চারবার প্রত্যাখ্যানের পর আবারও ৬৫ পদ নিয়ে জনপ্রশাসনে ইসি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চারবার অসম্মতি প্রকাশ করে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পরও হাল ছাড়েনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মাঠপর্যায়ের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম পদমর্যাদা বৈষম্য দূর করতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মোট ৬৫টি পদ ৬ষ্ঠ থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার পুনর্প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও শৃঙ্খলা কাটাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ৪৫টি পদ এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগের প্রস্তাব এর আগে চারবার প্রত্যাখান করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছে জনপ্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে জেলা নির্বাচন অফিসার পদে কর্মকর্তারা ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বেতন স্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রস্তাবিত কাঠামোতে তাদের গ্রেড-৫ এবং বেতনস্কেল ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকায় উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ১৯টিতে ৫ম গ্রেডের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার এবং বাকি ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের জেলা নির্বাচন অফিসার কাজ করছেন। একই কাজের পরিধি হওয়া সত্ত্বেও এই বৈষম্য যেমন প্রশাসনিক সমন্বয়ে বাধা তৈরি করছে, তেমনি সম্প্রতি ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নতুন পদ তৈরি হওয়ায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও অধীন কর্মকর্তা একই গ্রেডের হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ বর্তমানে ৬ষ্ঠ গ্রেডে রয়েছে, যা ৫ম গ্রেডে উন্নীত করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অবর্তমানে তারা মূল দায়িত্ব পালন করেন এবং অন্যান্য বিভাগীয় দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পদমর্যাদার সমতা আনতেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ৬৫টি পদের গ্রেড ও বেতনস্কেল উন্নীত করা হলে সরকারের বাড়তি কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না এবং এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে।