মার্চেন্ডাইজার জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার মো. জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধন করেছেন শতাধিক পোশাকশিল্পের মার্চেন্ডাইজার।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে মার্চেন্ডাইজিং ব্রাদারহুড অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমবিএবিডি) আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মার্চেন্ডাইজার, শিল্পসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জামাল উদ্দিনের ছবি ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁরা তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং পোশাকশিল্পে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। কর্মসূচি শেষে বিজিএমইএ সভাপতির উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা।

গত ১৪ অক্টোবর আশুলিয়ার নরসিংহপুরে শারমিন গ্রুপের একটি কারখানা ভবন থেকে পড়ে জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হতো। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সহকর্মী ও সংগঠনের নেতারা।

স্মারকলিপিতে জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ, শর্তহীন মানবিক আর্থিক সহায়তা এবং সন্তানদের শিক্ষার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কর্মক্ষেত্রে অপমান, শারীরিক লাঞ্ছনা, হুমকি ও প্রতিশোধমূলক আচরণের বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা নীতি গ্রহণের দাবি তোলা হয়। পোশাকশিল্পের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে লিখিত আচরণবিধি, গোপনীয়ভাবে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং জবাবদিহির কাঠামো চালুর পাশাপাশি বাস্তবসম্মত কর্মঘণ্টা, কাজের চাপ ব্যবস্থাপনা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে ৭, ১৫ ও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ধাপে ধাপে লিখিত জবাব ও কর্মপরিকল্পনা দেওয়ার জন্য বিজিএমইএর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিজিএমইএর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজওয়ান সেলিম এবং পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান পিন্টু। এ সময় তাঁরা বলেন, “যেহেতু ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে, তাই আইনগতভাবে আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, সর্বোচ্চ সহযোগিতা আমরা করব, যাতে নিরপেক্ষ তদন্ত হয় এবং প্রমাণিত দোষীদের শাস্তি হয়।”

এমবিএবিডির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নিজাম উদ্দিন দিপু বলেন, “জামাল উদ্দিন শিহাব অত্যন্ত ভালো ও ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুতে মার্চেন্ডাইজার সমাজ গভীরভাবে শোকাহত। আমরা কারও বিরুদ্ধে আগাম অভিযোগ করতে চাই না। আমরা চাই, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশিত হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি আরও বলেন, “পোশাকশিল্পের প্রতিটি পেশাজীবীর জন্য নিরাপদ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

এমবিএবিডির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিবে।