৭১ এর চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছি: কানতারা খান

202
কানতারা খান
কানতারা খান

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কানতারা খান। তার আরেকটি পরিচয় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য , গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ফারুক খানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। কানতারা খান শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি , বি এফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অস্ট্রেলিয়া থেকে বিজনেস ‘ল এবং বিজনেস কমিউনিকেশনে অনার্স এবং লন্ডন থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। সাত বছর যাবৎ তিনি ঢাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন । একই সাথে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসা সামলাচ্ছেন এবং নানা সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করছেন। এমনই একটি সামাজিক সংগঠন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন কানতারা খান।

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম, রাজনীতি এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন পলিটিক্সনিউজের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলকের সাথে।

পলিটিক্সনিউজ: আপনি সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে আছেন। সুচিন্তা ফাউন্ডেশন থেকে কি কাজ করছেন?

কানতারা খানঃ সুচিন্তা ফাউন্ডেশন তরুণদের একটি প্ল্যাটফর্ম। ৭১ এর চেতনায় তরুণরা কিভাবে এগিয়ে যাবে আমরা সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করি। আমরা যদি আমাদের সঠিক ইতিহাস না জানি তবে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না। কেন ৪৮ হয়েছিল, কেন ৫২, ৫৬ , ৬৬ এসেছিল, ৬ দফা কাকে বলে, একাত্তরের নয় মাস কেন যুদ্ধ করেছিলাম আমরা, এর প্রত্যেকটা জিনিস আমাদের তরুণ প্রজন্ম যদি জানতে না পারে তাহলে তারা জানবে না কত রক্ত, কত কষ্টের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্যে আজ অবধি প্রতিটি বাঙালি কাজ করে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্য আমাদের, যে মানুষটি আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আমরা তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি। গুটিকয়েক মানুষের হাতে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। দুঃখ যেমন আছে তেমনি গর্বের বিষয় আজ তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সকলের মধ্যমনি, আদরের হাসু আপা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

একটি শিক্ষিত পরিবারে কিভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তার একটি নমুনা আমরা দেখছি। বঙ্গবন্ধু তার মেয়েকে সুশিক্ষা দিয়েছিলেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। একইভাবে দেশের উন্নয়নের জন্য রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিও কাজ করে যাচ্ছেন।

এই যে একটি পরিবার যে পরিবারটি আমাদেরকে স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং এখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের কে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, একসাথে কাজ করতে হবে। সেখান থেকে সুচিন্তার জন্ম এবং সুচিন্তার কাজ। সুচিন্তা শব্দটির অর্থ সুন্দর চিন্তা। দেশের জন্য কিছু করতে হলে অবশ্যই সুন্দর চিন্তা করতে হবে।

পলিটিক্সনিউজ: আপনার রাজনীতিতে আসার চিন্তা আছে কিনা?

কানতারা খানঃ রাজনীতির মানে যদি হয় দেশের জন্য কাজ করা দেশকে ভালোবাসা, যদি মানে হয় একটু উন্নত দেশ কে দেখার জন্য নিজ নিজ স্থান থেকে কাজ করা, তবে আমি বলব রাজনীতিতে আমি এখনো আছি। আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আছি। আমি তাদেরকে যখন জ্ঞান দান করি তখন তারা যখন দেশের জন্য কাজ করবে তখন সেটা রাজনীতি অথবা আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে আমি যখন কাজ করি তখন তা যখন দেশের উন্নয়নের জন্য অবদান রাখে তখন আমি মনে করি তা দেশের জন্য কাজ করা, আমি বলব তখনও আমি রাজনীতিতে আছি। সুচিন্তা ফাউন্ডেশন থেকে আমি যখন কাজ করছি যখন তা উন্নয়নের কাজে লাগছে তখন আমি মনে করি তাও রাজনীতির অংশ। দেশের জন্য কাজ করাকে যদি রাজনীতি বলা হয় তবে আমি রাজনীতিতে আছি এবং দেশের জন্য কাজ করতে চাই।

কানতারা খান
কানতারা খান

পলিটিক্সনিউজ: আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির কাজের পরিধি এবং কি কাজ করছেন সে বিষয়ে জানতে চাই।

কানতারা খানঃ বঙ্গবন্ধুর বৈদেশিক নীতি ছিল সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। সেই নীতির উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটি কাজ করে।

