বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
Home Blog Page 109

বিএনপি নেতা ডোনার লিফলেট বিতরণকালে আটক

বিএনপি নেতা ডোনার লিফলেট বিতরণকালে আটক

Bangladesh Nationalist Party

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফরহাদ হালিম ডোনারকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। রোববার (১ এপ্রিল) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় লিফলেট বিতরণের সময় তাকে আটক করা হয়।

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে মহাখালী এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করতে যান স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে ছিলেন ফরহাদ হালিম ডোনার। সেখান থেকেই ডোনারকে আটক করা হয়।

এদিকে রাজধানীর উত্তরায় আজমপুর এলাকায় স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য আব্দুল মঈন খান, মিরপুরের পল্লবী-রূপনগর এলাকায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, মিরপুর কাজী পাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জা‌হিদ, মিরপুর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা মা‌র্কে‌টে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রচারপত্র বিতর‌ণ ক‌রে‌ছেন বলে বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের ভোটার নন তারেক-জোবাইদা!

তারেক রহমান

বাংলাদেশের ভোটার নন তারেক-জোবাইদা!

তারেক রহমান

বাংলাদেশের ভোটার নন লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। ফলে চাইলেও আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না তারা দু’জন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে এবং দু’টি মামলায় তার ১৭ বছরের সাজা হয়।যদি আদালত তার সাজা স্থগিত করে,  তারপরও তিনি বাংলাদেশের ভোটার না হওয়ার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য থাকবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনানুযায়ী কেবলমাত্র ভোটারাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলেন, দশ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান এখনো ভোটার হননি। ভোটার হতে হলে সশরীরে বাংলাদেশে উপস্থিত হতে হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হয়, সার্ভারে সরাসরি আলোকচিত্র ধারণ করতে দিতে হয়। ডা. জোবাইদা রহমানও ভোটার না হওয়ার কারণে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রণীত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘কোনো নির্বাচনী এলাকার যে কোনো ভোটার উক্ত এলাকার সদস্য নির্বাচনের জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬ (১) এর অধীন সদস্য হওয়ার যোগ্য যে কোনো ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারবেন, তবে শর্ত থাকে যে কোনো ব্যক্তি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকেন।’

সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেননা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংসদ গঠিত হয় ২৯ জানুয়ারি। বিদ্যমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন পূর্বে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে।

ইসির সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা, জোবাইদা রহমান এখনো ভোটার হননি। ইসির তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত সাড়ে ১০ কোটি ভোটারের মধ্যে তারেক রহমান এবং জোবাইদা রহমানের ভোটার হওয়ার তথ্য নেই। সম্ভাব্য ভোটার এলাকা হিসাবে ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল হোসেন রোড এবং বগুড়ার গাবতলী এবং তারেক রহমান, জোবাইদা রহমানের পিতা-মাতার নাম যোগ করে অনুসন্ধান করে তাদের ভোটার হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রও তারেক রহমান এবং জোবাইদা রহমানের ভোটার না হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময় বিএনপি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন কারা অন্তরীণ ছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিত্সার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যান। যদিও বিশেষ কারাগারে অন্তরীণ থাকার পরও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ভোটার হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ভোটার হওয়ার সময় ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন ক্যান্টনমেন্ট-১ (শহীদ মইনুল হোসেন রোডের বাসভবন)।

তারেক রহমান এবং জোবাইদা রহমান প্রবাসী বাংলাদেশি। ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১২ এর ১১ ধারা অনুযায়ী প্রবাসী কয়েদি, আইনগত হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা ভোটার হতে পারবেন। সাধারণ রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা সংশ্লিষ্টদের ভোটার করতে পারবেন। তবে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের এখনো পর্যন্ত ভোটার করা হয়নি। সাধারণত প্রবাসীরা দেশে সশরীরে হাজির হয়ে ভোটার হতে পারেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সহসা দেশে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে কমিশন বৃহত্স্বার্থে প্রবাসে অবস্থিত প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এই প্রক্রিয়ায় তিনি ভোটার হতে পারবেন। যদিও বিষয়টি অনেক কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবুল হোসেন আকল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ছাত্রলীগ সেক্রেটারী

আবুল হোসেন আকল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ছাত্রলীগ সেক্রেটারী

