পলিথিনের অবৈধ উৎপাদন ও বিপনণ বন্ধে আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে সেপ

পরিবেশ দূষণরোধে পলিথিনের অবৈধ উৎপাদন ও বিপনণ বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্বব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে চেঞ্জ দ্যা আর্থ ফর পিপল (সেপ) আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সহ সভাপতি আবু জাফর মল্লিকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বন অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট সালাহ উদ্দিন ভুইয়া, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন ভুঁইয়া, মাহমুদুল হাসান শাকুরী, জাতীয় নদী অলিম্পিয়াড আরিয়ান ইমন, স্বর্ণা মনি, ফারজানা শেফা, আরিফুল ইসলাম, হাসান আল বান্না, মাহফুজ বিন শাকুরী, স্বপন আহমেদ, ইজাজ শাকের, রাকিব রুপ, শিহাব, রেজাউল করীম এবং মেহেদী হাসান প্রমুখ।

মো. ইউনুস আলী বলেন, আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অবাধে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। বর্তমানে পলিথিনের কাঁচামাল দিয়ে এক ধরনের টিস্যু পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদনকারীরা বলছে এটা ‘পরিবেশ বান্ধব’। কিন্তু পলিথিনের মতই টিস্যু পলিথিন পরিবেশের জন্য ‘মারাত্মক ক্ষতিকর’। অবিলম্বে পলিথিন ব্যাগ ও টিস্যু পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে পলিথিনের কাচা মালের অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, পলিথিনের বিকল্প পরিবেশ বান্ধব কাগজ, চট ও কাপড়ের শপিং ব্যাগ ব্যবহারে জনসচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণা জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এডভোকেট সালাহ উদ্দিন ভুইয়া বলেন, এক জরিপে দেখা গেছে ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসেবে শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো দ্বারা ড্রেন, নালা-নর্দমা, খাল, ডোবা ইত্যাদি ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘পলিথিন একটি নীরব ঘাতক। পলিথিন শত শত বছর পড়ে থাকলেও পচবে না বা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে না। আর নগরজীবনে পলিথিনের সবচেয়ে ক্ষতিকারক দিক হলো, যত্রতত্র পলিথিন ফেলে রাখলে তা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটায়। ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের ৮০ ভাগ ড্রেন পলিথিন ব্যাগ কর্তৃক জমাট বেধে আছে। আর এসব রোধ করতেই পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

মাহমুদুল হাসান বলেন, পলিথিনের স্তর নদীর তলদেশের পলি আটকিয়ে শুধু নদীর নাব্যতাই নষ্ট করছে না বরং মাছ ও জীববৈচিত্র ধ্বংস করে পানিতে স্বাভাবিক অক্সিজেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস করছে। পলিথিন অপচনশীল বলে দীর্ঘদিন প্রকৃতিতে অবিকৃত অবস্থায় থাকে। যা মাটিতে সূর্যলোক, পানি ও অন্যান্য উপাদান প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে যত্রতত্র পলিথিনের ব্যবহার জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আজই সারাদেশ থেকে পলিথিনের মূলোৎপাটন করার লক্ষে পলিথিন নিষিদ্ধের আইন কার্যকর করা জরুরি। পলিথিনের স্থলে কাগজ ও চটের ব্যাগ, যা সহজেই মাটিতে মিশে যায়, সেগুলো ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে। তাছাড়া এগুলো পচলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য, সেপ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন কর্মসুচি বাস্তবায়ন করে আসেছে। সেই সাথে পথশিশুদের নিয়ে স্কুল কার্যক্রম ও অসহায় দু:স্থদের চিকিৎসা সেবার ভার বহন করে আসছে।