সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮
Home Blog Page 80

গাজীপুরে নানা সমীকরণ

প্রস্তুত গাজীপুর। এখন রাত পোহানোর অপেক্ষা। মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে একটানা বিকেল চারটা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে।রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তাদের আশ্বাসে ভোটারাও কাকে নগরপিতা করবেন, তা নিয়ে কষছেন নানা হিসাব।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে ৬ জন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। আছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও। সাত মেয়র প্রার্থী যথাক্রমে আওয়ামী লীগের মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমীন (কাস্তে), ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের এডভোকেট জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন (হাত পাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমেদ টেবিল ঘড়ি)।তবে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের মধ্যে।

নির্বাচন ঘিরে নগরীতে ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার থেকে তারা টহল দিচ্ছে। ৬০০ র‍্যাব সদস্য ছাড়াও পুলিশ ও আনসার বাহিনীর ১ হাজার ২৪ জন ভোটে দায়িত্ব পালন করবেন।রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল আরটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারদের মধ্যে ভোটগ্রহণের সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদ আরটিভি অনলাইনকে বলেছেন, যে কোনো মূল্যে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করা হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ এবং নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন।৫৭টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৮৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার একটি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে এক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এবার ওয়ার্ড-ইউনিয়ন আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে বসবেন শেখ হাসিনা

দলের বর্ধিত সভার পর এবার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামী ৭ ও ১৪ জুলাই দুই দফায় আট বিভাগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসার সম্ভাব্য তারিখও নির্ধারণ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রধান। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, নির্বাচনকে উপলক্ষ করেই তৃণমূল নেতাদের সুসংগঠিত করা, নির্বাচনি প্রস্তুতি নিতে শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেবেন। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান শেখ হাসিনা। তাই বর্ধিত সভার আয়োজন। সংগঠনকে গতিশীল করা, দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন করাসহ আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপারে সরাসরি নির্দেশনা জানাতে এবার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের ঢাকায় ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই উদ্দেশ্যে গত ২৩ জুন জেলা, থানা, মহানগর ও পৌরসভার নেতাদের ঢাকায় ডেকে বর্ধিত সভা করে নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন জেলা, থানা, মহানগর ও পৌরসভার নেতাদের ঢাকায় ডেকে বর্ধিত সভা করে নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ওই বর্ধিত সভায় রাজনৈতিক সুফল এসেছে। ফলে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শেখ হাসিনা। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরাও এই বর্ধিত সভায় থাকবেন। তৃণমূল নেতাদের কথা শোনার পাশাপাশি নির্দেশনা দেবেন আগামী নির্বাচনের।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের গতিশীল করা ও আগামী সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিতে আবারও বর্ধিত সভার আয়োজন।’ তিনি বলেন, এই বর্ধিত সভার সম্ভাব্য তারিখ ৭ এবং ১৪ জুলাই। প্রথম দফায় ৪ বিভাগের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বাকি ৪ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন দলীয় প্রধান।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, সংগঠনকে গতিশীল করতে এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে তৃণমূলের নেতাদের সে নির্দেশনা দিতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংগঠনকে গতিশীল ও তৃণমূল নেতাদের উদ্বুদ্ধ করতে এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে।

“শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল”

জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের যত অর্জন সবই আওয়ামী লীগ-বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। শনিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন আমু।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আওয়ামী লীগের আদর্শ, লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিরূপণ করা হয়েছে। জনগণের ওপর বাড়তি কর চাপানো হয়নি। নিত্যপণ্যে বাড়তি শুল্কারোপ হয়নি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে দেশকে পাকিস্তানি ঘরানা করার চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে দেশকে পিছিয়ে দেন। জনগণকে মিথ্যা বলে দীর্ঘ সময় বিএনপি ক্ষমতায় থাকে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দেশকে এগিয়ে নিতে চলেছে।

বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আ.লীগকে বাঁচাতে হবে: কাদের

বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ।

শনিবার আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা শুরু হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ এখন আর ভিখারির দেশ নয়, মর্যাদার দেশ। ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আরেকটি বিজয় ছিনিয়ে আনবে। ঐক্যবদ্ধ অওয়ামী লীগকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মনোনয়ন নিয়ে কেউ প্রাতযোগিতা করবেন না। যে যোগ্য নেতা জরিপে এগিয়ে আছেন, তিনিই মনোনয়ন পাবেন। ৬মাস পর পর জরিপ হচ্ছে সে জরিপ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মনোনয়ন দেয়া হবে। যারা প্রার্থী হবেন তারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবেন না

আজ বিকালে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

আজ রোববার বিকাল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলটির সূত্র জানায়, এ সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে। সেখান স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদকে প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন বিএনপি মহাসচিব।

“সরকারের প্রতি ভোটারদের আস্থা নেই”

ভোটারদের আস্থা অর্জনসহ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এতদিনে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই উপলব্ধি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন যে- তার এবং সরকারের প্রতি ভোটারদের আস্থা নেই।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, লুটপাট, হত্যা-গুম, একের পর এক ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর ভোটারদের আস্থা শুন্যের কোঠায় চলে গিয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর আরেকটু উপলব্ধি করতে পারলে দেশের গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে। সেটি হলো নিজের ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তাহলেই কেবল কিছুটা ভোটারদের আস্থা ফিরে আসতে পারে।

‘বর্তমান সরকার বিএনপির মতো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়’- প্রধানমন্ত্রী এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অকপটে সত্য কথাই বলেছেন। অবশ্যই বিএনপির মতো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে আর আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশালে বিশ্বাস করে। বিএনপি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয়। আর আওয়ামী লীগ ফেনী মার্কা, বিনা ভোটের নির্বাচনে বিশ্বাস করে।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরে সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গ্রেফতার ১২ জনের তালিকা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, কোন অভিযোগ মামলা ছাড়াই তাদেরকে সাদা পোষাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। খোঁজও দিচ্ছে না তাদের যে আটক করা হয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, গাজীপুরে একতরফা নির্বাচন করতে পুলিশ গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একেবারেই নিরব, নিথর, নিশ্চল, চুপ হয়ে বসে আছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানো হলে পুলিশ অভিযান-হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। এখানে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেন এখন দূরের তারা। এই কমিশনের অধীনে কোনো এলাকায় নির্বাচনী মাঠ সমতল হওয়ার সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

“উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে জয়ী করতে হবে”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগেকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন আর ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না। ওরা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ হবে জঙ্গির দেশ।`

শনিবার উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের জন্য এখন থেকেই নেতাকর্মীদের কাজ শুরু করতে হবে। বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে। ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই উন্নয়নশীল বাংলাদেশে উন্নীত হয়েছি। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়েছে। বাংলাদেশের সফলতা আজ বিশ্ব নেতাদের কাছে প্রতিমুহূর্তের আলোচনার বিষয়।

ঢাকা উত্তর বিএনপি সংকট সমাধানে সময় নিয়েছেন মির্জা ফখরুল

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ঘোষিত থানা ও ওয়ার্ড কমিটির সংকট নিরসনে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সংগঠনের বিদ্রোহী নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সময় নেন।

এ সময় মহাসচিব নেতাদের জানান, রোববার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি রয়েছে। সোম ও মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। এই সময়ের মধ্যেই তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিতর্কিত কমিটি গঠনে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেবেন। ৩ জুন ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৫টি থানা ও ৫৮টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জানান, পদবঞ্চিত নেতাকর্মী আর সংগঠনের পদধারী নেতারা মহাসচিবের উত্তরার বাসভবনে দেখা করেন। এ সময় তিনি তাদের কথা শোনেন ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। যুগ্ম সম্পাদক শামীম পারভেজ বলেন, মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেছেন। এসব পকেট কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী, খুনি, দলিল লেখকসহ বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া হয়েছে। তারা বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্য ও ত্যাগীদের দিয়ে কমিটি করার দাবি জানিয়েছেন। মহাসচিব তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

এর আগে বুধবার মহানগর উত্তরের নেতারা মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করে ঘোষিত কমিটির বিতর্কিত নেতাদের এবং বাদ পড়া যোগ্য ও ত্যাগীদের দুটি তালিকা জমা দেন। এর মধ্যে ২৫টি থানায় ১০৭ জন বাদ পড়া নেতার নাম রয়েছে। তারা এই তালিকা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজাহানের কাছেও জমা দেন। রোববার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছাড়াও আরও কয়েকজন নেতার কাছে ওই তালিকা জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আমাদের রাজনীতি নিজেদের ভোগ বিলাসের জন্য না : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের রাজনীতি নিজেদের ভোগ বিলাসের জন্য না। আমরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, সে চিন্তা করাটাই একজন রাজনীতিকের জীবনের বড় সম্পদ। রাজনীতি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, দেশ গড়ার জন্য। আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি।’

শনিবার (২৩ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণভবনে আয়োজিত আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকার প্রধান বলেন, ‘একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষ খুন করেছে। দুর্নীতি করেছে। অত্যাচার করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ মানুষের ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’

এসময় বিএনপির সমালোচনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,বিএনপি গঠনতান্ত্রিকভাবে দুর্নীতিকে দলের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিকেই তারা তাদের গঠনতন্ত্রে নিয়ে এসেছে। তাদের নীতিটাই হচ্ছে- এটা (দুর্নীতিকে) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা।’

তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্রে ছিলো- কেউ যদি দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত হয়, তাহলে চেয়ারপারসন হতে পারবে না। তারা এই গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দুর্নীতিবাজকে রাখতে সেই ব্যবস্থা করছে। এর মাধ্যমে নিজেরাই স্বীকার করেছে- তাদের দলটি দুর্নীতির দল। এই ধরনের দুর্নীতির দল ক্ষমতায় থেকে দেশের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এটা প্রমাণিত সত্য। দুর্নীতি, হত্যা, মানুষ খুন, মাদক- এটাই হচ্ছে তাদের চরিত্র। যে কারণে তারা কখনও দেশের কল্যাণ ও উন্নতি করতে পারেনি।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতায় গিয়ে গঠিত দল জনগণকে কিছু দিতে পারে না। তারা চুরি করতে পারে। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে আজ তাদের নেত্রী জেলে। আবার জেলে যাওয়ায় তার অবর্তমানে এমন একজনকে চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ করলো, যে দুই-দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। একটিতে ৭ বছর অন্যটিতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।’

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা অক্টোবরে : ইসি সচিব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে আজ শনিবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব এ কথা বলেন।

হেলালুউদ্দীন বলেন, ‘বাসাইল পৌরসভা একটি ছোট পৌরসভা হলেও নির্বাচন কমিশন প্রত্যেকটি নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাসাইল পৌরসভাসহ সিটি নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী ৩০ জুনের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। ইতিমধ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’

বাসাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমীনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, র্যা ব-১২-এর সিপিসি-৩ কমান্ডার মেজর রবিউল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না, বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান প্রমুখ।

বাসাইল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। পৌরসভার ১০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪০০। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৯২৫জন। ২০১৩ সালে এই পৌরসভায় প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, শান্তিময় আগামীর পথে গৌরবোজ্জ্বল অভিযাত্রা

আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

শান্তিময় আগামীর পথে গৌরবোজ্জ্বল অভিযাত্রা

অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন

২৩ জুন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ গতানুগতিক ধারার কোনো সংগঠন নয়। এই সংগঠন মানুষকে শুধু স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষান্ত হয় না, স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নও ঘটায়। বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাঙালির যা কিছু মহৎ অর্জন সবই অর্জিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।

১৯৪৭ সালে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি পৃথক ভূ-খন্ড নিয়ে একটি অবাস্তব ও কৃত্রিম পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। এই দুই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাষা-সংস্কৃতি এবং নৃ-তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে কোনো মিল ছিল না। বাঙালি বিদ্বেষী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকৃতি জানিয়ে উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চায়। সারাদেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। এরই পটভূমিতে তরুণ শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র ৪ মাস ২০ দিন পর ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব বাংলায় প্রথম সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ আত্মপ্রকাশ করে।

দীর্ঘ শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই সংগঠন সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা পালন করে। মুসলিম লীগের দুঃশাসন ও দমননীতির মুখে এক প্রবল বৈরী পরিবেশে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে এক কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে আওয়ামী লীগের। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, টাঙ্গাইলের শামছুল হক সাধারণ সম্পাদক ও জেলে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অচিরেই আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার মানুষের স্বার্থরক্ষাকারী প্রধান রাজনৈতিক শক্তি।

১৯৫৩ সালের ৩, ৪ ও ৫ জুলাই ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সংগঠনের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। যদিও এই নামের ব্যাপারে জেলে থাকাবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। যার প্রমাণ বঙ্গবন্ধুর লেখায় পাওয়া যায়। ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে তিনি বলেছেন- ‘আমি মনে করেছিলাম, পাকিস্তান হয়ে গেছে, সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে, যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে। ভাবলাম সময় এখনও আসে নাই, তাই যারা বাইরে আছেন চিন্তা-ভাবনা করেই করেছেন।’ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র পরাজয়ের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই যেন জন্ম হয়েছিল এই আওয়ামী লীগের।

১৯৪৮ সালের ২ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আরও গতিশীল হয়। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদার জন্য আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ অনেকে। এরপর ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ ৬-দফা পেশ করেন। বঙ্গবন্ধুর ৬-দফা ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১-দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সামরিক শাসকগোষ্ঠী নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমস্ত পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মুক্তির দিশারী হিসেবে দেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। বাঙালিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এই আন্দোলনে দেশের মানুষ অভূতপূর্ব সাড়া দেয়। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ৯ মাস লড়াই- সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিজয় অর্জন করি। বাঙালি জাতির দীর্ঘ এই সংগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছে। রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে মানুষের অধিকার আদায় করেছে।

১৯৭৪ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বলেছিলেন- ‘কত চেহারা ভেসে ওঠে আমার সামনে। কত ত্যাগী কর্মী কারাবরণ করেছে। কত ভাই, কত সহকর্মী শহীদ হয়েছে। তাদের সঙ্গে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে দিন কাটিয়েছি। কত দিন আন্দোলন করতে গিয়ে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি। তাদের কথা স্মরণ না করলে অন্যায় হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ গড়ার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে জাতিকে সংবিধান উপহার দেওয়া হয়। সেই সংবিধান অনুযায়ী ১৯৭৩ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপ থেকে বাংলাদেশ যখন সম্ভাবনার দিকে পা বাড়াতে শুরু করে তখন জাতির পিতাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়। আইনের শাসন রুদ্ধ হয়। অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যায়। জাতির বুকে চেপে বসে সামরিক শাসন ও স্বৈরতন্ত্রের জগদ্দল পাথর। কায়েম হয় অন্ধকারের রাজত্ব। শুরু হয় হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি।

চরম সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু- কন্যা শেখ হাসিনাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘ ৬ বছরের নির্বাসন জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু-কন্যার নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। শুরু হয় বাঙালির ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার নবতর সংগ্রাম। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আন্দোলন-সংগ্রাম জীবনদানের পর দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভদিনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এই সময় দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় ফিরে আসে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদকে সকল করকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়। ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত পানি বণ্টন চুক্তি করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি করে দীর্ঘ দিনের হানাহানি রক্তপাত বন্ধ করা হয়। আইনের শাসন চালু হয়। ২১ শে ফেব্রুয়ারি মর্যাদা পায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের। বঙ্গবন্ধু-কন্যা’র নেতৃত্বে এই পাঁচ বছরের সময়কাল জাতির ইতিহাসে এক সূবর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০০১ সালে বিএনপি-জামাতের ক্ষমতায় আরোহণের মাধ্যমে দুর্বৃত্ত কবলিত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দেশ পরিণত হয় মৃত্যু উপত্যকায়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে নারী নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়। বিএনপি-জামাত জোট আমলে সারাদেশে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়। নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার অপরাধে আওয়ামী লীগ নেতা- কর্মীসহ সংখ্যালঘুদের ভিটে-মাটি ছাড়া করা হয়। দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটানো হয়। এসময় হাওয়াভবন কেন্দ্রিক লুটপাটের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়। বিএনপি-জামাত দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পছন্দের লোকের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গিয়ে বিএনপি-জামাত সরকার দেশে এক জটিল অবস্থা তৈরি করে। যার ধারাবাহিকতায় দেশে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অযৌক্তিকভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে। তাকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তীব্র জনমতের কাছে ষড়যন্ত্রকারীরা পরাস্ত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। সকল দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা আবারও সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পান।

প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ৯ বছরে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের আর্থ- সামাজিক অবস্থা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমরা এখন স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ কখনই লক্ষ্য নির্ধারণ করে বসে থাকে না। লক্ষ্যপূরণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি দিয়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করে। কোন কোন মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতের মতো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে তৎপরতা চালাচ্ছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ জনগণকে সাথে নিয়ে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বদ্ধ পরিকর। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ শান্তিময় বাংলাদেশ রেখে যেতে যান। সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে স্বাগত জানাই।

লেখক : তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

গাজীপুরের নির্বাচন দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘গাজীপুরের নির্বাচনে অসম্ভব জনসমর্থন রয়েছে ধানের শীষের পক্ষে। এই নির্বাচন হবে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য একটা এসিড টেস্ট। আমরা দেখবো তারা কী করে। যদি খুলনা স্টাইলে নির্বাচন করে তাহলে গাজীপুরে এর পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।’

তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের নির্বাচনের পরে আমরা ঠিক করবো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো; বাকি তিন সিটি বরিশাল, সিলেট এবং রাজশাহীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কি-না।’

শনিবার (২৩ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব জানান।

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের পরে আমরা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কিনা। আমরা মনোনয়ন দেবো, সবকিছুই করবো। কিন্তু গাজীপুরের নির্বাচন দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো। নির্বাচনের সময় খুব বেশি একটা নেই। সুতরাং এখন সময় এসেছে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা মামলা প্রতিহত করার শক্তি অর্জন করতে হবে।’
সরকারের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, ‘যতই আটকিয়ে রাখেন কোনও লাভ হবে না। একদিন খালেদা জিয়াকে ছাড়তেই হবে। আমরা তাকে নিয়েই নির্বাচনে যাবো।’

নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সাবেক চিফ হুইপকে পেটানোর পরও গাজীপুরের এসপি হারুনের প্রমোশন হয়েছে। তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি করলেও নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি। যে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে একজন এসপিকে বদলি করতে পারে না, সে কমিশনের ওপর কীভাবে মানুষ আস্থা রাখবে।’

আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালেরও ষড়যন্ত্র করতে পারে এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারাতে চাইবে না,হারলে তারা যে লাখ লাখ কোটি টাকা বানিয়েছেন, মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন সবকিছু ধরা পড়ে যাবে। সেই ভয়ে তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চাই। যে কারণে, যে চেতনায় বাংলাদেশের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম সেটা ফিরে পেতে চাই। পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেই জন্যই আজকের আন্দোলন। কোনো বিশেষ দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এই আন্দোলন নয়।’

জনপ্রিয়

গরম খবর