বগুড়ার বিতর্কিত দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বগুড়ার নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে ইউনিয়ন দুটির নামকরণ করা হয়েছে’—এমন অভিযোগ ও বিতর্কের পর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে মৌখিকভাবে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে বলেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত নির্দেশনা পৌঁছায়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে নামগুলো পরিবর্তনের জন্য বলেছেন। লিখিত চিঠি পরে আসতে পারে। তবে মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছি, তাই আমরা প্রক্রিয়া শুরু করব।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। গণশুনানিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়নের নতুন নাম নির্ধারণ করা হতে পারে।

তৌফিকুর রহমান বলেন, ইউএনও আবার গণশুনানি করবেন। যেসব ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে, সেখানে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ওই দিন স্থানীয় জনগণ উপস্থিত থাকবেন। গণশুনানির মাধ্যমে যে নাম প্রস্তাবিত হবে, সেটিই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এর আগে, গত ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয় মীরবাড়ী।

অন্যদিকে, মোকামতলা উপজেলায় গঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম। নতুন চার ইউনিয়নের মধ্যে মীরবাড়ী, সীমান্ত ও দিগন্ত নাম নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম মীরবাড়ী। পাশাপাশি তার বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল রেখে সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে নামকরণ প্রক্রিয়া এবং গণশুনানির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে।