৪৮ ঘণ্টার বেশি পরিধি বাড়াবো না। এরপরে সেন্ট্রাল কমিটির সঙ্গে বসে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব। তবে ৪৮ ঘণ্টা দেখি, এর মধ্যে সরকারের কেউ যদি আমাদের সঙ্গে বসে তাহলে আমরা যেকোনও মুহূর্তে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবো।

‘কঠোর কোনও শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন তৈরি করা হয়নি’

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘যারা অবরোধ করছে, তাদের আইন সম্পর্কে ধারণা নেই। শ্রমিকরা আইন না বুঝেই ধর্মঘট করছে।’

রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালে নতুন যোগ দেওয়া বিচারকদের ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের মধ্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, কঠোর কোনও শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন তৈরি করা হয়নি। তারপরও শ্রমিকরা না বুঝে এই অবরোধ করছে। আমি তাদের অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই।

বিভিন্ন জেলায় মামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যে জেলায় মামলা হয় সেই জেলায় বিচারকের মামলার শুনানির অধিকার আছে। সেক্ষেত্রে আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রয়োজনে মামলাটি ঢাকায় ট্রান্সফার করা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট কর্মসূচির ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে এ ধর্মঘট।

ধর্মঘট নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন শাজাহান খান

পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।

রোববার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকরা ধর্মঘটের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আপনি শ্রমিকদের সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি সাংবাদিকদের করা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি জানি না, আমি কিছু জানি না। আমি এটা নিয়ে কিছুই বলবো না। ধর্মঘট নিয়ে কোনও মন্তব্য নয়।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সেখানে সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর কয়েকটি ধারা সংশোধন এবং ৮ দফা দাবি পূরণের আহ্বান জানানো হয়। ঘোষণা করা হয় ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি কর্মসূচি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে আজ রোববার ভোর ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলছে। যা আগামী মঙ্গলবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত চলবে।

আট দফা দাবিগুলো হলো-সড়ক দুর্ঘটনায় সকল মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে। শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা করা যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে। ওয়েস্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল করতে হবে। সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। সকল জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপকহারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে। লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এ মুহূর্তে পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের দাবির বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পরবর্তী সংসদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

রোববার সকালে রাজধানীর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু ভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জনস্বার্থে শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা বাতিলসহ ৮ দফা দাবিতে সারাদেশে শ্রমিকদের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

শ্রমিকদের দেয়া আট দফা দাবিগুলো হলো-সড়ক দুর্ঘটনায় সকল মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে। শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা করা যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে। ওয়েস্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল করতে হবে। সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। সকল জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপকহারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে। লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে রাস্তাঘাটে গণপরিবহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থগামী মানুষ। রাজধানী ঢাকার গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, শাহবাগ, গুলিস্তানসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গণপরিবহন না থাকায় হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন অনেকে।

অপরদিকে গণপরিবহন না থাকার সুযোগে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা দুই তিন গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।

‘আমার লাভ হলো দেশের মানুষের কর্মসংস্থান হবে, চাকরির সুযোগ হবে’

শেখ হাসিনা

আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করেছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী করব। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা যা করি পরিকল্পনা করেই করি।

বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিসিসিআই আয়োজিত বাণিজ্য বিষয়ক সম্মেলন ‘ডেসটিনেশন বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রোববার (২৮ অক্টোবর) এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা ইপিজেড তৈরি করি। উত্তরা ইপিজেডসহ এগুলো সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ কৃষি নির্ভরশীল দেশ। কেবল কৃষি নয়, শিল্পায়ন যাতে হয় সেদিকেও আমরা মনোযোগ দিয়েছি। শুধু শহর নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির দিকেও আমরা নজর দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার ডেল্টা প্লান করেছি। ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে সেই রূপরেখাও আমরা করেছি। এছাড়া ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর একটি। ২০৪১ সালে আমরা ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যাতে হয় সেইদিকেও আমরা মনোযোগী। ব্যবসা-বাণিজ্য গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। গ্রামের তৃণমূল মানুষটা যেন আর্থিকভাবে সক্ষম হয়। শুধু নিজের দেশ না আঞ্চলিক-উপ আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও মাথায় রেখেছি আমরা।

তিনি বলেন, যখন সরকার গঠন করি তখন ছিল বিশ্বব্যাপী মন্দা। আমরা সেই মন্দা কাটিয়ে ৭.৬ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আগামীতে ৮.২৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি হবে। সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী আমরা বিশেষ ১০০ টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এটা বেসরকারিখাতের জন্য। যে জায়গা চাইবেন সে জায়গা দেওয়া হবে। এতে আমার লাভ কী? আমার লাভ হলো দেশের মানুষের কর্মসংস্থান হবে, চাকরির সুযোগ হবে।

জনপ্রিয়

গরম খবর