উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় ভোট চলছে খুলনায়

35

উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে ভোট চলছে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি)। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টায় নগরীর ২৮৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। কোনও বিরতি ছাড়াই বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে জানা যাবে কে হচ্ছেন খুলনার পরবর্তী নগর পিতা।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত রোববার বিকাল থেকে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নামে।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মো. মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

তাছাড়া মহানগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা রয়েছেন ৪ হাজার ৯৭২ জন। এ নির্বাচনে ২৮৯টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে দুটি ভোট কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হচ্ছে। এ দুটি কেন্দ্রের ১০টি বুথে ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দুই হাজার ৯৭৮ ভোটার। কেসিসি নির্বাচনের রিটার্র্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, কেসিসি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন বলেন, নির্বাচনে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টি ভোট কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে আজ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিজিবি, এপিপিএনের প্রায় ১০ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনা সিটি করপোরেশন হওয়ার পর প্রথম দুটি নির্বাচনে মেয়র হন বিএনপি থেকেই। তবে ২০০৮ সালে তৃতীয় নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনেন আওয়ামী লীগের খালেক। এই নগরীর দৃশ্যমান বেশিরভাগ উন্নয়নই খালেক মেয়র থাকাকালেই হয়েছে। তবে ২০১৩ সালে বিএনপির মনিরুজ্জামান মনির কাছে ৬১ হাজার ভোটে হেরে যান তিনি।

খুলনা সিটি কররেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর হবে নারী ও তরুণ ভোটাররা। এ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ৫২ হাজার ৫২৭ তরুণ ভোটার হাতেই আগামী দিনের নগরপিতার ক্ষমতার চাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তারাই কেসিসি নির্বাচনের ফলাফলে মূল ভূমিকা পালন করবেন। অপরদিকে প্রায় ৮০ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন এই সিটিতে। ভেটের ফলাফলে তাদের গুরুত্বও অনেক। একই সাথে ২৫ হাজার পাটকল শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ভোটররাও প্রভাব ফেলবে জয়-পরাজয়ে।

গত ৩১ মার্চ কেসিসি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয় ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। ১৫-১৬ এপ্রিল হয় যাচাই-বাছাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ২৩ এপ্রিল। এদিন আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন প্রার্থীরা।