লন্ডনে হাসিনা-মোদি বৈঠক

27

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক । লন্ডনের ল্যাংকাস্টিন হাউজে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত।

ভারতীয় সরকারি সংবাদসংস্থা পিটিআই এক প্রতিবেদনে বলছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে বসা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও সিচেলিসসহ কমপক্ষে ১০টি দেশের প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন নরেন্দ্র মোদি।

কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসে এ সম্মেলন চলছে।

প্রায় এক বছর আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে তৃতীয় কোনো দেশেও তারা মুখোমুখি হননি। এ বছর বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে লন্ডনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককে বর্তমান সরকারের আমলে শেষ শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে ভারত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায়। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপে চীনের অর্থনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। এসব বিষয়ে সতর্ক নজর রেখেছে ভারত। দেশটি চায় এই অঞ্চলের চালকের আসনটি নিজের হাতে রাখতে।

এ কারণে ‘বিশেষ বন্ধু’ বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত। আঞ্চলিক রাজনীতিতে ঢাকাকে নয়াদিল্লির পাশেও চায় মোদি সরকার। কিন্তু চীনের সঙ্গে ঢাকার সাম্প্রতিক সম্পর্ক নিয়েও চিন্তিত দেশটি। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সকল সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে তার প্রতিও সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে দিল্লি।

ফলে মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন দুই প্রধানমন্ত্রী, এমনটাই বলছেন কূটনৈতিক সূত্র।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১টায় সৌদি সরকারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লুটন বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ তার দেওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া শনিবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক অভ্যর্থনা সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২১ এপ্রিল বৃটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্মদিন উপলক্ষ্যে রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি আয়োজিত একটি কনসার্টেও যোগ দেবেন তিনি।

লন্ডন যাওয়ার আগে দুই দিনের সরকারি সফরে সৌদি আরবে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে এক যৌথ সামরিক মহড়ার কুচকাওয়াজ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

যুক্তরাজ্য সফর শেষে ২২ এপ্রিল লন্ডনের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ এপ্রিল সকাল সোয়া ৯টায় দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।