রাজীবের দুই ভাইয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে চায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

0
37

সড়ক দুর্ঘটনায় সদ্যপ্রয়াত রাজীবের দুই ভাইয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আমাদের সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা রাজীবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যদি তার পরিবার রাজি হয় তাহলে তাদেরকে মিরপুরের শিশুপল্লীতে রেখে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দ্বীতল বাসের পেছনের গেটে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন তিতুমীর কলেজের ওই ছাত্র। তার হাতটি সামান্য বাইরে বেরিয়ে ছিল। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হঠাৎই পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসি বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাম দিকে গা ঘেঁষে পড়ে। এতে দুই বাসের চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৩ দিন পরে সোমবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি মারা যান। মঙ্গলবার দুপুরে জোহর নামাজের পর হাইকোর্ট মসজিদে রাজীবের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।পরে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজীবের মরদেহ পটুয়াখালীর বাউফলে পৌঁছায়। এ সময় নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব সবার বড়। এছাড়া ছোট দুই ভাই বাপ্পি ৮ম শ্রেণি এবং হৃদয় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।রাজীবের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মারা যায়। তাদের মৃত্যুর পর বড় খালা জাহানারা বেগম বোনের তিন ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যান। ঢাকায় খালার বাড়িতে থেকেই তিন ভাই লেখাপড়া করে আসছিলেন। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে স্নাতকে ভর্তি হন রাজীব। পড়ালেখার ফাঁকে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে নিজের আর দুই ভাইয়ের খরচ চালানোর সংগ্রাম করে আসছিলেন রাজীব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here