খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন: নাসিম

34

বিএনপিকে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো রাজনীতি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন

 ‘বিএনপিকে বারবার অনুরোধ করছি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো রকম রাজনীতি যেন না করে। খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।’

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কারাগারে এক সময় চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। তখন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আইনমন্ত্রী ছিলেন। যাই হোক আমি সে প্রসঙ্গে বলতে চাই না।যদি আপনারা (বিএনপি নেতারা) বলেন সরকারের চিকিৎসার উপর আস্থা নেই। একথা মওদুদ সাহেবের মতো বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে বলা ঠিক হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খালেদা জিয়া একজন জাতীয় নেত্রী। অত্যন্ত সম্মানিত নেত্রী। আদালতের নির্দেশে তিনি আজকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কারাগারে আছেন। এটি আমরা কেউ না চাইলেও আদালতের নির্দেশেই তাকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। আমি সবময়ই মনে করি তিনি আদালতের নির্দেশেই মুক্তি পাবেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, যেহেতু বেগম জিয়া কারাগারে আছেন। তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বয়স্ক মহিলা, সে হিসেবে কারাগার জীবন তো সুখকর নয়। সুস্থ-অসুস্থ সব শ্রেণীর মানুষের জন্যই কারাগার অনেক কষ্টকর। যেহেতু তিনি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই কারাগারে আছেন। তাই যতদূর সম্ভব আমাদের দায়িত্ব তার নিয়মিত চিকিৎসা করা এবং তাকে সুস্থ রাখা।

নাসিম বলেন, কিন্তু একটি বিষয় মাঝে মধ্যেই বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর তাদের কোনো আস্থা নেই। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ তিনি নিজেও জেলে ছিলেন। আমিও তার সাথে ছিলাম। তিনি জানেন জেলে থাকলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিতে হয়। সেখানে আমি চিকিৎসা নিয়েছি, উনিও নিয়েছেন। এখানে বিএনপি নেতাদের এভাবে কথা বলা ঠিক নয়। এখানে খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন সরকারেই দায়িত্ব তার চিকিৎসা করানোর।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারের আমলে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা পাবেন না, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। এ কথাটি বলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা জানেন আমাদের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আগে থেকেই বেশকিছু রোগে ভুগছিলেন। তার জন্য গঠিত চিকিৎসক প্যানেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৭ তারিখে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কয়েক ঘণ্টা বেশকিছু চিকিৎসাসহ কতগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। আমি ধন্যবাদ জানাই বেগম জিয়াকে তিনি এ কাজে অত্যন্ত সহযোগিতা করেছেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ইচ্ছে অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডের বাইরেও চিকিৎসকরা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল যেহেতু একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে চিকিৎসা ভালো।

এখানে একটি কথা অত্যন্ত পরিষ্কার। জেল কোডের বাইরে তো কাউকে আপনি চিকিৎসা দিতে পারেন না। এ সুযোগও তো নেই। একমাত্র জেলকোড মেনে মেডিকেল বোর্ডের নির্দেশনা মেনে তাকে চিকিৎসা নিতে হবে। সেভাবেই সর্বোত্তম চিকিৎসা তার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, জেলকোড অনুসারে অনেক সময় জেলে বা বাইরেও চিকিৎসা করা হয়। এটা সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইজি প্রিজন কর্তৃপক্ষ। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মনে করি বেগম জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে কোনো অবহেলা করা হচ্ছে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিভাগের সচিব মো: সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত গঠিত প্যানেলের চিকিৎসকরা।