জাতীয় নির্বাচনে সব কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারবে বিএনপি?

0
27

ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ভোটকেন্দ্রে দলটির এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া নিয়ে শংঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে তা মানতে নারাজ বিএনপি নেতারা। তাদের দাবি, বিএনপির দুই লাখ কেন পাঁচ লাখ এজেন্ট রেডি আছে। তবে তার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আগে নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন তারা।

তবে দলটির নেতাদের দাবি, ক্ষমতাসীনরা প্রসাশনের ওপর ভর করে নির্বাচনের ফল নিজেদের করে নিচ্ছে। দুই সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ ছিল না। তাদের অভিযোগ, এজেন্টের যে তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কাছ জমা দেয়া হয় বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে, সেই তালিকা ধরেই এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের হুমকি-দমকি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমাদের ২ লাখ কেন, ৫ লাখ এজেন্ট রেডি আছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ৪৮ ঘণ্টা আগে এজেন্টের তালিকা রিটানিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন সেই  তালিকা যদি পুলিশ প্রশাসনের কাছে চলে যায়। আর এজেন্টের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। গুম করার হুমকি ও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ কোথায় ছিল?  সুষ্ঠূ নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে আমরা এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিতে পারতাম। কিন্তু সেই পরিবেশটা তো ছিল না। ৫ জানুয়ারির পর থেকে কোনো নির্বাচনেই সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। পুলিশ ও ডিবির সহযোগিতায় নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে।’

খুলনা সিটি নির্বাচনে একই অবস্থা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৭ জন।  ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৭০৭টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৭৮টি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সহকারী সচিব রওশন আরা বেগম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এবার ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা কত হবে তা এখনও আমরা চূড়ান্ত করিনি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চেয়ে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। আর বিএনপি চেয়ারপারসনকে ছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিবে না। প্রধানমন্ত্রী মনে হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে খুলনা-গাজীপুর মার্কা নির্বাচনকে বুঝিয়েছেন। যে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মহোৎসব চলে, কেন্দ্রে শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডাররা থাকে, অন্য কোনো দলের এজেন্টকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে বা তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বা পিটিয়ে রক্তাক্ত করে বের করে দেওয়া হয়, নিজেদের দলীয় ক্যাডাররা লাইন ধরে নৌকায় সিল মারে এ রকম নির্বাচনকে তিনি বুঝিয়েছেন নিশ্চয়।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বা হবেও না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে যেন তাকে ছাড়া আরেকটি জাল ভোটের নির্বাচন করে ক্ষমতা কুক্ষীগত করে রাখা যায়।’

জানা গেছে, গাজীপুর সিটিতে ৫৭টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্র ছিল ৪২৫টি, বুখ ছিল ২৭৬১টি। এর মেধ্যে হাতে গোণা কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে নাম পর্যন্ত জমা দিতে পারেনি বিএনপি। ফলে অনেকটা ফাঁকা মাঠেই গোল দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এখনও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না। সময় হলে দেশের মানুষই তাদের ভোটের অধিকার আদায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের এখনও ৫ মাস বাকি। সময় আসুক, তখন এই বিষয় নিয়ে কথা বলা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here