সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন এমপিরা

0
43
নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা (এমপি) নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। এজন্য নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে) নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভায় এ বিষয়টির অনুমোদন দেওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হবে। তবে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালায় ‘‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে এমপিদের নাম উল্লেখ ছিল, সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন।’’

বিধিমালা থেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বাদ দেওয়া বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সংসদ সদস্যদের পদটি যেহেতু লাভজনক নয়, তারা সরকারি কোনও গাড়ি ব্যবহার করেন না এবং তাদের জন্য কোনও কর্মকর্তাও নেই, সেজন্য এমপিদের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা না করে বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।’’

এমপিদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কার্যকর হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এই নির্বাচনটি তফসিলভুক্ত এবং এই সংশোধনীটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিংয়ের প্রয়োজন হবে। আর ২৬ জুন গাজীপুরে ভোট। কাজেই এটি গাজীপুরে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

১২ এপ্রিল স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণা ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রেখে আরচণবিধির পরিবর্তন চেয়েছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

আওয়ামী লীগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত এসেছে কিনা জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিষয়টি হচ্ছে তারা আমাদের স্টেকহোল্ডার। তাদের থেকে অনেক প্রস্তাব আসে। যে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন যুক্তিযুক্ত মনে করে, সেটি বিবেচনায় নেয়।’
এছাড়াও বিদ্যমান সিটি করপোরেশন আচরণ বিধিমালায় ১১টি বিষয়ে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান সচিব।

উল্লেখ্য, নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে বিদায়ী রকিব কমিশনও এই ধরনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু, নির্বাচন প্রভাবিত হবে বিবেচনায় নিয়ে এমপিদের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে তাদের প্রচারণার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রকিব কমিশন। বিদ্যমান বিধিমালা হিসেবে তফসিল ঘোষণার পর থেকে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় যাওয়া বা প্রবেশের কোনও সুযোগ নেই। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হলে তিনি ভোট দিতে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে শুধু এমপিরাই নন, মন্ত্রীরাও ভোট দেওয়ার জন্য নির্বাচনি এলাকায় যাওয়ার সুযোগ পান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here