সরকারের আমন্ত্রণে ভারত সফরে তরিকত নেতারা

20

সরকারের আমন্ত্রণে ভারত সফরে তরিকত নেতারা

আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) থেকে বাদ পড়াদের নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই বলে আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

ভারত সফরে গিয়ে কিরেন রিজিজুর সঙ্গে বৈঠক শেষে এই আশ্বাসের কথা জানান তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি।

তিনি বলেন, “ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে বৈঠক হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আমাদের বলেছেন নিবন্ধনে বাদ পড়লেও বাংলাদেশে কাউকে পুশব্যাক করা হবে না।”

সোমবার ভারত সরকারের আমন্ত্রণে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সঙ্গে দিল্লি সফরে এসেছেন তার ছেলে, দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ তায়াবুল বশর মাইজভান্ডারী। আছেন দলের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীও।

এছাড়া মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) এক বৈঠকে অংশ নেন তরিকত নেতারা। নয়াদিল্লির রাউস অ্যাভিনিউয়ে ওআরএফের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে আলোচনার বিষয়ে নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, “আমদের অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে, এনআরসি থেকে বাদ পরা বাংলাদেশিদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতেও কথা হয়েছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এর ওপর যদি আসাম থেকে ৪০ লাখ ফেরত পাঠান, তাহলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। তখন তারা বলেন, আপনাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আসামের নাগরিক নিবন্ধন তৈরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা ছাড়া সবকিছু হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে।”

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক হয়েছে বলেও জানান নজিবুল বশর।

এই বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, “এম জে আকবরকে আমি বলেছি,রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে ভারত সক্রিয় না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো ভারতকেও ভুগতে হবে।”

গত মাসেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করে গেছেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধি দল। এবার সফর করছেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের এ নেতা। এর আগে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে নয়াদিল্লি ঘুরে গেছেন আওয়ামী লীগের নেতারাও। জুন মাসের গোড়ার দিকে এসেছিলেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলও।

আওয়ামী লীগ সরকার সমর্থীত নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন।

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামের জঙ্গিবাদ তৎপরতা থাকার বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান নজিবুল বশর।

তিনি বলেন, “আমরা সুফি আদর্শের। আমরা কট্টরবাদী ইসলামের বিরোধী, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরোধী। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি।এ কথা শুনে আমাদের সাধুবাদ জানিয়েছে ভারতের মন্ত্রীরা।”

ছয় দিনের এই সফর শেষে আগামী রবিবার বিকালে তারা ঢাকায় ফিরবেন বলে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ তইয়বুর বশর মাইজভান্ডারি জানিয়েছন।