নির্বাচন কমিশনের সাথে জাগপার সংলাপ অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রস্তাবসমূহ- নিবন্ধন নং- ৩৬
১. বাংলাদেশের নাগরিক অবসরপ্রাপ্ত/সাবেক সরকারি কর্মকর্তা/সাবেক বিচারপতি এবং দেশের বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে সৎ, গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় ব্যক্তি দ্বারা সরকার গঠিত হতে পারে। ২. নির্বাচনকালীন সরকারের শপথ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচনী ব্যবস্থা অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচনী ব্যবস্থা করলে দেশে পূর্বের ন্যায় সহিংসতা, গণহত্যা, নৈরাজ্য, কালো টাকা, জাল ভোট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মত হীন কর্মকা- বৃদ্ধি পেতে পারে। সুতরাং নির্বাচনকালীন সময়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। ৩. ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান থাকায় ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, ভোটার অনুপস্থিতি, বিনা ভোটে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া গণতান্ত্রিক পন্থাকে ব্যাহত করছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান থাকলে দেশের ভাবমূর্তি ও নির্বাচনী ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। সুতরাং নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা বাতিল করে ৩ মাসের অবকাশকালীন ছুটি দেওয়া যেতে পারে। ৪. ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির সাথে ১০ম জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখার জন্য রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও সহযোগিতা চাইতে বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি সকল বিবেচনা করে বিরোধীদলের নেত্রীকে আশ্বস্ত করেছিলেন সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে পারবেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তার সিদ্ধান্ত ও সদিচ্ছা পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তার প্রতিও জনগণের আস্থা নেই এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। সুতরাং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বহাল থাকলে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে নির্বাচন কমিশনারকে অধিক ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। ৫. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নির্বাচনের ৩০ দিন পূর্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং সেনাবাহিনীর মেজিষ্ট্রিসি ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। ৬. নির্বাচন কমিশনকে অধিক ক্ষমতা প্রদান ভোটার তালিকা হালনাগাদ, তালিকা যাচাই-বাছাই ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে হবে। যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন। ৭. প্রচার মাধ্যমে সমতাভিত্তিক প্রচার দিতে হবে এবং সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের সুবিধা ও নিরাপত্তা বাতিল করতে হবে। ৮. জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রদবদল করে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। ৯. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমতুল্য সেনাবাহিনীর প্লাটুন অনুযায়ী একজনকে নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। ১০. ১/১১’র কর্মকা-ের সাথে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ও বর্তমান সরকারের শাসনামলে অতিউৎসাহী পুলিশ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের উপর যে হীন কর্মকা- চালিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে তাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকা- থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন। ১১. গণমাধ্যম কর্মীদের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার দিতে হবে। অতীতের নির্বাচনী ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকারে বাধা, শারীরিক নির্যাতনসহ মানসিক চাপ প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। সুতরাং ভবিষ্যতে নির্বাচনে গণমাধ্যমকে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে আইন করা প্রয়োজন। ১২. ইলেকট্রনিক ভোটিং (ইভিএম) পদ্ধতি বাতিল করা প্রয়োজন। সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম দেশ আমেরিকা, সুইজারল্যা-, রাশিয়া, চীনসহ অনেকগুলো দেশে ইলেকট্রনিক মেশিনে ভোট জালিয়াতি, হ্যাকিংসহ নানান অভিযোগ প্রমাণিত। বাংলাদেশের জন্য এই পদ্ধতি ব্যয়বহুলও বটে। তাই এ পদ্ধতি বাতিল করা প্রয়োজন। ১৩. নির্বাচনকালীন সময়ে ইসিকে অধিক ক্ষমতা প্রদান ও চাপমুক্ত রাখা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন যদিও একটি ক্ষমতাসীন দলের বিশেষ ক্ষমতায় নিয়োগ পেয়ে থাকেন, তাই নির্বাচনকালীন সময়ে ইসি অধিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু কোন বিশেষ দলের ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রয়োগ না করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অঙ্গীকারবন্ধ হতে হবে এবং অধিক ক্ষমতা কমিশনকে দিতে হবে। ১৪. জাল ভোট প্রতিরোধ ও প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন জাগপা’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সহ সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, মো. হাসমতউল্লাহ, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন শিল্পী, শেখ জামাল উদ্দিন, ভি.পি মজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল হুমায়ুন কবির, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা কামাল, যুব বিষয়ক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মোড়ল প্রমুখ।

 
প্রকাশক: সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলক
সম্পাদকঃ মাহসাব হোসাইন রনি
বার্তাকক্ষঃ ০১৭১১-৪৬০৬০১ | ই-মেইলঃ news.politicsnews24@gmail.com
 
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি