
“স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদ, নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাবি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ফাইটোপ্যাথোলজিক্যাল সোসাইটির যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ স্বাস্থ্য দিবস ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ মে পালিত হয়ে আসছে। তবে সুবিধাজনক সময় বিবেচনায় এ বছর শেকৃবিতে দিবসটি ১৩ মে পালন করা হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। কারণ উদ্ভিদ থেকেই পৃথিবীর প্রায় ৯৮ শতাংশ অক্সিজেন এবং ৮০ শতাংশ খাদ্য উৎপন্ন হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ পোকামাকড় ও উদ্ভিদের রোগের কারণে নষ্ট হয়ে যায়, যার অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ২২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শেকৃবির প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন এম. চৌধুরী। তিনি উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়োসিকিউরিটির গুরুত্ব এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
বিশেষ করে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ক্ষতিকর পোকা, যেমন ফ্রুটস আর্মিওয়ার্ম এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান। সহকারী বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ক্যাবির দক্ষিণ এশিয়ার ক্রপ হেলথ অ্যাডভাইজার ড. মঞ্জু ঠাকুর। তিনি টেকসই পোকা ব্যবস্থাপনা এবং বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতির মাধ্যমে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল সোসাইটির ফেলো ড. মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রজ্জব আলী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বি এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিন উদ্দিন মৃধা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিমিট বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ওয়েন ডানকান কালভার্ট, ক্যাবি বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. মো. সালেহ আহমেদ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনসের নির্বাহী পরিচালক ড. রবি ক্ষেত্রপাল।
সভাপতির বক্তব্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন “ওয়ান হেলথ” পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উদ্ভিদ, প্রাণী, মানুষ ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। তাই নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গবেষণা, বিনিয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
আলোচনা সভায় বক্তারা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ স্বাস্থ্য মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।









