কোটা সংস্কার সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়; এখন প্রশ্ন আনার দরকার কী?

38

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা সংস্কার ছাত্রদের বিষয় না এটা সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়। ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়ে এখন প্রশ্ন আনার দরকার কী? আজ বুধবার বিকেল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন।

কোটা প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্ররা দাবি করেছে, সেটি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন হা-হুতাশের কী আছে?’সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জেলা কোটাও বাতিল হয়ে গেছে। এখন পিছিয়ে পড়া বলে কেউ অভিযোগ করতে পারবে না। আন্দোলনের সময় অনেকের ছবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, এখন কেউ এসে পিছিয়ে পড়া হিসেবে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ করতেও পারবে না।

এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী জানান, ছাত্ররা যেহেতু এই কোটা চাচ্ছে না, তাই তিনি তা না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই আন্দোলন যে যুক্তিযুক্ত ছিল না, সেই বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের কথা বলেন। কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে আসছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; তবে প্রজ্ঞাপন না পেয়ে হতাশ আন্দোলনকারীরা।

এরপর গত ২৭ এপ্রিল আন্দোলনকারী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তার ঘোষণা কীভাবে কার্যকরে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।বিদেশ সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রধানমন্ত্রী আবার জানালেন সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না। তবে প্রজ্ঞাপন কবে জারি হবে এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানাননি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।