বেপরোয়া যান চালনায় হত্যা হলে পাঁচ বছর, ইচ্ছাকৃত হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

21

বেপরোয়া যান চালনায় মানুষ হত্যা হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর জেলের বিধান এবং হত্যার উদ্দেশ্যে যানবাহন চালানোর ফলে হত্যা হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে নতুন সড়ক পরিবহন আইনে, জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বেপরোয়া যান চালনায় মানুষ হত্যা হলে ১৯৮৩ সালের আইনে তিন বছর জেল এর বিধান ছিল, সেটাই স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে ৫ বছর জেলের বিধান করা হয়েছে। এ আইনে জামিনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানান কাদের।

কাদের বলেন হত্যার উদ্দেশ্যে যানবাহন চালালে এবং তা প্রমাণ হলে তা ৩০২ ধারায় চলে যাবে এবং তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। প্রসঙ্গত ১৯৮৩ সালের সড়ক নিরাপত্তা আইনে বেপরোয়া যান চালনায় হত্যা হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেলের বিধান ছিল।

বেপরোয়া যান চালচলে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সরকার চাইলে আরো কঠোর আইন করতে পারে, আদালতের এমন একটি অবজারভেশন আছে একজন সাংবাদিক জানালে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সবার সাথে আলোচনা করে পাঁচ বছর বিধান রেখেছি। আরও আলোচনার জায়গা আছে।

রমিজ উদ্দিন কলেজের ছাত্র দুর্ঘটনায় দুইজন মারা যাওয়ার বিষয়ে কাদের বলেন গাড়ির মালিক, ড্রাইভার, হেলপার গ্রেফতার হয়েছে, রিমান্ডে নেয়া হয়েছে এবং যদি প্রমাণিত হয় তারা হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালিয়েছে তাহলে ৩০২ ধারায় বিচার করার সুযোগ আছে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে সহায়তা করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন ভবিষ্যতে যে কোন প্রয়োজনে পরিবারটিকে সহায়তা করা হবে।

মহাসড়কে ছোট যানবাহনের কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে, এ বিষয়টি আইনে আছে কিনা এক সাংবাদিক জানতে চাইলে কাদের বলেন সবকিছু আইনে আসে না। কিছু বিধি-বিধান আছে। সেগুলো সবাইকে মেনে চলেতে হয়। বিধি বিধান আইনে যুক্ত করতে গেলে অনেক বড় হয়ে যাবে।

বিআরটিএ শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ছয়দিন খোলা থাকবে জানিয়ে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত সারা দেশে বিআরটিএ এর সকল অফিস খোলা থাকবে। লাইসেন্স করা, লাইসেন্স নবায়ন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ সকল কার্যক্রম এসময় চলবে।

বিএনপি এই আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দিতে চেয়েছিল জানিয়ে কাদের বলেন, বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথা থেকে এটা স্পষ্ট যে মির্জা ফখরুলের নির্দেশনায় বিএনপি’র উদ্দেশ্য ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের এই আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দেয়া। বিএনপি জামাতের তরুণ ক্যাডাররা এ উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। এসময় পত্রিকার একটি ছবির কাটিং থেকে একজন হামলাকারীকে চিহ্নিত করে কাদের বলেন, ছেলেটি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শিবলী এবং তার আশেপাশের অন্যরা বিএনপি জামাতের ক্যাডার। তাদের উদ্দেশ্যেই ছিল সরকার পতন।

সংবাদ সন্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু প্রমুখ।