জামায়াত কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম, যা আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন— বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, তিনি বা তার দল কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যবেক্ষক, বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ও পত্রপত্রিকা-মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে, এই নির্বাচনটি ছিল বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচেয়ে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনপ্রিয়তা যাচাই করে বিএনপি ২১৩টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য আমরা শুধু প্রত্যাখ্যানই করছি না, নিন্দা জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে ওই শক্তির (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষ থেকেই একটা ধূম্রজাল ও বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার যে সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দিয়ে তারা (জামায়াত) দেশে আবার একটি ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী শাসনের পাঁয়তারা করছে কি না— সেটা দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের অতীত ইতিহাস আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। সেই কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, আমাদেরকে সেভাবেই কাজ করতে হবে।’

পহেলা মে শ্রমিক সমাবেশ, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী মহান মে দিবসে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে তা সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘১ মে দুপুর ২টায় এই সমাবেশ হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশটি সফল করতে আমরা দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকাতে আমরা এই দিবসটিকে একটি উৎসবের দিন এবং একইসঙ্গে রাজনৈতিক শপথ গ্রহণের দিন হিসেবে নিতে চাই। জেলা ও উপজেলা ইউনিটগুলোকেও একইভাবে দিবসটি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে অফুরন্ত মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা ও ফেক ইনফরমেশন ছড়িয়ে বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখনো দেখবেন, বিভিন্ন কার্টুন তৈরি করে দেশে একটা অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত অবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। ছাত্র রাজনীতিতেও এ ধরনের কলুষিত অবস্থা তৈরির প্রচেষ্টার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের স্বাধীন ও সচেতন ছাত্র সমাজ এবং জনগণ বরাবরই অপরাজনীতিকে পরিহার করেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপকর্ম তারা প্রতিরোধ করবে।