
শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্বশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে প্রস্তুত করে তুলতে জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘How to Become a Self Learner: Skills for Lifelong Learning and Career Success’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের Career and Skill Development Club-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে স্বশিক্ষার গুরুত্ব, আজীবন শেখার মানসিকতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সিএসই বিভাগের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আমেনা সারার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আক্তারুল ইসলাম।
সেমিনারে স্পিকার হিসেবে বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা দেন ব্যবসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শহীদুর রহমান খান, আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. হোসেন মোহাম্মদ জাকির, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সনেট কুমার সাহা এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইসরাত জাহান।
বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করে কর্মজীবনে সফল হওয়া সম্ভব নয়। প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
তাদের মতে, নিজের আগ্রহ, লক্ষ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নিজের শেখার দায়িত্ব নিজেই নিতে পারে। আর এ ধরনের স্বশিক্ষার অভ্যাস ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন বলেন, “একজন সফল শিক্ষার্থী শুধু শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান অর্জন করে না; বরং নিজের কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মোঃ আক্তারুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতের কর্মজীবনে সফল হতে হলে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তনকে গ্রহণ করার সক্ষমতা ও নতুন জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ থাকতে হবে। তিনি নিয়মিত বই পড়া, গবেষণায় মনোযোগী হওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
সেমিনারে স্বশিক্ষার বিভিন্ন কৌশল, সময় ব্যবস্থাপনা, লক্ষ্য নির্ধারণ, অনলাইন রিসোর্সের কার্যকর ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাদের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেন বক্তারা।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, Career and Skill Development Club-এর সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
আয়োজক ও বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের স্বশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









