খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির দুই মামলার চার্জ শুনানি ১৩ ডিসেম্বর

খালেদা জিয়া

মানহানির অভিযোগে করা দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জগঠনের শুনানি জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর নতুন এ দিন ধার্য করেন।

এদিন পুরান ঢাকার বকশিবাজার আদালতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি ও চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

তবে মানহানির এই দুই মামলায় গত ৩১ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন বলে আদালতকে জানানো হয়।

তাঁর পক্ষে আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার এই যুক্তিতে চার্জ শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের চেয়ে আবেদন করলে আদালত শেষবারের মতো আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার আজাহারে বলা হয়, ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে একটি মানহানি মামলা করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত দিনে বিভিন্ন মাধ্যমে বেগম জিয়ার জন্মদিনের ৫টি  তারিখ পাওয়া যায়। তবে কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিলের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি ৫টি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবার্ষিকী- জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ উৎসব করে জন্মদিন উদযাপন করে আসছেন।

রাজধানীর তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়া সংক্রান্ত মামলার প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রী পরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রকাশ্য ও আত্মস্বীকৃত পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন- সেই জামায়াত, ছাত্রশিবির, আলবদর ও আল-শামস সদস্যদের মন্ত্রী ও এমপি বানান।

পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে খালেদা জিয়া সরকারের মন্ত্রিত্বপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রীত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি-গাড়িতে ব্যবহার করেছেন।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে মানহানির মামলাটি দায়ের করেছিলেন এ বি সিদ্দিকী।