দিনে দিনে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে। তবে কখনো কখনো তৃতীয় শক্তি, কিছু ভুল মানুষ বা পথভ্রষ্ট দল কিছু ভুল খবর রটিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করে। আন্তর্জাতিক কমিটির অধীনে উপ-কমিটিতে আমরা যার কাজ করছি, তারা বিভিন্ন দূতাবাসের পলিটিকাল উইং, আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা বাংলাদেশে কাজ করে তাদের সাথে সম্পর্ক রেখে সঠিক তথ্য দেয়ার চেষ্টা করি। বিভিন্ন সময় আমাদের মিডিয়া যে তথ্য দেয় তা তাদের কাছে সঠিক ভাবে যায় না। সব সময় তাদের সাথে সিনিয়রদের যোগাযোগ হয়তো সম্ভব হয়না। সে জায়গা থেকে আমরা উপ কমিটি থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করি।

যেমন কিছুদিন আগে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন গুলো হয়েছে এবং সেখানে অনেকেই তাদেরকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দুই এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে এবং কখনো কখনো মিডিয়ার আংশিক তথ্যের কারণে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। তাদেরকে সঠিক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি দূরীকরণে সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটি কাজ করে।

পলিটিক্সনিউজ: আমরা জানি আপনি একজন নারী উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ নারীদের জন্য কেমন?

কানতারা খানঃ একটা সময় ছিল যখন নারীকে আলাদা ভাবে দেখা হতো। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানের কারণে আজকের নারী আর সে অবস্থায় নেই। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বিভিন্ন সেক্টরে নারীদের জন্য অনেক সুযোগ আছে তবে এটি এখনো “আপ টু দ্যা মার্ক” হয়নি। এর একটি বড় কারণ আমরা পারিবারিকভাবে এখনো সে জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। নারীর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে তার পরিবারের ভূমিকা অনেক বেশি। যেমন আমার এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার পরিবার অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। তারাই আমাকে এগিয়ে দিয়েছে।

আজকের সমাজেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি বাবা, স্বামী বা ভাইরা নারীদের সেভাবে এগিয়ে দিচ্ছে না। তবে যেহেতু বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে এবং সরকার বিভিন্ন রকম পলিসি চেঞ্জ করেছে, সময়ের সাথে সাথে এ বিষয়টা এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। আগে যেখানে ৭ টি মন্ত্রণালয় নারীদের বিষয়ে কাজ করত এখন সেখানে ৩৯ টি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করি সেই দিন খুব বেশি দূরে নেই যখন পুরুষরা চিন্তা করবেন যে দুজনের জন্য সমান সমান নাকি নারীরা এগিয়ে আছেন।

নারীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। উপরে কেউ উঠিয়ে দেয় না, নিজের যোগ্যতায় একটি জায়গায় যেতে হয়। বঙ্গবন্ধু যে কথাটি বলেছিলেন, কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না, তা ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্যই বলেছিলেন। ইনশাল্লাহ নারীরা এগিয়ে যাবে।

পলিটিক্সনিউজ: আপনি গোপালগঞ্জের সন্তান। আপনার বাবা ফারুক খান গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য। গোপালগঞ্জকে কেমন দেখেছেন?

কানতারা খানঃ আমার বাবা গত ২৩ বছর গোপালগঞ্জ ১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং গোপালগঞ্জের মানুষ সবসময় আমার বাবার সাথে থেকেছেন। উনি যখন প্রথম নির্বাচনে আসেন তখন তিনি সামরিক বাহিনী ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। গোপালগঞ্জের মানুষ যখন দেখেছেন আমার বাবা কাজ করতে চাইছেন তখন থেকে তারা বাবার সঙ্গে আছেন। তখন থেকে আমার বাবা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের দোয়ায় এবং সমর্থনের ফলে বাবা দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং এখন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তিনি। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আজকে যারা ভালো কাজ করছেন, ভবিষ্যতে যারা ভালো কাজ করবেন, উন্নয়নের সাথে থাকবেন, মানুষও তাদের কথা চিন্তা করবে, তাদের সাথে থাকবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। আমি আশাবাদী গোপালগঞ্জের মানুষ বরাবরের মতোই বাবার পাশে থাকবেন।