খুলনা-৪: আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৮, এগিয়ে সুকর্ণ ও সালাম মুর্শেদী

43

খুলনা-৪: আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৮, এগিয়ে সুকর্ণ ও সালাম মুর্শেদী

খুলনা-৪ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন সদ্যপ্রয়াত সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার ছেলে এস এম খালেদীন রশিদী সুকর্ণ এবং সাবেক কৃতী ফুটবলার ও পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এই আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

১৭, ১৮ এবং ১৯ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে খুলনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বিক্রি শুরু হয়। সাত জন প্রার্থী মনোনয়পত্র কিনে জমা দিয়েছেন এবং একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনলেও জমা দেননি।

এই উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী প্রার্থী আট জন হলেন— প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং সাবেক সাংসদ মোল্লা জালাল উদ্দিন, সাবেক ফুটবলার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুজিত অধিকারী, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রিহাব পরিচালক এস এম জাহিদুর রহমান ও সদ্যপ্রয়াত সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার ছেলে এস এম খালেদীন রশিদী সুকর্ণ।

সোমবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন বোর্ড ও দলের সভাপতি শেষ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ।

এদিকে, খুলনা মোস্তফা রশিদী সুজাকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা শোকগ্রস্ত। সুকর্ণ তরুণ, শিক্ষিত ও মার্জিত হিসেবে মাঠ পর্যায়ে বাবার মতোই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা শেষে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কিছুদিন চাকরি করেছেন তিনি। পরে দেশে এসে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যবসাও করেন। এরই মধ্যে বাবার পথ অনুসরণ করে যুক্ত হয়েছেন রাজনীতিতে। নির্বাচিত হয়েছেন খুলনা জেলা পরিষদের সদস্য। স্থানীয়রা মনে করছেন, বাকি প্রার্থীদের তুলনায় সুকর্ণ এগিয়ে রয়েছেন বাবার রেখে যাওয়া এই আসনে।

মনোনয়ন বিষয়ে সুকর্ণ বলেন, ‘আমি বাবার সাথে কাজ করেছি এবং খুলনা বাসীর জন্য সময় দিয়েছি। বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে এবং খুলনায় ৪ সংসদীয় আসনে বাবার স্বপ্নগুলো আমি পূরণ করতে চাই এবং আমি আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সে সুযোগ দেবেন।’

এদিকে, খুলনা সদর আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য গত কয়েক মাস ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রূপসার সন্তান সালাম মুর্শেদী। গত ৩ মার্চ খুলনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া মুর্শেদী জনপ্রিয় ফুটবলার হিসেবে আগে থেকেই সুপরিচিত। পরে ব্যবসায়ী ও পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি হিসেবেও স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন তিনি। মার্চের জনসভাতেই খুলনায় সালাম মুর্শেদীকে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে সেই মুর্শেদী উপনির্বাচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

মনোনয়ন বিষয়ে সাবেক প্রথিতযশা ফুটবলার, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন ‘খুলনার রূপসায় আমার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই আমি ফুটবল ছাড়া কিছুই বুঝতাম না। ফুটবলই ছিল আমার জীবন। খুলনা থেকে ঢাকায় এসে জাতীয় পর্যায়ে খেলেছি এবং সফলও হয়েছি। এরপর ব্যবসায়েও সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছি।’

‘এখন আমি মনে করি, রাজনীতি করে দেশের মানুষের জন্য আমার কিছু করার আছে। রাজনীতি কঠিন বিষয় হলেও যেহেতু ছোটবেলা থেকে জীবন যুদ্ধে সফল হয়েছি, এখানেও সফল হব বলে আশা রাখি এবং এই সুযোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আরেক জন মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুজিত অধিকারী বলেন ‘আমি দীর্ঘ ৪০ বছর আওয়ামী রাজনীতির সাথে আছি এবং খুলনা মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। সুযোগ পেলে খুলনা ৪ নিয়ে আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে এলাকাবাসীকে একটি সুন্দর জনপদ উপহার দিতে পারব।’

মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম জাহিদুর রহমান বলেন ‘১৯৮৯ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে ব্যবসায়ী হই এবং বর্তমানে অনেকটা সফল। আমি এলাকার জন্য কাজ করতে চাই।’