শোক দিবসে ভোজের আয়োজনে ২১০ গরু, নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙ্গলেন একরাম চৌধুরী

5756

শোক দিবসে ভোজের আয়োজনে ২১০ গরু, নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙ্গলেন একরাম চৌধুরী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকীতে ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে নোয়াখালীতে প্রায় ২১০ টি গরুর ভোজের আয়োজন করেছেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব একরামুল করিম চৌধুরী এমপি(নোয়াখালী -৪ সদর-সুবর্ণচর),যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন এই নেতা।  চার লক্ষাধিক লোকের জন্য এই ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি এর আগে ১৫ই আগস্ট উপলক্ষে ১২৯ টি গরু দিয়ে ভোজের আয়োজন করে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন আর এই বার প্রায় ২১০ টি গরু দিয়ে ভোজের আয়োজন করে আরেক ইতিহাস সৃষ্টি করছেন এবং নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভাঙ্গলেন। এছাড়াও সনাতন ধর্মাবল্মবীদের জন্য বিভিন্ন উপাসনালয়ে  এবং ক্যাথলিক (খ্রিস্টান) ধর্মাবল্মবীদের জন্য পৃথক পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন । ভোজ ছাড়াও দিনটি উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ এবং সব উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নোয়াখালী পৌরসভাতে- ২৯ টি স্থানে ৫৮ টি গরু,  সদর উপজেলাতে – ৫১ স্থানে ৬৩ টি গরু, সুবর্নচর উপজেলাতে ৩৭ টি স্থানে ৩৭ টি গরু, কবিরহাট উপজেলাতে ২৭ স্থানে ২৭ টি গরু, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলাতে ২৫  স্থানে ২৫ টি গরু, মোট -১৬৯ স্থানে ২১০ টি গরু দিয়ে নোয়াখালী ৪ ও ৫ আসনে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ভোজের আয়োজন  করছেন তিনি। এছাড়া  ভোজ আয়োজনে তিনি প্রতিটি গরুর সাথে ৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন।

নোয়াখালী তথা গোটা দেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীতে এক সঙ্গে এত সংখ্যক গরু দিয়ে বিশেষ ভোজের আয়োজন করায় তিনি সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে একরামুল করিম চৌধুরী জানান “আমরা যারা সাধারণ নেতাকর্মী আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নিজের পরিবারের সদস্যের মৃত্যুতে আমরা যেমন শোকাবহ থাকি তেমন শোকাবহ আবহ তৈরি করা। নিজের পরিবারের সদস্যের কুলখানিতে যে আবেগ নিয়ে এলাকাবাসীকে দাওয়াত দেই, ঠিক একই আবেগ নিয়ে প্রতিবেশীকে দাওয়াত দেওয়া। ১৫ আগস্টকে অন্য ১০ টি রাজনৈতিক প্রোগ্রামের মত গতানুগতিক প্রোগ্রাম নয়। এটি ইতিহাসের জঘন্যতম নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিন। খুনিদের মামলার রায় হয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগ খুনি এখনো দেশের বাইরে নিরাপদে বসে আবারও দেশী বিদেশী চক্রান্তকারীদের সাথে মিলে আরেকটি ১৫ আগস্টের স্বপ্ন দেখে, যার চেষ্টা ২১ আগস্টে একবার চালিয়ে ছিল। এখনো অব্যাহত আছে।”

একরামুল করিম চৌধুরী জানান, এমপি হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে গত ৯ বছর ধরে তিনি এ দিনটিতে এমন ধরনের আয়োজন করতে বিন্দুমাত্র কৃপণতা করেন না। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন। বঙ্গবন্ধুর কারণে একটি স্বাধীন দেশে পেয়েছি। পেয়েছি একটি লাল সবুজের পতাকা। আমারা হয়েছি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন জাতি। আজ তার যা কিছুই হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কারণেই। তাই এ মহান নেতা তথা জাতির জনকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তিনি এবারও ২০০ টি গরু দিয়ে জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে গরিব-দুস্থ অসহায় ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য বিশেষ এ আয়োজন করছেন।