মঙ্গলবার, মার্চ ২৬, ২০১৯
Home Blog Page 109

ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন

শনিবার ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আতাউল্লাহ হোসাইনীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ উবায়দুর রহমানের পরিচালনায় পুরানা পল্টনের দারুল খিলাফাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশন ২০১৮-১৯ সেশনের জন্য মুহাম্মদ তারেক বিন হাবিবকে প্রশিক্ষণ সম্পাদক, মুহাম্মদ সাদিক সালিমকে বায়তুলমাল সম্পাদক, মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সালাহ উদ্দীন সাকীকে অফিস ও ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় অফিস ও বায়তুলমাল সম্পাদক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূইয়া, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি আব্দুর রহীম সাঈদ, মাওলানা রহমত আলী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মুনিরুজ্জামান, মুহাম্মদ সাইদুর রহমান সানী প্রমুখ।

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আগাম মামলা দিচ্ছে সরকার: ফখরুল

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রেফতারের অভিসন্ধি নিয়ে সারা দেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার আগাম মামলা দিয়ে রাখছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আসলে এখন নরক হয়ে গেছে। প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়নে আগাম মামলা দিয়ে রাখা হচ্ছে। ঢাকার সব থানায়, ওয়ার্ডে আগাম মামলা দিয়ে রাখছে। নির্বাচন আসলে এসব মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হবে। কি কাপুরুষ…! কি কাওয়ার্ড…!’

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী জাফরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কাজী জাফর আহমেদের মধ্যে নেতৃত্বের সব গুণাবলি ছিলো। রাজনীতির বাইরেও তিনি শ্রমিক নেতা হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও জনগণের কাছ থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। তিনি কিংবদন্তি নেতা। বাংলাদেশের রাজনীতির বাঁকে বাঁকে যখনই প্রয়োজন হয়েছে তিনি সামনে চলে আসতেন। তার শূন্যতা অপূরণীয়।’

ফখরুল বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এরশাদ সরকারের প্রলোভনে সারা দিলেও কাজী জাফর আহমেদ এতে সারা দেননি। জাতীয় ক্ষেত্রে তাকে খুব প্রয়োজন ছিলো। তার অনুপস্থিতি আমরা অনুভব করি।’

কারাবন্দি বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ। এরমধ্যেও তিনি আন্দোলন না থামিয়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামকে বিজয়ী করার কথা বলছেন। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন।’

ফখরুল বলেন, ‘কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে বাতিস্তা সরকার সাজা দেয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ‘ইতিহাস আমাকে ধারণ করবে, তোমরা আমাকে সাজা দিতে পারো’। কাজী জাফর আহমেদকে ইতিহাস ধারণ করে আছে। বেগম খালেদা জিয়াকে ইতিহাস ধারণ করছে।’

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘সরকারের লোকেরা বহু কথা বলছেন। কিছুদিন আগে তারা ছবক দিতেন। নির্বাচনের কথা বলছেন। আসেন না নির্বাচনে, ভয় কেন? সুষ্ঠু নির্বাচনের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কোথাও সভা, সমাবেশ করতে দেবেন না, ফেসবুকে লিখলে ৫৭ ধারা, কাগজে লিখতে দিচ্ছেন না। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের জানিয়ে দিয়েছে, শেষ রক্ষা হবে না।’

বিদ্যুৎ উৎপাদন উদযাপনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ফুলঝুরি ছড়ানো হচ্ছে। কাল দেখলাম অন্ধকার আকাশে আতসবাজি করা হচ্ছে। এতে কাজ হবে না। আওয়ামী লীগ প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। সামনের নির্বাচনে পরাজয় ঠেকাতে অন্যায়, অগণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করছে সরকার। ক্ষমতায় টিকে থাকতে সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে।’

