পাসের হার কম মনে হলেও সেটা খুব হতাশাজনক না: প্রধানমন্ত্রী

32

এরাই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সুশিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত হবে। তারা দেশের কর্ণধার হবে। সেটাই আমাদের কামনা। তারা যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটাই আমরা চাই। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা পাস করেছে তাদের ব্যাপারে এভাবেই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পাসের হার কম মনে হলেও সেটা খুবই হতাশাজনক না।

রোববার (৬ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের অনুলিপি তুলে দেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন তিনি।

যারা পাস করেছে তাদের অভিনন্দন জানিয়ে, যারা পাস করতে পারেনি তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা হতাশ হবে না। আর একটু মনোযোগ দিতে হবে পড়াশোনায়। যাতে ভবিষ্যতে পাস করতে পারো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে পারলেই, একদিকে যেমন পরিবারের মুখ উজ্জ্বল হয় সেই সঙ্গে আমার দেশের মুখও উজ্জ্বল হয়। আর আমরা তো আস্তে আস্তে বৃদ্ধ হয়ে গেছি। কাজেই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম তারা সুশিক্ষিত হবে। উচ্চশিক্ষিত হবে। তারা দেশের কর্ণধার হবে। সেটাই আমাদের কামনা। তারা যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটাই আমরা চাই।’

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৭৭.৭৭ শতাংশ এর আগে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরও বলেন, ‘লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে পারলে একদিকে যেমন পরিবারের মুখ উজ্জ্বল হয়, সেই সঙ্গে আমার দেশের মুখও উজ্জ্বল হয়।’

‘জাতির পিতা আমাদেরকে দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন।এই দেশকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামক্তু দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে । তার জন্য জাতির পিতা বলেছিলেন, সোনার বাংলা গড়ার জন্য, সোনার ছেলে চাই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা খুবই ভাল করছে। এবারও পরীক্ষার ফলাফলে আমরা দেখলাম, পাসের ক্ষেত্রে দুই ভাগ মেয়েরাই বেশী। এই বৈষম্য থাকা উচিত না। আমাদের ছেলেদের আরেকটু মনোযোগী হতে হবে। কাজেই তারা যেন সমান সমান বা আরও ভাল পাস করে। আমরা সেটাই চাই।’

তাই ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লেখাপড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি থেকে যা যা করণীয় আমাদের সরকার কিন্তু করে গেছে। কারণ জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। তিনি চাইতেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠুক। আর আমরা সেই ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত দেশ তখনই গড়তে পারবো, যখন আমাদের দেশের মানুষ শতভাগ শিক্ষিত হবে।’

‘আর শিক্ষা এমন একটা জিনিস কখনো কেউ কেড়ে নিতে পারে না। এই শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে একটা দেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী করা যায়’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাখো শহীদের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা । এই স্বাধীনতা যেন কখনো ব্যর্থ হতে না পারে, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। এই গ্রাজুয়েশনটা আমাদের হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে আমরা আজকে নিজেদের স্থানটা করে নিতে পেরেছি। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ একদিন উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে। ক্ষুধামক্তু দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নপূরণ করব।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এবার যেহেতু পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি, হয়ত সংখ্যার হিসেবে কিছুটা আমাদের পাসের হার কম মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে বলবো,সেটা খুবই হতাশাজনক না। কারণ ৭৭ দশমিক ৭৭শতাংশ পাস করা এটাও কিন্তু কম কথা নয়।’

আগামীতে এটা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি এজন্য সবাই আন্তরিক ধন্যবাদও জানান তিনি।