
দেশের একমাত্র পুরোদস্তুর চালুরত টারশিয়ারি লেভেলের চিকিৎসাকেন্দ্র বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল)-সংক্রান্ত নতুন বিল নিয়ে সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই বিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করার প্রক্রিয়া শুরু হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। বর্তমানে দেশে আরও কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সেগুলোর পুরোদস্তুর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এখনো সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই অবস্থায় মূল প্রতিষ্ঠানটিকে যদি প্রফিট ও নন-প্রফিট কনসার্নে ভাগ করে শেয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসার খরচ বাড়বে।
তিনি বলেন, চলতি অধিবেশনে বাজেট পাস করার সময় জনগণের পকেট মানি (চিকিৎসা ব্যয়) কমানোর জন্য আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি, যা সবাই সমর্থন করেছে। কিন্তু এই বিলের চেতনা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানে কোনো কোম্পানি ইনভেস্ট করলে এবং প্রফিট জেনারেট করতে চাইলে একটা ‘আনহেলদি কম্পিটিশন’ (অসুস্থ প্রতিযোগিতা) তৈরি হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের প্রাপ্তির চাইতে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রাপ্তি বা লাভ বেশি হওয়ার বড় আশঙ্কা রয়েছে।
স্পিকার এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিলটি কেবল উপস্থাপিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যখন এটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনার জন্য আসবে, তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য তাকে দীর্ঘ সময় দেওয়া হবে।
এদিকে বিলটি উপস্থাপনের পরপরই সংসদের বিশেষ কমিটির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ দাঁড়ান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিলের কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে যথাসময়ে সভার নোটিশ দেওয়া হয়নি।
রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল ১০টায় কমিটির মিটিং, অথচ আমাকে কমিটির সভাপতির পিএস ফোন দিয়েছেন ১০টা ১৯ মিনিটে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে আমাকে একটি মেসেজ পাঠানো হয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির মিটিংয়ের খবর কি এভাবে ৪০ মিনিট আগে মেসেজে দেওয়া হয়? এত কম সময়ে প্র্যাক্টিক্যালি আমার পক্ষে উপস্থিত হওয়া সম্ভব ছিল না।
সংসদ সদস্যের এই অভিযোগের পর স্পিকার অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিশেষ কমিটির সভাপতিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও যত্নবান ও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন।