ইদানিং ভারতের পত্রপত্রিকাগুলো ভিন্ন সুরে কথা বলছে দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক রাষ্টদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী লিখেছেন, যদি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তবে আওয়ামী লীগের লজ্জাজনক পরাজয় ঘটবে। এটাই বাস্তবতা।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ যখন হবে তখন নির্বাচন। নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশন ভেঙে যোগ্য মানুষকে দিয়ে কমিশন গঠন করতে হবে, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। এগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে।’

ফখরুল বলেন, ‘কিন্তু কোনও কিছু পরিবর্তন না করে পুলিশ দিয়ে নেতাকর্মীদের কারাগারে আটকে রাখবেন আর একা একা হেলিকপ্টারে করে ঘুরে বেড়াবেন, ভোট নেবেন- এটা তো দেশের মানুষ হতে দেবে না। মানুষ গ্রহণ করবে না।’

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী।

এসময় আরও বক্তব্য দেন- মোস্তফা জামাল হায়দার, জাফর আহমেদের মেয়ে কাজী জয়া, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খন্দকার গোলাম মোর্তজা, ড. রেদওয়ান আহমেদ, আহসান হাবিব লিঙ্কন, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, খন্দকার লুৎফর রহমান, গোলাম মোস্তফা ভুইয়া ও প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।

জনবিচ্ছিন্ন বিএনপির কথার কোনও আগা-মাথা নেই: হানিফ

মাহবুব উল আলম হানিফ

বিএনপিকে একটি জনবিছিন্ন দল হিসেবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে দলটি কখন কি বলে তার কোনও আগা মাথা নেই।

শনিবার (০৮ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ‘খালেদা জিয়া আদালতে বললেন তিনি আর আসবেন না, যা বিচার হয় হোক। তার এ কথার মধ্যে দিয়ে এটা পরিস্কার হয়েছে যে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাই তিনি ভয়ে আদালতে হাজির হতে চান না।’

তিনি বলেন, ‘এদেশে হত্যা খুনের রাজনীতি বিএনপি করে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এদেশে হত্যা, খুনের রাজনীতি শুরু করেছিল, ক্ষমতা দখল করেছিল। এরপর থেকে বাংলাদেশে যত যড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতি হয়েছিল তা বিএনপির করেছে।’

এ সময় জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, শহর যুবলীগের আহবায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‘সরকারের উন্নয়ন কাজ তুলে ধরতেই উত্তরবঙ্গ সফর’

সরকারের উন্নয়ন কাজ তৃণমূলে তুলে ধরতেই উত্তরবঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তৃণমূলের মানুষ যেন বিএনপি-জামায়াতের গুজবের রাজনীতির বিষয়ে সচেতন হয়, সেজন্য দলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলকে শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে দেশব্যাপী নৌ ও সড়কপথেও সফর করা হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই যাত্রা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা আমাদের অব্যাহত থাকবে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে নির্বাচনী সফর করবো আমরা। এরপর বাই রোডে আমরা চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ যাবো ৷ এই সফরের মাধ্যমে আমরা তৃণমূলে কিছু বার্তা দিতে চাই। সামনের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হবে। প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করা হবে। আমাদের এই যাত্রা তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে।

উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেন ‘নীলসাগর’ এক্সপ্রেসে চড়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলটি উত্তরবঙ্গের পথে রওনা দেন। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি নীলফামারী গিয়ে থামবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দিনের সাংগঠনিক সফরে  উত্তরবঙ্গে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

সফরকালে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের  আট জেলায় জনসভা করার কথা রয়েছে। এর নেতৃত্ব দেবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী এই সফরে অন্য নেতাদের মধ্যে আছেন- দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন।

শনিবার যাত্রা পথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার অন্তর্ভুক্ত রেলস্টেশনগুলোতে এসব পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আদালতকেও কারাগারে বন্দি করেছে সরকার : রিজভী

