কৃষিবিদ পরিচয়কে আরো বেশি গর্বের করতে কাজ করবোঃ এ এম এম সালেহ

0
559
কৃষিবিদ এ এম এম সালেহ
কৃষিবিদ এ এম এম সালেহ

কৃষিবিদ পরিচয়কে আরো বেশি গর্বের করতে কাজ করবোঃ এ এম এম সালেহ

কৃষিবিদদের পেশাজীবী সংগঠন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ২০১৭-১৮ বছরের কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি পদে আওয়ামীপন্থী কৃষিবিদদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী এ এম এম সালেহ (আবু মুজাফফর মোহাম্মদ সালেহ) নির্বাচিত হয়েছেন। পলিটিক্সনিউজ২৪.কম এর কথা সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তার রাজনৈতিক জীবন , কৃষিবিদদের নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা  ও অন্যান্য নানা বিষয়ে কথা বলেন ।

কৃষিবিদ এ এম এম সালেহ
কৃষিবিদ এ এম এম সালেহ

পলিটিক্সনিউজঃ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অনুভূতি কেমন?

এ এম এম সালেহঃ পেশাজীবী রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিনযাবৎ জড়িত। আওয়ামী প্যানেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই ১৯৯২ সালে। প্রকৃচি ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ৪ বছর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব এবং জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতির দায়িত্ব ৪ বছর পালন করেছি। বর্তমানে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। অনেক ভালো লাগছে। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় মনে হচ্ছে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছতে পেরেছি।   বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম কে ধন্যবাদ , আমাকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য। সকল কৃষিবিদ,  বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ এবং কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

পলিটিক্সনিউজঃ রাজনীতিতে আপনার আদর্শ এবং অনুপ্রেরণা কে?

এ এম এম সালেহঃ রাজনীতিতে আমার আদর্শ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কলেজে থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে এবং তিনবার কোলাকুলি করার সৌভাগ্য হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আমার নাম জানতেন কিনা জানিনা, তবে আমার চেহারা চিনতেন । বঙ্গবন্ধুর আদর্শই আমার রাজনীতির আদর্শ।

জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা আমার  রাজনীতির অনুপ্রেরণা । শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি, রাজনীতির মিশন, ভিশন আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

পলিটিক্সনিউজঃ রাজনীতির সাথে কবে থেকে এবং কিভাবে ?

এ এম এম সালেহঃ স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতিতে ছিলাম। ধামরাই যাদবপুর বি এম হাই স্কুলে নবম শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়ে ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। স্কুল জীবন শেষ করে কালিয়াকৈর কলেজে ভর্তি হই। সেখানে তখন ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদের রাজনীতির দাপট। ছাত্রলীগের রাজনীতি শক্তিশালী করার জন্য কাজ শুরু করি এবং ফলশ্রুতিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে আমরা জয়ী হই।

পলিটিক্সনিউজঃবিশ্ববিদ্যালয় জীবনের রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাই।

এ এম এম সালেহঃ কলেজ জীবন শেষে ভর্তি হই বাংলাদেশ কৃষি ইন্সিটিউট  , বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ।  বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় তখন জিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন শুধু জিয়ার রাজনীতি, ছাত্রদলের রাজনীতি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বিচার সবসময় চাইতাম এবং জানতাম বিচার  হতে হলে আওয়ামী রাজনীতিকে অবশ্যই  শক্তিশালী করতে হবে।  জিয়ার  বিরুদ্ধ রাজনীতি করা পাহাড় ঠেলার মতো অবস্থা ছিল। ১৯৭৫ এর পরে আমিই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি হই। সেই প্রতিকূল অবস্থাতেই ছাত্রলীগের রাজনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য নিজেকে উজাড় করে দেই, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ক্যারিশমায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমি সভাপতি পদে নির্বাচিত হই এবং পূর্ণ প্যানেলে ছাত্রলীগ জয়লাভ করে ।  জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় বাংলাদেশের কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমরাই ছাত্রলীগের পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হই। শেখ হাসিনা তখন মাত্র দেশে এসেছিলেন। আমরা বিশাল রিকশা মিছিল নিয়ে তাকে ফুল দিতে যাই। মিছিলের এক মাথা ছিল ধানমন্ডি ৩২ আরেক মাথা আসাদগেট । তখনকার সব পত্রিকায় এই মিছিলির খবর এসেছিল।  এরশাদের মার্শাল ল’র সময় রাজনীতি করা আরো কঠিন হয়ে পড়ে। আমাকে তখন ১৮ টি মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

পলিটিক্সনিউজঃ কৃষিবিদ  ইনস্টিটিউশনের রাজনীতির সাথে কিভাবে এবং কবে থেকে?

এ এম এম সালেহঃ বাংলাদেশ সুগার মিল কর্পোরেশনে পেশাজীবন শুরু করি। তারপর কৃষি ব্যাংকে ৪ বছর এবং একটি প্রাইভেট ব্যাংকে ৮ বছর ছিলাম। ব্যাংকের গুলশান শাখার ম্যানেজার থাকাকালীন অবস্থাতে দলীয় প্যানেলে ১৯৯২ সালে আমি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই।

পলিটিক্সনিউজঃ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন এবং কৃষিবিদদের নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা কি?

এ এম এম সালেহঃ কৃষিবিদরা এখন অনেক সংগঠিত । বর্তমানে ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড কৃষিবিদ আছেন। পর্যায়ক্রমে সকলকে আমরা একটি অনলাইন ডাটাবেসের আওতায় আনব।  আমাদের জেলা কমিটিগুলকে এই ডাটাবেসের আওতায় আনার মাধ্যমে আমরা এই কাজ শুরু করবো। প্রতিমাসে আমরা সেমিনার আয়োজন করবো। আমাদের একটি আন্তর্জাতিক জার্নাল আছে। আগামী একশ দিনের মধ্যে আমরা তা প্রকাশের ব্যবস্থা করবো এবং প্রতি ৬ মাস পর পর প্রকাশের ব্যবস্থা করবো। বিদেশে বিশেষ করে আমেরিকা , কানাডা , অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের অনেক কৃষিবিদ আছেন। আমরা বিদেশে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের শাখা খুলবো ।

কৃষিবিদদের মানের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কৃষিবিদ পরিচয় দিতে কৃষিবিদরা গর্ববোধ করেন । সার্বিকভাবে  কৃষিবিদদের মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং কৃষিবিদরা যাতে কৃষিবিদ পরিচয় দিতে আরও বেশি গর্ববোধ করেন সেই লক্ষ্যে কাজ করবো।

পলিটিক্সনিউজঃ আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এ এম এম সালেহঃ পলিটিক্সনিউজকেও ধন্যবাদ। 

(সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পলিটিক্সনিউজের প্রকাশক সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলক)