‘অসুস্থতার ভান করে কোর্টে হাজিরা দেন না’

22

বিচার এড়াতে অসুস্থতার নামে কোর্টে হাজিরা দিতে না যাওয়াকে খালেদা জিয়ার একটি ‘বাহানা’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি অসুস্থতার ভান করে কোর্টে হাজিরা দেন না। এগুলো তার বাহানা।

‘কোর্টে হাজিরা দিতে পারবে না, এমন অবস্থা তো তার নয়। আসল কারণ হলো, এফবিআইয়ের লোকেরা বসে আছে সাক্ষী দেওয়ার জন্য। এজন্য তিনি এসব বাহানা সামনে আনছেন।’

শনিবার দুপুরে গণভবনে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের তৃণমূলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ বর্ধিত সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হয় আর বিএনপি কি করে? লুটপাট, দুর্নীতি এগুলোই বিএনপির কাজ। না হলে, এতিমের টাকা এভাবে কেউ মেরে খেতে পারে! এতোগুলো টাকা তাও দিতে পারলো না।

তিনি বলেন: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের পথ দেখিয়েছেন। আমার রাজনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না।  উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এ দেশকে গড়ে তুলতে চাই।

বাংলাদেশের যতো অর্জন সবই আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের রাজনীতি মানেই হত্যার রাজনীতি। নির্বাচন বানচালের নামে তারা আগুন দিয়ে দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ৫০০’র উপরে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। যারা রাজনীতি করবে তারা কিভাবে মানুষকে পুঁড়িয়ে মারে? কৃষক যখন সার চেয়েছে হত্যা করেছে। শ্রমিক যখন মজুরি বৃদ্ধির দাবি করেছে হত্যা করেছে। তাদের রাজনীতি মানুষ মারার রাজনীতি।’

বাংলাদেশের মানুষ সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলো মন্তব্য করে তিনি বলেন: বাংলাদেশের মানুষ কখনও বাধা মানে নাই। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে বলেই ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। উন্নয়ন গুলো দৃশ্যমান হয়েছে। দেশের সকল উন্নয়ন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা দল ক্ষমতায় এলে মানুষ নিপীড়িত হয়।

‘বাবা-মা পরিবার সব হারিয়ে আমার পরিবার এখন বাংলার ১৬ কোটি জনগণ’, বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মী উদ্দেশ্যে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে খুনিরা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিলো তাদেরকে বাঁচাতে ওই জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলো।  ৭৫’র পর ক্ষমতায় এসেছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।  স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নতি হবে কি করে? খুনের আসামী, আন্ডারগ্রাউন্ড লোকদের রাজনীতিতে এনে জিয়া দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করেছে বলেন অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন: দেশের সম্পদ বিক্রিতে আমরা রাজি হইনি।  তাই ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। এবার একটানা সাড়ে নয় বছর আমরা ক্ষমতায় আছি। আজ বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের একটি রোল মডেল। এটা সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে বলে। জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমাদের রাজনীতি করতে হবে। সাধারণ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা রাজনীতি করি।

সভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, রংপুর, খুলনা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যান এবং মহানগরের অধীন সংগঠনের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলীয় নির্বাচিত কাউন্সিলার ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত দলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ জুন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পৌর সভার মেয়র এবং পৌরসভা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে আওয়ামী লীগ।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুন রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যান, মহানগরের অধীন সংগঠনের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় নির্বাচিত কাউন্সিলরগণ এবং জেলা পরিষদের নির্বাচিত দলীয় সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বর্ধিত সভা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।