বর্তমান সরকার এখন আদালতকেও কারাগারে বন্দি করেছে। যেমন ভাবে দেশের বিপুল জনসমর্থিত নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে গণতন্ত্রকেই বন্দি করে রাখা হয়েছে। বললেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, আপনারা দেখেছেন, বুধবার হুইল চেয়ারে করে দেশনেত্রীকে নিয়ে আসা হয়েছে। হাত-পা নড়াতে তার অসুবিধা হচ্ছিল। তিনি এতোটাই অসুস্থ ছিলেন যে, রীতিমতো কাঁপছিলেন এবং চেয়ার থেকে দাঁড়াতে পারছিলেন না। বারবার দাবি করা সত্যেও তার সু-চিকিৎসায় সরকার অবহেলা করেছে। সরকার আইন-কানুনের কোনও ধার ধারছে না।

রিজভী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার ওপর যে অবিচার চলছে তা মানবধিকার লঙ্ঘন। এটি সরকারের বেআইনি হিংস্র আচরণ। এর জবাব ক্ষমতাসীনদের জনগণের কাছে দিতেই হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহে প্রাপ্ত তথ্যমতে সারাদেশে গ্রেপ্তার হয়েছে দেড় হাজারের বেশি। মামলা হয়েছে বারো শতাধিক। এতে আসামি ৯১ হাজার। যার মধ্যে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে সংখ্যা ১১ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় ৮০ হাজার।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এবার সুষ্ঠু নির্বাচন নির্বাচন হলে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য সারাদেশে বিরোধীদল শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা তকদির হোসেন মো. জসিম এবং আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আ. লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর: কাদের

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর নিয়ে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। আর এই দলকে বাদ দিয়ে কোনো জাতীয় ঐক্য হতে পারে না। ভোটারদের বড় সমর্থক গোষ্ঠীর দলকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের কথা বলাটা হাস্যকর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিলে সেটা জাতীয় ঐক্য নয়, সাম্প্রদায়িক ঐক্য।

নির্বাচনকালীন সরকারের আকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে? নির্বাচনকালীন সরকারের আকার কি হবে? এর কেবিনেটে কতজন মন্ত্রী থাকবেন, এটা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে।

২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হতে পারে বলে যে একটা সম্ভবনার কথা শোনা যাচ্ছে তার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারি না। এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের বিষয়। এ বিষয়ে যদি আমরা রাজনীতিবিদরা কথা বলি তাহলে নির্বাচন কমিশন বিব্রত হবে। আমি মনে করি যার যার গণ্ডির ভিতরে থাকা উচিত। যার দায়িত্ব যতটুকু তার সেটুকুই কথা বলা উচিত।

মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-দপ্তর বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘সরকার খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে’

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেন, ‘খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ অবস্থায় কারা অভ্যন্তরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তিনি কারাগারের ভেতর যেকোনও দুর্ঘটনার সম্মুখিন হতে পারেন।’

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপনের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নাটক-সিনেমার মতো কক্ষে বিচার কাজ চলছে এমন অভিযোগ করে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সেখানে পাবলিক তো দূরের কথা খালেদা জিয়া ও অন্যান্য আসামিদের নিয়োজিত আইনজীবী কিংবা আত্মীয়-স্বজন প্রবেশ এবং আদালতের কার্যক্রম দেখা বা শোনার কোনো সুযোগ নাই। নাটক সিনেমায় যে রকম দেখানো হয় সেই আকৃতির একটি আদালত কক্ষ বসানো হয়েছে। যেটা একটি গুহার মতো স্যাঁতস্যাঁতে। সেখানে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সুযোগও নেই।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তার একটি হাত ও একটি পা কোনও কাজ করে না এবং প্রায় অবশ অবস্থায় তিনি দিন পার করছেন। তিনি আথরাইটিস রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন আগে তিনি জেলখানায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ইউনাইটেড হসপিটালে তার চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার দাবি জানালেও তাকে কোনও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।’

আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে দূরে রাখার অপকৌশল হিসেবে বর্তমান অবৈধ ও অগণত্রান্ত্রিক সরকার তার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাসহ প্রায় ৩৬টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এছাড়াও একটি মিথ্যা মামলায় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করে খালেদা জিয়াকে ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারের ভেতরে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বেআইনিভাবে সাজা দেয়ার লক্ষ্যে বেআইনিভাবে একটি অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে। যাতে সাধারণ জনগণ বিচারের নামে সরকারের বেআইনি কার্যক্রম দেখতে বা বুঝতে সক্ষম না হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও গোলাম রহমান ভূঁইয়া, নিতাই রায় চৌধুরী, সানাউল্লাহ্ মিয়া, বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ।

‘দে‌শে কোনও স্বৈরশাসক টিকে নাই, আপ‌নিও টিকবেন না’

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সরকারকে হুঁশিয়ারী দিয়ে ব‌লেন, মানু‌ষের স্বাধীনতা গণতন্ত্র হরণ ক‌রে দেশ শাসন করা যা‌বে না। বাংলার জনগণ কখনও তা মে‌নে নি‌বে না।

‌তি‌নি ব‌লেন, ই‌তিহাস ব‌লে এই দে‌শে কোনও স্বৈরশাসক থাক‌তে পা‌রে নাই, আপ‌নিও থাক‌তে পার‌বেন না।

বুধবার (৫ সে‌প্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের মিলনায়ত‌নে নাগ‌রিক ঐক্যর উ‌দ্যো‌গে ই‌ভিএম বর্জন জাতীয় নির্বাচন ও
রাজ‌‌তিক জোট শীর্ষক আ‌লোচনা সভায় তি‌নি এসব কথা
ব‌লেন

বদরুদ্দোজা চৌধুরী ব‌লেন, উন্নয়ন থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না। এটা জনগণ গ্রহণ করেনি। জনগণ উন্নয়ন চায় তবে গণতন্ত্রও থাকতে হবে। মানুষকে তুচ্ছ করে, অধিকার হরণ করে দেশ শাসন করা যাবে না। আজকে ঘরে নিরাপত্তা নাই, বাহিরে নিরাপত্তা নাই, স্বাধীনভাবে কথা বলার নিরাপত্তা নাই, স্বাধীনভাবে কথা বলতে গেলে হাতুড়িপেটা করা হচ্ছে। এই গণতন্ত্রহীনতা দেশের জনগণ আর মানবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভালো রাজনীতি করেন এবং ভাল রান্না করতেও পারেন। এর সঙ্গে বর্তমানে তিনি ভাল ছড়াও কাটেন। ছড়া কাটেন আর না কাটেন দেশে গণতন্ত্র দিতে হবে, না হলে কোনও উপায় থাকবে না।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রীর এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, সংবিধানের প্রতি এত শ্রদ্ধা থাকলে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সেখানেই আদালত করতে হবে কেন? এটা কোনও সংবিধানে আছে? পৃথিবীর কোনও দেশের সংবিধানে এই ধরনের মামলার বিচার কারাগারে হয় না। এটা বন্ধ করতে হবে। এটা সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, সারা পৃথিবী যখন ইভিএম বর্জন করছে তখন আমরা অর্জন করেছি ইভিএম। এর জন্য কোনও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। আইন পাশ করা হয়নি। তার আগেই টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এটা অনকেটা ঘোড়ার আগে গাড়ি দেয়ার মত। আসলে টাকা লুটপাট করার জন্য এই বরাদ্দ করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, জেনারেল ইব্রাহিম প্রমুখ।

খালেদাকে জোর করে কারা অভ্যন্তরের আদালতে আনা হয়েছে: ফখরুল

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে কারা অভ্যন্তরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে ‘ইভিএম বর্জন, জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

