খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সোমবার

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলবে কিনা – সে বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামীকাল সোমবার।

খালেদার অনুপস্থিতিতেই এ মামলার কার্যক্রম চলবে – মর্মে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে খালেদার করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচাপতির আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন।

আদালতে খালেদা আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, এ কে এম এহসানুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের পক্ষে ছিলন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

আগামীকালই বিচারিক আদালতে এই মামলার রায়ের দিন ধার্য রয়েছে।

এই অবস্থায় রায় দেয়া হবে কিনা – জানতে চাইলে খালেদার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘আগামীকাল বিচারিক আদালতের রায় হবে কিনা-তা নির্ভর করছে আপিল বিভাগের আদেশের উপর।’

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচারিক আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম চলবে মর্মে গত ১৪ অক্টোবর আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

ওই আদেশের ফলে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই মামলার বিচার চলতে বাধা নেই বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে বলে আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান।

ওইদিন আদালত তার আদেশে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর বলেছেন, তিনি বারবার আদালতে আসতে পারবেন না। এরপর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এবং আজও খালেদা জিয়া কারাগার কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, তিনি আদালতে আসতে পারবেন না।

অর্থাৎ আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, খালেদা জিয়া আদালতে আসতে অনিচ্ছুক। অথচ মামলার দুই আসামি প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হননি। এমন অবস্থায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে জামিনে রেখে বিচার চলবে।’

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান।