মহাদুর্নীতির বাজেট ব্যাংক দেউলিয়া করে ছাড়বে: বি চৌধুরী

29

তিনি বলেন, ‘নির্লজ্জ এই সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে লুটপাটের জন্য এই বিশাল বাজেট পেশ করেছে। গত ৯বছরে ব্যাংকগুলোকে লুট করেছে। আর এবার বাজেটের পর ব্যাংক সেক্টরগুলোকে দেউলিয়া করে ছাড়বে।’

শুক্রবার বিজয়নগরস্থ হোটেল ৭১’এ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের টাকায় বুলেট কিনে সেই বুলেট জনগণের বুকেই বিদ্ধ করছে সরকার। মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে নির্বিচারে হত্যা চলছে। যা এদেশের জনগণ মেনে নিতে পারে না। চারদিকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ-নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ সরকার অথবা জাতীয় সরকার। সেই লক্ষেই আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

তিনি নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘ভারতীয় আজাদী আন্দোলন ও এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।’

মুসলিম লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম আসাদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মুফতী ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি আবদুর রব ইউসুফী, মুসলিম লীগ মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুল ইসলাম, সৈয়দ নাসরুল আহসান, আকবর হোসেন পাঠান প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন ভাসানী ফ্রন্ট সভাপতি মমতাজ চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মহাসচিব মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, এনপিপি মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, লেবার পার্টি মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিজেপি প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন প্রকাশ, জাগপা যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, এনপিপি যুগ্ম মহাসচিব মো. ফরিদউদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা এমএন শাওন সাদেকী প্রমুখ।

জেএসডি সভাপতি আ স ম রব বলেন, ‘২০১৪ সালের মত আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন এদেশের মাটিতে আর হতে দেয়া হবে না। এবার নির্বাচনের নামে কোন রকমের প্রহসনের ব্যাবস্থা হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার মানুষের উপর যে জুলুম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে তা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘মাদক নির্মূলের নামে যে হত্যাকাণ্ড চলছে তা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সরকারে মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে মূলত বিরোধী শক্তির মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে অবৈধ শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য।’

বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের চলমান সংগ্রাম হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে না পারলে ইতিহাস আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।’