সভায় তিনি বলেন, ‘আজকে কারাগারের অভ্যন্তরের আদালতে আমাদের আইনজীবীরা কেউ যান নাই। যে দুই-একজন গিয়েছিলেন তারা দেখেছেন একটা ছোট কুঠুরি অন্ধকার গহ্বর। সেখানে বসবার পর্যন্ত কোনও জায়গা নাই। এমন একটা স্থানকে আদালতে রূপান্তরিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে হুইল চেয়ারে করে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) সেখানে বলেছেন, ‘আমার বিচার কী করবেন আপনারা। ন্যায় বিচার হবে না, আমি জানি। আপনারা আমাকে কারাগারের যে কক্ষে রেখেছেন সেখান রেখেই আপনারা বিচার করুন। আমি  আপনাদের এখানে আর আসবো না’। এই হচ্ছে বর্তমান সরকারের আসল চরিত্র ও চেহারা।’

এই বিচার-প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, এখনও কারাগারের অন্ধকারে বসে সেই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। সেই দেশনেত্রীর মামলার বিচারের জন্য আদালত নিয়ে যাওয়া হয়েছে পরিত্যক্ত কারাগারের অভ্যন্তরে। এটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকের জন্যে যে অধিকার আছে, সেই অধিকারেও এই ধরনের বিচার করা সম্ভব নয়। এটা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে দেশের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। স্বৈরাচারী দেশেই এরকম ক্যামেরা ট্রায়াল হয়ে থাকে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রমুখ।

যতদিন ইচ্ছা সাজা দিন : খালেদা জিয়া

যতদিন ইচ্ছা সাজা দিন : খালেদা জিয়া

নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ভেতরে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসিয়ে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা বিচারের ব্যবস্থা করায় অসন্তোষ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এই আদালত ‘চলতে পারে না’।

বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে নতুন এই এজলাসে বিচার কার্যক্রম শুরুর পর খালেদা জিয়া নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে বিচারককে বলেন, “আপনার যতদিন ইচ্ছা সাজা দিন, আমি এ অবস্থায় বারবার আসতে পারব না। এই আদালতে ন্যায়বিচারও হবে না।”

খালেদা জিয়াসহ এ মামলার তিন আসামিকে এজলাসে হাজির করা হলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কেউ না আসায় বিচারের শেষ পর্যায়ে থাকা এ মামলার শুনানি এদিন শুরু করা যায়নি।

আধা ঘণ্টারও কম সময় আদালতের কার্যক্রম চলার পর ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করে দেন। যুক্ততর্কের শুনানি শেষ হলেই সোয়া তিন কোটি টাকা আত্মসাতের এ মামলা রায়ের পর্যায়ে যাবে।

আদালতে পুরোটা সময় খালেদা জিয়া ছিলেন হুইল চেয়ারে বসা। তার পরনে ছিল ট্রেডমার্ক গোলাপী শাড়ি, পায়ে সাদা জুতা। বুক থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা ছিল সাদা একটি কাপড়ে।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি এতদিন চলছিল কারাগারের কয়েকশ গজ দূরে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কারা অধিদপ্তরের মাঠে বিশেষ এজলাসে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে ‘আদালত’ ঘোষণা করে সেখানেই দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি করার নির্দেশ দেয়।

এ কারাগারেই আরেকটি ভবনের দোতলার একটি কক্ষে গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন।

এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের পর খালেদা জিয়াকে এক দিনও দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানিতে হাজির করা হয়নি। প্রায় প্রতি তারিখেই আদালতকে তার অসুস্থতার কথা জানানো হয়েছে কারাগারের পক্ষ থেকে। ফলে এ মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানি আটকে রয়েছে সাত মাস ধরে।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলে আসছিলেন, খালেদা জিয়া ‘অসুস্থতার ভান করছেন’। এ অবস্থায় সরকার কারাগারের ভেতরেই আদালত বসিয়ে বিচার এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মঙ্গলবার বিকালে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

সেখানে বলা হয়, “বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে। সেজন্য নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশেষ জজ আদালত-৫ নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এর প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হল।

“বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন বিশেষ মামলা নং ১৮/২০১৭ এর বিচার কার্যক্রম পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নং ৭ এর অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হইবে।”

খালেদা জিয়ার দল বিএনপি কারাগারে আদালত বসানোর এই সিদ্ধান্তকে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ আখ্যায়িত করে তার মুক্তির দাবিতে মানবন্ধন ও প্রতীক অনশনের কর্মসূচি দিয়েছে।

কারাগারে যাওয়ার পর গত এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউতে নেওয়া হলে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল খালেদা জিয়াকে; এরপর তাকে আর এভাবে দেখা যায়নি কারাগারে যাওয়ার পর গত এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউতে নেওয়া হলে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল খালেদা জিয়াকে; এরপর তাকে আর এভাবে দেখা যায়নি যেমন ছিল আদালত
কারাগারের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় ডান দিকে ৭ নম্বর কক্ষে সাজানো হয়েছে এই অস্থায়ী আদালতের এজলাস। সেখানে ঢোকার পথে ডান পাশের একটি কক্ষকে বানানো হয়েছে বিচারকের খাস কামরা।

সকালে আদালত কক্ষে গিয়ে দেখা যায় এজলাস লাল কাপড়ে মুড়ে বিচার কাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিচারকের চেয়ারের বাঁ পাশে তৈরি করা হয়েছে আসামির কাঠগড়া, তার সামনে সাদা কাপড়ে মোড়া টি টেবিল আর একটি চেয়ার।

উল্টো দিকে সাক্ষীর কাঠগড়া। আর সামনে প্রসিকিউশনের বসার ব্যবস্থা। আসামিপক্ষের উকিলদের বসার জায়গা হয়েছে বিচারকের মুখোমুখি। আর এজলাসের সামনে পেশকারের বসার জায়গা।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খাস কামরায় যান। এর পরপরই দুই পুলিশ সদস্য মামলার নথিপত্রে একটি ট্রাঙ্ক পৌঁছে দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সকাল ১০টার দিকেই আদালতকক্ষে হাজির হন। দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল, আবদুল্লাহ আবু, শাহআলম তালুকদারকে আদালতে তাদের নির্ধারিত জায়গায় বসে থাকতে দেখা যায়।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা না এলেও ঢাকা বারের সভাপতি বিএনপিপন্থি আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য, পর্যবেক্ষক হিসেবে তিনি আদালতে এসেছেন।

এ মামলার আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানকে আদালতের কার্যক্রম শুরুর আগেই আসামির কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। সোয়া ১২টার দিকে কারাকক্ষ থেকে প্রধান আসামি খালেদা জিয়াকে নিয়ে আসা হয় আদালত কক্ষে।

আসামিদের কাঠগড়ার সামনে যেখানে খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারে বসে ছিলেন, তার পাশেই টি টেবিলে ছিল টিশু আর পানি। তাকে কয়েকবার টিশুতে মুখ মুছতে দেখা যায়।

খালেদা জিয়াকে আদালত কক্ষে হাজির করার পরপরই বিচারক মামলার কার্যক্রম শুরু করেন।

যা হল আদালতে
আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমে বক্তব্য দেন দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং নতুন করে আদালতের স্থান নির্ধারণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।

কাজল আদালতকে জানান, এই মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মামলার দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্যেই প্রায় ৯ মাস ধরে শুনানি বন্ধ রয়েছে।

“এই অবস্থায় পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের এই স্থানে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আসামি খালেদা জিয়ার আইনজীবীর কাছে প্রজ্ঞাপনের কপি পাঠানো হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও তাদের ফোন করে জানিয়েছি।

“এছাড়া মিডিয়ার মাধ্যমে সকলকে অবহিত করা হয়েছে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এখন আদালতে উপস্থিত নেই।”

কাজল এই অবস্থাতেই বিচার কার্যক্রম শুরু করতে আদালতের কাছে আর্জি জানান। এরপর বিচারক মুন্না ও মনিরুলের কাছে জানতে চান তাদের আইনজীবীরা কোথায়।

