জাবিতে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রেখেছেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ

41

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্যের কার্যালয় অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনরত শিক্ষকরা। শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার, অ্যাক্ট বিরোধী স্ট্যাটিটিউট, সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ ও প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণের দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

সোমবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। যা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। অবরোধের কারণে সকালে কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিজ নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। এতে বন্ধ রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। নিজ কার্যালয়ে আসেননি উপাচার্য প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলামও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। উপ উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন (প্রশাসন) বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাব।’

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ধর্মঘটের ডাক দেন জাবি আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের একটি গ্রুপ সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির পক্ষ। ওই দিন ভোর চারটার দিকে তার অনুসারী পাঁচ জন শিক্ষক পরিবহন ডিপোর সামনে অবস্থান নিয়ে তারা ডিপোর ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

ঘটনা জানতে পেরে সাড়ে ৪টার দিকে ফারজানা ইসলামের অনুসারী শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন উভয়পক্ষের শিক্ষকরা।

এ ঘটনা সম্পর্কে উপাচার্যকে জানাতে আন্দোলনকারী প্রায় ১৫ জন শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনে দেখা করেন। তারা প্রভোস্ট নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় উপাচার্য শিক্ষকদের বলেন, প্রভোস্টদের মেয়াদ শেষ হয়েছে বিধায় তাদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন প্রভোস্ট সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে আসলেও তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এখানেও দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে সাড়ে ১১টায় ফারজানা ইসলামপন্থী শিক্ষকরা আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে বিচার দাবি করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানবন্ধন করেছেন।