মেসি এবং বার্সায় আগমন

127

 

মেসি এবং বার্সায় আগমন

লম্বা চুলের একটা বাচ্চা যার চোখ পর্যন্ত চুল দিয়ে ঢাকনা দেয়া তার নাম লিওনেল মেসি যাকে অন্য বাচ্চারা কখনোই গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করত না।বার্সেলোনায় ট্রায়াল দেয়ার সময়ও মেসি ছিলো অন্য সাধারণ বাচ্চাদের মতই।

বার্সালোনায় ট্রায়ালের দিন খেলা শুরু করার আগে মেসি ড্রেসিংরুমের বাহিরেই তার জামা পরিবর্তন করলো।মেসি কর্নারে একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল, অন্যান্য ১৩ বছরের বাচ্চাদের থেকে দূরে, যেখানে স্পেনের হয়ে পরবর্তীতে বিশ্বকাপ জয়ী দুই খেলোয়াড় জেরার্ড পিকে এবং সেস্ক ফেব্রেগাস ও ছিলো।

এটা ছিলো ২০০০ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর এর একটি স্নিগ্ধ সন্ধ্যা।মেসি তার শহর আর্জেন্টিনার রোসারিও থেকে ২৪ ঘন্টার সফর শেষে এই সন্ধ্যায় বার্সেলোনা শহরে প্রবেশ করে । এটা ছিলো মেসির প্রথম স্পেন সফর। খুব দ্রুতই হোটেলে ব্যাগ রেখে পৌঁছে গেলো বার্সার ট্রেনিং সেশনে যোগ দিতে।বার্সা চেয়েছিল মেসি যেন সন্ধ্যা ৬ টায় তার বয়সী দলের বাচ্চাদের সাথে ট্রেনিং এ যোগ দেয়।

মেসির পারফরমেন্স এ ক্লাবের সবাই অনেক আশাবাদী হলেও, সমস্যা দেখা দিলো তার উচ্চতা নিয়ে। সে ছিলো খুবই ছোট।  ট্রেনিং এর সময় মাঠে মেসি যখন পিকের পাশে খেলছিলো, তখন মেসি উচ্চতায় পিকের কোমর সমান ছিলো।

” মেসিকে যেদিন প্রথম বার্সেলোনায় আসলো, আমরা দেখলাম ও কতো ছোট এবং শুকনা ছিলো, আমরা ভেবেছিলাম সবাই মিলে ওকে খেয়েই ফেলব” বললেন মার্ক পেড্রাজা, যিনি বিখ্যাত “generacion del 87” এর একজন, বার্সালোনা যুব একাডেমীর একজন উজ্জ্বল খেলোয়াড় যিনি ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

“কিন্তু যখন সে বল স্পর্শ করল, আমরা দেখলাম সে ছিলো একজন অনন্যসাধারণ ব্যক্তি।তার কাছে থেকে বল ফেরত নেয়া অসম্ভব ছিলো।”

৯০ দশকের মধ্যভাগে যখন ব্রাজিলীয়ান তারকা খেলোয়াড় রোনালদো বার্সার ন্যু ক্যাম্প আলোকিত করছিলো, সেই সময়েই বার্সেলোনা মেসিকে খুঁজে পায়।মেসি বার্সেলোনায় সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনেক রোমাঞ্চিত ছিলো এবং যেকোন ভাবেই সে এটা করতে চেয়েছিলো।

এটা ছিলো টানা ১৭ মাসের এক অগ্নিপরীক্ষার শুরু।

জোসেফ মারিয়া মিনগুয়েলা – সেই ফুটবল এজেন্ট যে দিয়াগো ম্যারাডোনা এবং ব্রাজিলীয় তারকা রোমারিও ও রিভালদো কে বার্সায় এনেছিলো; উনি ২০০০ সালেই মেসির খেলার বিস্ময়কর প্রতিভা নিয়ে সবাইকে সর্তক করেছিলেন।

বার্সা কর্তৃপক্ষ তাকে মেসির খেলার হাইলাইটসের একটি ভিডিও টেপ পাঠায়; যা পরবর্তীতে মাস্টারকার্ডের একটি বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়।”মেসি এখনক যেভাবে খেলে তখনও তার খেলা এমনই ছিলো” ব্লেচার রিপোর্টকে এই কথা বলেন মিনগুয়েলা।