আগামী মে মাসেই ছাত্রলীগের সম্মেলন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ও আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের উপজেলা সভাপতি হাজী আবুল হোসেন আকল মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা শহর থেকে সাইফুল ইসলাম রুবেলকে আটক করা হয়। এছাড়াও এ ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে.এম আজমিরুজ্জামান বলেন, এ মামলাটি হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। মামলাটির তদন্তের স্বার্থে অনেকই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরমধ্যে উপজেলা সাবেক ছাত্রলীগের এ নেতাকেও আটক করার কথা শুনেছি। তবে বিষয়টি পুরোপুরি ডিবি পুলিশ বলতে পারবে।

১ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে আবুল হোসেন আকল মিয়া নিজ বাসা থেকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাল্লা রোডস্থ আল মদিনা মসজিদে যাওয়ার পথে এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। ২ মার্চ শুক্রবার দিবাগত রাতে নিহতের ছেলে নাজমুল ইসলাম বকুল বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৬ জনের নামে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে আসামীরা হলেন, ব্যবসায়ী রঞ্জন পাল, পৌর কাউন্সিলর চন্দনা গ্রামের কুতুব আলী ও মা ভেরাইটিজ স্টোরের মালিক জসিম উদ্দিন শামীম এবং সিএনজি চালক সুমন মিয়া।

এদিকে পুলিশ ঘটনার দিন সকালে একটি সিএনজি শহরের সতং রোড এলাকা থেকে উদ্ধার করে। সিএনজিটি আটকের দুই দিনের মাথায় চালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। সিএনজিটি সুমনের ভাড়াকৃত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার বাদী নাজমুল ইসলাম বকুল বলেন, তার পিতা চুনারুঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও আহলে সুন্নাতওয়াল জামাত উপজেলার সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন যাবত একজন বিশিষ্ট মুরব্বী হিসাবে বিভিন্ন শালিস বিচারে বিচারকের ভুমিকা পালন করে আসছিলেন। তার পিতার চুনারুঘাট বাজারে আল মদিনা মার্কেট, স’মিলসহ বিভিন্ন দোকান ঘর ও জমি রয়েছে।

মে মাসের ১১ তারিখ ছাত্রলীগের সম্মেলন

মে মাসের ১১ তারিখ ছাত্রলীগের সম্মেলন

ছাত্রলীগ

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরবর্তী সম্মেলন চলতি বছরের ১১ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার (৩১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সম্মেলনের এ সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আগামী মে মাসে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা জানান।

গত ২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সাইফুর রহমানকে সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ গত বছরের ২৬ জুলাই শেষ হলেও সম্মেলন কিংবা কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়নি এতদিন।

প্রসঙ্গত গত ৬ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্মেলনের বিষয়ে বলেছিলেন, নেত্রীর ইচ্ছা স্বাধীনতার মাসে ছাত্রলীগ সম্মেলনের আয়োজন করুক। এরপর ১২ জানুয়ারি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ মার্চ সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন ও ১ এপ্রিল দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো।

যারা নৌকার বিরোধিতা করছে তারা ভবিষ্যতে নৌকা পাবেন না: শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা

যারা নৌকার বিরোধিতা করছে তারা ভবিষ্যতে নৌকা পাবেন না: শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা

স্থানীয় নির্বাচনে দল ও নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় যেসব নেতা ও সংসদ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন তারা ভবিষ্যতে নৌকা পাবেন না বলে হুঁশিয়ার করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন আরও বেশি করে গ্রুপিং করুক নেতারা!

শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় গ্রুপিং-লবিংয়ে জড়িত নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এসব কথা বলেন তিনি।

দলের সর্বস্তরে কোন্দল ও বিদ্রোহের মাত্রা বেড়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখা যায়। এজন্য ভরাডুবি হয় দলের সমর্থিত প্রার্থীদের। এখনই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন প্রসঙ্গ নিয়ে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

প্রধান শেখ হাসিনা  জানান সারাদেশে যারা গ্রুপিংয়ে জড়িত আছেন তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ জন্য দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাকে প্রধান করে চার যুগ্ম সাধারণকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।  তারা দলীয় কোন্দল নিরসনে কাজ করবেন। এছাড়া, আগামী মে মাসে বার কাউন্সিল নির্বাচন দেখভাল ও তদারকি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নির্বাচনেও কোন্দল ও বিদ্রোহের কারণে ভরাডুবি হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও কোন্দলের কারণে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল বলে দাবি করেন তারা।

সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ জানতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। কাজী জাফরুল্যাহ’র নেতৃত্বে এ কমিটিতে রয়েছেন— যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মো. আব্দুর রহমান। কমিটিকে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করে দলীয় প্রধানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ মাসেই শেখ হাসিনা-মোদির বৈঠক লন্ডনে

শেখ হাসিনা

এ মাসেই শেখ হাসিনা-মোদির বৈঠক লন্ডনে

শেখ হাসিনা

চলতি মাসে (এপ্রিলে) কমনওয়েলথ হেড অব গভর্নমেন্ট মিটিংয়ে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যাবেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়ে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বৈঠক হতে পারে। ভারতের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই সম্মেলনের ফাঁকেই উভয় নেতার বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে দুই দেশের পক্ষ থেকে।

ঠিক এক বছর হতে চলল মোদী-হাসিনার শীর্ষ বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে কোনও তৃতীয় দেশেও মুখোমুখি হননি তাঁরা। দু’টি দেশেই নির্বাচন কড়া নাড়ছে। লন্ডনের বৈঠকটি সম্ভব হলে, কূটনৈতিক শিবিরের হিসাব মতো বর্তমান সরকারের আমলে এটাই দু’দেশের শেষ শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হবে। ফলে এই বৈঠকের গুরুত্ব  গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই যথেষ্ট। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বিমস্টেক-এর নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকা গিয়েছিলেন। এর পর যাবেন বিদেশসচিব বিজয় গোখলে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, বাংলাদেশ সরকারের আরও বেশি আস্থা অর্জন করাটাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সাংস্কৃতিক দৌত্যের মাধ্যমে ‘ট্র্যাক টু’ কূটনীতির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। ১০ এপ্রিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে একটি আলোচনাসভায় যোগ দিতে ঢাকা যাচ্ছেন রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরি এবং বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, লন্ডনে বৈঠক হলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত কথা দেওয়া সম্ভব হবে না মোদির পক্ষে।

সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তা ছাড়াও আরও অনেক দিক রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত পাশে রয়েছে। যে কাজগুলো ইতোমধ্যেই চলছে তার পাশাপাশি, নতুন কোন ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কথা বলবেন মোদি-হাসিনা। কথা হবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও। কট্টর মৌলবাদ এবং সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আগামি দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনা বাড়লে তার প্রভাব সীমান্তে পড়তে পারে—এই উদ্বেগ রয়েছে নয়াদিল্লির।

তবে তিস্তা নিয়ে আশু নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা না থাকলেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত যে ঐকান্তিক, এবার এই অবস্থান বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরা হবে। রাখাইন প্রদেশকে আর্থসামাজিকভাবে ঢেলে সাজার জন্য কী পদক্ষেপ নিয়ে সুবিধা হয়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে ভারত। গত বছরের শেষে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জেলা রাখাইনের উন্নয়নের জন্য একটি চুক্তিপত্রে সই করেছে ভারত। সেখানে প্রস্তাবিত আবাসন তৈরির প্রকল্পগুলো শুরু করে দিতে সক্রিয় হচ্ছে মোদি সরকার। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট রসদ রাখাইন প্রদেশে রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জটিল পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবে বিএনপি

জটিল পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবে বিএনপি

বিকেলে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা বিএনপির

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সংকট, আইনজীবীরা দ্বিধাবিভক্ত, নানা সন্দেহে দল পরিচালনায় বিঘ্ন, থমকে গেছে ‘বৃহত্তর ঐক্য’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে বিএনপির জন্য। দ্রুত খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন বলে দলের নেতাকর্মীরা আশা করলেও আইনি মারপ্যাঁচে তা সম্ভব হচ্ছে না। এখন তার চিকিৎসা কি দেশে হবে, নাকি বিদেশে হবে- তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। এদিকে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আইনি লড়াইয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন আইনজীবীরা। এ কারণে ঐক্যবদ্ধভাবে দল পরিচালনা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দল ও জোটের বাইরে দেশে-বিদেশে সমমনাদের প্রকাশ্যে সমর্থন আদায় প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে আজ রোববার দলের যৌথ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি স্বৈরতান্ত্রিক দল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তারা বিএনপি এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে আগামীতে আবারও একটি একতরফা নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে। সে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করার নানা কূটকৌশল করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকব। সব সংকট মোকাবেলা করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন তারা। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে তারা আগামী নির্বাচনে লড়বেন।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই বিএনপির সামনে তৈরি হয়েছে নতুন ইস্যু তার অসুস্থতা। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ ধূম্রজাল। অসুস্থতার জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সাক্ষাৎ করতে পারেননি। অবশ্য কারাগারের চিকিৎসক বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন নতুন করে অসুস্থ হননি। আওয়ামী লীগ চিকিৎসকদের পরামর্শে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলছে। বিএনপি বলছে, আগে তাকে মুক্তি দিতে হবে। এরপর খালেদা জিয়া নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনি দেশে চিকিৎসা নেবেন নাকি বিদেশে। চেয়ারপারসনের অসুস্থতা এবং চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিএনপির কিছু নেতা মনে করেন, সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে অতিরিক্ত উৎসাহী মনে হচ্ছে। তাদের মনে কোনো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়া ঠিক হবে না। বিদেশে গেলে নির্বাচনের আগে তার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অসুস্থ না হলে দেশেই তার চিকিৎসা হওয়া উচিত। অন্যদিকে দলের কোনো কোনো নেতা মনে করেন, সবার আগে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। সুস্থতার জন্য প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠানো উচিত। অন্যথায় তার কিছু হলে তার দায়ভার কে নেবেন?

সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতিতে আজকে দলের যৌথ সভায় নেতাদের মতামত নেওয়া হবে। বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে না বিদেশে, তা ঠিক করা হবে। এ ব্যাপারে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতকে সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সমকালকে বলেন, তারা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছেন। মুক্ত হওয়ার পরই অসুস্থতার ধরন দেখে তার চিকিৎসা কোথায় করাবেন- সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আইনি লড়াই : খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনায় সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীদের বিভক্তির বিষয়টি সুরাহা হচ্ছে না। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনায় আইনজীবী প্যানেল থেকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে বাদ দেওয়া হয়েছে- এমন সংবাদে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন মামলা পরিচালনার একক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার প্রবণতায় ক্ষুব্ধ জুনিয়র আইনজীবীরা। এ কারণে খোকনের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে ঘায়েল করার সূক্ষ্ণ চেষ্টাও হচ্ছে। এতে দল ও জিয়া পরিবারের ক্ষতি হয়েছে বলেও বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে উচ্চবাচ্য করছেন না।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের একটি অংশ জানিয়েছে, শুরুতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার ব্যাপারে আইনজীবীরা কিছুটা গা-ছাড়া ছিলেন। এ কারণে মামলা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আইনজীবীদের ওপর দল-সমর্থিত কয়েকজন জুনিয়র ব্যারিস্টার ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ কারণে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দু’বার টেলিফোন করেন। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আইনি লড়াই এবং দলকে এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

সন্দেহ, ঐক্যবদ্ধভাবে দল পরিচালনা বিঘ্নিত : আইনজীবীদের মতো দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কোনো কোন্দল দেখা না গেলেও সন্দেহ আর অবিশ্বাসের ছায়া লক্ষ্য করা গেছে। কোনো নেতাই যেন কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে নিয়মিত বৈঠকে বসছেন নেতারা। ধারাবাহিক এই বৈঠক থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না দলের মধ্যম সারির নেতাদেরও।

সূত্র জানায়, নেতাদের পরস্পরের এমন মনোভাবের কারণে কোনো নেতা নিজে থেকে রাজনৈতিক কিংবা সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সমন্বিত মতামত ছাড়া কোনো কার্যক্রমও আর নেই দলটির। এ অবস্থায় দল পুনর্গঠন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনী প্রস্তুতিসহ সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তারা নিয়মিত বৈঠক করছেন। সব সিদ্ধান্ত ঐক্যবদ্ধভাবেই নেওয়া হচ্ছে। দলের মহাসচিব সব সিনিয়র নেতাকে নিয়ে এ বৈঠকের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে বিএনপির ঐক্য সর্বোচ্চ অটুট রয়েছে।

থমকে গেছে বৃহত্তর ঐক্য : দল ও জোটের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য’ গড়ার প্রক্রিয়াও থমকে গেছে। খালেদা জিয়ার কারাবন্দি দীর্ঘায়িত হওয়ায় সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা বেশিদূর এগোচ্ছে না। বিএনপি চেয়ারপারসনকে ছাড়া সমমনা দলগুলো ঐক্য গড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হচ্ছে না। তারা অপেক্ষা করছে, খালেদা জিয়ার কারামুক্তির। তবে তার কারামুক্তি আরও দীর্ঘায়িত হলে তারা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বিএনপির একজন নেতা বলেন, অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন এখনও দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তাদের নেতৃত্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করার কথা বলা হয়েছে।

সূত্র: সমকাল

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক সন্ধ্যায়

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক সন্ধ্যায়

বিকেলে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা বিএনপির

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা উপস্থিত থাকবেন।

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটিতে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে।

তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশ নির্বাচনের

তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশ নির্বাচনের

Khulna City Corporation

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। বাকি মাত্র ৪৪ দিন। এদিকে তফসিল ঘোষণার পরপরই তৎপর হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। শহরে লেগেছে নির্বাচনী হাওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সবখানেই এখন নির্বাচনী হাওয়া।

নির্বাচন সামনে রেখে বড় দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। নিজেদের প্রচারের জন্য ইতিমধ্যে পোস্টার লিফলেট ছাপানোর কাজও শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতা চোখে পড়ছে বেশি। প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় প্যানা পোস্টার লাগানোর হার বাড়িয়ে দিয়েছেন। ২৫নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর টিপু বলেন, ‘জনগণের জন্য কাজ করেছি। দলমত নির্বিশেষে সব মানুষকে সমানভাবে মূল্যায়ন করেছি। আশা করছি,

দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।’ কেসিসির ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মো. মাহবুব কায়সার বলেন, ‘আমি পরপর দু’বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি দল এবারও আমাকেই মনোনয়ন দেবে। তবে নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেয়নি। নির্দেশনা দিলে সেভাবেই কাজ করব।’ তবে কাউন্সিলরদের ছাপিয়ে বারবার সামনে চলে এসেছে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে এবার কারা লড়ছেন? যদিও বিএনপি থেকে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নাম অনেকটা চূড়ান্ত হয়ে আছে। তারপরও তার পরিবর্তন চায় জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা প্রার্থী হতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে তিনি গত কয়েক বছর ধরেই নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের বিষয় নিয়ে বর্তমান সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি আশা করি অবশ্যই দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা মেয়র পদে মনোনয়ন দিতে আমার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। মামলা, হামলা, নির্যাতন সহ্য করেও গত ৫ বছর নগরপিতার দায়িত্ব পালন করেছি। নগরবাসীর সেবা দিতে সচেষ্ট ছিলাম।’

এদিকে এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর নাম এককভাবে শোনা যাচ্ছে না। একাধিক নেতা দলের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এমপি কেসিসি নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করায় আগ্রহী প্রার্থীদের তালিকা বেড়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী। কে হবেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। নগরবাসী তাকিয়ে আছে বড় দুই দলের হাইকমান্ডের দিকে। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এমপি বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য দলের হাইকমান্ড রয়েছে। অনেকেই প্রার্থী হতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। হাইকমান্ড প্রার্থী বাছাই করে ঘোষণা দিলে তবেই প্রার্থীরা তৎপরতা চালাবেন।’ অন্যদিকে প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে জাতীয় পার্টি। দলটিতে নতুন যোগ দেওয়া এসএম মুশফিকুর রহমান মুশফিককে করা হয়েছে কেসিসির মেয়র প্রার্থী। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন। ১৯৮৪ সালে এটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার। গত বছরের অক্টোবরের হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী কেসিসিতে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার। গত নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৫৬ জন। ভোটার বেড়েছে ৬৪ হাজার ৪৪৪ জন। বৃদ্ধি পাওয়া ভোটারদের মধ্যে নারী ভোটার ৩ হাজার ৩৯৫ জন এবং পুরুষ ২ হাজার ৯৩০ জন। তবে গেল অক্টোবরের পর যেসব ভোটার মারা গেছেন বা নতুন করে ভোটারের জন্য আবেদন করেছেন তাদের তালিকা এখনও হালনাগাদ করেনি নির্বাচন অফিস। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলী যুগান্তরকে বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের জন্য কমিশন শতভাগ প্রস্তুত। পর্যায়ক্রমে সব কাজ সম্পন্ন করা হবে।

বিএনপিকে চাপে রাখতে আওয়ামী লীগের কৌশল

বিএনপিকে চাপে রাখতে আওয়ামী লীগের কৌশল

Bangladesh Awami League - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুর মাধ্যমে চাপে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য কিছু কৌশল হাতে নিয়ে কাজ করছে ক্ষমতাসীনেরা। এর মধ্যে রয়েছে, সাংবিধানিক জটিলতা দেখিয়ে বিএনপিকে আগামী নির্বাচনের আগে বাগে আনার চেষ্টা করা। এ জন্য দশম জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারীদের নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরছে দলটি। এটি প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার সুযোগ পাবে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোট। দ্বিতীয়ত, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব হওয়ায় বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরানোর চেষ্টা করা। এতে তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীরাও শীর্ষনেতাদের ওপর বিরাগভাজন হবেন এবং আস্থাহীনতায় ভুগবেন। তৃতীয়ত, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত- এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা, যাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধোঁয়াশার মধ্যে থাকেন এবং তৃণমূল থেকে সিনিয়র নেতাদের ওপর চাপ আসে।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, তাদের প্ল্যান অনুযায়ী সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না-নেয়া বিএনপির নিজস্ব ব্যাপার। একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বা বর্জন করার অধিকার তাদের রয়েছে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তাই বলে নির্বাচন তো কারো জন্য থেমে থাকেনি। এ জন্য বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ডাকাডাকি করবে না আওয়ামী লীগ। তা ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ও সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।

তাদের মতে, আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে এবং অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তারা। এই ইস্যুকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করে বিএনপিকে বাগে আনার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনেরা। তাদের মতে, নির্বাচনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর ৯০ এইচ (১) (ই) ধারা অনুযায়ী বিএনপি এবার নির্বাচনে আসতে বাধ্য। কেননা এ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো দল যদি পরপর দু’বার নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে ওই দলকে শুনানিতে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। দলটির বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না হলে কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

এ অবস্থায় দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করা বিএনপিকে নিবন্ধন বাঁচাতে হলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের অংশ নেয়ার বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তা ছাড়া, গত বুধবার সচিবালয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত নির্বাচনের মতো এবারও নির্বাচনকালীন সরকার ছোট হবে। দশম জাতীয় সংসদে যেসব দল প্রতিনিধিত্ব করছে তাদের নিয়েই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে।

জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে তীর্যক মন্তব্য, সভা-সমাবেশ করলে বিরোধী নেতাকর্মীদের নামে নতুন নতুন মামলার খড়গ ও ধরপাকড় এবং খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব হওয়ায় বিতর্কিত বক্তব্য ছুড়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তির দেয়াল তৈরির চেষ্টাসহ নানা নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে মাঠ গরম করে বিএনপিকে চাপে রাখতে ব্যাপক তৎপর রয়েছে ক্ষমতাসীনেরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন করে চেষ্টাতদবির করাটাও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে চাপে রাখার অন্যতম কৌশল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, বিএনপির বিকল্প হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন নতুন জোটকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারি দলের তৎপরতা থাকলেও কোনোভাবেই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছেন না তারা।

ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহল থেকে ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল উপাধি পেয়েছে জাতীয় পার্টি। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে হলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে সরকারি দলকে। এটা বুঝতে পেরে আগে থেকেই তারা জাতীয় নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করেছে এবং বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য নির্বাচনী মাঠে আগেভাগেই সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

তবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের এসব বক্তব্য এবং নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই নির্বাচনের তোড়জোড়কে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে বিএনপি। সম্প্রতি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো একই কায়দায় ছলচাতুরি করে, প্রতারণা করে সরকার ফাঁকা মাঠে গোল করতে চায়। এ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় অপরাজনীতি করে এবং অপসংস্কৃতির চর্চা করে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে তারা। সেই অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে যে কত ধরনের মিথ্যাচার করতে হবে তার ঠিক নেই। সুস্থ রাজনীতি মাথায় না থাকলে তো তারা অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করবেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যে স্বৈরাচার উপাধি পেয়েছে। এখন দুই স্বৈরাচার একসাথে মিলেছে।

অন্য দিকে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, এটা আসলে বিএনপিকে চাপে রাখার বিষয় নয়। বিএনপি আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমরা বক্তব্য দিয়ে থাকি। যেমন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে কারাভোগ করছেন। এতেই প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি একটি দুর্নীতিবাজদের দলে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি জনগণের জানা উচিত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। সেটা তারা ভুল করেছে। আমরা আশা করি আগামী নির্বাচনে বিএনপি সেই ভুলটি করবে না। আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, আওয়ামী লীগ যদি মনে করে, বিএনপি অগণতান্ত্রিক পন্থায় হাঁটছে, গণতন্ত্রবিরোধী কথা বলছে ও কাজ করছে, আমরা সেই বিষয়টা তুলে ধরছি। এটা বিএনপির পক্ষে যাক আর বিরুদ্ধে যাক তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময় যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন তা বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল। আওয়ামী লীগ এখনো বিএনপিকে প্রধান বিরোধী দল মনে করে। রাজনীতির মাঠকে গরম করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিকে নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টি বা অন্য কোনো দলকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা মন্তব্য করলে জনগণের কাছে তা তেমন গুরুত্ব পায় না। তাই জনগণের কাছে নিজেদের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্যও বিএনপিকে নিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দেন তারা।

সূত্র: নয়া দিগন্ত

৪ দল নিয়ে প্রগতিশীল জোট নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ

৪ দল নিয়ে প্রগতিশীল জোট নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ
৪ দল নিয়ে প্রগতিশীল জোট নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ

৪ দল নিয়ে প্রগতিশীল জোট নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ

৪ দল নিয়ে প্রগতিশীল জোট নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ
৪ দল নিয়ে প্রগতিশীল জোট নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে নিবন্ধন পাওয়া চারটি দল নিয়ে প্রগতিশীল জোট নামে একটি নতুন জোট আত্মপ্রকাশ করেছে গত শুক্রবার। জোটবদ্ধ দলগুলো হচ্ছে গণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নব গঠিত এ জোটের ঘোষণা দেয়া হয়। জোটের চেয়ারম্যান ও চিফ কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে গণফ্রন্টের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেনকে।

মো. জাকির হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সুষ্ঠু অবাধ জাতীয় নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পদ্ধতি গঠিত না হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। নির্বাচন নিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং পরস্পরের প্রতি দোষারোপের সংস্কৃতি চলছে। যা দেশের জন্য অশনি সংকেত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গণফ্রন্টের স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কনিকা মাহফুজ আরা বেগম, মহাসচিব অ্যাডভোকেট আহাম্মদ আলী শেখ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মহাসচিব বিএম নাজমুল হক প্রমুখ।

বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় কোন্দলে বিব্রত আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড

বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় কোন্দলে বিব্রত আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড

Bangladesh Awami League - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

যে কোনো নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া অথবা দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করার ঘটনাকে আওয়ামী লীগ জঞ্জাল হিসেবে দেখছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সতর্ক করা হলেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বারবার। ফলে এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড খুবই বিব্রত। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভরাডুবির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে আওয়ামী লীগ। শনিবার দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার পরিষদের মোট ১৩৩টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ছিল পৌরসভা নির্বাচন। এর তিনটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জিতেছেন।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫৩টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯, বিএনপি ১২, বিদ্রোহী ৭ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৫টিতে জিতেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুলি, সংঘর্ষ, জাল ভোট দেয়া এবং প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বলছেন ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বেশ কয়েকটি স্থানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হওয়ার কথা ছিল না। তার পরও বিএনপি, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মিলে বলা চলে প্রায় অর্ধেক স্থানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হেরেছে। কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দলীয় কোন্দলকে দায়ী করছেন।

নেতাকর্মীদের শঙ্কা কয়েকটি সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বা দলের নেতাকর্মীদের অসহযোগিতা থাকলে তাতেও বিপর্যয় হতে পারে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি যে কয়েকটি স্থানে জিতেছে, তা আওয়ামী লীগের অন্তঃকলহের ফসল। আমাদের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই বিএনপির প্রার্থীদের জেতাতে সহযোগিতা করেছে’।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে। সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আমরা আলোচনা করতে পারি, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও বিএনপি জিতেছে। এখানেও আমাদের লোকেরাই নিজেদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এ বিষয়গুলো কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা হবে। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র: জাগোনিউজ

জনপ্রিয়

গরম খবর