
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। মনোনয়ন জমা শেষে জামায়াত ইসলামী জানায়, সরকার ভুল করলে বিরোধী দলের সঙ্গে সোচ্চার থাকবে নারী সংসদ সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমের সামনে জোটের ভবিষ্যৎ সংসদীয় ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যদি সরকার ভুল পথে পরিচালিত হয় কিংবা কোনো অন্যায় ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে অন্যান্য বিরোধীদলীয় সদস্যদের মতো তাদের নারী সদস্যরাও সংসদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন। সংসদের অপরাপর বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্যের সঙ্গে তাদের এই ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন সদস্য একসঙ্গে জনগণের পক্ষে কাজ করবেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমাদের জোটের জমা দেওয়া তালিকার বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় এই ১৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। যেহেতু সরাসরি নির্বাচন শেষ হতে যাচ্ছে এবং পার্লামেন্ট চলছে, তাই দ্রুততম সময়ে নারী প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ ও সংসদে যোগদান জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি, কমিশন কোনো ভিন্ন পরিস্থিতির অবতারণা না করে সঠিক সময়ে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবে যাতে নারী সদস্যরা সংবিধান প্রদত্ত পূর্ণ ক্ষমতা ও সুযোগ ব্যবহার করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।
সংসদে জোটের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুরুতেই ঘোষণা করেছেন যে সব ন্যায়সম্মত ও জনকল্যাণকর কাজে তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোট থেকে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হলেন— নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ, সামসুন নাহার, মনিরা শারমিন, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম এবং জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়। আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই হবে এবং কোনো প্রার্থী চাইলে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল এবং ভোটের জন্য ১২ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।