রোসারিওতে ছোট মেসিকে নিয়ে অনেক বড় বড় কথা হত; রোসারিও সংবাদপত্রে ছোট মেসির খেলা নিয়েই আর্টিকেল লেখা হয়।মেসির নয় বছর বয়সে, তার ক্লাব নিউ ওয়েল’স ওল্ড বয়েস এর পেশাদারী ম্যাচ শুরুর আগে তাকে মধ্যমাঠে বল নিয়ে জাগলিং করতে দেয়া হয়, একটানা ১৫ মিনিট জাগলিং করার পর দর্শকরা খুশী হয়ে তার দিকে কয়েন ছুড়তে থাকে।

মিনগুয়েলা মেসিকে নিয়ে অসন্তুষ্টই রইল কারণ মেসির বয়স অনেক কম ছিলো, উচ্চতায় ছিলো ছোট এবং স্পেন থেকেও ছিলো অনেক দূরে। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকায় তার সহযোগীরা ক্রমাগত মেসির ব্যাপারে বলতে থাকল এবং চাইল মেসির এই প্রতিভার যেন ঠিকভাবে যত্ন নেয়া হয়।তাই তিনি বাধ্য হয়েই আর্জেন্টিনার এই প্রতিভাধর বাচ্চার কথা তার বন্ধু কার্লেস রেক্সাসকে জানালো; যিনি ছিলেন বার্সার মূল দলের প্রযুক্তিক পরিচালক এবং বার্সার পরিচালকের কাছে মেসির কথা বলার মতো সাহসী ব্যক্তি।

রেক্সাসের কৌতুহলে আঘাত পেলো; কারণ সে ভেবেছিলো মেসির বয়স ১৮/১৯ বছর।কিন্তু মিনগুয়েলা যখন জানালো মেসির বয়স মাত্র তেরো বছর তখন রেক্সাসের প্রথম কথা ছিলো “তুমি কি পাগল??”

অবশেষে রেক্সাস ট্রায়াল দিতে দুই সপ্তাহের জন্য মেসিকে আনতে বার্সেলোনায় আনতে সম্মত হন।

মিনগুয়েলা ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে মেসি এবং তার বাবা জর্জের জন্য প্লেনের টিকেট কাটল, তারা বার্সেলোনা শহরে হোটেল প্লাকা ডি’এস্পানায়া তে রইল ট্রেনিং এর জন্য।মেসির ট্রেনিং খুব ভালো ভাবেই শেষ হলো।মেসি দ্রুতই যুব দলের কোচের নজর কাড়তে সক্ষম হলো।

“টারজান” মিগুইলি, যে ১৫ বছর ধরে বার্সার ডিফেন্সের হৃদপিন্ড ছিলো, সে মেসির সাথে তার পুরাতন সতীর্থ ডিয়েগো ম্যারাডোনার তুলনা করেন।বার্সা একাডেমী ট্রেইনার জাবি লওরেন্স, তিনিও মিগুইলির সাথে এই কথার সাথে সহমত প্রকাশ করেন।

“আপনি মেসির পায়ের সাথে বলকে এমনভাবে যুক্ত থাকতে দেখবেন মনে হবে এটা বল না তার পায়ের একটা অংশ ”

ব্লেচার রিপোর্ট কে বলেন লওরেন্স।””সে অনেক দ্রুত ছিলো, এবং সে তার মাথা নিচের দিকে রেখেই দৌড়াত।মনে হত সে নিজেই জানেনা সে কোথায় যাচ্ছে, কিন্তু ম্যারডোনার মতো, তার মাঠের প্রতিটি কোণে তার দৃষ্টি থাকত।সে দ্রুতই মাথা উঠাতো, এবং মনে হত সে আগেভাগেই খেলা দেখে ফেলেছে কি খেলতে হবে।”

মেসিকে নিয়ে সন্দেহবাতিক লোকেরও তখন অভাব ছিলো না।”কেউ কেউ বলত মেসি বল অনেক বেশী ড্রিবলিং করে, কারো কারো কাছে সে ফুটবল খেলার জন্য উচ্চতায় যথেষ্ট নয়; কারো কারো মতে সে শুধুই একজন ফুটবলার, যাকে নিয়ে কিছুদিন আলোচনা করা যায় তবে বিশেষ কিছুই নয়।”

ক্লাবের বিভিন্ন কোচদের মধ্যথেকে, জোয়াকিম রাইফ, যে বার্সেলোনা ফুটবল একাডেমীর নেতৃত্বে ছিলো, সে চাইল অন্যান্য দেশ থেকেও ছোট ছোট খেলোয়াড় আনা হোক ট্রেনিং এর জন্য।যা এর পূর্বে কখনোই করা হয়নি।এই বয়সের বাচ্চাদের খেলার মান ভালো হবে এই ধরণের কোন গ্যারান্টি ছিলো না, তাই সবাই রেক্সাস এর রায়ের অপেক্ষায় রইল।

কিন্তু রেক্সাস তখন অলিম্পিক এর জন্য সিডনী তে ছিলো; স্যামুয়েল ইতোর ক্যামেরুন এর কাছে কার্লোস পুয়োল এবং জাবি হার্নান্দেজ কে গোল্ড মেডেল ম্যাচে হারতে দেখছিল।

২০০০ সালের সেপ্টেম্বর এর শেষের দিকে, মেসিকে নিয়ে সবার উৎকন্ঠা বাড়ছিলো।অবশেষে, রেক্সাস অস্ট্রেলিয়া থেক এলো এবং ২০০০ সালের অক্টোবর এর ২ তারিখে ফাইনাল ট্রায়ালের আয়োজন করল।।।

মেসিকে তার থেকে দুই বছরের বড় ছেলেদের সাথে খেলতে দেয়া হলো এটা দেখার জন্য যে সে কিভাবে এদের সাথে প্রতিযোগিতা করেএকাডেমীর প্রধান কোচদের দেখা গেল, এরমধ্যে রাইফ, মিগুইলি, লওরেন্স এবং রোডল্ফ বরেল ও ছিলো।খেলা শুরুর সময় রেক্সাসকে কোথাও দেখা গেল নাহঠাৎ করেই বার্সার মিনি স্টেডিয়ামের মাঠে রেক্সাস প্রবেশ করল।।।

“যখন আমি একপাশ দিয়ে মাঠে প্রবেশ করলাম, রেফারি খেলা শুরু করার জন্য বাঁশি বাজাল।আমি মাঠের চারপাশে হাঁটলাম, একজন সহকর্মীর সাথে কথা বললাম।এরপর গোলের পিছনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ খেলা দেখলাম।তারপর যখন আমি বেঞ্চে বসে থাকা কোচদের কাছে পৌঁছালাম, তাদেরকে বললাম, ” তোমার মেসিকে সাইন করাতে পারো। সে এক কথায় অসাধারণ, চমৎকার খেলে।”
রেক্সাস খুব শীঘ্রই চলে গেলো।সে এখানে ১০ মিনিট ছিলো এবং যা দেখা দরকার তাই দেখল এবং সিদ্ধান্ত জানালো।

পরেরদিন মেসি আর্জেন্টিনা চলে এল এবং পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রইল।কিন্তু বার্সা কোন কল এলো না..পূর্বে এই ধরণের ঘটনার কোন উদাহরণ ছিলোনা, যদিও এই গ্রীস্মেই এসি মিলান মেসির ক্লাব, নিউয়েল’স ওল্ড বয়েস থেকে ১২ বছরের লিন্ড্রু ডেপেট্রিস কে সাইন করিয়ে শিরোনাম হয়েছিলো।

“পুরা পৃথিবী মেসির খেলার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছিলো ” বলেন মিনগুয়েলা.. “সংশয় প্রকাশের বড় কারণ মেসি উচ্চতায় অনেক ছোট ছিল।এছাড়া, আর কোন ব্যাপারে কারো সংশয় ছিলো।সে ছিলো অদ্বিতীয়, কিন্তু সবাই বলতে লাগল খেলার সময় সে অন্য খেলোয়াড় দের মোকাবেলা করতে অসুবিধায় পরবে।তার সমস্যা ছিলো শারীরিক। ”

মেসির শারীরিক বিকাশের সমস্যা কারণে ১৯৯৭ সালের ৩১শে জানুয়ারি থেকে রোসারিওর ড. ডিয়েগোর এন্ডোক্রিনোলজি ক্লিনিকে হরমোনের চিকিৎসা নেয়া শুরু করে।চিকিৎসক এই তারিখ মনে রেখেছিলেন কারণ এইদিনে তার জন্মদিন ছিলো এবং সে ছিলো নিউয়েল’স ওল্ড বয়েস ক্লাবের সমর্থক।

“ক্লাবের একজন আমাকে বলল তাদের কাছে এমন একটি ছেলে আছে যে খুবই ভালো খেলে কিন্তু সে অনেক, অনেক খাটো; তাই তারা চায় আমি যেন বাচ্চাটাকে দেখি এবং যদি আমি পারি তাকে যেন বড় হতে সাহায্য করি।” ডাক্তার বললেন।