তাদের জবাব শুনে বিচারক বলেন, যেহেতু তারিখ নির্ধারিত ছিল, আইনজীবীরা উপস্থিত হননি। তাদের উপস্থিত হওয়ার জন্য কোর্ট এক ঘণ্টা মুলতবি করা হচ্ছে।

ঢাকা বারের সভাপতি ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান এ সময় দাঁড়িয়ে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে রাতে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কেউ আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে অবহিত নন। এ কারণে তারা সবাই বকশীবাজারের আদালতে গেছেন।

“আমি একজন অবজারভার হিসাবে এখানে এসেছি। আর আমাদের সবার ফোন বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে যোগাযোগ করাও সম্ভব না। একজন অবজারভার হিসাবে আমার মনে হয় তারিখ পেছানোই যৌক্তিক হবে।”

আদালতের পরিস্থিতিও ‘বিচার কার্যক্রম শুরুর মত নয়’ মন্তব্য করে গোলাম মোস্তফা বলেন, “৫০ ফুট বাই ২০ ফুটের এই ছোট জায়গার অবস্থাও তেমন ভালো না। আইনজীবীসহ সবার বসার জায়গা সেভাবে নাই। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে ও জায়গায় বিচার কার্যক্রম চালানো হোক।”

বিচারক আখতারুজ্জামান তখন বলেন, “প্রজ্ঞাপনতো কালকে জারি হয়েছে। আর মামলার ডেটতো আগেই ছিল। তারিখ পেছাতে হলেওতো আইনজীবীদের পিটিশন লাগবে।”

এ সময় কোনো আসামির আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় এবং ‘যোগাযোগ সম্ভব না’ বলে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণের কথা বলেন ঢাকা বারের সভাপতি।

তখন খালেদা জিয়া আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার আইনজীবীদের কেউতো এখানে নাই। আমার শারীরিক অবস্থাও ভালো না। ডাক্তার বলেছে, এভাবে বসে থেকে বেশিক্ষণ পা ঝুলিয়ে রাখলে ফুলে যেতে পারে। হাতেও প্রচণ্ড ব্যথা। এ অবস্থায় আদালত চলতে পারে না।”

বিচারকের উদ্দেশে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় তার পক্ষে বার বার আদালতে আসা সম্ভব না, বিচারক যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দিতে পারেন।

খালেদা বলেন, “সাজাইতো হবে, ন্যায়বিচার নাই এখানে।”

এরপর আইনজীবী গোলাম মোস্তফা এবং কাজলের কিছু বক্তব্য শোনেন বিচারক। পরে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তিন আসামির জামিন বাড়ানোর জন্য আবেদন জমা দিতে বলেন তিনি।

৩৪টি মামলায় বিচারের মুখোমুখি খালেদা জিয়া ৩৪টি মামলায় বিচারের মুখোমুখি খালেদা জিয়া বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে কারা কক্ষে ফেরার সময় সাংবাদিকদের সামনেও কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
তিনি বলেন, “এখানে আদালত হওয়ার সিদ্ধান্ত হল সাতদিন আগে, গেজেট জারি কালকে করা হল কেন? আদালত বসল, আমার সিনিয়র আইনজীবীরা জানে না। তাহলে আদালত চলে কীভাবে?”

নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় জানিয়ে ৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ বলেন, “আমার বাঁ পা ঠিকমত রাখতে পারি না, প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার মত। বাঁ হাতেও অনেক ব্যথা।”

আদালতের ভেতরে নতুন এজলাসে এই শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কারাগারের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় আশপাশের দোকানপাট।

বকশিবাজার, নাজিমুদ্দিন রোডের মাক্কুশা মাজারের কাছে, চকবাজার মোড়ে, বেগমবাজার মোড়ে ও আবুল হাসনাত রোডে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া পাহারা। বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের তল্লাশি করা হয়। কারাগারের কাছে প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

মামলা বৃত্তান্ত

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেছিল দুদক।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের পর শুরু হয় বিচার।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী এবং হারিছের তৎকালীন একান্ত সচিব (বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

