ইরান চায় হরমুজ খোলা থাকুক, কিন্তু সেক্ষেত্রে চুক্তি হবে না : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার পক্ষে; কারণ হরমুজে মার্কিন অবরোধের কারণে প্রতিদিন তাদের কোটি কোটি ডলার লোকসান হচ্ছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে, তাহলে তেহরানকে শান্তি চুক্তিতে আনা সম্ভব হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকুক— এমনটা ইরানও চায় না। তারা চায় এটি খোলা থাকুক— যেন প্রতিদিন তারা এই প্রণালি থেকে ৫০ কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে। যেহেতু আমি এই প্রণালি পুরোপুরি অবরোধের নির্দেশ দিয়েছি— তাই এখন নিজেদের ‘মুখ বাঁচাতে’ তারাও হরমুজ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেছেন যে ইরান যে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার পক্ষে— তা তিনি জানতে পেরেছেন তিন থেকে চার দিন আগে; তবে ইরানের ইচ্ছা মেনে নিয়ে যদি এই প্রণালি খোলা রাখা হয়— সেক্ষেত্রে ইরানকে শান্তি চুক্তিতে আনা প্রায় ‘অসম্ভব’ হয়ে উঠবে।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “চার দিন আগে লোকজন এ ব্যাপারে আমাকে অনুরোধ করেছিল। তারা বলেছিল, ‘স্যার, ইরান যত শিগগির সম্ভব হরমুজ থেকে অবরোধের প্রত্যাহার চায়’, কিন্তু যদি আমরা এখন তা করি— তাহলে ইরানের সঙ্গে চুক্তি আর সম্ভব হবে না।”

“সেক্ষেত্রে হয়তো চুক্তির জন্য পুরো ইরানকে, তাদের নেতৃবৃন্দসহ— আমাদের উড়িয়ে দিতে হবে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল— ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের উত্তেজনা স্থায়ীভাবে প্রশমণের জন্য সংলাপ একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল এই যুদ্ধবিরতি।

বিরতির তৃতীয় দিন ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা; কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি উভয়পক্ষের মধ্যে।

ইসলামাবাদ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরের দিন হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে অবরোধ জারির নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সূত্র : সিএনএন, এএফপি