মেসির বয়স তখন ছিলো নয় বছর এবং উচ্চতায় ছিলো ১.২৭ মিটার (প্রায় ৪’২”), যা ছিলো তার বয়সী বাচ্চাদের থেকে গড়ে ১০সে.মি.(৪”) কম।ড. ডিয়েগো কিছু পরীক্ষা করলেন, এবং নিশ্চিত হলেন যে মেসির শরীরে শারীরিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের ঘাটতি রয়েছে ; এই কারণেই মেসি অন্যান্যদের তুলনায় খাটো।

এটা জন্মগত কোন কারণ নয়.. এটা ছিলো একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। কারণ এটা যদি জন্মগত কোন সমস্যা হতো, তাহলে শারীরিক বৃদ্ধির জন্য মেডিকেলের কোন ওষুধ সাহায্য করতে পারত না।

“এই ধরণের সমস্যা ২০,০০০ বাচ্চার মধ্য থেকে একজনের হতে পারে।এটা যদিও খুব বেশী দেকখা যায় তবে এটা অদ্ভুত কিছু নয়” বললেন ড. ডিয়েগো।

মেসিকে প্রতিদিন হরমোনের ইনজেকশন দিতে বলা হলো।মেসিকে কলমের মতো একটি যন্ত্র দিয়ে নিজেই নিজের পায়ে ইনজেকশন পুশ করতে হতো, যা এই বয়সী বাচ্চার জন্য একটি সাহসী কাজ ছিলো।ড. ডিয়েগো বারবার বলতেন এই ইনজেকশনে কোন ব্যথা নেই, মশার কামড় থেকেও কম ব্যথা লাগবে।মেসি প্রায়শই তার মেডিকেল কিট তার স্কুল ট্রিপে যাওয়ার সময় সাথে নিত এবং তার বন্ধুদের বাড়ি যাওয়ার সময়ও নিয়ে যেত।মাঝেমাঝে ইনজেকশন এর ব্যথার কারণে মেসি ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করতে পারতো না।

হরমোনের এই চিকিৎসা সস্তা ছিলো না।এক মাসে খরচ পড়ত প্রায় ১০০০ইউরো ($১০৯০), মেসির বাবা প্রথম থেকেই এই খরচ ন্যাশনাল হেলথ ইন্সুরেন্সের মাধ্যমে দিতো।১৯৯৯ সালে যখন আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে প্রতিবন্ধকতা শুরু হলো, তখন ইন্সুরেন্স এর কভারেজের টাকাও কমতে থাকল, তাই নিউয়েল’স ওল্ড বয়েস ক্লাব এগিয়ে আসলো এবং বললো তারা এখন থেকে পেমেন্ট দিতে সাহায্য করবে।

এটা ছিলো মেসির বাবা জর্জ মেসির হতাশ এবং আত্মমর্যাদা লাঘব হওয়ার শুরু, কারণ তাকেই ক্লাব থেকে টাকা আনতে হতো।নিউয়েল’স ক্লাবের পরিচালক, সার্জিয়ো ওমর আলমিরন, ১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়, প্রায়ই শেষ মুহুর্তে মেসির বাবার সাথে মিটিং ক্যানসেল করে দিতো।মাঝেমাঝে, তিনি মেসির বাবাকে প্রতি ডোজের জন্য ৪০ পেসো করে দিতেন কিন্তু প্রতি ডোজে খরচ পড়ত এর ২৫ গুণ।

জর্জ মেসি হতাশ হয়ে পড়লেন এবং ছেলেকে বুয়েন্স এয়ারস এর রিভারপ্লেটে নিয়ে আসলেন ট্রায়াল দিতে, কিন্তু এটাতে কোন কাজ হলো না।তারপর মিনগুয়েলা এবং বার্সা এগিয়ে আসলো।যদি মেসি বার্সায় জয়েন করে, তাহলে ক্লাব মেসির বিশেষ ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে, কিন্তু মেসিকে বার্সার হয়ে খেলতে হবে তার চিকিৎসা চালিয়ে নেয়ার জন্য।

মেসিকে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ঘুরতে হয়েছে শুধুমাত্র আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য।কারণ ফিফা রেগুলেশন অনুযায়ী, মেসির সাথে মেসির পরিবারকেও চলে আসতে হবে।তার বাবাকে অবশ্যই এখানে কোন কাজ করতে হবে।

মেসির বাবা চায়নি মেসি লা মেসিয়ায় যা বার্সার একাডেমী খেলোয়াড়দের বোর্ডিং হাউজ এখানে থাকুক।লা মেসিয়া ছিলো পাথরের তৈরি একটি পুরাতন ফার্মহাউজ যা ক্যাম্প ন্যু’র পিছনে অবস্থিত।

“তিনি বললেন মেসিকে অবশ্যই তার পরিবারের সাথে থাকতে হবে” বলেন ২০০০ সালের বার্সার প্রেসিডেন্ট জোয়ান গাসপার্ট।”আর্জেন্টিনা থেকে আসা একটি ১৩ বছরের বাচ্চা আর ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে আসা একটি স্প্যানিশ বাচ্চার জন্য ব্যাপার টি এক না।তাকে অবশ্যই তার পরিবারের সাথে থাকতে দিতে হবে এবং এভাবেই থাকবে।”

“মেসির থাকার এপার্টমেন্ট এর ভাড়াও বার্সা ক্লাবকেই দিতে হবে।কিন্তু এটা সাধারণ ছিলো না।কারণ আমাদের লা মেসিয়া আছে(যেখানে বাচ্চাদের থাকার ব্যবস্থা আছে)।তারপর আমরা চাইলাম “না” বলতে, কিন্তু কার্লেস রেক্সাস, যার প্রতিভাবান খেলোয়াড় চিনতে কখনোই ভুল হয়না, সে আমাকে বলল, “প্রেসিডেন্ট, এই খেলোয়াড়কে হারানো আমাদের ঠিক হবে না।আমাদের একটা ব্যতিক্রম ব্যবস্থা করতেই হবে।আমি এই খেলোয়াড়ের খেলার মধ্যে এমন কিছু দেখেছি যা পূর্বে কখনো দেখিনি।”

রোসারিওতে ফিরে আসার পরে সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলে যেতে লাগল। ২০০০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, বার্সা থেকে কোন সিদ্ধান্ত এলো না, তাই মেসি ক্যাম্প বার্সাকে একটি আলটিমেটাম দিলো।রুবেন হোরাচিও গ্যাগিওলি, রোসারিওর একজন ব্যবসায়ী যিনি ১৯৭০ সালের শেষের দিক থেকে বার্সেলোনায় বসবাস করেন, তিনি এই তরুণ খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিত্ব করেন।

“আমার অংশীদার আর্জেন্টিনায় আছে, ‘হোরাচিও, বার্সেলোনা ক্লাবে এই কথা জানান; আমরা আর বেশী অপেক্ষা করতে চাইনা কারণ আপনারা আগ্রহ প্রকাশ না করলে আমরা অন্য কোন ক্লাবকে বেছে নিবো” ব্লেচার রিপোর্ট কে বলে গ্যাগিওলি।

এই সময়ে এসি মিলান ও মেসির জন্য একটি অফার দিলো।রিয়াল মাদ্রিদ এবং এতলেটিকো মাদ্রিদ ও সুযোগের অপেক্ষায় রইল।

২০০০ সালের ১৪ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায়, গ্যাগিওলি মন্টজুইকের দ্যা পম্পেয়া টেনিস ক্লাবে রেক্সাস এবং মিনগুয়েলার সাথে সাক্ষাৎ করেন; মেসির ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য।

তারা একটি চুক্তি করতে সম্মত হলো।নাটকীয়ভাবে, রেক্সাস ওয়েটারকে একটি কলম আর কাগজ দিতে বললেন।ওয়েটার কলম নিয়ে এগিয়ে আসলেও কাগজ এর জন্য এদিক ওদিক খুঁজছিলেন, কিন্তু ফুটবল পরিচালক ন্যাপকিন হোল্ডার থেকে একটি ন্যাপকিন নিয়ে তাতেই চুক্তিপত্র লিখে দিলেন।

পরেরদিন গ্যাগিওলি নোটারির মাধ্যমে এটার আইনগত সত্যতা যাচাই করে নেন।আজ, তিনি এটা একটি ব্যাংকের সেফ ডিপোজিট বক্সে যত্ন সহকারে রেখে দিয়েছেন।এটাতে যতি চিহ্নের কিছু ভুল আছে, মেসির প্রথম নাম আর উপাধি বাদ পড়েছে, কিন্তু চুক্তিপত্রের সত্যতা নির্ণের যা লিখেছে তাই যথেষ্ট।

“যতই দিন যাচ্ছিলো, জর্জ নার্ভাস বোধ করছিলো” বলেন গ্যাগিওলি।”সে লিখিত কিছু চাইছিলো, এমন একটি প্রতিশ্রুতি যেখানে লেখা থাকবে যে বার্সা মেসিকে তাদের একাডেমী তে সাইন করিয়েছে। এই ন্যাপকিনটি তাকে শান্ত করল।সেই সাথে অন্য সবাইকেও।যদি এটাতে সাইন করানো না হতো তাহলে মেসির বার্সেলোনায় খেলা হতো না।আমাদেরকে অন্য ক্লাবেই যেতে হতো।”

রেক্সাস বার্সার যুব একাডেমীর এডমিনিস্ট্রেশন পরিচালক, জোয়ান লাকুয়েভা কে বললেন চুক্তিপত্রের বাকী কাজ সম্পাদন করতে।২০০১ সালের জানুয়ারির ৮ তারিখে লাকুয়েভা রাইফের সাথে ডিনার করলেন এবং মেসির কন্ট্রাক্ট পেপারের সবকিছু ফাইনাল করলেন।

মেসি বছরে ১০০ মিলিয়ন পেসেটা($৬৫৪,০০০) পাবে যদি সে মূল দলে জায়গা করে নিতে পারে, পরবর্তীতে সে তার ইমেজ অনুযায়ী পেমেন্ট পাবে।এটি একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়ের জন্য নতুন অগ্রগতি।

বার্সেলোনা মেসির হরমোনের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করল,তার পরিবার থাকার জন্য তাদের এপার্টমেন্ট ঠিক করে দিলো, এবং জর্জ মেসিকে, বার্সার নিজস্ব সিকিউরিটি ফার্ম, বার্না পরটারসে ৭ মিলিয়ন পেসেটা(প্রায় $৪৫,০০০) বেতনে একটি কাজ ঠিক করে দিলেন।

ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এই সময়ে কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল।বার্সেলোনা মূল দল বার বার ব্যর্থ হচ্ছিল কোন শিরোপা জিততে।বার্সার বিভিন্ন কর্মকর্তা ভয় পাচ্ছিল অপ্রাপ্তবয়স খেলোয়াড় সাইন করানোর তাদেরকে কোন নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয় কিনা।সব কিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিলো না ক্লাবের।

রেক্সাস এবং লাকুয়েভার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিপত্র পেয়ে, ২০০১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, মেসি তার পরিবার নিয়ে বার্সেলোনা চলে আসে; যদিও তখনো মেসির চুক্তিপত্র সাইন করা হয়নি।

মেসির চুক্তি নিয়ে তখনো বার্সেলোনা ক্লাব দ্বিমত পোষণ করছিলো।এমনকি বার্সার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট লাপোর্তা এবং তার সহকারী মুর্তরা, মেসির প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছিলো, তাদের মতে মেসির মতো একজন তরুণ খেলোয়াড়কে সাইন করানোর ইচ্ছে বার্সার মতো ক্লাবের জন্য লজ্জাজনক।ক্লাবের সব কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট এর অফিসে একত্রিত হলো মেসিকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য।

অধিকাংশের মতে মেসিকে সাইন করানো পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না।এতে ক্লাবকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে।মেসি এখনো অনকে ছোট।অনেকেই মেসিকে “ফুটসাল খেলোয়াড়” আখ্যায়িত করল।আরো অনেক অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলো।অনেকেই বলল যদি হরমোনের চিকিৎসা কাজ না করে তখন কি হবে।??? নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ যদি মেসিকে দিতে না চায় তখন কি হবে।???

২০০১ সালের জানুয়ারিতে, নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ মেসিকে আর্জেন্টিনা ফুটবল এসোসিয়েশনে রেজিস্টার করাতে চাইলো।আর্জেন্টিনায়, ছেলেদের বয়স ১৩ অথবা ১৪ বছরের কম হলে খেলার অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেনা।মেসি পুরো শীতকাল ওদের সাথে খেলেছিলো।নিউয়েলস ক্লাব যদি মেসিকে রেজিস্টার করায়, তাহলে বার্সাকে মেসির জন্য ট্রান্সফার ফী দিতে হবে।

“তর্কাতর্কি ছাড়া কিভাবে মেসিকে নিউয়েলস থেকে বার্সায় আনা যায় এটা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম আমরা” বলেন পারেরা, বার্সার প্রাক্তন পরিচালক।”এটা পরিষ্কার ছিলোনা মেসি বার্সার হয়ে খেলতে পারার জন্য মুক্ত কিনা, যদি তার সঠিক কাগজপত্র থেকে থাকে।আমি এখনকার কথা জানিনা, তবে আমাদের যুগে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা প্রমাণপত্র যথেষ্ট সন্দেহ ছিলো” তিনি আরো যোগ করেন।

ফিফা এগিয়ে আসলো বিষয়টিকে আইনগত ভাবে মীমাংসা করার জন্য।

এমতাবস্থায়, মেসি ফুটবল অবরোধের মধ্যে ছিলো, যদি কন্ট্রাক্ট পেপার সাইন করে তবুও মেসি বার্সার হয়ে খেলতে অমনোনয়ন যোগ্য ছিলো।”বিষয়টি ছিলো অনেক জটিল” বলেন পারেরা।

“সত্যি কথা হলো আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম মেসিকে সাইন না করার ব্যাপারে, কিন্তু জোয়ান লাকুয়েভা, বারবার সাইন করানোর ব্যাপারে জোর দিয়ে বলতেই লাগলেন যতক্ষণ না ব্যাপারটি নিয়ে অন্যদের মনেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়।”

লাকুয়েভা তার কথায় অনড় ছিলেন।”তোমরা ফুটবল সম্পর্কে কিছুই জানো না” সে জোরে জোরে বলতে লাগলেন।”ইতিহাস তোমাদের বিচার করবে” সে বলতে লাগল।মিনগুয়েলা ও লাকুয়েভার পক্ষ নিলো, হুমকি দিলো বার্সা যদি মেসিকে সাইন না করায় তাহলে মেসিকে অন্য ক্লাবে নিয়ে যাবে।

শেষ পর্যন্ত, লাকুয়েভা, যিনি ২০১৪ সালে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, তিনিই জয়ী হলেন।”আমাদের সিদ্ধান্ত ‘না’ হতো, যদি লাকুয়েভা মেসিকে সাইন করানোর জিদ না দেখাতো” বলেন পারেরা।

“লাকুয়েভা হচ্ছে বার্সার মেসির ‘ট্রু ফাদার’; পাশাপাশি মিনগুয়েলা এবং গ্যাগিওলি যদি না থাকত, তাহলে কেউই মেসির জন্য লাকুয়েভার অবদান জানতো না।”

গাসপার্ট, তার কাজিন ফ্রান্সিসকো ক্লোসা, যিনি এডমিনিস্ট্রেশন এর ভাইস প্রেসিডেন্ট, তাকে বললেন কন্ট্রাক্ট পেপারে মেসির সাইন নেয়ার জন্য।”আমি উকিল নই, কিন্তু মেসি যদি তার মন পরিবর্তন করে বার্সেলোনায় সাইন করতে না চায় এবং আমরা কোর্টে যাবো ‘ন্যাপকিন’ নিয়ে, এটা সত্যিই অনেক কঠিন হবে কোর্টে বিচারককে সন্তুষ্ট করা যে একটি তেরো বছরের ছেলে বার্সেলোনায় খেলতে বাধ্য করা হচ্ছে কারণ তার রিপ্রেজেন্টেটিভ তার হয়ে ন্যাপকিনে সাইন করেছেন। এটা একটা সুন্দর গল্প, কিন্তু মেসিকে সত্যিকার কাগজে সাইন করিয়েছেন ফ্রান্সিসকো ক্লোসা।”

সামনে আরো ঝামেলা অপেক্ষা করছিলো মেসির জন্য।যখন মেসি এবং তার পরিবার দুই সপ্তাহ ধরে হোটেলে অবস্থান করছিলো ; অপেক্ষায় ছিলো তাদের জন্য ঠিক করা এপার্টমেন্ট এ যাওয়ার এবং মেসির কন্ট্রাক্ট পেপার সাইন করার, তখন ক্লাব মেসির হরমোন চিকিৎসার টাকা দিতে ব্যর্থ হলো।এটা ছিলো ক্লাবের একটি বাজে আচরণ।মেসির প্রথম ডোজের টাকা দেয় লাকুয়েভা, যার খরচ প্রায় ২০০০ ইউরো, এটা তিনি তার নিজ পকেট থেকেই দেন (যদিও ক্লাব পরে টাকাটা পরিশোধ করে দেয়)।

২০০১ সালের পহেলা মার্চ, লাকুয়েভা কন্ট্রাক্ট পেপারে সাইন করানোর জন্য একটি রেস্টুরেন্ট এ দেখা করেন। দুই পক্ষের উকিল এবং ক্লোসা ও এতে সাইন করেন।চুক্তিপত্র কে অফিশিয়াল করার জন্য অন্য একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট, জুগান ইগানচিয়ো ব্রুগুয়েরাস, যিনি মেসিকে সাইন করানোর বিপক্ষে ছিলেন তাকে সাইন করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি সাইন করতে অস্বীকৃতি জানান এবং চুক্তিপত্র টি ছিড়ে ফেলেন।তবুও, ক্লাব চুক্তিপত্র টি মেনে নেয়; কিন্তু কাহিনী এখানেই শেষ নয়।

২০০১ সালের পহেলা মার্চেই, কাতালান ফুটবল ফেডারেশন মেসিকে প্রভিশনাল লাইসেন্স প্রদান করে।মেসি কাতালান লীগ এবং ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে পারবে, কিন্তু স্পেনের জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।সমস্যা হলো নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাব মেসির আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার এর কাগজপত্র জমা দিতে দেরী করেছিল।

কয়েক সপ্তাহ পরে, কাতালান লীগে মেসির দ্বিতীয় খেলায় মেসি ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয় এবং সুস্থ হতে তার ২ মাস লাগে।সুস্থ হওয়ার পরে মেসি আবারো ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়..এমতাবস্থায় মেসির পরিবারের বার্সায় সেটেল হওয়া কঠিন হয়ে যায়।

২০০১ সালের গ্রীস্মের ছুটি শেষে মেসি আর তার বাবা বার্সায় ফিরে আসলেও তার পরিবারের আর্জেন্টিনা থেকে যায়।

“এটা প্রকাশ করে যে, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার জন্য মেসি সবকিছু অতিক্রম করতে পারবে।সে পরিবারের সাথে থাকার চেয়েও বেশী চেয়েছিলো ফুটবল খেলতে।এ থেকেই বুঝা যায় খেলার প্রতি তার আগ্রহ কত বেশী শক্তিশালী ছিলো” বলেন লওরেন্স।

আগস্টে মেসি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে রোজারিও ফিরে থেকে এলো, কিন্তু মেসি তখনও বার্সার হয়ে কোন অফিসিয়াল ম্যাচ খেলতে পারছিলো না; কারণ নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ তখনো মেসির ট্রান্সফার অনুমোদন করেনি।

২০০১ সালের শেষের দিকে, জ্যাভিয়ের পেরেজ ফার্গুয়েল কে যখন বার্সার নতুন পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হলো তখন তিনি মেসির প্রতি সীজনে ১০০ মিলিয়ন পেশেটার(প্রায় ৬০০০০০ ইউরো) চুক্তি দেখে অবাক হয়ে গেল; কারণ মেসি তখনও ক্লাবের হয়ে কোন অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেনি।তিনি মেসির পেমেন্ট প্রতি সীজনে ২০ মিলিয়ন পেশেটায় কমিয়ে আনলেন।দুই পক্ষ আবার সমঝোতার জন্য বসল।এদিকে, তৃতীয় পক্ষ, রিয়াল মাদ্রিদ অপেক্ষা করছিলো সমঝোতা না মেসিকে প্রতি সীজনে ২০মিলয়ন পেশেটা বা তারো বেশী অথবা মেসির বাবা যেভাবে চায় ওইভাবে মেসিকে সাইন করানোর জন্য।

বার্সার একজন পরিচালক বলল, “কে সে??? সে কি ম্যারাডোনা।??? যার জন্য এতো টাকা খরচ করতে হবে।??? চুক্তি না মানলে তাকে আবার আর্জেন্টিনায় পাঠিয়ে দেয়া হোক।”

কিন্তু যখন মেসির একজন রিপ্রেজেন্টেটিভ বলল, ” ঠিক আছে তাহলে আমরা রিয়ালে মাদ্রিদেই যাবো।।।” একথা শুনে বার্সার পরিচালক চুপ হয়ে গেলো এবং চুক্তি করতে সম্মত হলো।।।

২০০২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী, মিনগুয়েলা মেসির একটি ভিডিও ফুটেজ পেলো, যেখানে ফিফা তাদের রায় বার্সার পক্ষেই দিয়েছে; এর ফলে মেসির এখন বার্সার হয়ে সব ধরণের ম্যাচ খেলতে আর কোন বাধা রইলো না।।।

২০০২ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি, মেসি এসপ্লুগুয়েস দে লোব্রেগাট এর বিপক্ষে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নস লীগে তার প্রথম ম্যাচ খেলে।দ্বিতীয়ার্ধে মেসি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলা শুরু করে এবং তিন গোল করে।।।

যদিও অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে, তবুও শেষ পর্যন্ত, ১৪ বছরের একটি ছেলে দৃঢ়ভাবে তার খ্যাতি ছড়ানোর পথ তৈরি করতে পেরেছে।। তথ্যসূত্রঃ বিডিবার্সা.কম