দীর্ঘদিনেও বিচার শেষ না হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতারা খালেদার আইনজীবীদের সময়ক্ষেপণকে দায়ী করে আসছেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের ইন্ধনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে এই মামলাটি করা হয়েছে।

খালেদার সুবিধার জন্যই কারাগারে আদালত: ওবায়দুল কাদের

খালেদার সুবিধার জন্যই কারাগারে আদালত: ওবায়দুল কাদের

কারাগারে আদালত বসানোর ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার সুবিধার কথাই সরকার বিবেচনা করেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিএনপির বিরোধিতার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, “বয়স বিবেচনায় তার পক্ষে কোর্টে মুভ করা সব সময় হয়ত সম্ভব না। জিয়া চ্যারিটেবল যে মামলা, সেই মামলায়ও তো তিনি হাজিরা দিচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায় তাকে হাজিরা দেওয়া সুবিধা করে দেওয়ার জন্য এই বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা।”

বুধবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গে যৌথসভা শেষে কাদের এসব বলেন।

পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের যে কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে ৭৩ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন রয়েছেন, সেই কারাগারেই আদালত স্থাপন করেছে সরকার।

মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বুধবারই ওই কারাগারে স্থাপিত ঢাকার জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে মামলার শুনানি চলে। খালেদা শুনানিতে উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন তার আইনজীবীরা।

তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল সাহেব সংবিধানের লঙ্ঘন বলেছেন। কী কারণে? কোথায় লেখা আছে যে এই ধরনের আদালত বসতে পারবে না? সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে জেলের মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা করা যাবে না।”

সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, এভাবে ‘ক্যামেরা ট্রায়াল’ সংবিধান পরিপন্থি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিএনপি ‘ছলনার’ অপকৌশল নিয়েছে।

তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “কারাগারে মধ্যে কোর্ট বসানো, এটা তো ইন্ট্রোডিউজ (চালু) করেছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান, কর্নেল তাহেরকে জেলে কোর্ট বসিয়ে ফাঁসি দিয়েছিলেন। এটা কি বিএনপি ভুলে গেছে?

কীভাবে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়েছিল? কোথায় হয়েছিল?”

বিএনপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর বিচার বিলম্বিত করছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থাকে এইভাবে সংবিধান লংঘন করা যারা বলে, তারাই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।”

দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কাদের। তার সভাপতিত্বে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, মহিবুল হাসান নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর প্রমুখ।

আবারও বিএনপি নেতাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে: রিজভী

দেশব্যাপী আবারও নতুন করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে সরকার পতনের মহালগ্ন এসে গেছে। দাপট দেখিয়ে গণদাবি উপেক্ষা করলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। বললেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, নিজেরাই নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে। গত কয়েক দিনে সরাদেশে প্রায় চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রিজভী বলেন, গুম, খুন, বিচারবর্হিভূত হত্যা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কাদায় আটকে পড়ে এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মরণ কামড় দিচ্ছে। পুরনো মামলা চালু করা এবং নাশকতার অভিযোগ এনে দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হচ্ছে। অভিযোগের ধরন একই রকম। সুতরাং মামলাগুলো যে পরিকল্পিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও গণমাধ্যমে দেখা গেছে, পুলিশ ছাত্র ও যুবকদের পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ঠিক এখন একই কায়দায় ককটেল বা অন্যান্য বিস্ফোরক বস্তু দেখিয়ে বিএনপি নেতাদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

রিজভী আরও বলেন, বিএনপিতো এর আগে অনেকবার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু কোথাওতো রক্ত ক্ষরণের কোনও দৃষ্টান্ত নেই। কোন অন্যায়-অপরাধের কারণে এত ভয় পাচ্ছেন? এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঘরবাড়ি ছেড়ে দোকান পাট, গরু ছাগল বিক্রি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জনপ্রিয়

গরম খবর