অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু; সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

কোটা সংস্কার নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সোমবার দেশের সব বিশ্বিবিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবেশ থেকে এই ধর্মঘটের ডাক দেন ।

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হল থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মিছিল নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে তারা দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন অনুষদের সামনে যাচ্ছেন। সেখানে তারা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবির পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। কয়েকটি অনুষদের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

সোমবার আন্দোলনকারী সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরু বলেন, রোববার বিকেলের ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করার সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দাবি অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন আসেনি। তাই সোমবার সারাদেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট চলবে। কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

তিনি আরো বলেন, এই আন্দোলন সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলন করছি। শিক্ষকদের অনুরোধ করবো, অতীতে আমাদের দাবির প্রতি আপনাদের যে সমর্থন ছিলো তা এখনও অব্যাহত থাকবে।যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, দীর্ঘ ৩৩ দিন হয়ে গেল এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় নি। ছাত্রসমাজকে কথা দেয়া হয়েছিল ৭ই মেয়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করা হবে। কিন্তু তা হয় নি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী বিভ্রান্তমূলক কথা ছড়াচ্ছেন। ছাত্রসমাজকে এসব বক্তব্য ক্ষুব্ধ করে তুলছে এবং এখন পর্যন্ত কোন সময়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে তার সময়সীম নির্ধারণ হয় নি। প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ষোষণাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোটা সংস্কার করা হয়, তাতেও আমাদের সমস্যা নেই। এখন আবার বলা হচ্ছে কমিটি প্রজ্ঞাপন দেবে। যখন কোটা বতিল হয়ে গেছে, তখন আবার কিসের কমিটি। এ কারণে আজকে আমাদের ধর্মঘট ছিল ক্লাস পরিক্ষা বর্জনের। সারাদেশে ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস পরিক্ষা বর্জন করেছে। আমাদের ছাত্রসমাজের দাবি মেনে নিয়ে অতি দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে এ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটাবেন। আমরা আর আন্দোলন করতে চাইনা।’

এদিন সকালে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। ফলে নগরী থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ট্রেন যেতে পারেনি। নগরীর ষোলশহর এলাকায় সকাল থেকে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। আন্দোলনকারীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে সকালে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বাসগুলো কোন রুটে ছেড়ে যায়নি। সকাল বেলা পর্দাথ বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়।

সংগঠনের রাবি শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোরশেদুল আলম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমাদের ক্যাম্পাসে সুষ্ঠুভাবে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। আজ কোন বিভাগে ক্লাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। আমরা আমাদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’

কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বের হয়ে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে আছেন।

প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। দুপুরে তারা প্রধান ফটক থেকে গোলচত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে লাইব্রেরী ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, নোয়াখালীতে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের বাধা দেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় তারা অনেক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে যায় এবং ফোনের ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেয়।