দুর্ঘটনার দিন নোয়াখালী ছিলাম, দাবি এমপি পুত্র সাবাবের

3593
সাবাব চৌধুরী
সাবাব চৌধুরী

গাড়িতে চাপা দিয়ে পথচারী নিহতের ঘটনায় আলোচনায় আসা এমপি পুত্র সাবাব চৌধুরী দাবি করেছেন: তাকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হলেও ওইদিন তিনি ঢাকাতেই ছিলেন না। তাকে এবং তার পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য একটি মহল উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ফাঁসাতে চাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত সাবাবকে দোষী করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের জবাবে সাবাব বলেন: “১০ জুন থেকে আমি নোয়াখালীতে। ঘটনার দিন ১৯ জুন রাত ৯ টা পর্যন্ত আমি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আমার নামে উদ্বোধন করা একটি ঘাট পরিদর্শনে ছিলাম। সেখানে হাজার হাজার মানুষ ছিল। তারা আমাকে দেখেছে। হাজার হাজার মানুষ সাক্ষী আছে আমি তখন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ছিলাম। এখানে লুকোচুরির কিছুই নাই।”

আমি বাবার একমাত্র ছেলে। আমি রাজনীতিতে সময় দিচ্ছি। তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধংস করার জন্য এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। সাবাব বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেও কেউই আমার সাথে যোগাযোগ করেনি, আমার বক্তব্য ছাড়াই সংবাদ পরিবেশন করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যে প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, “তিনি আমাকে চেনেন এবং আমাকে প্রায়ই গুলশান বনানীতে গাড়িসহ আড্ডা দিতে দেখেছেন”, তা অবিশ্বাস্য ।
উল্লেখ্য,পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ওই ঘটনার ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে: “সাবাবকে প্রায়ই গুলশান বনানীতে গাড়িসহ আড্ডা দিতে দেখা যায়।”

সাবাব বলেন: আমি গত তিন বছর নিউজিল্যান্ডে ছিলাম। বছরে এক দুই বার সপ্তাহখানেকের জন্য দেশে এসেছি। এবার ৭ জুন দেশে এসেছি, ১০ জুন থেকে আমি নোয়াখালীতে। তাহলে তিনি কিভাবে আমাকে গুলশান বনানীতে গাড়িসহ আড্ডা দিতে দেখেন? ঘটনার দিন ১৯ জুন রাত ৯ টা পর্যন্ত আমি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আমার নামে উদ্বোধন করা একটি ঘাট পরিদর্শনে ছিলাম। উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথাগুলো ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি ভিডিও চিত্র এবং কিছু স্থির চিত্রের প্রমাণও উপস্থাপন করেন সাবাব।

এর আগে গত ১৯ জুন, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার মহাখালী ফ্লাইওভারে বেপরোয়া গতির গাড়ির চাপায় সেলিম ব্যাপারী (৪৫)নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়। ফ্লাইওভার পার হতে যাওয়া ওই পথচারীকে গাড়িটি ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন। ঘটনাস্থলে গাড়িটির নম্বর প্লেট পড়ে থাকে।

বিআরটিএ থেকে জানা যায়, গাড়িটি নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলির নামে রেজিস্ট্রেশন করা। কামরুন্নাহার শিউলি কবিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এ ঘটনার পর থেকে গাড়ি চালক নুরুল আলম পালাতক রয়েছেন।