“সরকারের প্রতি ভোটারদের আস্থা নেই”

26

ভোটারদের আস্থা অর্জনসহ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এতদিনে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই উপলব্ধি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন যে- তার এবং সরকারের প্রতি ভোটারদের আস্থা নেই।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, লুটপাট, হত্যা-গুম, একের পর এক ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর ভোটারদের আস্থা শুন্যের কোঠায় চলে গিয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর আরেকটু উপলব্ধি করতে পারলে দেশের গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে। সেটি হলো নিজের ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তাহলেই কেবল কিছুটা ভোটারদের আস্থা ফিরে আসতে পারে।

‘বর্তমান সরকার বিএনপির মতো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়’- প্রধানমন্ত্রী এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অকপটে সত্য কথাই বলেছেন। অবশ্যই বিএনপির মতো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে আর আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশালে বিশ্বাস করে। বিএনপি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয়। আর আওয়ামী লীগ ফেনী মার্কা, বিনা ভোটের নির্বাচনে বিশ্বাস করে।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরে সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গ্রেফতার ১২ জনের তালিকা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, কোন অভিযোগ মামলা ছাড়াই তাদেরকে সাদা পোষাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। খোঁজও দিচ্ছে না তাদের যে আটক করা হয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, গাজীপুরে একতরফা নির্বাচন করতে পুলিশ গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একেবারেই নিরব, নিথর, নিশ্চল, চুপ হয়ে বসে আছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানো হলে পুলিশ অভিযান-হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। এখানে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেন এখন দূরের তারা। এই কমিশনের অধীনে কোনো এলাকায় নির্বাচনী মাঠ সমতল হওয়ার সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।